আজ থেকে ঠিক দু হাজার তিনশ বছর আগে, পারস্যের রাজা দারিউস'কে পরাজিত করে এবং রাজকোষ লুট করে রাতারাতি পৃথিবীর সবচাইতে ধনী ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন মহাবীর আলেকজান্ডার। বিখ্যাত সব লোকের হাত বদল হয়ে পৃথিবীর অন্যতম সেরা পণ্ডিত অতীশ দীপঙ্করের হাতে সেই গুপ্তধন এসে পৌঁছালো এবং তিনি তৈরী করলেন এক ঐতিহাসিক পাণ্ডুলিপি।
তারপর বহুকাল পেরিয়ে গেলো। ৩১শে অক্টোবর, ২০১৫ সাল। জাতীয় জাদুঘর থেকে চুরি গেছে একটি পাণ্ডুলিপি! দেশসেরা প্রাইভেট ডিটেকটিভের হাতে অর্পিত হলো দায়িত্ব, খুঁজতে হবে এই পাণ্ডুলিপি! হাজার হাজার বছর ধরে যেই পাণ্ডুলিপি অসংখ্যবার হাতবদল হয়েছে, কোথায় গেল সেই পান্ডুলিপি? প্রাচীন বাংলার শ্বাসরুদ্ধকর সেই অজানা ইতিহাস নিয়ে রচিত দুইহাজার তিনশ বছরের ইতিহাস খুড়ে বের করে আনা এক অজানা ফসিল "অতীশ দীপঙ্করের পাণ্ডুলিপি"।
হিস্টোরিক্যাল থ্রিলার আমার পছন্দের জনরা। অতীশ দীপঙ্করের পান্ডুলিপি বইটি এভারেজ মনে হলো,হয়তো অতিরিক্ত এক্সপেকটেশন থাকায়। বইয়ে বেশ কয়েকটি অপ্রয়োজনীয় চ্যাপ্টার ছিলো,সেগুলো না থাকলে ভালো হতো। আর কাহিনী একটু বেশিই দ্রুত এগিয়েছে,স্পষ্ট তাড়াহুড়োর ছাপ। অভারল গল্পটা আরো একটু বড় হলে হয়তো বেশি ভালো লাগতো। তবে গল্পের ইতিহাস অংশটুকু বেশ ভালো লেগেছে।
বি.দ্র. অন্যরা শেষে দেয়, আমি শুরুতে দিলাম। দেওয়ার কারণও রয়েছে। ❛অতীশ দীপঙ্করের পান্ডুলিপি❜ উপন্যাসের বিষয়বস্তু ও লেখকের বিচারবুদ্ধি খণ্ডনের পর্যালোচনা হিসেবে উক্ত রিভিউটি বিশুদ্ধ চিত্তে সমালোচনা করার পরিপ্রেক্ষিতে ‘বি.দ্র.’ উল্লেখ করে আকর্ষণের প্রয়াস করলাম। হাতে সময়, ধৈর্য ও ইচ্ছা থাকলে তবেই পড়া শুরু করুন। অন্যথা ১০-৩০ পেজ পড়ে পুরো বইয়ের সমালোচনা করুন। দুটোই সমালোচনা, তবে পার্থক্য বিস্তর। তাতে লেখক ভুল হলেও আপনি কুল হবেন। কথাগুলো কঠিন মনে হলে, আবার পড়ুন। বার দুয়েক পড়ে সহজ না-ও লাগতে পারে; এই ব্যর্থতা আমার নয় আবার স্বার্থকতাও আপনার নয়।
❛অতীশ দীপঙ্করের পান্ডুলিপি❜ বইটিকে আমি কোনোভাবে পরিপূর্ণ ‘উপন্যাস’ ট্যাগ দিতে পারি না! অবাক হচ্ছেন? স্বাভাবিক, একটু ভারমুক্ত হয়ে বলি—বইয়ের নামকরণ, ফ্ল্যাপে দেওয়া সংক্ষিপ্ত কাহিনি নিয়ে দীর্ঘ অনুশীলন, স্তূপীকৃত ঐতিহাসিক আর্টিকেল, প্রথম দু-তিন অধ্যায়ের অসামঞ্জস্য লেখনশৈলী, আক্ষরিক অনুবাদে পিষ্ট আলেকজান্ডার, চুরি হওয়া জাদুঘরের যত আখ্যান, ফটোগ্রাফি আলোচনার খাতিরে ক্যামেরা আর লেন্স নিয়ে ব্রান্ড প্রমোশনের ম্যাগাজিন আর ছোটো একটা চুরি ও গুপ্তধনের কাহিনির মিশেলে তৈরি এই ম্যাগাজিন-আর্টিকেল-ক্লিয়ারকাট উপন্যাস ❛অতীশ দীপঙ্করের পান্ডুলিপি❜।
বইটি হাতে নেওয়ার সময়, গল্পে প্রবেশের পূর্বে ‘কাহিনি সংক্ষেপ’ পড়লে আপনার শতকরা ২৫ ভাগ পড়া সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। বাকি ২৫ ভাগ সম্পূর্ণ হবে বইয়ের পেছনে ম্যানশন করা রেফারেন্স লিস্ট দেখে। তবে এই বিষয়টি খারাপ কিছু নয়, লেখক সততার সাথে সবকিছু অকপটে স্বীকার করেছেন কিন্তু কাহিনি সংক্ষেপের নামে বিশাল এক বিবৃতি ফ্ল্যাপে না লিখলেও খুব বেশি অসুবিধা হতো না। এমনিতে ১৫৩ পৃষ্ঠায় গল্পের সমাপ্তি; থলিতে গল্প থাকলেও সেটার পরিমাণ—অল্প। বাকি যত ইতিহাসের ফিরিস্তি—আর্টিকেল আকারে না লিখে, গল্প পরিসরে সাজালে বইটি পূর্ণতা পেত! তবে সেটা এখন অতীতকাল।
লেখকের ভুল কোথায়—তা আমি ‘লেখক নিয়ে কিছু কথা’য় অংশে আলোচনা করব। এতক্ষণ অশোধিত দিক নিয়ে সমালোচনা করলাম, এইবার ভালো দিক নিয়ে কিছু কথা বলি। প্রায় পাঠকের মনে একটিই প্রশ্ন—বইটি আসলেই কি অতি জঘন্য? আমি সেইসব পাঠকদের ফিরতি একটি প্রশ্ন করি—দোষত্রুটি কি আপনার রুচির মধ্যে নেই? না-কি এই জীবদ্দশায় ত্রুটি ছাড়ায় জীবন অতিবাহিত করে যাচ্ছেন? কোনো কাজ ভুল হয়নি? কারও কাছ থেকে সমালোচনা শুনেননি? নিজের মুখের দুর্গন্ধ ঢাকতে চুইংগাম চিবিয়ে (রূপক অর্থে) সমালোচনা করেননি? সবই করা হয়েছে, নির্ভেজাল মানুষ এই দুনিয়ায় ডাইনোসরের মতোই বিলুপ্ত। অন্যের সমালোচনা করতে যেখানে বাদ্যযন্ত্র ও শাগরেদ নিয়ে হাজির হোন; নিজের বেলায় ব্যতিক্রম কেন নন?
যাহোক, ❛অতীশ দীপঙ্করের পান্ডুলিপি❜ বইটির ভালো ও খারাপ দুদিক রয়েছে। তবে গল্পের আদল গড়ে তোলা চরিত্ররা বাস্তববাদী—যা একটুখানি প্রশান্তির ছোঁয়া দিয়ে যায়। ইতিহাসের বিশাল বর্ণনা থাকলেও লেখক সেগুলো আর্টিকেল আকারে যুক্ত করে দিয়েছেন; তাই জ্ঞান কপচানোর প্রয়োজন পড়েনি। প্রথমদিকে আড়ষ্ট ভাব, পুরো বইয়ে বানান ভুলের মহাসমুদ্র এবং সম্পাদনার পর্বত-সম ত্রুটি পাশ কাটিয়ে গেলে ভালো লাগতে পারে৷ তবে অতি আশা না রাখা উত্তম, কারণ উপস্থাপনায় ভীষণ গন্ডগোল।
➲ আখ্যান—
আজ থেকে ঠিক দু’হাজার তিনশ বছর আগে, পারস্যের রাজা দারিউস-কে পরাজিত করে এবং রাজকোষ লুট করে রাতারাতি পৃথিবীর সবচাইতে ধনী ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন মহাবীর আলেকজান্ডার। বিখ্যাত সব লোকের হাত বদল হয়ে পৃথিবীর অন্যতম সেরা পণ্ডিত অতীশ দীপঙ্করের হাতে সেই গুপ্তধন এসে পৌঁছালো এবং তিনি তৈরি করলেন এক ঐতিহাসিক পাণ্ডুলিপি।
তারপর বহুকাল পেরিয়ে গেল। ৩১শে অক্টোবর, ২০১৫ সাল। জাতীয় জাদুঘর থেকে চুরি গেছে একটি পাণ্ডুলিপি! দেশ সেরা প্রাইভেট ডিটেকটিভের হাতে অর্পিত হলো দায়িত্ব, খুঁজতে হবে এই পাণ্ডুলিপি! হাজার হাজার বছর ধরে যেই পাণ্ডুলিপি অসংখ্যবার হাতবদল হয়েছে, কোথায় গেল সেই পান্ডুলিপি? প্রাচীন বাংলার শ্বাসরুদ্ধকর সেই অজানা ইতিহাস নিয়ে রচিত দুই হাজার তিনশ বছরের ইতিহাস খুড়ে বের করে আনা এক অজানা ফসিল ❛অতীশ দীপঙ্করের পান্ডুলিপি❜।
➤ পাঠ প্রতিক্রিয়া ও পর্যালোচনা—
❛অতীশ দীপঙ্করের পান্ডুলিপি❜ বইটি এই বইমেলার সম্ভবত একটি অবহেলিত সাহিত্য৷ হাতে গোনা কয়েক জন পাঠক ব্যতীত, প্রায় পাঠক—লেখককে একেবারে হাতে তুলে নাগিনী নাচ নাচিয়েছেন। কেউ বইটি শুরু করার আগে হাল ছেড়েছেন, কেউ বা ৩০ পৃষ্ঠায় লেখনশৈলী বলে কিছু রয়েছে; সেই রহস্য ভেদ না করতে পেরে ক্ষান্ত দিয়েছেন। এই ক্ষান্ত ও ক্লান্ত—দুইয়ের মেলবন্ধন একগুচ্ছ ফুলের পরিবর্তে পাথর ছুড়ে উদ্ধার করেছেন প্রকাশনার শ্রাদ্ধ। যথোপযুক্ত ছিল সেই কর্ম। একজন লেখকের পরিশ্রমকে হত্যা করতে এই কর্ম, কোনো অংশে ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করার যোগ্য না। সম্পাদনার ত্রুটি ও বানান ভুলের কারণে বাংলার কত মৌলিক সাহিত্য আজও ক্র্যাচ ভর দিয়ে হাঁটার কারণে দৌড়াতে পারেনি। এতে পাঠক স্বভাবসিদ্ধ হয়ে লেখককেই দোষারোপ করবে; কারণ নিজের সন্তানকে রক্ষা করার দায়িত্ব কিন্তু একজন পিতার। একটি গল্প, সেই লেখকের সন্তানের মতো। যাচাই-বাছাই বা যত্ন না নিলে, প্রতিবেশী বা সমাজ থেকে অনাদর পাবে তা স্বাভাবিক নয় কি?
তবে এই সবকিছুর মাঝে, কিছু ভালোলাগাও রয়েছে। লেখক সমাজের বাস্তব চিত্র, দেশাত্মবোধ, জীবনবেদ, রুচি, চাহিদা, আস্তিকত্বের সংজ্ঞা, নাস্তিক্যের চালচলন, বন্ধুত্বের বাধাহীন দেওয়াল, মধ্যবিত্ত পরিবারের প্রণয়কলহ, ব্যক্তি স্বাধীনতা, অনাড়ম্বর ভাব-সহ আরও অনেক বিষয় খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। চুরি হয়ে যাওয়া পাণ্ডুলিপি ও গুপ্তধন উদ্ধারের পাশাপাশি এই দিকগুলো বইটি শেষ করার পরে অন্যরকম ভালো লাগা দেয়। লেখকের স্বার্থকতা এইখানে, তবে ব্যর্থতার মেঘ সেটাকে আড়ালে ঢেকে দিয়েছে জোরে-শোরে।
● সূত্রপাত—
গল্পের শুরুটা ২০১৫ সালে, ৩১ অক্টোবর, শনিবার। স্থান—জাতীয় জাদুঘর। পাণ্ডুলিপি চুরি করার পূর্বের সময়। এর পরে ঘটনা মোড় নেয় ‘পূর্বকথা’ নামক পরিচ্ছদে। এই বইয়ে এইরকম ‘পূর্বকথা’ নামে অনেক পরিচ্ছেদ খুঁজে পাবেন। যেখানে মহাবীর আলেকজান্ডার, রাজা চন্দ্রগুপ্ত, সম্রাট আশোক, বাংলার নায়ক ঈশা খাঁ, তাজউদ্দীন আহমেদ-সহ বলিষ্ঠ ও কালজয়ী চরিত্রদের আবির্ভাব ঘটে। মূ��ত দুইভাবে গল্পটা এগিয়ে যেতে থাকে, পূর্বকথা ও বর্তমান (২০১৫) অনুযায়ী।
শুরুতে লেখনশৈলী বলে কিছু আছে, সেটা অনুধাবন করতে ভীষণ কষ্ট করতে হয়েছে। অনেক পাঠক এই জায়গায় ধৈর্যচ্যুত হয়েছে। পূর্বকথায় আলেকজান্ডার নিয়ে লেখাটা পুরোনো আক্ষরিক অনুবাদ লেগেছে, এত কঠিন আর জড়তায় ভর্তি। এ-ছাড়া পূর্বকথা পরিচ্ছেদগুলো হুবুহু ‘আর্টিকেল’ লেগেছে। কোনোভাবে সেটাকে আমি গল্প বলতে পারি না। তাই যদি অনেক ধৈর্য থাকে, তবেই বইটি নিয়ে বসুন। ৩০-৪০ পৃষ্ঠা দাঁতে দাঁত চেপে পার করতে পারলে তবে কিছুটা মুক্তি মিলবে। উপস্থাপনার কমতি ছিল লেখকের ভুল পদক্ষেপের একটি।
● গল্প বুনট • লেখনশৈলী • বর্ণবিন্যাস—
গল্প বলার পূর্ব অভিজ্ঞতা লেখকের আছে কি-না জানা নেই। এত জড়তা যা গল্পে আগ্রহ হারিয়ে ফেলার মতো যথেষ্ট। লেখনশৈলীতে মাধুর্যের ছোঁয়া উধাও, শেষের দিকে বিশেষ করে ৯৫ পৃষ্ঠার পরে বর্তমান সময়ের (২০১৫) পরিচ্ছেদে যা কিছুটা গোছানো মনে হয়েছে। রসবোধ বা পারিপার্শ্বিক আবহের বর্ণনার কোনো অস্তিত্ব ছিল না। একরোখা গল্প বলার প্রণালি। তবে যারা মেদহীন লেখা পছন্দ করেন, তাদের জন্য উপযুক্ত। সংলাপেও লেখক বেশ খোলামেলা বর্ণবিন্যাসের আয়োজন করেছেন, কারও কাছে এই দিকট কিঞ্চিৎ দৃষ্টিকটু লাগতে পারে। তবে সেগুলো গল্পের প্রয়োজনে রাখা। সাহিত্যের মানদণ্ডে এই বই মাপা হলে, অবহেলিত ট্যাগ পূর্ব নির্ধারিত।
● চরিত্রায়ন—
ঐতিহাসিক চরিত্রায়ন বাদ দিয়ে বলি, যেহেতু লেখকের স্বকীয়তায় তারা উঠে আসেনি। বইয়ের চরিত্রগুলো আবার ভালোভাবে সাজানো। নামগুলো ইউনিক। মানুষ, সময়, বৃত্ত! চরিত্রগুলো পছন্দ হয়েছে, সাথে তাদের ক্রিয়াকর্ম। ডিটেকটিভ হলেও মানুষ ভাই ও সময় মাহমুদ দুজন দুই ক্যাটাগরির। একজন আস্তিক অন্য জন নাস্তিক। পাঠক হিসেবে আমার দুজনকেই বেশ ভালো লেগেছে। তবে পুরো কাহিনি লেখা হয়েছে উত্তম পুরুষে (‘পূর্ব কথা’ পরিচ্ছেদ ব্যতীত), অর্থাৎ বৃত্তের জবানিতে। এ-ছাড়া মানুষদা’র স্ত্রী বাদ দিয়ে অনেক ললনার উপস্থিতি থাকলেও তারা ছিল অতি সীমিত সময়ের মনোরঞ্জনের জন্য। পড়লে বুঝতে পারবেন।
● অবসান—
এই বইয়ে যদি আপনি থ্রিল বা উত্তেজনা অনুভব করার প্রয়াস করেন, তবে সমবেদনা জানাতে হয়। এইরকম কোনো উত্তেজনা আমি খুঁজে পাইনি, খুঁজে পাওয়ার জন্য যে বইটি পড়ে শেষ করেছি তা-ও না। আমি মূলত ‘হিস্টোরিক্যাল’ শব্দটার মর্মার্থ উদ্ধারের উদ্দেশে বইটি পড়েছি। কতটুকু জেনেছি, তা আর না বলি। সব আমি বলে দিলে, এই বই পড়ার প্রয়োজন হয়তো পড়বে না।
অনুমেয় সমাপ্তি। শেষে স্বামী-স্ত্রী’র সুন্দর একটি পারিবারিক দৃশ্য দিয়ে শেষ করা। যেটা পড়ে, আদিখ্যেতা মনে হতে পারে; তবে কেন জানি আমার ভালোই লেগেছে। অবিবাহিত বলে হয়তো।
● খুচরা আলাপ—
যত আলাপ করব, তত যন্ত্রণা বাড়বে। মানুষ এই বই নিয়ে এমনিতে বিরক্ত—তার ওপর আমার এইরকম রিভিউ অনেকে আবার ভাইবেরাদারের অভ্যর্থনা হিসেবে নিবে। আজকাল মোদ্দা কথা বলেও শান্তি নেই; ভালো কথার দাম নেই।
বইটি নিখুঁত না, কিন্তু উপভোগ্য বললেও অন্য সংঘের পাঠক আবার তির্যক দৃষ্টিতে দেখে। বইটি উপভোগ্য কিন্তু অতটা ভালো না বললেও একই সমস্যা। তাঁরা আবার সংঘের ধর্মে বিশ্বাসী। পাঠক সংঘ বর্তমানে কয়েক ভাগে বিভক্ত, কেউ লেখককে দেখতে পারে না কেউ আবার প্রকাশনা। ভুল কিছু পেলে হয়, দুনিয়ায় কেয়ামত ডাকার যজ্ঞ শুরু করতে ‘কমেন্ট বক্স’ নামক উপাসনালয় তো আছেই। নেগেটিভ কিছু দেখলেই শুরু হয় জংলি নৃত্য অপেক্ষা দামি ‘সমালোচনার পবিত্র কীর্তন’। তাই এত বিস্তারিত আলোচনা করি, আহা! সেটাতেও সমস্যা। তখন আবার বলে, দুধের সাধ ঘোলে মেটে না! বলুন তো মশাই, কী একটা দক্ষযজ্ঞ ব্যাপারে পড়েছি।
লেখকের লেখার সুষ্ঠু বিচার করতে চাইলে, বইটি সম্পূর্ণ পড়ুন। তারপর আপনার বক্তব্য পেশ করুন। ভুল হলে ধরিয়ে দিয়ে, পরবর্তী কাজের জন্য কল্যাণ কামনা জানিয়ে নিজ দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করুন। কালজয়ী লেখকদের, সব বই ‘কালজয়ী’ খেতাবে ভূষিত হয় না; কিছু বই হয় আর কিছু অতলে হারিয়ে যায়। ভালো কিছু নিয়ে উচ্ছ্বাস করার পূর্বে—খারাপ কিছু নিয়ে দুয়েকবার নিশ্বাস ফেলা যায়। সমালোচনা থেকে সফলতা পাওয়ার রাস্তা এতটাও সহজ না। জ্ঞানীরা তা জানে, মহাজ্ঞানীরা সেটা মানে। এইবার বলুন আপনি কোন ক্যাটাগরির?
➣ লেখক নিয়ে কিছু কথা—
লেখকের সম্ভবত প্রথম বই। আর পূর্বে লেখালেখি করলেও গল্পের সিকোয়েন্স সাজানোর দক্ষতা কেমন জানা নেই। একটি গল্পের লেখনশৈলী এবং ক্রমানুসারে সেটা সাজানোর দক্ষতা না থাকলে; একটি ভালো কাহিনি দাঁড় করানো সম্ভব না। যতই ভালো প্লট মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকুন না কেন। গল্পের প্লট বাছাইয়ের কার্পণ্য না করলেও সেটা সাজানোতে যত গড়বড় করে ‘ঘেঁটে ঘ’ করেছেন। যতটা সময় লেখক তথ্য-উপাত্ত ঘাঁটতে সময় ব্যয় করেছেন, লেখাতে ততটা সময় অতিবাহিত হয়তো করেননি। পরিশেষে, একটি ভালো গল্পের অপমৃত্যুর দায় মাথায় নিয়ে ঘুরতে হচ্ছে।
যাহোক, ইতোমধ্যে সেটা লেখক হয়তো জানতে পেরেছেন। কমতি কাটিয়ে পরিণত হয়ে ভালো কিছু উপহার দেওয়ার প্রচেষ্টা করা উচিত। খারাপ লেখা, সমালোচনা, কটুকাটব্য একটু-আধটু এইরকম শোনা অন্যায়ের কিছু নয়। সব পাঠক ঠান্ডা মাথার নয়; রুচি এবং ধৈর্যও এক নয়। প্লট বাছাই করার পর, গল্প সাজানোতে মনোযোগ দেওয়াটা উত্তম। ঐতিহাসিক পরিচ্ছেদগুলো হুবুহু আর্টিকেল আকারে না লিখে, নিজ থেকে কিছু গল্প, কথোপকথন যুক্ত করে দিলেও ভালো হতো বলে মনে করছি। মূল গল্প বেশি সহজ হয়ে গেল, এত বড়ো কন্সপিরেসি কিন্তু খুব সহজ সমাধান কাম্য নয়। আশা করছি পরবর্তীতে বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন লেখক।
● সম্পাদনা ও বানান—
অণ্ডকোষকে ‘অঙ্গকোষ’ লেখা ইচ্ছাকৃত না-কি নির্লিপ্ততা কোনটা সেটা মাথায় আসে না। এইটা শুধু উদাহরণ, এই বইয়ের সমাধি শুরুতে তৈরি হয়ে ছিল। সম্পাদনা ‘স’, বানানের ‘ব’ নিয়ে কাজ করার কেউ ছিল না বোধহয়। এত অবহেলা কেন হয়? আমাদের সাহিত্য এই দিকটি কবে যে উন্নত হবে জানা নেই। লেখকের সত্তা, শ্রম, ত্যাগ, ধৈর্য বিসর্জনের প্রাপ্তি যদি ভুল দিয়ে বরণ করা হয়; তাহলে কিছু বলারও থাকে না।
● প্রচ্ছদ—
প্রচ্ছদের ফ্রন্ট কাভারে মাঝের লোকটাকে জোম্বি শ্রেণির মনে হচ্ছে। যদিও সে আমাদের সময় দাদা। বামে বৃত্তের গলায় ঝুলানো, ক্যামেরা প্রমোশনের জন্য বিশালাকার দিয়েছে বোধ হয়। মানুষ’দাকে মানুষের মতো মনে হচ্ছে। নামলিপি দেখতে হলে কল্লাকে ডানে-বামে ঘুরানো লাগে, প্রতিফলনের সৃজনশীলতা বটে। আর কিছু না বলি।
● মলাট • বাঁধাই • পৃষ্ঠা—
কী লাভ বলে? যেখানে বইয়ের ভেতরের অবস্থা দুর্দশাগ্রস্ত। দামে বেশি, মানে কম—এই একটি কথা বলতে পারি। বাঁধাই ভালো, পৃষ্ঠার মানও। তবে কনটেন্ট ভালো না হলে; টপ ক্লাস প্রোডাকশনও মূল্যহীন।
⛃ বই : অতীশ দীপঙ্করের পান্ডুলিপি • তানভীর আহমেদ ⛁ জনরা : হিস্টোরিক্যাল থ্রিলার ⛃ প্রথম প্রকাশ : বইমেলা ২০২১ ⛁ প্রচ্ছদ : প্রিন্স এ আর ⛃ প্রকাশনা : পুস্তক ⛁ মুদ্রিত মূল্য : ৩২০ টাকা মাত্র ⛃ পৃষ্ঠা : ১৬০
পরিচিত কয়েকজনের দেখাদেখি আমিও কিনেছিলাম। খুব আশা নিয়ে পড়তে বসে সাতসকালে মেজাজ খিঁচড়ে গেল। অনেক কষ্টে ৩০ পৃষ্ঠা পর্যন্ত এগোতে পারলাম।
লেখক সম্ভবত বক্তৃতা দিতে খুব ভালোবাসেন। জ্ঞানমূলক সংলাপ একেকটা সর্বনিম্ন আধপৃষ্ঠা করে। দেড় পৃষ্ঠা লম্বা সংলাপও চোখে পড়ল। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ জাদুঘরসহ বিখ্যাত কোন কোন জাদুঘরে কবে কবে কী কী চুরি হয়েছে তা জানা হয়ে গেছে। আরও জেনেছি মোবাইলের আইএমইআই নাম্বার কিভাবে কাজ করে, সেই সাথে মহাবীর আলেকজান্ডারের সাড়ে আট পৃষ্ঠার সংক্ষিপ্ত জীবনী ইত্যাদি ইত্যাদি।
আরেকটা কথা না বললেই নয়। সম্পাদনা বলে একটা ব্যাপার আছে, লেখক-প্রকাশক মনে হয় এ ব্যাপারে অজ্ঞাত। প্রচ্ছদ থেকে শুরু করে ভেতরের লেখার অ্যালাইনমেন্ট পর্যন্ত একদম ভুনা খিচুড়ি। ফন্ট এমন সাইজ দেয়া হয়েছে দেখলে চোখ চিনচিন করে ওঠে। মাফ চাই, দোয়া চাই। গুড লাক।
একটু আগে অ্যাসাইনমেন্ট করছিলাম। সেখানে ইচ্ছেমতো ভুগিচুগি তথ্য দিয়ে পৃষ্ঠাসংখ্যা বাড়ালাম। লেখকও বোধহয় আমার মতো কাজ করেছেন। পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা শুধু কাগুজে জ্ঞান কপচানো হয়েছে৷
বইটার অনেক নাম শুনেছিলাম, কিন্তু পড়ার পর খুবই আশাহত। কাহিনির আগামাথা নেই, প্রথম ৫০ পেইজ পড়তে যেয়ে বিরক্তির শেষ সীমানায় পৌঁছে গিয়েছিলাম। হাস্যকর কিছু ভুল বানান, গল্প বুননে ব্যর্থতা, সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হচ্ছে পাঠকের মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা।
আমি কোনো সাহিত্য সমালোচক না, বই পড়ার পর মনে যা আসে, ওইটাই লিখি। আমার যেটা ভালো লাগেনি, ওইটাই লিখলাম।
হিস্টরিকাল থ্রিলার আমার পছন্দের জনরা। বইয়ের প্লট দুর্দান্ত, ত্রিভুজের অভিযান বেশ উপভোগ করেছি। কিছু জায়গায় অহেতুক বর্ননা আছে মনে হয়েছে, আবার কোথাও কোথাও ডিটেইলিং পড়তে ভালোও লেগেছে। শেষে হয়তো কিছুটা গল্প বড় করা যেত, খুব বেশী দ্রুততার সাথে সমাপ্তি টেনেছেন লেখক। সব মিলিয়ে মিশ্র অনুভূতি বইটি পড়ে, সনয়টুকু ভালোই কেটেছে বলবো। পুস্তক প্রকাশনের প্রোডাকশন দেখার মত, বইটির প্রচ্ছদ আকর্ষণীয়। সম্ভবত ত্রিভুজের আরো বই আসবে ভবিষ্যতে, তার অপেক্ষায় রইলাম।
উপন্যাসের শুরুটা ছিল বেশ চমকপ্রদ। বাংলাদেশের জাদুঘরগুলো থেকে প্রত্নত্ত্বাতিক সম্পদ চুরির ঘটনা অনেক বছর ধরেই চলছে, অসংখ্য অমূল্য আর্টিফ্যাক্ট হারিয়েছি আমরা স্রেফ এই অবহেলা এবং রক্ষণাবেক্ষণে দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়ে। লেখক উপন্যাসের প্রাথমিক প্লটে তুলে এনেছেন এই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাটি। তবে এরপর কাহিনীর পরিব্যাপ্তি যেভাবে দেশ থেকে দেশে এবং শতাব্দী থেকে শতাব্দী পেরিয়ে রীতিমত বিশালকায় রূপ নিয়েছে, তাতে পুরো উপন্যাসটিতেই এসেছে এক ভিন্ন দ্যোতনা। পারস্যের রাজা দারিউসের সেই পৃথিবীখ্যাত ঐশ্বর্যের অধিকার মহাবীর আলেকজান্ডারের হাত ঘুরে রাজা চন্দ্রগুপ্ত, সম্রাট অশোক হয়ে কিভাবে পৃথিবীবিখ্যাত জ্ঞানতাপস অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানের হাতে এলো এবং এই মহাজ্ঞানীর সুনিপুণ সংরক্ষণে রুপান্তরিত এই গুপ্তধন খোঁজ কিভাবে এক সুতোয় জুড়ে দিল নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়, সম্রাট হুমায়ূন, তার বোন গুলবদন, শের শাহ, বারভূঁইয়ার ঈশা খাঁ এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ-তার এক অসাধারণ জার্নি অপেক্ষায় আছে এই বইতে। দুর্দান্ত প্লট, বিশেষ করে বিভিন্ন কাল ও যুগের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তি ও ঘটনাকে সফলভাবে এলাইন করে কাহিনীর বৈচিত্র্য ধরে রাখা এই বইয়ের প্রধান শক্তি। প্রুফরিডে দুর্বলতার কারণে বানান ও বাক্য গঠনের কিছু ভুল চোখে লেগেছে খুব, ডিটেইলিং অনেকক্ষেত্রে উপভোগ্য হলেও বেশ অনেক জায়গায় অহেতুক মনে হয়েছে। কাহিনীর মূল তিন চরিত্রের সংলাপ এবং ঘটনাপ্রবাহ শুরুতে যতটা উত্তেজনাকর ছিল, মাঝে মাঝেই তার তাল লয় কেটে গেছে। তবে শেষটা বেশ চমৎকার, চমকে দেবার মত কিছু এলিমেন্ট যোগ হয়েছে, তবে মনে হয়েছে গল্পটা আরেকটু কন্টিনিউ করা যেত, এতো দ্রুত শেষ না হলেও পারতো। সবমিলিয়ে বেশ উপভোগ্য এক সময় কেটেছে, সীমাবদ্ধতাগুলো পরবর্তী বইগুলোতে কাটিয়ে উঠবেন লেখক, এই শুভকামনা রইল। প্রধান ৩ চরিত্রকে নিয়ে পরবর্তী বইগুলোতে আরো কাহিনী আসবে মনে হলো, অপেক্ষায় রইলাম।
“অঙ্গকোষের মধ্যে দড়ি দিয়ে বারি দিতে থাকেন,কথা বলা শুরু করবে।”- অন্ডকোষে 'বারি' মানে পানি দিলে কেন মানুষ হরহর করে কথা বলবে ভেবে যখন অবাক হচ্ছিলাম, খেয়াল হলো আসলে লিখেছে ‘অঙ্গকোষ'।বানান ভুল তো অনেক বইয়েই হয়।কিন্তু অর্থই বদলে ফেলার মতো ভুল করে বানান ভুলকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বইটির প্রকাশনী প্রশংসার দাবি রাখে বৈকি।
জাতীয় জাদুঘর থেকে চুরি যায় প্রাচীন পান্ডুলিপি। চুরি রহস্যের সমাধানের দায়িত্ব পড়ে স্বনামধন্য প্রাইভেট গোয়েন্দা মানুষ রহমানের কাছে। কিন্তু চুরি রহস্যের কিনারাই কি যথেষ্ট?কী আছে এই পান্ডুলিপিতে যার জন্য বাইরের দেশ থেকে চোর চলে আসলো? তিনি কাজে লেগে পড়লেন দলবল নিয়ে, দল বলতে তিনি, বৃত্ত আর সময়।মূল চুরি রহস্যের সমাধান খুব সোজা ছিল। পান্ডুলিপিতে লুকানো গুপধনের ঠিকানা যেই হেঁয়ালির মাধ্যমে লিখে গিয়েছিলেন গল্পের এক চরিত্র, মুক্তিযোদ্ধা কৌশিক, সেই হেঁয়ালিটা আমিই সমাধান করে ফেলতে পারতাম যদি সেখানেও একটা ছোট্ট ভুল না থাকতো।তাই মাথা ঘুরিয়ে দেয়ার মতো হেঁয়ালি বা টুইস্ট চাইলে এই বই পড়ে হয়তো তৃপ্তি পাবেন না। ইতিহাস আশ্রিত এই থ্রিলারের ইতিহাসের বর্ণনা পড়তে গিয়ে মনে হয়েছে কৈশোরে পড়া পাঠ্যবই আবার পড়ছি। লেখক ঠিক বুঝেছিলেন যে এই বইয়ে আলেকজান্ডারের ইতিহাস দিয়ে শুরু করে একাত্তর পর্যন্ত যেই বিশাল ইতিহাসের বর্ণনা তা রসময় করা সোজা নয়। তাই তিনি অহেতুক নারীদেহের রগরগে বর্ণনা, নারী আর সমকামীদের নিয়ে স্থূল কৌতুক করে গল্পে রস ঢালার চেষ্টা করেছেন হয়তো। এই চেষ্টা কোন কোন পাঠকের ভালো লাগতে পারলেও আমার লাগেনি। তবে কিছুতেই বুঝলাম না, চাকুরিজীবী নারী কেন বেকিং পাউডার কেনা নিয়ে স্বামীর সাথে ঝগড়া করবে, নিজে কিনলেই তো পারে! নাকি লেখক নিজেই ভুলে গিয়েছেন যে তিনি আয়না আপার চাকুরীর উল্লেখ করেছেন গল্পের শুরুর দিকে? আমি অনেক খুঁতখুঁতে বলে বই পড়ে আরাম পেলাম না। মূলত প্রচ্ছদ দেখে পছন্দ করে বইটা কিনেছিলাম। যাক, অন্তত বইটা বইয়ের তাকে দেখতে ভালোই লাগে।
• এত্তো ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ডিটেইল দিয়ে লেখাটা বড় করার কোন দরকার ছিলো না! যেমন ক্যামেরা দিয়ে লং শটের পিক তুলবে এর জন্য ক্যামেরার মডেল + কোন লেন্স ইউজ করবে সেটা বলার দরকার ছিলো না! • ভাইরে ভাই এইটা তো যে সেই বই না, যেন ব্র্যান্ডেড জিনিসপত্রের প্রমোশনাল বই! • মাঝে মাঝে মন�� হয়েছে বই না যেন ফেসবুক স্ট্যাটাস পড়া স্টার্ট করছি! • মাঝে মাঝে উপন্যাসিক ভাব ভঙ্গিমা এনে শুধুই গল্প বড় করা হইছে •কিছু কিছু কমন জিনিস এত্তো ডিটেইলে বলা হইছে যার কোন-ই মানে নাই! যেমন- ফোন কিভাবে ট্র্যাক করে এইটা নিয়ে এই সময়ে এতো ডিটেইলস বর্ণনা করার দরকার ছিলো না! •আজাইরা কিছু জিনিস হুদাই বইলা কি করছে আমি জানিনা! জেমন্স বন্ডরে নিয়া যা তথ্য দিছে তা দিয়ে মনে হয় না গল্পের প্লটের জন্য কাজে আসবে!
আজাইরা থ্রিলার গল্পের মাঝে অন্য গল্পের কাহিনী শুনাই লেখক কি উদ্দেশ্য সফল করতে চাইলো জানা নেই!
আলেকজান্ডার দি গ্রেট (খ্রি:পূ: ৩৫৬- খ্রি:পূ: ৩২৩) প্রাচীন গ্রীসের মেসিডোনে জন্ম নেয়া বিশ্বজয়ী ও পৃথিবীর বুকে দ্বিতীয় বৃহত্তম সাম্রাজ্যের স্থপতি। পারস্য, মিশর, ব্যবিলন, ভারতের পশ্চিম পাঞ্জাব জয়ের পর পরম সত্য মৃত্যু থামিয়ে দেয় তাঁর অপরাজেয় জয়রথ। তাঁর মৃত্যুর পর, তাঁর বিশাল রাজত্বের পূর্ব অংশ পান তাঁর সেনাপতি সেলুকাস। তখন ভারতে মৌর্যদের যাত্রা শুরু। প্রথম চন্দ্রগুপ্তের কাছে সেলুকাস হারান তার সাম্রাজ্যের ভারতীয় অংশ। চন্দ্রগুপ্তের পর মৌর্য সাম্রাজ্যের সিংহাসনে বসেন বিন্দুসার ও অশোক। ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাজা অশোকের লিপি অশোকলেখ পাওয়া গিয়েছে উপমহাদেশের অনেক জায়গায়।
অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান (৯৮২-১০৫৪), বঙ্গের বিক্রমপুরে জন্ম নেয়া এক প্রখ্যাত পণ্ডিত যিনি পাল সাম্রাজ্যের আমলে একজন বৌদ্ধ ভিক্ষু এবং বৌদ্ধধর্মপ্রচারক ছিলেন। হঠাৎ নজরে পড়া এক অশোকলেখ কেন তাঁকে উৎসাহ দিলো নতুন এক রহস্য জন্ম দেয়ার!! কি ই বা দরকার ছিল তা নালন্দা বিহারে লুকিয়ে রাখার!! ১২০৫ সাল, বখতিয়ার খিলজির আক্রমণে পতন নদীয়ার। বখতিয়ার খিলজির হাতে ধ্বংস হয়ে যায় নালন্দার ঐশ্বর্য। সাথে কি অতীশ দীপঙ্করের সেই রহস্যও?? সম্রাট হুমায়ুন(১৫০৮-৫৬) ও সম্রাট আকবর (১৫৪২-১৬০৫) বারংবার বাংলা আক্রমণ করেছিলেন শুধুমাত্রই কি রাজ্য জয়ের জন্য নাকি এর মাঝে ছিল অন্য কোন কিছু পাওয়ার ইচ্ছাও?? খালেদ মোশাররফ(১৯৩৭-৭৫), কে ফোর্সের ও ২ নং সেক্টরের প্রধান গ্ল্যাডিয়েটর নামে ছোট এক চৌকস দল পাঠান ঢাকার উদ্দেশ্যে। যাদের উদ্দেশ্য ছিল আটকে পড়া বুদ্ধিজীবীদের উদ্ধার করে আনা। নাটকীয় ভাবে হাতে পড়ে ইতিহাসের এক অমূল্য রত্নের। সাল ২০১৫, জাতীয় জাদুঘর থেকে চুরি এক দুর্বোধ্য ভাষায় রচিত পান্ডুলিপি। কি ছিল সেই লিপিতে? কারা আছে সেই চুরির পেছনে? মানুষ-সময়-বৃত্ত গোয়েন্দা ত্রয়ীর সেই হদিস খুঁজে বের করার অভিযান নিয়েই "অতীশ দীপঙ্করের পান্ডুলিপি"। থ্রিলার বই নিয়েই দেখি থ্রিলিং ব্যাপার। বইটা ভবিষ্যত থেকে এসে পড়েছে!! প্রকাশকাল ২০২১ এর বইমেলা!! লেখক আসলে বেশ আগেই বইটা প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন, ২০১৬ সালের মে মাসেই বইটি সম্পর্কে লিখেছিলেন সামহোয়্যার ইন ব্লগে। এবার আসা যাক বইয়ের কথায়, আমি হতাশ। হিস্টোরিক্যাল উপন্যাসে ইতিহাস আর লেখকের কল্পনার একটা চমৎকার যোগসূত্র লাগে, সেটা পুরো লেখায় পায় নি। ঐতিহাসিক ফ্যাক্টের বাইরে আসলেই মনে হচ্ছিল গল্পের ছন্দপতন হচ্ছে, কিন্তু পাঠক তো খুঁজছেন থ্রিলার, ইতিহাস না!! ভালো প্লটের কি করুণ মৃত্যু!! কখনো কখনো মনে হচ্ছিল লেখকের নিজস্ব গল্পটা খুবই ছোট যাকে অযথা টেনে বড় করা হয়েছে। মূলগল্পের সাথে সঙ্গতিহীন সাবপ্লট(অন্ততঃ আমার তাই মত) আর যৌনতা লেখার মান বাড়িয়েছে মন হয় নি। গোয়েন্দাদের মতো অপরাধীরাও আজকাল অপরাধ লুকানোর জন্য অনেক টেকনলজি ব্যবহার করছে, এই জিনিসটা লেখায় তেমন ফোটে নি। আর ফ্ল্যাপটা পড়ে মনে হলো পুরো গল্পটাই লিখে ফেলেছেন ওখানে। লেখার ভাষাটাও কেমন জানি প্রাণহীন!! পুরো গল্পে একটা জিনিসই মনে ধরেছে সেটা হলো বাংলা ভাষার বিবর্তন সংক্রান্ত তথ্যগুলো। সবমিলিয়ে আমি অন্ততঃ ব্যক্তিগতভাবে হতাশ।