নবিজির জীবনী আমাদের কাছে উন্মুক্ত বই। সেখান থেকে পৃষ্ঠা উল্টিয়ে যা ইচ্ছে আমরা পড়তে পারি; শিখতে পারি। প্রতিটি অধ্যায় মনিমুক্তোয় ভরপুর।
পৃথিবীর সকল সেলিব্রেটি অন্তত কিছু না কিছু 'একান্ত ব্যক্তিগত' বলে গোপন করে। কিন্তু দেখুন না আমাদের নবিজিকে; সবকিছুই তিনি উন্মক্ত করেছেন উম্মতের জন্য। নবিজির বহির্জীবন নিয়ে বলেছেন সাহাবিগণ, ঘরের জীবন নিয়ে বলেছেন উম্মুল মুমিনিন। তাঁরা নবিজির জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপ অনুসরণ করেছেন এবং সেগুলো দুনিয়াবাসীর সামনে তুলে ধরেছেন।
কোন কোন ক্ষেত্রে আমাদের মা-বাবা কিংবা শিক্ষকের চেয়েও নবিজিকে বেশি জানি। অনেক ক্ষেত্রেই আমরা নিজেদের চেয়েও নবিজিকে বেশি উপলদ্ধি করতে পারি এবং ভালোবাসি। আমাদের ধ্যান-জ্ঞান এবং আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু 'উসওয়াতুন হাসানা' প্রিয় নবিজি।
'মাআল মুস্তফা' গ্রন্থে আমরা নবিজিকে আরেকবার জীবনের সাথে মিলিয়ে নেব, তাঁর জীবন থেকে পাথেয় কুড়িয়ে নেব ইনশাআল্লাহ্।
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। মানব মুক্তির বিশ্বদূতের উপর লাখ লাখ দুরুদ বর্ষিত হোক। এই বইটা প্রচলিত ধারার সীরাত না। বরং সীরাত থেকে নেওয়া নির্যাস বলা যায়। রাসূলুল্লাহ সা. এর জীবনের উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলো স্থান পেয়েছে এইখানে। এবং মজার ব্যাপার হচ্ছে প্রত্যেকটা ঘটনা দ্বারা আমরা কি শিক্ষা পেতে পারি তা উল্লেখ করেছেন লেখক। সব মিলিয়ে ভালো ছিল। গার্ডিয়ান প্রকাশনীকে ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা যে মাত্র একশো টাকায় এমন একটা দুর্দান্ত বইয়ের দাওয়াহ সংস্করণ প্রকাশ করে আমাদের হাতে পৌছানোর সুযোগ করে দিয়েছে। হ্যাপি রিডিং💙
সীরাত গ্রন্থ নাম শুনলে প্রথম যে ধারণা মনের মাঝে তৈরি হয়, সেটি হলো একটি গ্রন্থে সর্বশ্রেষ্ঠ মানব মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনের কিছু অংশ, একটি গ্রন্থে। যদিও মুহাম্মদ সাঃ এর সমগ্র জীবন একটি গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করা সম্ভব নয়। বইটি নিয়ে প্রথমে সে ধারণা থাকলেও প্রথম খটকা লাগে এটা পড়ে যে বইটি প্রচলিত অন্যান্য সীরাত গ্রন্থের মত নয়! পড়া শুরু করার পর কোনো এক জাদুবলে বইটি থেকে উঠতেই পারছিলাম না। মাত্র ২৬০ পেইজের মত একটি বই, তাতে কি এক মনোমুগ্ধকর লেখা! আসলে লেখাটা যে সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানবকে নিয়ে! যার পুরো জীবনটাই আদর্শ এবং সবার অনুকরণীয়!
কাফিররা বলেছিল, মুহাম্মদের কোনো উত্তারিধাকার নেই। তার শেকড় কাটা(নাঊজুবিল্লাহ)। কিন্তু মহান স্রষ্টা বলেছেন, "তোমার ওপর বিদ্বেষ পোষণকারীরই শেকড় কাটা"(১০৮ঃ৩) যার প্রতিফলন দেখা যায় আজ, সেদিনের কটাক্ষকারী কাফিরদের কয়জনের নাম সবাই মনে রেখেছে? যতটুকু উচ্চারিত হয় তা ও আবার ঘৃণার সাথে। কিন্তু মুহাম্মদ সাঃ, যিনি শেষ রাসূল তার নাম তো মুসলিম উম্মাহ বটেই, এমনকি বিধর্মীদেরও মুখে মুখে শোনা যায়! তারা যতই রাসূল সাঃ এর সম্মান কমাতে চায়, মহান আল্লাহ ততই সম্মান বাড়িয়ে দেন।
বইটিতে রয়েছে রাসূল সাঃ এর আচরণ-ব্যবহার, তার অসাধারণ ধৈর্য্য, বিচক্ষণশীলতা, ধর্মীয় প্রচার, দাম্পত্যজীবন ইত্যাদি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত কিন্তু গোছালো বর্ণণা। স্বভাবতই একজন পাঠক পড়া শুরু করলে পড়া শেষ ছাড়া উঠতে পারবেন না।
উম্মুল মু'মেনীন হযরত আয়েশা রাঃ রাসূল সাঃ এর চরিত্র সম্বন্ধে বলেছিলেন, 'কুরআনই ছিলো তার চরিত্র'। একজন মুসলমান তো বটেই, একজন বিধর্মীয় এটা স্বীকার করতে বাধ্য উত্তম চরিত্রের দিক দিয়ে রাসূল সাঃ এর ধারে কাছেও কেউ নেই, আসার কল্পনাও করা যায় না। পশ্চাত্য ফ্যাসিবাদি সমাজ যাকে বিভিন্ন ঘৃণামূলক অপবাদ দিয়ে থাকে, সেই তিনি সারাজীবন তার উম্মাতের জন্য মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে গেছেন! চেয়ে গেছেন যাতে তার উম্মাত সঠিক পথে পরিচালিত হয়। এমনকি তায়েফের ময়দানে হতভাগা কাফিরদের প্রস্তরাঘাতে রক্তাক্ত হয়েও হাসিমুখে তিনি তাদের হিদায়াতের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করে গেছেন! একবার নয়, বারবার পড়ার মত একটি বই। আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহ আমাকে উক্ত বইটি পড়ার তৌফিক দান করেছেন। অশেষ কৃতজ্ঞতা তার প্রতি, বইটির লেখক ও অনুবাদকের প্রতি মহান আল্লাহ সন্তুষ্ট থাকুন, আমীন। সালাত ও সালাম মানবতার মুক্তির দূত, হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর প্রতি। মহান আল্লাহ আমাদের সৎ পথে পরিচালিত করুন, আমীন
পৃথিবীতে অনেক বিখ্যাত মানুষ আছেন আছেন অনেক সেলিব্রিটি, যাদের অনেককেই আমাদের সমাজের অনেকে অনুসরণ করেন, আদর্শ মানেন। কিন্তু এসব সেলিব্রিটি, বিখ্যাত মানুষগুলোরও একান্ত ব্যক্তিগত বলে কিছু রয়ে যায়, এমন অনেক বিষয় থাকে যা সবার অনুসরণ করা সামর্থ্যে থাকে না, থাকে অনেক গোপন বিষয়। আবার অনেক বিষয় আমাদের চিন্তা চেতনার সাথে মিলে না। কিন্তু আমাদের রাসূল সা. এর সারা জীবন চারপাশের সকলের জন্য বইয়ের খোলা পাতার মতোই স্পষ্ট, কোথাও কোনো ধোঁয়াশা নেই, নেই কোনো সংশয়। তাঁর ব্যক্তিগত প্রতিটি বিষয় সম্পর্কেই আমরা জানি এবং কি তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার - যা বাইরের মানুষদের পক্ষে জানা দুরূহ ছিলো, সেগুলোও উম্মুল মুমিনিনরা আমাদের কাছে পৌঁছিয়ে দিয়েছেন।
নবীজি সা. এর এমন ভাবে জীবন অতিবাহিত করেছেন যা সমাজের প্রতিটি শ্রেণীর প্রতিটি মানুষের জন্য জীবনের আদর্শ এবং কি অনুকরণ সহজতর। তিনি ছিলেন একাধারে রাষ্ট্রনায়ক, সেনাপতি, সংগঠক, যোদ্ধা, সমাজকর্মী, বিচারক, শিক্ষক, বাবা, ভাই, স্বামী ও আদর্শ তরুন যা আমাদের সমাজের প্রতিটি শ্রেণীর মানুষদের জন্য উত্তম আদর্শ ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
'মাআলা মুস্তফা' লেখক ড. সালমান আল আওদাহ এর লেখা হযরত মুহাম্মদ সা. এর জীবনের ঢুকরো ঢুকরো ঘটনা আর তার শিক্ষা নিয়ে রচিত গ্রন্থ, যা গড়পড়তা সিরাত গ্রন্থ গুলোর মতো নয়। তাই এখানে নবীজি সা. এর জীবনের আদ্যেপান্ত বর্ণনা বইটিতে বর্ণিত হয়নি, জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটনার ধারাবাহিকতাও বইটিতে রক্ষা করা হয়নি। বরং বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে নবীজি সা. এর জীবনের টুকরো টুকরো ঘটনা, নানা দিক, নবীজির জীবন থেকে শিক্ষা এবং বর্তমান মানব সমাজের ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের পরতে পরতে যে জীবন প্রবাহমান, যে বাধার সম্মুখীন আমরা হচ্ছি খোঁজা হয়েছে তার সমাধান । এক কথায় মুসলিম জীবনের প্রাত্যহিকতা শুরু করে বিশ্বের নানান বিপর্যয়, সমস্যা সব বিষয়কে নি��়ে সিরাতের জ্যোতিষ্কময় ছায়ায় আলোচনার প্রয়াস চালানো হয়েছে বইটিতে।
বইটিতে নবীজি সা. এর জীবন থেকে টুকরে টুকরো ঘটনাগুলো উপস্থাপন করেছেন, কখনও খোঁজে ফিরেছেন বর্তমান সমাজের এমন বেহাল দশার সমাধান। কখনও বা বর্ণনা করেছেন অনিন্দ্য সুন্দর মহান এই মানবের ঘটনাবহুল জীবনের খণ্ডাংশ পাঠককে অনুপ্রেরণা দেওয়ার লক্ষ্যে, বিশ্লেষণ করেছেন সেই ঘটনা খোঁজেছেন সেই ঘটনার নানা স্বরূপ, নানান দিক।
সমাজ, রাষ্ট্র, ঘরে বাইরে সবকিছুতেই নবীজি সা. এর শিষ্টাচারের কথা উপস্থাপন করে গেছেন লেখক। যার প্রেক্ষিতে কখনও বর্ণনা করেছেন নবীজি সা. এর জীবনের টুকরো কোনো ঘটনা, কখনও বা হাদিস কিংবা বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছেন কোরআনের কোনো আয়াত। যেখানে একদিকে লেখক আমাদের চরিত্র গঠনের ক্ষেত্রে নবীজি সা. এর জীবনপ্রবাহের অনুসরণের গুরুত্ব বর্ণনা করেছেন যেখানে তুলে ধরেছেন মহান এই মানবের নানান ক্ষেত্রে নানান প্রতিক্রিয়া আবার কখনও খোঁজেছেন সীরাতের আলোকে বর্তমান কুসংস্কারে আচ্ছন্ন সমাজের বিপর্যয় থেকে উত্তরণের উপায়।
তাই বইটিকে প্রচলিত সিরাতের কাতারে ফেলা যায় না, এখানে কেবল নবীজি সা. এর জীবনের আলোকে আমাদের প্রাসঙ্গিকতা খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে। বইটির লেখক সম্পর্কে পড়তে গিয়ে জেনেছি তিনি বর্তমানে কারাবন্দী আছেন সৌদি আরবের কারাগারে, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। বইটির অনুবাদ নিয়ে কথা বললে বলতে হয় অনুবাদ দারুণ হয়েছে সহজে সাবলীল এবং সীরাত গ্রন্থ হিসেবে বই জুড়ে অনুবাদক গাম্ভীর্যের আলোকে করেছেন শব্দচয়ন, তারপরও মনে হয়েছে মাঝখানে তিনি অনুবাদে হুঁচট খেয়েছেন পরে অবশ্য চমৎকার অনুবাদ করেছেন। আর বইটি পেপারব্যাক হলেও এর প্রোডাকশন, বাঁধাই, কাগজের মান সবকিছুই অসাধারণ, সেই তুলনায় দাম অতি নগন্য।
এই বইটা সিরাহ নয়, কিন্তু স্টার্টার হিসেবে দারুণ কারণ এটা খুব বেশিকাল আগেকার বই নয় যে রুচিতে লাগবেনা, এবং আকারে খুবই সংক্ষিপ্ত ফলে আমাদের বাইট সাইজ কনজাম্পশন প্রবণতায় ব্যাঘাত না ঘটিয়েই প্রফেটের জীবনকে জানবার সুযোগ করে দেয়। তিনি জন্মেছিলেন নিঃস্ব অবস্থায়, এরপর জন্ম থেকে পরবর্তী ৪০ বছর অব্দি বিশ্বাস নিয়ে ছিলেন দ্বিধায় বিপর্যস্ত; হাতড়ে বেড়িয়েছেন আল্টিমেট ট্রুথের পেছনে। এরপর অন্ধকার গুহায় হিউম্যান এক্সপেরিয়েন্সের বিচারে অদ্ভুত তম ঘটনার মুখোমুখি হোন তিনি– তার জীবন পাল্টে যায়, পরবর্তী ১০ বছরে তার কথায় বিশ্বাস স্থাপন করেছে মাত্র গুটিকয়েক, বিনিময়ে তিনি ও তাঁর সাথীরা কুড়িয়েছেন অজস্র শারীরিক অবমাননা ও মানসিক কষ্ট-নির্যাতন। এমতাবস্থায় এলো দুঃখের বছর: তার চাচার ডিসবিলিভার হিসেবে মৃত্যু, স্ত্রীবিয়োগ এবং চারপাশের আদরের আবহ থেকে তিনি চ্যূত হলেন। পরবর্তী ১৩ বছরের জীবনে আমরা দেখি প্রতিপক্ষদের সাথে প্রফেটের সরাসরি সাংর্ঘষিক অবস্থান, কারণ এসময় মুসলিমরা আরব প্যাগান, আহলে কিতাব এবং হিপোক্রেট তিন গ্রুপ থেকেই আক্রান্তের শিকার, এবং এটাকে ডিল করা হয়েছে সামরিক (বদর, উহুদ), রাজনৈতিক (হুদাইবিয়ার সন্ধি, মদিনা সনদ) এবং সামাজিক (মক্কা বিজয় পরবর্তী রিকনসিলিয়েশন) তিন ফ্রন্ট থেকেই, এবং মুসলমানদের এই অসম লড়াইয়ে থাম্ব রুল ছিলো মেরিটোক্রেসি (যেমন আবু সুফিয়ানের মতো ইসলাম পূর্ববর্তী সময়ের শত্রুরা ইসলাম পরবর্তী জীবনেও জীবনেও যোগ্যতাবলে লিডারশীপে ছিলো) এবং ক্ষমাশীলতা (প্রফেটের মক্কা বিজয়ের পর রক্তপাত না করা ট্রু ক্ষমারই উদাহরণ, মুনাফিকদের বিচারের মুখোমুখি না করাও)। এই দুটো অবলম্বন তাদেরকে ডিসবিলিভারদের ধ্বংসযজ্ঞের বিপরীতে গড়ার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার সুযোগ দিয়েছে–মক্কা ও মদিনায় সকল জাতিকে অন্তর্ভূক্ত করে স্ট্যাবল কমিউনিটি তৈরির। আরেকজন ব্যক্তি-মানুষ হিসেবে প্রফেটকে অবলোকন করলে তার ভারাক্রান্ততার পর্যায় কতটুকু তা অনুধাবন করা যায়; যার বাবা-মা মারা গিয়েছে ডিসবিলিভার অবস্থায়, সবচে কাছের আশ্রয়ের চাচাকে তিনি তার দিকে কনভিন্স করতে ব্যর্থ হয়েছেন, স্ত্রীর নিকট আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন- “খাদিজা, কে আমায় বিশ্বাস করবে?” যাপন করতে হয়েছে নিজ গোত্রের নির্যাতনের মাঝেই–একপর্যায়ে জন্মভূমি পর্যন্ত ত্যাগ করতে হয়েছে, তায়েফে লাঞ্ছনার শিকার হওয়া, একের পর এক সন্তানের মৃত্যু সহ্য করা- মানুষ টিটকারি করছে উত্তরাধিকারহীনতার; এমনকি ভুল-ত্রুটি হলে আল্লাহ থেকেও পেয়েছেন তিরস্কার, এরপর যখন এলো প্রতিক্ষীত অনুগ্রহ ও বিজয়, তিনি ছিলেন মহানুভব; জুলুমকারীদের প্রতি প্রতিশোধপরায়ন হলেন না; পরবর্তী জীবনে নিজের জীবনের ন্যূনতম স্বার্থ ও প্রাইভেসি বিসর্জন দিয়েছেন মানুষকে শেখানোয়–যার ফলে আমরা এখন নবীর ঘরের সূক্ষতম এফেয়ার্সও বিস্তারিত জানি–কষ্টের সময় ধৈর্য ধারণ করা, চোখের পলকের জন্যও সৃষ্টিকর্তার অনুগ্রহ থেকে নিরাশ না হওয়া, সবচে ছোট বিষয়েও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা, শত্রুর প্রতিও কল্যাণ কামনা করা, দূর্বল ও অসহায়কে আগলে রাখা, অন্যায়কারীকে ক্ষমা করে দেওয়া এবং নিজে যখন প্রতিষ্ঠিত, তখন কারো প্রতি জুলুম না করাই ছিল সেসব বিষয়– যা শেখাতে আমাদের জন্য ১৪০০ বছর আগের একজন মানুষ তাঁর পুরো জীবনই ব্যয় করে দিয়েছিলেন; সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
বইটি পড়ে ভালো লেগেছে। প্রচলিত সিরাহ গ্রন্থগুলোর মতো এখানে সময়ের ধারাপ্রবাহ অনুসারে অধ্যায় গুলো সাজানো হয়নি। বরং বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করা হয়েছে। এতে হয়তো সকল ঘটনা পাওয়া যাবে না কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জীবনের শিক্ষাগুলো উপলব্ধি করতে বইটি সহায় হবে ইনশাআল্লাহ।
অনেক ভালো বই সন্দেহ নেই। বিশেষ করে নবীজির আদর্শকে কীভাবে আমাদের জীবনে বাস্তবায়িত করতে পারি, তা দারুণভাবে ফুটে উঠেছে। তবে অনুবাদ আমার খুব ভালো লাগেনি। ভাষা আরও গাম্ভীর্যপূর্ণ হতে পারতো।