কালীঘাট! কথাটা শোনামাত্র আমাদের কী মনে পড়ে? মেট্রো স্টেশন? বালিগঞ্জ বা বেহালা যাওয়ার জন্য অটোর লাইন? প্যাঁড়া? যেটাই পড়ুক, আমার দৃঢ় ধারণা, অন্য সবকিছুর পাশাপাশি একবারের জন্য হলেও মা কালীর ছবি, বা তাঁর সেই প্রকাণ্ড জিহ্বাটির কথা আপনার মনে পড়ে। শক্তিপীঠ বা সতীপীঠের কূটতত্ত্ব হয়তো আমরা বুঝি না। কিন্তু এই বিশেষ দেবালয় এবং তাতে পূজিতা মায়ের এই রূপটিকে নিয়ে সমাজের প্রায় সর্বস্তরে যে ভক্তি কিছুটা ভীতিও বটে— মা-কে কে না ভয় পায়?) আছে, তা অনস্বীকার্য। এই জায়গাটির ইতিহাস ও কিংবদন্তি নিয়ে বইয়ের অভাব নেই। তবে আমার ধারণা, সেই বই প পুস্তিকাকে ছাপিয়ে গেছে সাংবাদিক সুমন গুপ্তের এই বইটি। কেন? প্রথমত, সুদীর্ঘকাল জুড়ে এই অঞ্চলে সাধনা ও অন্য নানা কাজকর্ম কীভাবে হত, সেই ইতিহাস বিধৃত হয়েছে এই বইয়ে। কিন্তু রচয়িতার লেখনী অত্যন্ত সহজ ও সুললিত বলে আমরা নিজেদের অজান্তেই সেগুলো পড়ে ফেলি গল্পের ছলে। দ্বিতীয়ত, বইটিতে শুধু ইতিহাস ও কিংবদন্তিই নেই। তার সঙ্গে আছে নিত্যপূজা ও বিশেষ পূজার সঙ্গে জড়িত প্রক্রিয়া ও বিধির বিবরণ। এই তথ্যগুলো সহজলভ্য নয়, অথচ এদের নিয়ে আমাদের মনে কৌতূহল থাকেই। তৃতীয়ত, এই বইয়ে থাকা রঙিন ছবিগুলোর সৌজন্যে আপনি ঘরে বসেই মায়ের কাছে পৌঁছে যেতে পারবেন। সুমুদ্রিত, শোভন, সুলিখিত এবং সুলভ এই বইটি না পড়লে আপনার কালীক্ষেত্র-দর্শন সম্পূর্ণ হবে না— এমনই আমার ধারণা।