মধুচন্দ্রিমায় দেশের বাইরে যাচ্ছে পলিন। ওদের বিলাসবহুল ফ্ল্যাটটা সে-কদিন খালি পড়ে থাকবে। পলিনের অনুরোধে অ্যাকুরিয়ামে খাবার দেয়ার জন্য এবং প্রচণ্ড ভয়ের নানা রকম সিনেমা দেখার লোভে ওদের চৌদ্দতলার ফ্ল্যাটে এসে হাজির হলো বান্ধবী তাসনীম।
ফ্ল্যাটের দরজায় পা দিতে বিকট আঁশটে গন্ধে গুলিয়ে উঠল পেট। মনের ভেতর কু-ডাক দিল কেউ, ‘পালা, তাসনীম, পালা! এখনো সময় আছে, পালিয়ে যা এখান থেকে!’
যদিও শেষ পর্যন্ত নিজের ছেলেমানুষি ভাবনাকে পাত্তা দিল না তাসনীম, পা রাখল ফ্ল্যাটের ভেতরে। তারপরই শুরু হয়ে গেল ওর জীবনের দুঃস্বপ্নময় এক কালো অধ্যায়। সদ্য বিয়ে করা পলিন জানতেও পারল না নিজের অজান্তে কত বড়ো নারকীয় ঘটনার ভেতরে ছেড়ে দিয়ে এসেছে সে তার প্রিয় বান্ধবীকে। পাঠক, হাত-পা গুটিয়ে বসুন। শুরু হতে যাচ্ছে শুভর বিপক্ষে ভয়ঙ্কর এক অশুভ শক্তির পৈশাচিক আখ্যান।
মধুচন্দ্রিমায় দেশের বাইরে যাচ্ছে পলিন। ওদের বিলাসবহুল ফ্ল্যাটটা সে-কদিন খালি পড়ে থাকবে। পলিনের অনুরোধে অ্যাকুরিয়ামে খাবার দেয়ার জন্য এবং প্রচণ্ড ভয়ের নানা রকম সিনেমা দেখার লোভে ওদের চৌদ্দতলার ফ্ল্যাটে এসে হাজির হলো বান্ধবী তাসনীম। ফ্ল্যাটের দরজায় পা দিতে বিকট আঁশটে গন্ধে গুলিয়ে উঠল পেট। মনের ভেতর কু-ডাক দিল কেউ, ‘পালা, তাসনীম, পালা! এখনো সময় আছে, পালিয়ে যা এখান থেকে!’ যদিও শেষ পর্যন্ত নিজের ছেলেমানুষি ভাবনাকে পাত্তা দিল না তাসনীম, পা রাখল ফ্ল্যাটের ভেতরে। তারপরই শুরু হয়ে গেল ওর জীবনের দুঃস্বপ্নময় এক কালো অধ্যায়। সদ্য বিয়ে করা পলিন জানতেও পারল না নিজের অজান্তে কত বড়ো নারকীয় ঘটনার ভেতরে ছেড়ে দিয়ে এসেছে সে তার প্রিয় বান্ধবীকে।
পাঠক হাত-পা গুটিয়ে বসুন। শুরু হতে যাচ্ছে শুভর বিপক্ষে ভয়ঙ্কর এক অশুভ শক্তির পৈশাচিক আখ্যান।
◾▪️পাঠ বিশ্লেষণঃ-
মেদহীন আর ঝরঝরে লেখা কে না পড়তে চায়? আমরা সবাই পড়তে চাই এইরকম লেখা। হ্যাঁ, বলছি বিপন্ন ফিসফাস বইটির কথা। একদম ঝরঝরে তরতরে মাত্র ৮৬ পৃষ্ঠার নভেলা এটি। সত্যি বলতে নভেলাটা আমার বেশ ভালো লেগেছে। এই ভালো লাগাটার সম্পূর্ণ ক্রেডিট ভাইয়ার লেখার স্টাইল। আসলে ওনার বই না পড়লে বুঝানো অসম্ভব যে উনি কতটা মসৃণ ভাবে লিখতে পারেন। একটা সাধারন প্লট ও অসাধারণ হয়ে উঠে লেখার মসৃণতার জন্য,ভাইয়া এইদিক দিয়ে সেরা।💗
★এবার আসি বইটা নিয়ে। সত্যি বলতে বইটি এতোই ছোট যে কি লিখবো বুঝতেও পারছিনা। মাত্র সোয়া এক ঘন্টায় নভেলাটি শেষ করেছি। মন থেকে বলছি বইটা আমার ভালো লেগেছে। বইটি মূলত বইটি হরর থ্রিলার।অন্যভাবে বলতে গেলে লকড রুম হরর থ্রিলার ও বলা যায় এটিকে। মাত্র নয়টা চরিত্র নিয়ে বইটি লেখা, প্রধান চরিত্র তিনজন। শেষটা ভালোই লেগেছে। যদিও আগ থেকে একটু আন্দাজ করতে পেরেছিলাম। আমি বেশ আনন্দ পেয়েছি বইটি পড়ে। দারুন একটি সময় কেটেছে বইটির সাথে। ভাইয়াকে ধন্যবাদ এইরকম ঝরঝরে নভেলাটি পাঠকদের উপহার দেওয়ার জন্য। সামনে যেন এই ধারা অব্যহত রাখেন।❤️🤗
★আরেকটা কথা না বললেই নয়,অনেকেই বলেন যে রিডার্স ব্লকে আছি কি বই পড়বো। আমি তাদেরকে বলবো, প্লিজ এই বইটি আপনার জন্য। রিডার্স ব্লকের চেয়েও যদি কোন বড় কিছুতে আটকা পড়েন, তাহলে সেটাও কেটে যাবে এক নিমেষে আপনার।🙂
বইয়ের নাম : বিপন্ন ফিসফাস লেখক : সুস্ময় সুমন প্রকাশনা : অবসর প্রকাশনা সংস্থা। জনরা : অতিপ্রাকৃত ও ভৌতিক, সাবজনরা : লকড-রুম হরর থ্রিলার। প্রকাশকাল : ২০২১। পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৮৮ মূল্য : ১৮০ টাকা গায়ের দাম।
পলিন, তাসনীম, সুহানা সহ আরো কয়েকজন মেয়ে ঢাকায় একটি মেসে থাকতো৷ পলিন এক বড়লোকের ছেলের সাথে পালিয়ে বিয়ে করে ফেলে ছেলেটির নাম খন্দকার। তারপর পলিন তার ফ্ল্যাট এ উঠে। পলিন আর খন্দকার হানিমুনে থাইল্যান্ডে যাওয়ার প্ল্যান করে। তাই তাদের খালি ফ্ল্যাটে কারো থাকতে হবে। কারন খন্দকার এর বিশাল মাছের একুরিয়ামে খাবার দেয়ার জন্য। তাই পলিন তাসনীমকে তাদের খালি ফ্ল্যাট এ থাকার জন্য বলে, ঐদিকে তাসনীমেরও ইচ্ছে বিলাশ বহুল লাইফ একবার হলেও লিড করা। তাই সেও রাজি হয়ে যায়। কিন্তু ফ্ল্যাটের দরজা খোলার পর থেকে শুরু হয় একের পর এক নারকীয় ঘটনা৷ তাসনীম সেই ফ্ল্যাটে, কিন্তু সে জানেনা সামনে তার সাথে কতটা ভয়ংকর ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। যেমন থকথক রক্ত মাংশ মস্তক কাঁটা আঙ্গুল লুসিফার।
পাঠ প্রতিক্রিয়া : সুস্ময় সুমন ভাইয়ের লেখালেখির সাথে আমি বেশ অনেক আগে থেকে পরিচিত৷ তার লেখা বেশ কয়েকটি বই-ই আমি পড়েছি এবং আমাকে তার লেখা বেশ টানে তাই সুযোগ পেলে পড়ে ফেলি নতুন কিছু না কিছু । বিপন্ন ফিসফাস সুস্ময় সুমন ভাইয়ের একটি লকড রুম হরর থ্রিলার৷ মাত্র ৮৭ পেজের একটি বই তাই এক বসায় পড়ে ফেলা যায়৷ পুরা বইতে হরর এলিমেন্ট বেশ ভালো ছিলো৷ একটানা পড়ে গেছি৷ সেই সাথে ঢাকায় থাকা মেসের মেয়েদের বাস্তব জীবন লেখক খুব সুন্দর ভাবে তুলে এনেছেন৷ ভালো লেগেছে৷ সেই সাথে ডার্কনেস তো আছেই৷ এক কথায় আমার জন্য বেশ উপভোগ্য।।
পাঠ প্রতিক্রিয়া "হায়! এটা কি ছিল!" হ্যাঁ বইটা পড়া শেষ করে নিজের অজান্তেই এটাই বলে উঠেছিলাম। সুস্ময় সুমনের আমার পঠিত প্রথম বই 'বিপন্ন ফিসফাস'। ছোট কলেবরের আধিভৌতিক বইটির শুরু থেকেই ছিল জমজমাট। কোন বাড়তি কথাবার্তা লেখা নেই। বইয়ের প্রথম পাতা থেকেই মূল গল্পের শুরু এবং গল্পের প্রয়জনে যেটুকু প্রয়োজন, তাই লিখে গেছেন লেখক। ৮৭ পৃষ্ঠার ছোট একটি বই। কিন্তু ভীষণ থ্রিলিং আর টানটান উত্তেজনাপূর্ণ। গুটিকয়েক চরিত্র নিয়ে লেখক কলক চালিয়েছেন পাকা হাতে। পড়তে পড়তে একেবারে গল্পে ডুবে গিয়েছিলাম। লেখকের বর্ণনা কৌশল রীতিমতো লোমহর্ষক। অল্প একটু প্রেমের ছোঁয়ার পাশাপাশি একগাদা নৃশংসতা। গল্পের শেষ টুইস্টটা ছিল আরো বেশি লোমহর্ষক। গল্পের অলংকরণ বেশ সুন্দর। ১৮টি ছোট অধ্যায় আর ছোট ছোট সংলাপে সাজানো বইটি বেশ উপভোগ্য। এর পাশাপাশি প্রতি অধ্যায়ের শুরুতে অদ্ভুত আর ভয়ংকর সব স্কেচ। হৃদয় কাঁপিয়ে দেয়ার মতো।
বইটার প্রচ্ছদও চমৎকার। পেইজ, বাঁধাই, প্রিন্ট সবই ভালো। বানান ভুল নেই বললেই চলে। সবমিলিয়ে দারুণ একটা বই। থ্রিল লাভারদের জন্য বইটা উপভোগ্য হবে বলে আমি মনে করি।
তাসনিম, ইডেনের ছাত্রী। আজিমপুরের এক বাসায় থাকেন তার ৪ ফ্রেন্ডের সাথে। তাসনিমের রুমমেট পলিন হঠাৎ করেই জানালো তার বয়ফ্রেন্ডের সাথে তার বিয়ে হয়ে গেছে এবং তারা হানিমুনে দেশের বাইরে যাচ্ছে। সে চাচ্ছে তাদের অ্যাপার্টমেন্টে কয়েকদিনের জন্য তাসনিম থাকুক। বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে থাকার কৌতুহল, লোভ সামলাতে না পেরে রাজী হয়ে গেলো তাসনিম। বিপত্তি ঘটলো সেদিনই! তাসনিমের মনে হলো একা এই অ্যাপার্টমেন্টে তার সাথে আরো একজন আছে এবং তাকে লক্ষ্য করছে। এক অদ্ভুত ভীষণ ভয়ে শরীরে শীতল স্রোত বয়ে গেলো তার। কি সেটা! কি আসছে তার দিকে? এটা কি তাসনিমকে শেষ করে দিবে?
চমৎকার এক থ্রিলার পড়ে শেষ করলাম। থ্রিলার প্রেমীরা পড়তে পারেন। শেষের চমকটা জানার জন্য হলেও আমি মনে করি পড়া দরকার। লেখকের আগের বেশকিছু থ্রিলার পড়েছি। এবং সবগুলোই আমার ভালো লেগেছে।