আত্মহত্যা নিয়ে গবেষণামূলক একটি বই বলা যেতে পারে। আত্মহত্যার ইতিহাস, বিভিন্ন সময়ে বিখ্যাত ব্যক্তিদের আত্মহত্যার ইতিহাস, দেশ ও দেশের বাইরের আত্মহত্যার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে বইটিতে।
আত্মহত্যা বর্তমানে চলমান ইস্যুগুলোর একটি। বিভিন্ন অঙ্গনে আত্মহত্যার কারণে কিছুদিন পর পরই হৈচৈ পড়ে যায়৷ কিন্তু কেন এই আত্মহত্যা? ছোট এই জীবনে কত সম্ভাবনা ও স্বপ্ন নিয়ে মানুষ বেঁচে থাকে৷ নিশ্চিত মৃত্যুকে উপেক্ষা করে জীবনের প্রতিটি দিন নিয়ে কত পরিকল্পনা ও আয়োজন করে থাকে মানুষ। তবুও কেন এই আত্মহত্যার পথ মানুষ বেছে নেয় তা অনন্ত এক রহস্যই বটে।
সাধারণ থেকে অসাধারণ প্রায় প্রতিটি অঙ্গনেই ঘটে থাকে আত্মহত্যা। খুবই সাধারণ কর্মজীবী মানুষ যেমন আত্মহত্যা করে আবার আমাদের চোখে অসাধারণ ব্যক্তিদের আত্মহত্যার সংখ্যা নেহাত কম নয়।
প্রাচীন অনেক ধর্মগ্রন্থ কিংবা পৌরাণিক কাহিনিতেও রয়েছে আত্মহত্যার কথা। আত্মহত্যা করেছেন অনেক ঐতিহাসিক ব্যক্তি, কবি-লেখক-শিল্পি, মিডিয়া জগতের তারকা এমন কি আত্মহত্যার প্রবণতা আছে প্রাণিজগতেও।
আত্মহত্যার সময়ে লিখে যাওয়া সুইসাইড নোট অনেক সময় হয়ে গেছে বিখ্যাত। কিছু আত্মহত্যার রহস্য এখনো বের করা সম্ভব হয়নি৷ আবার কিছু আত্মহত্যা রীতিমত হৈচৈ এর জন্ম দিয়ে দেয়৷
এইসব তথ্যাদি নিয়েই রচিত হয়েছে বইটি। আত্মহত্যার ইতিহাস থেকে শুরু করে এর কারণ, প্রতিরোধে করণীয়, দেশিয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আত্মহত্যার সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে বইটিতে। বিভিন্ন অঙ্গনের মানুষের আত্মহত্যার কারণ, তাদের জীবনের টুকিটাকি তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে।
পরিশেষে,আত্মহত্যা কখনোই কাম্য নয়। ছোট জীবনে সকল প্রতিকূলতার মাঝে বেঁচে থাকাকেই মানুষ সার্থকতা ভাবে। জীবন যুদ্ধ থেকে পালিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়া মানুষকে আগেও পছন্দ করেনি এখনো করে না। তবে আশার আলো দেখাচ্ছে বিজ্ঞানিরা। ২০৪৫ সালের পর হয়ত মানুষ মৃত্যুকে আটকিয়ে দিতে পারবে। তখন আইন হবে ইচ্ছামৃত্যুর পক্ষে৷ অন্তত ততদিন বেঁচে থাকুন।
বই - “আত্মহ*ত্যা: মানুষের আত্মবিনাশী চিন্তার ভেতর-বাহির”
আত্মহ*ত্যা—একটি শব্দ, একটি ভ*য়াবহ সিদ্ধান্ত, আবার কখনো একান্ত ব্যক্তিগত যন্ত্রণার চরম বহিঃপ্রকাশ। এই বইয়ে লেখক এ. এন. এম. নূরুল হক আত্মহ*ত্যাকে শুধুই ব্যক্তির মানসিক দুর্বলতা বা হঠকারিতা হিসেবে দেখেননি, বরং গভীরভাবে অনুসন্ধান করেছেন এর অন্তর্নিহিত সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রেক্ষাপটকে। তিনি পাঠককে নিয়ে যান এক অন্বেষণের যাত্রায়—যেখানে আত্মহ*ত্যা আর নিছক ‘মৃ*ত্যু’ নয়, বরং তা হয়ে ওঠে আত্মবিনাশী এক দীর্ঘ প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ধাপ।
লেখক বইটিতে এমন কিছু চরিত্র ও বাস্তব কাহিনি তুলে ধরেছেন, যেগুলোর মধ্যে দিয়ে আত্মহ*ননের পেছনের তীব্র বেদনা ও নিঃসঙ্গতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি বারবার মনে করিয়ে দেন, আত্মহ*ত্যাকারীরা মৃ*ত্যুকে বেছে কারণ তারা বাঁচতে চায় না, বরং তারা এই ব্যথা থেকে মুক্তি চায়, যা জীবন আর বহন করতে পারছে না। এক জায়গায় লেখক বলেন—“মানুষ যখন আত্মহ*ত্যার দিকে ঝুঁকে পড়ে, তখন তা তার একাকিত্বের নয়, সমাজের ব্যর্থতারও দলিল হয়ে ওঠে।”
বইটির ভাষা সহজ, কিন্তু কিছুটা বোরিং, কারণ একটানা পড়তে গেলে মনে হয় উইকিপিডিয়া পড়ছ। তবে গভীরতাসম্পন্ন। লেখক গবেষণা করেছেন আত্মহ*ত্যার ইতিহাস, পরিসংখ্যান, মনোবিজ্ঞান এবং ধর্মীয় অবস্থান ঘিরে। আত্মহ*ত্যা কেন হয়, কীভাবে হয়, কারা সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকে—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে তিনি খোঁজেন সামাজিক কাঠামোর ফাঁকফোকর। যেসব মানুষ পরিবার, বন্ধু, সমাজের চোখে ‘স্বাভাবিক’ ছিল, তারাও কেন নিরবে নিঃশেষ হয়ে যায়—এই বই সে প্রশ্ন তোলে, আবার পাঠককে ভাবাতেও বাধ্য করে। বইয়ের প্রতিটি অধ্যায় যেন আত্মহ*ত্যাকে একটু একটু করে ভাঙে—কখনো তত্ত্ব দিয়ে, কখনো পরিসংখ্যান দিয়ে, আবার কখনো মানবিক কণ্ঠে বলা গল্প দিয়ে। এটি শুধু আত্মহ*ত্যা প্রতিরোধের বার্তা বহন করে না, বরং সমাজকে একটি আয়না দেখায়—আমরা কোথায় ব্যর্থ হচ্ছি, কেন কিছু মানুষ নিজেকে হারিয়ে ফেলছে।
এই বইটি কেবল আত্মহ*ত্যা নিয়ে জানার জন্য নয়, বরং বুঝবার জন্য। এটি পড়লে বোঝা যায়—আত্মহ*ত্যার মতো সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে কথা বলা, চিন্তা করা এবং আলোচনা করা কতটা জরুরি। এটি কেবল এক ব্যক্তির জীবন বাঁচাতে পারে না, বরং একটি সমাজকে সচেতন করে তুলতে পারে তার নিজের ব্যর্থতার প্রতিফলন নিয়ে।