২২ শে শ্রাবণ! দিনটার সাথেই কেমন যেন এক বাঙ্গালির আবেগ জড়িয়ে আছে। সেদিনকার দিনটাও যেন আজকের দিনের মত। কাঠফাটা রোদ্দুর এর মাঝখান দিয়ে মেঘের আনাগোণা। এরকম একটা দিনে বাঙ্গালির কবি চলে গেলেন।
দিনের স্মৃতিচারণে যখন রবীপ্রেমিরা ব্যস্ত ঠিক এই সময় এক তরুণ বেড়িয়ে পড়ে তার প্রেমিকাকে নতুন করে খুজতে। জড়িয়ে পড়ে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনায়। তার প্রেমিকা তার কাছে এক মরীচিকা,এক ভ্রম। এই ভ্রমকে ধরতে সে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে বেড়িয়ে পড়ে।
দিনের শুরুতে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে তরুণ বের হয়ে যায় তার প্রেমিকাকে খুজতে। ইশ্বর মনে হয় একটু ভিন্ন কিছু ভেবে রেখেছেন তরুণের জন্য। নানান ঘোরপ্যাচের মধ্য দিয়ে তরুণ নতুন করে আবিষ্কারের নেশায় ছুটছে সারদার পিছনে।
অবশেষে তরুণের হাতে ধরা দেবে কি সারদা? তরুণ আর সারদার প্রেমের আড়ালে ইশ্বরের খেলার যোগ-বিয়োগ কী?
একটা শ্রাবণ দিনের গল্প নিয়ে রচিত মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস "ভ্রম"। যে গল্পে এক তরুণ যেন হাজার তরুণকে নিয়ে বাচে। তরুণের বৃষ্টিমাখা দিনের উপাখ্যান হলো ভ্রম।
চোখের সামনে যা দেখি আমরা স্বভাবতই বাস্তব বলেই ধরি। কিন্তু ভ্রম হলে?
সারদার কোনো অনুরোধ হোক বা আদেশ, ফেলা কঠিন। তাই তো সারদার দেওয়া ঠিকানাতে বই ডেলিভারি করতে বের হয়ে পড়ে ভবঘুরে যুবক। গন্তব্যের উদ্দেশ্যে বের হয়ে অতীত স্মৃতিচারণ করে বারবার রোমাঞ্চিত হতে থাকে! ছোট একটা পরিবার, প্রিয় বন্ধু ও সারদাকে নিয়েই তো ছোট একটা পৃথিবী তার। কিন্তু সারদাকে কবে বলতে পারবে মনের কথা?
পিচ্চি একটা বই ছোট একটা প্রেমকাহিনী। দুই টাইমলাইনে গল্প এগিয়েছে। গল্পকথকের দৃষ্টিকোণ দিয়ে অধিকাংশ অংশ দেখানো হয়েছে। সহজসরল একটা ভালোবাসার গল্প। দুজন ব্যক্তি যারা একে অপরকে ভালোবাসে কিন্তু সংকোচের কারণে, বন্ধুত্ব নষ্ট হওয়ার ভয়ে মনের কথা মনেই গোপন করে চলেছে। বারবার মনে হচ্ছিল সারদা কী চায়? নিজেদের মনের কথা কি আদোও বলতে পারবে? শেষ অংশের টুইস্টটা বইয়ের সেরা অংশ বলা যায়। একটা ভালোবাসা বা একটা স্বপ্ন যেমন জীবন গড়ার কারণ হতে পারে তো ধ্বংসেরও।
বইটা আমি অনেক সময় নিয়েই পড়েছি। প্রথমের দিকে প্রায়ই বিরক্ত হয়ে যাচ্ছিলাম। তরুণের খাপছাড়া জীবন মেজাজ খারাপ করে দিচ্ছিল। তবে পরিবারের সদস্যদের খুনসুটি ভালো লেগেছে। মা স্ট্রোক করেছে জানার পরও আবার ঘুমাতে গেছে এই অংশে রাগ লেগেছিল। এতো বেপরোয়া! "বলতে চাই কিন্তু বলতে পারছি না" গল্প তেমন ইন্টারেস্টিং মনে হয়নি কিন্তু শেষ অংশে সময়ের হেরফেরের রহস্য খোলসা হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছি। কিন্তু সমাপ্তি লেখক যেভাবে টেনেছেন আমার ভালো লাগে নাই। "খেলা শুরু"- র কথা বলেই বই খতম!!! ওপেন এন্ডিং না বরং কনফিউজিং এন্ডিং মনে হয়েছে। বইটা শেষ করার প্রায় দশদিন পর রিভিউ লিখতে বসেছি এই কারণেই।
"প্রিয় মানুষের হারানোর ভয়ের থেকে আর কোন বড় ভয় নেই। এই ভয়টা এত তীব্র যেটার ভয়ে মাথা নুইয়ে প্রিয়জনকে বিদায় দেওয়া যায় তবুও মুখ ফুটে বলা যায় না সে ভয়টার কথা।"____ভ্রম, এম.জে. বাবু
ঘুম থেকে উঠেই শেষ করলাম বইটা। একটানে পড়ার মত একটা বই৷ সাবলীল ভাষা,আর রসবোধ মিশ্রিত বাক্য গঠন আমাকে মুগ্ধ করেছে। যাহক,এসব পরে বলবো আগে মূল কথায় আসি....
🎇সার সংক্ষেপ- গল্পের কথক একজন সাদামাটা, অপদার্থ শ্রেণীর মানুষ যার জীবনে সফলতা নেই বললেই চলে, শুধু ব্যর্থতা দিয়ে ভরা। ২২ শে শ্রাবণ, রবীন্দ্রনাথের মৃত্যু দিবস। এদিন কথকের নানান কাজ করার পরিকল্পনা থাকে। কিন্তু সমস্ত কাজ ভেস্তে যায় সারদা নামের একটি মেয়ের জন্য। একটা চিরকুট পেয়ে মেয়েটির কাছে ছুটে যায় কথক। মেয়েটি কথকের জন্য একটা ব্যাগ রেখে যায় যেটা কথককে এক ঠিকানায় পৌছে দিতে হবে। ব্যাগটিতে রয়েছে এক গুচ্ছ রবীন্দ্রনাথ। রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে শুরু হয় কথকে নতুন পথচলা। সেই পথে কথক মুখোমুখি হয় নানা উত্থান পতনের। কথকের জবানীতে ফুটে উঠে তার নানা জীবন। তার ক্যাম্পাস জীবন,হল জীবন,কিংবা ব্যাক্তিগত জীবন। কথকের সমস্ত জীবন জুড়ে একজন মাত্র মেয়ের উপস্থিতি পাওয়া যায়। সেটা হলো সারদা। সারদা কথকের প্রেমিকা না,তাহলে কে যার জন্য কথক সব করতে রাজী? জানতে হলে এই চমৎকার বইটি আপনাকে পড়তে হবে।
❤️🙂❤️পাঠ প্রতিক্রিয়া-❤️❤
>> লেখকের দিমেন্তিয়া পড়েছিলাম, সুতরাং লেখকের লেখনীর সাথে পরিচিত ছিলাম। কিন্তু এই গল্প শুরু করে চমকে উঠলাম। লেখনি একদম ভিন্ন। হুমায়ূন দ্বারার লেখনি। পড়তে গিয়ে অনেক জায়গায় মনে হয়েছে হুমায়ূন আহমেদের বই পড়ছি। যাস্ট অবাক হলাম।
>> চরিত্রায়ন সবচেয়ে মুগ্ধ করেছে আমাকে। গল্পে তিনটি নারী চরিত্র আছে। আমি অবাক হলাম এর মধ্যে একটা চরিত্র একদম আমার সাথে মিলে। এটাই বোধহয় লেখকের চরিত্রায়নের সার্থকতা যে পাঠক পড়ার সময় নিজেকে গল্পের একজন মনে করবে।
👉👉 গল্পে কিছু লাইন আপনার মনের দাগ কেটে নিবে। আর কিছু ঘটনা আপনার জীবনের সাথে মিলে যাবে। আমার হাজব্যান্ডের সাথে আমার ক্যাম্পাসে পরিচয়,আর দুইজন দীর্ঘ ৪ বছর প্রেম করি। ৪ বছরের প্রেমে এই ঘটনাটি একদম মিলে যায়। আর এটা পড়ার সময় আর চোখ দিয়ে টপ টপ করে পানি পড়ছিলো। প্রায় এক যুগ পর কোন বইয় পড়তে গিয়ে চোখ দিয়ে পানি পড়লো। বিরহের পানি না,পুরনো স্মৃতি রোমহন্থন করে আবার সুখ পাওয়ার কান্না। এই প্যারাগ্রাফটি হয়ত অনেকের সাথে মিলে যাবে..
"তরুণ তরুণীর কাছে গিয়েই বুঝলাম জুনিয়র। মেয়েটি বসে আছে। তার হাতে একটি বাটি। আরেকটু কাছে গিয়েই বুঝলাম। হাতে খাবারের বাটি। মেয়েটি নিজ হাতে ছেলেটিকে খাইয়ে দিচ্ছে। হয়ত মেয়েটি কাল রাতে হলে কিছু ভালো রান্না করেছে। সেখান থেকে কিছু হয়ত ছেলেটির জন্য তুলে রেখেছে। নাহয় বাড়ি থেকে ফিরতে ছেলেটির জন্য লুকিয়ে নিয়ে নিয়ে এসেছে। ছেলেটিও মাথা নিচু করে খাচ্ছে। আমাকে দেখে মেয়েটি মাথা নিচু করে ফেললো। তাদের এই মুহূর্তটাকে নষ্ট করতে ইচ্ছে হলো না। হয়ত এই একটি মুহূর্তের প্রতিদান দিতে গিয়ে ছেলেটি কখনো মেয়েটির হাত ছাড়বে না। মেয়েটি হয়ত এই ভালবাসার কথা চিন্তা করে ছেলেটির হাত ছাড়বে না। সম্পর্কে ভালবাসার থেকে অনেক সময় বেশি গুরুত্ব হয়ে উঠে কিছু মুহূর্ত, সময় অথবা অবস্থা। ভালবাসাটা হয়ত সবসময় এক রকম থাকে না কিন্তু মানুষ তাদের ভালবাসার মুহূর্তগুলোর কথা ভেবে তাদের ভালবাসাকে আবার পুনর্জীবিত করে।"
অনেক আগেই সেই দিনগুলি ভুলে গেছি,এই বইটা পড়ে যেন দিনগুলিতে আবার ফিরে গেলাম। হ্যাজবেন্ড মূলত থ্রিলারপ্রেমী,জোর করে দিলাম বইটা পড়তে। এই পৃথিবিতে কেউই চায় না ভালোবাসা হারিয়ে যাক।
আসলেই ভালোনাবাসা টিকিয়ে রাখার জন্য সারা জীবন একসাথে পার করতে হয় না, একটা মূহুর্ত সারা জীবনের জন্য ভালোবাসা টিকিয়ে রাখে।
বইটা শেষ করে হা করে বসেছিলাম। নিতান্ত কমেডি দিয়ে শুরু হওয়া গল্প কী পরিমানে আপনাকে আঘাত করবে সেটা কল্পনাও করতে পারবেন না। এত সুন্দর, সাবলীল,গুছানো একটা বই যে একটু বিরক্তি জন্ম দেয় না।
একটা মাস্ট রিড বই। বাজারে যখন বস্তা পচা রোমান্টিক গল্পের সমাহার, সেখানে এমন একটা ক্লাসি বই সত্যিই আমাদের জন্য উপহার। যতটুকু আশা নিয়ে কিনেছিলাম, তার বেশিই পূরণ হয়েছে।
ভ্রম শেষ করলাম মাত্র। এম জে বাবু’র বই প্রথম পড়লাম। আমি লেখকের বিশাল ভক্ত, তবে তার বই পড়ে না, তার বইয়ের রিভিউ পড়ে। অনেকদিন থেকে শুরু করব করব ভেবেই ওনার লেখা প্রথম বই একই সাথে সবচেয়ে ছোট বইটা দিয়েই শুরু করলাম। ওয়েট, ভাই এইটা কি ছিল !
গল্প শুরু খুবই সাদামাটাভাবে। তরুণ গল্পের মূল চরিত্র। সারদা নামের এক মেয়েকে পছন্দ করে। তবে গল্প এরকম লিনিয়ারলি এগোয় নি। মাঝেমাঝেই সে অতীতে চলে গেছে এবং গল্পটাও এভাবেই এগিয়েছে। সাদামাটা একটা রোমান্টিক গল্প হতে পারত ভ্রম।হয়নি। শেষ ছয় পৃষ্ঠা পড়ে আমার লিটারেলি মনে হচ্ছে, আগের পৃষ্ঠাগুলো কি ঠিকভাবে পড়েছি, এরকম তো হওয়ার কথা না, আমিই কোন মিসইন্টারপ্রিট করি নাই তো। আর শেষ পৃষ্টাটা তো আরও ব্রুটাল, আমি এখনো বুঝতে পারছি না। একরকম দিনদুনিয়া ওলটপালট হয়ে গেছে আমার। শেষটা চমকপ্রদ, কোন সন্দেহ নেই। তবে যদি বলেন আমার ভালো লেগেছে কীনা? সত্যি বলতে আমাকে ভাবতে হবে। দুই-তিন দিন পর ঘোর টা কাটলে বলা যেতে পারে। ইনস্ট্যান্টলি এন্ডিংটার জন্য লেখকের ওপর খানিকটা রাগও লেগছে, তবে ভালো ছিল। অন্যরকম। এধরনের বইয়ের সাথে আমার খুব একটা পরিচয় নেই। কেউ কি স্পেসিফাই করতে পারবেন এটা কোন জনরার বই? লেখক ওনার প্রথম বই হুমায়ূন আহমেদকে উৎসর্গ করেছেন, দেখে ভালো লেগেছে, তাছাড়া মুল গল্পেও হুমায়ূন আহমেদ এবং রবীন্দ্রনাথ এর উদ্ধৃতি গুলো ভাল লেগেছে। হুমায়ূন আহমেদ আমারও প্রিয় লেখক। মধ্যে যে দুই একবার বিরক্ত লাগেনি তা না, তবে শেষটা…
বইটা মোটামুটি। কিন্তু পড়তে গিয়ে মনে হয়েছে লেখক হুমায়ুন আহমেদের লেখা ধরন কপি করতে চেয়েছেন, সেটা হইত ইচ্ছা করে। আর এইটাই ভাল লাগে নাই। বইটা ভাবনাতে ভাবনাতে শেষ হয়েছে। ৩ স্টার দিয়েছি শেষে একটা টুইস্ট আছে সে জন্য। লেখক ভালো লেখন, উনার আগের বই পড়েছি। নিজের মত লিখলে ভাল হত।
মাঝে মাঝে কিছু বই আপনার সামনে আসবে হয়ত আপনার ভালো লাগবেনা কিন্তু বইয়ের গল্প আপনার অনেক দিন মনে থাকবে । ভ্রম তেমনি একটি বই। ছোট্ট প্লটে একটি রোমান্টিক গল্প৷ বাট গল্প টা সুন্দর। খুবই সুন্দর বই৷
শেষের টুইস্টটা আপনার মাথা ঘুরিয়ে দিতে বাধ্য! স্টোরিটেলিং ঠিকঠাক ছিলো কিন্তু বানান ভুল অনেক জায়গায়ই , এক বসায় পড়ে ফেলার মতো একটি বই! বাস্তবতার সংমিশ্রণ রয়েছে!
গল্পটি তরুন নামের ছেলেটির।গল্পটি একধরনের ভ্রম।হারিয়ে ফেলা ভালোবাসার মানুষটি কে খুঁজতেই বের হয় ছেলেটি।প্রেমিকার দেয়া চিরকুট এর ঠিকানায় পৌঁছে দিতে হবে রবীন্দ্রনাথ এর কিছু বই।সেই ঠিকানায় পথ ধরে তরুণ।পথিমধ্যে তার কল্পনায় এসে জড়ো হয় হাজারো স্মৃতি,প্রেমিকা সারদার সাথে সম্পর্কের শুরুর কাহিনী,ভার্সিটি লাইফে তাদের কাটানো মুহুর্ত গুলোর কাহিনী ভেসে উঠে মানসচিত্রে।একদিকে বাস্তবতা,অন্যদিকে কল্পনা।অবশেষে কাঙ্খিত গন্তব্যে পৌঁছে নিজেকে আবিষ্কার করে তরুণ। প্রশ্ন উঠে তার অস্তিত্ব নিয়ে,তার পরিচয় নিয়ে।কিন্তু সারদার কি খোঁজ মিলে?নাকি পুরো কাহিনীটিই ভ্রম? একটা শ্রাবণ দিনের গল্প নিয়ে রচিত মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস 'ভ্রম'। পাঠকের চিন্তাভাবনা কে সম্পূর্ণ বিপরীত দিকে নিয়ে যাবে যেই গল্প।এ যেন এক মনস্তাত্ত্বিক ঘোর।
পাঠ প্রতিক্রিয়া: লেখক এম যে বাবুর দ্বিতীয় বই পড়লাম।তবে এটি কোন থ্রিলার না,সাধারণ এক রোমান্টিক উপন্যাস।শুরু থেকেই একধরণ এর চিন্তাভাবনা নিয়ে পড়া শুরু করলাম।কিন্তু শেষে এসে যেন আসলেই বুঝতে পারলাম কেন বইটির নাম 'ভ্রম'!জাস্ট ভাবতেই পারিনি কাহিনী এতটা মোড় পাল্টাবে।কাহিনী বর্ণিত হয় উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র তরুণ এর মুখে,যে একদম সাদামাটা কোন বিশেষত্বহীন এক যুবক।সাধারণ এক রোমান্টিক কাহিনীর মধ্যে যে সাইকোলজিক্যাল ব্যখ্যা থাকতে পারে তা উপন্যাস টি না পড়লে বুঝা যাবেনা।বলতে গেলে একদম ভিন্ন ধাঁচের একটা কাহিনী।আশা করি আপনারা পড়ে দেখবেন।
পাঠ_অনুভূতি নাম : ভ্রম লেখক : এম. জে. বাবু পৃষ্ঠা : ১১০ প্রকাশনা : গ্রন্থরাজ্যে লেখকের লেখার সাথে পরিচয় "জিন" দিয়ে এর পর পর সব গুলো বই ই পড়ে ফেলি। এই ছোট বইটা পাচ্ছিলাম না। এই বইটা লেখকের সম্ভবত প্রথম লেখা বই। ভ্রম ব্যাপার টা কি, পুরো বই জুড়ে একজন জাদুকর যে লেখকের উপর প্রভাব ফেলেছেন খুব ভয়ংকর ভাবে তা স্পষ্ট। কিন্তু লেখকের অন্য কোনো বই এ এই ছাপ নেই। এই বই দিয়েই আমার মনে হয় তিনি প্রতিটা বই শেষ করেন পাঠকদের একটা ভ্রমের মধ্যে ফেলে। এই বই পড়েই মনে হবে কি পড়লাম। পিছনে এর সব গুলো পৃষ্ঠা কি সত্যি নাকি মনের ভুল। এটাই ভ্রম। ভালো থাকবেন। বই পড়ুন, সময় কে কাজে লাগান।
বিশ্বাস করেন এই প্রথম কোনো হাইপে উঠা বই পড়ে আমি মজা পাইনি। সুইসাইড নোট পড়েও যা ভালো লাগছিলো এতে তাও লাগেনি। এত ছোট্ট একটা বই পড়তে আমার ৭ দিন সময় লাগছে। প্রথমত, এটা একটা রহস্য উপন্যাস। বুঝলাম মেইন ক্যারেকটারদের সাথে রবীন্দ্রনাথকে পছন্দকরার একটা ব্যাপার আছে। কিন্তু তাই বলে তার ইতিহাস পাতিহাস তুলে ধরে বোরিং বানানোর তো দরকার ছিলো না। আর দ্বিতীয়ত, এটা কোনো রোমান্টিক উপন্যাস ভেবেই পড়তেছিলাম। শেষে যেয়ে বুঝলাম রহস্য উপন্যাস। ঠিক আছে। কিন্তু হুট করে কোনো আগাগোড়া ছাড়া ইন্ডিয়ান সিরিয়ালের মতো প্লট চেঞ্জ করার মানে কি? মানে রোমান্টিক ভাবে গল্প আগাচ্ছে এরপর হুট করে এসে প্লট চেঞ্জ করে হয়ে গেলো কি? ছেলে মানুষিক রোগী, মেয়েটা কোনো অ্যাক্সিডেন্টে মারা গেছিলো তারপর থেকে। সেটাও বুঝলাম। কিন্তু শেষ পরিচ্ছেদে এসে ছেলেটা মরেও গেলো। তার চাচা নাকি তাকে মারছে। আবার একটা মেয়ের কথা আসলো যে একজনের কাছে বন্দি (তারেককে যারা মেরেছে তাদের কারো কাছে)। সেই মেয়ে গাড়িতে বসে দূর থেকে তারেকের দাফন দেখছে। যতটুকু মনে হলো সারদা মরেনি। তাকে তারেকের চাচাই কোনো ভাবে গুম করছিলো। কিন্তু আমার কথা হলো যে মাঝে তো কিছু একটা বলবে যে তারেকের ফ্যামিলিতে কোনো শত্রুতা ছিলো কিনা বা তারেক কিভাবে মানুষিক রোগী হলো। তার চাচা কেন এমন করলো। বুঝলাম এটা একটা রহস্য উপন্যাস। তাই রহস্য থেকেই যাবে। কিন্তু এই গল্পে পুরো বই ধরে থাকলো রোমান্টিক কাহিনি। তারপর একটু স্যাড কাহিনি। আর লাস্টের পরিচ্ছেদে এসে দুই পৃষ্ঠায় রহস্য কাহিনি তাও এর আগে কোনো ঘটনার সামান্য বিশ্লেষণ ছাড়াই। পুরা উপন্যাসটা চান্দির উপর দিয়ে গেছে। ভ্রম পড়তে যেয়ে নিজেই ভ্রমে পড়ে গেছি!
নয়ন তোমারে পায় না দেখিতে রয়েছ নয়নে নয়নে । হৃদয় তোমারে পায় না জানিতে,হৃদয়ে রয়েছ
ভ্রম || এম. জে. বাবু
ভালোবাসা দিবসে এক অন্যরকম ভালোবাসার গল্প শুনবেন? হয়তো এটা পুরোপুরি ভালোবাসার গল্প না,এটা অনেকখানি যত্ন, বাস্তবতা ও বুকে জমানো একরাশ স্বপ্নের গল্প 'ভ্রম' । একদেশে একটা মেয়ে ছিল, নাম তার সারদা। আর পাঁচটা মেয়ের মত তার পছন্দের রঙ মোটেই গোলাপী নয়। তার প্রিয় রঙ সাদা। শরতের সফেদ মেঘের ন্যায় সাদা তার প্রিয় রঙ। আর আছে তরুণ। বড্ড ছন্নছাড়া এক ছেলে। সারদার সাথে তার পরিচয় আট বছরেরও বেশি সময় ধরে। বিপরীত ধর্মের এই মেয়েটিকে দেখলেই ভেতরটা এলোমেলো হয়ে যায় । কল্পনাগুলো এলোমেলো হয়ে যায়, স্নায়ুগুলো হারায় ছন্দ। তবু এই মেয়েটাকে সে ভালোবাসে কিনা জানেনা। মেয়েটাও জানেনা। পরস্পরের বন্ধুত্বসুলভ আচরণে নেই প্রেমের লেশমাত্র। ভালোবাসার সম্বোধন 'তুমি' তো দূর তারা একে অপরকে 'তুই' ভিন্ন অন্য কোনো সর্বনামে ডাকেই না। তবু তরুণ জানে এই মেয়েটিকে দেখলে তার কেমন অনুভূতি হয়। সারদাকে সে বোধহয় ভালোবাসে, আবার বোধহয় বাসেনা। আচ্ছা সারদা কী বাসে? সম্ভবত না। ভেবেই মুচকি হাসে তরুণ। সে জানে সারদার বয়ফ্রেন্ড আছে। অসংখ্যবার সারদা সে কথা তাকে বলেছে ; বুঝিয়ে দিয়েছে বয়ফ্রেন্ডের উচ্ছিষ্ট যত্নটুকু সারদা তাকে দিয়েছে - এর বেশি কিছু নয়। তবু অন্ধকার ঘরকোণের ক্ষুদ্র এক প্রদীপশিখার ন্যায় আশা সঞ্চার করে একদিন বেরিয়ে পড়ে তরুণ। খুঁজতে হবে সারদাকে।
অবশেষে তরুণের হাতে ধরা দেবে কি সারদা? তরুণ আর সারদার প্রেমের আড়ালে ঈশ্বরের খেলার যোগ-বিয়োগ কী? জানতে হলে পাঠক তরুণের সাথে নেমে পড়ুন সারদার খোঁজে।
বইয়ের ভালো মন্দ --------------------------------- ● ভালো দিক
বইটিতে সবথেকে ভালো লেগেছে যে ব্যাপারটা তা হল গল্পের বুণন। প্লটটা খুবই সুন্দর। সাথে লেখকের স্টোরিটেলিংও ছিল যথেষ্ট ভালো। বইটা পড়ার সময় লেখার ধরণে আমার শুধু একজনের কথা ই বারব্র মনে পড়ে যাচ্ছিল। ভাবছিলাম 'এভাবে গল্প তো সেই মহান মানুষটা ছাড়া আর কেউ বলে না!' এবং শেষ পৃষ্ঠায় এসে অবাক ই হয়েছি যখন দেখলাম লেখক বইটা সেই মানুষটাকেই উৎসর্গ করেছেন। এবং অকপটে স্বীকার করেছেন এই বইটাতে সেই মানুষটার লিখনীর প্রভাব আছে। মানুষটা কে তা সবাই জানেন। তিনি বাংলা সাহিত্যের এমন একজন মানুষ যার নাম উল্লেখ না করলেও ঠিকই মানুষ চিনে ফেলে। লেখকও তাই উৎসর্গপত্রে মহান মানুষটার নাম উল্লেখ করেননি। যাহোক গল্পে ফিরি। লেখকের ভাষাশৈলী বেশ ভালো লেগেছে আমার। পাশাপাশি স্টোরিটেলিং ও বেশ ভালো লেগেছে। গল্প এগিয়েছে উত্তম পুরুষে। এই ব্যাপারটা গল্পে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। চরিত্রায়নের কথা বলতে হলে বলব মূল চরিত্র তরুণ ও সারদা দুজনকেই বেশ ভালোভাবেই বিল্ডাপ করেছেন লেখক। অল্প পরিসরে হলেও এই দুটি চরিত্রকেই সমানভাবে বাস্তবিক মনে হয়েছে আমার। গল্পটাও অতিরঞ্জিত লাগেনি। গ্রন্থরাজ্যের প্রোডাকশন কোয়ালিটি বেশ ভালো লেগেছে। পৃষ্ঠার মান, বাঁধাই সবকিছু ঠিকঠাক ছিল। আর সবথেকে যে জিনিসটা পছন্দ হয়েছে তার জন্য একজন মানুষ আলাদাভাবে ধন্যবাদ প্রাপ্য । তার নাম সজল চৌধুরী । বাংলাদেশে বর্তমান সময়ের সেরা প্রচ্ছদশিল্পীর প্রতিভার পরিচয় এই বইতে পাঠক বেশ ভালোভাবেই পেয়ে যাবেন। এই প্রচ্ছদটা সজল চৌধুরীর করা এখনও অবধি সেরা কাজ বলেই মনে হয় আমার। প্রচ্ছদে হাত বুলোলেই মনটা ভালো হয়ে যাওয়ার মত। গল্পের পরিণতি খুবই ভালো লেগেছে আমার। পরিণতি কিছুটা এক্সপেক্টেড হলেও লেখকের স্টোরিটেলিং ভালো হওয়াতে বইটা আমার পছন্দের তালিকায় জুড়ে গিয়েছে। সব মিলিয়ে 'ভ্রম' নিয়ে আমি প্রায় শতভাগ স্যাটিসফাইড।
● মন্দ দিক
বইটির মন্দ দিক নিয়ে আলাপ করতে গেলে শুরুতেই বলব গ্রন্থরাজ্যের মুদ্রণজনিত বেশ কিছু ত্রুটি আমার চোখে পড়েছে। টুকটাক বানান ভুলের পাশাপাশি 'য়' এবং 'ই' এর মধ্যে গুলিয়ে যাওয়াটা চোখে পড়েছে। আর সবথেকে যে বিষয়টা দৃষ্টিকটু লেগেছে তা হল স্পেসিং প্রবলেম। কয়েকটা শব্দ যেগুলো মাঝখানে কোনো স্পেস ছাড়া ই একসাথে জুড়ে গিয়েছিল। আপনার নিশ্চয়ই এত ভালো একটা বইয়ে 'তাইহবেনাকি' এরকম কিছু দেখতে ভালো লাগবে না। এছাড়া লিখনীতে টুকটাক রিপিটেশন পেলাম। যেখানে রিপ্লেস হিসেবে অন্য কোনো শ্রুতিমধুর শব্দ রয়েছে অলরেডি, সেখানেও লেখক কিছুক্ষণ আগে ব্যবহৃত একই শব্দ ব্যবহার করেছেন। এছাড়া মেজর কোনো ত্রুটি আমার চোখে পড়েনি।
এক নজরে, বই : ভ্রম লেখক : এম. জে. বাবু প্রকাশনী : গ্রন্থরাজ্য ধরণ : সমকালীন/মনস্তাত্তিক উপন্যাস পৃষ্ঠা : মুদ্রিত মূল্য : ২২০ টাকা পার্সোনাল রেটিং : ৪/৫
☘ ফ্লাপ হতে : ২২ শে শ্রাবণ ! দিনটার সাথেই কেমন যেন এক বাঙালির আবেগ জড়িয়ে আছে । এই দিনটায় পৃথিবী ছেড়েছিলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর । দিনের স্মৃতিচারণে যখন রবীপ্রেমিরা ব্যস্ত , ঠিক এই সময় এক তরুণ বেরিয়ে পড়ে তার ভালোবাসার মানুষটাকে নতুন করে খুঁজতে । জড়িয়ে পড়ে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনায় । তার ভালোবাসার মানুষ তাকে চিরকুটে লিখে দিয়েছিলো , রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে এক গন্তব্যে পৌঁছে দিতে । দিনের শুরুতে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে তরুণ বের হয়ে যায় তার ভালোবাসার মানুষটাকে খুঁজতে । সৃষ্টিকর্তা হয়ত একটু ভিন্ন কিছু ভেবে রেখেছেন তরুণের জন্য । নানান ঘোরপ্যাঁচের মধ্যে দিয়ে তরুণ নতুন করে আবিষ্কারের নেশায় ছুটছে সারদার পেছনে । অবশেষে তরুণের হাতে ধরা দেবে কি সারদা ? তরুণ আর সারদার বন্ধনের আড়ালে কি সৃষ্টিকর্তার কোনো গোপন যোগ-বিয়োগ আছে ?
☘ বুক রিভিউ :বইটির শুরু থেকে একটা সাধারণ বাঙালি পরিবারের দৈনন্দিনের কাজ - কর্ম,আচার - আচরণ, চলাফেরা তুলে ধরা হয়েছে। শুরু থেকেই সাধারণ ভাবে গল্পটা এগিয়ে নিয়েছেন লেখক। বিশ্ববিদ্যালয় পড়া এক তরুন, তার পরিবারে তার বাবা - মা ও ভাই- ভাবি সাথেই তার দিন কাটে। এছাড়াও তার একমাত্র বন্ধু হাকিম এবং তার প্রেমিকা সারদার সাথেই চলাফেরা ছিল তার। একথাথে চললেও সারদাকে সে সবসময় মনে মনে ভালোবাসত। কখনো তাকে মুখ ফুটে কিছু বলতে পারেনি। এরকম অনেক ছোট ছোট গল্প মিলিয়ে লেখক বইটির শেষ পর্যন্ত অনেক সুন্দর ভাবে এগিয়ে নিয়েছেন। যা বইটি পড়লে আপনার ভালো লাগাটা আরো বেড়ে যাবে।
☘ লেখনী : বইটা প্রথম থেকে পড়লে মনে হবে খুব সাধারণ একটা গল্পের মধ্য দিয়ে আপনি যাচ্ছেন। কিন্তু সাধারণ গল্প বললে আপনার ভুল হবে। বইয়ের প্রায় শেষের দিকে অর্থাত ৮৫-৯০ পৃষ্ঠার মধ্যেই গল্পের মোড় নিতে শুরু করে। এরপর ধীরে ধীরে যতই সামনে এগোবেন ততই টুইস্টে ডুবে যাবেন। বইয়ের শেষের অংশটুকু পড়ে আমি রীতিমতো অবাক হয়ে যাই।
🔹বইয়ের লেখক এম.জে. বাবু ভাইয়ের সম্পর্কে বলার মতো আমার আর কিছু নেই। তার লেখনী আমার অনেক ভালো লাগে। তার বেশ কয়েকটি বই আমি পড়েছি,এর মধ্যে : জিন, পিনবল, দ্যা বোহেমিয়ান গ্রোভ। তার লেখা এই বইগুলো আমার অনেক ভালো লেগেছে, যা বলার মতো না। তার জন্য অনেক অনেক ভালোবাসা, দোয়া ও শুভকামনা রইল।
☘ চরিত্রায়ন : এম. জে. বাবু ভাইয়ের প্রতিটা বইয়েরই চরিত্র গঠন পদ্ধতিটা আমার অনেক ভালো লেগেছে। তেমনি “ভ্রম" এও তার চরিত্র গঠন দেখে আমি মুগ্ধ। বইটিতে প্রতিটি ঘটনার সাথে তিনি সুন্দর ভাবেই চরিত্র গুলোর মিল রেখেছেন।এবং শেষ পর্যন্ত সেই চরিত্র গুলো ধরে রেখেছেন।
☘ বানান : বইটিতে কিছু জায়গায় বানানের কিছু ভুল রয়েছে। আবার কিছু কিছু জায়গায় একটা শব্দ দুই বার ব্যাবহার করা হয়েছে। এটা বানান ভুল বলা যাবে না, এটা টাইপিং মিস্টেকের ফলেও হতে পারে। সামান্য বানানে ভুল থাকলেও বইটা পড়ার সময় কোন ঝামেলায় পড়তে হবে না। ইনশাআল্লাহ।
☘ অন্যান্য : ব্যক্তিগতভাবে বইটি পড়ে আমার অনেক ভালো লেগেছে। বিশেষ করে বইয়ের শেষ অংশটুকু।
🔹এম.জে. বাবু ভাইয়ের ছোট বড় সব বইয়ে ফিতা দেয়ার ব্যাপারটা আমার অনেক ভালো লেগেছে। এর ফলে সহজেই পৃষ্ঠা চিহ্নিত করে রাখা যায়।
বইয়ের পাতা গুলো অনেক সফ্ট ও ভারী ছিল। এর ফলে বইটি পড়ার সময় খুব ভালো লেগেছে।
🔹আশা করি বইটি পড়ার পারে আপনাকেও অনেক ভালো লাগবে। বইটা কঠিন ভাবে পড়বেন না, মাথা ফ্রেশ রেখে সহজভাবে পড়ুন দেখবেন অনেক ভালো লাগছে। হ্যাপ্পি রিডিং।
🔹কষ্ট করে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রিভিউটা পড়ার জন্য সকলকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনাদের মতামত কমেন্টে জানিয়ে দিলে খুশি হব।
"নয়ন তোমারে পায় না দেখিতে রয়েছ নয়নে নয়নে হৃদয় তোমারে পায় না জানিতে হৃদয় রয়েছে গোপনে। বাসনা বসে মন অবিরত ধায় দশ দিশে পাগলের মত"
এই ছয় লাইনের কবিতা বদল করে দেয় তরুণ নামক এক সাদামাটা থেকেও সাধারণ এক ছেলের জীবনকে। প্রেম! আসলে ইশ্বর কর্তৃক সৃষ্টি এক অমূল্য রত্ন। এই প্রেমের জন্য মানুষ কী না করে। তরুণ এক রহস্যময়ী মানবীর প্রেমে পড়ে। মেয়েটির কত কাছে তরুণ,তবুও যেন কাছে নই৷ ধরতে গিয়েও ধরা হয় না তাকে। সেই রহস্যময়ী মানবীকে নতুন করে খুজতে বাইশে শ্রাবণে বের হয় তরুণ। নিতান্তই জীবন যাত্রার মধ্য দিয়ে তরুণ কী পারবে তার এই প্রেমকে ধরতে নাকি ভ্রম হয়ে থেকে৷ যাবে বাকী জীবন? জানতে হলে অবশ্যই পড়তে হবে রোমান্টিক-মনস্তাত্ত্বিক জনরার এই অসাধার বইটি।
🎇পাঠ প্রতিক্রিয়া
লেখকের প্রথম বই ছিলো দিমেন্তিয়া। যারা পড়েছেন তারা হয়ত জানেন লেখক কী মাত্রার ডার্ক থ্রিলার লেখক। কিন্তু ভ্রম সেরকম কিছু না। আমি অবাক হলাম লেখক এরক রোমান্টিক বই লিখলো কী করে 😲😲 পাকা একজন কথাসাহিত্যিকের মতো অবলীলায় মানব জীবনকে তুলে ধরলো। এই লাইনটা পড়লেই বুঝবেন যে লেখকের কলমের ধার কেমন, (এই লাইনটা অনেক প্রিয়)
"মেয়েদের স্টকে অনেক রকমের হাসি থাকে। ওরা সময় আর অবস্থা বুঝে ডেলিভারি দিতে পারে। যেটা ছেলেরা পারে না। ছেলেরা শুধু এক রকমের হাসিই জানে। দাঁত গুলা বের করে বোকার মত হাসতে। মেয়েরা তেমন না। ঘটনা বুঝে হাসতে পারে। শুধুই হাসতে পারেনা,কাঁদতেও পারে। আল্লাহ এই শক্তিটা দিয়ে না পাঠালে হয়ত পুরুষজাতিরে লাগামের মধ্যে রাখা নারীজাতির জন্য কষ্ট হয়ে যেত।"
এরকম অসংখ্য ভালো লাগার উক্তিতে ১১০ পৃষ্ঠার ছোট এই বইটা ভরা। ট্রাজেডির মধ্যে হঠাত করে কাহিনির মোড় ঘুরিয়ে আপনার কান্নাকে হাসিতে রুপান্তরিত করবে। কিন্তু বইটা শেষ করে আপনি না কেদে পারবেন না। আপনাকি হাসিয়ে শুরু হওয়া গল্পটা আপনাকে কাদিয়ে ছাড়বে 😢😢😥😭 বইটা শেষ করে নতুন এক ভ্রমে পড়ে যাবেন। লেখকের লেখনী ভালো না লেগে আপনার যাবে না। এই ছোট বইটা পড়ে আপনি ঘোরে যেতে বাধ্য। ছোট প্যাকেটে একটা বড় বোমা বইটি। হাইলি রেকমেন্ডেড...
এখন সময় ভোর ৪:৫৬। মাত্র শেষ করলাম M.J. Babu- এম জে বাবু রচিত 'ভ্রম'। গল্পের শেষটা পড়তে গিয়ে বুকে ব্যাথা উঠে গেল, জমাট বাঁধা দুঃখ। আমি একটু বেশিই আবেগী মানুষ ঠিক এই গল্পের প্রোটাগনিস্ট এর মতই যার নামটা আমরা জানতে পারি গল্পের একদম শেষে গিয়ে, "তারেক", দুঃখটা মূলত তারই।
লেখক খুবই সু-নিপুণ ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন গল্পের চরিত্রগুলোকে এবং শেষমেশ একটা "Heart wrenching and mysterious cliffhanger" দিয়ে সমাপ্ত করেছেন এই খন্ড (Hoping that 2nd part comes).
গল্পটা শ্রাবনের একটি রৌদ্রজ্বল দিনের। দিনটা ২২ শে শ্রাবণ, কবিগুরুর মৃত্যু দিবস। আমরা তারেকের POV থেকে গল্পটা শুরু করি। পুরো গল্পটাই ফ্লাশব্যাকে ভরপুর। যেন দিনের বিভিন্ন ঘটনা একেকটা ফ্যাশব্যাক ট্রিগার করছে সেই সাথে আমাদেরকে নিয়ে যাচ্ছে এমন একটা জগতে যেটা পুরোটাই একটা ভ্রম। এবং শেষে গিয়ে প্রচন্ড ধাক্কায় সেই ভ্রম থেকে গল্পের নায়কের সাথে আমাদেরকেও জাগিয়ে বাস্তব জগতে নিয়ে এসেছন লেখক। হাসি-কৌতুক, প্রেম-ভালোবাসা, বন্ধুত্বের আড়ালে লেখক আমাদের দিয়েছেন বাস্তবতার সবক, “দুনিয়া বড়ই নিষ্ঠুর”।
গল্পের আরেক রহস্য সারদা, যার প্রেমে পাগল প্রোটাগনিস্ট। একতরফা প্রেম, প্রবল আকর্ষণ কিন্তু প্রকাশের ভাষা নেই তারেকের, নাকি আছে? যেটা বুঝেও অবুঝ সারদা? সে এক রহস্য, নারী মানেই রহস্য।
এসবই আমরা জানতে পারি একটা দিনের বিভিন্ন ঘটনার অন্তরালের ফ্ল্যাশব্যাক দিয়ে। এই রহস্যেরও হয় কুল-কিনারা, কিন্তু পরিসমাপ্তির আগেই জন্ম দেয় আরেক রহস্যের, টুইস্টে ভরা রহস্য।
বিছানায় শুয়ে শুয়ে পড়ছিলাম, টুইস্ট আমায় শোয়া থেকে উঠিয়ে দিয়েছে, বারবার পড়েছি লাইনগুলো, যেন নিশ্চিত হচ্ছিলাম, "সঠিক পড়ছি তো?" Peak twist 👌 এটা আশা করিনাই, আগে কোন রিভিউ ও পড়ি নাই গল্পের। ধারনা করেছিলাম স্যাড এন্ডিং হবে, তাই বলে এই ভাবে!!🤯
পরিশিষ্টঃ ওভারঅল 4.5 রেটিং থাকবে ইন সেন্স অফ স্টোরি এন্ড পেসিং। শুরুটা স্লো হলেও বোরিং লাগে নাই। তবে কিছু বাক্যের syntaxial error রয়েছে যেটা মোস্ট প্রবাবলি এডিটরের দোষে হইছে। যেটা ওভারঅল রিডিং এক্সপেরিয়েন্সে ব্যাঘাত ঘটাইছে, ফ্লুইডিটি ছিলো না রিডিং এ। আশা করি পরবর্তী এডিশন গুলোতে এই এরর গুলা শুধরায়ে নেয়া হবে।
বই পড়ার নেশা এতটা প্রবল হতে পারে জানতাম না। তবে শুরু করা যাক। ভ্রম এম. জে. বাবু প্রথম প্রকাশ, ২০২০ প্রকাশক: গ্রন্থরাজ্য ১০৭ পৃষ্ঠা রাত ১:৩০ মিনিটের দিকে শুরু করে সকাল ৬:৩০ মিনিটের দিকে শেষ করে এই মাত্র লিখতে বসলাম। ২২ শে শ্রাবণ, এমন একটা দিন, যা একইসাথে আনন্দ এবং দুঃখ নিয়ে আসার ক্ষমতা রাখে। আবার দিনটি রহস্যের কেন্দ্রবিন্দু হতেও দ্বিধাবোধ করবেনা। গল্প পড়লে তা বুঝতে পারবেন আশা করি। চরিত্র বিশ্লেষণের দিকে যাচ্ছি না। আমি নিতান্তই নতুন পাঠক, ভুল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি দেখছি। তবে শুরু দিকে তরুণ কে হালকা লাগলেও সবকিছুর আগাগোড়া পরিবর্তন আমাকে ভাবতে বাধ্য করবে বেশ কিছুদিন। তরুণের চাঞ্চল্য পুরো বইয়ের চালিকাশক্তি হয়ে ছিল। গল্পের মজা পেতে হলে অবশ্যই শেষ পর্যন্ত পড়ে যেতে হবে। সারদা তার সৌন্দর্য দিয়ে পৃথিবীর সকল সৌন্দর্যকে হার মানানোর ক্ষমতা রাখে।মানুষ এতটা সুন্দর করে "তুই" বলে কিভাবে! বেশি কিছু বলছি না, শুধু এইটুকু: "নয়ন তোমারে পায় না দেখিতে, রয়েছ নয়নে নয়নে। হৃদয় তোমারে পায় না জানিতে, হৃদয়ে রয়েছ গোপনে।" এশা চরিত্রটিকে খুব মনযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করেছিলাম। তবে ধরতে পারিনি হয়তো, হসপিটাল থেকে পরের মূহুর্তে সেই জায়গায় উপস্তিতি। ("খেলাটা শুরু করা যাক" হাকিম আকাশের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বললো। মজিদের মুখে ফুটে উঠল এক কপটহাসি।) - এই রহস্যের উত্তর হয়তো ঠিক আগের পৃষ্ঠার একটা লাইনে লোকানো আছে। খুঁজে বের করে নিবেন পড়তে বসলে। শেষ কথা, তরুণের সাথে হিমুর মিল পেয়ে গেলে পড়া বন্ধ করে দিয়েন না। উৎসর্গ পেইজ খুঁজে পেলে ভালোই লাগবে। এম. জে. বাবু ভাইয়ের পড়া প্রথম বই হিসেবে মুগ্ধ হয়েছি। রেটিং দেওয়ার মতো যোগ্যতা আছে বলে মনে করিনা। একাডেমি লাইফে অনেক ইংরেজি সাহিত্যের বই পড়তে হচ্ছে। কিন্তু পাঠক হিসেবে খুব কম বই থেকেই এতটা আকর্ষণ অনুভব করেছি। কিছু পার্সোনাল সাজেশন: ১. বইয়ের কিছু জায়গায় বানান ভুল আছে, প্রকাশকের অবশ্যই এগুলো দেখা উচিত। ২. বাইন্ডিং আরেকটু ভালো করা যেতে পারে, যত্নশীল না হলে বর্তমান বাইন্ডিং ছিড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। ভুলত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য ধন্যবাদ। আর বড় লেখা সহ্য করার জন্য ডাবল ধন্যবাদ।
বই: ভ্রম লেখক: এম. জে. বাবু প্রকাশনী: গ্রন্থরাজ্য ধরন: মনস্তাত্ত্বিক ও দার্শনিক উপন্যাস পার্সোনাল রেটিং: ৪/৫
এক ভ্রমের ভেতর দিয়ে নিজেকে খুঁজে ফেরার গল্প!
কখনো কখনো একটা বই শুধু গল্প বলে না বরং আমাদের ভিতর লুকিয়ে থাকা অজস্র প্রশ্ন জাগিয়ে দেয়। এম. জে. বাবুর “ভ্রম” ঠিক তেমনই এক উপন্যাস, যেখানে বাস্তব আর কল্পনা এতটাই মিলে যায় যে, পাঠকের মনে হবে "আমিও কি এই চরিত্রটার মতো কোনো ভ্রমে আছি?"
বৃষ্টি ভেজা এক শ্রাবণ বিকেল। একজন (তরুন) তার হারিয়ে যাওয়া প্রেমিকাকে (সারদা) খুঁজতে বের হয়। কিন্তু যত এগোয়, ততই বুঝতে পারে এই খোঁজটা যেন কোথাও গিয়ে বাস্তব থেকে সরে যাচ্ছে। যে মেয়েটিকে সে খুঁজছে, সে কি সত্যিই আছে? নাকি পুরো ঘটনাটাই এক মানসিক বিভ্রম? প্রেমিকা যেন তার কাছে এক মরীচিকা, এক ভ্রম, যা ধরতে পারা বা আসল কি না, সেই দ্বিধা গল্পে বড় একটি থিম। গল্পটা যত এগোয়, লেখক আমাদের তত অনিশ্চয়তার মাঝে নিয়ে যান।
বইয়ের শেষের টুইস্ট টা আপনাকে অবাক করাবে। প্রথমে প্রেমের কাহিনি মনে হলেও শেষের টুইস্ট টা আপনাকে ভাবতে বাধ্য করবে। বইটি শেষ করার পর আপনি হয়ত কল্পনায় আটকে যেতে পারেন, "এটা কি সত্যি আমি দেখছি, নাকি আমারই তৈরি কোনো ভ্রম?"
বইয়ের শেষ পরিনতি কি হয়েছিল? তরুণ সারদার কাহিনি কি হলো? সারদাকে কি খুঁজে পেলো তরুন? এ সব রহস্যের সমাধান পেতে হলে ভ্রম বইটা তারতারি পড়ে ফেলুন।
পছন্দের কিছু লাইনঃ
১। যারা মন খুলে হাসতে পারে, তাদের কাছে দুঃখ হাওয়াই মিঠাইয়ের মতো।
২। জীবনে সৃষ্টিকর্তা ছেলেদের কোনো না কোনো নারীর হাতে বন্দি করে দেয়। প্রেমিকা, বোন কিংবা মা, পুরুষরা তাদের আবদারের কাছে বন্দি।
৩। প্রিয় মানুষকে হারানোর ভয় থেকে আর কোনো বড় ভয় নেই। এই ভয়টা এত তীব্র যেটার ভয়ে মাথা নুইয়ে প্রিয়জনকে বিদায় দেওয়া যায় তবুও মুখ ফুটে বলা যায় না সেই ভয়ের কথা।
তরুণ নামের এক ভবঘুরে যুবক সারদার নামের এক মেয়ের দেওয়া ঠিকানায় বই পৌঁছে দিতে বের হয় এই ছোট্ট কাজটিই ধীরে ধীরে তাকে টেনে নিয়ে যায় নিজের হারিয়ে যাওয়া অতীত, স্মৃতি, ভালোবাসা এবং মানসিক জটিলতার গভীরে। তরুণ ও সারদার সম্পর্ক ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে আবেগঘন এক বন্ধনে। দুজনেই একে অপরকে ভালোবাসে, কিন্তু বলা হয়ে ওঠে না ভয়, সংকোচ আর বন্ধুত্ব হারানোর আশঙ্কায়। এই অনুভবগুলো খুব বাস্তব এবং পাঠকের হৃদয়ে দাগ কাটে। গল্পের শুরুটা তুলনামূলক ধীর হলেও শেষভাগে লেখক যে টুইস্ট উপস্থাপন করেছেন তা নিঃসন্দেহে বইটির সবচেয়ে প্রভাবশালী অংশ। তারেকের মৃত্যুর পর হাকিম কাঁদে না, বরং প্রতিজ্ঞা নেয়। পাঠক জানতে পারে তারেকের চাচা সোবহান এবং তানভির মিলে পাঁচ বছর ধরে তারেককে ইলেকট্রিক শক দিয়ে পাগল বানিয়ে রেখেছিল, বিনিময়ে তানভিরকে দেওয়া হয়েছিলো মোটা অঙ্কের টাকা। শেষ দৃশ্যে গাড়িতে যে মেয়েটি কাঁদছিল সে কে? যদি সারদার মারা যায় এক্সিডেন্টে, তাহলে এই মেয়েটি কে? কবরের সামনে দাঁড়ানো সেই মানুষটি কে? আর মজিদ যখন বলে, “আমি জানি উনি কে”—তখন যেন নতুন রহস্য জন্ম নেয়। সব মিলিয়ে ‘ভ্রম’ শুধু একটি প্রেমগল্প নয়, বরং এটি এক মানসিক ও আবেগঘন থ্রিলার যেখানে ভালোবাসা, বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতিশোধের দোলাচলে পাঠক নিজেও হারিয়ে যেতে বাধ্য। আর হাকিমের সেই শেষ লাইন: “খেলাটা শুরু করা যাক।” এটাই কি বন্ধুর মৃত্যুর প্রতিশোধের শুরু? ভ্রম ২ কি আসবে? আসলে সেটিই কি হবে হাকিম এর খেলার দ্বিতীয় অধ্যায় বা বন্ধুর প্রতিশোধ এর সূচনা?
- Free Review - Muhammad Abir Hossain - Finished reading on (24-05-2025)
বাংলাদেশে থ্রিলার জনরাটা সম্প্রতি বেশ সাড়া ফেলেছে। সেই সাড়ার রেশ ধরেই এম. জে. বাবু ভাই সম্পর্কে জানা। ২২ সালের বইমেলায় Habiba আপু পিনবল বইটা কিনে দেয়। সেটাই ছিলো আমার সংগ্রহে আসা বাবু ভাইয়ের প্রথম কোনো বই। তো এই লোকের বই নাকি সব মিলিয়ে ৬টা। সবগুলো বইই যাস্ট মাথাটা আউলায়া দিচ্ছে। অনেকদিন পড় কোনো মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস পড়া হচ্ছিলো। প্রথম থেকে সব ঠিকই ছিলো। ২২ শে শ্রাবণের দিনটা খুব ভালোভাবেই এগুচ্ছিলো। বইয়ের ৯০ পেইজের পর থেকেই কাহিনী ধীরে ধীরে চেঞ্জ হতে শুরু করে। শেষে এরকম একটা টুইস্ট আমি কল্পনাও করিনি। যাই হোক আড়াইটায় বসে আসরের আযানের আগে বইটা শেষ করতে পেরেছি, বিশ্বাস হচ্ছে না।
বইয়ের নাম: ভ্রম লেখক: এম.জে. বাবু প্রকাশক: রাজীব দত্ত ( গ্রন্থ রাজ্য) প্রচ্ছদ: সজল চৌধুরী প্রথম প্রকাশ: অক্টোবর ২০২০ জনরা: মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১০ মুদ্রিত মূল্য: ২২০
৫/৫⭐ গল্পের শুরুটা সাধারণ ভাবে হলেও শেষটা একদম অসাধারণ ছিলো 👌 মনে ধরে গেছে। হয়তো অনেকের রিভিউর সাথে রিলেট করতে পারবো না বাট জিন আর অ্যাবসেন্টিয়ার পর এই বইটা আমার পছন্দের তালিকায় থাকবে । "প্রিয় মানুষকে হারানোর ভয়ের থেকে আর কোনো বড় ভয় নেই। এই ভয়টা এতো তীব্র যেটার ভয়ে মাথা নুইয়ে প্রিয়জনকে বিদায় দেয়া যায় তবুও মুখ ফুটে বলা যায় না সেই ভয়টার কথা" 💔
শুরুতে ভেবেছিলাম ক্লিশে ধরণের রোমান্টিক বই হবে। কিন্তু ধৈর্য্য ধরে কিছুদূর পড়ার পর আস্তে আস্তে জমতে শুরু করল। আশাহত হই নাই। বইটার নামের সার্থকতা শেষে গিয়ে যখন বুঝলাম, তখন অনেকগুলো মিশ্র অনুভূতি মাথার ভেতর ঘুরপাক খাচ্ছিলো। হাতে সময় থাকলে পড়ার মত বই।
বাইশে শ্রাবণ অর্থাৎ একটা দিনের ঘটনা। রোমান্টিক একটা কাহিনী। সারদার জন্য তরুণ কিংবা তারেকের প্রেম,বা শেষের টুইস্ট। সবচেয়ে খারাপ লেগেছে বানান। অনেক বানান ভুল রয়েছে।
বইটাতে এম. জে. বাবুর ট্রেডমার্ক জিনিশ শেষে যেয়ে সবকিছু চেঞ্জ করে দিয়ে পাঠককে হতভম্ব করে দেয়ার বিষয়টা রয়েছে। তবে অনেক জায়গায় বানান ভুল থাকার কারণে বিরক্ত হয়েছি বেশ।
অসাধারন লেগেছে শেষের টুইস্ট টা।কল্পনা ও করিনি এরকম কিছু হবে।প্রথমে বইটা পড়তে বোরিং লাগলেও আস্তে আস্তে যখন কাহিনি এগোয় তখন শেষটুকু জানার আগ্রহে বইটা একবসায় পড়ে ফেলা তেমন কঠিন কোনো বিষয় না।