Nilima Ibrahim (Bangla: নীলিমা ইব্রাহীম) was an Bangladeshi educationist and social worker. She is well known for her depiction of raped and tortured women in the 1971 Bangladesh Liberation War in her book Ami Birangona Bolchhi (I, the heroine, speaks).
She earned bachelors' degrees in arts and teaching from the Scottish Church College, which was followed by an MA in Bangla literature from the University of Calcutta in 1943. She would also earned a doctorate in Bengali literature from the University of Dhaka in 1959.
She was a professor in the department of Bangla in the University of Dhaka. She also served as the chairperson of the Bangla Academy, and as the Vice Chairperson of the World Women's Federation's South Asian Zone.
She was honored with Bangla Academy Award (1969), Ananya Literary Award (1996), Ekushey Padak (2000).
এ বইটি নিয়ে বলতে গেলে আসলে ভাললাগা মন্দলাগা দুইই কাজ করেছে। লেখিকা নিজের জীবনকাল বয়ান করতে গিয়ে ব্রিটিশ ইন্ডিয়া থেকে শুরু করে দেশভাগ, ভাষা আন্দোলনের টুকিটাকি, মুক্তিযুদ্ধ, বংগবন্ধু, ১৯৭৫ এর সময়, জিয়াউর রহমানের আমল পর্যন্ত লিখেছেন। সেই সময়ের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে ইতিহাস লেখায় কিছুটা তথ্য বিভ্রাটেও পড়তে হয়। নীলিমা ইব্রাহিম ছিলেন বংগবন্ধুর খুব ঘনিষ্টজন, শুভাকাংক্ষী। সেই হিসেবে তিনি বংগবন্ধুর বিশাল হৃদয় আর উদারতা সামনে থেকে দেখেছিলেন। সেসব লিখতে যেমন ভোলেননি তেমনি তাঁর অনেক সিদ্ধান্তের স্পষ্ট সমালোচনা করতেও পিছপা হননি। পু্রো লেখা পড়বার পড়ে মন হল তিনি অনেক স্পষ্টবাদী মানুষ ছিলেন। যা মনে হত তাই বলে ফেলতেন রাখঢাক না করে আর সে কারণেই হয়তো কর্মক্ষেত্রের শেষদিন পর্যন্ত তাকে অযাচিত সমস্যার মুখোমুখী হতে হয়েছে। যেমন- নাম উল্লেখ করে কে কে তার কর্মক্ষেত্রে তাকে নাজেহাল করেছে, বিদেশ সফরে ৪০ জনের দলের অনেক পুরুষ সদস্য কীভাবে ভিনদেশী মেয়েদের লাঞ্চিত করেছে, অনৈতিক কাজ করেছে সেসব লিখেছেন অকপটে। এমনকি নিজের মেয়ের নেতিবাচক দিকও তুলে ধরেছেন গোপন না করে। তবুও ১৫ ডিসেম্বর তার যে ৩ সহকর্মী তাকে মিরপুর বদ্ধভূমিতে নিয়ে যেতে শুরু করে তাদের নাম তিনি প্রকাশ করলেন না অথচ সেসব সহকর্মীই মুনীর চৌধুরী, আনোয়ার পাশাসহ আরো অনেক বুদ্ধিজীবি হত্যাকান্ডে জড়িত ছিলেন। নিজের বায়োগ্রাফিতে কেন সেসব নাম প্রকাশ করেননি বোধগম্য নয়। আবার যারা বিদেশ সফরে গিয়ে আজেবাজে কাজে জড়িত হয়েছিলেন তাদের নাম উল্লেখ করেননি। অনেকে হয়তো এই বই পড়ে অবাক হবেন জিয়াউর রহমান নিয়েও তিনি ২/৩টি ভাল কথা লিখেছেন কীভাবে সেই ভেবে। বোধকরি ঐ সময়ে বড় বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, প্রতিযশথা লেখক, অধ্যাপক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার একে অপরের সাথে খুব ভালভাবে পরিচিত ছিলেন, কোননা কোনভাবে পারিবারিক আত্মীয় কিংবা বন্ধু ছিলেন। লেখিকার অনেক বক্তব্যের সাথেই একমত হতে পারিনি। হয়তোবা সেসব মতামত বর্তমানকালে গ্রহণযোগ্য নয়। তবুও তিনি যে ৭৫ পরবর্তী পাকিস্তানপন্থীদের ধর্মীয় উম্মাদনা কিংবা রাজনৈতিক দৈনতা নিয়ে বলিষ্ঠ বক্তব্য লিপিবদ্ধ করতে পেরেছেন ১৯৯১ সালে (এই বই প্রথম প্রকাশ হয় ১৯৯১ সালে) সেটা ভেবেই ভাল লাগলো। বর্তমানের লেখক কিংবা লেখিকারা কী তা লিখবেন বা লিখলে কী তাদের জীবন হুমকীর মুখে পড়বেনা তেমনটা কেউ বলতে পারবে? লেখিকা সহজ ভাষায় একটা বিশাল সময় তুলে ধরলেন যা একান্তই আমাদের ইতিহাস। এখান থেকে তথ্যসূত্র নেয়া হবে কী হবেনা কিংবা বিশ্বাসযোগ্য কীনা সেটা পাঠকই বলবে। তবে এই অসাধারণ গুণী মানুষটিকে জেনে ভাল লাগলো।