অফিস তো বন্ধ। কাকে চাই?' বিজয় কোনো কথা বললো না। পকেট থেকে রিভলবার বের করলো। ঝট করে উঠে দাঁড়ালেন আসলাম হক। উঠে দাঁড়াতে গিয়ে হোচট খেয়ে পড়ে গেলেন। কাপছেন থরথর করে। কিছু একটা বলার চেষ্টা করছেন কিন্তু মুখ দিয়ে কোনো শব্দ বের হচ্ছে না। অনেক কষ্টে আসলাম হকের মুখ দিয়ে কথা বের হলো। বললেন, 'বাবা তোমার আল্লাহর দোহাই লাগে আমাকে মেরো না। আমি মারা গেলে আমার প্রতিবন্ধী মেয়েটাকে দেখার কেউ নেই।' বিজয় সময় নিয়ে পিস্তলে সাইলেন্সার লাগালো। আস্তে আস্তে কোমল গলায় বললো, 'আমি কথা দিচ্ছি চাচা, আপনার কিছু হয়ে গেলে আমি আপনার মেয়েকে দেখব। যতদিন বাঁচি দেখব। আপনি একদম চিন্তা করবেন না। নিশ্চিন্তে বিদায় নিন। আমি আছি!' আসলাম হক এই কথায় খুব একটা ভরসা পেলেন না। উনার দুই চোখে রাজ্যের আতংক এসে ভীড় করলো। বিজয় ট্রিগার চাপলো।
আমি এ বই পুরা পড়লাম না। এখনই যেনো পরিণতি দেখতে পারতেসি৷ আর পরবর্তীতে মাথা ঘুরানো ট্যুইস্ট থাকলেও লাভ নাই....এতো দুর্বল লিখনি সম্পন্ন বই খতম করা কষ্ট সাধ্য।
ফেসবুকের ওয়ালে অনেক কিছুই চলে, সেগুলো পড়ার সময় তেমন খুতও চোখে পড়ে না। কিন্তু সাহিত্য সম্পূর্ণ আলাদা জায়গা, এখানে এইসব লেখা পড়লে দম আটকায় যায়। আর খালি লেখনীই না, গল্পের গভীরতাও নাই।
সোহাইল রহমানের কাছ থেকে ভালো কিছুর প্রত্যাশা ছিল, পূরণ করতে পারেন নাই। নতুন লেখক বলে অনেকেই ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখতে চাইবেন, কিন্তু তারপরও আমি একদম শীতিল হইতে পারতেসি না। এ বই এক্কেবারেই জমে নাই, একদম না। কিছুই ঠিকঠাক হয় নাই আসলে, প্রথম বই হইলেও এইটা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ।
সোহাইল রহমানের প্রতি একটাই কথা বলবো, উনার উচিত আরও পড়াশোনা করা, লিখতে থাকা আর এক বছর পর বইটা আবার পড়া....তাহলেই বুঝতে পারবেন যে এ বই প্রকাশকের হাতে তোলে দেয়া উচিত হয় নাই। ভূমিকাতে নিজেই এখানা নিয়া সন্দেহ প্রকাশ করসেন যদিও, তারপরেও এ বইয়ের পাঠক প্রতিক্রিয়া থেকে এ উপন্যাসের মানহীনতা সম্পর্কে একটা ধারণা নিবেন আশা করি। আর যদি না নেন, তবে এ বই বাংলা সাহিত্যের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়, বরং উনার নিজের জন্যই ক্ষতিকর।
এরপরেও সোহাইল ভাইয়ের উপর বিশ্বাস রাখতে ইচ্ছা হয়, আশা করি সামনের দিনে ভালো কিছু উপহার দিবেন। নিজের লেখার খুত গুলো নিজেই বুঝতে পারবেন। শুভকামনা রইলো উনার প্রতি।
এই রকম লেখা ফেসবুকের পাতায় ভালো মানায়,বইয়ের পাতায় না। সোহাইল রহমানের প্রথম বই নিয়ে এক্সপেকটেশন একটু বেশিই ছিলো,একদম আশাহত। সেকেন্ড হাফের রাইযান রিলেটেড অংশ বেশ ভালো ছিলো,কিন্তু ফার্স্ট হাফ একদমই জমলো না।
আমি সোহাইল রহমানের কোন অন্ধ ভক্ত না। উনার লেখা ফেসবুকের টাইমলাইনে আসে ওখান থেকেই চিনা। উনার স্ট্যাটাসে লিখা ছোট গল্প ভাল না খারাপ সেটা বাদ, কিন্ত উনি বেশ চমৎকারভাবে মজার একটা পরিস্থিতি পাঠকের কল্পনায় ফুটিয়ে তুলতে পারে, সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত। যাই হোক, উনি যেদিন ঘোষণা দিলেন উনার জীবনের স্বপ্ন বই বের করা, আমারও মনে হল- ঠিক আছে, বইটা পড়েই দেখি, কতই বা খারাপ হবে। অন্তত উনার ফেসবুকের গল্পের মত হলেও একবারে অখাদ্য হবে না। অগ্রিম অর্ডার দিয়ে অটোগ্রাফ সহ বইটা হাতে পেলাম। ভাবলাম রসাত্মক মজার বই হবে একটু দেরী করে পড়ব। কিন্ত শুরু করার পরপরই মেজাজ খারাপ হতে শুরু করল। আমি মনে করি মাঝে মধ্যে অখাদ্য খাওয়া দরকার যাতে ভাল জিনিসের টেস্টটা বুঝা যায়। সে হিসেবে বইটা ১০/১০। এরকম অখাদ্য আমি অনেক দিন পড়ি না। একজন লেইম ছ্যাঁক খেয়ে সুইসাইড করবে সিদ্ধান্ত নিল, পড়ে দেখা গেল সে হিমুর মত কাজ করা শুরু করেছে, আবার প্রেমে পড়েছে, কিভাবে কিভাবে যেন প্যারালাল ইউনিভারসে চলে গেল, সেখানে সবকিছু বাংলাদেশের মত, আবার একজন সন্ত্রাস একই সাথে ভাল এবং খারাপ - কি অদ্ভুত! এটা একই সাথে রোমান্টিক, থ্রিলার, সায়েন্স ফিকশন, রাজনৈতিক, সুখী জীবনধর্মী - মানে পুরো একটা জগাখিচুড়ি। ২০২১ বেশ ভালভাবেই শুরু হয়েছে মনে হচ্ছে -_-। আমি জানি না, লেখক আমার এই রিভিউ পড়বে কিনা। যদি পড়ে তাহলে আমার অনুরোধ থাকবে, উনি যেন এই লাইনে না আসে, এটা উনার জন্য না। উনি ফেসবুকের ছোট গল্পতেই ভাল। অথবা যদি এই লাইনে আসতে চায় তাহলে যেন অবশ্যই বিভূতিভূষণের পথের পাঁচালি, অপুর সংসার, আদর্শ হিন্দু হোটেল পড়ে আসেন। একটা কাহিনী কত সহজ-সুন্দর ভাবে বলা যায় এটা উনি শিখতে পারবেন। এছাড়াও রবিন্দ্রনাথের উপন্যাস সমগ্র, মানিকের উপন্যাস সমগ্র, জহির রায়হান রচনা সমগ্র, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর গল্প ও উপন্যাস পড়ার পর লেখক যেন নতুন করে আবার চেষ্টা করে। বাংলা সাহিত্য অনেক সমৃদ্ধ। উনার আগে এই জায়গাটা ভাল করে ঘুরে ফিরে দেখা দরকার। কেন যেন মনে হয়েছে উনি হুমায়ুন আহমেদ দ্বারা প্রভাবিত। কিন্ত হুমায়ুন আহমেদের শেষ কিছু বই ছাড়া এমন জগাখিচুড়ি মার্কা বই আছে বলে মনে হয় না। আমার প্রায়ই আফসোস হয় এটা ভেবে যে আমাদের জেনারেশনের কোন ভাল লেখক নেই। ফেসবুক আর ইউটিউব দেখতে দেখতে কল্পনাশক্তি সব গেছে তা বলাই বাহুল্য। এজন্য অনেক আগের বইগুলা পড়তেই ভাল লাগে। এই বইটা দিয়ে একটা নতুন কিছু ট্রাই মারতে চেয়েছিলাম কিন্ত বেশ ভাল লেভেলের ছেঁকা খেয়ে গেলাম। কয়দিন এটার রেশ থাকে কে জানে।
এই বইটার পেছনে যদি লক্ষ্য করেন, তাহলে খেয়াল করবেন এক জায়গায় 'স্যাটায়ার' লেখা। তারমানে এই যে, এই বইটাকে যদি আপনি সিরিয়াসলি নেন, তাহলে বইটাকে, প্রথমত, ভুল বোঝা হবে...ও দ্বিতীয়ত, পুরাপুরি উপভোগ করতে পারবেন না। আর একটা স্যাটায়ার ঘরানার বই হিসেবে আমি নিজে অনেক মজা পেয়েছি বইটা। এর জন্যই রেটিং দিয়েছি ৪/৫। টুকটাক ক্ষুদ্রতর কিছু বানান ভুল আছে, কিন্তু বেশিরভাগ বইতেই আজকাল সেটা পাওয়া যায়। ব্যাপার নাহ। শুধু এটাই বলবো যে সবসময় খুনোখুনি, হানাহানি, মারামারি আলা সিরিয়াস বই পড়াথেকে থেকে যদি একটা ব্রেক নিতে চান, এই বইটাই আপনার জন্য খুব ভালো ও মজার একটা ব্রেক হতে পাড়ে। কিন্তু সাবধান! বেশি সিরিয়াসলি নিয়ে ফেললেই কিন্তু মজা নষ্ট! (মনে হয় এর জন্যই অনেকে বইটাকে কম রেটিং দিয়েছেন ভুল বুঝে)
সজল চৌধুরীর প্রচ্ছদ বরাবরই একদম অসাধারণ! আর ভূমিপ্রকাশের বই এর প্রোডাকশন সবসময়ই আমার পছন্দের।
সোহাইল রহমান থেকে আরো এইরকম মজার মজার বই পেতে চাই সামনে।
"সোহাইল রহমান"কে চেনা উনার ফেসবুক লেখা পড়ে । আমি যেহেতু আজকাল নতুন লেখকদের বই পড়ি বেশী, তাই ফেসবুক সেলিব্রেটিদের বেশ কিছু বইও গাঁটের পয়সা খরচ করে কিনে পড়েছি, পড়ে ধরা খেয়েছি । এই লেখকের ক্ষেত্রেও যে কিছুটা দোনামোনা করিনি, তা নয় । তবে কৌতুহলের কাছে অতীতের শিক্ষা পরাজিত ।
ভদ্রলোক রম্য রচয়িতা হিসেবে পরিচিত । এই বইটি স্যাটায়ার ঘরানার এবং সেই সাথে হাস্যরসের টুকটাক উপাদান রয়েছে । বইয়ের শুরু হয়েছে অয়ন নামে এক যুবকের আত্মহত্যা করতে চাওয়ার মধ্য দিয়ে যার কিনা চাকরি নেই, বাড়িতে অসুস্থ মা বাবা, প্রেমিকা ছেড়ে চলে গেছে । অতীতের স্মৃতি রোমন্থন করতে করতে বইয়ের গল্প এগিয়ে গেছে । আমরা পরিচিত হই অন্ধকার জগতের এক দুর্ধর্ষ অপরাধীর সাথে, গল্পে স্থান পায় আরেকটি পরিবার এবং আরো কিছু ছোটখাটো চরিত্র । লেখকের লেখা পড়তে গিয়ে বেশ আরাম পেয়েছি । ছোট ছোট বাক্য, জটিলতামুক্ত সহজ সরল শব্দ এবং ভাব গাম্ভীর্যতার বাহুল্য মুক্ত । জীবনানন্দের কবিতার প্রচুর ব্যবহার এবং লেখায় হুমায়ুন আহমেদের ছাপ আছে । তবু একটা আলাদা স্টাইল আছে যেটা হুমায়ুন আহমেদের থেকে লেখককে আলাদা করে ।
বইটা পড়তে পড়তে মনে হবে, অয়ন চর���ত্রটি আসলে আমাদের সবার মনের মধ্যে বসবাস করে থাকা একটি চরিত্র । জীবনের কষাঘাতে বিশেষ করে আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ সবাই অয়নের মতো করে কয়েকটা দিন কাটাতে চায় । তাই হয়তো অয়নের ছন্নছাড়া জীবন যাপনের কথা পড়ে আমরা অজান্তে একটা আফসোস আবার তৃপ্তির নিঃশ্বাস ফেলি । নিজে এরকম কিছু না করতে পারার আফসোস আর অয়নের জন্য ভালোলাগা আমাদের মধ্যে দ্বান্দ্বিক এক রকম অনুভূতি তৈরী করে । মতিলাল ব্যানার্জী আর রহিমার মা'এর পরিবারটি লক্ষ করলে চারপাশকেই দেখছি বলে মনে হবে । শুধু আমরা মুখোশ পড়ে থাকি, আর এরা পড়ে না । আছে রাইযান নামক অদ্ভুত অথচ সত্যিকারের এক দেশের কথা, প্যারালাল ইউনিভার্স হলেও প্রচন্ডতম বাস্তব এক পৃথিবীর দেশ । এইসবের মধ্যেও আছে প্রেমের কথা, জীবনের কথা, আমাদের জীবনের ছোটখাটো স্বপ্নের কথা ।
আদতে আমার কাছে বইটিকে একরকম স্ট্রেস রিলিফের বই মনে হয়েছে । স্যাটায়ারের মাধ্যমে চারপাশের সময়কে বন্দী করার কিছুটা চেষ্টা, আর ফড়িং এর জীবন যাপন করতে চাওয়ার স্বপ্ন ! এক মূহুর্তের জন্য বোর লাগে নি, টানা পড়ে গেছি ।
অবসরের বিকেলে পড়ে ফেলার মতোন একটি বই, আহামরি কিছু নয় আবার ফেলনাও মনে হবে না ৷ সমসাময়িক লুতুপুতু প্রেমের উপন্যাস বা বিদেশী কাটপিস থ্রিলারের থেকে ঢের ভালো । লেখক এইভাবে লেখা চালিয়ে গেলে মন্দ হবে না, স্যাটায়ার জনরায় তিনি ভালো করতে পারবেন বলে আমার ধারণা ।
ফেসবুক লেখক হিসেবে সোহাইল রহমানের কাছ থেকে ফেসবুক মার্কা লেখা আশা করার থেকে ভালো কিছু আশা করিনি। ফেসবুক লেখকদের বই শুধু ফেসবুকাররাই পড়ুক। যুগের নষ্ট হাওয়ার সাথে নষ্ট লেখায় মানায়। যখন ফেসবুক ব্যবহার করতাম তখন এই লেখকের লেখায় পড়েছিলাম সে নাকি হুমায়ূন এর চরম ভক্ত। পরবর্তীতে ভাল কিছুর আশায় আছি। আর যদি যুগের সাথে তাল মিলিয়ে লেখক লিখতে চায় তাহলে তার লেখা শুধু তার অনুসারীরাই পড়বে।
একটা সময় ছিলো বাংলায় খুব ভালো স্যাটেয়ার হতো। সেটা বই কিংবা নিউজপেপারের সাপ্তাহিক ম্যাগাজিনে। আমরা যারা নিউজপেপারের বিভিন্ন পাতায় লিখে বড় হয়েছি তাদের লেখা ছাপানোর জন্যই এসব রম্য পাতা বিশেষ করে স্যাটেয়ারগুলো পড়তে হতো। বুঝতে হতো স্যাটেয়ারের দিকমাত্রা।
সোহাইল রহমানের প্রথম বই ‘স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর’ পড়ে আমার প্রথম দিকে বিশেষ তেমন কিছু মনে হয়নি। কারণ হিউমার সাসপেন্স বলে একটা টার্ম আছে। রুশ জোকসগুলো পড়লে তার কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়। হিউমার সাসপেন্স নামের মত করে রম্য ভিত্তিক বিভিন্ন সাসপেন্স দিতে থাকে। এগুলোরও বেশ কিছু টাইপ বা প্রকারভেদ আছে। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পাঠক বুঝতে পারছে এরকম মোক্ষমভাবে স্যাটেয়ার পয়েন্ট নির্মান করা। আমি প্রথমদিকে বইটায় বেশ সনাতন পদ্ধতির হিউমার মার্কা সাসপেন্স দেখছিলাম। হয়তোবা আমি এই পদ্ধতির সাথে বেশি পরিচিত থাকায় তেমন দারুণ কিছু মনে হচ্ছিলো না।
কিন্তু একটা সময় বুঝতে পারি, গল্পটা স্যাটেয়ারের দিকে মোড় নিচ্ছে। এবং সবচেয়ে বড় কথা কোন স্যাটেয়ারই মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে না। অর্থাৎ আমাদের আশেপাশের পরিবেশ নিয়ে নির্মান হচ্ছে গল্প। মানুষ সাধারণত এসব ধরণের উপন্যাস লেখার ক্ষেত্রে গল্পকে ঝুলিয়ে দেন। অনেক বেশি স্লো হয় গল্প। আপনি পুরো বই খেয়াল করে পড়লে বুঝবেন গল্পের গতি খুব ধীর নয়;বরং বেশ দ্রুত গতিতে গল্পের মোড়গুলো ফুটে উঠছে। তবে অবাক করা ব্যাপার হলো, এই দ্রুত গল্প এগুনোর মত চ্যালেঞ্জিং কাজে মোটেও কোথাও ছন্দপতন হয়নি। এই অংশের নিরিখে কোনভাবেই সোহাইল রহমানের শক্তিশালী গল্প বলার ক্ষমতাকে অস্বীকার করা যায় না।
মুশকিল হলো এই গল্প এগোনোর প্রবনতা বিভিন্ন জায়গায় খুব বাজে নেতিবাচক ভূমিকা যে ফেলেনি তাও কিন্তু না। সবগুলো ভেঙে বলতে গেলে সময় লাগবে। শুধু দুটো অংশ বলি। প্রথমত বেশ কিছু জায়গায় এমন সব পয়েন্ট আছে যেগুলোকে রিয়েলিস্টিক তো নয়ই; বরং কিছুটা ফ্যান্টাসি বলা যায়। বইয়ের একদম শুরুতে দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় দেখা যায় গল্পের মুল চরিত্রের চাকরি চলে গেছে কারণ তিনি তার বসের স্ত্রী’কে পরকীয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। অথচ পুরো বইতে তার মধ্যে ‘পরকীয়া’ করার কোন মানসিকতা খুঁজে পাওয়া যায় না। বরং তরুণ একজন সাধারণ সেই ছেলের খোঁজ পাওয়া যায় যিনি কিনা মাঝেমধ্যে দোয়েল পাখি হতে চায় জীবনানন্দের কবিতা পড়ে। এই যে ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টে অসঙ্গতি এটা কোনভাবেই এড়িয়ে যাওয়া যায় না।
দ্বিতীয়ত, প্রচুর গুরুচন্ডালি। ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়, এটা ফেসবুকের প্রভাব। কারণ ফেসবুকে লেখার ক্ষেত্রে আমরা অসচেতন। ব্যাপারটা সহজ। আমরা অনেকেই বুঝি না যে, লেখা আর বলা এক জিনিস না। আপনি যখন আপনার শিক্ষক থেকে ছুটি চান তখন মুখে দুই বাক্যে বলেন, একটু আর্জেন্ট দরকার। প্লিজ ছুটি দিন।‘ কিন্তু লিখিত ছুটি চাইতে গেলে কি সেটা বলেন? তখন কি কোনভাবে ‘আর্জেন্ট’ শব্দটা ব্যবহার করতে পারবেন? তখন আপনাকে মাধুর্য মিশিয়ে লিখতে হবে যেন সেটা বলার উপযোগী নয়; বরং পড়ার উপযোগী হয়। যখন আমরা গল্পে একটা ডায়ালগ লেখি তখন ক্যারেক্টারের ডিসকোর্সের উপর নির্ভর করে ডায়ালগ দেই। একজন গ্রামের চায়ের দোকানদারের মুখ দিয়ে বলাতে পারি, ‘আমি মুততে গেলাম রে’। কিন্তু আপনি এই ব্যাপারটা ডায়ালগে না বলে বর্ণনা করে লিখতে গেলে কি বলতে পারবেন, ‘চায়ের দোকানদার মুততে গেলো।‘ আমার মনে হয় না এটা শোভনীয়। বইতে অনেক জায়গায় ইংরেজি-বাংলা মিশ্রিত এরকম অনেক শব্দ ও বাক্য লেখা যেগুলো হয়তো মুখে বড়জোর বলা যায় কিন্তু বর্ননা লেখার ক্ষেত্রে গ্রহনযোগ্য না। তৃতীয়ত, মুল চরিত্রের প্রেমে পরে যাওয়ার একমাত্র কারন হিসেবে দেখি এক নজর দেখা। হোস্টেলে একটা মেয়ে দেখলো, প্রেমে পরে গেলো। বগুরায় ঘর থেকে বের হয়ে বোরকা পরা একটা মেয়ে দেখলো, ওমনি প্রেমে পরে গেলো। নায়িকা ঐশ্বর্য খানকে দেখলো, একটু একটু প্রেমে পরে গেলো। তারপর সেই প্রেমের বিশাল বর্ননা। এটা কি আদৌ গল্পের ফ্লো হিসেবে ঠিক ছিলো? আমার প্রশ্ন হচ্ছে, যদিও বা ধরে নেই গল্পের খাতিরে………(দুঃখিত দুটো দিক দেখাতে গিয়ে তিনটা দিক শুরু করে দিয়েছি।)
কিন্তু গল্পের স্যাটেয়ারকে কোনভাবেই অন্য কিছু প্রভাবিত করেনি। স্যাটেয়ারগুলো হো হো করে হাসার মত না হলেও একদমই ফুরফুরে। আমি এরকম স্যাটেয়ার বই গত কয়েকবছরে পড়িনি। সবচেয়ে দারুণ ব্যাপারটা ঘটেছে শেষে। বাংলা ভাষার প্রচলিত বইগুলোর মুল চরিত্রের শেষ পরিনতির সাথে বেশ আলাদা। এটা আমাকে প্রচন্ড মুগ্ধ করেছে। শেষে এসে ধরা দিয়েছে বাস্তবতা। এক নিরেট রিয়েলিজমের ছোঁয়া!
এতসব স্যাটেয়ার,ফ্যান্টাসি, প্রেম কিংবা বাস্তবতার ঘিরে বইটার একটা আলাদা সৌন্দর্য্য আছে। অন্তত আমার কাছে রেশ রয়ে গেছে। মাথায় এক লাইন আটকে যাবার যে মানষিক রোগ আছে সেটি হুট করে শুরু হয়েছে। মাথায় বেজে চলেছে জীবনানন্দের আট বছর আগে কবিতা একটা খন্ড লাইন। তবে সেটা বাজুক কিংবা না বাজুক, ভূমিপ্রকাশ থেকে বের হওয়া সোহাইল রহমানের প্রথম বই ‘স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর’ বইটি পড়ার মত একটি বই। এই শীতের সময়ে বাঙালীয়ানা গুনের রসবোধের উপস্থিত থাকা বইটা হাত��� নিয়ে যেই আনন্দটা আপনি পাবেন, সেটা নিশ্চিতভাবে আপনাকে আরেকটু সুখী করে তুলবে। **** ****** *****
There was a time when there was a very good satire in Bengal. That is in the weekly magazine of the book or newspaper. Those of us who grew up writing on different pages of newspapers had to read these delightful pages, especially the satires. Satire's direction had to be understood.
After reading Sohail Rahman's first book 'Harmful to Health', I didn't feel anything special at first. Because there is a term called humour suspense. Read Russian jokes gives him some idea. Humour suspense, like the name, gives a variety of suspense based on humour. There are several types of these. But the most important thing is for the reader to understand that it is possible to construct a satire point in such away. I first saw the humour brand suspense in a very traditional way in the book. Maybe I didn't feel great because I was more familiar with this method.
But one time I realized, the story is turning to Satire. And the biggest thing is that no satire is going over your head. In other words, the story is being built around our environment. People usually hang stories when writing these kinds of novels. The story is much slower. If you look at the whole book, you will understand that the pace of the story is not very slow; Surprisingly, there wasn't fall of rhythm at all in the challenging task of moving this fast story forward. In this respect, there is no denying Sohail Rahman's ability to tell powerful stories.
The problem is that the tendency to continue this story has played a very negative role in various places. It will take time to describe it all down. I will say only two parts. First of all, there are points in some places that are not realistic; Rather it can be called a bit of FANTASY. On the second page at the very beginning of the book, it is seen that the main character of the story has lost his job because he has negative proposed to his boss's wife. But in the whole book, there is no mentality of 'alienation' in him. Rather, the young man is found to be an ordinary boy who occasionally wants to be a Magpie bird by reading Jibanananda's poems. This inconsistency in character development cannot be avoided.
Second, lots of Guruchandali (mixing Sanskrit words with Colloquial language). Personally, I think it's the effect of Facebook. Because we are unaware of writing on Facebook. It's easy. We fail to understand that speaking and writing are not the same things. When you ask for leave from the teacher, say in two sentences, you need a little urgency. Please take leave. ’But did he say that when he asked for written leave? Can you use the word 'urgent' then? Then you have to write with sweetness so that it is not worth saying; Is rather readable.
When we write dialogue in the story we give the dialogue depending on the discourse of the character. I can say with the mouth of a village tea shopkeeper, ‘I went to urinate’ (using the local expression). But what can you say when you describe this matter as not in dialogue, ‘the tea shop owner went to urinate' (using the local expression). I don’t think it’s fair. In many places in the book, there are many words and sentences mixed with English-Bengali which may be said orally but are not acceptable in writing. Thirdly, I see a GLANCE as the only reason to fall in love with the main character. Saw a girl in the hostel, fell in love later. He came out of the house in Bogura and saw a girl wearing a burqa. Immediately fell in love later. The heroine called Aishwarya Khan saw, fell in love a little later. Then the huge description of that love. Was it exactly the flow of the story at all? My question is, though, or not for the sake of the story ……… (sorry, I started three aspects to show two aspects.)
But the satire of the story was in no way affected by anything else. The satires are not like laughing out loud, but they are very lively. I haven't read such a satirical book in the last few years. The coolest thing happened in the end. Quite different from the final outcome of the main character of conventional books in the Bengali language. It fascinated me. The reality has come at the end. A touch of solid realism!
There is a special beauty in the book around so many satires, fantasies, love or reality. At least I have The remnants of the story left on my brain. The mental illness of having a line stuck in the head has started in a hurry. A fragment line of Jibanananda's poem 'Eight Years Ago' is ringing in my head. But whether it sounds or not, it is like reading Sohail Rahman's first book 'Shasther Janna Khwatikar' (Harmful to Health) which published by Bhumiprakash. The joy that you will get with this book of Bengali quality humour in your hand will definitely make you a little happier this winter.
কাহিনি সংক্ষেপঃ উনিশটা ঘুমের ওষুধ হাতে নিয়ে বসে থাকা অয়ন দ্বিধাদ্বন্দে ভুগছে আত্মহত্যা করবে কি-না তা নিয়ে। হঠাৎ-ই তার মনে হয় জীবনানন্দ দাশের কবিতার লাইন 'যে জীবন ফড়িংয়ের দোয়েলের-মানুষের সাথে তার হয়নাকো দেখা.' দোয়েল পাখি হওয়ার সাধ জাগে তার। সদ্য চাকরি হারানো হতাশ যুবক অয়ন ঘর ছাড়ে। পাড়ি জমায় অজানার উদ্দেশে।
মহুয়ার পরিবারটা অদ্ভুত ধরণের। বাবা মতিলাল চ্যাটার্জি আর মা রহিমা বেগম সারাদিন মদ-গাঁজা সেবন করেন। মেজো ভাই বিজয় একজন কন্ট্রাক্ট কিলার। অন্য দুই ভাইয়ের একজন ইয়াবা ব্যবসায়ী আর অন্যজন ইন্টারনেট ফ্রড। বড় বোন দেহপসারিনী। এই অস্বাভাবিক পরিবারে মহুয়াই একমাত্র স্বাভাবিক একজন মানুষ। এই নরক ছেড়ে বহুদূরে চলে যেতে চায় সে একদিন। এতোটা দূরে, যেখানে কেউ তাকে আর খুঁজে পাবে না।
বাংলাদেশের অপরাধজগতের কাণ্ডারী বলা হয় জয়নাল খানকে। সমস্ত মন্ত্রী-এমপি তার পকেটে। হেন কোন হীন কাজ নেই, যা জয়নাল করতে পারে না। এবার তার নজর পড়েছে মহুয়ার দিকে। একটাবারের জন্য হলেও মেয়েটাকে নিজের করে পেতে চায় সে। আর সেজন্য একরকম মরিয়াই হয়ে উঠেছে সে। ডানহাত কাউসারকে নির্দেশ দিলো জয়নাল, যেখান থেকে হোক খুঁজে বের করতে হবে মহুয়াকে। মেয়েটাকে তার চাই-ই চাই।
প্যারালাল ইউনিভার্সের এক দেশ রাইযান। এই দেশের প্রধান আয়ের উৎসই হলো দুর্নীতি। দেশটার প্রেসিডেন্ট আরমান রাইযানির কনিষ্ঠ পুত্র আদিত্য রাইজানি ফিরে এসেছে তৃতীয়বারের মতো মৃত্যুর পর। অদ্ভুত শোনাচ্ছে? শোনানোরই কথা। এই রাইযান দেশের সাথে দোয়েল পাখি হতে চাওয়া অয়নেরই বা সম্পর্ক কি? ম্যানহোলের ঢাকনা খোলা থাকলেই কি, আর বন্ধ থাকলেই বা কি! অয়ন, মহুয়া আর জয়নাল খানের এই গল্প কেনই বা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ বাংলাদেশের ফেসবুক দুনিয়ার এক জনপ্রিয় নাম সোহাইল রহমান। তাঁর লেখা গল্পগুলোর প্রচুর গুণমুগ্ধ পাঠক ছড়িয়ে আছেন এই নীল-সাদার দুনিয়ায়। 'স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর' তাঁর প্রথম উপন্যাস। মূলত স্যাটায়ার ঘরানার এই উপন্যাসের শুরুটা স্বাভাবিকভাবে হলেও, যতোই এগিয়েছে ততোই আজগুবি একটা অনুভূতি হয়েছে আমার পড়তে গিয়ে।
দাঁড়ান, একটু ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করি। প্রেমিকা ছেড়ে গেছে, চাকরি হারিয়েছে, মাথার ওপরের ছাদটাও হারাতে যাচ্ছে এমন এক যুবকের ঘর ছাড়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে এই উপন্যাসের কাহিনি। এরপর এলো এমন এক সুন্দরী তরুণীর কথা, যে নিজের অস্বাভাবিক পরিবার থেকে দূরে চলে যেতে চায়। আর তারপর উপন্যাসের 'ভিলেইন' জয়নাল খানের লালসার গল্প। এই পর্যন্ত সব ঠিকই ছিলো। তারপর হঠাৎ করেই সোহাইল রহমান পাঠককে মুখোমুখি করেছেন রাইযান নামের এক অদ্ভুত দেশ ও সেই দেশের সিস্টেমের সাথে। আর 'আজগুবি' শব্দটা আমি এই কারণেই ব্যবহার করেছি, নেগেটিভ অর্থে নয়।
গল্পের গরু কোথায় থেকে কোথায় বিচরণ করে, তা সোহাইল রহমানের 'স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর' বইটা পড়ে আরো একবার বুঝতে পারলাম। বইয়ের বেশিরভাগ স্যাটায়ার বেশ ভালোভাবে ধরতে পেরেছি রাইযান বিষয়ক অংশগুলো থেকে। মাঝেমাঝেই হাসি এসেছে এই অংশটা পড়তে গিয়ে। তারপর জয়নাল খান যখন বিভিন্ন মন্ত্রীকে ফোন করে অদ্ভুত সব আবদার করছিলো, সেসব অংশও বেশ মজার লেগেছে আমার কাছে। বইটা যারা পড়েছেন ও পড়বেন, বর্তমান বাংলাদেশের নানা সিস্টেমের সাথে বইয়ের বিষয়বস্তুর অনেক কিছুই রিলেট করতে পারবেন বলে আমার ধারণা।
'স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর'-এর সমাপ্তিটাও আমার কাছে অদ্ভুত বলে মনে হয়েছে। সত্যিই, মানবচরিত্র খুব ধোঁয়াশাচ্ছন্ন একটা ব্যাপার। উপন্যাসটা নিয়ে আমার এক্সপেকটেশন বেশ হাই ছিলো এটা প্রকাশের সময় সৃষ্টি হওয়া হাইপের কারণে। সেই এক্সপেকটেশন পুরোপুরি পূরণ না হলেও মোটামুটি ভালোই লেগেছে আমার কাছে এই বইটা। আশা করছি সোহাইল রহমান লেখালেখির প্রতি আরো সিরিয়াস হবেন ভবিষ্যতে। তাঁর গল্প বলার ধরণ চমৎকার, সেকথা বলার অপেক্ষা রাখে না।
দুটো ভুল খেয়াল করেছি। কন্ট্রাক্ট কিলার-কে লেখক কন্টাক্ট কিলার লিখেছেন সব জায়গাতেই। আর ২৯ পৃষ্ঠার মতিলাল চ্যাটার্জি ৩৬ পৃষ্ঠায় হয়ে গেছেন মতিলাল ব্যানার্জি।
বেশ কিছুদিন যাবৎ অসুস্থ হয়ে আমি বিছানাগত। পড়তেও পারছিলাম না ভালোভাবে। আজ একটু সুস্থ বোধ করায় বইটা অবশেষে শেষ করতে পারলাম। সজল চৌধুরীর করা প্রচ্ছদ বেশ ভালো লেগেছে। বইটার বাঁধাই আর কাগজের মান নিয়ে আমি সন্তুষ্ট। চাইলে পড়ে ফেলতে পারেন 'স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর'।
আমার থেকেও বয়সে ছোট এক ফেসবুক লেখকের প্রথম বই - এটা মাথায় রেখেই পড়া বইটা। গত বছর আরেক রম্য কার্টুনিস্ট এর প্রথম বই পড়ে বমি করার মতো অবস্থা হয়েছিল, তাই এবার কোনও এক্সপেকটেশন ছাড়াই পড়া শুরু করি, অনেক আশা নিয়ে পড়লে হয়ত ২ স্টার দিতাম।
সোহাইল রহমানের লেখার হাত বেশ ভাল, একটানা পড়ে শেষ করার মতো বই, বানানগত ভুল ও তেমন একটা চোখে পরে নাই, যেটা এখনকার নতুন লেখকদের জাতীয় সমস্যা। পলিটিকাল হিউমার ও ভালো আর সাহসী ছিল।
খারাপ দিকের মধ্যে: বইয়ের প্রধান সমস্যা অতিরিক্ত প্লট। বইটা স্যাটায়ার, নাকি থ্রিলার, নাকি কমেডি, নাকি ফ্যান্টাসি, নাকি রোমান্টিক - এটা বই শেষ করার পরেও ঠিক বুঝতে পারলাম না। এত কিছু এনে জগাখিচুড়ী না বানিয়ে সিম্পল রাখলেও পারতেন। চরিত্ররাও হুট করে গভীর প্রেমে পড়ে, হুট করেই প্রেম চলে যায় - এগুলোও একটু খাপছাড়া লাগলো, ক্যারেক্টার ডেভলপমেন্ট আরেকটু ভালো হতে পারত। আর গল্পের ভিলেন জয়নাল ভয়ানক রকম বিরক্তিকর আর অবাস্তব একটা চরিত্র :/
যে জীবন ফড়িংয়ের দোয়েলের - মানুষের সাথে তার হয় নাকো দেখা!
অয়নের খুব ইচ্ছে হল সে একদিন দোয়েল পাখি হবে। ঘুরে বেড়াবে পৃথিবীটা। কিন্তু তা করতে হলে হাতে রাখা উনিশটা ঘুমের ওষুধ ফেলে দিতে হবে তাকে। কেননা আজ তার আত্মহত্যা করার দিন। অথচ সে ভাবছে দোয়েলের মত পৃথিবী ঘুরে বেড়ানোর কথা। কী অদ্ভুত!
একটি সাইকো পরিবারে বাস করতে কেমন লাগবে আপনার? বিশেষত যখন দেখবেন আপনার মা নিজ হাতে আপনার বাবার গ্লাসে মদ ঢেলে দিচ্ছে, বড় ভাই পিঁপড়ের মত মানুষ খুন করছে, বোনকে টাকার বিনিময়ে ভোগ করছে যে কেউ। এমনই একটা পরিবারে বাস করে মহুয়া। এই সাইকো পরিবারের একমাত্র সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষের জীবনের টানাপোড়েন ও জীবনভাবনার দুনিয়ায় আপনাকে স্বাগতম।
আপনি কি জানেন আদিত্য রাইযানির জীবন তিনটা? অর্থাৎ বারবার মরে গিয়েও সে ফিরে আসতে পারে। আচ্ছা এত গভীর ভাবনায় যেতে হবে না শুধু ভাবুন একটা দেশের আয়ের মাধ্যম 'দুর্নীতি' হলে কেমন হবে?
কখনও জয়নাল খানের মত প্রবল ক্ষমতাধর হতে ইচ্ছে হয়েছে আপনার? যার কথায় দেশের মন্ত্রীরা স্বয়ং ওঠবস করেন। কোটি কোটি টাকার একটা জীবন, মোটেই দোয়েলের ফড়িংয়ের জীবন নয়। ধন, দৌলত টাকা পয়সার জীবন।এখানে ধন-দৌলত ও সুখের সমান্তরালে প্রতিহিংসা আছে, লোভ আছে, আছে দোটানা। আচ্ছা যে যত বেশি ধনী সে কি তত বেশি সুখী? নাকি তার জীবনটা আরও বেশি জটিল?
সবকিছুর উত্তর পাবেন সোহাইল রহমানের ২০৮ পৃষ্ঠার এই বইয়ে।
পাঠ প্রতিক্রিয়া -----------------------------
বইটাকে একটা নির্দিষ্ট জনরায় ফেলা একটু কঠিন। অনেককিছু উঠে এসেছে লেখকের হাতে। কিছুটা সাসপেন্স, অনেকখানি সাইকোলজি ও সূক্ষ্ম জীবনবোধের মিশেলে স্যাটায়ারধর্মী বই 'স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর'। বইয়ের প্লটটা খুবই সিম্পল। চাকরিহারা এক যুবকের ইচ্ছে হল সে আত্মহত্যা করবে। এরপর মত পরিবর্তন করে 'যেদিকে দুচোখ যায়'- ফর্মুলা বেছে নিলো। ধীরে ধীরে প্লট শক্ত হয়েছে। সাইকোপ্যাথ পরিবার এসেছে, জয়নালের মত শক্তিশালী চরিত্র এসেছে, রাইযানের মত অদ্ভুত একটা টার্ম এসেছে - এবং সবশেষে লেখক কয়েকটা টুইস্টের মাধ্যমে গল্পের ইতি টেনেছেন। প্লট নিয়ে আমি সন্তষ্ট। বিশেষত লেখকের স্টোরিটেলিং ভালো হওয়ায় সাদামাটা প্লটও আমি গোগ্রাসে গিলেছি। প্রায় পুরোটা সময় ই গল্পের ছন্দ ঠিকঠাক ছিল। কোথাও স্লো মনে হয়নি। চরিত্রায়নের কথা বলতে গেলে শুরুতেই বলব আমার সবথেকে পছন্দের চরিত্র জয়নালের কথা। জয়নাল চরিত্রটি যথেষ্ট স্ক্রিনটাইম পেয়েছে এবং একদমই বাস্তবসম্মত লেগেছে আমার কাছে। অয়ন চরিত্রটি গল্পের মূখ্য চরিত্র হলেও অয়নের চেয়ে জয়নালকে আমি বেশি উপভোগ করেছি। অন্যান্য চরিত্রগুলো এভারেজ লেগেছে আমার কাছে। ভাষাশৈলী আমার কাছে কিছুটা দুর্বল মনে হয়েছে এই বইয়ের। বিশেষত শুরুর দিকটার কথা উল্লেখ্য। তবে কিছু সময় পরেই লেখক সেই ঘাটতিটা পূরণ করতে সক্ষম হয়েছেন দেখে ভালো লাগলো। এছাড়া স্যাটায়ারধর্মী বই হওয়াতে বেশ কিছু হাস্যরসাত্মক কথা এসেছে। যা পড়ে শুরুতে হেসেছি, পরে ভেবেছি।
আর হ্যা শেষের টুইস্ট টা ভালো লেগেছে। তবে সবথেকে বেশি যেটা ভালো লেগেছে সেটা হল 'রাইযান'। কত সাবলীল ভাবে লেখক সমাজকে একটা ধাক্কা দিয়েছেন সেটা এই অংশটা পড়লে বোঝা যায়। মনে হয়েছে যেন রবীন্দ্রনাথের 'সহজ কথা যায় না বলা সহজে' - ফর্মুলা ব্যবহার করেছেন লেখক। এছাড়া একজন সর্বোচ্চ পর্যায়ের ক্রিমিনালের মনস্তত্ত্বটা খুব বেশি উপভোগ করেছি। বাড়িতে সে সুবোধ বালক অথচ ঘরের বাইরে একদমই ভিন্ন কেউ। সব মিলিয়ে মানুষের দ্বৈতচরিতের বেশ ভালো প্রয়োগ দেখিয়েছেন লেখক এই বইতে। ভূমিপ্রকাশের পৃষ্ঠার মান, বাইন্ডিং সবকিছু ঠিকঠাক লেগেছে আমার কাছে।
বইটির মন্দ দিকের কথা বলতে হলে শুরুতেই বলব মহুয়া পরিবারের কথা। এই বইয়ের রাইযানের পরে কোনো কিছু যদি আমায় আকর্ষণ করে থাকে তা হল মহুয়া পরিবার। অথচ এদের নিয়ে শেষে তেমন কোনো আলোচনা করেননি লেখক। আর বিজয় চরিত্রটির সাথে রীতিমতো অন্যায় করা হয়েছে। তাকে মানসিকভাবে এতটা স্ট্রং দেখিয়ে তাকে পরিণতিটা ঠিকঠাক দিতে পারেননি লেখক। আর বইটা সম্ভবত আরেকটু বড় করা যেত। বিশেষত গল্পের শেষে এসে লেখক কেমন যেন তাড়াহুড়ো করেছেন বলে মনে হল। শেষের দিকটা একটু বেশি ই গতিশীল। স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রেখে ২৫০ পৃষ্ঠা অবধি এই গল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মত প্রতিভা অচিরেই সোহাইল রহমান রাখেন বলে আমি মনে করি। টুকটাক বানান ভুল চোখে পড়েছে।
সব মিলিয়ে এই বইটির সাথে আমার জার্নিটা ভালোই ছিল। লেখকের জন্য শুভকামনা।
এক নজরে, বই : স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর জনরা : স্যাটায়ার লেখক : সোহাইল রহমান প্রকাশনী : ভূমিপ্রকাশ মুদ্রিত মূল্য : ৩৫০ টাকা পৃষ্ঠা সংখ্যা : ২০৮
বই: স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। লেখক: Sohail Rahman প্রকাশনী: ভূমিপ্রকাশ, প্রচ্ছদ: সজল চৌধুরী, প্রথম প্রকাশ: ডিসেম্বর ২০২০, মলাট মূল্য : ৩৫০ টাকা মাত্র, উৎসর্গ: পিংকী এবং যারা ফেসবুকে লেখা পড়ে সোহাইল রহমান ও তার লেখাকে ভালোবাসে তাদেরকে।
কাহিনী সংক্ষেপ: এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র অয়ন৷ সে একজন ফেসবুক কবি।
অনার্সে পড়াকালীন সময়ে রাত্রির সাথে প্রেম হয় অয়নের। রাত্রি-অয়ন সম্পর্ক চলে বহুদিন।একসময় অয়নের প্রতি রাত্রির আগ্রহ কমতে থাকে। প্রায় সাড়ে তিন বছরের উপরে প্রেমের ইতি ঘটে তাদের৷ এর মধ্যে অয়নের একটা বড় ধরনের ভুলের কারণে চাকরিটাও চলে যায়। তখন সে বেশ ধার দেনার মধ্যে পড়ে যায়। বাসা ভাড়াটাও দিতে পারে না৷ জীবনের প্রতি ডিপ্রেসড হয়ে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয় সে৷ সেই সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে দ���য়েল পাখির মতো জীবন কাটানোর বাসনায় বাসা ত্যাগ করে, পৌছায় বগুড়ায়। পাখির মতো ঘুরে বেড়ায় বগুড়ার পথে প্রান্তরে। সেখানেই থাকার মতো ঠাঁই হয় তার।
অন্যদিকে দেশের শীর্ষ সন্ত্রাসী জয়নালের হাত থেকে বাঁচতে বগুড়ায় আসে মহুয়া। প্রথম দেখাতেই তার প্রেমে পড়ে যায় অয়ন৷ একটা সময় জয়নালের হাত থেকে বাঁচাতে মহুয়াকে নিয়ে পালিয়ে যায় অয়ন। পালিয়ে যাওয়ার পথে অয়ন কাকতালীয়ভাবে চলে যায় প্যারালাল ইউনিভার্সে। সেখানে নানান অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয় সে। আবার কাকতালীয়ভাবে সেখান থেকে ফিরেও আসে। এরপর নানা কাহিনী ঘটিয়ে মহুয়ার সাথে প্রনয় হয় অয়নের।
তবে ঘটনার জের ধরে একসময় জয়নালকে হটিয়ে তার ভূমিকায় অধিনস্থ হন অয়ন।
[কাহিনী এখানেই শেষ নয়। শেষটা........ ]
পাঠ্যানুভূতি: টিউশনি, স্টুডেন্টদের এসাইনমেন্ট কমপ্লিট করা, টানা চারঘন্টা অনলাইন ক্লাস, কোডিং প্যারার মাঝে বইটা পড়ে মনে তৃপ্তি পেলাম। কোনো অধ্যায়ে পড়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলি নি। প্রতিটি অধ্যায় পড়ার পর কি হতে চলছে সেই আগ্রহ বেড়েই চলেছিলো। গল্পের ফাঁকে ফাঁকে রম্যগুলো বেশ ভালো লেগেছে। একজন মানুষের দোয়েল পাখি হয়ে এখানে ওখানে ঘুরে বেড়ানোর বিষয়টা বেশ ইন্টারেস্টিং। প্যারালাল ইউনিভার্সের ঘটনাগুলো অসাধারণ লেগেছে। তবে শেষটা..... (থাক এই নিয়ে কথা না বলি)।
রেটিং: রেটিং দেওয়ার মতো যোগ্যতা আর অভিজ্ঞতা একটাও নেই আমার৷ তবুও ফর্মালিটি বজায়ের জন্য একান্ত ব্যক্তিগত রেটিং 4.5 out of 5.
This entire review has been hidden because of spoilers.
এত এত গল্পের ভীড়ে অয়ন-মহুয়া-জয়নালের এই গল্পটা কি মানুষ মনে রাখবে ? হয়তো রাখবে, হয়তো রাখবে না। কে জানে ! তবে আমি মনে রাখব।
অয়ন, মহুয়া আর জয়নাল খানের এই গল্প কেনই বা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?
ফেসবুক লেখক এবং প্রথম বই হিসেবে লেখক সোহাইল রহমান বেশ ভালো লিখেছেন। সহজ-সরল ও সংক্ষিপ্ত কলোবরে গল্পের সমাপ্তি টেনেছেন। আমার কাছে স্বার্থক গল্প মনে হয়েছে। নতুন ও ফেসবুক লেখক হিসেবে সোহাইল রহমানের কাছ থেকে যতটুকু আশা করেছিলাম তার থেকে ভালো কিছু পেয়েছি।
গল্পটা মহুয়ার যার পরিবারের কালচার হল অপরাধের চর্চা করা, পৃথিবীর সকল খারাপ কাজই ওদের কাছে পূণ্যের। মহুয়ারা তিন ভাই দুই বোন, মহুয়া সবার ছোট, অসম্ভব রূপবতী, শান্তশিষ্ট, নম্র-ভদ্র, আর বাকি ভাইবোনরা একেকজন একেক অপরাধ রাজ্যের রাজা-রানী। মহুয়ার পরিবারে সকাল শুরু হয় মদ দিয়ে, অশ্লীল ও খারাপ ভিডিও সবাই একসাথে উপভোগ করে। এই অপরাধের নরক রাজ্যে থেকে মহুয়া বের হয়ে যেতে চায়, তার রুদ্ধশ্বাসে দম বন্ধ হয়ে আসে।
গল্পটা অয়নের যে মানুষ থেকে দোয়েল পাখি হয়ে যেতে চায়, কারণ দোয়েল পাখির কোনো কষ্ট নেই, খিদে নেই, হারানোর কিছু নেই, থাকার জায়গা লাগে না। আত্নহত্যা না করে একরাশ হতাশা নিয়ে বেরিয়ে পড়ে দোয়েল পাখি হওয়ার প্রয়াসে কিন্তু ইচ্ছে করলেই কি আর দোয়েল পাখি হওয়া যায়।
গল্পটা বাংলাদেশের ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী জয়লানের যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফোন দিয়ে বলে তার ছেলের জন্য খেলনা পিস্তল পাঠাতে,স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ফোন দিয়ে বলে ঘুমের ঔষধ পাঠাতে, সংস্কৃতিমন্ত্রীকে ফোন দিয়ে বলে গান-কবিতা শোনাতে। দেশের এমপি-মন্ত্রী জয়নালের কথায় ওঠা বসা করে। সে দেশের ত্রাস, তার সর্বক্ষেত্রে একচ্ছত্র আধিপত্য।
গল্পটা প্যারালাল ইউনিভার্সের, যেখানে দূর্নীতি,ঘুস দেশের আয়ের প্রধান উৎস, প্রত্যেক মানুষের তিনটি করে জীবন, গাছের পাতা চারকোণাকৃতি। আর ধানমন্ডির শুক্রাবাদ গলির ম্যানহোলের সাথেই বা প্যারালাল ইউনিভার্সের সম্পর্ক টা কি ?
গল্প-সিনেমা-উপন্যাসের শেষে সব ঠিক হয়ে যায়। বাস্তব দুনিয়ায় কি আদৌ সব কিছু ঠিক হয় কখনো ?
যে জীবন ফড়িংয়ের দোয়েলের-মানুষের সাথে তার হয় নাকো দেখা।
সোহাইল রহমানের প্রথম লেখা পড়ছিলাম রূম্পার নামের একটা মেয়ের বয়ফ্রেন্ডদের কাহিনী নিয়ে। লোকটার হিউমার সেন্স আমার ভাল লেগেছিল, আমি মোটামোটি কাঠখোট্টা টাইপ মানুষ। এর পর এইবারের বইমেলায় তার বের হওয়া গ্রিন কফি বই থেকে একজন দাবাড়ু গল্পটা শেয়ার দেয়। এই গল্পটাও আগে ফেসবুকে পড়ে ফেলেছিলাম। সো ভাবলাম লোকটার সবগুলা লেখা পড়ে ফেলি। তাই এইবারের বইমেলা থেকে তার ২ টা বইই কিনে নিয়ে আসলাম।
বইটার লেখার ধরন আমার ভাল লেগেছে, খুব সিম্পলি শুরু হয়ে ব্ল্যাক কমেডি ক্রাইম জনরাটাইপ একটা জিগাখিচুড়ি লিখে ফেলেছে। কিন্তু এই জগাখিচুড়িটা আমার হজম হয়েছে। তার লেখার কিছুটা নিজের একটা ঢং আছে, গল্পে কি বলতে চায় এই জিনিসটা তার মাথার মধ্যে যে খুব পরিষ্কার এইটা বুঝা যায়।
শেষের দিকে প্যারালাল ইউনিভার্স টাইপ কিছু না এনে ডার্ক ব্যাপারটা এক্সপ্লোর করলে আমার কাছে আরো ভাল লাগতো, এইটা অবশ্যই লেখকের স্বাধীনতা যদিও।
ফেসবুকের লেখকরা কাগুজে লেখক হতে পারেন কিনা আদৌ, সেটা নিয়ে আমারও খুব ভাবনা ছিলো৷ কিন্তু যারা সোহাইল রহমানের লেখালিখির সাথে পরিচিত তারা জানেন যে সোহাইল কত সাবলীল কথাকেও অসাধারণ বানাতে পারেন শুধু তার বর্ণনাভঙ্গি দ্বারা৷ চমৎকার গল্প বলার ভঙ্গি এই উপন্যাসের মূল ভিত্তি, সাথে গল্প নির্বাচন, চরিত্র বিন্যাস এবং তার সেই বহুল বিখ্যাত সার্কাস্টিক ওয়েতে তিনি বিভিন্ন অসামঞ্জস্যতাকে এতো নিপুণভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন যে মুগ্ধ না হয়ে পারা যায়না।
তবে এই নই নিয়ে সমালোচনা করার হাজারটা জায়গা আছে। সবচে বড় কারণ হচ্ছে এটার জনরা। বইটা শেষ করার পর আমি তিনদিন ধরে ভেবেছি যে এটার জনরা কী! এটার রিভিউ লিখলে শুরুটা করবো কী করে! এই উপন্যাসের মূল উদ্দেশ্য কী! তবে যারা সোহাইল রহমানের লেখার সাথে পূর্ব পরিচিত তারা এটাকে কেবল সার্কাজম/ স্যাটায়ার হিসেবে নিলে, কখনো কখনো থ্রিলড একটা অনুভূতি, কখনো লাভ/ট্রাজেডি সবমিলিয়ে খানিকটা বিভ্রমে পড়তে হয়। তয় সর্বোপরি আমি পড়তে গিয়ে আরাম পেয়েছি, একবসায় শেষ করার মত বই, প্রায় নির্ভুল বানান, আর দুর্দান্ত হিউমারের জন্য এই বইটা আমি খুব আনন্দের সাথেই শেষ করেছি।
যারা বইটি পড়বো পড়বো করছেন তাদের জন্য রিকমেন্ড করছি দ্রুতই পড়ে ফেলুন।
এই বই খুব বেশি এক্সপেকটেশন নিয়ে না পড়লে ভালো লাগবে। হালকা ধরনের বই এবং লেখক নিজেও এটাকে হালকা ভাবেই উপস্থিত করেছেন। চরিত্র গুলো সব কাল্পনিক এবং এদের সাথে পৃথিবীর কোন মানুষের কোন মিলে নেই তা বলে দিতে হবে না। আমি বইটিকে "ফ্যান্টাসি" ধারায় ফেলবো, থ্রীলার না।
খুব ভালো লেগেছে এ লাইনটা ,"যতক্ষন শেষটা হ্যাপি না হয়, ততক্ষন সেটা আসলে শেষও নয়।" খুবই আশাবাদী এবং শক্ত লেখনী।
তবে তাড়াহুড়ো করে যে শেষ করা হয়েছে শেষের দিকে তা চোখে লেগছে, মনেও কষ্ট দিয়েছে। বই তো জন্ম দিতে হয় একটু যত্ন, নিয়ে আদর দিয়ে!
আশা করি আরো হালকা এবং ভারী বই বর্ষন হবে লেখকের পক্ষ থেকে আগামীতে।
সচরাচর বই পড়ার অভ্যাস না থাকলে আর বেশি এক্সপেকটেশন না থাকলে সময় কাটানোর মত হালকার মধ্যে ভালোই একটা বই। অবশ্য আমার এই রিভিউ অনেকটা বায়াসড কারণ ওনার ফেসবুকে লেখা শুরুর সময় থেকেই ওনার পাঠক আমি একজন। তবে ওনার এই বইটাকে একটা বড় ফেসবুক পোস্ট বললেও বোধকরি ভুল হবে না।
স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর! লেখক বইয়ের অসাধারণ একটা নাম দিয়েছেন বটে। যেমন নাম ঠিক তেমনই লেখার বাহার। স্যাটায়ার জনরার ইজ্জতের ফালুদা বানিয়ে ছেড়েছে একেবারে।
একের পর এক ফেসবুকের স্ট্যাটাসে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা ভরে ছাপাখানায় ছাপতে দিলেই বুঝি 'স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর' নামে একখান বই পাওয়া যায়।