বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সবচেয়ে কষ্টসাধ্য ট্রেনিংয়ের নাম ‘আর্মি কমান্ডো কোর্স’। ২৫ সপ্তাহের এই ট্রেনিং অনুষ্ঠিত হয় স্কুল অফ ইনফ্যান্ট্রি এন্ড ট্যাক্টিক্সের অধীনে। অমানুষিক শারীরিক পরিশ্রম আর তীব্র মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে শেষতক কৃতিত্বের সাথে যারা উত্তীর্ণ হন, তাদের প্রত্যেকেই এক একজন কমান্ডো। ট্রেনিংয়ের শেষ ধাপে প্যারাসুট জাম্পের উপর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করায় তাঁদেরকে ‘প্যারা কমান্ডো’ হিসেবেও অভিহিত করা হয়। এদের মাঝে নির্বাচিত কিছু সদস্য নিয়েই ‘বাংলাদেশ আর্মি স্পেশাল ফোর্স’ গড়ে উঠেছে, যাদের সুনাম ও কর্মদকক্ষতাঁর অনেক নজির, সাম্প্রতিককালে লক্ষ্যনীয়। সেই প্যারা কমান্ডোদের ট্রেনিং জীবন নিয়েই এই বই।
রাজীব হোসেন এর লেখার পরিধি বিচিত্র। গ্রামে জন্ম নেয়া এবং সেখানে ক্ষেতের আইলে দৌড়ে বেড়ে ওঠার কারণে, দস্যিপনায় ভরা স্মৃতিমুখর শৈশব। লুকিয়ে মাছ ধরা, আম চুরি করা আর তল্লাট চষে বেড়ানো সেই শিশু, তার কৈশোরে এসে পাড়ি জমায় ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের বিস্তৃত প্রাঙ্গনে। ১৭৫ একরের চারণভূমিতে ভিত গড়ে ওঠা। এক সময় সেনাবাহিনীতে যোগদান এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ আর্মি স্পেশাল ফোর্সে কাজ করার সুযোগ হয়। সেনা পরবর্তী দ্বিতীয় জীবনে সুন্দরবনের গহীনে রয়েল বেঙ্গল টাইগার কঞ্জারভেসন প্রজেক্টে কাজ করার সুবাদে, গহীন জঙ্গলের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা রয়েছে। একজন আন্তর্জাতিক আল্ট্রা ম্যারাথন রানার হিসেবে পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে ভ্রমণের সুযোগ হয়েছে। এহেন বিচিত্র কর্মজীবন হবার কারণে অভিজ্ঞতার ঝুলি সমৃদ্ধ। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা বাবা খন্দকার আবু হোসেন একজন রাজনীতিবিদ এবং মা শামসুন্নাহার একজন শিক্ষিকা ও নারী অধিকার আন্দোলনের নেত্রী হবার কারণে, প্রান্তিক মানুষের জীবনের সাথে জীবনভর সখ্যতা। জগত সংসারের অনেক ঝঞ্ঝা বিক্ষুব্ধ পথের অভিযাত্রী রাজীব হোসেন কবিতা, রম্য রচনা, ভ্রমণ কাহিনী, এডভেঞ্চার, প্রকৃতি কিংবা মিলিটারি বিষয়ে লিখলেও- প্রথম বইয়ের বিষয় হিসেবে বেছে নিয়েছেন নিজের লাইফ কোডঃ “কমান্ডো”। লম্বা সময় ধরে সোশ্যাল মিডিয়াতে খণ্ড আকারে প্রকাশ পাওয়া এই বইটির পাঠক চাহিদা থাকায়, বইটির আয়োজন। লক্ষ্য- তরুণ প্রজন্মের কাছে একটি সম্মান ও পরিশ্রমের জীবনের চিত্র তুলে ধরা। যাত্রা সবে শুরু হলো। তিনি চান, সামনের দিনগুলোতে পাঠকের আত্মার কাছে পৌঁছানোর লেখা নিয়ে আসতে, যেন মানুষের বই পড়ার অভ্যাস আরও পোক্ত হয়।
বিভিন্ন সামরিক বাহিনী, স্পেশাল ফোর্স সম্পর্কে বরাবরই আমার একটা বিশেষ আগ্রহ কাজ করে। তাই গুডরিডসে বইটা দেখে লিস্টে এড করে ফেলছিলাম। তখনো হার্ডকপি কেনার কথা চিন্তা করিনি। একদিন ‘মেঘ না চাইতেই জল’- এর মতো আমার এক বন্ধুর কাছে বইটা আবিষ্কার করি। আমি তো মহাখুশি। শুরু করে দিলাম আমার ‘কমান্ডো’ অভিযান (*‿*)
ছয় মাস কমান্ডো প্রশিক্ষণের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডের একটা চিত্র তুলে ধরছেন লেখক। সাথে লেখকের দুর্দান্ত সেন্স অব হিউমার। মাঝে মাঝে তো লেখক ও তার প্রশিক্ষণার্থী বন্ধুদের করুণ পরিস্থিতির বিবরণ পড়ে হাসতে হাসতে দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিলো :')
আর বইটার বদৌলতে কলেজে যাওয়া আসার সময়টা আমার দারুণ কেটেছে। বাসে উঠেই আমার দুই বন্ধু যেখানে একাডেমিক পড়াশোনা নিয়ে ব্যাস্ত, সেখানে আমি বুঁদ হয়ে ছিলাম একদল স্বপ্নবাজ তরুণদের সাথে। তাই এতো দীর্ঘ সময় লাগলো বইটা শেষ করতে। প্রশান্তি!
প্যারা-কমান্ডো ট্রেনিং নিয়ে সবারই অল্প-বিস্তর আগ্রহ কাজ করে। এই আগ্রহের পেছনে হলিউডের বিভিন্ন চলচ্চিত্রে কমান্ডোদের অতিমানব হিসেবে দেখানোর প্রবণতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কমান্ডো ট্রেনিং নিয়ে বাঙালির আগ্রহের দাম দিতে প্রথম কলম ধরেছিলেন মেজর(অব.) আনোয়ার হোসেন। ষাটের দশকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কমান্ডো ট্রেনিং নিয়েছিলেন আনোয়ার হোসেন। সেই প্রশিক্ষণের স্মৃতি নিয়ে আশির দশকে লিখেছিলেন অনবদ্য এক গ্রন্থ। 'হেল কমান্ডো' নামের সেই বই পড়ে রোমাঞ্চিত হননি এমন পাঠক নিঃসন্দেহে বিরলতম। তারপর দীর্ঘ বিরতি। বাংলায় কমান্ডো ট্রেনিং নিয়ে আর কোনো গ্রন্থ লেখা হয়নি। হলেও অন্তত পাঠককুলের কাছে না সেভাবে আলোড়ন তুলতে ব্যর্থ হয়েছে। ২০২১ সালে এসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী স্পেশাল ফোর্সের সদস্য রাজীব হোসেন লিখেছেন 'কমান্ডো'। ২৫ সপ্তাহের প্যারা-কমান্ডো ট্রেনিংয়ের স্মৃতি নিয়ে রাজীব হোসেনের 'কমান্ডো'।
সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন রাজীব হোসেন। ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের অফিসার রাজীবের প্রথম পোস্টিং হলো কাপ্তাইয়ে। তখনকার ঘটনা লেখকের জবানিতে,
' আমি সবে ইউনিটে জয়েন করেছি। আর্মি ইউনিটগুলোতে একজন করে স্থায়ী টেইলর মাস্টার রাখার প্রচলন আছে। তার কাজ হলো, সকলের ইউনিফর্ম সেলাই করা। তো আমার নতুন ইউনিফর্ম সেলাই করার দায়িত্ব পড়ল সেই দরজি মহাশয়ের ওপর। ভদ্রলোক কী করতে কী করলেন, আমার ইউনিফর্মের সার্টের এক হাতা ছোট, আরেক হাতা বড়। আমি তো চিন্তিত। আমি বিষয়ের ব্যাখা চাইতেই তার জবাব, ' স্যার, এইটাই নিয়ম। নতুন কমিশন পাওয়া অফিসারের ইউনিফর্মের এক হাতা ছোট, আর এক হাতা বড় হয়। '
এই অভিনব ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় উর্ধ্বতন কর্মকর্তার প্রশ্নের জিজ্ঞাসায় উত্তর,
' স্যার, এইটাই নিয়ম। নতুন অফিসারের ইউনিফর্মের শার্টের এক হাতা লম্বা, আর এক হাতা ছোট হয়। ' সেই সৃজনশীল দরজিকে পরবর্তীতে কাপ্তাই লেকে সাঁতার কাটতে দেখা গেল!
প্রথম থেকেই কমান্ডো ট্রেনিং নেওয়ার জন্য উৎসুক ছিলেন লেখক। কিন্তু সেই ট্রেনিং তো চাইলেই নেওয়া যায় না। লেখক ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের কর্মকর্তা। এই কোরের কর্মকর্তাদের কমান্ডো ট্রেনিংয়ের উপযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে লেখককে বারবার ট্রেনিংয়ে যেতে বাঁধা দিয়েছেন তার কমান্ডিং অফিসার। তবু নিরাশ হননি রাজীব হোসেন। স্বপ্ন দেখেছেন কমান্ডো হওয়ার। একসময় স্বপ্ন পূরণের সুযোগ তৈরি হলো। ২৫ সপ্তাহের কমান্ডো ট্রেনিংয়ের জন্য মনোনীত হলেন। কিন্তু সেই ট্রেনিংয়ে যোগ দেওয়ার আগে সবার কাছে বন্ড সই নেওয়া হয়েছিল। ট্রেনিংয়ে কারো কোনো ক্ষতি হলে কিংবা মারা গেলে সেনাবাহিনী দায়বদ্ধ থাকবে না - এমন কঠিনতম শর্তে রাজি হয়ে তবেই যেতে হয়েছিল কমান্ডো ট্রেনিংয়ে।
কমান্ডো ট্রেনিংয়ে শারীরিক শক্তির প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় না। বরং ব্যক্তির সামর্থ্য কতটুকু তা নিয়ে সীমাবদ্ধতা ভেঙে দেওয়ার একটি প্রবল চেষ্টা করা হয়। যে কোনো পরিস্থিতিকে সামলানোর মানসিক দক্ষতা তৈরি করাকে জোর দিয়ে পরিচালিত হয় কমান্ডো ট্রেনিং। তাই ট্র্রেনিং শুরুর আগেই আরম্ভ হয়ে যায় ট্রেনিং। সবাইকে একদম চমকে দিয়ে।
কষ্টসহিষ্ণু বানানোর জন্য হেন কোনো প্রক্রিয়া নেই যা অনুসৃত হয়নি। সর্বশেষ ৫০ কি.মি. লম্বা ম্যারাথন ও সাপ, শেয়াল, ব্যাঙের মাংসের সহযোগে রাজভোজের কাহিনি পাঠককে নির্দ্বিধায় আকর্ষণ করবে! রাজীব হোসেন পেশাদার লিখিয়ে নন। প্রথম প্রয়াস হিসেবে ভালো লিখেছেন। সামরিক বাহিনীর লোকজন সিভিলিয়ানদের 'ব্লাডি সিভিলিয়ান' ভাবতে পছন্দ করেন। এই মানসিকতা বাইরে রাজীব হোসেন যেতে পারেননি। এদেশের সাধারণ মানুষের সেনাবাহিনী নিয়ে আলাদা আগ্রহ লক্ষণীয়। পোস্তগোলা ব্রিজের কাছে নিচে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণের সময় জনতা ভিড় করতো। সেই জনতাকে উদ্দেশ্য করে নেতিবাচক কথা লিখেছেন রাজীব হোসেন। আবার কমান্ডো ট্রেনিংয়ে ম্যারাথনের সময়কার ঘটনা,
' আমি হুট করে রাস্তার পাশে এক বাড়ির উঠোনে টিউবওয়েলের সামনে চলে গেলাম। আমার সাথে আমার এক সৈনিক সহকর্মী বন্ধু। গিয়ে দেখি এক লোক আয়েশ করে দাঁত মাজছেন। আমি যেই না মাথার হেলমেট খুলে পানি ভরতে গিয়েছি, সাথে সাথে এক রকম তেড়ে এলো। কারণ জিজ্ঞেস করতেই বলে, সে এখন মুখ ধোবে। এবং আমরা আর্মিরা সবসময় মানুষজনকে বিরক্ত করি। তাই সে আমাদেরকে পানি দেবে না। '
নিজ বাড়ির প্রাঙ্গণে অধিকার খাটাতে চাওয়া পাজি সিভিলিয়ানের ব্রাশরত হাত চেপে ধরলেন সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট রাজীব। এই সময় তার প্রশিক্ষক সাইফুল এলেন। তাকে রেখে পানি নিয়ে দৌঁড় শুরু করতেই পেছন থেকে শুনলেন,
' ব্রাশওয়ালা নবাব-এর "ওরে বাবারে মারে" চিৎকার ' একজন সিভিলিয়ানকে শায়েস্তা করার ঘটনা গর্বভরে লিখেছেন কমান্ডো রাজীব। লিখতে বসেও মুহূর্তের জন্য ভুলতে পারেননি তিনি আর্মির লোক। আর ঐ 'ব্রাশওয়ালা নবাব' সিভিলিয়ান। পাকিস্তান আমলের বাঙালি সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের মনোজগৎ জুড়ে কাকুল সিনড্রোমের কথা লিখেছেন মুনতাসীর মামুন। স্বাধীন বাংলাদেশে এটি কোন সিনড্রোম?
যাহোক, লেখকের সেন্স অব হিউমার ভালো। বেশকিছু ঘটনা পড়তে গিয়ে নিজের অজান্তেই হেসে উঠবেন। দ্রুত সময় কেটে যাবে।
বাংলায় প্যারা কমান্ডো ট্রেনিং নিয়ে মাত্র দুটি বই লেখা হয়েছে। যদি তুলনা করতে হয় তাহলে বলবো 'হেল কমান্ডো'র পর্যায়ে রাজীব হোসেনের 'কমান্ডো' একদমই পৌঁছাতে পারেনি। 'কমান্ডো' একবার পড়ার চাইতে 'হেল কমান্ডো' দু'বার পড়াকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও উপভোগ্য মনে করবো।
প্যারা কমান্ডো নিয়ে বাংলাদেশের প্রথম এবং একইসঙ্গে দুর্দান্ত বই।
ছয়মাসের কমান্ডো ট্রেনিং চলাকালে একজন কমান্ডোর নিজের সহ্যক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা ভেঙে দেয়া হয়। ক্রমাগত অমানুষিক পরিশ্রমের ফলে তার মাঝে জন্ম নেয় আত্মবিশ্বাসের স্তম্ভ। বইটা পড়ার সময়ে মনে হয়েছে কথাগুলো যথার্থ। তীব্র শারিরিক পরিশ্রম ও মানসিক চাপের ঘটনাবলি বর্ণনা করতে গিয়ে লেখক বিভিন্ন মজার ঘটনার আশ্রয় ���িয়েছেন। তার মধ্য থেকে কিছু ঘটনা সংক্ষেপে তুলে দিলাম:
সাতারে ভয় পাওয়া এক কমান্ডো ট্রেইনি সাতারের ইভেন্ট সম্পন্ন না করেই দু'বার পাড়ে চলে আসেন। পুনরায় পাড়ে যাবার উপক্রম ধরলে স্বয়ং অফিসার ইন চার্জ পানিতে নেমে তাকে চুবাতে শুরু করেন। ৫ মিনিট ধরে চলা এই পর্যায়ে ট্রেইনিং মাথা তুলতে পারলেই চিৎকার করে বলতো," ঐ ইমতিয়াজ শয়তানের বাচ্চা, আমায় ছাড়! শয়তানের বাচ্চাটা আমারে মেরে ফেলছে। কেউ বাচাও!"
সারভাইভাল ট্রেনিং এক পর্যায়ে অদ্ভুতসব খাবার খেতে শেখানো হয় যাতে করে একজন কমান্ডো প্রতিকূল পরিবেশেও খাদ্যাভাবে না ভুগেন। তাদের জন্য সে ইভেন্টে শিয়ালের মাংস, গোখরা সাপ, কাচা বাশ, ব্যাঙ থেকে শুরু করে বহু প্রাকৃতিক খাবারের আয়োজন থাকে। নাম শুনেই হয়তো আপনার বমি চলে আসতে পারে। সেরকম এক ট্রেইনির বমি হওয়ার পর তার প্লেট রিফিল করে দিয়ে বলা হলো," আগের খানা বের হয়ে গেছে কমান্ডো। আবার শুরু করেন।"
ফাইনাল এক্সারসাইজ চলাকালীন সময়ে কমান্ডোদেরকে খাদ্যাভাবে ভুগতে হয়। তার মধ্যে ক্রমাগত অপারেশন চালিয়ে থাকেন ক্লান্ত পরিশ্রান্ত। সেরকম অবস্থায় এক ট্রেইনি হাটার সময় ঘুমোতে ঘুমোতে কালভার্ট থেকে নীচে পড়ে গেলেন। সেখানে পড়ে কাদামাটি আর ধানক্ষেতের ভেতরেই পড়লেন ঘুমিয়ে। তাকে জাগাতে এসে এক স্টাফ হেলমেটে বাড়ি দিতেই উঠে তিনি জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া শুরু করলেন!
পাছায় বাড়ি খাওয়া নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। কোনো একটা ছোটখাটো ভুলের মাশুল হিসেবে ক্রমাগত বাড়ি। এই জিনিস এতোটাই স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছিলো যে ট্রেনিং এর শেষদিকে ক্লান্ত ট্রেইনিংগণ স্টাফদের অনুরোধ করেছেন,"স্টাফ, আমার পাছায় কয়টা জোড়ে বাড়ি দেন। তাইলে একটু মোটিভেশন পাবো।"
টানা সতেরো ঘন্টা অমানুষিক পরিশ্রম করে লেখক হাইড আউটে ফিরে জুতা খুললেন। এরপর দেখলেন মোজার সাথে পায়ের পাতার চামড়া উঠে আসতেছে!
এরকম বহু ঘটনা মিলিয়ে বইটাকে সাজিয়েছেন লেখক। প্রত্যেকটা ঘটনার সাথে হিউমার না দিলে হয়তো ২৮০ পৃষ্ঠার এই বই শেষ করেই উঠতে পারতাম না। এমনিতেই কমান্ডোদের বিশেষ চোখে দেখতাম, এই বই পড়ার পর তাদের প্রতি শ্রদ্ধা আরো বেড়ে গেলো।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সবচেয়ে কষ্টসাধ্য ট্রেনিং 'আর্মি কমান্ডো কোর্স'। এই কোর্স এর বাস্তব অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন লেখক। যেহেতু এটা কোন গল্প না, স্মৃতিচারণ মূলক লেখা এখানে রিভিউ এর কিছু নেই। নিজের কিছু অনুভূতি ব্যক্ত করতে পারি। এই কোর্স করতে পারার জন্য প্রথম থেকে লেখকের প্রবল ইচ্ছা থাকায় অনেক বাধার সম্মুখীন হয়েও এক সময় এই কোর্সে ডাক পড়ে। এরপর শুরু হয় অকল্পনীয় শারীরিক আর মানসিক চাপ। এই চাপগুলো যে শুধু শক্তি বৃদ্ধি বা দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য তা না, পুরো সময়টাতে সহ্য শক্তির শেষ সীমা অতিক্রম করে আরো সামনে নিয়ে যাওয়া হয় তাদের। সীমা বলতে কিছু নাই, সবসময় সামনে যেতেই হবে -এই শিক্ষাটাই দেয়া হয়। সেই পুরো অভিজ্ঞতার একটা সারাংশ এই বইতে। সেনাবাহিনীর বিভিন্ন র্যাংক, ইউনিট ইত্যাদির ব্যাপারে আমার মত সম্পূর্ণ অজ্ঞ কেউ থেকে থাকলে প্রথম দিকে সবার পরিচয় পর্বে অনেক অসুবিধা হবে। পরে অবশ্য ট্রেনিং এর ভয়াবহতাতে আর সেগুলো নিয়ে মাথা ঘামাইনি। ট্রেনিং এর শুরুটা পড়ে মনে হচ্ছিল কোন একশন মুভি দেখছি নাকি, রিয়েল লাইফে এইগুলা হয়? লেখায় লেখকের কিংবা তার বন্ধুর সেন্স অব হিউমারের যথেষ্ট পরিচয় পাওয়া যায়।
কিছু ব্যাপার পড়ে খুব একটা ভালো লাগে নাই। যেমন - পোস্তগোলা ব্রিজে দাঁড়িয়ে বা সিলেটে নদীর পাড়ে জনতা সেনাবাহিনীর কার্যকলাপ দেখতো, সে সংক্রান্ত কিছু কথা। এদেশের জনগণ কেউ ইভ টিজিং এর শিকার হোক আর মরে পড়ে থাকুক, চারপাশে দাঁড়িয়ে দেখতে খুব পছন্দ করে, সেখানে সেনাবাহিনীর কিছু দেখা মিস করবে এটা ভাবাই যায় না। কিংবা সেই বাসার সেই লোক যে দাঁত ব্রাশ করছিলো, পানি দিতে অস্বীকার করে। শেষে তার বাবাগো মাগো বলে চিৎকারের কারণ কী?
বইতে বারবার 'হেল কমান্ডো ' বইটার গুণগান করা হয়েছে। আবার অনেকে সেই বইয়ের সঙ্গে তুলনাও করেছেন। বইটা এখনো পড়া হয়নি। কাজেই ওটা আগে পড়লে কেমন লাগতো জানিনা। তবে লেখার ভঙ্গী আর পুরো ট্রেনিং এর বিবরণ পড়তে ভালোই লেগেছে আমার।
বইটা অসম্ভব রকমের ইনফরমেটিভ।সাথে লেখকের হিউমার এক সেকেন্ডের জন্যও বিরক্ত হতে দেয় নি। ডায়রি বা গধবাধা তথ্যের বাইরে গিয়ে লেখক নিজের অভিজ্ঞতা সাহিত্যগুনের মোড়কে বর্ণনা করায় বেশ সুখপাঠ্য ছিল।কমান্ডোদের প্রতি সম্মান অনেক বেড়ে গেলো।আবশ্য পাঠ্য একটি বই।
Rajib Bhai is one of my absolute favorite human beings; someone that I look up to. Over time I have come to know lots of his life stories during our casual conversations & addas. However, reading about a big part of his life, printed & in form of a book, has been an absolute delight. The cherry on top is his kind inscription for me. This book is certainly the new crown jewel on my bookshelves!
If you want to read about the formative period of a man’s life, Commando is highly recommended! Trust me, you will laugh, feel sad, get empathetic, & experience a myriad of emotions. You will also discover insights on life, leadership, management, self-discipline, & everything in between as the author narrates his story.
#myreads গত কয়েকদিন যাবৎ বই পড়ার অভ্যাসটাকে আবার জীবিত করতে চাচ্ছিলাম। রাজীব হোসেন এর লেখা "কমান্ডো" বইটার মাধ্যমে শুরু করলাম। বইটির বিষয়বস্তু অনেকটা বইয়ের নাম থেকেই আঁচ করা যায়। লেখক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন প্রাক্তন কমান্ডো। লেখকের কমান্ডো ট্রেনিং চলাকালে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলী নিয়েই বইয়ের ব্যাপ্তি।
লেখক আর্মির ইঞ্জিনিয়ারিং কোর এর সদস্য। সেখান থেকে তার কমান্ডো কোর্সে নাম লেখানোর জন্য সংগ্রাম এর গল্প দিয়ে বইয়ের শুরু। কাপ্তাইয়ে অবস্থিত রিভারাইন ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাটালিয়ন এর সদস্য এক তরুণ সেকেন্ড ল্যাফটেনেন্ট এর কমান্ডো হওয়ার স্বপ্ন ও তার সহকর্মীগণের কাছ থেকে নিরুৎসাহিত হওয়ার ঘটনাবলি পাঠককে সন্দিহান করে তুলবে, আদৌ কি লেখক কমান্ডো কোর্সের জন্য রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন? কিন্তু সকল বাঁধা ভেঙে কাপ্তাই থেকে জালালাবাদ সেনানিবাসে অবস্থিত School of Infantry and Tactics এর রোমাঞ্চকর যাত্রা শেষে শু��ু হয় কমান্ডো হয়ে উঠার গল্প। আমরা সচরাচর "ট্রেনিং" বলতে যা বুঝি, কমান্ডো কোর্সের ট্রেনিং এর সাথে তার আকাশ পাতাল তফাত। কখনো রাত আড়াইটায় সিমুলেটেড এটাক ডিস্প্লে করার মাধ্যমে ট্রেইনিদের অরিয়েন্টেশন, কখনো জীবন্ত জোঁক মুখে নিয়ে দাড়িঁয়ে থেকে জোঁকের ভয় ভাঙানো, কখনো স্যুট পড়া অবস্থায় শাস্তি হিসাবে গোটা কোর্সের পিটি করার দৃশ্য - পাঠক হিসেবে বারবার থেমে যেতে হয়। হ্যালো কাস্টিং এ উঁচু থেকে পানিতে ঝাপিয়ে পড়ে নদীর বুক চিরে সাঁতরে যাওয়া, ম্যারাথনে পিঠে ৪০ পাউন্ড এর ব্যাটেল লোড নিয়ে ৫০ কিলোমিটার দৌঁড়ানো কিংবা আড়াই হাজার ফুট উঁচু থেকে প্যারা জাম্পিং করার সময় সহকর্মীর সাথে প্যারাশুট প্যাঁচিয়ে গিয়ে মৃত্যুর খুব কাছাকাছি চলে যাওয়া- পাঠক হিসেবে আপনি আৎকে উঠতে বাধ্য। সর্বোপরি প্রতিটি ট্রেনিং এর গল্প পড়ার পর একজন সেনাসদস্য সম্পর্কে আপনার ধারণা একটু একটু করে পাল্টাবেই।
ট্রেনিং চলাকালে বিভিন্ন ঘটনার অত্যন্ত প্রাণবন্ত বিবরণ ছাড়াও লেখক ট্রেনিং চলাকালে যেসকল মানুষজনের সংস্পর্শে এসেছেন তাদের চরিত্রের অত্যন্ত নিখুঁত বিবরণ দিয়েছে। পড়তে পড়তে আপনি চোখের সামনে জাদরেল ইন্সট্রাক্টর মেজর ইমতিয়াজকে লাঠি হাতে দেখতে পাবেন, লেখককে বিভিন্নভাবে "খাতির" করা স্টাফজিদের উপস্থিতি টের পাবেন, অথবা লেখকের পরম বন্ধু হাসিব ও জাহিদকেও আপনার সামনে উপস্থিত বলে মনে হবে।
লেখক বিভিন্ন মিলিটারি টার্মের অত্যন্ত সহজ ব্যাখ্যা দিয়ে ফুটনোট দিয়েছেন। প্রতিটি ট্রেনিং পিরিয়ডের বোরিং আদ্যোপান্ততে না গিয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলোই শেয়ার করেছেন। বইয়ের সাথে সাথে কমান্ডো কোর্সের টাইমলাইন ধরে আপনি আগাতে থাকবেন। সারাদিনের ব্যাস্ততা শেষে রাতে ঘুমাতে যাবার আগে আমি লেখকের সাথেই হারিয়ে গিয়েছি বারবার, কখনো এসআইএন্ডটি তে লেগে, কখনো দুর্গম লাউয়াছাড়ার বনের ভেতর দিয়ে সার্ভাইবাল ট্রেনিং এ, কখনো ফাইনাল এক্সারসাইজ এর নাইট প্যাট্রোলিং ও হাইড আউটে। বইটি সবার জন্য সাজেস্ট করবো। কমান্ডো কোর্সের মধ্যে দিয়ে শারীরিক ও সামরিক দক্ষতা অর্জনের থেকেও গুরুত্বপূর্ণ, কমান্ডো মেন্টালিটি বিল্ডাপ করা। পাঠকও একজন কমান্ডোর মতো হাল না ছেড়ে দেয়ার ইস্পাত দৃঢ় মানসিকতা তৈরির রসদ খুঁজে নিতে পারেন বইয়ের প্রতিটি পৃষ্ঠায়।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সবচেয়ে কষ্টসাধ্য ট্রেনিং 'আর্মি কমান্ডো কোর্স'। এই কোর্স এর বাস্তব অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন লেখক। যেহেতু এটা কোন গল্প না, স্মৃতিচারণ মূলক লেখা এখানে রিভিউ এর কিছু নেই। নিজের কিছু অনুভূতি ব্যক্ত করতে পারি। এই কোর্স করতে পারার জন্য প্রথম থেকে লেখকের প্রবল ইচ্ছা থাকায় অনেক বাধার সম্মুখীন হয়েও এক সময় এই কোর্সে ডাক পড়ে। এরপর শুরু হয় অকল্পনীয় শারীরিক আর মানসিক চাপ। এই চাপগুলো যে শুধু শক্তি বৃদ্ধি বা দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য তা না, পুরো সময়টাতে সহ্য শক্তির শেষ সীমা অতিক্রম করে আরো সামনে নিয়ে যাওয়া হয় তাদের। সীমা বলতে কিছু নাই, সবসময় সামনে যেতেই হবে -এই শিক্ষাটাই দেয়া হয়। সেই পুরো অভিজ্ঞতার একটা সারাংশ এই বইতে। সেনাবাহিনীর বিভিন্ন র্যাংক, ইউনিট ইত্যাদির ব্যাপারে আমার মত সম্পূর্ণ অজ্ঞ কেউ থেকে থাকলে প্রথম দিকে সবার পরিচয় পর্বে অনেক অসুবিধা হবে। পরে অবশ্য ট্রেনিং এর ভয়াবহতাতে আর সেগুলো নিয়ে মাথা ঘামাইনি। ট্রেনিং এর শুরুটা পড়ে মনে হচ্ছিল কোন একশন মুভি দেখছি নাকি, রিয়েল লাইফে এইগুলা হয়? লেখায় লেখকের কিংবা তার বন্ধুর সেন্স অব হিউমারের যথেষ্ট পরিচয় পাওয়া যায়।
কিছু ব্যাপার পড়ে খুব একটা ভালো লাগে নাই। যেমন - পোস্তগোলা ব্রিজে দাঁড়িয়ে বা সিলেটে নদীর পাড়ে জনতা সেনাবাহিনীর কার্যকলাপ দেখতো, সে সংক্রান্ত কিছু কথা। এদেশের জনগণ কেউ ইভ টিজিং এর শিকার হোক আর মরে পড়ে থাকুক, চারপাশে দাঁড়িয়ে দেখতে খুব পছন্দ করে, সেখানে সেনাবাহিনীর কিছু দেখা মিস করবে এটা ভাবাই যায় না। কিংবা সেই বাসার সেই লোক যে দাঁত ব্রাশ করছিলো, পানি দিতে অস্বীকার করে। শেষে তার বাবাগো মাগো বলে চিৎকারের কারণ কী?
বইতে বারবার 'হেল কমান্ডো ' বইটার গুণগান করা হয়েছে। আবার অনেকে সেই বইয়ের সঙ্গে তুলনাও করেছেন। বইটা এখনো পড়া হয়নি। কাজেই ওটা আগে পড়লে কেমন লাগতো জানিনা। তবে লেখার ভঙ্গী আর পুরো ট্রেনিং এর বিবরণ পড়তে ভালোই লেগেছে আমার।
২০২১ সালটায় বেশ বড় একটা রিডিং স্লাম্প গেসে। অনেকদিন পর রাজীব হোসেনের কমান্ডো বইটা এক বসায় পড়ে স্লাম্প কাটাইলাম৷ ২০০৩ সালে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট রাজীব আর্মি কমান্ডো কোর্সের অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছেন বইটা৷ পাকিস্তানী আমলে মেজর আনোয়ারের লেখা 'হেল কমান্ডো'র পর এই প্রথম বাংলাদেশি কমান্ডোদের নিয়ে কোন বই লিখা হইল৷ সিলেটের এর অতিপরিচিত এলাকাগুলোই দেখি বইয়ে পরিণত হইসে দুর্ধর্ষ ট্রেনিং গ্রাউন্ডে। ইন্টারেস্টিং হওয়ার সাথে সাথে বইটা আনএক্সপেক্টেডলি খুব ফানি। :D এখন খুঁজে দেখতে হবে ফিমেল কমান্ডোদের নিয়ে কোন বই আছে কিনা আর রাজীব হোসেনের ও আরেকটা বই আসার কথা ছিল সেটার কী হলো।
বাংলা ভাষায় দ্বিতীয় এবং বাংলাদেশ আর্মির কমান্ডো নিয়ে লেখা প্রথম বই এটি। এর আগে কর্ণেল তাহের তার পাকিস্তান আর্মি জীবনে কমান্ডো ট্রেনিং নিয়ে লিখেছিলেন "হেল কমান্ডো" নামে বই।
এ বইটি পড়ে রোমাঞ্চিত হয়েছি বার বার। বাংলাদেশ আর্মির সাধারণ একজন সদস্য কতটা ভয়ানক ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে একজন প্যারা কমান্ডো হয়ে উঠে— সে বিষয়গুলোই নিজ অভিজ্ঞতা থেকে লিখেছেন কমান্ডো রাজিব।
Always loved to watch those special forces movies. These commando folks are like matinee idols to some people. Enjoyed reading this book. I wish the author talked about some weapon stuff too.
The sense of humour of this author made the book more enjoyable. He has a good grasp of Bangla, noticed he used different cultural-related words without hesitation, pretty appreciative.
অনেক অনক স্মৃতি আর ভালো লাগা জড়িয়ে আছে এই বইটার সাথে৷ বেশ কিছু জায়গায় রাতের নীরবতা ভেঙে দিয়ে হো হো করে হেসে উঠেছি। লেখক এর ব্যাপারে আর কি বলবো৷ মন্ত্রমুগ্ধের মত আটকে রেখেছিলো প্রতিটি পাতায়। বিরক্ত হইনি একদমই৷
Amazing. This book is amazing and also inspiring specially for teenagers and who dreams to join Military and Become a commando. Enjoyed reading the book.
সেনাবাহিনী, তাদের কার্যক্রম এবং আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র বিষয়টা আমার কাছে খুবই ইন্টারেস্টিং লাগে। আর বইটা আমাদের বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কমান্ডো ট্রেইনিং নিয়ে লেখা, সেজন্য এটা পড়ার ক্ষেত্রে আরো বেশি এক্সাইটেড ছিলাম। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সবচেয়ে কষ্টসাধ্য ট্রেনিংয়ের নাম 'আর্মি কমান্ডাে কোর্স'। ২৫ সপ্তাহ ব্যাপি হওয়া এই কোর্সের মধ্য দিয়ে একজন সৈনিককে কী অমানুষিক শারীরিক পরিশ্রম আর তীব্র মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয় তা নিয়ে লেখকের জীবন থেকে বিস্তারিত ভাবে লেখা একটি ডায়েরি। কোর্সের শুরুতে সৈনিকদের ২০০টাকার স্টাম্প বন্ডে সাইন করতে হয় যে, কমান্ডো কোর্সে যোগদান করার পর যেকোনো শারীরিক ক্ষতি এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে, তারজন্য সংশ্লিষ্ট কেউ দায়ী নয়। বই পড়ার সময়েও লেখকের সাথি অনেকেরই ট্রেনিং চলা অবস্থায় মারাত্মক আহত হওয়াটা লক্ষ্যণীয়। এমনকি শেষ দিকে এসে রাজীব স্যার কীভাবে মৃত্যুর একেবারে কাছ থেকে ফিরে এসেছে তার থ্রিলিং বর্ণনাও রয়েছে। কমান্ডো কোর্সের মেইন গোলই হচ্ছে একজন সৈনিকের সামর্থ্যের সীমা ভেঙে দিয়ে তাকে তার দায়িত্ব পালনের জন্য তৈরি করা, যেন তা অর্জনে মৃত্যু ছাড়া কোনো বাধাকে সে ভয় না পায়। তাকে শেখানো হয় 'The limit is limitless' অর্থাৎ কমান্ডোর কাছে লিমিট বলে কোনো কিছু থাকতে পারে না। তাকে কোনো অ্যাসাইনমেন্ট দিল, তার একটাই উত্তর হবে,'আমি যেকোনো মূল্যে পারব স্যার'। আত্মবিশ্বাস এক ভয়ানক স্তম্ভ, প্যারা কমান্ডো ট্রেইনিং একজন সৈনিকের মধ্যে সেই স্তম্ভ গড়ে দেয়। কোর্সের এক্টিভিটিস গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ডে মার্চ, নাইট মার্চ, ১৭মিনিটে ৩.২ কিমি দৌড়ানো, জোঁক-শিয়াল-সাপ-সাপ সমাচার, হাত-পা বেঁধে ২০পাউন্ড ওজন নিয়ে পানিতে ছেড়ে দেওয়া, পর্যায়ক্রমে ৩০-৪০পাউন্ড নিয়ে ৩০,৪০ ও ৫০ কি.মি. স্পীড মার্চ, সার্ভাইভাল ট্রেইনিং, জিম্মি উদ্ধার, শক্রকে অ্যাম্বুশ ও অ্যাম্বুশ থেকে বাঁচা, গ্যাগিং, বনবাস, এয়ারপোর্ট রেইড এবং মোস্ট ডেঞ্জারাস প্যারা গ্লাইডিং।
এ বছরের পড়া অন্যতম সুখপাঠ্য বই। মূলত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মি কমান্ডো প্রশিক্ষণই এই বইয়ের মূল উপজীব্য বিষয়। সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত সেকেন্ড লেফট্যান্যান্ট রাজীবের কমান্ডো প্রশিক্ষণে যোগদানের দৃঢ় ইচ্ছা থেকে শুরু করে ইন্সিগ্নিয়া পাওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনাবলী বর্ণিত হয়েছে।
কমান্ডো রাজীব একদম জাত স্টোরিটেলার। তার লেখা খুবই প্রাঞ্জল ও উইটি। চরম জটিল পরিস্থিতিও তার লেখনীর গুণে উপভোগ্য হয়ে ওঠে। এর আগে এমন প্রশিক্ষণ নিয়ে লেখা “ হেল কমান্ডো ” বইটা পড়েছিলাম। ঐ বইয়ের রেফারেন্সও কমান্ডো বইয়ে কয়েকবার এসেছে। সাধারণ মানুষের পক্ষে যেসব টাস্ক করার কথা কল্পনাতীত সেগুলোই কমান্ডোরা করে হাসিমুখে, নির্দ্বিধায়। এই দক্ষতা অর্জনের জন্য অনুমিতভাবেই একেকজন কমান্ডোকে অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। প্রশিক্ষনকালীন সময়ে শুধুমাত্র প্রবল ইচ্ছাশক্তির জোরেই ট্রেইনিরা টিকে থাকে। তবে বইটি সেই দূধর্ষ প্রশিক্ষণের বর্ণনার জন্য নয়, উপভোগ্য হয়ে ওঠে প্রশিক্ষণের মধ্যকার বিভিন্ন ঘটনার জন্য। সেই ঘটনার বেশীরভাগই এত মজার যে রামগরুর ছানাও হাসতে বাধ্য। বিশেষ করে রনা গাছের ঘটনাটা পড়ে তো হাসতে হাসতে পেট ব্যাথা হয়ে গিয়েছিল। রাজীব হোসেন লেখক হিসেবে ভালোই করবেন তার কাছ থেকে আরো এমন উপভোগ্য লেখার প্রত্যাশা থাকলো।
পড়তেই হবে এমন কোন বই এটি নয় তবে পড়লে অব্যশই ভালো লাগবে।