আপনি কখনোই এমনটা ভাববেন না যে, বিপদ কেবলই শাস্তি। আপনি সেই পিতার কথা কল্পনা করুন, যিনি অপরাধের কারণে সন্তানকে শাস্তি দেন। কিন্তু শাস্তি পাওয়ার পর সন্তান যখন লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলে, তখন তিনি ছেলেকে বুকের মধ্যে টেনে নেন। তাকে স্নেহ-মায়ায় ভরিয়ে দেন। আল্লাহ তাআলা তো আপনাকে পিতা-মাতার চেয়েও লক্ষ-কোটি-গুণ বেশি ভালোবাসেন। তাই বিপদ দিয়ে তিনি আপনার মনের কলুষতা দূর করতে চান। আপনাকে কাছে টেনে নিতে চান।
অনেক-সময় আমরা পাপের সাগরে ভাসতে ভাসতে তাওবার কথা ভুলে যাই। ফলে আমাদের অন্তর কলুষিত হয়ে পড়ে। অন্তরের কলুষতা চিরস্থায়ী বরবাদির কারণ হতে পারে। এই কলুষতা দূর করার জন্য আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে বিপদ নামক পরীক্ষার চেয়ারে বসিয়ে দেন। এর মাধ্যমে বান্দার চিন্তার জগতে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। সে নিজের ভুল বুঝতে পারে। আগের চেয়ে আরও বেশি সতর্ক হও। রোনাজারি করে আল্লাহর দরবারে। তাই বিপদকে আযাব মনে করে কষ্ট পাবেন না। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা নিয়ামাত। এই নিয়ায়মাত আপনাকে খাঁটি মুমিন হওয়ার পথ করে দেবে। তাই সবর ও নেক আমলের মাধ্যমে এই নিয়ামাতকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করুন।
বইঃ বিপদ যখন নিয়ামাত-২ মূলঃ হুসনুয যন বিল্লাহ লেখকঃ ড. ইয়াদ কুনাইবী অনুবাদকঃ আবদুল্লাহ আল মাসউদ প্রকাশকালঃ ২০২০ প্রকাশনঃ সমর্পণ পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১৯২ ধরনঃ দ্বীন, সমসাময়িক, অনুপ্রেরণাদায়ক, আত্মোন্নয়নে সহায়ক। পড়া শুরু হয়েছিলঃ ৩০শে অক্টোবর আর শেষ করেছিঃ ২৬শে নভেম্বর, ২০২০ তারিখে।
পাঠ-প্রতিক্রিয়াঃ
মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ফাত্তাহ এবং বিনতে ইবরাহীম-এর সাবলীল অনুবাদে উস্তাদা শাওয়ানা এ. আযীয, শাইখ মূসা জিবরীল, আর উস্তাদ আলি হাম্মুদা-এর লিখনীসমূহ নিয়ে সংকলিত 'বিপদ যখন নিয়ামাত' বইটা এখনও পর্যন্ত সদকা আর উপহার হিসেবে প্রায়ই পরিচিত-অপরিচিত বহু মানুষকে দেয়া হয়। স্বাভাবিকভাবেই, সমর্পণ প্রকাশন থেকে বিপদ যখন নিয়ামাত-২ বইটা বের হয়েছে জানার পর খুব দ্রুতই সংগ্রহ করে ফেলি। বইটার কিছু অংশ বাসার সবাইকে (এবং দ্বীনের পথে সঙ্গী কিছু আত্মীয় ও বন্ধুমানুষদের) সাথে নিয়ে পড়া হয়েছে; আর কিছু একান্তে নিভৃতে। অনেককিছু শেখা হয়েছে, জানা হয়েছে, এখন মানার আর অভ্যাসে গড়ার পালা।
বইয়ে উল্লিখিত (বিপদকালে বা কষ্ট ও অস্থিরতার সময় করণীয়/অনুসরণীয়) কিছু পদ্ধতি/পন্থা/নসীহা প্রয়োগ/অবলম্বন করার সময় মনে হয়েছে আরও আগে এগুলো জানলে ও জানাতে পারলে নিজের ও অন্যের বস্তুগত ও মানসিক উভয় ক্ষতিই অনেক কম হত।
পূর্বসুরীর তুলনায় এ বইটা একটু কম ভালো লেগেছে। কিন্তু এ বইকে ঐ বিচারে ফেললে ভুল হবে। কারণ অনেকসময় কল্যাণটা তাৎক্ষণিক বুঝা যায় না, আর ভালো অনেককিছুর মূল্যমান বিচারে আমাদের ভুল হয়।
বইয়ের কিছু কিছু কথা মনে গেঁথে থাকার মতোঃ
- "আপনি যদি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে - পরিস্থিতি যতই প্রতিকূল হোক না কেন, আল্লাহ তাআলা আমার অন্তরে প্রশান্তির শীতল বাতাস প্রবাহিত করতে সক্ষম, তা হলে দেখবেন বিপদের সময় আপনার ধারণার বাস্তবায়ন ঘটছে।"
- ইবনুল কাইয়িম রাহিমাহুল্লাহ বলেন, "যে ব্যক্তি রাজাধিরাজ আল্লাহর কাছে তার মূল্য অনুধাবন করতে চায়, সে যেন খেয়াল করে-তিনি তাকে কোন ধরনের কাজে নিয়োজিত রেখেছেন।" - "...বান্দা যে অবস্থায় আছে সেটাই আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য নিয়ামাত।"
- "হ্যাঁ, আমি যোগ্য নই ঠিক আছে; কিন্তু আল্লাহ তাআলা আমার ওপর দয়া করবেন। কারণ, তিনি বান্দাকে এমন-কিছু দেন, যা পাওয়ার যোগ্যতা বান্দা রাখে না।... আল্লাহ আমাকে অবশ্যই সুযোগ দেবেন এবং আমাকে মুক্তি দেবেন। কারণ, তিনি ক্ষমাশীল ও দয়ালু।... বরং আল্লাহ আমাকে পরিশুদ্ধ ও সংশোধন করার জন্য বিপদে ফেলেছেন।... আল্লাহর রহমত অনেক ব্যাপক। তা আমাকে বেষ্টন করে নিতে সক্ষম।"
- "দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করুন, জীবনভর আপনি গুনাহমুক্ত থাকতে চান। চাই আপনার বিপদ থাকুক বা না-থাকুক। অন্যথায় আল্লাহর কাছে তাওবার ব্যাপারে আপনি একনিষ্ঠ হিসেবে গণ্য হবেন না।"