চার অভিন্নহৃদয় বন্ধুর জীবনের কিছু অসমাপ্ত অধ্যায়ের কাহিনী।এগিয়ে যাওয়ার কাহিনী,থমকে যাওয়ার কাহিনী,চির-বিচ্ছেদের কাহিনী,আবার সময়ের কালগর্ভে হারিয়ে গিয়ে ধূসর বর্ণ ধারণ করে,চির-অসমাপ্ত রয়ে যাওয়ার কাহিনী "অসমাপ্ত'।পাঠকের মনোগ্রাহী হলে সমস্ত চিন্তাধারা ও পরিশ্রম সার্থক।
🍂📖বইয়ের নাম - অসমাপ্ত📖🍂 ✍️লেখিকা - সাথী দাস 🖨️প্রকাশক - পালক পাবলিশার্স 📖পৃষ্ঠা সংখ্যা - ১০৭২ 💰মূল্য - ৮৮৮
🍁🍂দীর্ঘ উপন্যাস 'অসমাপ্ত'- অসমাপ্ত হচ্ছে চারজন অভিন্ন হৃদয় বন্ধুর ছেলেবেলা থেকে একসাথে বেড়ে ওঠার গল্প ,সেই চার জন সৌরদীপ, সমুদ্র, রূপায়ন ও ঋষভ! এই উপন্যাসের মূল বিষয় হচ্ছে "বিরহ"! উপন্যাসের প্রতিটি পৃষ্ঠায় আছে বাস্তবের ছোঁয়া ফুঁটে উঠেছে,আছে - প্রেম , ভালোবাসা , বিরহ , ত্যাগ। গত এক সপ্তাহ ধরে এই উপন্যাস টি পড়ে চলেছি, ভীষণ সুন্দর একটা উপন্যাস, কিন্তু যতোই পড়ছি ভীষণ কষ্ট হচ্ছে উপন্যাস এর চরিত্র গুলোর জন্য, আগেও আমি অনেক এমন ধরনের উপন্যাস পড়েছি, তবে এটা পড়ে সবথেকে বেশী কষ্ট পেলাম, উপন্যাস পড়াকালীন আমি ভীষন কেঁদেছি। শেষের ৭২ পেজ পড়তে পড়তে কতো বার যে ব্রেক নিতে হয়েছে সে আর বলার নয়, নীজের চোখের জলকে নিয়ন্ত্রন করতে পারিনি, উপন্যাসের কিছু কিছু জায়গায় এত সুন্দর ভাবে মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করা হয়েছে আমার পড়তে দারুন লেগেছে। লেখিকার লেখা আগে কখনো পড়া হয়নি এই দীর্ঘ উপন্যাস দিয়েই শুরু করলাম পড়া,এত সুন্দর একটি উপন্যাস উপহার দেয়ার জন্য লেখিকাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।🍂🍁
এই উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র সৌর ও তিলোত্তমা।সৌর তিলোত্তমার প্রেমিক হতে পেরেছিল , কিন্তু ভালোবাসতে পারেনি , তাই সে বার বার তিলোত্তমার উপরে অধিকার ফলাতে গিয়ে সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যেতে বসেছিল। অন্যদিকে সৌর বন্ধু সমুদ্র তিলোত্তমাকে ভালোবেসেছিল কিন্তু কখনও তাঁর প্রেমিক হতে চায়নি। এর আগেও চরম আঘাত পেয়েছিল প্রেমে পেয়েছিল বলেই সে নিজে মরে গিয়েও ভালোবাসাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল !! এইরকম বিভিন্ন ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে চলে উপন্যাস এগিয়ে চলে উপন্যাসের চরিত্ররা। উপন্যাসের চরিত্র রূপ তাঁর যমজ শালী তমিস্রার মধ্যে খোঁজে নিজের মৃত স্ত্রী নিশাকে। অন্যদিকে ঋষি পায়না তাঁর ভালোবাসা নীহারিকাকে । সবদিক থেকে দেখলে মনে হবে উপন্যাসের সবগুলো চরিত্রই অসমাপ্ত । অসমাপ্ত হচ্ছে আমাদের সমাজের পুরুষ মানুষের লুকিয়ে চোখের জল ফেলার গল্প। আসলে বিরহ আছে বলেই তো প্রেম এতো মধুর! সমুদ্রের মতোই এই উপন্যাস কখনো কখনো মনের মধ্যে আছড়ে পড়ে ঢেউয়ের মতো আবার কখনো একদম স্থির শান্ত, কোথাও দিগন্ত বিলীন হয়ে যায় নীলচে কালো ঘনীভূত মেঘে, আবার কোথাও সকালের প্রথম সূর্যের মতো লালচে হলুদ আলোয় দিগন্ত উদ্ভাসিত।জীবনের পরীক্ষায় এদের বন্ধুত্ব কি উত্তীর্ণ হবে? ভালোবাসা আর বন্ধুত্বের মধ্যে যে কোনও একটাকে বেছে নিতে বললে, কাকে বেছে নেবে ওরা?ভালোবাসার জন্য একজন কতদূর পর্যন্ত যেতে পারে? স্বপ্ন দেখা আর সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তরিত করার মধ্যে পার্থক্য ঠিক কতটা? জানতে হলে অবশ্যই উপন্যাস টি পড়তে হবে!!
★★ পাঠ অনূভুতি ★★ -------------------------- ✪ ☞ উপন্যাস : অসমাপ্ত ✪ ☞ লেখিকা : সম্মাননীয়া লেখিকা সাথী দাস মহাশয়া ✪ ☞ প্রকাশক : পালক পাবলিশার্স ✪ ☞ মূল্য : ৮৮৮/- (প্রথম প্রকাশ - আগস্ট , 2021 খ্রীষ্টাব্দ) ____________________________________ ★★★ "অসমাপ্ত" - এটি বাংলা সাহিত্যের পাঠকদের কাছে একটি বহুল পরিচিত উপন্যাসের নাম।
★ উপন্যাসটির লেখিকা মাননীয়া সাথী দাস মহাশয়া।
★ আমার জানা নেই যে আগামী ১০ বছর পরে সাধারণ মানুষ আর বই পড়বেন কিনা , কিন্তু যদি পড়েন আমি হলফ করে বলতে পারি এই উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যের একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে আগামী দিনগুলোর জন্য।
★ "অসমাপ্ত" হচ্ছে চারজন অভিন্ন হৃদয় বন্ধুর ছোটবেলা থেকে একসাথে বেড়ে ওঠার গল্প।
➤ "অসমাপ্ত" সেই চারজন বন্ধুর জীবনের চাওয়া , পাওয়া , সফলতা , অসফলতার গল্প। ➤ "অসমাপ্ত" হচ্ছে আমাদের সমাজের সকল অভিন্ন হৃদয় বন্ধুদের হেরে যাবার গল্প। ➤ "অসমাপ্ত" হচ্ছে আমাদের সমাজের পুরুষ মানুষের লুকিয়ে চোখের জল ফেলার গল্প। ➤ "অসমাপ্ত" হচ্ছে আমাদের সমাজের সেইসব নারীদের গল্প যাঁদের দুচোখে স্বপ্ন থাকে কিন্তু বেশীরভাগ নারীদের সেইসব স্বপ্নের অপূর্ণতার গল্প। ➤ "অসমাপ্ত" হচ্ছে পুরুষ ও নারীর বুকের ভিতরে হাহাকার ও মুখে স্মিত হাসি বজায় রাখার গল্প।
★ "অসমাপ্ত" এমন একটি উপন্যাস যেটি আমাদের চোখের সামনে বাস্তবকে তুলে ধরে। "অসমাপ্ত" অর্থাৎ "নয় সমাপ্ত যাহা" (নঞ তৎপুরুষ সমাস)। সত্যিই তো এই মহাবিশ্বের কোন প্রাণীর বা মানুষের সকল কামনা পূরণ হয়েছে ? সব মানুষ বা প্রাণী কোন না কোন ক্ষেত্রে অসম্পুর্ণ থেকেই যায় , অর্থাৎ তাঁর জীবনের একটি অংশ অসমাপ্তই থেকে গেল।
★ অসমাপ্তও ঠিক সেইরকমই একটি উপন্যাস। উপন্যাসের প্রতিটি পৃষ্ঠায় আছে বাস্তবের ছোঁয়া। আছে - প্রেম , ভালোবাসা , বিরহ , ত্যাগ , সত্যি ব'লতে কি নেই এটাই প্রশ্ন ?
★ উপন্যাসের মূখ্য চরিত্র অনেকগুলো কিন্তু তাঁদের মধ্যে মূখ্য কেন্দ্রীয় চরিত্র "সমুদ্র বসু" এবং "তিলোত্তমা সান্যাল"। উপন্যাসের গল্প বলতে গেলে আমার সারাদিন কেটে যাবে তবুও বোধহয় শেষ হবেনা !
➤ কারণ ? ? ?
➤ কারণ উপন্যাসটিই যে নিজের নামকরণ করেছে "অসমাপ্ত" ! এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য বিষয় হচ্ছে "বিরহ"। আসলে বিরহ আছে বলেই তো প্রেম এতো মধুর ! এই বিরহ আছে বলেই প্রেম থেকে একসময় গুটিপোকার গুটি কেটে যেমন জন্ম নেয় সুদৃশ্য রংবাহারী প্রজাপতি , ঠিক সেরকমই জন্ম নেয় ভালোবাসা !
➤ আসলে "প্রেম" আর "ভালোবাসা" এই দুটো শব্দের মধ্যে খুব সুক্ষ্ম একটু পার্থক্য আছে !
➤ আবার এই শব্দ দুটিই কোন অদৃশ্য সুতোর বন্ধনে আবদ্ধ । কোন একদিকে একটু বেশী টান পড়লেই যে সুতো ছিঁড়ে যেতে পারে !
➤ "প্রেম" শুরু হয় "ভালোলাগা" দিয়ে আর শেষ হয় "ভালোবাসা" দিয়ে।
➤ যে মূহুর্তে প্রেম ভালোবাসায় পরিনত হয়ে গেল , ঠিক সেই মূহুর্তে প্রেমের অধিকারবোধ পরিবর্তিত হয়ে যায় "পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস বোধে" তাইনা ?
➤ আপনি কোন ব্যক্তিকে ঠিক তখনই ভালোবাসতে পারবেন যখন দুজনেরই মানসিকতা মোটামুটি একইরকম হ'বে , নচেৎ যেটা হ'বে সেটাকে বলে "Mutual understanding" বা "মানিয়ে নেওয়া" তাই নয় কি ?
★★ যাইহোক এই উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র "সৌর" তাঁর স্ত্রী "তিলোত্তমার" প্রেমিক হতে পেরেছিল , কিন্তু ভালোবাসতে পারেনি !
➤ তাই সে বার বার তিলোত্তমার উপরে অধিকার ফলাতে গিয়ে সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যেতে বসেছিল।
➤ অন্যদিকে উপন্যাসের অন্যতম মূখ্য কেন্দ্রীয় চরিত্র "সমুদ্র বসু" তিলোত্তমাকে ভালোবেসেছিল কিন্তু কখনও তাঁর প্রেমিক হ'তে যায়নি।
➤ ভালোবাসাকে যে সবসময় "বাঁধন বিহীন বন্ধনেই বেঁধে রাখতে হয়" এটা সে বুঝতে পেরেছিল।
➤ কিন্তু আমরা বা উপন্যাসের চরিত্ররা সবাই তো "মনের ঘরে" বসবাস করি , তাই ভুল সমুদ্র বসুও করেছিল ! যখনই সে তাঁর ভালোবাসাকে নিজের বন্ধনে বাঁধতে গিয়েছিল তখনই সে চরম আঘাত পেয়েছিল।
➤ চরম আঘাত পেয়েছিল বলেই সে নিজে মরে তাঁর ভালোবাসাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল !
➤ বাঁচিয়ে রেখেছিল তাঁর ভালোবাসার মানুষটির মনে যে বসে আছেন তাঁর জন্য , অর্থাৎ সৌরদীপ সাহার জন্য।
★ ঠিক এইখানেই এই উপন্যাসটির সার্থকতা এবং মাননীয়া লেখিকার লেখার নৈপুণ্য আমি খুঁজে পেয়েছি। খুঁজে পেয়েছি আমার নিজের জীবনের কখনও উত্তর পাওয়া যাবেনা এইরকম বহু প্রশ্নের উত্তর !
➤ যাইহোক বিভিন্ন ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে চ��ে উপন্যাস , এগিয়ে চলে উপন্যাসের চরিত্ররা ।
➤ উপন্যাসের চরিত্র "রূপ" তাঁর যমজ শালী "তমিস্রার" মধ্যে খোঁজে নিজের মৃত স্ত্রী "নিশাকে"।
➤ অন্যদিকে ঋষি পায়না তাঁর ভালোবাসা "নীহারিকাকে"।
★ সবদিক থেকে দেখলে মনে হবে উপন্যাসের সবগুলো চরিত্রই "অসমাপ্ত" কিন্তু আমার মনে হয়েছে সবগুলো চরিত্রই সম্পুর্ণ বা "সমাপ্ত" কারন যাঁরা ভালোবাসতে জানেন তাঁরা ভালোবাসার স্মৃতি আঁকড়ে বেঁচে থাকতেও জানেন।
★ ঠিক এই কারনেই আমার কাছে উপন্যাসটি "অসমাপ্ত" নয় এটি সম্পুর্ণ "সমাপ্ত"।
✰✰ আমি জানিনা আমার সাথে আপনারা একমত হবেন কিনা ? কিন্তু এই উপন্যাসটি পড়ার পর আমার মনে হয়েছে Lord Byron এর সেই বিখ্যাত উক্তি -
➤ সবশেষে নিজের ভাষায় বলি , আমার কাছে উপন্যাসটি পড়ে মনে হয়েছে ঠিক এই নিচের লাইন গুলি -
স্বপ্ন একটি ছোট্ট শব্দ কিন্তু ভীষণ মিষ্টি , স্বপ্নের মাঝেই খুঁজে পাই আমি ধ্বংস থেকে সৃষ্টি। তাইতো আমি স্বপ্ন দেখি যাইনা তাকে কিনতে , স্বপ্নের মাঝেই হ'লাম না হয় বিয়াত্রিচের দান্তে। ____________________________________
★★★ "অসমাপ্ত" - এটি বাংলা সাহিত্যের পাঠকদের কাছে একটি বহুল পরিচিত উপন্যাসের নাম।
★ উপন্যাসটির লেখিকা মাননীয়া সাথী দাস মহাশয়া।
★ আমার জানা নেই যে আগামী ১০ বছর পরে সাধারণ মানুষ আর বই পড়বেন কিনা , কিন্তু যদি পড়েন আমি হলফ করে বলতে পারি এই উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যের একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে আগামী দিনগুলোর জন্য।
★ "অসমাপ্ত" হচ্ছে চারজন অভিন্ন হৃদয় বন্ধুর ছোটবেলা থেকে একসাথে বেড়ে ওঠার গল্প।
➤ "অসমাপ্ত" সেই চারজন বন্ধুর জীবনের চাওয়া , পাওয়া , সফলতা , অসফলতার গল্প।
➤ "অসমাপ্ত" হচ্ছে আমাদের সমাজের সকল অভিন্ন হৃদয় বন্ধুদের হেরে যাবার গল্প।
➤ "অসমাপ্ত" হচ্ছে আমাদের সমাজের পুরুষ মানুষের লুকিয়ে চোখের জল ফেলার গল্প।
➤ "অসমাপ্ত" হচ্ছে আমাদের সমাজের সেইসব নারীদের গল্প যাঁদের দুচোখে স্বপ্ন থাকে কিন্তু বেশীরভাগ নারীদের সেইসব স্বপ্নের অপূর্ণতার গল্প।
➤ "অসমাপ্ত" হচ্ছে পুরুষ ও নারীর বুকের ভিতরে হাহাকার ও মুখে স্মিত হাসি বজায় রাখার গল্প।
★ "অসমাপ্ত" এমন একটি উপন্যাস যেটি আমাদের চোখের সামনে বাস্তবকে তুলে ধরে। "অসমাপ্ত" অর্থাৎ "নয় সমাপ্ত যাহা" (নঞ তৎপুরুষ সমাস)। সত্যিই তো এই মহাবিশ্বের কোন প্রাণীর বা মানুষের সকল কামনা পূরণ হয়েছে ? সব মানুষ বা প্রাণী কোন না কোন ক্ষেত্রে অসম্পুর্ণ থেকেই যায় , অর্থাৎ তাঁর জীবনের একটি অংশ অসমাপ্তই থেকে গেল।
★ অসমাপ্তও ঠিক সেইরকমই একটি উপন্যাস। উপন্যাসের প্রতিটি পৃষ্ঠায় আছে বাস্তবের ছোঁয়া। আছে - প্রেম , ভালোবাসা , বিরহ , ত্যাগ , সত্যি ব'লতে কি নেই এটাই প্রশ্ন ?
★ উপন্যাসের মূখ্য চরিত্র অনেকগুলো কিন্তু তাঁদের মধ্যে মূখ্য কেন্দ্রীয় চরিত্র "সমুদ্র বসু" এবং "তিলোত্তমা সান্যাল"। উপন্যাসের গল্প বলতে গেলে আমার সারাদিন কেটে যাবে তবুও বোধহয় শেষ হবেনা !
➤ কারণ ???
➤ কারণ উপন্যাসটিই যে নিজের নামকরণ করেছে "অসমাপ্ত" ! এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য বিষয় হচ্ছে "বিরহ"। আসলে বিরহ আছে বলেই তো প্রেম এতো মধুর ! এই বিরহ আছে বলেই প্রেম থেকে একসময় গুটিপোকার গুটি কেটে যেমন জন্ম নেয় সুদৃশ্য রংবাহারী প্রজাপতি , ঠিক সেরকমই জন্ম নেয় ভালোবাসা !
➤ আসলে "প্রেম" আর "ভালোবাসা" এই দুটো শব্দের মধ্যে খুব সুক্ষ্ম একটু পার্থক্য আছে !
➤ আবার এই শব্দ দুটিই কোন অদৃশ্য সুতোর বন্ধনে আবদ্ধ । কোন একদিকে একটু বেশী টান পড়লেই যে সুতো ছিঁড়ে যেতে পারে !
➤ "প্রেম" শুরু হয় "ভালোলাগা" দিয়ে আর শেষ হয় "ভালোবাসা" দিয়ে।
➤ যে মূহুর্তে প্রেম ভালোবাসায় পরিনত হয়ে গেল , ঠিক সেই মূহুর্তে প্রেমের অধিকারবোধ পরিবর্তিত হয়ে যায় "পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস বোধে" তাইনা ?
➤ আপনি কোন ব্যক্তিকে ঠিক তখনই ভালোবাসতে পারবেন যখন দুজনেরই মানসিকতা মোটামুটি একইরকম হ'বে , নচেৎ যেটা হবে সেটাকে বলে "Mutual understanding" বা "মানিয়ে নেওয়া" তাই নয় কি ?
★★ যাইহোক এই উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র "সৌর" তাঁর স্ত্রী "তিলোত্তমার" প্রেমিক হতে পেরেছিল , কিন্তু ভালোবাসতে পারেনি !
➤ তাই সে বার বার তিলোত্তমার উপরে অধিকার ফলাতে গিয়ে সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যেতে বসেছিল।
➤ অন্যদিকে উপন্যাসের অন্যতম মূখ্য কেন্দ্রীয় চরিত্র "সমুদ্র বসু" তিলোত্তমাকে ভালোবেসেছিল কিন্তু কখনও তাঁর প্রেমিক হ'তে যায়নি।
➤ ভালোবাসাকে যে সবসময় "বাঁধন বিহীন বন্ধনেই বেঁধে রাখতে হয়" এটা সে বুঝতে পেরেছিল।
➤ কিন্তু আমরা বা উপন্যাসের চরিত্ররা সবাই তো "মনের ঘরে" বসবাস করি , তাই ভুল সমুদ্র বসুও করেছিল ! যখনই সে তাঁর ভালোবাসাকে নিজের বন্ধনে বাঁধতে গিয়েছিল তখনই সে চরম আঘাত পেয়েছিল।
➤ চরম আঘাত পেয়েছিল বলেই সে নিজে মরে তাঁর ভালোবাসাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল !
➤ বাঁচিয়ে রেখেছিল তাঁর ভালোবাসার মানুষটির মনে যে বসে আছেন তাঁর জন্য , অর্থাৎ সৌরদীপ সাহার জন্য ।
★ ঠিক এইখানেই এই উপন্যাসটির সার্থকতা এবং মাননীয়া লেখিকার লেখার নৈপুণ্য আমি খুঁজে পেয়েছি। খুঁজে পেয়েছি আমার নিজের জীবনের কখনও উত্তর পাওয়া যাবেনা এইরকম বহু প্রশ্নের উত্তর !
➤ যাইহোক বিভিন্ন ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে চলে উপন্যাস , এগিয়ে চলে উপন্যাসের চরিত্ররা ।
➤ উপন্যাসের চরিত্র "রূপ" তাঁর যমজ শালী "তমিস্রার" মধ্যে খোঁজে নিজের মৃত স্ত্রী "নিশাকে" ।
➤ অন্যদিকে ঋষি পায়না তাঁর ভালোবাসা "নীহারিকাকে"।
★ সবদিক থেকে দেখলে মনে হবে উপন্যাসের সবগুলো চরিত্রই "অসমাপ্ত" কিন্তু আমার মনে হয়েছে সবগুলো চরিত্রই সম্পুর্ণ বা "সমাপ্ত" কারন যাঁরা ভালোবাসতে জানে তাঁরা ভালোবাসার স্মৃতি আঁকড়ে বেঁচে থাকতেও জানে।
★ ঠিক এই কারনেই আমার কাছে উপন্যাসটি "অসমাপ্ত" নয় এটি সম্পুর্ণ "সমাপ্ত" ।
✰✰ আমি জানিনা আমার সাথে আপনারা একমত হবেন কিনা ? কিন্তু এই উপন্যাসটি পড়ার পর আমার মনে হয়েছে Lord Byron এর সেই বিখ্যাত উক্তি -
➤ সবশেষে নিজের ভাষায় বলি , আমার কাছে উপন্যাসটি পড়ে মনে হয়েছে ঠিক এই নিচের লাইন গুলি -
স্বপ্ন একটি ছোট্ট শব্দ কিন্তু ভীষণ মিষ্টি , স্বপ্নের মাঝেই খুঁজে পাই আমি ধ্বংস থেকে সৃষ্টি। তাইতো আমি স্বপ্ন দেখি যাইনা তাকে কিনতে , স্বপ্নের মাঝেই হ'লাম না হয় বিয়াত্রিচের দান্তে । _______________________________________
★★ পাঠ অনুভূতি ★★ -------------------------- ✪ ☞ উপন্যাস : অসমাপ্ত ✪ ☞ লেখিকা : সাথী দাস ✪ ☞ প্রকাশক : লালমাটি প্রকাশন ✪ ☞ মূল্য : ৯৯৯/- টাকা (লালমাটি প্রকাশন থেকে প্রথম প্রকাশ - কলকাতা বইমেলা ২০২৫ খ্রীষ্টাব্দ) ____________________________________
✪ দ্বিতীয়বার পড়ার নিরিখে যখন কোনো উপন্যাসের পাঠ অনুভূতি লিখতে হয় তখন কাজটি বেশ কঠিন হয়ে যায়। প্রথমবার পড়ার অনুভূতি অনেক সময় বিলীন হয়ে নতুন অনুভূতির জন্ম হয়। এক্ষেত্রেও ঠিক সেইটাই হয়েছে। আমার পড়া খুব প্রিয় উপন্যাসের তালিকায় অসমাপ্তকে আমি রেখেছি দ্বিতীয় স্থানে। প্রথম স্থানে আছে শ্রদ্ধেয় লেখক আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের লেখা 'সোনার হরিণ নেই' উপন্যাসটি।
★ 'অসমাপ্ত' এমন একটি উপন্যাস, যে উপন্যাস আমাদের কাছে বন্ধুত্বের প্রকৃত সংজ্ঞা নিরূপণে সহায়ক হিসেবে নিজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা প্রদর্শন করেছে। 'অসমাপ্ত' চারজন বন্ধুর জীবনের সফলতা এবং অসফলতার নিরিখে লেখা হয়েছে। দেখানো হয়েছে তাঁদের জীবনের সেইসব মুহূর্তগুলোকে যে মুহূর্তগুলোকে আর শত চেষ্টা ক'রলেও তাঁরা ফেরৎ পা'বেনা। জীবনে চলার পথে প্রতিটি মানুষ প্রতিমুহূর্তে হোঁচট খায়, হোঁচট খেয়ে কেউ উঠে দাঁড়ায়, কেউ হয়তো ব্যথা পাবে সেই ভয়ে সরে দাঁড়ায়। যাঁরা সরে দাঁড়ায় তাঁদের মধ্যে অনেকের চোখে থাকে স্বপ্ন। থাকে সেইসব স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার ইচ্ছে, কিন্তু সেইসব ইচ্ছেরা পূর্ণতা পায়না, ফলে একদিন তাঁরা হয়তো হারিয়ে যায় এই সমাজ থেকে, এই জগৎ থেকে। থেকে যায় তাঁদের অপূর্ণ স্বপ্নগুলো। যেগুলোর কোনো পরিসমাপ্তি ঘটেনা। সৃষ্টি হয় 'অসমাপ্ত' উপন্যাসের মতো কোনো উপন্যাস। যে উপন্যাসের পরতে পরতে লুকিয়ে থাকে চাওয়া, পাওয়া, না পাওয়ার গল্প। এই উপন্যাসেও লুকিয়ে আছে অকথিত ভালোবাসা, না পাওয়ার বেদনা এবং অভিমান। এই উপন্যাস আমাদের বলে পুরুষ ও নারীর বুকের ভিতরে হাহাকার ও মুখে স্মিত হাসি বজায় রাখার গল্প। আমার কাছে সবথেকে বেশী মনোগ্রাহী এই উপন্যাসে লেখিকা যেভাবে পাঠকের মনস্তত্ব নিয়ে খেলেছেন, সেই সমস্ত অনুভূতিগুলো।
★ মানুষের বয়স বৃদ্ধি হয়, স্মৃতিশক্তি বেইমানী করে। কিন্তু অনুভূতি? সেও কী বেইমানী করে? না, সবসময় করেনা। যেমন করেনি এই 'অসমাপ্ত' উপন্যাসটি পড়তে গিয়ে। আজথেকে বোধহয় দুই-তিন বছর আগে এই উপন্যাসটি পড়েছিলাম এবং পাঠ প্রতিক্রিয়াও লিখেছিলাম। তখনও এই উপন্যাসটি আমার মনে যেরকম ঝড় তুলেছিল, আজকেও এই উপন্যাসটি নবকলেবরে আসার পরে আবারও পড়লাম, এবারেও কিন্তু আমার মনে সেই একইরকম ঝড় উঠছে। আজও কিন্তু আমার সমস্ত অ্যাটেনশনের কেন্দ্রবিন্দুতে আছে সেই সমুদ্র বসুই কিন্তু তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সৌরদীপ, যাঁকে উপন্যাসে দেখানো হয়েছে প্রেমিক হিসেবে, কিন্তু এমন একজন প্রেমিক যে তাঁর প্রেমিকাকে সন্দেহ করে, আগলে রাখতে চায়। কিন্তু বাস্তবে কী সে সত্যিই তিলোত্তমাকে আগলে রাখতে পারে? সৌরর ভালোবাসায় যে প্রচণ্ড পসেসিভনেস আছে, সেটা আসলে তাঁর তিলোত্তমাকে হারানোর ভয়। এই ভয় কখনো তাঁকে করে তোলে অবুঝ শিশু, আবার কখনো অত্যাচারী স্বামী! কিন্তু মানুষ যখন ভালোবেসে কাউকে হারিয়ে ফেলার ভয় পায়, তখন সেখানে ভালোবাসার মধ্যে কোনো ফাঁক থাকেনা, যে'টা থাকে সেটা হ'ল নিজেদের মধ্যে পরস্পরকে বোঝার ঘাটতি। 'অসমাপ্ত' এমন একটি উপন্যাস যে'টি আমাদের চোখের সামনে বাস্তবকে তুলে ধরে। সত্যিই তো এই মহাবিশ্বের কোন প্রাণী বা মানুষের সকল কামনা কোনদিনও পূরণ হয়েছে? সব মানুষ বা প্রাণী কোনো না কোনো ক্ষেত্রে অসম্পূর্ণ থেকেই যায়, অর্থাৎ তাঁর জীবনের একটি অংশ অসমাপ্তই থেকে যায়। অসমাপ্তও ঠিক এই দিকগুলোকেই আমাদের চোখের সামনে তুলে ধরেছে। উপন্যাসের প্রতিটি পৃষ্ঠায় আছে বাস্তবের ছোঁয়া। আছে - প্রেম, ভালোবাসা, বিরহ, ত্যাগ। সত্যি ব'লতে কী নেই এই উপন্যাসে, এটাই প্রশ্ন? উপন্যাসের মূল চরিত্র 'সমুদ্র বসু' এবং 'তিলোত্তমা সান্যাল'। এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য বিষয়ই হচ্ছে "বিরহ"। আসলে বিরহ আছে বলেই তো প্রেমের এতো মিষ্টতা! এই বিরহ আছে বলেই প্রেম থেকে একসময় গুটিপোকার গুটি কেটে যেমন জন্ম নেয় সুদৃশ্য রংবাহারী প্রজাপতি, ঠিক সেরকমই জন্ম নেয় ভালোবাসা! "প্রেম" শুরু হয় "ভালোলাগা" দিয়ে আর শেষ হয় "ভালোবাসা" দিয়ে। যে মূহুর্তে প্রেম ভালোবাসায় পরিনত হয়ে গেল, ঠিক সেই মূহুর্তে প্রেমের অধিকারবোধ পরিবর্তিত হয়ে যায় "পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস বোধে"।
★ সত্যি বলতে এই উপন্যাসটি আমার দৃষ্টিতে কালজয়ী একটি উপন্যাস। জানিনা বাকী সবাই কী বলবেন। অবশ্য সকলের দৃষ্টিভঙ্গীর দায়ভার আমার নয়। সাথী ম্যাডাম, আপনার লেখা অসমাপ্তকে আপনিই পরাস্ত করতে পারবেন, পাঠকের মনস্তত্ব নিয়ে আর আপনার কলমের মোচড়ে গড়ে উঠুক নতুন নতুন সৃষ্টি। অপেক্ষায় থাকলাম আপনার নতুন সৃষ্টির।
অসাধারণ একটি সামাজিক উপন্যাস। বন্ধুত্ব, প্রেম , বিচ্ছেদ, ভুল বোঝা, জীবনের সংগ্রাম, হেরে যাওয়া, জীবনের মূল্যবোধ, জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার লড়াই, আত্মত্যাগ কি নেই এই উপন্যাসটি তে। আর আছে সমুদ্র, এই একটা চরিত্র যাকে কখনোই ভোলার নয় তাকে নিয়ে কিছু বলার দুঃসাহস ও আমার নেই। চার বন্ধুর ছোট থেকে পরিণত হওয়ার গল্প বলে এই উপন্যাসটি। জীবনের জটিলতার গল্প বলে।