জয় জগন্নাথ! এমন কোনো বাঙালি কি আছেন যিনি জীবনে কখনও পুরী যাননি? বাঙালির বেড়ানোর জায়গা মানেই তো দিপুদা, মানে দিঘা-পুরী-দার্জিলিং। পুরীতে বেড়াতে গিয়ে সমুদ্র, গজা, নুলিয়া ইত্যাদির সঙ্গে জগন্নাথধামেও পা দিতেই হয় আমাদের। আর তখন থেকেই আমাদের মনে জাগে নানা প্রশ্ন। দেবতা এমন অদ্ভুতদর্শন কেন? তাঁর আচারগুলো আমাদের চেনা-জানা বৈষ্ণব কি শৈব মন্দিরের চেয়ে এতটা আলাদা কেন? এখানে একজনের বদলে তিনজন দেবতা কেন? রথের ব্যাপারটা এখানেই কেন এত গুরুত্বপূর্ণ কেন? বয়স বাড়ে। আমাদের চোখে ধরা দেয় নানা স্থাপত্য আর ভাস্কর্য। এবার আমরা ওডিশার ইতিহাস জানতে চাই। বুঝতে চাই তার ঐতিহ্যকে। দিন যায়। অবশেষে সব বাঙালির মতো আমাদেরও মনে জাগে একটি অমোঘ প্রশ্ন— শ্রীচৈতন্যকে কি হত্যা করা হয়েছিল ওই মন্দিরেই?! অজস্র গল্প-গাথা আর ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আমাদের হাতছানি দিয়েই চলেন জগন্নাথদেব। তাঁকে নিয়ে জড়িয়ে থাকা নানা গল্প, ইতিহাস ও বিবরণের সন্ধান করি আমরা। বাজারে থাকা নাম (ও দাম)সর্বস্ব 'জগন্নাথ কাহিনি' থেকে নানা গুলগল্পে ভরা ফিকশন— এর মধ্যে ঠোক্কর খাই আমরা। কিছুদিন পর-পরই প্রশ্ন ওঠে, 'ভালো বই' কী আছে, যা থেকে জগন্নাথদেব তথা পুরীর ইতিহাস, ভূগোল, মিথ, আর সেই না-বলেও ভীষণভাবে বলা চৈতন্য-অন্তর্ধান নিয়ে জানা যাবে? এসে গেছে তেমন একটি বই। এই একটিই বইয়ে আছে ইতিহাস, মিথ, জল্পনা, তত্ত্ব, আচার ও স্থাপত্যের বর্ণনা... এবং চৈতন্যদেব! তারই সঙ্গে আছে অজস্র ছবি। আছে গুরুত্বপূর্ণ আশ্রম ও মঠের কথা। সর্বোপরি আছে এক আশ্চর্য ঋজু লেখনী, যাতে এত কথা আর তথ্য পড়তে কিছুমাত্র কষ্ট হয় না। বরং ইচ্ছে করে ছুটে গিয়ে ট্রেনের টিকিটটা কেটে ফেলতে। মনে হয়, কতদিন যাওয়া হয়নি পুরীতে! জগন্নাথদেবকে নিয়ে গবেষণা করতে চাইলে আলাদা কথা। কিন্তু এক পাঠক হিসেবে ওই দেবমূর্তি তথা তাঁর সঙ্গে জড়িত কথা, গল্প, প্রথা জানতে চাইলে এই বইটি অদ্বিতীয়। সুযোগ পেলে অবশ্যই পড়ুন। জয় জগন্নাথ!