"প্যাপিরাসগুলো হারিয়ে না গেলে, মানব সভ্যতা হয়তো এগিয়ে যেত আরও কয়েকশো বছর..."
প্রায় দু'হাজার বছর আগে নাবাতিয়ার সুরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে রাজধানী পেট্রাতে ঢুকে পরে দুই আরব বেদুইন। গোপনে তারা পর্যবেক্ষণ করে নাবাতিয়ার সেরা বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের খুঁটিনাটি। সুদূর মিশর থেকে আনা প্যাপিরাস পাতায় এঁকে ফেলে তার নকশা। তারপর সেখানেই তারা ঢলে পরে মৃত্যুর কোলে। আর তাদের সঙ্গেই হারিয়ে যায় সেই প্যাপিরাসগুলো।
একবিংশ শতাব্দীতে সারা পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে পরে এক নতুন ইন্ডাস্ট্রি। শুধু ভারতবর্ষেই যার বার্ষিক লেনদেন প্রায় দশ হাজার কোটি টাকা। তবে আদতে সেই ইন্ডাস্ট্রি মানব সভ্যতার বিনাশেরই ইঙ্গিত বহন করে।
মানব সভ্যতাকে বাঁচাতেই আজ আমাদের প্রয়োজন পেট্রায় হারিয়ে যাওয়া সেই প্যাপিরাসের। শুরু হয়েছে তার খোঁজ। শুরু হয়েছে এক ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্র। তারপর...
এই রোমাঞ্চকর কাহিনিতে এমন অনেক কিছু আছে যা থ্রিলার-প্রেমীরা পছন্দ করবেন। যেমন~ ১. অত্যন্ত টানটান ভাব; ২. এই সময়ে সারা পৃথিবীর শিরঃপীড়া তথা উদ্বেগের কারণ হয়ে ওঠা একটি ইস্যু; ৩. রাজনীতি এবং কর্পোরেট অর্থনীতির আলো-আঁধারি জগতের পটভূমিতে খুন ও ষড়যন্ত্রের লাল-কালো রঙ। মুশকিল হল, এই বইয়ের আসল জিনিস, অর্থাৎ পেট্রার প্যাপিরাসে ঠিক কেমন প্রযুক্তি ছিল— তা লেখক বোঝাতে পারেননি। ওই ইতিহাসের অংশে বর্ণনাই ছিল বোরিং। দ্বিতীয় সমস্যা হল চরিত্রদের সরলীকরণ। তাদের এত ঘন-ঘন 'বহুরূপে সম্মুখে তোমার' করে দেখালে গল্পের গাম্ভীর্য কমে যায়। তবু সব মিলিয়ে বলা যায় যে এই কাহিনিটি পড়তে আপনার মন্দ লাগবে না। যেহেতু গল্পের শেষে একটা ওপন-এন্ডেড ভাব আছে, তাই এর সিকুয়েলের অপেক্ষাতেও থাকবেন। লেখকের উদ্দেশে শুভেচ্ছা জানাই।
আমি ডিটেকটিভ কাহিনীর বিশেষ পোকা নয়, কিন্তু যদি ভিকটিমই যদি চোর হয়, আর যদি নিঃস্বার্থ লোকটাই সবচেয়ে বড় শয়তান হয়ে দাঁড়ায়, তখন আর গল্পের কি পড়ে থাকে বলুন তো... হাতে পেন্সিল ছাড়া !!!
জীবনের মূল্যবান দুটো ঘণ্টা নষ্ট করলাম বোধয়। কেউ কিনবেন বইটা? মাইরি বলছি, ফ্রিতে দিয়ে দেবো...
লেখকের আগের বই গুলি যারা পড়েছেন তারা জানবেন লেখকের জনরা হলো ঐতিহাসিক নন ফিকশন, বিশ্ব ইতিহাসের লুকানো, বিতর্কিত ইতিহাস ও তাকে ঘিরে গড়ে ওঠা সূত্র ও সমান্তরাল সূত্র গুলি নিয়েই তাঁর কারবার। বিশেষ করে "মিশরের রহস্যময় রানীরা" বা "সূর্যের রঙ কালো" পড়লে তাই মনে হয় সেজন্যেই এই বইয়ের প্রথম অধ্যায় শেষ হওয়ার পরে একটু থেমে যেতে হয় কারন একটা থ্রিলার ধর্মী ফিকশন শুরু হয়ে গেছে ততক্ষনে। এবার আসি এক এক করে। বইটি দেখতে জাস্ট অসাধারন,শক্ত বোর্ড বাঁধাই। কাগজের মান অতীব সুন্দর, প্রচ্ছদ ছিমছাম কিন্তু সুন্দর।মাপেও বেশ সুন্দর, মুদ্রণ প্রমাদ মাত্র হাতে গোনা কয়েকটা চোখে পড়ে। এই দামে এরকম মানের বই বেশ কমই আছে। এবার আসি গল্পের প্রেক্ষাপটে। প্রাচীন পেট্রা শহরে লুকিয়ে থাকা এক গোপন সূত্র যার নাগাল পেলে মানবসভ্যতার একটা গভীর সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে খুব সহজেই। এরকম একটা গোপন সূত্রের পিছনে যে একাধিক শক্তিশালী মানুষের নজর থাকবে একথা বলাই বাহুল্য। চিল শকুনের মতো কিছু মানুষের এই সূত্রের খোঁজ চলছে প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান অব্দি, জড়িয়ে আছে ভারতের নামও আর জড়িয়ে মাকড়সার জালের মতো একটা ষড়যন্ত্র। যার বিস্তার ভারত থেকে লন্ডন, সেখান থেকে লাস ভেগাস হয়ে মালয়েশিয়া! কি ছিল সেই সূত্র? এটুকুই থাক,এর বেশী বললে স্পয়লার হয়ে যেতে পারে। বইটি এককথায় আনপুটডাউনেবল। নন ফিকশন ঐতিহাসিক নিয়ে হাত পাকানো লেখক যে ইতিহাসের গোপন একটা তথ্য নিয়ে এভাবে থ্রিলার ফিকশন লিখতে পারেন সেটা না পড়লে মিস করবেন পাঠককূল।