আবৃতাকে নিয়েই সিজারের উপন্যাস মোহ। পড়াশুনো করে আর্থিক প্রতিপত্তির মধ্যে বড় হওয়া মেয়ে আবৃতা। প্রেমের বশে, আর ঝোঁকেরও বশে সে ভালবেসে ফেলে সমাপনকে। সমাপন যে তার জীবনে এ রকম অকস্মাৎই ‘সমাপন’ টানবে তা কী করে আগে থেকে বুঝবে আবৃতা? এমনকি পাঠকও হকচকিয়ে যান। সমাপন তার নাম সার্থক করে এ উপন্যাস থেকে বিদায় নিয়েছে এক ক্লান্ত হেরে যাওয়া চরিত্র হিসেবে। তার ১৮০ ডিগ্রি উল্টো দিকে অদ্বৈত। যে কিনা সামাজিক ভাবে আবৃতার জীবনে দ্বিতীয় পুরুষ। কি চরিত্রে-মননে এবং শারীরিক কাঠামোয়। এমনকি বিছানাতেও সে যেন নিবিড় হয়ে উঠতে পারে না। খানিকটা শিশুসুলভ আনাড়িও সে। সেটা আবৃতা প্রতি মুহূর্তে অনুভব করে। সিজার খুব চমৎকার এক জটিল মনস্তত্ত্বের নারীচরিত্র এঁকেছেন। যে কিনা প্রায় এক বস্ত্রে স্বামীগৃহ ত্যাগ করে অথচ তাকে ভুলতে পারে না। পরবর্তী বিবাহে যাওয়ার আগে এ দিক ও দিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। পরের বিয়ের স্বামীর সঙ্গেও তার মানসিক ও শারীরিক মেলবন্ধন গড়ে ওঠে না। আবারও সম্পর্কচ্যুত হওয়ার কথা ভাবতে থাকে। সিজার তাঁর উপন্যাসে ছোটগল্পের মতো কৌতূহল জাগিয়ে রাখেন, এর পর কী হবে? তাঁর গদ্য টানটান। সম্পর্ক ও ঘটনার ওঠাপড়া দক্ষ ভাবে ধরেছেন লেখক। এ উপন্যাস যেন শব্দ-অক্ষরের এক চমৎকার চলচ্চিত্র।
সিজার বাগচী-র জন্ম ১৯৭৭ সালে। দক্ষিণ কলকাতায়। পূর্বপুরুষের বসবাস ছিল অধুনা বাংলাদেশের ময়মনসিংহে। অল্প বয়সে পিতৃহীন। কলেজে পড়ার সময়ে লেখালিখি শুরু। ফিচার, গল্প, প্রবন্ধ, সমালোচনা, চিত্রনাট্য, কথিকা, উপন্যাস। সহজ তরতরে ভাষায় লেখা সব গল্প-উপন্যাসের বিষয়ই আলাদা। এবং তা উঠে আসে রোজকার জীবনযাত্রা থেকে। বড়দের পাশাপাশি ছোটদের গল্পও লিখছেন নিয়মিত৷ নানা পেশায় যুক্ত থেকেছেন। দীর্ঘদিন সাংবাদিকতার চাকরি করেছেন ‘আনন্দলোক’ পত্রিকায়। বর্তমানে ‘আনন্দমেলা’য় কর্মরত৷ লেখালিখি ছাড়াও বাংলার লোকসংস্কৃতি নিয়ে কাজ করতে ভালবাসেন।
🍁🍂বইয়ের নাম - মোহ🍂🍁 ✍️লেখক- সিজার বাগচী 🖨️প্রকাশক - আনন্দ পাবলিশার্স 📖পৃষ্ঠা সংখ্যা -১৭৫ 💰মূল্য - ২০০₹
এই উপন্যাস প্রথম প্রকাশিত হয় “আনন্দলোক পূজাবার্ষিকী 1424”!এই উপন্যাস এর মোহ কাটানো মুশকিল,গোটা উপন্যাসটা খুবই সুন্দর গতিতে এগিয়েছে, কোথাও এতটুকু ও বোরিং লাগবে না পাঠকদের!এই উপন্যাসে কিছু সংলাপ খুব ভালো লেগেছে, শেষ দিকে "সব অনুভূতি কি শব্দ দিয়ে ধরা যায় ? শব্দের এত জোর থাকলে নৈঃশব্দ্য কবে নিঃশেষ হয়ে যেত ! উপন্যাস এর শেষ দুটো লাইন অসাধারণ উপন্যাসের শেষটাও খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন, এবং একটা সুন্দর বার্তাও দিয়েছেন যেটা এই উপন্যাসটি না পড়লে অনুভব করা যাবে না! সিজার বাগচীর এর লেখা আমি আগেও পড়েছি ভীষণ প্রিয় লেখক ওনার উপন্যাস মানেই নারী পুরুষের সম্পর্কের জটিলতা নিয়ে লেখা প্রেমের উপন্যাস !!
আবৃতা-সমাপনের সুখের জীবনে ঝড় নিয়ে আসে বিয়াস। আর সমাপনের সঙ্গে বিয়াসের সম্পর্কের জেরে ভেঙে যায় আবৃতা-সমাপনের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। কিন্তু নতুন জীবন শুরু করতে গিয়ে সমাপনকে ভুলতে পারে না আবৃতা। কোন দিকে যাবে আবৃতা ? নারী-পুরুষের সম্পর্কের জটিলতা নিয়েই সিজার বাগচীর এই প্রেমের উপন্যাস।
বাড়ির অমতে আবৃতা-সমাপনের বিয়ে। বাড়িই বিয়ের কয়েক বছর পেরোতেই নতুন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ল সমাপন। বিয়াস বলে সেই মেয়ের সঙ্গে সমাপনের সম্পর্কের কথা জানতে পেরে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে এল আবৃতা। সমাপনও সায় দিল বিচ্ছেদে। কিন্তু আবৃতার পরিবার ক্ষমা করতে পারল না সমাপনকে। শুরু হল ডিভোর্সের মামলা। আর এইভাবে আবৃতার জীবনও জড়িয়ে পড়তে থাকল একের পর এক জটিল আবর্তে। নানা পুরুষ উঁকি দিতে থাকল আবৃতার জীবনে। কী করবে আবৃতা? একদিকে সমাপনের প্রতি টান, অন্যদিকে পুরনো জীবনকে ফেলে নতুন জীবনের দিকে এগিয়ে চলার অদম্য বাসনা। জীবনের এক জটিল মোড়ে এসে দাঁড়াল আবৃতা। কোন দিকে যাবে সে? নারী-পুরুষের সম্পর্কের জটিলতা নিয়েই সিজার বাগচীর এই প্রেমের উপন্যাস।
“আসলে এ সংসারে আপন নয় কেহ চার দেওয়ালের ওই ঘরে সবটাই শুধু মোহ”