এই বইয়ে লেখকের 'যেমন করে ছায়া ঘনাইল' শীর্ষক ভূমিকা এবং 'সম্পাদকের দু'-চার কথা' ছাড়া যা আছে তা হল~ ১. প্রিকোয়েল ছোটোগল্প 'গেনু'; ২. মূল উপন্যাস তথা ভাদুড়ি মশায়ের আবির্ভাব 'নিকষছায়া'। তান্ত্রিক হররের এই রমরমার বাজারেও এই বইয়ের দুটি লেখা বিশিষ্ট হয়ে ওঠে তিনটি কারণে: ১) লেখকের লেখনীটি ভারি চমৎকার। তাতে রস আছে, দরদ আছে, নির্মোহ ভাব আছে; সর্বোপরি তাতে আছে সুন্দরভাবে বাক্য গঠনের সেই বিরল গুণ যা আজকের ফেখকদের মধ্যে ভয়ংকর দুর্লভ। ২) অকাল্ট ডিটেকটিভ তথা যোদ্ধা হিসেবে ভাদুড়ি মশায় থাকলেও এই গল্পের নানা গৌন চরিত্রই আসলে মুখ্য। খুব অল্প পরিসরে কম সময়ের মধ্যেই তারা আমাদের মন জয় করে নেয়। ৩) ভয়ের আসল উৎস যে গা-ছমছমের বদলে অত্যাচার তথা গ্রিভিয়াস বডিলি হার্মের আশঙ্কা— সেটা লেখক নিপুণভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন। আমার বইটা আরও বেশি ভালো লাগল তাতে তন্ত্রের নামে বৌদ্ধধর্মের ইতিহাস নিয়ে প্যাচাল পাড়া হয়নি বলে। বইটার দুর্বলতা দু'টি। তারা হল~ (ক) ভাদুড়ি মশায় এখানে একেবারে শেষে ডিয়ুস এক্স মাখিনা হয়ে আসা ছাড়া বিশেষ কিছু করেননি। (খ) সিকুয়েল লেখার জন্য গল্পের শেষে যেভাবে একটি হুক বানানো হয়েছে, সেটা আমার ভালো লাগেনি।
বইটির ছাপা ও লে-আউট চমৎকার। কিছু বানান নিয়ে আমার আপত্তি আছে, তবে সেগুলো পাঠের সময় রসবিচ্যুতি ঘটায় না। সব মিলিয়ে বলব, সচরাচর তান্ত্রিক হররে আমরা যে-সব কাটামুন্ডুর নাচ টাইপের জিনিস দেখি, তার তুলনায় এই বইটি অনেক পরিণত, অনেক ভালো। তাই সুযোগ পেলে এটি পড়তেই পারেন।
কলকাতার অসংখ্য তন্ত্র-মন্ত্র হররের মধ্যে ভালো বই পাওয়া মুশকিল। এরমধ্যেই খোঁজ পেলাম নীরেন ভাদুরী সিরিজের। পড়ে ফেললাম সিরিজের উপন্যাস নিকষছায়া। ঘুরেফিরে সেই তন্ত্র-মন্ত্র হলেও ভিন্নধর্মী লেগেছে, নীরেন ভাদুরী আশিবছর বয়সী সংস্কৃতের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, তন্ত্র সাধনা থেকেও অবসরপ্রাপ্ত। এক উন্মাদ তান্ত্রিক ও পিশাচের পাল্লায় পড়া একদল মানুষকে বাঁচাতে অবসর ভেঙে ফেরত আসে সে। খালি চোখে কাহিনীটা সাধারণ, কিন্তু গল্প বলার ধরনের কারণে উপভোগ্য ও ক্রিপি হয়ে উঠেছিল। একইসাথে ছিল সাসপেন্স ও কিছুটা লজিক্যাল ব্যাখ্যা। হররপ্রেমীদের ভালো লাগবে। রিকমেন্ডেড।
ভালো লেগেছে। শুরুর দিকটা ভয়ংকর, যদিও তারপর এর রেশ থাকেনি। কিন্তু সবমিলিয়ে দারুণ। তন্ত্র নিয়ে একটি উল্লেখযোগ্য কাহিনি। সিরিজটাও খুবই সম্ভাবনাময়। রেকমন্ডেড।
যত গর্জে তত বর্ষে না স্টাইলে বইটা শেষ হল। এত ক্ষমতাধর পিশাচ গেনু কোনোরকম ফাইট দেওয়া ছাড়াই সাইজ হয়ে গেল, সাথে মৃত্যুর পরে সবাই যেরকম চরম আনন্দে ঘোরাঘুরি, মারামারি করে বেড়ালো সেটাও বাড়াবাড়ি হয়ে গেল। তবে বইটার ভিতরে কিন্তু এর পরে কি হয় টাইপ নেশা ধরানো ব্যাপার আছে।
এই বইটা পড়ার আগেই আমার হইচইতে সিরিজটা দেখা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আমি নিতান্তই অসন্তুষ্ট হয়ে চিন্তা করেছিলাম বইটা পড়ে জাজ করব। সেজন্যই পড়া। যাইহোক, বইটা পড়ে খারাপ লাগেনি। কিন্তু ভয় পাওয়া ব্যাপারটা হল না। কিছু ক্ষেত্রে ঘৃণা হচ্ছিল। অবশ্য তন্ত্রে এগুলা সাধারণত ব্যাপার। তবে বাংলা সাহিত্যে তন্ত্র নিয়ে বিভুতিভূষনকে টেক্কা দেওয়া মুখের কথা না। লেখক চরিত্রগুলাকে যথেষ্ট যত্ন নিয়ে প্রস্তুত করেছেন। কিন্তু মূল চরিত্র নীরেন ভাদুড়িকে সময় দেন নাই। তখন মনে হয় সিরিজের কথাটা মাথায় রাখেন নাই অথবা পরের পর্বগুলাতে আস্তে আস্তে খোলস ছাড়াবেন বলে চিন্তা করেছেন। তন্ত্র নিয়ে আগ্রহ থাকার কারণে আমি এসব বই পড়ি। তবে এ বইয়ে তন্ত্রকে ডিটেইলিং করা হয়নি। তাই আরো কম ভাল লাগল। সবমিলিয়ে ৩ তারা দিলাম।
কাহিনি টা বেশ ইন্টারেস্টিং, গা ঘিনঘিনে এবং কখনো কখনো ভয় ধরানো। তবে মাঝে মাঝে একটু টেনে নিয়ে যাওয়া হলো বলে মনে হলো। তবে মীর এর অডিওবুকে যা অসাধারণ ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে তা বলার বাইরে। লেখকের লেখা এই প্রথম শোনা হলো। লেখার ধরন বেশ পাকাপোক্ত। সুন্দর। ভালো লেগেছে। তবে শেষটা আরেকটু পরিণত হবে আশা করেছিলাম। অডিওবুক না শুনে থাকলে এই বই শেষ করা বেশি দুরূহ হতো আমার জন্য।
নীরেন ভাদুড়ি সমগ্র ১ এর শেষ গল্প এটি।রচনা - ক্রমানুসারে বইএর শেষ গল্প হলেও “ chronological order” এ এটি কিন্তু ‘ পর্ণশবরির শাপ ‘ এর আগের ঘটনা কারণ গল্পে অমিয় আর মিতুল এর প্রেম ততটা জমে ওঠেনি তখনও। ‘ black magic’ বা তন্ত্র-মন্ত্র নিয়ে যারা খুব মাতামাতি করেন তারাও হয়তো গল্পে কিছু শব্দ চয়ন খেয়াল করেও ‘ গেনু’ এর কীর্তিকলাপে মনোনিবেশ করেছেন বেশি । কিন্তু আমার মনের মাঝে উঁকি দিয়ে চলেছে একটাই প্রশ্ন - এধরণের গল্পে নারীচরিত্রের যৌবন বিশ্লেষণে ‘ ডাবকা’ শব্দের ব্যবহার কী খুব উপযুক্ত ?! তন্ত্র মন্ত্রের গল্পে এই প্রথম বিবস্ত্র নারীশরীরের উল্লেখ করে লেখক যে খুব প্রশংসনীয় কিছু করে দেখিয়েছেন তা কিন্তু আমার মনে হয় না। নারীশরীর কে উপভোগ করার দৃষ্টিভঙ্গির যে উল্লেখ রয়েছে এই গল্পে তার মধ্যে মহানুভব কিছু লক্ষ করার অবকাশ হয়নি। পিশাচ এর লিঙ্গ কদর্য্য হবে সেটাই স্বাভাবিক । তার বর্ণনায় ‘ লিঙ্গ উঁচিয়ে’ গেনুর উল্লাস সহ আরও অনেক ঘটনাক্রম গল্পটিকে আমার কাছ থেকে ২টি তারা পাওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করল। গল্পের কিছু জায়গা পড়ার সময় গল্পটিকে কোন ‘genre’ এ ফেলব তা ভেবেই অস্থির হচ্ছিলাম - তন্ত্র-মন্ত্র নাকি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্যে একটু খোরাকের জোগান ! যাক, এটুকুই গল্পের প্রভাব আমার মনে।
"গেনু"! অদ্ভুত নামের এই পিশাচের সাথে পরিচিতি বইয়ের প্রথম গল্পে। গল্পে সঞ্জয় ও তার ৩ বন্ধু hostel এর ছাদে আড্ডায় ব্যস্ত। সঞ্জয় তার বাকি বন্ধুদের শোনায় ছোটবেলায় তার সাথে ঘটে যাওয়া এক অদ্ভুতুড়ে গল্প। আর সেই গল্প শেষ হয় ৪ বন্ধুর মধ্যে এক বন্ধুর অকালমৃত্যু তে!
সময়ের সাথে সাথে বড়ো হয়ে ওঠা ৩ বন্ধু নিজের নিজের জীবনে প্রতিষ্ঠিত।হঠাত করেই শহরের মানুষ চঞ্চল হয়ে ওঠে লাশ চুরি নিয়ে! ফিরে আসে গেনু, তার মালিক পিশাচসিদ্ধ তান্ত্রিকের সাথে, তাদের কার্যসিদ্ধির জন্যে। ঘনিয়ে ওঠে "নিকষছায়া"। সেই নিকষছায়া কাটাতে গল্পে আবির্ভাব ঘটে নীরেন ভাদুড়ির। কেমন হয় এই দুজনের duel, জানতে গেলে বইটা পড়তে হবে।
বইয়ের শেষ পাতায় একটা twist আছে, যাতে বিশ্বাস হয়, ভাদুড়ি মশাইকে আবার ফিরতে হবে।
এই গল্পে রয়েছে ভরপুর তন্ত্র মন্ত্র, তাই তন্ত্র বিষয়ক বই পড়তে যাদের ভালো লাগে, তারা বইটি নিঃসন্দেহে উপভোগ করবেন। অলৌকিকতা আর বিজ্ঞানমনস্ক চিন্তার মিশেল লেখক খুব যত্ন নিয়ে করেছেন গল্পে। এক একটা দৃশ্যের বর্ণনা এতটাই detailed আর cinematic, যেন চোখের সামনে ধরা পড়ে (গেনুর মৃত দেহের অন্ত্র গোছানোর scene)। তবে কিছু ব্যাপার একটু খাপছাড়া মনে হল। প্রথম গল্পের সঞ্জয়ের প্রয়োজন যেন দ্বিতীয় গল্পে আর নেই, গেনুর খবর দেওয়া ছাড়া আর কোন কাজ নেই তার গল্পে। ঝরঝরে এই লেখার pace মাঝে কোথাও গিয়ে বেশ slow হয়ে পরে আবার যেন দম নিয়ে ফিরে আসে।
বইয়ের প্রচ্ছদ অত ভালো লাগেনি। বেশকিছু ভুল বানান রয়েছে। পরবর্তী সংস্করণে আশা করি ঠিক হয়ে যাবে।
Being an atheist it's always a turmoil for me when I pick up a story dealing with horror elements. Same thing happens in movies, when the horror element isn't psychological or in the backdrop of the story. (But surprisingly, I read fantasy very easily). As it happened with 'The Stand', one of my favourite book but the ending dealt with literal 'God' and it took a little bit of the genius away from me. I still make my brain understand that this is the genre and this is what I should be expecting off the stories. I still haven't come to that stage but good stories make the way a little easier.
This story was one of those, it dealt with literal monsters and dark spells and incomprehensible disgusting rituals but the story was a good one. I am always a bit critical about bengali stories 'cause I hold them on a different standard but this one passed the bar easily. Easy writing and a good horror story; suggested by one of my friend and I will say, it was well worth it.
ভীষণ সাবলীল লেখনী। ভয় দেখানোর জন্য অদ্ভুত বিকৃত জিনিস লেখার প্রয়োজন নেই সেটা এই লেখাটি সার্থক ভাবে প্রমাণ করেছেন। নিজ লেখনী গুণে জমাট ভয়ে সৃষ্টি করেছেন তা স্মৃতি প্রশংসাযোগ্য। লোকনাথ চক্রবর্তীর চরিত্রটি অসামান্য লেগেছে। যেখানে এমন অন্ধকার এবং দৃঢ় চরিত্র আছে সে গল্পের নিকষছায়া নামটি সার্থক । প্রচ্ছদ আমার বেশ লেগেছে। পরবর্তী অংশের অপেক্ষায় রইলাম।
মীর আফসার আলীর চ্যানেলে অডিওবুক টা শোনা হলো। তন্ত্র -মন্ত্র, কালো জাদু, অপদেবতা, ভূত- পিশাচের গল্প আমার সব সময় প্রিয়। এই গল্পটা শুনে তেমন ভয় লাগেনি কিন্তু প্রচুর ঘেন্না লেগেছে। প্লটটা খুবই প্রেডিক্টেবল ছিল আর চরিত্রগুলো নিয়ে তেমন কিছু বলার নেই। শুধুমাত্র মামির চরিত্রটি অসাধারণ লেগেছে কেননা সঞ্জয়ের প্রতি তার ভালবাসাটা দেখে মুগ্ধ হয়েছি। overall Amar rating 3.5
Amazing audiobook narration from Mir's team. It truly elevated the story, gripping my interest throughout its length. The story itself, beginning with a nightmarish childhood horror, builds a chilling eerie atmosphere preceding the climax.
An absolute masterpiece. The slow build of suspense and the aftermath of the certain events are spine chilling. From first till last, the book is very captive. The contrast between different characters, different ideologies and the fight for integrity is very well written.
আগে পর্ণশবরীর শাপ। এখন নিকষ ছায়া শেষ করলাম। শেষের চমকগুলো দারুণ মনে হয়েছে। অনেকের কাছে মনে হবে বেসিক্যাল কিছুই তবে গল্পের মোড়ে এটাই অনেক কিছু আমার কাছে।হয়তো ক্ষুদ্র পাঠক বলে।