ইমাম শাফিয়ির (র:) জন্য ভালোবাসা। জন্মেছেন ফিলিস্তিনের গাজায়, বেড়ে উঠেছেন আসকালানে। ইমাম আবু হানিফা যে বছর মৃত্যুবরণ করেছেন তার জন্মও সে বছরেই।বংশীয় দিক দিয়ে তিনি কুরাইশি ছিলেন। ইমাম চতুষ্টয়ের মধ্যে তিনি সবার চেয়ে কম বয়স পেয়েছেন। শত কষ্ট আর অসুস্থতা নিয়েও তিনি দমে যাননি। মক্কার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে আরবি ভাষা রপ্ত করে নিয়েছেন। আরব বেদুঈনদের সাথে উঠাবসা, তাদের সাথে চলাফেরা করতেন খাটি আরবি ভাষা শিখার জন্য। আরবের ইতিহাস, বংশধারা এবং সংস্কৃতি নিয়ে যথেষ্ট জ্ঞান ছিল। যতই তার সম্পর্কে জানলাম ততই মনে হচ্ছিল এখানে শেষ না হলেও পারত। আরবি ভাষা সাহিত্যে তার বিরাট দখল ছিল। এত অল্প বয়সেও তিনি বই লিখেছেন দুইশর কাছাকাছি। তাছাড়া নিজস্ব একটি মাযহাবও তৈরি করেছেন। ইমাম মালিকের মহান ছাত্রদের একজন। তাছাড়া হানাফি মাযহাবের ইমাম মুহাম্মদেরও সংস্পর্শ পেয়েছেন। তাই তিনি হানাফি আর মালিকি মাযহাবের সমন্বয়ে সতন্ত্র একটি ধারা রচনা করতে পেরেছেন। এই বইতে কিছু ক্ষেত্রে তথ্য বিভ্রাট ছিল। তা পরবর্তী সংস্করণে সংশোধন যোগ্য। কিছু কিছু শিরোনাম আমার কাছে অনর্থক মনে হয়েছে।
সমকালীন থেকে প্রকাশিত ইমাম সিরিজের ৩য় বই ইমাম শাফিয়ি (রঃ) জীবন ও কর্ম। সিরিজের প্রথম দুটো বই থেকে এটি সব দিক দিয়ে পরিপূর্ণ মনে হয়েছে। তথ্যের প্রাচুর্য ছিলো যথেষ্ট।
ইমাম শাফিয়ি যখন জন্মগ্রহণ করেন তখন পৃথিবী থেকে বিদায় নেন ইমাম আবু হানিফা। আর মদিনায় ছিলেন ইমাম মালেক। তিনি শিক্ষা গ্রহণ করেছেন উভয় মাযহাব থেকে। আবার শিক্ষক ছিলেন ইমাম হাম্বলের। সব দিক দিয়ে মিলিয়ে ইলম অর্জনের দিক দিয়ে তিনি ছিলেন পরিপূর্ণ।
হাদিস চর্চার জন্য তিনি বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করে বেরিয়েছেন। জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তিনি জ্ঞানের খোঁজেই ছিলেন। জীবনের শেষ দিকে তিনি নিজেকে পরিপূর্ণ করে তুলেছিলেন। নিজের অনেক মতামত থেকে সরে এসে আবার নতুন করে মতামত দিয়েছিলেন। হানাফি ও মালিকি মাযহাব এবং হাদিসের মাধ্যমে তিনি নিজে ফিকহ শাস্ত্র রচনা করে গেছেন। যা পরবর্তীতে শাফিয়ি মাযহাবের সৃষ্টিতে অবদান রেখেছে৷