Purnendu Patri (sometimes Anglicised as Purnendu Pattrea) was an Indian poet, writer, editor, artist, illustrator, and film director. He was best known for his poems and stories, particularly for his poetry collection Kathopokathan in Bengali, and for his experimentation with book cover design. He also was a researcher of the history of Kolkata.
যেই বইগুলো দেখলে আমি খুবই বিরক্ত হইঃ চারকোণায় এক বিঘত মার্জিন দিয়ে মাঝখানে স্মার্টফোনের স্ক্রিনের মত চিড়েচ্যাপ্টা রেক্টেংগুলার শেপে ছাপানো লেখা 😑😕 এরা একটু চালাক, লেফট এলাইনমেন্টে ছাপিয়েছে তাই ঐ রেক্টেংগুলার শেপটা আসছে না। আমি তো বুঝি না বাপু বাংলা বই মাত্রই হার্ডকভার কেন হতে হবে!!? কম পৃষ্ঠার বই মাস মার্কেট পেপারব্যাক ফরম্যাটে ছাপালে জাত যায় নাকি! 😕 প্রতিবছর বইমেলায় এরকম কতগুলো ছিঁচকাঁদুনে বাংলা হার্ডকভার বই চোখে পড়ে!
ছোটবেলায় সেবা প্রকাশনীর ৩০-৪০ টাকার পেপারব্যাকঃ কিশোর থ্রিলার-হরর আর গোয়েন্দা সিরিজ এইসব জনরার বাইরে আমি বোধহয় আর হাতেগোণা দুয়েকটা বাংলা পেপারব্যাক দেখেছি। কয়েকদিন আগে ফেবার এন্ড ফেবারের কুন্দেরার একটা উপন্যাসের পেপারব্যাক পড়তে গিয়ে দেখি স্ট্যান্ডার্ড সাইজের থেকে তুলনামূলক ছোট ফন্টে বইটা ছাপানো এবং প্রায় ২৫০ পৃষ্ঠার মধ্যে বইটা শেষ। আমার মনে হচ্ছিল একটু বড় ফন্টে ছাপালে পড়তে আরেকটু কমফোর্টেবল হত! কুন্দেরার ঐ বইটাই অন্য প্রকাশনী থেকে ৪০০+ পৃষ্ঠার একটা ভার্সন আছে!
যাই হোক, এই বইটা পেপারব্যাকও না - এটা আসলে কাগজে মোড়া একটা বুকলেট হওয়ার কথা ছিল। ঠিকঠাক মার্জিন দিয়ে ছাপালে ২২-২৫ পৃষ্ঠার মধ্যেই শেষ হত 😑 এখন পিকাসোর ব্র্যান্ড ভ্যালুর জন্য আর পূর্ণেন্দুর নামের জন্য প্রকাশকের যদি দু-পয়সা বেশি রাখতে হয়, তা রাখ না বাপু তোমার ইচ্ছা। যার কেনার সে এমনিই কিনে পড়বে। এইসব ১০০ ইঞ্চি মার্জিন দিয়ে পৃষ্ঠা বাড়িয়ে হার্ডকভার করার ওঁচা আদিখ্যেতা আমি বুঝি না বাপু। 😕 আর পেপারব্যাক যদি করো - আমার তো মনে হয় আরও দুটো লোক বেশি কিনে বইটা পড়তে পারে!!
এখন বইয়ের কন্টেন্টে যদি আসি এটা আসলে পূর্ণেন্দু পত্রী পিকাসোর গের্নিকা চিত্রকর্মের উপর আর্নহাইম আর ওপলারের লেখা দুটো বই পড়ে কোথাও কখনও সংক্ষিপ্ত একটা প্রবন্ধ ছেপেছিলেন (পূর্ণেন্দুর গুডরিডস একাউন্ট থাকলে ঐ বই দুটোর রিভিউতে পূর্ণেন্দু যতটুকু লিখতেন সেরকমই)। আর এখানে আমি পূর্ণেন্দুর নিজের কোন স্কলারলি কন্ট্রিবিউশন দেখি না। ঐ বইদুটোর বিভিন্ন অংশ অনুবাদ করে জোড়া দিয়ে আদতে এই ছোট্ট প্রবন্ধ বা রিভিউ খানা লেখা।
বেশ শখ করে অনলাইনে অর্ডার দিয়ে হাতে পাওয়ার পর থেকে আমার একটুও বইটা পড়তে ইচ্ছা করছিল না। একটু অল্প সময়ের জন্য কাজে বের হয়েছিলাম। অন্য একটা হার্ডকভার বই পড়ছি, ওটা নিয়ে তো আর বাইরে বের হওয়া যায় না। তাই আসা যাওয়ার সময়ের মধ্যেই হালকা কিছু একটা পড়তে হাতে নিয়ে বের হয়েছিলাম। পড়ার পরে বাইরের ভ্যাপানো গরমের মতই বিরক্ত লাগছে এখনও 😕
দুনিয়ায় এমন বহু ছবি আছে যা যুগে-যুগে মানুষকে প্রভাবিত করেছে। মোনালিসা থেকে দ্য লাস্ট সাপার, দ্য স্ক্রিম থেকে দ্য নাইটমেয়ার— এই ছবিগুলো ক্যানভাসের বাঁধন ছিঁড়ে আমাদের মন ও মননের অঙ্গ হয়ে উঠেছে নিজের অজান্তেই। মানুষের অধিকার ও শিল্পীর স্বাধীনতায় আস্থা রাখেন এমন মানুষদের কাছেও পিকাসো'র গের্নিকা কিছুটা তেমনই। তাঁরা ওই ছবিটি দেখে মুগ্ধ হন, ছবির ইতিহাস ও অনুষঙ্গ থেকে প্রাণিত হন, পরবর্তী প্রজন্মের আকাশে দীপ জ্বেলে দেওয়ার মতো করে বোঝানোর চেষ্টা করেন ছবিটির তাৎপর্য। গের্নিকা-র সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছিল সেভাবেই। পাঠচক্রে নানা কথার ফাঁকে সামনে দেখা দিয়েছিল সেই আইকনিক ছবির একটি প্রতিরূপ। তারও অনেক পরে অধুনালুপ্ত আকাদেমি পত্রিকায় পূর্ণেন্দু পত্রী'র লেখায় ছবিটির সম্পূর্ণ ইতিহাস জেনেছিলাম। তারপর পত্রিকার সেই কপিটা গেছিল 'শিশি-বোতল-কাগজ বিক্রি'-র চক্করে। আমার মন থেকেও আবছা হয়ে এসেছিল লেখাটা। সপ্তর্ষি প্রকাশনের সৌজন্যে সেই লেখা ফিরে এল আমাদের কাছে— আর্টল্পেটে ছবির একগুচ্ছ স্কেচ-সহযোগে, সুশোভন পরিবেশনে। বইয়ের হৃৎপিণ্ড যে লেখাটি, সেটি নাতিদীর্ঘ অথচ পূর্ণেন্দু'র যেকোনো লেখার মতোই সুস্বাদু ও মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি। লেখাটি না পড়লে ইতিহাস ও শিল্পবোধের এক অমূল্য অধ্যায় আপনার অধরা থেকে যাবে— এটুকুই বলি। আর এই বিশেষ সংস্করণটিকে আরও বেশি মূল্যবান করে তুলেছে এর প্রচ্ছদ। এটি র্যাপ-অ্যারাউন্ড, অর্থাৎ বই থেকে প্রচ্ছদটিকে খুলে আপনি গের্নিকা পেইন্টিঙের একটি প্রতিরূপ এবং পূর্ণেন্দু পত্রী'র সই-সহ সেটিকে ফ্রেম করতে পারবেন! এমন অভিনব প্রচ্ছদ তথা নান্দনিক ভাবনা আমরা বইপাড়ায় খুব কমই দেখি। সপ্তর্ষি প্রকাশন বিশেষভাবে ধন্যবাদার্হ হলেন এই বইটির জন্য। অবশ্যই পড়ুন ও কাছে রাখুন— বইটি নিয়ে এ-কথাই বলব।