গথিক রহস্য আর আতঙ্কের নিপুণ মিশ্রণে রচিত এই উপন্যাস বাংলার নস্ট্যালজিয়া-ভারাতুর পাঠকদের কাছে অতি বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে। আজকের ওয়েবসিরিজ এবং অন্য মাধ্যমে নিত্যনতুন ভয়াল উপাদানের সন্ধান পাওয়া পাঠকের কাছে, এমনকি কিশোর পাঠকের কাছে এই লেখা কোনোমতেই ভয়-জাগানিয়া হবে না। ক্লাইম্যাক্সটিকে তো হাস্যকর ছাড়া কিছুই বলা চলে না। তবে ওই আর কি, বাঙালি ন্যাপথালিনের গন্ধ ভালোবাসে। কিছু পাঠকের কাছে এই লেখারও আবেদন থেকেই যাবে। তাছাড়া এ যে সুলিখিত— সেই নিয়ে তো সংশয় থাকে না। যাইহোক...!
উপন্যাসটা পড়লাম লেখকের "ভৌতিক অমনিবাস" থেকে। গল্পগুলো আগে শেষ করার কারণে ধারণা ছিল কতটুকু আশা করলে ঠকবো না। এবং ঠকিনি, আশার পারদ কমিয়ে রেখেছিলাম 😃। মানবেন্দ্র পালের লেখার ধরণ নিয়ে কোন কথা হবে না, লেখার ধরণ উনার খুবই সুন্দর। কিন্তু উপন্যাসটা যেহেতু ভৌতিক, ভয়ের পরিমাণটা যদি আরেকটু বেশি থাকত তাহলে দুর্দান্ত হতো। আর বাংলা ভৌতিক গল্প যঠেষ্ট পরিমাণ পড়া থাকলে এর কাঠামো খুব সহজেই ধরা যাবে, পুরাতন বাড়িতে নতুন ভাড়াটিয়া, সেখানে অশরীরীর উপস্থিতি, খুব ইউনিক প্লট বোধহয় না। কিন্তু ঐ যে বোল্লাম, আশার পারদ কমিয়ে রাখলে খুব একটা খারাপ লাগবে না। আর যদি বৃষ্টি বাদলের দিনে কাঁথা মুড়ি দিয়ে পড়তে পারেন, আহা, উপরি পাওনা হবে সেটা, আর গল্পের স্বাদটাও বাড়িয়ে দিবে।
অলৌকিকে বিশ্বাস নেই। কিন্তু অলৌকিক গল্প পড়তে ভালোবাসি। বহুদিন পর এরকম ভালো উপন্যাস পড়লাম। সাবলীল লেখা, জোর করে ভয় দেখানোর কোনো চেষ্টা নেই। আধুনিক ভয়ের গল্প বা উপন্যাস লেখকদের লেখার থেকে হাজারগুণে ভালো এই উপন্যাস।
পুরো গল্পটি মোট ২টি অংশে ভাগ করা। ১ম অংশে ১৮টি অধ্যায় এবং ২য় অংশে ৩টি অধ্যায়। এই বইটি পড়ার সময় আমার বার বার আমার ব্রাম স্ট্রোকারের ড্রাকুলা এর কথা মনে পড়ছিলো (যদিও এটা একটা ভেম্পায়ার স্টোরি না)। বইটির প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত একটা ছমছমে ফিলিং ছিল। বইয়ের স্টোরি আহামরি কিছু না। এটি আমার পড়া প্রথম একটি ইন্ডিয়ান হরর উপন্যাস। অনেক আসা নিয়ে বইটি পড়লেও কিছুটা হতাশ হতে হয়েছে। আমার মতে একটা হরর উপন্যাস এ যা থাকা দরকার তা এই বইটাতে নেই কিন্তু বইটা পড়তে খুব ভালো লেগেছে।