Jump to ratings and reviews
Rate this book

রেজা সিরিজ #2

শেষ অধ্যায় নেই

Rate this book

Hardcover

First published October 1, 2020

9 people are currently reading
125 people want to read

About the author

Sadat Hossain

39 books381 followers
Sadat Hossain (born 29 June 1984) is a Bangladeshi author, screenwriter, film-maker, and novelist. Sadat Hossain was born In Madaripur, Dhaka, Bangladesh. He studied anthropology at Jahangirnagar University. He was a photojournalist in a newspaper. Then the editor told him that he should write the story of those photos. Eventually, with these, he published his first book in 2013 named Golpochobi. Then, he started to write short stories. In 2014 Janalar Opashe published. In 2015 Aarshinagor is the first book when people recognize him in 2015.[4] Besides writing he has interest in filmmaking as well. He has a production house named ‘ASH’ Production house, released a number of visual contents like short films, dramas, music videos, documentaries, etc.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
17 (14%)
4 stars
23 (20%)
3 stars
42 (36%)
2 stars
23 (20%)
1 star
10 (8%)
Displaying 1 - 21 of 21 reviews
Profile Image for SirLaughsALot.
88 reviews19 followers
March 31, 2021
সাদাত সাব যে রেজা চরিত্র নিয়ে সিরিজ লিখতে চেয়েছিল সেটা নিয়ে আমি আগেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলাম। ধন্যবাদ সাদাত সাব, হতাশ না করার জন্য আমাকে। যতটা বাজে হবে ভেবেছিলাম সিরিজের দ্বিতীয় বই, ঠিক ততটাই বাজে হয়েছে।
Profile Image for Reaz Uddin Rashed.
43 reviews5 followers
November 9, 2020
হালের তুমুল জনপ্রিয় লেখক সাদাত হোসাইনের বই এই প্রথম পড়লাম। শুরুটা ভালো, মাঝে ঝুলে গিয়েছিল, কথোপকথন যুতসই লাগেনি, শেষে বেশ সুন্দর সমাপ্তি দিতে পেরেছেন লেখক। চা-বাগানে জনপ্রিয় লেখকের মৃত্যু হয়, পারিবারিক জীবনে টানাপোড়েন চলছিল যাঁর। এস আই রেজা ছুটে চলেন রহস্যের পেছনে, লম্বা একটি সময় পেরিয়ে সমাধানে সক্ষম হন। গল্পে বেশ কিছু প্লটহোল ছিল, পোস্টমর্টেম করে স্পেসিফিক সময় বলা কোনভাবেই সম্ভব নয়, কেবল টাইমলাইন ধারণা করা যায়। এত জনপ্রিয় একজন লেখক, যার পান্ডুলিপি নেবার জন্য এত এত অফার নিয়ে প্রকাশকেরা অপেক্ষা করেন, তাঁর টাকাপয়সার টানাটানি কেন হবে? এমনকি তুমুল পাঠকপ্রিয় লেখকের নিয়মিত প্রকাশকেরও আর্থিক দৈন্যদশা কিভাবে হল তা-ও লেখক ব্যাখ্যা করেননি। এস আই রেজা কে আমাদের মতই সাধারণ মানুষ হিসেবে ফুটিয়ে তুলেছেন, তার ঘুম হয়না, বেশ দুঃশ্চিন্তা করে, আমার কাছে এই চরিত্রটাকে ভালোই লেগেছে। পরিসমাপ্তি ভালো ছিল, এজন্যে লেখককে সাধুবাদ, তবে আমার মনে হয় কলেবরে আরো ছোট করা যেত। থ্রিলার জনরায় লেখক সাদাত হোসাইনকে স্বাগত জানাই, আশা করি এস আই রেজার আরো বই সামনে পাবো।
This entire review has been hidden because of spoilers.
Profile Image for শিবলী  সাইক.
17 reviews3 followers
February 12, 2021
উপন্যাস সম্পর্কিত প্রারম্ভিক কিছু কথা :
অন্যান্য উপন্যাসের তুলনায় থ্রিলার উপন্যাসের প্লট ও গঠনপ্রণালী সচরাচর ভিন্নধর্মী হয়ে থাকে। এ ধরণের উপন্যাসে দেখা যায় মানবিক ত্রুটি, খুন ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে উঠে আসে মানবজীবনের এক অন্ধকারাচ্ছন্ন গল্পের রহস্য। এগুলোই হয়ে থাকে থ্রিলার উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়। এ ধরণের উপন্যাসের সেইসব টানটান উত্তেজনাকর রহস্য জানার আকর্ষণে পাঠক উপন্যাসের শেষ পর্যন্ত পৌঁছতে প্রলুব্ধ হন। সেইসব রহস্য উদঘাটনের সাথে সাথে পাঠক এক রোমাঞ্চকর অনুভূতির স্বাদ পান, যা অন্য ধারার উপন্যাসে সাধারণত পাওয়া যায় না। এজন্য, আধুনিক যুগে বাংলা সাহিত্য তথা বিশ্বসাহিত্যে থ্রিলার ধারার গল্প বা উপন্যাস প্রবল পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। বর্তমানে পাঠকদের একটি বিরাট অংশ এ ধরণের উপন্যাস পড়ছেন এবং সময়ের সাথে সাথে থ্রিলার উপন্যাসের পাঠক নাটকীয় হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই, বাংলা ভাষাভাষী থ্রিলার পাঠকদের চাহিদা পূরণ করার জন্য পৃথিবী বিখ্যাত বিদেশী থ্রিলার বইগুলো বাংলা ভাষায় অনুবাদ করা হয়ে থাকে। কিন্তু আশার কথা এই যে, বর্তমানে আমাদের দেশের সংস্কৃতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাংলা ভাষাতেও মৌলিক থ্রিলার লেখা হচ্ছে এবং সেগুলো পাঠক মহলে বেশ সমাদৃত হচ্ছে। বর্তমানে পাঠকপ্রিয় লেখক সাদাত হোসাইনও মৌলিক থ্রিলার উপন্যাস রচনা করা শুরু করেছেন। "ছদ্মবেশ" ছিল তাঁর লেখা প্রথম থ্রিলার উপন্যাস, যেটা তিনি পরীক্ষামূলক হিসেবে রচনা করেছিলেন। এই উপন্যাসটি পাঠকসমাজে আলোচিত হলে তাঁর এই ধারার দ্বিতীয় উপন্যাস রচনার দাবি উচ্চকিত হয়। তারই ধারাবাহিকতায় গতবছর অর্থাৎ ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে অন্যধারা থেকে প্রকাশিত হয় লেখকের এই দ্বিতীয় থ্রিলার উপন্যাস "শেষ অধ্যায় নেই" বইটি।

লেখক সাদাত হোসাইন এর আগে সমকালীন উপন্যাস লিখে তুমুল পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছেন। এ ধরণের বেশ কিছু সমকালীন উপন্যাস রচনা করার কারণে বলা যায় এ ধরণের উপন্যাসই ছিল তাঁর অভ্যস্ত পরিসর। কিন্তু কম্ফোর্ট জোন বা অভ্যস্ত পরিসর থেকে বেরিয়ে এসে থ্রিলার উপন্যাস রচনা করা নিঃসন্দেহে একটি দুঃসাহসিক চেষ্টা। কিন্তু তাঁর এই "শেষ অধ্যায় নেই" উপন্যাসটি পড়ার পর আমার মনে হয়েছে, তিনি তাঁর চেষ্টায় সফল হয়েছেন। কেননা, থ্রিলার উপন্যাসের নিয়ম অনুসারে "শেষ অধ্যায় নেই" বইয়ের প্রথমে কোনো একটি রহস্য তৈরি হয়েছে এবং তারপর পুরো বই জুড়ে সেই রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। মাঝখানে অবশ্য অনেকের দিকে নিক্ষেপ হয়েছে সন্দেহের তির। কিন্তু আসল অপরাধীর খোঁজ পাওয়া যায় উপন্যাসের শেষে। রহস্যের পাশাপাশি অন্যসব গল্পের মতো এই উপন্যাসেও রয়েছে প্রেম-ভালোবাসা ও মানবিক সম্পর্কের টানাপোড়েন। ঠিক এরকম, লেখকের দ্বিতীয় থ্রিলার উপন্যাস বিবেচনায় বইটির রহস্যপূর্ণ কাহিনি, গঠনপ্রণালী, ভাষার প্রাঞ্জলতা, সিলেটের চা বাগানের প্রাকৃতিক পরিবেশের বর্ণনা ইত্যাদিতে লেখক কৃতিত্বপূর্ণ স্বাক্ষর রেখেছেন বলে আমার মনে হয়েছে।

চা বাগানের বর্ণনা :
"শেষ অধ্যায় নেই" রহস্যোপন্যাসের কাহিনির চিত্রপটে উঠে এসেছে একটি চা বাগান। বিস্তৃত খোলা সবুজ প্রান্তর জুড়ে অবস্থিত সেই চা বাগানটি। সবুজ বৃক্ষ আর ঘন ঝোপঝাড়ে ঢেকে আছে উঁচু-নিচু পাহাড়ি এলাকা। এর উত্তর দিকের রাস্তাটি ধীরে ধীরে সমতল হয়ে উপরের দিকে উঠে গেছে। এই রাস্তার একটি স্থানে রয়েছে দেয়াল দিয়ে ঘেরা একটি ছোট্ট সমাধিক্ষেত্র। বহু পুরতন এই সমাধিক্ষেত্রটি অযত্ন-অবহেলায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে আছে। সমাধিফলক গুলোও ঝোপঝাড়ে ঢেকে আছে। এরপর রাস্তাটি হালকা খাড়া হয়ে উঁচু পাহাড়ের সমতল স্থানে এসে মেশে। এখানে রয়েছে একটি ছোট্ট গির্জা। এই গির্জা থেকেই অন্ধকার রাতে ঢংঢং আওয়াজ শুনতে পান শফিক শাহরিয়ার। তিনি থাকেন চা বাগানের একদম শেষ প্রান্তে অবস্থিত একটি কাঠের বাংলোতে। এই বাংলোর পর খাড়া পাহাড়ি ঢাল নেমে গেছে নিচে। বাগানের শেষ প্রান্তের খানিকটা জায়গা জুড়ে সীমানাপ্রাচীর নেই। এজন্য এই জায়গটুকু দূর থেকে দেখলে খোলামেলা ও অরক্ষিত মনে হয়। তাছাড়া, বাগানটি সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় এখানে অপরাধ প্রবণতাও অপ্রতুল নয়।

দিনের বেলাতে এই চা বাগানের সৌন্দর্য একরকম। কিন্তু রাতের আঁধারে এটি যেন অন্যরকম রূপ ধারণ করে। রাতের বেলার সেই দৃশ্য পাঠক ভালোভাবে প্রত্যক্ষ করতে পারবেন যখন এই উপন্যাসে এসআই রেজা রাতের আঁধারে পরিদর্শন করতে আসবেন চা বাগানটি।

এই চা বাগানটি ১৮৯০ সালের দিকে নির্মাণ করেছিলেন হেনরি জনসন নামের একজন ব্রিটিশ ভদ্রলোক। তার নামানুসারেই এর নাম হয় "জনসন টি এস্টেট"। এখানে অবস্থিত গির্জাটি তিনিই প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। আর এখানে অযত্ন-অবহেলায় যে সমাধিক্ষেত্রটি পড়ে আছে, সেটাও তার। পরবর্তীতে শফিক শাহরিয়ারের বন্ধু জাফরের পূর্বপুরুষ চা বাগানটি কিনে নেন। কিন্তু তারপর বাগানটির আর নাম পরিবর্তন করা হয়নি। তাই, এখনো এই নামেই চা বাগানটি পরিচিত।

উপন্যাসের রহস্য সম্পর্কে সম্যক ধারণা :
"শেষ অধ্যায় নেই" বইয়ের কেন্দ্রীয় চরিত্রে রয়েছেন শফিক শাহরিয়ার নামের একজন স্বনামধন্য লেখক। একের পর এক বই লিখে তিনি পাঠক সমাজের বিদগ্ধ মহলে সাড়া ফেলে দিয়েছেন। এবার তিনি এমন একটি বই লিখতে চলেছেন, যেটা হবে তার লেখা অন্য সব বই থেকে আলাদা ও চমকপ্রদ। এটা সাধারণ কোনো বই নয়, এটা হবে একটি জটিল রহস্যোপন্যাস। পত্রপত্রিকায় ইতোমধ্যেই এই বইটির পরিকল্পনা নিয়ে বেশ কিছু লেখালেখিও হয়েছে। এজন্য এই বইটি নিয়ে পাঠক ও প্রকাশকদের মধ্যে প্রচুর আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

কিন্তু শফিক শাহরিয়���র এমন সময় তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অস্থির হয়ে পড়েন। তার কথিত প্রেমিকা তৃণাকে নিয়ে তিনি বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়ে যান। কারণ, এই কথিত প্রেমিকা তৃণার কথা পৌঁছে যায় শফিক শাহরিয়ারের স্ত্রী নাজনীনের নিকট পর্যন্ত। এই কারণে শফিক শাহরিয়ারের সাথে তার স্ত্রীর তৈরি হয় দাম্পত্য টানাপড়েন। তার স্ত্রী নাজনীন তাদের মেয়ে ঊষাকে নিয়ে একা থাকতে শুরু করেন। সবকিছু মিলে একটা দিশেহারা অবস্থা তৈরি হয় শফিক শাহরিয়ারের।

অন্যদিকে শফিক শাহরিয়ারের কাঁধে রয়েছে তার লেখা রহস্যোপন্যাস নিয়ে পাঠকের আশা পূরণ করার দায়িত্ব। কিন্তু এমন দিশেহারা অবস্থার মধ্যে এরকম একটি জটিল রহস্যোপন্যাস রচনা করা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছিল না তার পক্ষে। তার প্রয়োজন ছিল সকল প্রকার দুশ্চিন্তা থেকে দূরে থাকার ব্যবস্থা এবং সেই সাথে নিরিবিলি পরিবেশ। সবকিছু বিবেচনা করে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, "জনসন টি এস্টেট" নামে সিলেটে অবস্থিত তার বন্ধু জাফরের পারিবারিক চা বাগানের নিরিবিলি পরিবেশে এসে নিবিষ্ট মনে উপন্যাস রচনা করবেন। যেমন ভাবনা তেমন কাজ। তিনি তার বন্ধু জাফরকে সবকিছু ইমেইলের মাধ্যমে জানিয়ে চলে আসেন সেই চা বাগানে।

কিন্তু এই চা বাগানে আসার পর লেখক শফিক শাহরিয়ার একের পর এক নেতিবাচক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে থাকেন। তিনি এয়ারপোর্ট থেকে নেমে দেখেন তার জন্য গাড়ি পাঠানো হয়নি। আবার চা বাগানের ম্যানেজার আব্দুল বাতেনের মোবাইল ফোনও বন্ধ। এরপর অনেক কষ্টে চা বাগানে পৌঁছানোর পর আরও সব অদ্ভুত ঘটনা ঘটতে থাকে। মাঝেমাঝে ইলেক্ট্রিসিটি চলে যায়। আবার সেই সময় জেনারেটরও চালু হয় না। ঠিক এমন সময় গির্জা থেকে বেজে ওঠে ঢংঢং আওয়াজ। যদিও এই চা বাগানে এমন সব ঘটনা ঘটার কথা নয়। তবুও এসব ঘটনার কিছু অজুহাত দাঁড় করান ম্যানেজার আব্দুল বাতেন। কিন্তু তার দেখানো অজুহাতে সন্তুষ্ট হতে পারেননি শফিক শাহরিয়ার।

শফিক শাহরিয়ার কখনো নির্বিঘ্নে চা বাগান ঘুরে দেখতে পারতেন না। ঘুরে দেখতে গেলেই ম্যানেজার আব্দুল বাতেন নতুবা কেউ না কেউ এসে এটা-ওটা বুঝিয়ে তাকে বাংলোতে চলে যেতে বলতো। তাদের এসব ক্রিয়াকলাপ দেখে শফিক শাহরিয়ার ভালোভাবেই বুঝতে পারেন যে, তিনি এখানে আছেন এটা কেউ চাইছে না। এতসব প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি তার সেই রহস্যোপন্যাস লিখে যেতে থাকেন। ইলেক্ট্রিসিটি চলে গেলে অন্ধকারে মোমবাতির আলোতে লেখা চালিয়ে নিয়ে যেতেন।

এরই মধ্যে এক অন্ধকার রাত্রে শফিক শাহরিয়ার বাংলো থেকে বাইরে বেরিয়ে এসে চা বাগানে স্বচক্ষে উল্টোপাল্টা কিছু প্রত্যক্ষ করেন। এই ঘটনায় তিনি ভয়ও পান। বিষয়টি তিনি কাউকে না কাউকে জানিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন।

দেখতে দেখতে শফিক শাহরিয়ারের লেখা উপন্যাসটি শেষ পর্যায়ে পৌঁছে যায়। শুধু শেষ অধ্যায়টা তখন ছিল বাকি। এদিকে দীর্ঘদিন তার জীবনে কোনো আনন্দ ছিল না। তাই, তিনি চেয়েছিলেন এ সময় কিছু অতিথিকে বাংলোতে আমন্ত্রণ করে দিনটা সবাইকে নিয়ে উপভোগ করবেন এবং তারপর ফুরফুরে মেজাজে উপন্যাসটি সমাপ্ত করবেন। এজন্য তিনি তার কিছু প্রিয়জনকে আমন্ত্রণ জানান। আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে এমন কেউ কেউ ছিলেন যারা অপ্রিয় কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ। আবার কেউ কেউ বিনা আমন্ত্রণে এসে উপস্থিত হয়েছিলেন।
যাইহোক, শফিক শাহরিয়ার এদের সবার জন্য একটি দিন বরাদ্দ করে রেখেছিলেন। অর্থাৎ, তিনি চেয়েছিলেন ঐ দিনটি শুধু এদেরকেই সময় দেবেন। অন্যদিকে, তার স্পেশাল মানুষের জন্য অন্য একটি দিন বরাদ্দ করে রাখেন। তিনি চেয়েছিলেন, স্পেশাল মানুষের সাথে স্পেশালভাবে কাটাবেন দিনটি।

কিন্তু এমন একটি উৎসবমুখর সময়ে এমন এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে যায়, যা সবাইকে হতবাক করে দেয়। অবাক করে দেয় শফিক শাহরিয়ারের একজন ভক্ত ও পাঠক এসআই রেজাকেও। এখান থেকেই ঘনীভূত হতে শুরু করে "শেষ অধ্যায় নেই" উপন্যাসের সকল রহস্য।

শফিক শাহরিয়ারের লেখা রহস্যোপন্যাসের শেষ অধ্যায় নেই। কিন্তু "শেষ অধ্যায় নেই" উপন্যাসে শেষ অধ্যায় আছে এবং এই উপন্যাসের সব রহস্যের যুক্তিযুক্ত সমাধান মিলবে এই শেষ অধ্যায়ে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য কিছু চরিত্র বিশ্লেষণ :
"শেষ অধ্যায় নেই" উপন্যাসের মূল কেন্দ্রীয় চরিত্রে আছেন শফিক শাহরিয়ার। তার স্ত্রী নাজনীন এবং তার প্রেমিকা তৃণাও এই উপন্যাসের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। এদের পাশাপাশি আরো আছেন প্রকাশক, চলচ্চিত্র প্রযোজক, সাংবাদিক, পুলিশ, সিলেটের চা বাগানের একাধিক কর্মচারীসহ আরো অনেকে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্বদের চরিত্র বিশ্লেষণ করা হলো।

→ শফিক শাহরিয়ার : এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় ও মুখ্য চরিত্রে আছেন তিনি। লেখালেখি জগতে তিনি আকাশছোঁয়া খ্যাতি কুড়িয়েছেন। তার লেখা বই প্রকাশের জন্য প্রকাশকদের তার নিকটে ধন্না দিয়ে থাকতেও দেখা যায়। লেখক হিসেবে তিনি সফল হলেও তার ব্যক্তিগত জীবন অগোছালো। স্ত্রী এবং একটি শিশুকন্যা থাকা সত্ত্বেও কথিত আছে তিনি অন্য কারো সম্পর্কে জড়ান। ফলে তার দাম্পত্যজীবনে নেমে আসে ঘোর ঘনঘটা। কখনো তিনি এসব বিষয় নিয়ে বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন। এরকম মুহূর্তে কিংবা বিশেষ কোনো উপলক্ষে তিনি মদ পান করে নিজেকে ভাসিয়ে দেন ভাবালুতার রাজ্যে।

→ নাজনীন : ইনি হলেন শফিক শাহরিয়ারের স্ত্রী। একসময় মিডিয়ায় কাজ করতেন। অভিনয় জগতে অল্প সময়ের মধ্যেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। বিয়ের আগে শফিক শাহরিয়ারের লেখা গল্প অবলম্বনে নির্মিত সিনেমাতেও অভিনয় করেন তিনি। সেই সিনেমার মাধ্যমেই লেখক শফিক শাহরিয়ারের কাছে আসার সুযোগ পান তিনি। এখান থেকেই শুরু হয় হৃদয় দেওয়া-নেওয়া। তারপর বিয়ে। কিন্তু অনিবার্য কারণে তিনি অভিনয় ছেড়ে দেন। বিয়ের পর তাদের ঊষা নামের একটি মেয়েও হয় কিন্তু তাদের সে দাম্পত্যজীবন সুখের হয়নি।

→ ঊষা : লেখক শফিক শাহরিয়ার ও নাজনীনের একমাত্র কন্যা ঊষা। সে তার বাবাকে ছেড়ে মায়ের সাথে আলাদা থাকতে শুরু করে। কিন্তু তবুও সে বাবার জন্য সবসময় ব্যাকুল হয়ে থাকে। ভীষণ ভালোবাসে বাবাকে। মেয়েরা কতটা পিতৃভক্ত হতে পারে, সেটার একটা ছোট্ট দৃষ্টান্ত আমরা পেতে পারি শফিক শাহরিয়ার ও তার মেয়ের মধ্যে।

→ তৃণা : উগ্র ও উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন করেন তিনি। ধূমপান করার স্বভাবও আছে তার। পেশায় একজন উঠতি জনপ্রিয় মডেল-অভিনেত্রী। দেখতেও সুন্দরী। কথিত আছে যে, লেখক শফিক শাহরিয়ারের সাথে সম্পর্কে জড়িয়েছেন তিনি। এমনকি শফিক শাহরিয়ারকে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে।

→ সাংবাদিক ঋভু রায় : পেশায় একজন সাংবাদিক। কুকুরের মত প্রবল ঘ্রাণশক্তি তার। কখন কোথায় কী সংবাদ অপেক্ষা করছে তা যেন বাতাসে গন্ধ শুকেই বলে দিতে পারেন তিনি। অনেক কারণে শফিক শাহরিয়ার তাকে পছন্দ করেন না। তাছাড়া, ভস্মে ঘি ঢালার মত শফিক শাহরিয়ারের জীবনটা বিষিয়ে দেওয়ার পিছনেও অবদান আছে তার। এক কথায় বলা যায়, একজন ধুরন্ধর লোক তিনি।

→ প্রকাশক মহিউদ্দিন আহমেদ : সত্তরাের্ধ্ব বৃদ্ধ মানুষ তিনি। নানাবিধ রােগে আক্রান্ত। শফিক শাহরিয়ারের জীবনে এই মানুষটির ভূমিকা অপরিসীম। আজ থেকে প্রায় পঁচিশ বছর আগে যখন তাকে কেউ চিনত না, জানত না, তখন এই মানুষটিই প্রথম তাকে বই প্রকাশের সুযােগ করে দিয়েছিলেন। এখন বয়সের কারণে প্রকাশনার সঙ্গে নিজে সরাসরি যুক্ত না থাকলেও শফিক শাহরিয়ারের সঙ্গে তার সম্পর্কটা রয়েই গেছে। বরং এতবছরে সেই সম্পর্কটা আর লেখক প্রকাশকের সম্পর্ক নেই। সেটি এখন অনেকটাই পিতা-পুত্রের সম্পর্কের মতাে হয়ে গেছে। এজন্য, বিপদে-আপদে সবার আগে এই বৃদ্ধ মানুষটার কাছেই ছুটে যান শফিক শাহ��িয়ার।

→ আব্দুল বাতেন : তিনি হলেন চা বাগানের ম্যানেজার। বিশ বছর ধরে এই চা বাগানে কাজ করছেন তিনি। কিন্তু তারপরও তার কথা বলার ধরণ কিংবা ক্রিয়াকলাপ মোটেও সুবিধার মনে হয়নি শফিক শাহরিয়ারের নিকটে। কারণ, এনার আচার-আচরণ অদ্ভুত। কথা বলেন রহস্যময় ভঙ্গিতে। তার সেসব কথা শুনলে দারুণ অস্বস্তি বোধ হয়। সবচেয়ে বিরক্তিকর ব্যাপার হলো, তিনি একবার কথা বলা শুরু করলে আর থামতে চান না।

→ ফ্রেডরিখ রোজারিও : ইনি হলেন চা বাগানে অবস্থিত গির্জার ফাদার। ফাদার ফ্রেডরিখ নামেই সর্বাধিক পরিচিত। বলবান ও দীর্ঘদেহী মানুষ তিনি। তবে চেহারার মধ্যে সৌম্য একটা ভাব আছে। কথা বলেন ধীরে এবং স্পষ্ট উচ্চারণে। তার সাথে কথা বললে মনে হয় দারুণ শিক্ষিত লোক তিনি। নানা বিষয়ে জানাশোনা আছে তার। চিকিৎসাশাস্ত্রেও হাতযশ আছে তার। এজন্য, তার সাথে সময় কাটানোটা উপভোগ্য।

→ এসআই রেজা : তার পুরো নাম রেজাউল হক। অনেকে হক সাহেব বলেও ডাকেন। পেশায় একজন পুলিশ অফিসার। তিনি লেখক শফিক শাহরিয়ারের একজন একনিষ্ঠ পাঠক। লেখকের প্রায় সব বই পড়েছেন তিনি। সবচেয়ে মজার ব্যাপার, তিনি লেখকের কবিতার বড় ভক্ত। কারণ, পুলিশের জীবনে রহস্য, থ্রিলার, মার্ডার, ক্রাইম এগুলো নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। কিন্তু, কবিতা বা গানের মত বিনোদন অনুপস্থিত।

→ অনু : পৃথিবীতে এই একটি মানুষ, এসআই রেজা যার সাথে দমবন্ধ অনুভূতিতে কথা বলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারেন। এই চরিত্রটি উপন্যাসের কোনো গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র নয়। কিংবা কোনো রহস্যের সাথে এই চরিত্রের কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু তবুও এই চরিত্রের উপস্থিতি যেন উপন্যাসটিকে অলংকৃত করেছে।

ফ্ল্যাপে লেখা কথা :
কিছু কৌতূহল উদ্দীপ্ত করা প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়া হয়েছে এই বইয়ের ফ্ল্যাপে লেখা কথাতে। উপন্যাসটিতে উঠে আসা ঘটনাস্থল, চরিত্র ও রহস্য সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করার পর ফ্ল্যাপে লেখা এই কথাগুলো পাঠকের কৌতূহলকে আরও উদ্দীপ্ত করতে পারে।

ঢং ঢং ঢং!
দূর পাহাড়ের গির্জা থেকে ঠিক রাত বারোটায় ঘণ্টা বেজে ওঠে। তারপর চলে যায় ইলেকট্রিসিটি!
নির্জন চা বাগানের খাড়া ঢাল ঘেঁষে পুরনো বাংলো। বিখ্যাত লেখক শফিক শাহরিয়ার সেখানে এসেছেন গুরুত্বপূর্ণ এক উপন্যাস লিখতে। রহস্যোপন্যাস। সেই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্রও একজন লেখক। গল্পে সেই লেখক খুন হয়ে যাবেন। কিন্তু হঠাৎই ভয় করতে লাগল কেন শফিক শাহরিয়ারের?
মাঝরাতে পাহাড়ের ঢাল ঘেঁষে জেগে ওঠা ফিসফিস ছায়ামূর্তিরা কারা?
কেন রাত বাড়তেই ঘুমে চোখ জড়িয়ে আসে তাঁর?
প্রায় দু শ বছর আগের পুরনো চা বাগান, জনসন টি এস্টেট!
হেনরি জনসনের কবর।
কিন্তু গভীর রাতে সেই কবরে, গোরস্থানে কফিনের ডালা খুলে যায় কেন?
কেন চাঁদের আলোয় গা ঝমঝমে এক উপন্যাস লিখতে গিয়ে আচমকা জমে গেলেন শফিক শাহরিয়ার নিজেই?
চোখের সামনে থেকে কোথায় উধাও হয়ে গেল কফিন কাঁধের ছায়ামূর্তিগুলো?
কেন কোটি কোটি টাকা দরকার লেখকেরও?
আসলেই কি তাঁর সেক্সটেপ আছে সুন্দরী মডেল-অভিনেত্রী তৃণার কাছে?
ব্ল্যাকমেইল করতে চাইছে তাঁর স্ত্রী নাজনীনও?
আর আট বছরের মেয়ে উষা যে অপেক্ষায় থাকে বাবার?
আলফ্রেড হিচকক সিনেমা বানাতে গিয়ে নাকি বাজার থেকে কিনে ফেলতেন তাঁর পছন্দের উপন্যাসের সব কপি? এমনকি লাইফটাইম কপিরাইটসহ?
শফিক শাহরিয়ারের শেষ উপন্যাসের ভাগ্যেও কি তাই ঘটবে? কিন্তু তাঁর উপন্যাসের শেষ অধ্যায়টিই যে নেই! সেখানে আছে শুধু অদ্ভুত রহস্যময় এক চিঠি!
কী হচ্ছে এসব?
রেজা-ই বা কোথায়?
এত কিছু ঘটে যাচ্ছে, অথচ কোথাও নেই এসআই রেজা!
তাহলে কীসের রেজা সিরিজ এই বই?

বইটির মুদ্রণ ও প্রচ্ছদ সম্পর্কিত কিছু কথা :
বইটির মুদ্রণ ও কভার পেজটি খুবই উন্নতমানের এবং ভিতরের পৃষ্ঠাগুলোর মানও বেশ ভালো। বইয়ের প্রচ্ছদের সাথে মিল রেখে ভিতরে দেওয়া হয়েছে কালো রংয়ের ফিতা। প্রচ্ছদে দেখা যাচ্ছে একটি ল্যাম্পশেডে আলো জ্বলছে এবং অপর পাশে পড়ে আছে খাতা-কলম ও একটি চশমা। বইটির নাম ও উপন্যাসের কাহিনির সাথে মিল রেখে এমন প্রচ্ছদ করা হয়েছে এবং প্রচ্ছদটি করেছেন উপন্যাসের লেখক সাদাত হোসাইন নিজেই। এছাড়া, একদম নিচের বাঁদিকে পুলিশের মাথায় ক্যাপ ও বন্দুক সম্বলিত একটি ছোট্ট লোগো ব্যবহার করা হয়েছে এবং লেখা আছে "রেজা সিরিজ"। লোগোটি তৈরি করেছেন শওকত শাওন। অন্যদিকে, কভার পেজের পিছনে করোনা প্রাদুর্ভাব রোধ করার জন্য সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। করোনা থেকে পাঠককে সতর্ক করার এই অভিনব পদ্ধতিটি আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে।

শেষ কিছু কথা :
পরিশেষে বলা যায়, লেখক সাদাত হোসাইনের অন্য সব উপন্যাসের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন স্বাদের একটি রহস্যোপন্যাস এই "শেষ অধ্যায় নেই" বইটি। এই উপন্যাসের একদিকে যেমন উঠে এসেছে পারিবারিক টানাপোড়েন, অন্যদিকে বিবৃত হয়েছে ঘোরতর রহস্যের জাল। সেই রহস্য ভেদ করতে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। সেই সাথে উঠে এসেছে সুশান্ত সিং রাজপুত, সালমান শাহ্ ও আলফ্রেড হিচককের মত পৃথিবী বিখ্যাত সেলিব্রিটিদের কিছু বিস্ময়কর অজানা তথ্য। শুধু তাই নয়, এই উপন্যাসে চা বাগানের প্রাকৃতিক পরিবেশের অসাধারণ বর্ণনা দেওয়া হয়েছে এবং প্রাঞ্জল ভাষায় উপন্যাসের প্রতিটি ঘটনা বিন্যস্ত করায় বুঝতে একটুও সমস্যা হয়নি। তাছাড়া, বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে এমনভাবে উপন্যাসটি উপস্থাপন করা হয়েছে যেন, কারো না কারো জীবনের সাথে হয়তোবা মিল পাওয়া যেতে পারে।
Profile Image for Opu Tanvir.
113 reviews3 followers
November 20, 2020
বইয়ের নামঃ শেষ অধ্যায় নেই
লেখকঃ সাদাত হোসাইন
একজন লেখক থ্রিলার লেখক হিসাবে তখনই ব্যর্থ হোন যখন তার পাঠক তার গল্পের প্রতিটি মোড় আগে থেকেই অনুমান করতে পারেন । আমার ''শেষ অধ্যায় নেই'' পড়তে গিয়ে ঠিক এই কথাটাই মনে হয়েছে । আজকে দুপুরে এসে হাজির হয়েছে বইটা । একটানা পড়ে শেষ করলাম । আগে গল্পের কাহিনী বলে নিই । এবং আগে থেকে একটু সাবধান করে দিই যে এই কাহিনী সংক্ষেপে আমি মোটামুটি সব ঘটনাই বর্ণনা করবো । তাই এ পোস্ট পড়লে আপনার কাহিনী পুরোপুরি জানা না হলেও প্রায় সব জানা হয়ে যাবে । এরপর হয়তো বই পড়ার আগ্রহ জন্মাবে না ।
গল্পের দুই মুল কেন্দ্র চরিত্র একজন হচ্ছে শফিক শাহরিয়ার । সে বিখ্যাত লেখক । তার বউ আছে, আট বছরের মেয়ে আছে । তার একজন প্রেমিকাও আছে । যাকে নিয়ে বাজারে অনেক রকম রসালো খবরও বিদ্যমান । এই বাড়াবাড়ির কারণে তার বউ নাজনীন তাকে ছেড়ে বাপের বাড়ি চলে গেছে । এই নিয়ে লেখক সাহেব মানসিক ভাবে বেশ বিপর্যস্ত । এই কারণে তার ঘুম আসে না, রাতে কিছু লিখতে পারছেন না ।
লেখকের একজন পিতা সদৃশ প্রকাশক রয়েছে যে লেখকের প্রথম বই ছাপিয়েছিলো । এবং তার এই বিখ্যাত হয়ে ওঠার পেছনে সেই বৃদ্ধ প্রকাশকের বড় অবদান রয়েছে । লেখকের সাথে তার সম্পর্ক এখনও বেশ গভীর। এখন তার ছেলেরা প্রকাশনা সামলায় এবং শফিক শাহরিয়ারের বইয়ের কারণে তাদের সেই প্রকাশনা টিকে আছে । টিকে আছে সেই প্রকাশকের পরিবারও ।
আরও দুইজন প্রকাশক রয়েছে যারা শফিক শাহরিয়ারের পেছনে লেগে রয়েছে বই নেওয়ার জন্য । এদের দুইজন লেখকের সাথে এমন চুক্তি করতে ইচ্ছুক যাতে সামনের সব বই তাদের প্রকাশনা থেকে বের হয় । এছাড়াও আরেকজন প্রোজেযোক রয়েছে যে চায় লেখকের বই থেকে সিনেমা বানাতে । সম্ভব হলে বই প্রকাশের আগেই মুভি বানাতে ইচ্ছুক ।
প্রেমিকা তৃনা কে লেখক মশাই এড়িয়ে চলা শুরু করেছেন । কারণ তিনি নিজের সংসার বাঁচাতে মরিয়া । তবে তৃনার ব্যাপার�� তিনি নিজেকে খানিকটা অপরাধী মনে করেন । তাই একটা চেষ্টা রয়েছে যাতে তৃনার পেছনে বেশ কিছু টাকা খরচ করে তাকে একটা ভাল পজিশনে পৌছে দেওয়া যায় । যদিও এটা গল্পে স্পষ্ট করে বলে দেওয়া নেই ।
এখন লেখক মশাই তার এক বন্ধুর টিএস্টেটে গিয়ে হাজির হয় একটা রহস্য উপন্যাস লেখার জন্য । এটা হবে তার প্রথম রহস্য উপন্যাস । এটা নিয়ে সে আগে অনেক স্থানে কথা বার্তা বলেছে । তাই পাঠক মহলে এর আগ্রহ অনেক । সে হাজির হয় টিএস্টেসে । গেস্ট হাউজে বসে লেখা লেখি শুরু করে । তার গেস্ট হাউজের পরেই এস্টেটের সীমানা । সেখানে কিছু অংশ ভাঙ্গা । একদিন রাতে গীর্জার ঢং ঢং আওয়াজে তার ঘুম ভেঙ্গে যায়। এবং সে জানালা দিয়ে খেয়াল করে যে সেই ভাঙ্গা অংশে আলো হাতে কয়েকজন মানুষ কি যেন করছে । তার সন্দেহ হয় । সে এটা নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে । সে আবিস্কার করে যে প্রতিদিন গীর্জাতে ঢং ঢং বেজে ওঠে না আবার শহরের সব স্থানে বিদ্যুৎ না গেলেও চা বাগানে বিদ্যুৎ চলে যায় নির্দিষ্ট কোন রাতের নির্দিষ্ট কোন সময়ে এবং সেদিন প্রতিদিন কার মত জেনারেটর চালু হয়ে যায় না । পুরো বাগান থাকে অন্ধকারে ঢাকা থাকে । লেখক অনুসন্ধান পরে জানতে পারে যে এই চা বাগানে কিছু অবৈধ কাজ কারবার চলতেছে । এবং এর সাথে জড়িত রয়েছে কিছু মানুষ । একদিন নিজে চোখেই সে অনেক কিছু দেখতে পারে ।
এদিকে তার নিজের উপন্যাস লেখা প্রায় শেষ হয়ে যায় । কেবল শেষ অধ্যায়টা বাকি । সে পরিকল্পনা করে যে উপন্যাসের শেষ অধ্যায় লেখার আগে পরিচিত কিছু মানুষকে সে দাওয়াজ দিয়ে নিয়ে আসবে টিএস্টেটে । আড্ডা দিয়ে । সবাইকে দাওয়াত দেওয়া হয় । সবাই আসেও । তার স্ত্রী আসে এবং আসে তার প্রেমিকাও, যদিও প্রেমিকাকে দাওয়াত দেওয়া হয় নি । সেখানে দুজনের মুখোমুখি ঝামেলা হয় এবং সব কিছু এলোমেলো হয়ে যায় ।
তখন লেখক মশাই খুবই অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে এবং রুমে গিয়ে ড্রিংক করে । অন্যান্য গেস্টরা যে যার ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়ে । সেই দিন ভোরে লেখক সাহেবকে গেস্ট রুমের পেছনে যে খাদ রয়েছে সেখানে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় । প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হয় মদ খেয়ে মাতাল হয়ে সে খাদ থেকে পড়ে গিয়েছে ।
এবার আশা যাক গল্পের আরেক প্রধান চরিত্র রেজা হক কথায় । তিনি লেখকের ভক্ত । তার প্রায় সব বই তার পড়া । লেখক এখানে আছেন জেনে আগে একদিন লেখকের সাথে কথাও হয়েছিলো । এবং লেখক মশাই তাকে চাবাগানে ঘটা অবৈধ বিষয়টা জানাতে গিয়েও জানান নি । পার্টিতে তাকেও দাওয়াত দেওয়া হয়েছিলো তবে কাজের কারণে সে আসতে পারেন নি । রেজা হক তদন্ত শুরু করে এবং এক সময়ে খুজে বের করে ফেলে যে চা বাগানের চোরাকারবীর কাজ চলছে । এবং এর সাথে চাবাগানের কিছু পরিচিত মুখ জড়িত । কে কে জড়িত সেটা বললাম না । তাহলে হয়তো পড়ার আগ্রহ একদমই চলে যাবে । তাদেরকে জেরা করেই জানা যায় তারা রাতের বেলা যখন সবাই ঘুমিয়ে গিয়েছিলো তখন লেখককে নিয়ে গিয়ে খাদ থেকে নিচে ফেলে দেয় । সময় তখন ভোর ৫টার কিছু বেশি বাজে। রহস্য যখন সমাধান করেই ফেলেছে তখন ওটোপসি রিপোর্ট থেকে জানা যায় যে লেখকের মৃত্যু পাহাড় থেকে পড়ে নয় বরং আরও রাত তিনটার দিকে হয়েছে এবং সেটা বিষক্রিয়ায় । অর্থ্যাৎ ঐ চোরাকারবারীরা একজন মৃতমানুষকে খাদে ফেলেছে ।
আবারও তদন্ত শুরু হয় । রেজা হক শ্রীমঙ্গল থেকে ঢাকা এসে কাজ শুরু করে। এবার সবাইকে সন্দেহের তালিকায় রাখা হয় । সবাইকে জেরা করা হয় । এক সময়ে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয় । এবং রেজা হককে কেস থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় । রেজা হক আবারও শ্রীমঙ্গল ফিরে যায় কিন্তু তার মানে শান্ত পায় না । কারণ আসল আসামী ধরা পড়ে নি । লেখকের শেস উপন্যাসটা এবার রেজা হক পরে ফেলে । সেই উপন্যাসটাও এক লেখকে কে নিয়ে । সেও একটা রহস্য উপন্যাস লিখতে শুরু করে এবং সেটা শেষ করার আগে খুন হন । কিন্তু শেষ অধ্যায় লেখার আগে লেখক তার স্ত্রীকে একটা চিঠি লিখে রেখে যায় সেখানে খুনী কে সেটা বলা থাকে । স্ত্রী সেটা বের করে ফেলে । রেজাও সেই উপন্যাস পরে সেই চিঠির অর্থ উদ্ধার করে । এবং এক সময়ে সে প্রমান পেয়ে যায় কে আসলে খুন টা করেছে ।
এই থ্রিলার পড়ে আমার অনুভূতি ।
সাদাত হোসাইনের প্রায় সব বই আমি পড়েছি । তার লেখার যে ব্যাপার আমার সব থেকে বেশি অপছন্দ সেটা হচ্ছে প্রয়োজনের বেশি বর্ণনা । তার বই বইয়ের ভেতরে রেজা সিরিজের প্রথম বই ছদ্মবেশটা আমার কাছে মোটামুটি ভাল লেগেছিলো কারণ সেটাতে অন্য বইয়ের মত এতো বর্ণনা ছিল না । এবং খুনটা কে করেছে কিভাবে ঐ বদ্ধ ঘরে লাশটা এল এটা জানার আগ্রহ ছিল কিন্তু এই বইতে আমার কেন জানি তেমন আগ্রহ জন্মায় নি । কারণ হিসাবে বলতে পারি প্রতিটি ঘটনা ঘটনা ঘটনার পরপরই আমার মনে হয়েছে এরপর কি হতে পারে এবং প্রতিবারই আমার অনুমান সত্য হয়েছে যা থ্রিলার পাঠকদের কাছে হতাশাজনক । এবং যখনই শফিক শাহরিয়ার খুন হোন সবার আগে আমার মনে ঠিক যে মানুষটার কথা মনে হয়েছে যে এখুনি হতে পারে দেখা গেছে সেই খুনি হয়েছে । এমন কি যখন চোরাকারবারীটা স্বীকার করেই নিয়েছিলো যে তারা পাহাড় থেকে ফেলে দিয়েছে তখনও আমার মনে হয়েছে ওটোপসি রিপোর্টে দেখা যাবে লেখক আগেই মারা গেছে কিংবা অন্য কোন কারণে মারা গেছে । বই জুড়ে টানটান উত্তেজনা কিংবা গভীর রহস্যের কিছুই ছিল না । আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে অবশ্য যে বিষে লেখক মারা গেছে সেটার ব্যাপারে কিছু লেখার দরকার ছিল । একটু রিসার্চ করলেই হয়তো এমন কোন বিষের কথা জানা যেত । সেটা করা হয় নি । এটা আমার কাছে বইয়ের বড় একটা ত্রুটি মনে হয়েছে । রহস্য গল্পে কিভাবে মারা গেল কি অস্ত্র দিয়ে, সেটা বর্ণনা কিংবা কোন বিষ হলে সেটা কেমন বিষ নাম কি কিভাবে কাজ করে এসব তথ্য গুলো যোগ করলে লেখাটা আরও বেশি বাস্তবধর্মী হয় । তবে এই বইটাতেও প্রয়োজনের অতিরিক্ত কথা বার্তা লেখা নেই দেখে ভাল লাগলো । বইয়ের বাঁধাই আর কাগজের মান ভাল । তবে বইয়ের দাম আমার কাছে বেশি মনে হয়েছে । অন্তত আরও ৫০ টাকা কম হওয়ার দরকার ছিল ।
এই রিভিউ পড়েও যদি বই পড়তে ইচ্ছে হয় তাহলে পড়তে পারেন । সাদাত হোসাইনের লেখা হিসাবে পড়তে পারেন কিন্তু যদি একটা ভাল রহস্য উপন্যাসের আশা করেন তাহলে আপনাকে হতাশ হতে হবে ।

=======
এখন প্রশ্ন হচ্ছে ''শেষ অধ্যায় নেই''এর সাথে ম্যাগপাই মার্ডার্সের মিল আছে কি না কিংবা লেখক সাহেব এই বই থেকে কন্সেপ্ট নিয়ে শেষ অধ্যায় লিখেছে কি না!!
ম্যাগপাই মার্ডার্সের ২৬৫ পেইজ পর্যন্ত পড়ার পড়েও আমার একবারও মনে হয় নি যে এই বইয়ের সাথে শেষ অধ্যায় নেইয়ের কোন মিল আছে । ধারে কাছেও নেই । কিন্তু যখন সুজ্যান শেষ অধ্যায়টা খুজে পেল না এবং তারপর জানতে পারলো লেখক মারা গেছে তখনই আমার মনে হল যে কে খুনি আমি জানি । এবং শেষ পর্যন্ত সেই খুনি হয়েছে । এই কথা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই যে শেষ অধ্যায় নেই এবং ম্যাগপাই মার্ডারের কাহিনীর ভেতরে আশ্চার্য রকমের মিল রয়েছে । শেষ অধ্যায় নেই গল্পে লেখক আর খুনির ভেতরে যে সম্পর্ক বিদ্যামান, ম্যাগপাই মার্ডার্স গল্পেও লেখক আর খুনীর ভেতরে সেই একই সম্পর্ক বিদ্যামান । সব থেকে বড় মিল হচ্ছে শেষ অধ্যায় নেই গল্পে ঠিক যে কারণে লেখক খুন হয়েছিলেন, খুনের মোটিভ যেটা ঠিক ম্যাগপাই মার্ডার্সেও ঠিক একই মোটিভ । এই দুইটা বই যেই পড়বে এই মিল তার চোখে পড়বেই এবং তার মনে এই কথা আসতে বাধ্য যে একটা অন্যটা থেকে কন্সেপ্ট নিয়ে লেখা হয়েছে । এই মনভাব আসাটা স্বাভাবিক । লেখক সাহেব কন্সেপ্ট নিয়ে লিখুক কিংবা না লিখুক পাঠকের এই কথাটা মনে আসবেই আসবে । তবে ব্যক্তিগত ভাবে আমার মনে হয় না যে শেষ অধ্যায় বইটা ম্যাগপাই মার্ডার্স থেকে কপি করে লেখা হয়েছে । এখানে লেখকের কপাল খারাপ যে কন্সেপ্ট মিলে গেছে ।
Profile Image for Rihan Hossain.
109 reviews3 followers
December 13, 2020
সাদাত হোসেনের বেশিরভাগ গল্পই চর্বিতচর্বন। একই কথা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বারবার বলেন।
সাথে চটুল ডায়ালগ আর সস্তা লাইন তো আছেই। অসংগতি আর যুক্তিহীনতায় ভরপুর হজমের অযোগ্য কিছু ছাপার অক্ষর।
উপরন্তু এই বইয়ের প্লট, টুইস্ট এসব আমদানি করা হয়েছে অ্যান্টনি হরোউইটজের "ম্যাগপাই মার্ডার্স" থেকে।
Profile Image for Sayeem Shams.
Author 17 books73 followers
December 6, 2020
যাক, অবশেষে সাদাত হোসাইনের কোনো বই পড়ে শেষ করতে পারলাম। “আরশিনগর” আর “নিঃসঙ্গ নক্ষত্র” তো শেষই করতে পারিনি। এই বইটার প্লট ভাল ছিল কিন্তু এক্সিকিউশন খুবই বাজে। কেমন যেন এলোমেলো, জগাখিচুড়ি। কোনো বিদেশি রাইটার এই বই লিখলে বিনা দ্বিধায় ১ স্টার দিতাম। দেশি রাইটারদেরকে ছাড় দিই। এখানেও দিলাম।
Profile Image for রায়হান রিফাত.
256 reviews8 followers
June 18, 2021
দুঃখজন একটা বিষয় যে সাদাত ভাই নাকি অ্য্যান্টনীকে চিনেন ই না কিন্তু তার গল্পের প্লটের সাথে হুবহু মিল :)

আমি নিরপেক্ষ থেকে পড়ার চেষ্টা করেছি কিন্তু লাভ হয়নি,ম্যাগপাই এর সাথে এর মিল যেন বারবার চোখে আংগুল দিচ্ছি���ো :)

হতাশ আমি :(
Profile Image for Ariyan Shuvo.
77 reviews1 follower
April 21, 2021
" কোন যন্ত্রণাটা বেশি তীব্র, বিষ না বিষাদের? "


পারিবারিক কলহের জেরে বেশ কিছুদিন যাবত নিজের লেখালেখিতে মনোনিবেশ করতে পারছেন না বিখ্যাত লেখক শফিক শাহরিয়ার। তাই শহর থেকে দূরে কিছুটা নির্জন পরিবেশে সিলেটের এক চা বাগানের বাংলো বাড়িতে উপস্থিত হয়েছেন তিনি। আশায় আছেন হয়তো শহর থেকে দূরের এই থমথমে পরিবেশে পুরোদমে তার নতুন রহস্যোপন্যাস লিখতে পারবেন তিনি। বইটা নিয়ে ভীষণ আশাবাদী তিনি
শফিক শাহরিয়ারের বইয়ের প্লটটাও ইউনিক। যেখানে একজন লেখক শহর থেকে দূরবর্তী এলাকায় এসে একটা বই লিখছেন এবং বইটা শেষ করার আগেই তিনি খুন হন।
এভাবেই নির্ঝঞ্ঝাট পরিবেশে নিজের আপকামিং বই পুরোদমে লিখতে থাকেন শফিক শাহরিয়ার। কিন্তু কয়েকদিন পরে কিছু অসংলগ্ন ব্যাপার তার চোখে পড়ে। মাঝরাতে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে ওঠা লোকগলো কারা? কী করছে তারা এতরাতে? আর চা বাগানের এই বাংলো বাড়িতে হুটহাট বিদ্যুৎ বিভ্রাট কি নিছকই সাধারণ ঘটনা? নাকি এর আড়ালে অন্যকিছু চলছে?
এতশত প্রশ্নের উত্তর অজানা রেখেই হঠাৎই খুন হলেন লেখক শফিক শাহরিয়ার। তদন্তের দায়িত্ব পড়লো বইয়ের মূখ্য চরিত্র এসআই রেজার ওপর। সে কি পারবে বাংলোবাড়ির রহস্য উদঘাটন করে শফিক শাহরিয়ারের আসল খুনিকে গ্রেফতার করতে?

পাঠ প্রতিক্রিয়া
----------------------------

বইয়ের ভালো লাগা দিকের মধ্যে প্লটটা আমার কাছে বেশ ইন্টারেস্টিং লেগেছে। খুব দ্রুত মূল গল্পে লেখক প্রবেশ করেছেন এই ব্যাপারটাও বেশ ভালো লেগেছে। চরিত্রায়নের কথা বলতে গেলে শুরুতেই আসে শফিক শাহরিয়ারের নাম। এই চরিত্রটি বেশ সময় নিয়ে লেখক ডেভেলপ করেছেন তাই এই চরিত্রটা আমার কাছে যথেষ্ট বাস্তবসম্মত লেগেছে। এছাড়া মূখ্য চরিত্র এসআই রেজাকে নতুন করে ডেভেলপ করেননি তিনি (সিরিজের প্রথম বই 'ছদ্মবেশ' - এ রেজার যথার্থ চরিত্রায়ন হয়েছে বলেই মনে করি আমি)। তবে অন্যান্য চরিত্রগুলো বেশ ভালো স্ক্রিনটাইম পেলেও সেগুলো বড্ড খাপছাড়া লেগেছে আমার কাছে। সংলাপগুলো চলনসই ই ছিল বটে তবে মাঝে মাঝে একদমই গ্রিপে ছিল না। ব্যাকরণগত ভুল এসে যাচ্ছিল।
আর গল্পের শুরুটা বেশ গতিশীল হলেও মাঝামাঝি এসে প্রায় অনেকক্ষণ গল্প তার স্বাভাবিক ছন্দ হাঁরিয়েছে। স্টোরির গতিও অত্যন্ত মন্থর ছিল বেশ খানিকটা সময়। এসআই রেজা চরিত্রকেও কেমন যেন ফিকে লেগেছে। যেন 'ছদ্মবেশ'র সেই রেজা এখানে অনুপস্থিত।
আমার সবথেকে খারাপ লেগেছে যে ব্যাপারটা তা হল গল্পের পরিণতি। শুরু থেকে মোটামুটি বেশ ভালোই এগোচ্ছিল গল্পটা কিন্তু পরিণতিতে এসে যথেষ্ট খাপছাড়া লেগেছে আমার কাছে। খুনের মোটিভটাও অতটা যৌক্তিক লাগেনি আমার কাছে। গল্পের পরিণতিটা আরো শক্তপোক্ত করা যেত।

প্রকাশনী 'অন্যধারা'র প্রোডাকশন বেশ ভালো হয়েছে। বইয়ের পৃষ্ঠার মান খুবই ভালো ছিল । বাঁধাই, মলাট সবকিছুই ঠিকঠাক ছিল। স্বয়ং সাদাত হোসেনের করা প্রচ্ছদটা চলনসই ই ছিল। রেজা সিরিজের নতুন লোগোটা ভালো লেগেছে আমার কাছে।

শেষের কথা
-----------------------
সাদাত হোসেন সাধারণত সামাজিক উপন্যাসে অভ্যস্ত। তিনি যে ভিন্ন কিছু ট্রাই করছেন সেজন্য তাকে সাধুবাদ জানাই। বইটা শুরু করার আগে আমি লেখকের কিছু ইন্টারভিউ দেখেছি এই সিরিজ প্রসঙ্গে। এছাড়া বইটির ভূমিকাতেও তিনি সরাসরি বলেছেন যে এই জনরায় উনি অভ্যস্ত নন। নীরিক্ষাধর্মী কাজ বলা চলে রেজা সিরিজকে। লেখক যেহেতু অকপটে বলেই নিয়েছেন এই জনরা তার কাছে নতুন এবং তিনি এখানে অভ্যস্ত নন তাই আমি বইটা খুব বেশি এক্সপেক্টেশন নিয়ে শুরু করিনি। খুবই সাদামাটা গল্প, থ্রিলারের সেই আদিম সাসপেন্স, থ্রিল, রোমাঞ্চ - এসবকিছুর উপস্থিতি খুব কমই আছে বইতে। তবু বইটা পড়ে খুব বেশি খারাপ লাগেনি আমার কাছে। অসংখ্য নেগেটিভ দিকের পাশেও আমি সূক্ষ্ম আলোকবিন্দুর মত কিছু পজেটিভ দিক পেয়েছি এই বইতে। প্রথমত লেখক যথেষ্ট আগ্রহী এই জনরায়, সিরিজের পূর্বের বইয়ের ভুলগুলো ধীরে ধীরে কাটিয়ে উঠতে চেষ্টা করছেন তিনি - মূলত এই দুইটা পয়েন্ট যতদ্রুত ওভারকাম করতে পারবেন লেখক রেজা সিরিজ তত দ্রুত আরো শক্তপোক্ত হবে। আর তার মত উদীয়মান লেখক এই জনরাতে সময় দিলে আশা করছি রেজা সিরিজে বেশ ভালো কিছু বই তিনি পাঠককে উপহার দিতে পারবেন। শুধু অভ্যস্ততার জন্য কিছুটা সময় লাগবে তার। আমি সেই সময়টুকু তাকে দিতে প্রস্তত আছি। লেখকের জন্য শুভকামনা ।

এক নজরে,
বই : শেষ অধ্যায় নেই
লেখক : সাদাত হোসেন
প্রকাশনী : অন্যধারা
মুদ্রিত মূল্য : ৪০০ টাকা

Profile Image for Harun Ahmed.
1,679 reviews449 followers
March 12, 2021
সাদাত হোসাইন আসলেই "ম্যাগপাই মার্ডারস" থেকে চুরি করে বইটি লিখেছেন কিনা তা জানার আগ্রহেই মূলত "শেষ অধ্যায় নেই" পড়লাম।ম্যাগপাই মার্ডারস এর সাথে এ বইয়ের তেমন কোনো মিল নেই।যেটুকু আছে সেটাকে "অনুপ্রেরণা " বলা যায়,নকল বলা যায় না কিছুতেই।অযথাই এত হইচই। গল্পের গাঁথুনি চমৎকার। লেখকের অন্যান্য বইতে যে হুমায়ূন আহমেদীয় আবহ থাকে এ বই সেগুলো থেকে অনেকাংশে মুক্ত।ভবিষ্যতে এই সিরিজ থেকে আরো ভালো কিছু পাওয়ার আশা রাখি।
Profile Image for Nafisa Anjum.
226 reviews13 followers
January 21, 2025
সাদাত হোসাইনের লেখার যে ব্যাপার আমার সব থেকে বেশি অপছন্দ সেটা হচ্ছে প্রয়োজনের বেশি বর্ণনা। শেষ অধ্যায় নেই পড়তে গিয়ে প্রতিবারই আমার অনুমান সত্য হয়েছে যা থ্রিলার পাঠকদের কাছে হতাশাজনক। সাদাত হোসাইনের ভক্ত হলে পড়া যেতে পারে কিন্তু একটা ভাল রহস্য উপন্যাস পড়তে চাইলে হতাশ হতে হবে ।
70 reviews11 followers
Read
May 17, 2021
First of all, I would not rate this book. As -

1. Sadat Hossain, regarded as one of the most hyped "polymath" - a combination of author, poet, screenwriter, filmmaker and novelist just in one person - especially regarded in his facebook circle, have conjured up another thriller. I have read most of his books before, and am quite acquainted with those hollowly-verbose dialogues reflecting some "inner meaning" of life. Hence, when I get some spare time to waste, I pick-up one of his books to skim through them in a light-headed 'chill' manner -- not thinking much about the background or characterization, and not thinking deeply about each line understanding what the writer wanted to say through it. Leading to the idea that I am not right person to write a review for this book.

2. This was a novel I have completed during my 15 min.-2hrs. stay at Baatighar everyday in Dec-March. However, after spending my 3-4 days reaching at the 4/5 part of the novel, the book was vanished from the shelf (maybe sold to some customer). Later, when I got my hand on it again during May, I was not able to recollect all the details and intricacies of the characters and relations between them. All I remember was the gist of the plot. However, I tried my best to understand and summon them toward the last chapters of the novel.

After several of his novel written on the backdrop of Rural/Urban societies of Bangladesh, Mr. Hossain penned his first thriller ছদ্মবেশ of রেজা সিরিজ #1 in 2019. Maybe it came as a suggestion from the publisher to select this ongoing trend, or it was his own idea to brag about his apt writing skill, Hossain has scribble something Okay-ish as his first one by introducing us to Inspector Reza solving a murder mystery. Reading that most of the time you would feel that he is pushing the plot back to the ground of social-problems (that Hossain is experienced to write about), rather than writing a thriller. While predicting the culprit was hard, there was no fast pace in the story which turned in having a dull and dry reading.

On this time though he is more focused on the thrill section, and it was thrilling in the first several sections. A famous writer has eschewed himself from the urban life to finish his novel. Nevertheless, he discovered some wicked things is going on behind the eyes of his owner friend. In this grim position, he was killed while living alone in a tea estate. Before his death, he called his family and friends to gather at the estate to make an announcement (I don't know why a writer will do such thing) about his thriller. And detective Reza was appointed to handle this case.

However, after the 1/3 of it (though it was not free from errors, especially it appeared to me that Mr. Hossain were aware of the typical weather of Sylhet), the novel turned into a garbage. The police officer visited several times on the houses of the accusers to search for the culprit. Those interviews turned very dull and boring to go through. Further, the most crucial part of the novel, the conclusion is written in harried and hasty manner. The author even go to an extent to provide some new information to the reader at the final chapter so that he can conclude the novel.

All in all, it was my sheer luck to not buy this book from the retailers.
Profile Image for আবদুল মতিন সোহাগ.
44 reviews5 followers
July 19, 2025
সাদাত হোসাইনের “শেষ অধ্যায় নেই” পড়া শেষ। বইটি থ্রিলার ঘরনার নয়, মার্ডার মিস্ট্রি বলা যায়। খুব বেশি থ্রিল কিংবা টুইস্টও নেই। বইটিতে একটি হত্যাকাণ্ডের রহস্যন্মোচন করা হয়েছে। সহজ সাবলীল একটি উপন্যাস।

বইটির ‘মূল কাহিনি’র সাথে সম্প্রতি বাংলায় অনূদিত এন্থনি হরোয়োইটজের “ম্যাগপাই মার্ডারস” বইটির মিল রয়েছে। কিন্তু “শেষ অধ্যায় নেই” বইটি কপি করা— তা বলবো না। বরং কেউ যদি এটা বলে যে, বইটি অ্যাডাপ্ট বা ছায়াবলম্বনে লেখা, তবে সেটি বেশি গ্রহণযোগ্য, যুক্তিযুক্ত হবে। আমি এর পক্ষে।

তাহলে কি “শেষ অধ্যায় নেই” বইটি মৌলিক নয়? অবশ্যই মৌলিক। বইটি ছায়াবলম্বনে লেখা নয়— লেখক সেটা বলেছেন। তাই অ্যাডাপ্টের অভিযোগ চাপিয়ে দেব না। যদি লেখক স্বীকার না করতেন তবে এটিকে আমি সরাসরি ‘চুরি’ করা বলতাম।

যারা শুধু “শেষ অধ্যায় নেই” বইটি পড়েছেন, তাদের কাছে বইটি অসাধারণ মনে হবে। বইটিতে চিরাচরিত সাদাত হোসাইনকে দেখা যায়নি। বইটিতে নেই কোনো ‘হুমায়ূনী গন্ধ’ও। একরোখা কাহিনি। আমার মনে হয়েছে, একটি রহস্যোপন্যাস বা মিস্ট্রি এভাবেই লিখতে হয়। বই থেকে সাদাতের নাম মুছে দিলে সাদাতের পাঁড় ভক্ত পাঠকরাও বলতে পারবে না- এটা সাদাতের লেখা। লেখার উন্নতি হয়েছে।

কিন্তু....

যারা “ম্যাগপাই মার্ডারস” পড়েছেন, তারা সাদাত হোসাইনের বইয়ের নামকরণ দেখেই বুঝে যাবেন যে, বইটির আসল কাহিনি কী হবে বা গল্পটা আসলে কী। ২১৬ পৃষ্ঠার বইটিতে ১২০ পৃষ্ঠা পর্যন্ত ম্যাগপাইয়ের সাথে কোনো মিল নেই। মিলটা শুরু হয় লেখকের খুনের পর থেকে। অতঃপর ম্যাগপাই পড়া পাঠকরা যদি “শেষ অধ্যায় নেই” পড়া শেষ করেন তবে মনে হয় না কেউ আর তখন এটাকে মৌলিক বই বলে মেনে নেবে।

বইটিতে লেখককে খু/ন করা হয় চা বাগানের ভেতর কংকাল এবং কষ্টিপাথর চোরাকারবারিদের দেখে ফেলার জন্য। কিন্তু বইতে কোথাও এই অপরাধীদের শাস্তি কিংবা অপরাধের কথা উল্লেখও করা হয়নি! কিন্তু বইয়ের প্রায় ১৩০ পৃষ্ঠা পর্যন্ত এগুলোকে মারাত্মক অপরাধ হিসেবে দেখানো হয়েছে এবং লেখক একটা থ্রিলিং আবহও তৈরি করতে চেয়েছেন কিন্তু হয়নি! ☺️

সবশেষ কথা হচ্ছে, সাদাত হোসাইনের লেখার মান উন্নত হয়েছে। একই বাক্য একাধিকবার বলার প্রবণতাও কমে এসেছে। তবে দুজায়গায় লিখেছেন, চোখের জলে স্রোতের মতো একটি ধারা তৈরি হয়েছে! এটা আবার কেমন কথা!?

পরামর্শ হচ্ছে, যারা ম্যাগপাই পড়েছেন, তাদের শেষ অধ্যায় না পড়লেও চলবে। যারা কখনো সাদাত পড়েননি তারা শেষ অধ্যায় নেই দিয়ে শুরু করতে পারেন, ভাল লাগবে। আর যারা উভয়টাই চান, তারা অবশ্যই “শেষ অধ্যায় নেই” পড়বেন। না পড়লে তো জানতে পারবে না, কেন শেষ অধ্যায় নেই! 🤔
Profile Image for Nur Mohammad Khan.
46 reviews6 followers
December 23, 2020
সাদাত হোসাইন এর রেজা সিরিজের অনবদ্য এক থ্রিলার উপন্যাস 'শেষ অধ্যায় নেই'।

শফিক শাহরিয়ার নামক একজন লেখক তার থ্রিলার উপন্যাস সম্পন্ন করার জন্য শ্রীমঙ্গলের তার বন্ধুর এক চা বাগানে নিরিবিলি পরিবেশে যান। কারণ ব্যক্তিগত জীবন বেশ জটিল হয়ে পড়েছিল তার ।এক কলমও লিখতে পারছেন না তিনি ।তৃণা নামক এক অভিনেত্রীর সাথে তিনি জটিল সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন ।এদিকে তার স্ত্রী নাজনীন তা জেনে যান এবং তাদের মেয়ে উষাকে নিয়ে আলাদা থাকতে শুরু করেন। নানা দিক থেকে বিপর্যস্ত ছিলেন লেখক। তাই তিনি চলে যান শ্রীমঙ্গল। সেখানে গিয়ে তিনি উপন্যাস লিখতে থাকেন। তবে সেখানেও তিনি নানা রহস্য দেখতে পান। একেতো সেটা ছিল সীমান্ত এলাকা ।অপরাধ সেখানে অপ্রতুল কোন বিষয় নয় ।তেমনই এক ভয়াবহ অপরাধের রহস্য উন্মোচন করে ফেলেছিলেন তিনি । তার লেখা প্রায় শেষ করে ফেলেছিলেন। কিন্তু শেষ অধ্যায়টি বাকি রেখেছিলেন । ভেবেছিলেন কাছের লোকদের সাথে কিছুটা সময় কাটিয়ে ফুরফুরে মেজাজে বাকিটুকু লিখে শেষ করবেন । এজন্য তিনি তার স্ত্রী এবং প্রকাশকেরাসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গকে দাওয়াত করেন সেই চা বাগানে । তবে যেদিন অনুষ্ঠান ছিল তার পরের দিন ভোরে তার লাশ পাওয়া যায়। কিভাবে মারা গেলেন লেখক? যে অপরাধের রহস্য উম্মোচন করেছিলেন তার অপরাধীরাই কি তাকে খুন করল? নাকি নানান জটিলতার সম্মুখীন লেখক তার কাছের লোকদের কাছেই খুন হলেন? এ ঘটনা তদন্ত করতে ঘটনা ক্রমে জড়িয়ে পড়েন ইন্সপেক্টর রেজা। লেখক শফিক শাহরিয়ার অপরাধীদের অপরাধের রহস্য উদঘাটন করতে পারলেও কাউকে জানাতে পারেননি তিনি । রেজা বুদ্ধিমত্তা দিয়ে অপরাধীদেরকে পাকড়াও করেন এবং তাদের কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায় করে নেন যে তারা শফিক সাহেব কে খুন করেছে। কিন্তু একি? পোস্টমর্টেম রিপোর্ট তো অন্য কথা বলছে! বিষ প্রয়োগে মৃত্যু হয়েছিল শফিক শাহরিয়ারের । তাহলে কে খুন করল তাকে ? সেদিন তার অনুষ্ঠানে আসা লোক গুলোর মধ্যে কি কেউ তাকে খুন করল? নাকি তারা ও না ? নাকি সুইসাইড করেছিলেন তিনি এ চরম বিষাদের মাঝে? যেহেতু সম্পর্কের জটিলতায় ভুগছিলেন বিষাদগ্রস্ত হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিভাবে খুন হলেন লেখক শফিক শাহরিয়ার? নানা ধরনের তথ্য ভ্রান্ত করছিল রেজাকে। একপর্যায়ে এ কেস থেকে অব্যাহতি দেয়া হয় রেজাকে। শেষ পর্যন্ত কি রেজা পেরেছিল লেখক শফিক শাহরিয়ার খুনের রহস্য উদ্ঘাটন করতে?
Profile Image for Ashraful Naiem.
10 reviews
April 16, 2021
শেষ অধ্যায় নেইঃ পাঠ প্রতিক্রিয়া
-------------------------
-------------------------

লেখক হিসেবে সাদাত হোসাইনের নাম কে না জানে? সমকালীন কিংবা রোমান্টিক উপন্যাস কিংবা কাব্য দিয়ে লেখক জীবন শুরু করলেও ইদানীং থ্রিলার খেলার দিকেও ঝুকেছেন লেখক৷ সেই ধারারই একটি প্রচেষ্টা বলা যেতে পারে 'শেষ অধ্যায় নেই'।

এস আই রেজা সিরিজের উপন্যাসটির ফ্ল্যাপ থেকে বর্ণিত বর্ণনা খুবই এট্রাকটিভ ছিল। তবে সত্যি বলতে আমি উপন্যাসটি পড়ে কিছুটা দ্বিধান্বিত। কেননা, কেন যেন পুরো উপন্যাসটিতে আমার কাছে কিছু অতিমানবীয় বিষয়,ফ্যান্টাসীর মত কাকতাল আর কেন্দ্রীয় চরিত্রের অতি অন্তর্মুখিতার পরিচায়ক বলে মনে হয়েছে।

উপন্যাসটির শুরু থেকে অর্ধেক আমার কাছে সত্যিই অনবদ্য লেগেছিল, নট গন্না লাই৷কিন্তু শেষে প্রথম অংশের ব্যাখ্যা দিতে, রহস্যের জাল ছিঁড়তে লেখক একটু বেশীই বাস্তবতার বাইরে আলোকপাত করেন যা আমার কাছে খুব একটা ভালো লাগে নি৷ যদিও ফিকশন ইজ ফিকশন, কিন্তু ফিকশন তো ফ্যান্টাসী না৷ আপনাকে বাস্তবসম্মত যুক্তি দেখাতে হবে৷
ধরেন, বাংলা সিনেমায় নায়িকা বিপদে পড়লে ঘটনাস্থলে কেমনে যেন নায়ক এসে উপস্থিত হয়, এটা একটা সময় একটা নির্দিষ্ট দর্শকশ্রেণীর কাছে ইঞ্জয়েবল লাগলেও এখন নিতান্তই প্রহসন বলে মনে হবে৷

সব মিলিয়ে সাদাত হোসাইনের রহস্যোপন্যাস "শেষ লেখা নেই" আমার কাছে এভারেজ বা বিলো এভারেজ লেগেছে বলা চলে৷ কিছু বড় বড় অপ্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরতে পারতাম কিন্তু তা স্পয়লার হয়ে যেতে পারে৷ আর আপনারা যারা সাদাত হোসাইন ভক্��� আছেন, তাঁদের প্রতি অনুরোধ থাকবে আমার প্রতিক্রিয়াকে সিরিয়াদলি নিবেন না৷ আমি শুধু আমার তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছি মাত্র৷ অনেকের কাছেই এই উপন্যাস খুব ভালো লাগতেই পারে, আই রেস্পেক্ট এভ্রিওয়ান'স অপিনিয়ন৷ হয়তো সামনের রেজা সিরিজের উপন্যাস আমাকে অভিভূত করবে৷
আর ম্যাগপাই রিডার্সের সাথে এটার মিল আছে কি না আমি জানি না, কারণ আমি বইটি পড়ি নি৷
ধন্যবাদ৷

আমার সামগ্রিক পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ ২/১০
Profile Image for মুনাম কবির.
69 reviews8 followers
February 19, 2022
বইনাম: শেষ অধ্যায় নেই
লেখক: সাদাত হোসাইন
বিষয়: রহস্যোপন্যাস
প্রকাশক: মনির হোসেন
প্রকাশনী: অন্যধারা
প্রচ্ছদশিল্পী: শওকত শাওন
মূল্য: চারশো টাকা মাত্র

অপরিচিত শব্দ ছিল: শেষ্মা

প্রাঞ্জলবাক্য: বৃষ্টিতে গাছের মাথায় নাচন ধরেছে, সেই ফুল জোছনা রাতে তারার মতো ফোটে

পাঠপ্রতিক্রিয়া: লেখকের লেখা এর আগে তিনটে বই পড়া হয়েছে। বরাবরই তার গদ্যশৈলী আমায় টেনেছে। তাই 'শেষ অধ্যায় নেই' বইটির ওপর বেশ আগ্রহ ছিল। লেখক রহস্য, রোমাঞ্চ দিয়ে পাঠককে কোথায় টানেন সেটা দেখবার ইচ্ছে ছিল।

উপন্যাসের মূল চরিত্রে ছিলেন শফিক শাহরিয়ার। যিনি পেশায় একজন লেখক। একটি রহস্যোপন্যাস লেখবার জন্য তিনি চা বাগানে যান। ওখানে যাওয়ার পর থেকে তিনি অদ্ভুত সব কাহিনী দেখতে পান। রাত একটু গভীর হলে গির্জার ঘণ্টা বেজে ওঠে। চলে যায় ইলেক্ট্রিসিটি। আর তিনিও ঘুমের ঘোরে হারিয়ে যান। এরপর একরাতে হঠাৎ শফিক শাহরিয়ার মারা যান। এবং তারপর থেকে শুরু হয় উপন্যাসের ডালপালা ছড়ানো। সিরিজের মূল নায়ক এসআই রেজার ওপর পড়ে কেসের দায়িত্ব। তিনি রহস্য এবং খুনির তালাশে লেগে যান।
Profile Image for Mueed Mahtab.
356 reviews
December 22, 2020
যে সপ্তাহে প্রকাশ হয় সেই সপ্তাহেই কিনে এনে দুই রাত্রে শেষ করেছিলাম,ছদ্মবেশ ভালো লেগেছিলো বলে,এই বইটাও ভালোই লেগেছে,৫ এ ৩ দেওয়ার মত ভালো।ভালো হইলে ভালো এত মাস পর গুডসরিডসে এড করতে রিভিউ দিচ্ছি বেশি কিছু মনে নাই-.-
This entire review has been hidden because of spoilers.
Profile Image for Nayna.
3 reviews
September 29, 2023
এক শব্দে বইটি হচ্ছে জগাখিচুড়ি। আর কিছুই বললাম না
Displaying 1 - 21 of 21 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.