সমুদ্রের পানিতে যখন বসে ছিলাম, একটা অদ্ভুত উপলব্ধি হয়েছিল। সমুদ্রের পানি এসে গায়ে জোরে বাড়ি দিচ্ছে। আমাকে উলটে-পালটে ঘুরিয়ে ফেলে দিচ্ছে। গায়ে বালু আর শ্যাওলা লেগে যাচ্ছে। লবণাক্ত পানি নাক, মুখ, চোখে গিয়ে জ্বালাপোড়া করছে। আর আমি খিলখিল করে হাসছি।
তখন মনে হলো, সমুদ্র কত বিশাল আর আমি কত ক্ষুদ্র! সমুদ্রের বিশালতার মাঝে আমার মনের সকল কষ্ট ও সমস্যা যদি ফেলে দেই, তা কত ক্ষুদ্র, নগণ্য! এক নিমিষেই তলিয়ে যাবে। এরপরেও জীবনে চলার পথে আমরা আমাদের সমস্যাগুলোকে অনেক বড় মনে করি। মনে করি যেন ঝড়ের মত আসা বিপদ আমাদের খেয়ে শেষ করে ফেলবে। অথচ দুইদিন পর ঠিকই সেই বিপদ বুদবুদের মত উড়ে যায়। কেন তাহলে আমরা ধৈর্যহারা হই?
কারণ মহাপ্রকৃতির মাঝে আমরা যে মানুষ, নিজেকে অনেক বড় কিছু ভাবি। সমুদ্র যেন আমার সেই অহংকারকেই ভেঙ্গে চুরমার করে দিচ্ছিল।
আবার একটু পর সমুদ্র এসে আমার সারা শরীর ভিজিয়ে দিয়ে আমাকে পরম মমতায় আলিঙ্গন করে যেন কানে ফিসফিস করে বলল, “তুমিই তো সমুদ্র"!
জন্ম বাংলাদেশে। এস ও এস হারম্যান মেইনার কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি সম্পন্ন করে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ফলিত পরিসংখ্যান থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করার পর কিছুদিন আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্রে কাজ করেন। ২০১২ সালে কানাডায় উচ্চ শিক্ষার্থে পাড়ি জমান। ইউনিভার্সিটি অব সাস্কাচুয়ান-এর প্রাণ পরিসংখ্যান বিষয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করে পরবর্তীতে কম্পিউটার বিজ্ঞানে পিএইচডি শুরু করেন। পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশী-বিদেশী, সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে গবেষণায় কর্মরত আছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন মা, একজন কন্যা, একজন ভগ্নী, একজন জীবনসঙ্গী, একজন সহকর্মী এবং একজন বন্ধু। প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার পাশাপাশি লেখালেখি, বই পড়া, ছবি আঁকা, গান গাওয়া, বাগান করা ও ভ্রমণ- এই নিয়েই সময় কাটান।
Rifat was born and raised in Bangladesh. She went to SOS Hermann Gmeiner College for her primary, secondary and higher secondary education. She finished her BS and MS in Applied Statistics from the University of Dhaka, Bangladesh. She moved to Canada in 2012 for higher studies. Rifat completed her MSc in Biostatistics from the University of Saskatchewan and started her PhD in Computer Science at the same university in Canada. Besides her full-time studies, Rifat has been working with different governmental and non-governmental organizations for her research work.
Rifat is a loving daughter, a sister, a life-partner, a colleague, and a friend. Besides her studies and research work, she enjoys writing, reading books, painting, singing, gardening and traveling.
তরুণ গবেষক ও লেখক রিফাত জাহান কানাডাপ্রবাসী হলেও পাশের দেশ ইউএসএতে তার যাওয়া হয়নি। তো এবার একটি সম্মেলনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় গেলেন। সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সর্ব-দক্ষিণের রাজ্য ফ্লোরিডার উল্লেখযোগ্য কিছু স্থানে ঘুরে বেড়ালেন৷ 'জীবন সাথী' সাঈদ ইসলামসহ সেই ফ্লোরিডা সফর নিয়ে ছোট্ট এই ভ্রমণকাহিনি।
সম্মেলন শেষ করে প্রথমেই লেখকদের যাত্রা মায়ামিতে। গ্ল্যামারাস মায়ামি সমুদ্র সৈকত দেখে ভোলেননি রিফাত জাহান। সাধারণত আমাদের দেশের মানুষ স্বদেশের সবকিছু নিন্দা করতে পছন্দ করেন। একবার বিদেশে যেতে পারলে তো কথাই নেই। তখন বাংলাদেশের সবকিছু হয়ে যায় দুই চোখের বালি। কিন্তু রিফাত জাহান এক্ষেত্রে সততা দেখিয়েছেন৷ ভালো-মন্দ দু'দিক পর্যবেক্ষণ করে অনেকের স্বপ্নপুরী মায়ামি নিয়ে তিনি লিখেছেন,
' হয়তো একদল বন্ধু-বান্ধব মিলে দুষ্টামি করছে - সেটা আমিও উপভোগ করি। কিন্তু অশ্লীলতা এবং উগ্রতার ছড়াছড়ি। আমি সেখানে ঘুরে শান্তি পাইনি।... ওখানকার ভালো দিক হলো, কেউ কাউকে বিরক্ত করে না। যে-যার মতো উপভোগ করছে। '
পাশ্চাত্য গণমাধ্যমের স্বপ্নের জগৎ মায়ামি নিয়ে এক প্রাচ্যবাসীর পর্যবেক্ষণ নিঃসন্দেহে সুন্দর।
ফ্লোরিডায় অনেকেই স্প্যানিশ বংশোদ্ভূত। এমনকি কেউ কেউ ইংরেজিতে কথা পর্যন্ত বলে না!
আমাদের দেশে গনৎকারদের আমরা বিশেষ পাত্তা দিই না। মনে করি এসব বুজরুকি বুঝি এদেশেই বেশি। অথচ ফ্লোরিডার রাস্তার মোড়ে মোড়ে গনৎকারের দেখা পাওয়ার ঘটনা পড়ে প্রথাগত ধারণায় আঘাত লাগবে।
ফ্লোরিডায় আর্নেস্ট হেমিংওয়ে জাদুঘর রয়েছে। মূলত হেমিংওয়ের বিলাসবহুল বসতবাড়িকে সরকার জাদুঘরে পরিণত করেছে। ছয়টি আঙুলওয়ালা বেড়াল যাকে পলিড্যাক্টাইল বলা হয়, সেই পলিড্যাক্টাইল বেড়াল হেমিংওয়েকে উপহার দিয়েছিল এক নাবিক। হেমিংওয়ের পলিড্যাক্টাইলদের বংশধরেরা এখন সগৌরবে জাদুঘরে বসবাস করে!
যুক্তরাষ্ট্র শতভাগ পুঁজিপতির দেশ। সেখানে ভ্রমণ করতে যাওয়ার সময় পকেটভর্তি ডলার নিয়ে যাওয়াই শ্রেয়। নতুবা জাদুঘরের গাইডও দুর্ব্যবহার করতে দ্বিধা করবে না।
কিং কংয়ের আইল্যান্ড, হ্যারি পটারের রাজ্য, জুরাসিক যুগের ডায়নোসরদের পৃথিবী, মিকি মাউসের জগৎ এবং জগদ্বিখ্যাত মাদাম তুসো জাদুঘর ভ্রমণের বিত্তান্ত শুনিয়েছেন রিফাত জাহান। মাঝেমধ্যে বিশ্লেষণ করতে চেয়েছেন পশ্চিমা শোষণবাদী কাঠামোকে।
নিজের ক্ষুদ্রতার কারণে নতুন লেখকদের বই পড়া ও কেনা দুটোই কম হয় - অপরাধবোধ নিয়েই এই সত্য স্বীকার করছি। সাধারণত নতুন লেখকদের গদ্যে আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না। রিফাত জাহানের ক্ষেত্রেও এর ব্যত্যয় হয়নি। সম্ভবত প্রথম মুদ্রণের কারণে বেশি গুরুত্ব দিয়ে প্রুফ রিডিং করা হয়নি। বেশকিছু ভুল বানান চোখে পড়েছে। যেমন - রঙ্গিন, কাহিনী, বাংলাদেশী, গান গাবো ইত্যাদি। গদ্য মোটামুটি চলনসই। তবে আরও স্বতঃস্ফূর্ত গদ্যশৈলী হলে পড়ে আরাম পেতাম। একটা উদাহরণ দিই - ' সাগরের পানি এসে গায়ে জোরে বাড়ি দিচ্ছে। ' না লিখে 'সাগরের জল গায়ে আছড়ে পড়ছে। ' লিখলে হয়তো আরও শ্রুতিমধুর হতো।
তরুণ এই লেখকের জন্য শুভকামনা। আশা করি পরবর্তী মুদ্রণে বানানের বিষয়গুলি সংশোধন করবেন এবং ভবিষ্যতে আরও চমৎকার লেখা উপহার দেবেন।
This is such an interesting book to read. Whole book is full of information & amazing stories. I enjoyed it very much & I recommend everyone to read this book.
ভ্রমণ কাহিনি/বর্ণনা পড়তে ভালো লাগে সবসময়ই, এই বইটি প্রচলিত ভ্রমণ কাহিনি থেকে একটু ভিন্ন, এতে ভ্রমণের বর্ণনার পাশাপাশি ব্যাক্তিগত অনুভূতি, মতামত, জীবন দর্শন কে যোগ করা হয়েছে বিভিন্ন পর্যায়ে, যেটি আমার মতে বইটির উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। প্রাঞ্জল, সাবলীল বর্ণনায় কখনোই একঘেয়েমি পেয়ে বসে না, এক টানে পড়ার মত বই, লেখকের বর্ণনা চোখের সামনে নিয়ে আসে ফ্লোরিডার দর্শনীয় স্থানসমূহ। কিছু মুদ্রণ প্রমাদ আছে, যা আশা করি সংশোধন করা হবে।
যাদের ফ্লোরিডা ভ্রমণ হয়নি বা যেতে ইচ্ছুক অথবা জায়গাটি সম্পর্কে বাস্তবসম্মত অভিজ্ঞতা জানতে ইচ্ছুক তাদের জন্য খুবই সহজ সরল ভাষায় একেবারে গল্পের ছলে লেখক ফ্লোরিডার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানের সুবিধা অসুবিধা গুলো বর্ণনা করেছেন । বইটিতে হলোকাস্ট মেমোরিয়াল এর শেষ খাঁচার পরের আয়নার তথ্যটি, আর্নেস্ট হেমিংওয়ের যাদুঘরের বর্ণনা ফ্লোরিডা ভ্রমণে উৎসাহ জাগায়।
লেখকের প্রথম বই হিসেবে বইটি যথেষ্ট পরিণত ও তথ্যবহুল। বোঝা যায়, লেখক সময় নিয়ে কাজটি করেছেন। যদিও সময় সময় কিছু বিষয় হয়ত পাঠকের চোখে দুর্বলতা বা অসঙ্গতি হয়ে ধরা দিতে পারে। তবুও বইটি পড়ে ফ্লোরিডা ভ্রমণের ইচ্ছা আমার বাকেট লিস্টে যুক্ত হয়েছে, বিশেষ করে হেমিংওয়ে জাদুঘরের কথা আলাদা করে বলতেই হবে। পাঠকের মনে এইটুকু সদিচ্ছার বীজ বুনতে পারলেই লেখকের শ্রম ও প্রচেষ্টাকে ধন্যবাদ দিতে হয়।
I enjoyed reading this book immensely. It was full of information and interesting anecdotes. It was so nicely written that I felt like I was part of this trip. A must read and highly recommended All the best!!!
ভ্রমন কাহিনি পড়তে আমার বেশ ভালোলাগে। এই বইটি পড়ার পরে আমার মনে হয়েছে আমি যেন কল্পনাতেই মায়ামি ঘুরে এসেছি। বইয়ের লেখা বেশ সাবলীল এবং বেশ কিছু অংশ আমার চিন্তার জগতে নাড়া দিয়েছে। যেমন, “সমুদ্র কত বিশাল! আর আমি কত ক্ষুদ্র! সমুদ্রের বিশালতার মাঝে আমার মনের সমস্যাগুলোকে যদি ফেলে দিই, তুলনায় তা কত ক্ষুদ্র, নগন্য বলে মনে হবে!………….সমুদ্র যেন আমার সেই অহংকারকেই ভেঙ্গে চুরমার করে দিচ্ছিল।”
লেখায় ফ্যান্টাসির থেকে বাস্তবতাটাকেই বেশি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। I will highly recommend this book.