রোহিঙ্গাদের কারণেই বাঙালি বার্মা অথবা মায়ানমারের নাম শুনেছে, তা তো আর না। বার্মা আজীবনই বাংলাদেশের লাগোয়া দেশ ছিল, আছে আর থাকবে। শরৎ বাবু তার পথের দাবী আর শ্রীকান্ত উপন্যাসে রেঙ্গুন শহর আর বার্মার সম্পদের যে বর্ণনা দিয়ে গেছেন তা বাঙালি পাঠক অনেক আগেই পড়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জেনারেল স্লিমের বার্মা ক্যাম্পেইনের গল্প পড়তে গিয়েও আমরা বার্মার ব্যাপারে অনেক জেনেছি। বার্মাটিক কিংবা বার্মার সেগুন কাঠের আসবাবপত্র আর দরজা আমাদের খুব প্রিয়, বার্মিজ আচার আমরা খুব মজা করে খাই, বার্মিজ স্যান্ডেল পায়ে দেই, আর বার্মার ইয়াবার বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষনা করি।
কিন্তু বার্মার সম্পর্কে আসলেই কি আমরা যথেষ্ট জানি? প্রতিবেশী এই রাষ্ট্রটির ইতিহাস, বার্মা থেকে মায়ানমার কিংবা রেঙ্গুন থেকে ইয়াঙ্গুন, বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অথবা বৈরিতা, বার্মিজ ইনসারজেন্সি, সামরিক শাসন আর বুদ্ধিস্ট এক্সট্রিমিজম সম্পর্কে আমরা আসলেই কতটা ওয়াকিবহাল?
🅓Born as an army brat and joined Bangladesh Army to become a Gunner Officer. 🅓Dived into the Bay of Bengal as a FROGMAN and played with IEDs as Bomb Disposal Expert. 🅓Patrolled the Chittagong Hill Tracts to evict the insurgents and traversed African savanna to witness the birth of South Sudan. 🅓An Army Staff College Graduate. 🅓A writer since childhood and a book author since 2015. 🅓Authored books on Military History, Historical Fiction, War Studies and translations. 🅓A few of the books became bestsellers and received an Army Medal as a contributing military writer. 🅓Writes regularly for various journals and a social media savvy.
বাংলাদেশে যখন প্রবল বেগে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অনুপ্রবেশ শুরু হলো, এবং এর কিছুদিন পরেই তাদের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের সফট কর্নার কমে গেল, তখন থেকেই রোহিঙ্গাদের নিয়ে বিস্তারিত জানতে চাইছিলাম। খুঁজে টুজে বই কিনেওছিলাম। বইয়ে হয়তো ভালো তথ্যও ছিল, কিন্তু মনে না ধরা উপস্থাপনার কারণে সেসব পড়তে আগ্রহ হারিয়ে ফেলি। ইদানিং কষ্ট করে পড়তে পারছি না, আগে পারতাম।
কিছুদিন পর দেখলাম ডেল এইচ খান (দেলওয়ার হোসেন খান) রোহিঙ্গাদের নিয়ে বই লিখছেন। আমাদের Roar বাংলায় তার প্রাথমিক কিছু পর্ব প্রকাশিতও হয়েছে। তখন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম প্রকাশ হলে এটা পড়ব। কারণ এই লেখকের লেখা সহজে পড়া যায়। কষ্ট করতে হয় না। এর আগে লেখকের 'আধুনিক দৃষ্টিকোণে সানজুর দ্য আর্ট অব ওয়ার' আর 'বাংলাদেশের বীরগাথা' পড়েছিলাম। বেশ সুন্দর লিখেন।
এ বইটাও সুন্দর লিখেছেন, আরামে পড়া যায়। যদিও বইটা আরো বিস্তৃত ও বিস্তারিত হতে পারতো, সুযোগ ছিল, বিষয়বস্তুর নিজস্ব বিস্তৃতির দাবিও ছিল, তবে তারপরেও এটা পড়তে পারলে পাঠক হিসেবে, নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব পূরণ হয়। বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে বিস্তারিত জানা পাঠক হিসেবে কিংবা সচেতন নাগরিক হিসেবে দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
ফেসবুকে বিভিন্ন পণ্ডিতের পোস্টে যেমন দেখতাম, রোহিঙ্গাদের আগমনের শুরুর দিকে যেমন প্রাণখোলা ইতিবাচকতা ছিল তাও অতিরঞ্জিত, আবার বর্তমানে যে নেতিবাচকতা চলছে তাও অতিরঞ্জিত। রোহিঙ্গাদের নিয়ে প্রত্যেকটা খবর মাধ্যমের ফেসবুক পোস্টের কমেন্টে এসব ইতি-নেতিবাচক অতিরঞ্জিত তথ্য ও মতামত পাওয়া যায়। এগুলোর কোনোটিকেই গ্রহণ করবেন না। ডেল এইচ খানের 'রোহিঙ্গা রঙ্গ' বইতে যতটুকো আছে ততটুকো জানলেই অনেক কিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে।
রোহিঙ্গারা ঠিক কীভাবে বাংলাদেশের সাথে সম্পৃক্ত, বার্মিজরা কেনই বা নিজের দেশের এই মানুষগুলোর প্রতি ক্ষিপ্ত, রোহিঙ্গারা ঠিক কী করেছিল যার কারণে এমন গণহত্যা চালালো, কেন বাংলাদেশে (বিশেষ করে বৃহত্তর চট্টগ্রামে) তারা এসে উঠলো, অন্য দেশ অন্য এলাকায় কেন নয় এসব অনেক প্রশ্নের উত্তর খোলাসা হবে এই বইয়ে। চীন-ভারত কেন কোন যুক্তিতে মিয়ানমারকে সমর্থন দিচ্ছে, সু চি কেন সব সামলে উঠতে পারছে না, জাতিসংঘ কীভাবে এখানে চাইলেও কাজে লাগতে পারছে না, তাদের কেন ভাসানচরে নিলেও সমস্যা না নিলেও সমস্যা ইত্যাদি অনেক জটিল বিষয়ের বিশেষজ্ঞ মতামত আছে, যা ফেসবুকে আন্দোলনরত প্রতিবাদী জনতার ঢালাও মতামত পড়ে পরিষ্কার হওয়া যাবে না।
[[এই বই পড়তে গিয়ে বৃহত্তর চট্টগ্রাম নিয়ে আলাদা করে ঘাটাঘাটি করেছিলাম সামান্য। অল্প-স্বল্প ঘেঁটে মনে হলো আজকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক আর চট্টগ্রাম বন্দরের কারণে চট্টগ্রাম যেমন বাংলার সাথে অঙ্গা-অঙ্গী জড়িত, ঐতিহাসিকভাবে এটি তেমন জড়িত ছিল না। বলা যায় চট্টগ্রাম ও তার আশেপাশের অঞ্চল ছিল বাংলা বিচ্ছিন্ন, আরাকানের সাথে ছিল এর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। একটা সময় পর্যন্ত আরাকানিরাই শাসন করতো চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম এলাকা চূড়ান্তভাবে বাংলার দখলে আসে শায়েস্তা খাঁ'র আমলে, যার আমলে টাকায় মনকে মন চাল পাওয়া যেত। তিনিই বিশাল সৈন্যদল নিয়ে ফিরিঙ্গিদের তাড়িয়ে চট্টগ্রামকে মুক্ত করেন।]]