ব্যক্তিগত আগ্রহ থেকে ছোঁক ছোঁক করতে থাকা একজন অফিসকর্মীকে এলাকার মাস্তানরা ন্যাংটা করে মালিবাগের মোড়ে ছেড়ে দেয়। তা থেকে নানা রকম টার্ন অফ ইভেন্টস। গল্পটা একজন সাইকোপ্যাথের। নির্দিষ্ট সময় পর পর দু'জন মানুষের গলা কেটে খুন না করতে পারলে যার ভালো লাগে না। তার অতখানিই চাহিদা। অথচ এই চাহিদাটা বড়ই শক্তিশালী। ইংরেজীতে যাকে বলে আর্জ। গতানুগতিক কোনও সাইকো থ্রিলার এটি নয়। পাঠককে বাড়তি আতঙ্কিত করার চেষ্টাও নেই। তবে গতি আছে। অসমাপ্ত প্রশ্নদের মেলা আছে। ইঁদুর-বেড়াল খেলা আছে। সাদামাটা একটা বর্ণনায় একজন সাইকোপ্যাথের কয়েক দিন। তার সঙ্গে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন তার জগত থেকে। এমন মানুষগুলো তো আমাদের অপরিচিত নন। আপনারই খুব চেনা কেউ হতে পারেন সাইকোপ্যাথ। অথচ এত চেনা হয়েও তারা রয়ে যান অচেনা। অবলীলায় নরহত্যা করতে পারেন। কীভাবে? এ তারই গল্প।
Kishor Pasha Imon is a famous Bangladeshi crime writer.
Musa Ibne Mannan, known by the pen name KP Imon, is an accomplished writer who initially gained recognition through his short stories on social media. Over the course of his career, he has written over 220 short stories, captivating his online audience with his vivid imagination and storytelling skills. Building on his success in the digital realm, Imon went on to establish himself as a prominent novelist, with his works being published in both Bangladesh and India.
His regular publishers are Batighar publications, Abosar Prokashona Songstha, and Nalonda in Bangladesh. Abhijan Publishers solely publish his books in India. He is the author of 13 novels and translated 9 books to Bengali till date (5/10/23).
He graduated from the Department of Mechanical Engineering at Rajshahi University of Engineering & Technology. Presently, he resides in Dallas, TX, focusing on his PhD studies in Mechanical Engineering at UT Dallas after completing his MS at Texas State University.
His other addictions are PC gaming, watching cricket, and trekking.
ট্রিগার ওয়ার্নিং - Rape, gun violence. বইয়ের জন্য। রিভিউর জন্য না।
'চাহিদারা হন্যে' একটা ওয়েল-মেইড প্রডাক্ট, যেটা কেপি'র তৈরী বলে জানা যায়। কিন্তু বইটাতে আমি গতানুগতিক কেপি-কে পাইনি, যে কেপি'র বই শুধু নামের জন্যই বাজারে আসামাত্র পড়ে ফেলি, এবং আরেকটা বইয়ের জন্য *হন্যে* হয়ে থাকি, তেমন ছিল না বইটা। মৃগতৃষা থেকে শুরু করে কেপি সমানেই নিজের 'নিজস্বতা' প্রতিষ্ঠা করে চলেছেন তাঁর উপন্যাসগুলোতে। 'চাহিদারা হন্যে'-তে ওই স্বাদ খুঁজলে পাওয়া যাবে না।
জনরা নিয়ে বলা দরকার। আফটার অল, বইটার সার্থকতা আছে এখানেই। এয়ারপোর্ট নভেলা হচ্ছে এক বসায় টানা পড়ে ফেলার মতো হালকা মেজাজের গতিময় জনরা। একই স্বাদ পেয়েছিলাম জাপানি 'লাইট নভেল' জনরাতেও। পূর্ণাঙ্গ উপন্যাসের অনেক উপকরণই তাঁর কলেবরের জন্য এখান থেকে বাদ পড়ে স্বাভাবিকভাবেই, কিন্তু তাতে বইটা আরো সীমিত আর গতিশীল হয়, পাঠকের চিন্তা করার দরকার পড়ে কম।
এই জায়গা থেকে 'চাহিদারা হন্যে'-কে বলতে হবে, পাকা হাতে বানানো। যা থাকা লাগবে ঠিক ওটুকুই কেপি ছেঁকে তুলে রেখেছেন, এমন কিছু আনেননি যা পরে কোথাও কাজে লাগবে না। কাহিনীতে প্রশ্নগুলোও সাদামাটা। প্রটাগনিস্টের অতীত কি? কে অপরাধী? আদৌ অপরাধী তো? মোটিভ কি? কে কোন পক্ষে?... ইত্যাদি, সহজ প্রশ্ন জাগবে মনে, সহজ উত্তর পেয়ে যাবেন ঘটনাক্রমেই।
চরিত্রের নির্মাণ, এবং ক্রম-নির্মাণ যেটাকে কিনা আমরা 'ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট' বলি, সেখানে কেপি'র স্বাদ আছে পুরোদস্তুর। কুকুরখন্ড, জাদুঘর, মৃগতৃষা, প্রতিটার প্রটাগনিস্টের ক্ষেত্রেই কিছুদূর গিয়ে যেমন আঁচ করা যায় যে এই মাল সহজ মাল না, এর মাঝে ঘাপলা আছে, তেমনটাই চোখে পড়েছে চব্বিশ পৃষ্ঠায় এসে। তারপর ক্রমে তাঁর চরিত্রে পরতে পরতে চিহ্ন যোগ হয়েছে, প্রশ্নও, একেবারে শেষ পৃষ্ঠা অব্দি মূল চরিত্রের সম্পর্কে পাঠক কিছু কিছু আবিষ্কার করবেন।
আর বিস্তারিতে গিয়ে স্পয়লার দিতে চাই না। ফ্ল্যাপ, প্লট, সব বইয়ের বিজ্ঞাপনে বা গুডরিডসেই পাবেন।
তবে প্রডাক্ট হিসেবে হাতের বইটার কিছু মূল্যায়ন জানাতেই হয়। প্রথমত, একটা এক-বসায়-পড়ার-মতো বইয়ের আকৃতি হিসেবে এটা আমার কাছে অভিনব মনে হয়েছে। সাধারণ বইয়ের মাপের থেকে ছোট, অনেকটা সেবার' পেপারব্যাকের আকার-উচ্চতা। তাতে হাতে বওয়া সহজ হয়েছে, এবং এয়ারপোর্ট নভেলার গতিময়তা উপভোগ করা গেছে তাড়াতাড়ি পেইজ ওল্টাতে পারায়, কারণ প্রতিটা পেইজে কন্টেন্ট তুলনামূলক কম। বাঁধাই ইত্যাদির কথা বলার দরকার নাই, ব্যক্তিগত মতামত : বইটা আমি পেপারব্যাকে পছন্দ করতাম বেশি। ভালোভাবেই সম্পাদনা হয়েছে, বানান ভুল বা প্রিন্টিং মিসটেক জাতীয় এরর ছিল না বইতে। আচ্ছা এটাও বলে যাই, প্রচ্ছদ পছন্দ হয়নি।
দিনে দিনে ব্যস্ততা বাড়ছে যত, এই মাপের এই ধাঁচের বই পড়ে আরাম পেতে ইচ্ছা বাড়ছে তত। লাইট নভেল বা এয়ারপোর্ট নভেলা নিয়ে আরও কাজ হবে আশা করা যায়।
থ্রিলার যারা খেয়ে-পড়ে বেঁচে থাকেন - তাদের কাছে কিশোর পাশা ইমন পরিচিত নাম। কেপির বই মানেই থ্রিলারপ্রেমীরা জানে ৪০০/৫০০ পৃষ্ঠার বিশাল সাইজের দারুণ কিছু। ব্যক্তি কেপি'কে মানুষ পছন্দ করুক বা করুক, লেখক কেপি'র লেখা অপছন্দ করেন এমন পাঠকের সংখ্যা কম। এত কথা বলার প্রধান কারণ- যারা কেপির লেখা পড়ে অভ্যস্ত তাদের কেপি'র প্রতি এক্সপেক্টেশন থাকে অনেক বেশি। KP means something special. Something bold. But in this case, KP is good but not that special.
তবে এক্ষেত্রে দায় লেখককে দেয়ার সুযোগ খুব বেশি নেই। লেখক সোশ্যাল মিডিয়ায়, বইয়ের শুরুতে সবখানেই লিখে রেখেছেন: চাহিদারা হন্যে - একটি এক্সপেরিমেন্টাল বই। কালের পাতায় অমর হওয়ার জন্য এই বই নয়। "চাহিদারা হন্যে" এয়ারপোর্ট নভেলা জনরার বই। অর্থাৎ বই ধরবেন, শুরু করবেন, বইয়ের গতি আপনাকে শুরুতেই আটকে ফেলবে। বই হবে ফার্স্ট টু বটম গতিময়। একবসায় বই শেষ করবেন। বই শেষ করে সেটা হবে - A good timepass, a nice experience.
লেখক যা দাবি করেছেন - তার সবটুকুই পূরন করেছেন তার বইয়ে। ছোট সাইজের বই, গতিময় লেখা। গল্পে ঢুকে পড়বেন, দ্রুত পৃষ্ঠা উল্টাবেন। মোটামুটি দেড় ঘন্টার মাথায় এক বসাতেই গল্প শেষ।
লেখক যতটুক এক্সিকিউট করতে চেয়েছেন। ততটুক লেখক পেরেছেন। তাই লেখক হয়ত লেটার মার্ক পেয়ে যাবেন।
স্টোরিতে আপত্তি তুলতে হলে, সাইকোপ্যাথ সিরিয়াল কিলার যে ৭৪টি খুন ইতোমধ্যে করে ফেলেছে - তাকে পাবলিক সেন্টিমেন্টের খাতিরে হিরো সাজাতে হবে, নিরপরাধ কাউকে খুন করে না - এটা দেখিয়ে সেটাকে পাঠকের কাছে পরোক্ষভাবে জাস্টিফাই করা - লেখকের স্বাধীনতা। কিন্তু এই জিনিসটা রিসেন্ট থ্রিলার বইগুলোতে এত বেশি, এখানেও পুনরাবৃত্তিটা ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ হয় নি।
এই বই কারা পড়বেন? কেন পড়বেন?
১. টাইমপাশের জন্য। মোটামুটি ইঞ্জয়েবল টাইম স্পেন্ড করার জন্য। ২. আপনি রিডার্স ব্লকে ভুগলে। বই শুরু করলে আর কন্টিনিউ করতে পারছেন না, কিন্তু হুমায়ুন আহমেদ পড়তেও ইচ্ছা করছে না - থ্রিলার টাইপ কিছু হলে ভালো হয়।
আমি সেকেন্ড ক্যাটেগরিতে পরে যাই। অনেকদিন ধরে গল্পের বই-টই সেরকম পড়া হচ্ছে না৷ পড়তে ইচ্ছা করছে, কিন্তু কন্টিনিউ করতে পারছি না। দুই পেজ পড়লেই কন্সান্ট্রেশন ব্রেক হচ্ছে। সেখানে "চাহিদারা হন্যে" আমার জন্য বেশ টনিক হিসেবে কাজ করেছে।
কেপির কাছে এক্সপেক্টেশন সবসময়ই বেশি। রেট করতে হলে বইটি 3/5 পাবে।
আপত্তির একটা বড় জায়গা বইটির প্রোডাকশনে। "চাহিদারা হন্যে" বইটির সাইজ বেশ কিউট। পকেটবুক সাইজের চেয়ে খানিকটা বড়। পড়ে আরাম। ওজনে হালকা। তবে ১৩৮ পেজের বইটির গায়ের মূল্য ধরা হয়েছে ২৫০টাকা। যা কিনা বইয়ের সাইজ এবং প্রোডাকশন কোয়ালিটি হিসেবে নেহায়েতই বেশি! এয়ারপোর্ট নভেলা জনরার বইয়ের মার্কেট বেশ ভালো হতে পারে। যাদের পড়তে ভালো লাগে, তাদের এক-দেড় ঘন্টায় সময় কাটানোর জন্য পড়ে ফেলা। কিন্তু সেক্ষেত্রে বইয়ের দামও সে হিসেবে কমিয়ে আনতে হবে। সময় কাটানোর জন্য এই জনরার বইয়ের প্রাইসিং ২৫০ টাকায় রাখলে পাঠক দিনশেষে হতাশ ই হবে।
সতীর্থ প্রকাশনা নতুন প্রকাশনী। তাদের জন্য শুভকামনা। আশা করছি বইয়ের প্রোডাকশন আর প্রাইসিং উভয় দিকেই নজর দিবেন তারা আগামী থেকে।
রিভিউ এর এখানেই সমাপ্তি। এবার অগুরুত্বপূর্ণ কিছু ব্যক্তিগত মতামত৷
কেপি সাধারণত বড় সাইজের বইয়ের লেখক হিসেবে পরিচিত এবং তার সে জনরার বেশিরভাগ বই-ই পাঠকপ্রিয়। উপন্যাসিকা "আগুনের দিন শেষ হয় নি" - আগে প্রকাশিত হলেও, বেশ আগে থেকেই তা মার্কেট আউট। তাই যারা কেপির নাম এতদিন শুনে এসেছে, কিন্তু নতুন/অপরিচিত হিসেবে তার বিশাল সাইজের বইগুলো কেনার সাহস করে নি। আবার অনেকে বিশাল সাইজের বই শুরু করতেই ভয় পায় - এজন্য এখনো কেপি পড়া হয় নি। তারা হয়ত সহজ অপশন হিসেবে "চাহিদারা হন্যে" বেছে নিবে। সেখানে সম্ভাবনা আছে "চাহিদারা হন্যে" দিয়ে তাদের কেপির লেখার সাথে পরিচয় হবে। কেপি ও সেটা জানে। সেক্ষেত্রে হয়ত কেপির উচিত ছিল, এতদিন পর উপন্যাসিকা প্রকাশের ক্ষেত্রে এক্সপেরিমেন্টের পথে না গিয়ে - কেপি স্টাইল মাস্টারপিস দিয়ে উপন্যাসিকা জনরায় আবার পা রাখা৷ কারণ, "চাহিদারা হন্যে" বইটি দিয়ে কেপিকে জাজ করা হয়ত সঠিক সিদ্ধান্ত হবে না।
প্রথমেই আসা যাক বইটির জনরা নিয়ে।লেখক এই বইটির মাধ্যমে আমাদের 'এয়ারপোর্ট নভেলা' নামক সাহিত্যের একটি নতুন জনরার সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন।ধরুন আপনি প্লেনে করে কোথাও যাচ্ছেন,এয়ারপোর্টে বসে প্লেনের জন্যে অপেক্ষা করছেন।সে সময়টুকু যেন আপনার ভালো কাটে সেজন্যে এই জনরার উৎপত্তি।লেখককে ধন্যবাদ এরকম নতুন একটি জনরা নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করার জন্যে।বইটির সাইজ সেবা প্রকাশনীর বইগুলোর চেয়ে অল্প একটু বড়।হাতে নিয়ে পড়তে বেশ আরাম পাওয়া যায়।
এখন আসা যাক বইয়ের ব্যাপারে।শুরুতেই লেখক বলে নিয়েছেন এই 'এয়ারপোর্ট নভেলা' জনরার বইগুলোর জন্ম সাহিত্যের জগতে অমর হওয়ার জন্যে নয়।সুতরাং এই বইটা থেকে বেশি কিছু প্রত্যাশা না করাই ভালো।তবুও যেহেতু পাঠক টাকা খরচ করে বইটি কিনবে,সেহেতু বইটি নিয়ে আলোচনা করা পাঠকের দায়িত্ব।
গল্পটা একজন সাইকোপ্যাথের।যার কিছুদিন পর পর দুইজন করে মানুষের গলা কেটে খুন করতে হয়।নাইলে তার ভালো লাগে না।এরকমই দুইজনকে খুন করতে গিয়ে পুলিশ,গ্যাংস্টারের সম্মিলিত ফাঁদে পড়ে যায় সে।এই নিয়েই বইয়ের গল্প।
গল্পটা নিতান্তই সাদামাটা কিন্তু ইন্টারেস্টিং।লেখক বলেছেন 'এয়ারপোর্ট নভেলা'র বৈশিষ্ট্য গতিময়তা।সেই গতিময়তা আনতে গিয়ে তিনি গল্পটিকে খাপছাড়া বানিয়ে ফেলেছেন।তাছাড়া রয়েছে বাক্যের গঠনগত ভুল,বানান ভুল।প্রথম পঞ্চাশ পৃষ্ঠায় আগ্রহ জাগানোর বদলে বিরক্তির উদ্রেকই হয়েছে বেশি।তারপর গল্পটা জমে উঠলেও আবারও ফাস্ট পেইসড করতে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলেছে মাঝেমধ্যেই।ফিনিশিংও আহামরি নয়।সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় যে 'আর্জ' নিয়ে গল্পটি ফাঁদা হয়েছে সেই আর্জের দেখাই পুরো বইতে নেই।
লেখক আগে থেকেই প্রত্যাশা কম করতে বলে দেয়ায় এক তারকা বেশি দিলাম।নাহলে এক তারকার বেশি এই বইকে দেয়া যায়না।
প্রশ্ন হলো,সে উদ্দেশ্যে বইটি লিখা সেই এয়ারপোর্টে বসে আমি বইটি পড়তে প্রেফার করবো কিনা? উত্তর - আ বিগ নো!
দুঃখজনক বিষয় বইটা আমার ভাল লাগেনি। প্রথমত লেখকের লেখার ধরন আমাকে টানতে পারেনি। এমনকি প্লট, গল্প সাজানোর ধরন, মূল চরিত্র এই ব্যাপারগুলোও সব মিলিয়ে কেমন খাপছাড়া লেগেছে আমার কাছে পুরোটা বইয়েই। পুরো বইটা একটানে পড়ে ফেলার মত দাবি করা হলেও আমার প্রায় চারদিন সময় লাগলো! আশা করা যায় লেখকের অন্যান্য বই পড়তে গেলে এই অপূর্ণতা পূরণ হবে।
“It strikes me profoundly that the world is more often than not a bad and cruel place.” ― Bret Easton Ellis, American Psycho - চাহিদারা হন্যে: দ্য ইনসেইন আর্জ - দেশে কিছুদিন ধরেই দেশে শুরু হয়েছে এক ভয়াবহ সিরিয়াল কিলিং, একসাথে দুইজন করে খুন হবার কারণে এই সিরিয়াল কিলার এর নাম হয়ে গেছে টুইন কিলার। মাসুদ, এক বেসরকারী অফিসে চাকরী করে যার অফিস রুমের দুই সহকর্মী হচ্ছেন মালিহা আর পারভেজ। এই টুইন কিলারের নতুন কোন হত্যাকান্ডের খবর আসলেই পারভেজ সাহেব পুরো অফিস জুড়ে বলতে থাকেন এটা আসলে উনার কাজ। - পারভেজ সাহেবের এই ক্রমাগত সিরিয়াল কিলার পরিচিতিকে মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য এক খুনের পরে মাসুদ সাহেব নিজেই খুনের তদন্ত শুরু করেন। তখন বের হতে থাকে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য। এখন পারভেজ সাহেবের গালগপ্পোর মাঝে কতটুকু সত্য? সারা দেশে ত্রাস সৃষ্টি করা এই টুইন সিরিয়াল কিলার আসলে কে? তা জানার জন্য পড়তে হবে লেখক কিশোর পাশা ইমন এর এয়ারপোর্ট নভেলা "চাহিদারা হন্যে: দ্য ইনসেইন আর্জ"। - "চাহিদারা হন্যে: দ্য ইনসেইন আর্জ" মূলত একটি এয়ারপোর্ট নভেলা, যা মূলত এক বসায় পড়ে ফেলার জন্য লেখা হয়ে থাকে। তাই বইটি পড়ার সময় খুব বেশি এক্সেপ্টেশন ছিল না। বইয়ের প্লটটি গতানুগতিক সিরিয়াল কিলিং বইগুলোর থেকে খুব বেশি এক্সেপশনাল হতে পারেনি, কিছুক্ষেত্রে একেবারেই সাদামাটা লাগলো। অবশ্য বইতে যেভাবে বলা হয়েছে বইটি আসলেই এক বসায় পড়ে ফেলার মতো, যার মূল কারণ মনে হয়েছে বইয়ের লেখনশৈলী। মেদহীন, ঝরঝরে লেখনশৈলীর কারণে বইটি পড়তে তেমন একটা অসুবিধে হয়নি। তবে গল্পের নামকরণে ইংলিশ ট্যাগলাইনটা অপ্রয়োজনীয় মনে হলো।
"চাহিদারা হন্যে: দ্য ইনসেইন আর্জ" বইটি সাইজে নভেলা হওয়ায় চরিত্রায়নের খুব বেশি স্কোপ পাওয়া যায়নি। বইটির ঘটনাক্রম আতশ কাচের উপরে ধরলে অবশ্য বেশ কিছু ঘটনা বেশ অবাস্তব মনে হতে পারে। চাহিদারা হন্যে: দ্য ইনসেইন আর্জ বইটির পেসিং শুরু থেকেই বেশ ফাস্ট, যা বজায় থাকে বইয়ের শেষ পর্যন্ত। এ ধরনের পেসিং একেবারে আদর্শ এই টাইপ বইয়ের জন্য, তবে মাঝে খুবই ফাস্ট পেসড হওয়ায় কিছু যায়গায় কাহিনি খাপছাড়া লাগলো।
"চাহিদারা হন্যে: দ্য ইনসেইন আর্জ" বইটি প্রোডাকশন ওয়াইজ সাধারণ হার্ডকভার বইয়ের চাইতে কিছুটা ছোট। সাইজের হিসেবে বইয়ের কাগজের মান আর বাধাঁই ভালোভাবেই দেয়া হয়েছে। বইয়ের প্রচ্ছদ মোটামুটি লাগলো, বানান ভুল এবং টাইপো ছিলো কিছু, যেগুলো পরবর্তী সংস্করণে ঠিক হয়ে যাবে আশা করি। - এক কথায়, টাইমপাস থ্রিলার হিসেবে বেশ উপভোগ্য এক নভেলা "চাহিদারা হন্যে: দ্য ইনসেইন আর্জ"। যারা সিরিয়াল কিলার আর ক্রাইম থ্রিলার ভিত্তিক ছোট সাইজের গল্প পড়তে চান তারা বইটি পড়ে দেখতে পারেন।
গল্পের প্রধান চরিত্র মাসুদ একটি ইমপোর্ট-এক্সপোর্ট কোম্পানিতে চাকরি করে, যার অফিস রুমের দুই সহকর্মী হলেন পারভেজ আর মালিহা। পারভেজ এক সময় নিজেকে লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার ব্যাপারে ভাবতেন। তবে সে আশা বাস্তবায়ন না হওয়ায় তিনি শেষমেষ অফিসের ভেতরেই নিজের তৈরি গল্প ফেঁদে বসেন এবং সেগুলো সহকর্মীদের শোনান। 'টুইন কিলার' নামের এক সিরিয়াল কিলার দুইজনকে একসাথে খুন করে আসছে বেশ কিছুদিন ধরে। নতুন কোনো টুইন কিলিং হলেই সেগুলো পারভেজ সাহেব নিজের কাজ বলে চালিয়ে দেন৷ এতে কেউ কেউ আনন্দিত হলেও মাসুদ ভয়ানক বিরক্ত হয়। বিরক্তির এক পর্যায়ে পারভেজের কথাবার্তা ভুল প্রমাণ করার জন্য মাসুদ একদিন বেরিয়ে পড়ে কিছু তথ্য সংগ্রহের জন্য। কিন্তু এলাকার মাস্তানদের খপ্পরে পড়ে তার ন্যাংটা হয়ে ফিরে আসার পর থেকেই শুরু হয় গল্পের বাঁক, তৈরি হয় দারুণ এক গতিময়তা।
'চাহিদারা হন্যে—দ্য ইনসেইন আর্জ' একটি এয়ারপোর্ট নভেলা, যা মূলত এক বসায় পড়ে ফেলার জন্যই লেখা হয়ে থাকে। সেই দিক থেকে দারুণ একটি এক্সপেরিমেন্ট করেছেন ইমন ভাই। বইটির প্লট গতানুগতিক থাকলেও গতি ছিল। পাঠকে বাড়তি আতঙ্কিত করার চেষ্টা ছিল না৷ একেবারেই মেদহীন লেখা। একটানে পড়ে ফেলা যাবে। তবে বইটির কিছু বিষয় খাপছাড়া লেগেছে। বর্ণনায় কয়েক যায়গায় ঘাটতি চোখে পড়েছে৷ ঘাটতি পূরণ করতে গেলে ফাস্ট পেইসড থেকে স্লো পেইসে ছিটকে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনাও ছিল না হয়তো।
বইয়ের নামকরণ নিয়ে একটু কথা বলতে হয়। 'চাহিদা', 'হন্যে', 'ইনসেইন', 'আর্জ'। নামকরণ ৭০-৮০% সফল, আমার মতে। 'ইনসেইন' আর 'আর্জ' এর জায়গাটায় আরেকটু কাজ করার জায়গা ছিল মনে হয়েছে।
বইয়ের প্রচ্ছদ খুব বেশি পছন্দ হয়নি। তবে বইয়ের সাইজ, পৃষ্ঠা, লেখার ফন্ট, বাঁধাই ভালো লেগেছে।বইটির প্রুফ রিডিং যারা করেছেন, তারা হাইফেন আর ড্যাশ চিহ্নের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে অজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছেন বইয়ের একেবারে প্রথম পৃষ্ঠা থেকে শেষ অব্দি। এটা বিরক্তির উদ্রেক করেছে কিছুটা৷ এছাড়া কিছু টাইপো এবং বানান ভুল চোখে পড়েছে যেগুলো পরবর্তী সংস্করণে হয়তো ঠিক হয়ে যাবে।
যারা রিডার্স ব্লক কাটানোর চেষ্টা করছেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যে সাইকোপ্যাথ বা ক্রাইম থ্রিলার পড়তে চান, বিক্ষিপ্ত মনের স্থিতিশীলতা চান, তাদের জন্য রেকমেন্ডেড।
লেখকের লেখার সাথে আমার কোনো পরিচয় নেই। জানিনা ওনার লেখার ধরণ কেমন। কিন্তু @suchonalways_ এর একটা ছবি দেখে বইটা কিনে ফেলেছি।আর সবচেয়ে যেটি ভালো লেগেছে সেটি হলো লেখক নিজেই লেখক পরিচিতিতে খুব সুন্দর করে বলে দিয়েছেন এটা কোন ধরনের বই। এয়ারপোর্ট নভেলা-এই জনরার সাথে আমার পরিচয় এই প্রথম। এই নভেলার উদ্দেশ্য এবং কাহিনির ধারণা লেখক পরিচিতিতে তুলে দিয়েছেন-আর সেই মতে লেখক পুরোপুরি সফল।দ্রুত গল্পের শুরু, এগিয়ে যাওয়া এবং গল্পের শেষ -এই ছিলো কাহিনির উদ্দেশ্য। মাসুদ নামের একজনকে দিয়ে গল্পের শুরু। তার অফিসের একজনের দাবী তিনি জোড়া খুন করেছেন। পারভেজ নামের ওইলোক পত্রিকা কাটিং দেখে তার অফিস সহকারী মালিহা আর মাসুদকে রসিয়ে রসিয়ে এক জোড়া খুনের গল্প শোনান। আর তাকে গুলবাজ প্রমাণ করতে মাসুদ যায় ওই এলাকায়। এখান থেকেই শুরু হয় সব জট। তবে হ্যাঁ মাথা ঘুরে যাবে এমন জট কিন্তু পাবেন না। গল্প এগিয়েছে একজন সাইকোপ্যাথ, তার চাহিদা,তাকে ঘিরে গড়ে উঠা জালকে নিয়ে। শেষ হওয়ার পর বুঝেছি কেনো লেখক বলেছেন এই বই শুধুই পাঠককে পড়ার আনন্দ দিতে লেখা।হয়েছেও তাই-এক ধাক্কায় পড়ে ফেলেছি,মনে দাগ না কাটলেও সুন্দর একটা সময় কেটেছে। স্লাম্প বা কোথাও যাওয়ার সময় বা কোথাও বসে অপেক্ষা করার সময় পড়ার জন্য পারফেক্ট 🌺
❝ছদ্মবেশী মানুষরা যখন চাহিদার পেছনে হন্যে হয়ে ছোটে তখনি অন্ধকার থেকেও ভয়ংকর বিভীষিকারা ডানা মেলে উড়তে শুরু করে।❞
চাহিদা একটি শব্দ মাত্র কিন্তু এই শব্দের বিস্তৃতি কতটা বিশাল সেটা নিয়ে প্রত্যকটি মানুষ অবগত। চাহিদা ছাড়া জীবন পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব বলা চলে। একজন ক্ষুদ্র মানুষেরও ছোটোখাটো অনেক চাহিদা থাকে সেক্ষেত্রে বৃহত্ত মানুষদের চাহিদার পরিমাণ নিজের প্রয়োজনের চেয়েও ব্যাপক হয়ে পড়ে। সীমিত চাহিদা নিয়ে বেঁচে থাকাটা রীতিমতো যুদ্ধের মতো হয়ে যায়, একপ্রকার নিজের সাথে নিজের লড়াই। সে লড়াইতে কেউ হারতে চায় না, সবাই চায় জিতে ফিরতে। কিন্তু মনের চাহিদা মেটাতে গেলে যে নিজের ভেতরকার হিংস্র আত্মাকে জাগিয়ে দিতে হয়! আর সে জাগানো হয় পাপ, যেখানে সত্যর কোনো জায়গা থাকে না, থাকে না পাপপুণ্যর বিচার। ভালোমন্দের সহজ অধ্যায়টুকু তখন নিজের বিবেকের কাছে কঠিন ঠেঁকে। এর মূল কারণ, চাহিদারা হন্যে হয়ে পড়েছে তাদের ঠেঁকানোর আর উপায় নেই!
উপরিক্ত কথাগুলো বাস্তব। আমরা অনেকে মোহের পেছনে বুঁদ হয়ে থাকি, জাগতিক বাস্তবিকতা মস্তিষ্কে নিয়ে বুলি আওড়িয়ে যায় ঠিকই কিন্তু সেটা নিজ স্বার্থে। হিংস্রতা প্রতিটা শিরা উপশিরাতে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গিয়েছে যেখান থেকে হুট করে চাইলেও ছুটে আসতে পারি না বা সম্ভব হয়ে উঠে না। চাহিদা এইজন্য সর্বাপেক্ষা দায়ী। স্বল্প চাহিদা জীবনে সুখে নিয়ে আসে আর যদি সে সুখে থেকেও যদি অখুশি থাকেন তাহলে বলব আপনার চাহিদারাও হন্যে হয়ে গিয়েছে!
অনেক তো লেখালাম চাহিদা নিয়ে, এইবার বইয়ের প্রেক্ষাপট নিয়ে সামান্য আলোকপাত করা যাক।
➲ আখ্যান—
ব্যক্তিগত আগ্রহ থেকে ছোঁক ছোঁক করতে থাকা একজন অফিসকর্মীকে এলাকার মাস্তানরা ন্যাংটা করে মালিবাগের মোড়ে ছেড়ে দেয়। তা থেকে নানা রকম টার্ন অফ ইভেন্টস।
গল্পটা একজন সাইকোপ্যাথের। নির্দিষ্ট সময় পর পর দু'জন মানুষের গলা কেটে খুন না করতে পারলে যার ভালো লাগে না। তার অতখানিই চাহিদা। অথচ এই চাহিদাটা বড়ই শক্তিশালী। ইংরেজীতে যাকে বলে আর্জ।
গতানুগতিক কোনও সাইকো থ্রিলার এটি নয়। পাঠককে বাড়তি আতঙ্কিত করার চেষ্টাও নেই।
তবে গতি আছে। অসমাপ্ত প্রশ্নদের মেলা আছে। ইঁদুর-বেড়াল খেলা আছে। সাদামাটা একটা বর্ণনায় একজন সাইকোপ্যাথের কয়েক দিন। তার সঙ্গে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন তার জগত থেকে।
এমন মানুষগুলো তো আমাদের অপরিচিত নন। আপনারই খুব চেনা কেউ হতে পারেন সাইকোপ্যাথ। অথচ এত চেনা হয়েও তারা রয়ে যান অচেনা। অবলীলায় নরহত্যা করতে পারেন। কীভাবে?
এ তারই গল্প।
➤ পাঠ প্রতিক্রিয়া ও পর্যালোচনা—
এয়ারপোর্ট নভেলা হিসেবে লেখক বইটিকে আখ্যায়িত করেছেন। অর্থাৎ স্বল্প সময়ে অথবা কোনো ভ্রমণে যাচ্ছেন তখন যদি ছোটোখাটো একটা নভেলা পড়ে সময় কাটিয়ে দিতে পারেন সেটা আপনার জন্য ভালো না-কি খারাপ? লেখক সে চিন্তা মাথায় রেখে উনার দ্বিতীয় উপন্যাসিকা লেখেছেন ‘এয়ারপোর্ট নভেল’ ধাঁচের। বাড়তি কিছুর প্রয়োজন এখানে কোনোভাবে নেই, বইটি কিনবেন যেহেতু ক্রাউন সাইজের তাই সহজে নিজের সাথে নিয়ে যে-কোনো জায়গাতে গিয়ে হুট করে বসে টুপ করে পড়ে ফেলতে পারবেন। গল্প মনে রাখার বিশেষ প্রয়োজন নেই ঠিক যতক্ষণ পড়বেন ততক্ষণ ডুবে থাকতে পারলে হলো।
যেহেতু ছোটো পরিসরে লেখা প্লট তাই চাইলেও অনেক কিছু উত্তর খুঁজে পাবেন না। এক্ষেত্রে প্লটের ওপর নির্ভর থাকা লাগে, চরিত্রের গাঁথুনি এখানে না খোঁজা ভালো। বর্ণনাভঙ্গি সাবলীল ছিল, যদিও লেখকের প্রথম বই পড়েছি। উনার উপন্যাস সাধারণত বিশাল কলেবরে লেখা হয়ে থাকে তাই শীঘ্রই সেই অভিজ্ঞতা অর্জন করে নিব। অতিরিক্ত ব্যাখা বা বিশ্লেষণ করার মতো কোনো বিষয় উক্ত উপন্যাসে নেই।
গল্পের ভিত্তি গড়ে উঠেছে সুন্দরভাবে। চরিত্রগুলোতে রহস্যময় ভাবটা বজায় রেখেছে। তবে গল্পের বিশেষ একটা জায়গাতে স্পর্শকাতর একটি সিকুয়েন্স রয়েছে যেটা পাঠক অনুভব করতে পারবে জোড়ালো ভাবে। বলতে পারেন লেখকের এই নভেলা লেখার পেছনে একটা মোক্ষম উদ্দেশ্য ছিল সেটা তবে এখানেও সামান্য অযৌক্তিকতা খুঁজে পাবেন তবে সেটা মাত্রাতিরিক্ত না। লেখনশৈলী নিয়ে বলার কিছু নেই, পরিপক্ব লেখকের ছাপ সেখানে বিদ্যমান রয়েছে। এইবার শেষটা নিয়ে কিছু বলতে গেলে, হুট করে যেভাবে বইটি শেষ হয়ে যাবে একইভাবে গল্পের সমাপ্তিও সেইভাবে শেষ হয়েছে। খুবই দ্রুত, তবে এইটা হওয়াটা স্বাভাবিক কারণ লেখক অযথা বাহ্যিক বিষয় নিয়ে আলোচনা বা বর্ণনা করেননি।
সব মিলিয়ে সময় কাটানোর জন্য ভালো একটি বই। বেশি আশা না রেখে শুধু আনন্দের জন্য পড়া ভালো। তাই দেরি না করে পড়ে ফেলতে পারেন কেপি ভাইয়ের দ্বিতীয় নভেলা। ওয়েট, এখানে ইনসেইন আর্জ কে সেটা নাহয় পাঠক খুঁজে নিবেন। সব আমি বলে দিলে বাকিরা কী পড়বেন!
➢ লেখক, বানান, প্রচ্ছদ, মলাট, বাঁধাই—
কিশোর পাশা ইমন ভাইয়ের কোনো বই আমার পূর্বে পড়া হয়নি তবে ওনার লেখা অনেক গল্প ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে পড়েছি। সেটা থেকে তুলনামূলক ধারণা পাওয়া যায় কেপি ভাই কোন পর্যায়ের লেখক। তবে আশ্চর্যজনক ব্যাপার হচ্ছে কখনও চিন্তাও করেনি ওনার কোনো বইতে আমি কাজ করতে পারব। সৌভাগ্য এইজন্য যে এইটা আমি করতে পেরেছি। তার জন্য প্রকাশককে নিকট কৃতজ্ঞ তো থাকব। আশা করছি লেখকের বাকি সব উপন্যাস দ্রুত বগলদাবা করে ফেলব এবং পড়ে অনুভূতি জানাতে পারব।
টুকটাক কিছু বানান ভুল আর টাইপো থেকে গিয়েছে। সেগুলো পরবর্তী মুদ্রণে ঠিকঠাক করে নেওয়া হবে। এছাড়া সম্পূর্ণ বইটি পড়তে বেশ স্বাচ্ছন্দ্য লেগেছে।
প্রচ্ছদে কাজ করেছে রিজন ভাই। কেপির অন্যান্য বইয়ের প্রচ্ছদ থেকে বেরিয়ে নতুনত্ব নিয়ে আসতে চেয়েছেন এবং পেরেছেন। বিশেষ করে রঙের ব্যাপারে। উপজীব্য বিষয় তুলে ধরার প্রচেষ্টা দেখিয়েছেন সেটা প্রচ্ছদে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। আশা করছি ভবিষ্যতে আরও তুখোড় অনেক কাজ ওনার থেকে উপহার পাব।
ক্রাউন সাইজের বইয়ের সাথে এয়ারপোর্ট নভেলা মেলবন্ধন বেশ দারুণ মানিয়েছে। ছোটো বইয়ের জন্য এই সাইজ একেবারে পারফেক্ট। আশা করছি প্রকাশনী থেকে অন্যান্য নভেলার বইগুলো ক্রাউন সাইজে করা হোক। সবমিলিয়ে প্রোডাকশন কোয়ালিটি দারুণ লেগেছে।
➠ বই : চাহিদারা হন্যে - দ্য ইনসেইন আর্জ | কিশোর পাশা ইমন ➠ জনরা : ক্রাইম থ্রিলার, এয়ারপোর্ট নভেলা ➠ প্রথম প্রকাশ : ১৪ ডিসেম্বর, ২০২০ ➠ প্রচ্ছদ : আদনান আহমেদ রিজন ➠ প্রকাশনী : সতীর্থ প্রকাশনা ➠ মুদ্রিত মূল্য : ২৫০ টাকা মাত্র
শুরুর দিকটা পড়তে বেশি মজা লেগেছিলো। শেষের দিকটা violence বেশি। অবশ্য গুন্ডা-পান্ডা, সাইকোপ্যাথ, পুলিশ এক সাথে হলে তা তো হবারই ছিলো! আচ্ছা, মাসুদের বউ বাচ্চার ব্যাপারটা আসলে কি দাঁড়ালো শেষ পর্যন্ত? ওরা আছে? নাকি নাই?
কেপির ওয়ান অফ দ্য বেস্ট, নিঃসন্দেহে। তবে পড়তে গিয়ে একটু "কেউ কেউ কথা রাখে" এর মতো ভাইব পেয়েছি। এইটুকু বাদে কেপির এই এয়ারপোর্ট থ্রিলার আমাকে বেশ সন্তুষ্ট করেছে।
অল্প জায়গার মধ্যে ওয়েল বিল্ড একটা গল্প। ছোট একটা একশন সিন আছে। মাসুদ চরিত্রটা খুব ভালো লেগেছে। অল্প জায়গায় ওয়েল বিল্ড একটা চরিত্র।
"চাহিদারা হন্যে- দ্য ইনসেইন আর্জ || কিশোর পাশা ইমন"
প্রথমত, এয়ারপোর্ট নভেল বলে আখ্যায়িত করেছেন লেখক বইটিকে। অর্থাৎ কিছুক্ষণ সময় আপনি একটি জার্নির মধ্যে দিয়ে যাবেন, উপন্যাসের ক্যারেক্টার এর সাথে মিশে যাবেন এবং উপন্যাস শেষ হতেই বাস্তবে ফিরবেন। লং জার্নির ক্ষেত্রে ভালো সঙ্গ দেয়ার মতো করেই লেখেছেন বইটি। যেহেতু লেখক নিজেই বলছেন এই বইটি লেখার উদ্দেশ্য ক্লাসিক্যালের করে তোলা নয়, তাই একটি নির্দিষ্ট সময়কে কেন্দ্র করে সে সময়ে উপস্থিত প্রতিটি উপদানকে বাস্তব জগৎ থেকে গ্রহণ করা হয়। যেমন বইটিতে উল্লেখিত স্থানগুলোর মধ্যে আছে টিএসসি, সোহরাওয়ার্দী মুক্তমঞ্ছ, মালিবাগ রেললাইন প্রভৃতি স্থান, এই স্থানগুলো আপনি দর্শন করে গল্পের প্লটটা দ্রুত সাজাতে পারবেন। দ্বিতীয়ত, এটি একটি সাইকোপ্যাথের গল্প যে কিনা নির্দিষ্ট সময় পর পর দু'জন মানুষের গলা কেটে খুন করে থাকে। মজার ব্যাপার হলো লেখক এই সাইকোপ্যাথ ব্যক্তিকেও সাজিয়েছেন দেশী ভঙ্গিমায়। খুব সহজে পাঠক রহস্যে ঢুকে যেতে পারবেন। * যদি অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে বইটি পড়তে চান তবে আশাহত হবেন। খুবই সাধারণ করে ক্যারেক্টার গুলোকে সাজিয়েছেন। সবশেষে, ভালো সময় কাটানোর মতো একটি বই যেটি আপনাকে বীভৎসতা দেখাবে৷ কথাটা অনেকটা হিপোক্রেসি টাইপ হয়ে গেলো যদিও।
হাতে ২/৩ ঘন্টা ফ্রি সময় পেলে বা কোথাও বসে ঘন্টাখানেক অপেক্ষা করতে হলে চমৎকার সঙ্গ দিবে এই বই। সাইকোপ্যাথের কাহিনী। কয়েকটা পেজ উল্টালে গল্পের মজা পেয়ে যাবে পাঠক। এরপর সময় কিভাবে চলে যাবে, উত্তেজনার ঘোরে টের পাওয়া যাবে না। গল্প সুন্দর এগিয়েছে। শুরুতে থেকে ক্লাইম্যাক্সে যাওয়ার সময় গল্প বলার ঢংটা যতটা সুন্দর ছিলো, ক্লাইম্যাক্স থেকে শেষটা একটু তাড়াহুড়ো করে লেখা মনে হয়েছে। একদম উপসংহারে কিছু অপ্রয়োজনীয় ডিটেইল থাকার জন্য নাটকীয় শেষ হয়নি, ফলে শেষটা বোরিং এবং অনুমেয় লেগেছে। শেষটা আরো ভালো হতে পারতো। থ্রিলার গল্প, এর বেশি কিছু বলা ঠিক হবেনা।
"আপনি কি হতে চেয়েছিলেন জীবনে?" "তুমি কনটেক্সটটার ভুল মোড়ে চলে গেছো।আমি ঠিক ক্যারিয়ার ভিত্তিক প্রশ্ন করছিলাম না।ওভারল। গোটা জীবনে তুমি কি করতে চেয়েছো?মনে করো,তুমি আজ নৃত্যশিল্পী হয়েও গেলে,তাতে কি তোমার শতভাগ সন্তুষ্টি থাকবে? আর কিছু চাইবে না জীবনে?" — চাহিদারা হন্যে,কিশোর পাশা ইমন
সারসংক্ষেপঃ ———————— দৈনন্দিন জীবনে মানবজাতির বিভিন্ন ধরনের চাহিদা থাকে। খাদ্য,বস্ত্র, বাসস্থান ইত্যাদি আমাদের জীবন চলানোর জন্য অতাবশ্যকীয়।। কিন্তু এগুলো কি আমাদের মনে চাহিদা মেটায়। হয়ত কারো কারো মেটায়। কারো কারে এক্সট্রিম লেভেলের কিছুর প্রয়োজন হয় মনের তৃপ্তির জন্য। এই সমাজের বিচিত্র রকমের মানুষের কাছে সেই মনের তৃপ্তি কি আদৌ একই রকম কিংবা সাধারণ হয়?
উপন্যাসিকা তে রয়েছে মাসুদ। যিনি অতি সাধারণ একজন চাকুরীজীবী। বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে, পুলিশের জবে ঢোকার পর সিস্টেমের সাথে নিজের মনোভাবের অমিল দেখে তা ছেড়ে সারাধরণ জবে ঢুকে যান। কিন্তু এই সাধারণ চাকুরী কখনওই তার মানসিক তৃপ্তির অংশ ছিল না।
উপন্যাসিকাটি শুরু হয় মাসুদ সাহেবের অফিসে, তার রুমে বসে থাকা কলিগ পারভেজের এর চাপাবাজীর মাধ্যমে। প্রতিদিন পেপারে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ধাচের খুন নিয়ে পারভেজ নিজের করা বলে অফিসের সবার কাছে বিভিন্ন গালগপ্প করে বেড়ায়। যা অন্য সবার ভালো লাগলেও, মাসুদ এর কখনওই পছন্দ ছিল। এরকম ভাবেই একদিন পারভেজ নতুন এক খুন এর কথা নিজের নামে চালিয়ে দিয়ে অফিসে সবার কাছে বলা শুরু করে। তখন মাসুদ সাহেব আর নিজের বিরক্তি চাপা রাখতে না পেরে পারভেজ কে বিভিন্ন প্রশ্ন করে বা কথা বলে। যা প্রতুত্তর মাসুদের কাছে চ্যালেঞ্জিং মনে হয়। এবং মাসুদ বেরিয়ে পড়ে এই খুন এর রহস্য এবং এর পেছনের কারণ জানার জন্য। যাতে করে সে পারভেজের চাপাবাজি অফিসের সবার কাছে প্রমাণ করতে পারে। এবং সে তার মিশনে লেগে পড়ে। যাতে বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন মানুষের সম্মুখীন সে হয়, মানুষের বদলানো এমনকি তার নিজের কলিগ পারভেজ এবং বাকিদের বদলানো রূপ দেখতে পায়৷ আচ্ছা, মাসুদ কি এই খুনের রহস্য বের করতে পারবে? হুট করে পারভেজের বদলানো রূপের কারণ কি? পারভেজ কি আসলে খুন করার গল্প গুলো বানিয়ে বলে নাকি সব তার নিজের করা? জানতে বইটি পড়তে হবে।
পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ ————————— প্রথমত বলব, কিশোর পাশা ইমন এর লেখা বই এই প্রথম পড়া হলো। এবং সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার দ্বিতীয় বারের মতো পড়া। এই বইটিতে আমার সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয় হলো প্রথম দিকে। বই টা কোন ধাচে লেখা তার বর্ণনা। ঐটা না থাকলে হয়ত বইটা নিয়ে কি বলতাম নিজে ও জানি না।
এই বইয়ের বদৌলতে আমি এয়ারপোর্ট নভেল সম্পর্কে জানা। এর আগে আমি এই বিষয়ে অবগত ছিলাম না।
যাই হোক, বইটি পড়ার সময় আমি এক এক সময় এক এক জনকে খুনি বানাচ্ছিলাম। যদিও কয়েক পেইজ পরে তা জানা যায়, তখন আমার ও মাসুদ এর মতো প্রশ্ন মাথায় আসে, "গ্রেফ্তার করলো না কেন?" শুধু এই প্রশ্নের জন্য পুরা বই পড়া লাগল। মাঝখানে আমি বিভিন্ন জায়গায় কনফিউজড হয়ে যেতাম পারভেজ থেকে কাহিনীতে মিলির নাম আসল কেন? এই মানুষ টা কৈ? ঐ মানুষ টা আসল কেন? পরক্ষনেই মনে হলো এয়ারপোর্ট নভেল এর বিশেষত্ব ই এখানে ক্যারেক্টার বিল্ড আপ, সিন বিল্ড আপ, ক্ষুদ্র বর্ণনা করা হয় না। যার কারণে বইটি পড়ার সময় নিজের ও মাথা খাটানো লাগে। মাথা তো খাটানো লাগবেই যেহেতু সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার। বইটিতে একটা সাইকোপ্যাথ এর বিভিন্ন বিষয়, স্বভাব, বিজ্ঞান সম্পর্কে নলেজ, আচরণ সবকিছু লেখক ফুটিয়ে তোলার যথা সাধ্য চেষ্টা করেছেন। কিন্তু যেহেতু থ্রিলার সম্পর্কে কম জ্ঞান কিংবা এয়ারপোর্ট নভেল প্রথম পড়া সেহেতু আমার কাছে বিভিন্ন জায়গায় অসম্পূর্ণ লেগেছে।
লাইনঃ ★নিজেকে দেবদূতের আসনে বসিয়ে রেখেছেন দেখা যায়। আপনি স্রেফ একজন সিরিয়াল কিলার,স্যার। তাছাড়া, যমুনা বলেছিলো আমাদের এপ্রোচগুলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাইক্রিয়াটিস্ট কনসাল্ট্যান্টের সাথে আলোচনা করে নেওয়া হচ্ছে। ও বলেছিলো,আপনার ইগোতে লাগবে আমার এসব..।কারণ এক বনে দুই বাঘ থাকতে পারে না।
চাহিদারা হন্যে - দ্য ইনসেইন আর্জ পড়ার পর আমার প্রথম কৌতূহল বহুবাচনিক "চাহিদারা" কী করছে বইয়ের নামে! বইয়ের ফ্ল্যাপ এমনকি শিরোনামের ইংরেজি সাবটাইটেল অংশেও কিন্তু "আর্জ" বলা হয়েছে, "আর্জেস" না! দু'জন মানুষের গলা কেটে খুন করতে চাওয়া সাইকোপ্যাথের ইচ্ছেটা পুনরাবৃত্তিমূলক তাই কি এরকম নাম!
কিশোর পাশা ইমনের "এয়ারপোর্ট নভেল" চাহিদারা হন্যে। এটা লেখকের পরীক্ষামূলক একটি কাজ। এয়ারপোর্ট নভেল সাহিত্যের একটা ধারা যেখানে সাধারণত গল্পের পটভূমি ও গতিময়তায় জোর দেওয়া হয়। অন্যান্য শৈল্পিক উপাদান তেমন প্রাধান্য পায় না। ধর তক্তা মার পেরেক ভাবে পাঠককে দ্রুত একটা গল্পে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এবং তার চেয়েও দ্রুত গল্পের সংঘাত ও পরিণাম হাজির হয়ে যায়। পাঠক ঝটপট একটা কাহিনী অভিজ্ঞ করবে এটাই মূল উদ্দেশ্য।
চাহিদারা হন্যে পড়তে খুব বেশী হলে ১ ঘণ্টা লাগতে পারে। এ বিচারে বলা যায় লেখক সার্থক। আমাকে ক্ষিপ্রবেগে কাহিনীর জালে জড়িয়ে রুদ্ধশ্বাস ভ্রমণ করিয়েছে লেখাটা। পাতার পর পাতা উল্টে যেতে একটুও বেগ পেতে হয় নি।
আমি যেটা পায়নি তা হলো সাইকোপ্যাথটার মনস্তাত্বিক রেখাপাত। যদিও ফ্ল্যাপ থেকে অনুমিত হয় সাইকোপ্যাথটার গলা কেটে খুন করার শক্তিশালী একটা চাহিদা রয়েছে। পুরো বই জুড়ে এই চাহিদার অনুপস্থিতি আমাকে বিস্মিত করেছে। সাদামাটা সাইকোপ্যাথের বর্ণনা সম্ভবত বেশী সাদামাটা হয়ে গোটা অভিজ্ঞতাকে পানসে করে দিয়েছে। তার মনস্তত্বের "কেন" দিকটা ধোঁয়াশা রাখা হয়েছে তা নিয়ে আমার কোনো আপত্তি নেই। আমার বরং মনে হয়েছে এটা পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস হলেও এমন রহস্যময়তা ভিন্ন মাত্রা যোগ করতো। কিন্তু আমার প্রশ্ন "কেন" নিয়ে নয়। কোথায় তার "ইনসেইন" আর্জ—সেই স্পষ্ট উন্মত্ত চাহিদা যা তাকে বইয়ের পাতায় সাইকোপ্যাথ বানাবে। পরিপ্রেক্ষিতে এক গাদা খুনের দাবী বা গুজব সাইকোপ্যাথ হবার বিষয়টাকে ন্যায়বিচার করেনি।
সাইকোপ্যাথ থেকে ভিজিল্যান্টি বা অতন্দ্র প্রহরী হয়ে যাবার মেটামরফোসিসটা অস্পষ্ট। যদিও আগের অনুচ্ছেদে বলেছি, সে যে সাইকোপ্যাথ এই বিষয়টাই তর্কসাপেক্ষ। তবে এমন হতে পারে তার খুন করার তীব্র ইচ্ছেকে সে ডেক্সটারের মতো ভিজিল্যান্টি হবার দিকে বাহিত করে। পারভেজের বর্ণনাতে আসা ঐ খুনগুলো যদি সত্যিই সে করে থাকে তাহলে তাকে ভিজিল্যান্টি বলতে আমরা বাধ্য। পাঠককে সহানুভূতিশীল করার এই সূক্ষ্ম প্রচেষ্টাটা ভালো!
পেনাল্টিমেট যে শোডাউনের কথা বলতে চাচ্ছি সেটা পাঠক মাত্রই বুঝতে পারবেন। সেখানে আরেকটা অস্পষ্ট ব্যাপার রয়ে গেছে। ঐ ব্যাপারটার জন্য যে ব্যক্তি মূল দায়ী সেই সালাউদ্দিন বেঁচে গেলো নাকি মেরেছে কিন্তু বলা হলো না! এই প্রসঙ্গে বলে রাখি পুলিশের এই এলাবোরেট পরিকল্পনাটা একটা দারুণ চমক। কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার আক্ষরিক উদাহরণ!
বানান ভুল থাকা এবং সেটা নিয়ে অনুযোগ করা একটা ক্লিশে পর্যায়ে চলে গেছে। সেই তুলনায় এই বইয়ে কমই ভুল আছে যদিও। কিন্তু আলাদা করে বানান সংশোধনে দু'জন মানুষের নাম থাকায় ভেবেছিলাম হয়তো থাকবেনা। আশা করছি বানান ভুলগুলো এবং বিরাম চিহ্নের অনুপস্থিতিগুলো কাটিয়ে উঠবে পরের মুদ্রণে। যেহেতু দেখলাম দ্বিতীয় মুদ্রণ আসছে, সেহেতু বিষয়টা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক।
বইয়ের প্রচ্ছদ ভালো হয়েছে। হাতুড়ি দেখে ভেবেছিলাম "হাথোড়া তেয়াগি" ধরণের কিছু আছে নাকি! সেই "চাহিদা" পূরণ হয়েছে ভালমতোই!
বইটা পেপারব্যাকে থাকলে ভালো হতো। "এয়ারপোর্ট নভেল"-এর মতো এমন সীমিত পরিসরের বই ২৫০ টাকা মলাট মূল্য তার উদ্দেশ্যের সাথে সাংঘর্ষিক নয় কি? মানে এই ধরণের বইগুলো তো উপস্থিত তাড়নাতে কেনার কথা, অল্প দামে কিনবে, পড়বে, ফেলে দেবে ধরণের!
সবার উচিৎ বইটা পড়া। আমার মনে হয়েছে সব মিলিয়ে লেখক সফল। এরকম কাজ আরও আসা উচিৎ। সম্প্রতি এরকম আরও কিছু বই কিনেছি, এর মধ্যে আমিনুল ইসলামের "বাটারফ্লাই ইফেক্ট" পড়ার জন্য মুখিয়ে আছি।
বই : চাহিদারা হন্যে - দ্য ইনসেইন আর্জ লেখক : কিশোর পাশা ইমন প্রকাশন : সতীর্থ প্রকাশনী প্রকাশকাল : ২০২০ পৃষ্ঠা : ১৩৮ মুদ্রিত মূল্য : ২৫০ টাকা
কাহিনী সংক্ষেপ -----------------------------
ব্যক্তিগত আগ্রহ থেকে ছোঁক ছোঁক করতে থাকা একজন অফিসকর্মীকে এলাকার মাস্তানরা ন্যাংটা করে মালিবাগের মোড়ে ছেড়ে দেয়। সেখান থেকে গল্পের শুরু । গল্পটা একজন সাইকোপ্যাথের। নির্দিষ্ট সময় পর পর দু'জন মানুষের গলা কেটে খুন না করতে পারলে যার ভালো লাগে না। তার অতখানিই চাহিদা। অথচ এই চাহিদাটা বড়ই শক্তিশালী। ইংরেজিতে যাকে বলে আর্জ। গতানুগতিক কোনও সাইকো থ্রিলার এটি নয়। পাঠককে বাড়তি আতঙ্কিত করার চেষ্টাও নেই। তবে গতি আছে। অসমাপ্ত প্রশ্নদের মেলা আছে। ইঁদুর-বেড়াল খেলা আছে। সাদামাটা একটা বর্ণনায় একজন সাইকোপ্যাথের কয়েক দিন। তার সঙ্গে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন তার জগত থেকে। এমন মানুষগুলো তো আমাদের অপরিচিত নন। আপনারই খুব চেনা কেউ হতে পারেন সাইকোপ্যাথ। অথচ এত চেনা হয়েও তারা রয়ে যান অচেনা। অবলীলায় নরহত্যা করতে পারেন। কীভাবে?
পাঠ প্রতিক্রিয়া --------------------------- সাদামাটা একটা সাইকো থ্রিলার। ভড়কে দেওয়ার জন্য নেই কোনো অতিরঞ্জিত ভায়োলেন্স, নেই কোনো কাব্যিক আখ্যান। তবু এক বসায় শেষ করে ফেলার মত বই এটি। আর কেপি ভাইকে ধন্যবাদ আমাদের নতুন একটা টার্মের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য। চাহিদারা হন্যে বইটি হল এয়ারপোর্ট নভেলা। ধরুন আপনি লং জার্নির জন্য তৈরি হয়ে বাস কাউন্টারে এক ঘণ্টা আগেই পৌঁছে গেলেন। এখন এই এক ঘণ্টা আপনি কী করবেন? আপনার জন্য রয়েছে এয়ারপোর্ট নভেলা। যেখানে খুব দ্রুত গল্পে ঢুকে যাবেন, গল্প এগোবে খুব দ্রুত এবং শেষও হয়ে যাবে। অবশ্য গতিময়তা আনার জন্য লেখক বিসর্জন দেবেন অন্যান্য কিছু এলিমেন্ট।
● প্লট আমার কাছে ভালোই লেগেছে। কেপি আগেই বলে রেখেছেন বইটি পড়তে ভালো লাগবে, কিন্ত মনে দাগ কাটার মত কোনো গল্প না চাহিদারা হন্যে। আহামরি কোনো প্লট না, কিন্ত উপভোগ্য। বইটি পড়ে বোর হবেন না, এক বসায় অনায়াসে শেষ করে ফেলতে পারবেন।
● চরিত্রায়ন নিয়ে বলতে গেলে গল্পে মোটামুটি চারটি চরিত্র প্রকট ছিল। মাসুদ, পারভেজ, মিলি, ও মালিহা। চরিত্রায়নে মাসুদ চরিত্রটি সবথেকে বেশি স্ক্রিনটাইম পেয়েছে এবং সত্যি বলতে তাকে খুব বেশি উপভোগ করেছি। বাকিসব চরিত্রের ডেভেলপমেন্ট চলনসই বলা চলে। তবে যমুনা চরিত্রটি কেমন যেন বেখাপ্পা লেগেছে।
● যারপরনাই সাইকো থ্রিলার এটি । মানসিক বিকারগ্রস্ত একজন মানুষের চিন্তাশৈলী, মনস্তত্ত্ব সবকিছু খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরতে পেরেজেন লেখক। ভাষাশৈলী মোটামুটি লেগেছে আমার কাছে। তবে স্টোরিটেলিং যথেষ্ট ভালো। শুরুতেই আপনি মূল গল্পে ঢুকে যাবেন এবং ক্রমশ গল্পে জড়িয়ে যাবেন। লেখক এখানে বেশ মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন। আর এটাই গল্পের সবচেয়ে বড় পজিটিভ দিক। গল্পে ছন্দপতন ছিল না।
● সতীর্থ প্রকাশনীর প্রডাকশন চমৎকার লেগেছে আমার কাছে। ক্রাউন সাইজের ছোট্ট এই বইটি দেখতেও খুব সুন্দর লাগে। পৃষ্ঠার মান ও বাঁধাই বেশ ভালো। প্রচ্ছদে রঙের বিন্যাসটা ভালো তবে এলিমেন্টের ব্যবহার আমার ভালো লাগেনি। বই পড়তে পড়তে প্রচ্ছদটা অন্যরকম আশা করেছিলাম।
● ওয়ান টাইম রিড হিসেবে এই বইটা চমৎকার । তবে গভীরতা আশা করলে বইটা আপনার ভালো লাগবেনা। খুব শক্তপোক্ত চরিত্রায়ন, ঘটনাপ্রবাহ, ইফেক্ট - এখানে আপনি পাবেন না। পরিণতিও যেন হুট করে হয়ে গিয়েছে। তবু বইটা আমার বেশ ভালো লেগেছে। আর এর মূল কারণ গল্পের গতিময়তা এবং প্লট। চাইলে পড়তে পারেন কেপি'র এয়ারপোর্ট নভেলা 'চাহিদারা হন্যে - দ্য ইনসেইন আর্জ'।
স্যাইকোপ্যাথ কিলার বা সিরিয়াল কিলার যারা তারা সব সময় তক্কে তক্কে থাকে তারা যেকোন সময় শিকার ধরতে। সকল সিরিয়াল কিলারের আলাদা প্যাটার্ন থাকে। কারণ সবাই একভাবে এবং একই রকম মানুষ খুন করে না। কিন্তু খুন করে খুনি তার ছাপও রাখে না। তবে কথায় আছে পারফেক্ট ক্রাইম বলতে কিছু নেই। . শেষ করলাম কিশোর পাশা ইমন এর লেখা “চাহিদারা হন্যে – দ্য ইনসেইন আর্জ”। এটি একটি এয়ারপোর্ট নভেলা। যারা এয়ারপোর্ট নভেলা কি সেটা জানতে চান তাদের জন্য বলছি, মুলত এই বই গুলো বর্ণনার চেয়ে গল্পের গতি ও প্লটের জন্য লেখা হয়ে থাকে। এভাবে বলা যায় যে, খুব কম সময়ে পড়ে ফেলা যায় আবার সময়ের সাথে শেষ করা যায় এই বই গুলো। এটা নিয়ে অন্য কোন সময় আরও বিস্তারিত লেখা যাবে। . অফিসে কলিগের সাথে তার সহকারীর প্রেম ও সম্পর্কের আড়ালে চলতে থাকা খুনের গল্প নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পরেন মাসুদ সাহেব। যদিও সন্দেহের তীর অন্য দিকেই থাকে। তবুও বলা যায় না। কারণ জামা কাপড় ছাড়া ন্যাংট হয়ে যখন বাসায় ফিরতে হয় তখন সেটা আর ভাল চোখে দেখা যায় না। শহরে টুইন কিলারের আগমণ সবার চিন্তার খোরাড় হলেও মাসুদ সাহেব নিজের জগতেই ভাল আছেন। কিন্তু বিপদ তার পিছু ছাড়ে না। এই টুইন কিলার তাকেও হয়ত ছাড়বে না। বাচার উপায় কি? . যেহেতু এই গল্পটির বেস একজন স্যাইকোপ্যাথ বা সিরিয়াল কিলার। যিনি নির্দিষ্ট সময় পর পর কিলিং করতে ভালবাসেন তার কথাই উঠে এসেছে। তবে এখানে গল্পের অনেক গুলো ফাক রয়ে গিয়েছে। যদিও এটি এয়ারপোর্ট নভেলা তবুও কোথাও মিসিং। কিন্তু এই পরীক্ষাটা ভাল ছিল। গল্পের প্লট নিয়ে বেশি কিছু বলার নেই, এতে স্পয়লার চলে আসতে পারে। এখান পুলিশ, খুনি, গ্যাংস্টার এর সম্মিলিত একটা রূপ উঠে এসেছে। . এয়ারপোর্ট নভেলার বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে এর গতিময়তা, কিন্তু গতি আনতে গিয়ে লেখক কিছুটা খাপছাড়া করে ফেলেছেন বলেই মনে হয়েছে। এখানে প্রশ্ন আসতে পারে কেন। কারণ এখানে উল্লেখ করা হয়েছে খুনি ৭৪টি খুন করেছে। তবে এরপর যে খুনের প্রতি তার একটি চাহিদা বা বলা যায় খুন করার জন্য যে মানসিকতা সেটার বর্ণনা আসেনি। কারণ বইয়ের নামে কিন্তু আর্জ বা চাহিদার কথা উল্লেখ রয়েছে সেটা কিন্তু গল্পের মধ্যে নেই। এখানে অবশ্য বলা যায় যে যেহেতু বইটি একটি পরীক্ষামুলক বই ছিল তাই এমন হতে পারে। আবার বইয়ের শুরুর দিক অনেক ধীর। এটা এয়ারপোর্ট নভেলার ক্ষেত্রে কিছু দুর্বলতাই বলা যায়। পাঠক বিরক্ত হতে পারেন। . তো যেহেতু আমাদের এই জনরাতে তেমন অভিজ্ঞতা নেই তাই সেই হিসেবে বইটি হয়ত উতরে যেতে পারে। নতুন এই জনরায় অনেক কাজও করার জায়গা রয়েছে। সেই দিকে বললে বইটিকে এগিয়ে রাখা যেতে পারে। তবে লেখকের মৃগতৃষা পড়ে আমি হতাশ হয়ে ছিলাম। এই বইটি তেমন হতাশ করেনি। সেদিক থেকে ভাল ই বলা যায়। লেখককে এই দিকে ধন্যবাদ দেয়া যেতেই পারে। . যাইহোক, সবশেষে বলব, বইটি আরও গতিময় ও প্লট টুইস্ট রাখা যেতো। হয়ত তখন বইটি আরও চমৎকার হয়ে উঠতে পারত। কিছু জায়গাতে মনে হয়েছে এগুলো না হলে বইটি আরও গতি পেতে পারত। ধন্যবাদ।
সংক্ষিপ্ত বর্ণনাঃ বইটাতে মুলত একজন সাইকোপ্যাথের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। যে ৭৪ টা খুন করেছে, ৩৭ বারে। তাকে বলা হয়ে থাকে এখানেই "টুইন কিলার"। নির্দিষ্ট সময় পরপর ২ জনকে খুন না করতে পারলে তার ভালো লাগে না। তার চাহিদা অতখানিই, ইংরেজিতে যাকে বলে "আর্জ"।গতানুগতিক সাইকো থ্রিলার না এটা। পাঠককে বাড়তি আতঙ্কিত করার চেষ্টা নেই। তবে গতি আছে। বেশ কিছু অসমাপ্ত প্রশ্নের মেলা আছে। ইঁদুর বেড়াল খেলা আছে।সাদামাটা বর্ণনায় এক সাইকোপ্যাথের গল্প আছে।
পাঠ-প্রতিক্রিয়াঃ আমার এই জনরায় পড়া অর্থাৎ, "এয়ারপোর্ট নভেলা" জনরার এটা প্রথম বই। এই জনরাটাই আমার কাছে ইন্টারেস্টিং লাগলো বেশ। বইটা এমন ভাবে লেখা যাতে চাইলেই টাইম পাসের জন্যে আপনি এক বসায় ১ঘন্টা/ দেড় ঘন্টায় পড়ে ফেলতে পারেন বইটা। (ব্যাপারটা অনেকটা এরকম, এলাম, বসলাম, খেলাম আর চলে গেলাম!)কাহিনির প্লটটা বেশ স্ট্রং ই ছিল। টানটান উত্তেজনার রেশ ও পাওয়া যায় কিছু জায়গায়। বেশ সাবলীল ভাবে এগিয়েছে লেখা। তবে,এই বই পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিলো থ্রিলারের সাথে যেন বেশ খানিকটা ফিজিক্স ও এর নানা তত্ত্বও শিখিয়ে দিচ্ছেন লেখক! কিছু একশন সিকোয়েন্স এ, এতো সুন্দর বর্ণনা, না মানে, ফিজিক্স এর কথা না মনে করে উপায় নেই আর কি! তবে এটা বলতেই হয়,প্লট, চরিত্রায়ন,আর পরতে পরতে টুইস্ট গুলো দারুণ লেগেছে! বইটার সাইজটা বেশ কিউট। গতানুগতিক বড় বই তো নয় ই, পকেট বুকের থেকে অবশ্য বড়ই একটু! চাইলেই খুব সহজে ক্যারি করা যায়, বেশ হালকাও বটে, পৃষ্ঠা সংখ্যাও ১৩৮। খারাপ লাগার দিক বলতে হলে, গল্পের যে সিরিয়াল কিলার, তার শুধু খারাপ মানুষদের মারার বিষয়টাকে গ্লোরিফাই করার বিষয়টা নৈতিক দিক থেকেই ভালো লাগে নাই। এটা বেশ নায়োকচিত আচরণ বুঝায়ে উপস্থাপন করার ব্যাপারটা কেমন জানি!
এছাড়া বইয়ের কভার, বাইন্ডিং, বানান সব মিলিয়ে, উপভোগ্য ও ভালোই লেগেছে! হ্যাপি রিডিং!
গল্পটা একজন সাইকোপ্যাথের। নির্দিষ্ট সময় পর পর দু'জন মানুষের গলা কেটে খুন না করতে পারলে যার ভালো লাগে না। তার অতখানিই চাহিদা। অথচ এই চাহিদাটা বড়ই শক্তিশালী। ইংরেজীতে যাকে বলে 'আর্জ'। গতানুগতিক কোনো সাইকো থ্রিলার নয় এটি। পাঠককে বাড়তি আতঙ্কিত করার চেষ্টাও নেই। তবে গতি আছে। বেশ কিছু অসমাপ্ত প্রশ্নের মেলা আছে। ইঁদুর-বেড়াল খেলা আছে। সাদামাটা একটা বর্ণনায় একজন সাইকোপ্যাথের সাথে কয়েক দিন আপনিও ঘুরে আসতে পারেন তার জগত থেকে। এমন মানুষগুলো তো আমাদের অপরিচিত নন। আপনারই খুব চেনা কেউ হতে পারে সাইকোপ্যাথ। অথচ এত চেনা হয়েও তারা রয়ে যান অচেনা। অবলীলায় নরহত্যা করতে পারেন। কীভাবে?
কাহিনি সংক্ষেপ:
মাসুদ একজন সাধারন ব্যাংকার। ব্যাংকারের জীবন যেমন সাদামাটা হয়, তার জীবন ঠিক তেমনই। ব্যাংক টু অফিস, অফিস টু ব্যাংক— এভাবেই তার জীবন চলে যাচ্ছিলো। হুট করে তার নতুন ডিপার্টমেন্টে বদলী হয়। সেখানে পারভেজ নামক একজন সহকর্মীর বানোয়াট গল্প শুনতে শুনতে তার জীবন অতিষ্ট হবার পথে।
পারভেজ সাহেব অফিসের কাজের ফাঁকে ফাঁকে সহকর্মীদের বিভিন্ন গল্প বানিয়ে শোনান। শহরের বিভিন্ন জোড়া খুনের খুনী তিনি—এমনটাই দাবী করেন। অফিসের সবাই তার ফাদা গল্পে বিশ্বাস করে না, তবে মজা পায়। তার অফিস সেক্রেটারি মালিহা এসব গল্প শুনতে পছন্দ করে।
মাসুদ এসব গল্পে একদমই বিশ্বাস করে না। জোড়া খুনের ব্যাপারে মাত্রাতিরিক্ত বাড়াবাড়ি তাকে অসহিষ্ণু করে তোলে। সে একা সম্প্রতি ঘটে যাওয়া মালিবাগের ঘটনায় অনুসন্ধানে বের হয়ে পড়ে৷ উদ্দেশ্য একটাই— পারভেজ সাহেবকে ভুল প্রমাণিত করা। নাকি অন্যকিছু? মালিবাগে অনুসন্ধান করতে গিয়ে একের পর এক অপ্রীতিকর ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে মাসুদ৷ কিছু লোক তার পিছু নেয়। কিন্তু কেন? এর পিছনে তাদের উদ্দেশ্য কী? আসল সাইকোপ্যাথ কে?
ব্যক্তিগত মতামত:
জীবনে প্রথম এয়ারপোর্ট নভেলা পড়েছি। বিশ অধ্যায়ে আবর্তিত নভেলার কাহিনি গতিশীল ছিল। প্রতি পৃষ্ঠায় লেখকের তরফ থেকে চমক দেবার প্রচেষ্টা ছিল। এয়ারপোর্ট নভেলা মূলত পাঠকদের তাৎক্ষনিক আনন্দ দেয়, কাহিনির গতিশীলতা পাঠককে চুম্বকের মতো আটকে রাখে। এই দিক থেকে লেখককে সার্থক বলতে হবে। বই হাত থেকে রাখতেই ইচ্ছে করেনি। শেষে কী হবে কী হবে ভাবতে ভাবতে পুরোটা পড়ে শেষ করেছি। উপন্যাসিকা হিসেবে ছোট পরিসরে কাহিনির ব্যাপ্তি ও প্লট মানানসই। অনেকটা আগে থেকেই শেষটা আঁচ করতে পেরেছিলাম, তবুও শেষে এসে হতাশ লাগেনি। লেখকের লেখার ধরনের জন্য সময় আনন্দে কেটেছে এজন্য লেখককে ধন্যবাদ৷ এই বছর টানা নন-ফিকশান পড়তে পড়তে হুট করে মনে হলো স্বাদে ভিন্নতা আনি। ভূমিকাতে লেখক এয়ারপোর্ট নভেলা নিয়ে গবেষণার কথা বলাতে ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম হয়তো ভালো লাগবে না। দোনোমোনো করতে করতে শেষে পড়েই ফেলেছি। চমৎকার লেগেছে। আশা করি লেখক এই জনরায় আরো কিছু বই উপহার দিবেন।
চাহিদারা আজ হন্যে, ছোট পরিসরের এই উপন্যাসিকাটা আমার অন্যতম পছন্দের লেখক কিশোর পাশার ইমনের একটি থ্রিলার৷ এই ধরনের থ্রিলারকে নাকি এয়ারপোর্ট থ্রিলার বলে৷ যদিও এই জনরার নাম আগে জানা ছিল না৷ যতটুকু বুঝলাম ছোট পরিসরের বই যা এক বসায় পড়ে শেষ করা যায় এমন কিছু হবে৷ দু'জন করে খুন হতে থাকা অপরাধ নিয়ে গল্পটি এগিয়ে যায়। এরপর যথারীতি তদন্ত, সন্দেহ,গোপনীয়তা, চমক সবকিছুই রয়েছে যা যা থাকা দরকার৷
এবার আসি, মূল পাঠ প্রতিক্রিয়ায়৷ বইটা সিরিয়াল কিলিং নিয়ে।যেমনটা আপনি সাধারণ সিরিয়াল কিলিং উপন্যাসে দেখে থাকবেন তেমনই, তবে খুব বেশী গতানুগতিক মনে হবে না৷ এক বসায় পড়ার জন্যে লেখকের এই প্লটে গতিশীলতা ছিল৷ তাই টানা পড়ে গিয়েছি৷ এবং সত্যি বলতে একদম শেষ পর্যন্ত পড়ে যাওয়ার মত একটি উপন্যাস৷ চরিত্রায়ণ,বর্ণনা শৈলী একদম কেপিমনীয়!
নেগেটিভ তেমন কিছু ধরতে পারি নি৷ তবে উপন্যাসটি ছোটখাটো সাইজের হওয়ায় এবং প্লট আমাদের পড়া অন্য দশটা বইয়ের মত হওয়ায়, হয়তো এর রেশ কিংবা প্রভাব বেশীক্ষণ থাকবে না৷ তবে উপন্যাসটি আমার মনে হয় সবাই ইঞ্জয় করবেন৷ তবে কেপি ইমনের অন্যান্য মৌলিক থ্রিলারের চাইতে এটিকে এগিয়ে রাখতে পারছি না।
প্রথমেই একটা ব্যাপার ক্লিয়ার করে দেয়া দরকার। এই বই পড়ে কেপি কে জাজ করতে যাবেন না। এই বইটি সম্পূর্ণ এক্সপেরিমেন্টাল। এক-দেড় ঘন্টার মধ্যে পড়ে শেষ করতে পারবেন এমন স্পিডি সাইকো থ্রিলার লেখার চেষ্টা করেছেন কিশোর পাশা ইমন এবং অনেকাংশেই ব্যর্থ হয়েছেন। কিছু জায়গার বর্ণনা কমিয়ে ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টের উপর ফোকাস করা যেত, আর স্পিড ঠিক রাখতে গিয়ে প্রোপার এক্সিকিউশনও সম্ভব হয়নি। বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তরও শেষ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
তবে এয়ারপোর্ট নভেলা বাংলা সাহিত্যে একদম নতুন আইডিয়া। এই জনরায় আরও ভাল কাজ আসবে আশাকরি।
❝আপনারই খুব চেনা কেউ হতে পারেন সাইকোপ্যাথ। অথচ এত চেনা হয়েও তারা রয়ে যান অচেনা। অবলীলায় নরহত্যা করতে পারেন। কীভাবে?❞
বইয়ের গল্প এমন একজন সাইকোপ্যাথের, নির্দিষ্ট সময় পর পর দু'জন মানুষের গলা কেটে খুন না করতে পারলে যার ভালো লাগে না।
খুব ভালোলাগার মতো একটা বই। এক বসাতেই শেষ করা যায়। দ্রুত গল্প এগিয়ে যায় যার কারণে শেষ না করে উঠতে মন চায় না।
লেখকের প্রথম লেখা আমি ❝থ্রিল এক্সপ্রেস❞ বইয়ে পড়ি। তারপরই লেখকের কিছু বই সংগ্রহ করবো বলে ঠিক করি সেই সুবাদে এই বইটা সংগ্রহ করা পড়ার পর তো এখন ঠিক করেই নিলাম লেখকের সব বই ইনশাআল্লাহ আমার কাছে থাকবে একদিন।
ঠিকঠাকই পড়তে যেয়ে মনে হলো! তবে খুব যে বইয়ে মগ্ন হয়ে যাচ্ছিলাম এমনটা না! মাঝে মাঝেই ছন্নছাড়া, খাপছাড়া, ছন্দ মিলছে না এমন মনে হচ্ছিল! ভেবেছিলাম মিলির সাথে মাসুদের মিল হবে! তা অবশ্য না হয়ে একটা দিক অন্তত সামলেছে যে যারপরনাই প্রেডিক্টেবল বানায়ে ফেলেন নাই! এয়ারপোর্ট নভেলা / বাস ট্রেন নভেলা কি এই বইকে বলা যায়? আমার কাছে মনে হয়েছে যে না! কারণ বাসে ট্রেনে আমার পারতপক্ষে হাল্কা বইই পড়তে বরং ভালো লাগে!🤦🏻♀️
*Spoiler Alert . . . . . . . এয়ারপোর্ট নভেলা হিসেবে বেশ চমৎকার একটা বই। কিছু জায়গায় খাপছাড়া লেগেছে, হয়তো গল্পকে দ্রুতগতি দেয়ার জন্যই সেটা। বিশেষ করে কারো স্বামীকে চোখের সামনে খুন করার পর, নিজে একাধিক বার ধর্ষিত হবার পর একদম স্বাভাবিক আচরণ করাটা একদমই অদ্ভুত।
This entire review has been hidden because of spoilers.
নিজের লেখা সম্পর্কে কেপির আকাশছোঁয়া কনফিডেন্স চেক করতে মূলত বইটি পড়া। খুবই এভারেজ, প্লটহোল এবং বেশ কিছু অপ্রয়োজনীয় বর্ণনা পড়তে বিরক্ত লেগেছে। আশা করি সামনে কনফিডেন্সের সাথে সমানুপাতিক লেখা পড়ার সৌভাগ্য হবে। লেখকের জন্য শুভকামনা।
কেপির একটা এক্সপেরিমেন্টের অংশ ছিলো এটা, সে হিসেবে যথেষ্ট ভালো। "এয়ারপোর্ট নভেলা" নামক জনরাকে পরিচিতি পাইয়ে দিতেই চাহিদারা হন্যে-কে নিয়ে আসা। ডিটেইলিং, স্টোরিটেলিং ছিলো কেপি'র অন্যান্য বইগুলোর মতোই চমকপ্রদ। আশা করছি পরবর্তীতে এই জনরায় আরও ভালো কিছু পাবো🥰
খুব একটা ভালো লাগেনি। অনেকদিন আগে পড়েছিলাম। কেপির লেখা দেখে এক্সাইটেড ছিলাম বেশ, তবে এটা পড়ে হতাশ হয়েছি। যারা কেপির বই প্রথমবারের মতো পড়তে যাচ্ছেন তাদের জন্য নট রেকমেন্ডেড।