ইমাম মালিক। সাহাবি যুগের পর যাকে বলা হতো 'ইমাম দারিল হিজরাহ' তথা মদিনার ইমাম। অসংখ্য মুহাদ্দিসের উস্তায এই ইমামের বাল্যকাল, ইলম অর্জন, আখলাক-শিষ্টাচার ও দ্বীনের খিদমত-সহ জীবনের প্রতিটি দিক দলিল সহকারে অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষায় উঠে এসেছে এই বইতে। কিভাবে তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছেন, কিভাবে মদিনার হাদিসের মসনদ অলংকৃত করতে সক্ষম হয়েছেন—এসব জানা যাবে এই বই থেকে।
ইমাম মালিক, মদিনার ইমাম হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন তিনি। অন্যান্য ইমামদের চেয়ে তিনি ছিলেন অনেক ক্ষেত্রেই ব্যতিক্রম। অন্যরা যে বিষয় একভাবে দেখত তিনি সে বিষয়টি দেখতেন ভিন্ন ভাবে। যেমন: শাসকদের দরবারে যাওয়া বেশির ভাগ ইমামই পছন্দ না করলেও তাঁর যুক্তি ছিলো আমরা না গেলে তাদের সেখাবে কে?
তাঁর জ্ঞান আহরণ, জ্ঞান বিতরণ, জীবন ধারণেও ছিলো ভিন্নতা। সুন্দর সুন্দর জামা, সুগন্ধি ব্যবহারে খ্যাতি ছিলো তাঁর। প্রচুর হাদিস সংগ্রহ করলেও খুব অল্প সংখ্যক হাদিস বর্ননা করেছেন তিনি। উনি ধারণা করতেন সব হাদিস সব সময়ে সব যায়গায় বলে বেড়ানোর জিনিস নয়।
ছোট বইটি প্রাথমিক পাঠকদের জন্য সুন্দর হলেও একদম নতুন পাঠক হলে ইমাম সম্পর্কে অমূলক কিছু ধারণা করে বসে থাকতে পারে। তথ্যগুলো আরো গুছিয়ে, সতকর্তার সাথে সম্পাদনা করা উচিত ছিলো।
আলহামদুলিল্লাহ। ইমাম সিরিজের দ্বিতীয় বইটাও শেষ করলাম। সহজ সরল আর সাবলীল ভাষা। সুন্দর উপস্থাপনা ছিল। বিভিন্ন কিতাব থেকে বিশুদ্ধ বর্ণনাগুলো তুলে আনা হয়েছে এখানে। ইমাম মালিকের জীবন-চরিত আমাকে খুব অবাক করেছে। ছোটকালে কোরআন হিফজ করার পর কবুতরের সাথে সখ্যতা গড়ে উঠে। যার কারণে পড়ালেখার প্রতি একধরণের অনিহা ছিল। একদিন বাবার হালকা তিরস্কারসুলভ আচরণ তার আত্মমর্যাদাবোধ জাগিয়ে তোলে।তারপর থেকে তিনি জ্ঞানের জগতে প্রবেশ করেন। এটাই ছিল তার জীবনের টার্নিং পয়েন্ট। তারপর মনে মনে ভাবলাম জীবনকে পরিবর্তন করার জন্য এত মোটিবেশনের দরকার নেই। নিজের মধ্যে একটু আত্মমর্যাদাবোধ থাকলেই পিছিয়ে থাকা সম্ভব নয়।
আমার মনে হয়েছে এই বইতে ইমাম মালিক রা: কে একজন মুহাদ্দিস হিসেবে বেশি ফোকাস করা হয়েছে। নিঃসন্দেহে তিনি একজন বড়মাপের মুহাদ্দিস তা অস্বীকার করার জো নেই। হাদিসের প্রতি ভালবাসা ছিল দেখার মত। প্রবল ধীশক্তির অধিকারী ছিলেন। কখনো দাড়িয়ে কাউকে হাদিস শুনাতেন না, সেটা খলিফা হলেও। কেউ হাদিস শুনতে এলে তিনি প্রথমে তাকে বসতে বলতেন। পরে ভিতরে গিয়ে গোসল করে নতুন জামা পড়ে সুগন্ধি মেখে তারপর হাদিস শুনাতেন। তিনি যে সম্পদ আমাদের জন্য রেখে গিয়েছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: মুআত্তা, যেটাকে অনেক উলামারা কুরআনের পরে সবচাইতে বিশুদ্ধ গ্রন্থ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একজন বিশ্যবরেণ্য ফকিহ সে কথা খুব কমই আলোচিত হয়েছে। যদিও ওনার মাযহাব নিয়ে বিশদ আলোচনা আছে। উনার ফিকহি গবেষণা কেমন ছিল তা এখানে বর্ণিত হয়নি। ’রচনা ও গবেষণা’ নামে একটি পরিচ্ছেদ থাকলেও তাতে শুধুমাত্র তার ’মুআত্তা’ গ্রন্থের আলোচনা করা হয়েছে। সার্বিক বিবেচনায় খুবই উপকারি একটি বই। আমরা নিজেদের চিনতে হলে আগে আমাদের পূর্ব মহাপুরুষগণ কেমন তা আমাদের জানা জরুরি। তাই এই সিরিজের বইগুলো খুব উপকারি বলে আমার মনে হয়েছে। it's recommended for all of you. ধন্যবাদ সংকলক ও সমকালীন পরিবারকে।