রাসেল এক স্কুলপড়ুয়া কিশোর ছেলে। কিন্তু আর দশটা ছেলের চেয়ে আলাদা সে। ভীষণ রকম মেধাবী ও তুখোড় বুদ্ধিমান। আইকিউ টেস্টে দেখা গেল, আইনস্টাইন-হাইজেনবার্গ পর্যায়ের বুদ্ধিমত্তা তার। রাসেলের জীবন বদলে গেল সেদিন, যেদিন সে বুঝতে পারল, এই প্রখর বুদ্ধিমত্তা ছাড়াও আরেকটি ক্ষমতা আছে তার, ভবিষ্যৎ দেখার ক্ষমতা। ভবিষ্যতে ঘটা ঘটনা আগেভাগে দেখে ফেলে সে মানসপটে। তারপর নিজের মতো করে বদলেও দিতে পারে সেই ঘটনাপ্রবাহ। কিন্তু ভবিষ্যৎ বদলে দেবার পরিণতি কি মঙ্গলজনক হয়? নাকি ডেকে আনে আরও বড় কোন বিপদ? বড় হবার সাথে সাথে রাসেল আবিষ্কার করতে লাগল, ভবিষ্যৎ বদলাতে গিয়ে কিভাবে সময়ের ফাঁদে পড়ে গেছে সে!
Mohammad Mohaiminul Islam, known as Mohaiminul Islam Bappy is a Bangladeshi thriller and SciFi writer. Born in Barisal. Grew up in Chittagong. Currently Living in Dhaka. He completed B. Sc. (Hon's) and M. Sc. (Thesis) from the University of Chittagong. His first novel "Je Shohore Golpo Lekha Baron" (The Town is Forbidden for Storytellers) was published by the renowned Bangladeshi publisher- Batighar Prokashoni in 2020.
আমি যখনই কোন লেখকের বই পড়ে খানিকটা হতাশ হই ঠিক তখনই চেষ্টা করি তার আরেকটা বই পড়ে ফেলার। এটার ক্ষেত্রেও তাই। শুরুটা এ বছরে প্রকাশিত 'মহাজাগরণ' দিয়ে। সেখানে লেখকের লেখা খুব ঝরঝরে আর প্রাঞ্জল মনে হলেও প্রচন্ড তাড়াহুড়োর ছাপ ছিল। প্লটটাকে স্বাধীনতা দিয়ে ডানা মেলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। খানিকটা হতাশ হয়েছিলাম। তো সেই হতাশা থেকেই 'ভ্রম সমীকরণ' নিয়ে লেগে পড়লাম। তারপর সত্যি বলছি মন্ত্রমুগ্ধের মতো পড়েছি। পৃষ্ঠা সংখ্যা কম। তাই তাড়াহুড়োর ছাপ সামান্য ছিল। তা সত্বেও এবার বেশ তৃপ্ত। লেখকের আরো দুটো সায়েন্স ফিকশন সংগ্রহ করেছি। এবার নিঃসংশয়ে পড়ে ফেলতে পারব।
“মহাজাগরণ” পড়ে লেখক কে ভয়ানক ভাবে আন্ডারেস্টিমেট করেছিলাম৷ মাত্র ১০০ পেজে দারুন একটা সুপাঠ্য বই দিলেন।
শুরুতে পাত্তা দিই নি তেমন। মনে হয়েছে লেখনী তে হালকা দূর্বলতা আর এক্সিকিউশন বেশি তাড়াহুড়ো। তবে আকর্ষণ ঠিকই ধরে রাখতে পেরেছেন৷ আর শেষ করে ঠিকই বুঝতে পেরেছি এটা নোভেলাই হওয়ার কথা ছিল, তাড়াহুড়ো করা হয়নি। সেই হিসাবে এক্সিকিউশন দারুন! যা বর্তমানের মৌলিক লেখকদের বইতে পাওয়া যায় না৷
All that we see or seem, is but a dream within a dream- Edgar Allan Poe - ভ্রম সমীকরণ - রাসেল, বলা চলে এক বিস্ময়বালক। ছোটবেলা থেকে তুখোড় আইকিউ এর অধিকারী সে। তাই স্কুলের প্রতিটি পরীক্ষাতেই প্রথম স্থান অধিকার করে নেয় সে।এমনকি এক অলিম্পিয়াডে তার আইকিউ এর পরিমান দেখে আয়োজকরা অনুষ্ঠান বাতিলের চিন্তাভাবনাও শুরু করে দেয়।
এক দীর্ঘ পরীক্ষার শেষে রাসেল তার বাবার সাথে ট্রেনে চড়ে, উদ্দেশ্য মামার বাড়ি। কিন্তু সেই ট্রেন যাত্রায় ঘটে এক দুর্ঘটনা, যা রাসেলের জীবন ওলট পালট করে দেয়। এখন কিভাবে ঘটে সেই দুর্ঘটনা আর আর ফলে রাসেলের জীবন কিভাবে পরিবর্তন হয়ে যায় তা জানতে হলে পড়তে হবে লেখক মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পীর লেখা নোভেলা "ভ্রম সমীকরণ"। - "ভ্রম সমীকরণ" বইটি ৯৬ পেইজের একটি নোভেলা। বইয়ের প্লট শুরু থেকেই বেশ আকর্ষণীয় এবং একেবারে এক বসায় শেষ করার মতো। গল্প বলার স্টাইল এবং লেখনশৈলী মেদহীন এবং ঝরঝরে, তাই গল্পের ভিতরে কোন জটিল টপিক নিয়ে আলোচনা হলেও সেগুলো বুঝতে তেমন সমস্যা হয়নি।
"ভ্রম সমীকরণ" বইয়ের পুরো প্লট রাসেলকে কেন্দ্র করে তাই আর কোন চরিত্র তেমন একটা ফোকাস পায়নি। বইতে বেশ কিছু সায়েন্টিফিক টার্ম এবং সেগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা ভালো লেগেছে। যদিও বইয়ের সেরা দিক এর ফিনিশিং, তার সাথে আমার অত্যন্ত পছন্দের এক সিনেমার থিমেটিক মিল থাকায় ব্যাপারটা আগেই ধারণা করে ফেলেছিলাম।
"ভ্রম সমীকরণ" বইয়ের প্রোডাকশন বইয়ের সাইজের তুলনায় খারাপ না। তবে আমার কপিতে বাঁধাই খুবই আটসাট করে করা ছিল, যার ফলে পুরো বইতে পৃষ্ঠাগুলো ছিল ঢেউ খেলানো, এ কারনে পড়তে কিছুটা সমস্যা হচ্ছিলো। বইয়ের প্রচ্ছদ কাহিনির সাথে মানানসই। বইয়ের বানান এবং প্রিন্টিং মিস্টেকও বলা যায় খুব একটা চোখে পড়েনা।
এক কথায়, এক বসায় শেষ করার মতো চমৎকার একটি সাই ফাই থ্রিলার নোভেলা হচ্ছে ভ্রম সমীকরণ। যাদের ছোট পরিসরের সাই ফাই বা থ্রিলার বই পছন্দ তাদের জন্য বইটি রিকমেন্ড থাকলো।
❝আমরা যা দেখি, যা অনুভব করি, পুরোটাই কেবল স্বপ্নের ভেতর আরেকটি স্বপ্ন মাত্র।❞
ভ্রম সমীকরণ বইটি নিয়ে আলোচনা করার পূর্বে কিছু কথা বলে নিতে চাই। মনে হতে পারে ৯৫ পৃষ্ঠার এই ছোট্ট নভেলাতে আদতে কী রয়েছে? পূর্ণরূপে তৃপ্তি দিতে পারবে বইটি? আমি বলব, রয়েছে অনেক কিছু অন্ততপক্ষে চিন্তার করার মতো বিশাল প্লট, ব্যাখা করার মতো বিষয় এবং সবশেষে ছোট্ট গল্পে সুন্দর টুইস্ট। যদিও টুইস্ট যতটা আমাকে আকর্ষণ করেনি তার চেয়েও দিগুণ যে বিষয় করেছে সেটা হচ্ছে ভ্রম বা সাইকেডেলিক!
প্রথমে যে বিষয়টি গল্পের শুরুতে আসবে সেটা হচ্ছে প্রডিজি। প্রডিজি কী? তুলনামূলকভাবে সাধারণ মানুষ থেকে কয়েক ধাপ এগিয়ে থাকা অথবা সরল বাক্যে বলতে গেলে যাদের আইকিউ লেভেল ১৫০+ থাকে সেইসব ব্যক্তিবর্গকে প্রডিজি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। অনেকটা গড গিফটেড বলা যায় তাদের। তো উক্ত উপন্যাসে এই প্রডিজির যোজন ঘটেছে। ঘটেছে বলতে লেখক ঢুকিয়েছেন এমনি অনেক কিছু যেটা নিয়ে পাঠক ভাবতে বসে যেতে পারবেন, নিজের সাথে ঘটে যাওয়া কোনো বাস্তব অভিজ্ঞতার সাথে মেশাতে পারবেন। অনুভব করতে পারবেন লেখকের দেওয়া বর্ণনার সাথে।
শুধু কী এতটুকুই? আসলে লেখক এতটুকুতে ক্ষান্ত দিতে চাননি বলে পুরো নভেলাতে টাইম প্যারাডক্স, বুটস্ট্র্যাপ প্যারাডক্স, টাইম পারসেপশন, লুসিড ড্রিম, মেমরি রিজেনেরেটর, নিউরোনেটর ইত্যাদি অনেক বিষয়বস্তু যুক্ত করে অল্পতে এত সুন্দর গল্প রচয়িতা করেছেন দেখে বেশ চমকপ্রদ হলাম। এইরকম প্লটে তখনই লেখা সম্ভব যদি কখনও লেখকের সাথে এইরকম ঘটনা ঘটে থাকে তবেই, আমার সূক্ষ্ম ধারণা এইরকম ঘটেছে। যেমনটা আমার নিজের সাথেও ঘটেছে। বিশ্বাস করতে না চাইলে বইটি পড়ে এরপরে নাহয় নিজেও বলবেন আসলে এইরকম ঘটনা ঘটে বা ঘটেছিল কিনা।
তবে এইখানে বাস্তবতা যতটুকু আছে কল্পনার আশ্রয়ও ঠিক ততটুকু রয়েছে। আপনি একইসাথে গল্প ও রিসার্চ করা বিষয়বস্তু দুইভাবে ভাগ করে নিতে পারবেন। একদিকে প্লটে রোমাঞ্চিত যেমন হবেন অন্যদিকে প্লটের কারণে শিক্ষণীয় কিছু বিষয় নিয়ে জানতেও পারবেন। একটি বই থেকে এর থেকে আর বেশিকিছু কখনোই আশা করা যায় না। আর এইরকম বই পড়তে আমি সর্বদা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি, আমি শিওর আপনি যদি একজন সাই-ফাই ও সাইকোলজি নিয়ে আগ্রাসী পাঠক হয়ে থাকেন তাহলে এই বই আপনার জন্য পারফেক্ট হবে।
➲ আখ্যান—
রাসেল এক স্কুলপড়ুয়া কিশোর ছেলে। কিন্তু আর দশটা ছেলের চেয়ে আলাদা সে। ভীষণ রকম মেধাবী ও তুখোড় বুদ্ধিমান। আইকিউ টেস্টে দেখা গেল, আইনস্টাইন-হাইজেনবার্গ পর্যায়ের বুদ্ধিমত্তা তার।
রাসেলের জীবন বদলে গেল সেদিন, যেদিন সে বুঝতে পারল, এই প্রখর বুদ্ধিমত্তা ছাড়াও আরেকটি ক্ষমতা আছে তার, ভবিষ্যৎ দেখার ক্ষমতা। ভবিষ্যতে ঘটা ঘটনা আগেভাগে দেখে ফেলে সে মানসপটে। তারপর নিজের মতো করে বদলেও দিতে পারে সেই ঘটনাপ্রবাহ।
কিন্তু ভবিষ্যৎ বদলে দেবার পরিণতি কি মঙ্গলজনক হয়? নাকি ডেকে আনে আরও বড় কোন বিপদ? বড় হবার সাথে সাথে রাসেল আবিষ্কার করতে লাগল, ভবিষ্যৎ বদলাতে গিয়ে কীভাবে সময়ের ফাঁদে পড়ে গেছে সে!
➤ পাঠ প্রতিক্রিয়া ও পর্যালোচনা—
❝মিথ্যে বলার সময় মানুষ প্রায়ই ওপরে, ডানে তাকায়। সত্য বলার সময় তাকায় বামে।❞
কী বুঝলেন? কখন লক্ষ করেছেন এই বিষয়টি? যে কখন কোনদিকে তাকালে ��েটা সত্য বা মিথ্যাতে রূপান্তরিত হয়ে যায়? কখনও নিজেকে লক্ষ না করতে পারলেও সামনে বসা যে-কোনো মানুষকে দিয়ে ট্রাই করিয়ে নিতে পারেন। সে আপনার শত্রু কিংবা মিত্র যেকেউ হোক না কেন।
প্রথমে বলে নিচ্ছি আমি প্লট বা চরিত্র নিয়ে বিন্দুমাত্র ঘাটাঘাটি করে ব্যবচ্ছেদ করব না। কারণ অহেতুক সময় নষ্ট, বইটি এমনিতে পড়লে আপনি নিজেও প্লট ও চরিত্রের ক্রিয়াকলাপ সম্পর্কে ধারণা পেয়ে যাবেন। ঠিক বেঠিকের ঊর্ধ্বে হচ্ছে গল্পের প্লট আদতে কতটা প্রভাবিত করেছে এবং ভালো লাগা দিয়েছে সেটাই মুখ্য বিষয়। শুধু গল্প কেমন সেটা যাচাই করে একটি বইকে ভালো বা খারাপ ট্যাগ দেওয়া যথার্থ কোনোভাবেই না। ব্যালেন্স থাকে সবকিছুতে তাই সেটাকে উন্মোচিত করতে হয়।
গল্পের শুরুটা বেশ ভালো, ছোটো প্লট কিন্তু লেখকের বর্ণনাভঙ্গি এত দ্রুত আর সাবলীল যে টপাটপ শুধু পৃষ্ঠা উলটিয়ে যেতে বাধ্য থাকবেন। গল্পের মধ্যে সহজে ডুবে যেতে পারবেন, কারণ কনসেপ্ট বিষণ ইন্টারেস্টিং। ছোট্ট করে বললে পূর্বাভাস! হ্যাঁ, গল্পের বিষয়বস্তু পূর্বাভাস হলেও ঘটনার মোড় নিয়েছে রোলার কোস্টারের মতো। স্থির হয়ে বসে থাকতে পারবেন না, পুলকিত হবেন। প্রতি অধ্যায় শেষে পরের অধ্যায় কী হবে সেটা জানার আকাঙ্ক্ষা তৈরি হবে।
লেখনশৈলী বেশ ভালো, বর্ণনাভঙ্গি সাবলীল। আর সাবলীল না হলে আসলে এতসব টার্ম খুব সহজে ব্যাখা দিতে কখনও সক্ষম হতেন না। কিন্তু লেখক এই বিষয়ে পারদর্শিতা দেখিয়েছেন, বড়ো বড়ো কিছু টার্ম খুব সহজে ব্যাখা দিয়েছেন দেখে ভালো লাগছে। কোনো প্রকার ইতস্তত বা থমকে যাওয়া খেয়াল হয়নি। আর যে কনসেপ্টে লেখেছেন আমি চাচ্ছি এইটা নিয়ে আরও কাজ হোক, অন্যান্য দেশে এই কনসেপ্ট নির্ভর অনেক সিরিজ ও সিনেমা থাকলেও আমাদের দেশে এই কনসেপ্ট নিয়ে অগ্রসরতা বেশ কম মনে হয়েছে। সাহস করে হয়তো কেউ এগিয়ে আসতে চাইছে না। লেখক সে চেষ্টা করেছেন দেখে ভালো লাগল।
উপরিক্ত অনেক টার্মের সাথে লেখক ড্রাগ, ডার্ক ওয়েবসাইট, প্রোগ্রামিং নিয়ে সহজে কিছু ছোটো ছোটো ব্যাখা দিয়ে গিয়েছেন। অর্থাৎ প্লট বেশ শক্তিশালী। এক প্লটে এতকিছু ভাবা যায় তাও এত ছোটো বইতে। বেশ ক্রিয়েটিভ। শেষটা চমকপ্রদ! হ্যাঁ এইটাই আসলে চাচ্ছিলাম, কারণ এইভাবে যদি শেষ না হতো তাহলে অপূর্ণতা থেকে যেত। ওইযে বললাম, বাস্তবতা ও অবাস্তবতার সামঞ্জস্যতা। এইখানে লেখক সাকসেস। তিনি যেটা চেয়েছেন সেটা পেরেছেন। সমীকরণ মেলাতে পেরেছেন দেখে ভালো লাগল।
ছোটো বইয়ের এতবড়ো রিভিউ দেখে অনেকে ভড়কে যাবেন। আসলে আমি চাইছি আরও কিছু নিয়ে মন উজার করে লেখতে কিন্তু পারব না কারণ স্পয়লার। এরপরেও প্লট আর চরিত্রায়ন এড়িয়ে গিয়েছে। চরিত্রের ঘনঘটা অনেক হয়েছে, স্পেশাল ও অপ্রতিম অনেক চরিত্রের প্রবেশ ঘটেছে। প্রোটাগনিস্টের পাশাপাশি আরও দুইজন ছেলে মেয়ে যাদের অনায়াসে ভালো লেগে গিয়েছে। নাম বলতে চাচ্ছি না, সাসপেন্স থাকুক। সবমিলিয়ে দারুণ নভেলা।
একটি নভেলাতে ঠিক যতটুকু থাকা দরকার ততটুকু রয়েছে। মেদহীন ঝরঝরে লেখাতে পাঠক আকৃষ্ট হতে বাধ্য।
➢ লেখক, সম্পাদনা, বানান, প্রচ্ছদ, মলাট, বাঁধাই—
মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পী ভাইয়ের লেখা এইটি দ্বিতীয় বই। প্রথম বই পড়া না হলেও দ্বিতীয় বই দিয়ে আমার যাত্রার শুরু বেশ ভালোভাবে। শুধু বলব অল্পতে যেভাবে গুছিয়ে প্লট লেখেছেন এবং টার্ম গুলো যুক্ত করে সাজিয়েছেন তার জন্য সাধুবাদ জানাচ্ছি। এই কনসেপ্টে আরও নভেলা চাই, আসলে নভেলা না নভেল চাই। এইবার বিশাল কিছু লেখে ফেলুন ভাই, আশা করছি ভালো কিছু উপহার দিতে পারবেন।
সম্পাদনা ভালো হয়েছে এই নিয়ে কিছু বলার নেই। তবে বানানের ব্যাপারে আরেকটু যত্নশীল হলে ভালো হয়। প্রথম অধ্যায়তে অনেক বানান ভুল রয়েছে। পুরো উপন্যাস জুড়ে টুকটাক বানান ভুলের সমারহ ঘটেছে। আশা করছি এইসব ভুল ঠিকঠাক করে নেওয়া হবে।
প্রচ্ছদ করেছেন শৈল্পিক প্রচ্ছদের কারিগর লর্ড জুলিয়ান ভাই। উনার প্রচ্ছদে একপ্রকার শিল্প থাকে যেটা আমি সবসময় বলি। ভ্রম সমীকরণে মূল গল্পের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ভালো প্রচ্ছদ তৈরি করেছেন। পছন্দ হয়েছে, কনসেপ্টের সাথে বেশ মানানসই।
চিরকুটের বইয়ের প্রোডাকশ নিয়ে আদতে কখনও কিছু বলার থাকে না। বেশ ভালো, সুন্দর, দারুণ। ছোটো বইয়ের মলাট থেকে বাঁধাই আর কাগজের মান পরিতৃপ্তি দেই সবসময়।
➠ বই : ভ্রম সমীকরণ | মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পী ➠ জনরা : সায়েন্স ফিকশন ➠ প্রথম প্রকাশ : ডিসেম্বর ২০২০ ➠ প্রচ্ছদ : জুলিয়ান ➠ প্রকাশনী : চিরকুট ➠ মুদ্রিত মূল্য : ১৫০ টাকা মাত্র
অনেকদিন পর মনের মতো একটা পার্ফেক্ট সায়েন্স ফিকশন নভেলা পড়লাম।
কাহিনির গতি, প্লট, চরিত্রায়ন এক কথায় অসাধারণ। যেভাবে ভ্রম সমীকরণ ধীরে ধীরে ডেভেলপ করেছেন লেখক, মনেই হবে না এটা একটি কাল্পনিক থিওরি। লেখার স্টাইল বরাবরের মতোই সাবলীল ও মেধহীন।
ছোট খাটো মনস্তাত্ত্বিক তত্ত্ব, ট্রিক, থিওরি ও এগুলোর ব্যাখ্যা গল্পের প্লটটাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। গল্পে সায়েন্সের অংশটুকু একেবারে যথাযথ ভাবে যথার্থ পরিমানেই এসেছে।
শেষের 9/10 পৃষ্ঠায় একটু তাড়াহুড়ো লক্ষ করা গেছে; শেষ করার পর মনে হয়েছে উপস! শেষ হয়ে গেলো!
সাইফাই লাভারদের জন্যে মাস্ট রিড একটা বই। লেখকের জন্যে অনেক শুভকামনা সেই সাথে প্রত্যাশার উচ্চচাপ রইলো।
ভ্রম সমীকরণ ৯৬ পৃষ্ঠার একটি সাইন্স ফিকশন থ্রিলার উপন্যাসিকা। মূলত সাই ফাই থ্রিলার হলেও সাইকোলজিকাল থ্রিলার সাব-জনরাতেও বইটিকে রাখা যাবে। উপরের ছোট কাহিনী সংক্ষেপটাই আমার কাছে বেশ আগ্রহ জাগানিয়া মনে হয়েছিল এবং সেটুকু পড়েই আসলে বইটা অর্ডার দিয়ে দেই। ছোট এই বইটির প্লট একদম শুরু থেকেই বেশ আকর্ষণীয় আর জমজমাট প্রথম থেকেই থ্রিল আর সাসপেন্স ধরে রেখে ছোট পরিসরে বেশ শক্তিশালী একটা প্লট গড়েছেন লেখক। কাহিনী বিন্যাস আর এক্সিকিউশনও একদম যথার্থ ছিল। দক্ষ হাতে লেখক গল্পটাকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। আর গল্পটাও পুরোটা সময় জুড়ে একটা দারুণ গতিতে এগিয়ে গিয়েছে।
পূর্বে মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পীর কোন বই পড়া না থাকলেও লেখকের বেশ ভালো মানের কিছু সাই ফাই ছোট গল্প পড়ার সৌভাগ্য হয়েছিল। তাই উনার লেখার হাত যে ভালো , বিশেষ করে সাই ফাইটা যে উনি দারুণ লিখেন তা জানা ছিল। আগেই বলেছি ৯৬ পৃষ্ঠার বইটি পুরোটা সময় একটি দারুণ গতিতে এগিয়েছে। আর তা সম্ভব হয়েছে লেখকের ঝরঝরে, মেদহীন ও প্রাঞ্জল বর্ণনাভঙ্গীর কারণে। কাহিনীর প্রয়োজনে বইতে বিভিন্ন সময় কিছু জটিল বৈজ্ঞানিক বিষয় নিয়ে আলোচনা উঠে আসলেও এবং প্লট মাঝে একটু জটিল দিকে মোড় নিলেও একবারের জন্যও বুঝতে অসুবিধে হয়নি বা পড়ার মাঝে কোথাও আঁটকে যেতে হয়নি। জটিল বৈজ্ঞানিক বিষয়গুলোকে লেখক খুব সাবলীলভাবে গল্পে এনেছেন এবং সবকিছু বেশ সহজভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। আমার মতে সাবলীল উপস্থাপনার কারণে কোন পাঠকেরই বিষয়গুলো বুঝতে বেগ পেতে হবে না তেমন। বিজ্ঞান ও সাইকোলজি সম্পর্কিত অনেক ইন্টারেস্টিং ফ্যাক্টসও জানতে পেরেছি বইটা থেকে। গল্পের ছলে পাঠককে বুটস্ট্র্যাপ প্যারাডক্স, টাইম পারসেপশন, ডি এম টি , রেম স্লিপ, ইত্যাদি ইন্টারেস্টিং বিষয় নিয়ে বেশ কিছু জানিয়েছেন লেখক। ৯৬ পৃষ্ঠার বইটির চরিত্রায়ন নিয়ে খুব বেশি কিছু বলার নেই, আসলে দরকারও নেই তেমন। গল্পের মুল চরিত্র বিস্ময়বালক রাসেলকে ঘিরেই পুরো বইটা এগিয়েছে, তাই বাদ বাকি চরিত্র কম ফোকাস পেলেও যার যার জায়গায় ঠিকঠাক ছিল। রাসেলের চরিত্রটি সব মিলিয়ে ভালো লাগলেও আমার মনে হয়েছে মাঝে তাকে আরেকটু সময় নিয়ে ডেভোলাপ করলে ভালো হতো।
এক পর্যায়ে ভ্রম সমীকরণের প্লটের বিস্তৃতি দেখে মনে হচ্ছিল যে এই ছোট পরিসরে হয়তো কাহিনী ঠিকঠাক পূর্ণতা পাবে না বা হয়তো স্যাটিসফায়িং এন্ডিং পাবো না। তবে সেই আশঙ্কা অমূলক প্রমাণ করে লেখক চমৎকারভাবে সমাপ্তি টেনেছেন। টুইস্টটা বেশ চমকপ্রদ ছিল এবং টুইস্টের ডেলিভারিতেও লেখক মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন। যেমনটা বললাম সমাপ্তিতে তাড়াহুড়োর ছাপ ছিল না ঠিকই, তবে টুইস্টের আগের অংশ নিয়ে আরেকটু বর্ণনা পেলে আরও ভালো লাগতো।
ভ্রম সমীকরণ বইয়ের প্রোডাকশন ওভারওল ভালোই। রিয়াজুল ইসলাম জুলিয়ানের করা থিমের সাথে মানানসই প্রচ্ছদটা বেশ ভালো লেগেছে।বাঁধাই ও পৃষ্ঠার মান মোটামুটি ভালো ছিল। সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে ডিটাচেবল জ্যাকেট দেওয়ায়। জ্যকেটের নিচেও বইয়ের প্রচ্ছদের কোয়ালিটি দারুণ ছিল। বেশিরভাগ প্রকাশনীই বইয়ের সাথে আঠা দিয়ে জ্যকেট লাগিয়ে দেয় যেটা ব্যক্তিগতভাবে খুবই বিরক্তিকর লাগে কারণ আমি জ্যাকেট খুলে পড়তে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।
সর্বোপরি, ভ্রম সমীকরণ এক বসায় পড়ে ফেলার মতো উপভোগ্য ও বেশ ভালো মানের একটি সাই ফাই থ্রিলার উপন্যাসিকা। সাই ফাই আর থ্রিলার পাঠকদের অবশ্যই রেকমেন্ড করব।
ভ্রম সমীকরণ, আমার পড়া প্রথম সাইন্স ফিকশন / সাই ফাই থ্রিলার বই। আমি এর আগে কখনো এই জনরার বই পড়ি নাই। আমার পড়া লেখকের দ্বিতীয় বই এইটি, এর আগে পড়েছি “যে শহড়ে গল্প লেখা বারণ”
‘’ভ্রম সমীকরণ’’ উপন্যাসের প্লটটা ভীষণ ইন্টারেস্টিং এবং একই সাথে বেশ জটিল। তবে, লেখকের গল্প বলার ধরন ছিলো অনেক সুন্দর, যার কারণে জটিল গল্পটা লেখক অনেক সাধারণ ভাবে বলে গেছেন। গল্প বলার ভঙ্গিও বেশ চমৎকার লেগেছে আমার কাছে। বেশ কিছু নতুন শব্দ শিখতে পেরেছি, যার কারনে আমার কাছে বেশি ভালো লেগেছে।
কিছু সায়েন্টিফিক টার্ম যেমন: প্রিমোনিশন (ঘটনা ঘটার আগেই পূ্র্বাভাস পাওয়া), ডিএমটি, দেজা ভ্যু, রেম স্লিপ, বেসিক নিউরোফিজিয়োলজি। গল্পের প্রায় পুরোটা জুড়েই ছিল বিজ্ঞানের এমন বেশ কিছু শব্দ আছে, যেগুলো জানতে পারবেন এই বই পড়লে।
তবে, সব থেকে ইন্টারেস্টিং ছিল এই গল্পের শেষ টুইস্ট। আর বেশ ঝরঝরে লেখা/গল্প হওয়াতে এক বসায় শেষ করেছি বইটা। যদিও, গল্প পড়া শেষ করে, অধ্যায় উনিশ, বিশ, একুশ আবার পড়েছি।
অনেক সুন্দর একটা বই, নিঃসন্দেহে ভীষণ ইন্টারেস্টিং। বইটি পড়ে দেখতে পারেন, আশাকরি ভালো লাগবে।
ব্রিলিয়ান্ট। খুব সাদা চোখে কিছু অসামঞ্জস্য চোখে পড়েছিল শুরুতে। তাই অনাগ্রহেই পড়ে যাচ্ছিলাম, এক-তৃতীয়াংশে অনেকটা আগ্রহ টানতে পারছিল বইটা, সেই ঝোঁকেই শেষ অব্দি যেয়ে দেখতে পেলাম, পাঠকের মন-মেজাজ নিয়ে খেলা করেছেন লেখক! কারণ, চোখে লাগার মতো যেসব অসামঞ্জস্য এসেছে, আর সেগুলোর কারণে পাঠকের যে বিরক্তির উদ্রেক হয়, সেটাই আসলে ঘটনাপ্রবাহকে ব্যাখ্যা করে। ৯৫ পেইজের উপন্যাস অথবা উপন্যাসিকা, তার কাছে খুব বেশি প্রত্যাশা না করলে, যা পেয়েছি তা চমৎকার। লেখকের প্রথম বইটা পড়তে হবে এরপর।
❝All that we see or seem Is but a dream within a dream.❞
সময়, এক অদ্ভুত ইন্দ্রজালের নাম। বিশাল মহাসমুদ্রে বেড়ে ওঠা তিমি মাছ যেমন স্থলজ প্রাণীদের বিশালতা নিয়ে অজ্ঞ, ঠিক তেমনই অজ্ঞ আমরা সময়ের মারপ্যাঁচ নিয়ে। সেই সাথে সৃষ্টির জটিলতম বস্তু ‘মস্তিষ্ক’ যদি সময়ের জগতে মরিচিকার সৃষ্টি করে, বাস্তবতা আর ভ্রমের মাঝের সূক্ষ্ম দেয়ালটা টের পাব কি আমরা? কী হবে যদি বাস্তবতা আর ভ্রমের মেলবন্ধনে কেটে যায় অনন্ত সময়? মরিচিকার শেষ প্রান্তে পাব প্রশান্তি আছে কি? নাকি আছে শূণ্যতা। বাস্তবতা ও ভ্রমের অনবদ্য মিশেলে গড়ে উঠেছে মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পীর ‘ভ্রম সমীকরণ'। মাত্র ৯৬ পৃষ্ঠায় এত সুন্দর করে ভ্রম জিনিসটার মত জটিল বিষয় এবং খুঁটিনাটি বৈজ্ঞানিক ব্যাপার নিয়ে লেখক যে মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন, তা নিশ্চয়ই প্রশংসার দাবিদার।
★সংক্ষেপ: গল্পের প্রটাগনিস্ট একজন তুখোড় বুদ্ধিমান কিশোর, যার বুদ্ধিমত্তা আইনস্টাইনের পর্যায়ের। হুট করে একদিন সে আবিষ্কার করে বসে অদ্ভুত ক্ষমতা–আগত ভবিষ্যতকে আগে-ভাগেই অনুভব করে ভবিষ্যতের পরিণতি জানার ক্ষমতা। এভাবে একের পর এক ভবিষ্যতের পূর্বাভাস পেয়ে একের পর এক বিপদ থেকে রক্ষা পাচ্ছে সে, এই পূর্বাভাস পাবার ঘটনাকে ‘প্রিমোনিশন’ বলা হয়। কেন প্রিমোনিশন পাচ্ছে সে? ভবিষৎ কোথায় নিয়ে যাবে আমাদের প্রোটাগনিস্টকে?
★আলোচনা: গল্পের প্রারম্ভ ছিল একদমই অনবদ্য। শুরু থেকে আগ্রহ জাগানিয়া লেগেছিল কাহিনী। গল্পের আনাচে-কানাচেতে লেখক অনেক সায়েন্টেফিক বিষয়ের অবতারণা ঘটিয়েছেন, আর তা করেছেন দক্ষভাবে, তাই কাহিনী বেশ প্রাঞ্জল ঠেকেছিল। লেখা বেশ সাবলীল এবং গতিসম্পন্ন। এত ছোট পরিসরে লেখক এত সব বিষয় এনেছেন যে অবাক হতেই হয়। কাঠখোট্টা বিষয়গুলোকেও বেশ সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন, এক নাগাড়ে পড়ার মতন বই একটা। ভবিষ্যতের পূর্বাভাস পাওয়া বা প্রিমোনিশন নিয়ে বেশ আলোচনা ছিল গল্পজুড়ে, আসলে এটাই ছিল গল্পের মূল বিষয়বস্তু। প্রিমোনিশন ব্যাপারটা বেশ ডিটেইলড আলোচনা করেছেন লেখক, সম্ভাবনার দোয়ারগুলো নিয়েও কাহিনী ছড়িয়েছেন। শেষদিকে সুন্দর প্রযুক্তি দিয়ে গড়ে ওঠা সুন্দর পৃথিবীর সুন্দর সমাপ্তি দেখব–এমন আবহ তৈরি করেছিলেন লেখক, তবে শেষে অপ্রত্যাশিত টুইস্ট গল্পের আপাদমস্তক গল্পকে পরিবর্তন করে ফেলল। শেষ পর্যন্ত না পড়লে বইটার প্রকৃত স্বাদ আস্বাদন অসম্ভব বৈকি! শেষে স্তম্ভিত হয়ে অজ্ঞাতসারে বলে ফেলবেন-❝এটা কী হলো!❞
পরিশেষে, লেখকের ’এভাবেও ফিরে আসা যায়’ থেকে ভ্রম সমীকরণ আমার বেশ লেগেছে। স্বপ্ন কিংবা ভ্রমের সাথে মেশানো প্যারাডক্সগুলো চিন্তার খোরাক জোগাবে নিশ্চিত। যদি দাবাড়ু হয়ে থাকেন, দাবার ঐতিহাসিক ম্যাচগুলো নিয়ে অল্পবিস্তর জেনে থাকেন, Inception কিংবা Premonition মুভি দেখে থাকেন, প্যারাডক্সে পরিপূর্ণ কাহিনী পছন্দ করেন, তাহলে অবশ্যই ভ্রম সমীকরণ আপনার জন্যে। ★ইস্টার এগস- ১. বইয়ে সাইকোলজিস্ট জিব্রান আহমদের আগমন ঘটে, যাকে ‘যে শহরে গল্প লেখা বারণে’ বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল। তাকে আবার দেখতে পেয়ে বেশ খুশি আমি। তবে ভ্রম সমীকরণের জিব্রানকে আরও চৌকস মনে হয়েছে। সময়ের সাথে সাথে জিব্রানের আরও তুখোড় হওয়া বুঝিয়েছে হয়ত। ২. বইয়ের শেষে ক্রিস্টোফার হোয়াইট এসে চিরচেনা সব থিওরি ওলোটপালোট করে দেয় পাক্কা খেলোয়ারের মতন। এই ক্রিস্টোফার আরেক ক্রিস্টোফার নোলানকেই মনে করিয়ে দিল যেন।
★******* স্পয়লার এলার্ট****(বই না পড়লে নিচের অংশ পড়বেন না একদম। রিভিউ শেষ)*****
শেষে রাসেল আবিষ্কার করে সব ভ্রম ছিল। সে আসলে মারা গিয়েছিল আগে। তারমানে এই ভ্রম সমীকরণ আবিষ্কার করে অতীতে প্রিমোনিশন করতে পারার যে আবিষ্কারটা সেটাও স্বপ্নে হয়েছিল। যদি তা স্বপ্নে হয়ে থাকে তাহলে তো বাস্তবতায় তা প্রভাব ফেলানোর কথা না। তবে কেন রাসেলের তিন স্তরের ভ্রম হলো রিয়েল লাইফে। কেন হুট করে এমন অস্বাভাবিক ডিএমটির প্রভাব ঘটল। তবে কী অবাস্তব স্বপ্ন বাস্তবতাকেও নিয়ন্ত্রণ করতে ���ক্ষম। সব-ই ভ্রম, সব-ই রহস্য!
শুরুটা সত্যিকার অর্থেই দারুণ, বিউটিফুল! কিন্তু মাত্র ৯৬ পৃষ্ঠার উপন্যাসিকা হওয়া সত্ত্বেও মাঝে গিয়ে কেমন যেন একটু অগোছালো হয়ে গিয়েছে। লেখক তুলনামূলক সহজ টপিক বোঝানোর জন্য পর্যাপ্ত সময় নিলেও কঠিন টপিকগুলো বোঝানোর জন্য সেই তুলনায় কোনো সময়ই ব্যয় করেননি। বিশেষ করে বিদেশি সেটিঙে; নেপাল থেকে শুরু করে শিকাগো পর্যন্ত ঘটে যাওয়া ঘটনাবলির বর্ণনা দিতে গিয়ে খুবই তাড়াহুড়ো করা হয়েছে বলে মনে হয়েছে। তবে ফিনিশিংটা সন্তোষজনক ছিল। যা হোক, মোটের ওপর আমার কাছে বইটা ভাল লেগেছে।
ভ্রম সমীকরণ এর শুরুটা যতোটা সুন্দর ভাবে শুরু হয়েছিল মাঝখানে গিয়ে গল্প ঝুলে গেছে একদম, তবে আবার শেষটা ভালো ছিলো। সবমিলিয়ে খারাপ না। লেখক বেশ সহজ ভাবে গল্প বলছে এবং তার লেখার স্টাইল ভালো।
আমি শুধু চিন্তা করছি কি পড়লাম এটা? :o Ok, I'm not going to hold me back! এইমাত্রই শেষ করে পোস্ট দিচ্ছি বইটা নিয়ে। কোন ধরণের প্রিপারেশন, এক্সপেকটেশন ছিলোনা বইটা যখন বিকালে শুরু করি আজকে। কিন্তু এত দারুণ হবে তা তো কল্পণাও করিনি। বইটা নিয়ে পোস্ট না করলে ভুল হতো, তাই এক্ষুনি জানালাম।
লাস্ট ১মাস এর মতো সময় একটু একটু করে টেলিভিশন সিরিজ Fringe দেখছি। অসাধারণ একটা সিরিজ। যেখানে সিউডো সায়েন্স, সাইকেডেলিক, টাইম, রিয়েলিটি ইত্যাদি ইত্যাদি নিয়ে অনেক স্টোরি আছে প্রতি এপিসোডেই। এখানেও সেরকম ঘটনাটায় টাইম ট্রাভেল, প্যারাডক্স, সাইকেডেলিক ব্যাপারস্যাপার আছে। তো ওই সিরিজ দেখে বইটাকে ভাবছিলাম এ আর এমন কি? আর লেখক মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পী কেন এরকম গুরুগম্ভীর জিনিশপত্র নিয়ে এত ছোট বই লেখলেন চিন্তা করছিলাম পড়তে পড়তে। ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট করলেও তো আরও বড় হওয়ার কথা। তাহলে? শেষে গিয়ে অংক মিলে গেছে আমার। অস্বীকার করবোনা আমি এত ছোট বই আর বাংলাদেশি একজন নতুন লেখক এর লেখায় এত কমপ্লেক্স কিন্তু দারুণ প্লট আসতে পারে ভাবিনি। এবং ওনার ব্যাখা গুলো এত স্পষ্ট! আমি কাহিনী কিংবা কোনোকিছু নিয়েই আর ডিসকাশনে যাবোনা।
৯০+ পৃষ্ঠার একটা বই, সায়েন্স রিলেটেড কাহিনী ভালো লাগলে অবশ্যই পড়বার জন্য অনুরোধ থাকলো।
জাগতিক জীবনে যে সাফল্যের সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণের ঠিক পর মুহূর্তে নিয়তি যাকে তাসের ঘরের থেকেও দ্রুততমবেগে খেলাঘর ভেঙ্গে জানান দিয়ে যায় পুরো জীবনের ষোলো আনাই ভ্রমেভরা বিভ্রাট:পাঠক হিসেবে সেই ক্ষনে আপনার অনুভূতি ঠিক কেমন হবে ?
সময়ের দীর্ঘ পরিক্রমা পার হয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলী নেহাতই কল্পনা বা স্বপ্ন বা আধো আলো অন্ধকারে আবছা কোনো স্মৃতি,যার ভারে বর্তমান বিপর্যস্ত, ভবিষ্যত বিলীন-বিপন্ন,অতীত অস্তিত্ব সংকটাপন্ন।
দুপুরে শুরু করে, রাতে শেষ। ৯৬ পৃষ্ঠার বই হলেও গল্পটা ৮৫ পৃষ্ঠার। উপন্যাসিকা। ভালো লেগেছে। বিশেষ করে শেষে এসে। যেভাবে চমৎকার এন্ডিং দিয়েছেন, তা লেখকের মুন্সিয়ানার পরিচয় দেয়।
ডায়ালগ ভালো লাগেনি বেশ কিছু জায়গায়। একটা মেয়েকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় তার সামনেই আমরা বলি না, 'দীর্ঘদেহী-সুন্দরী'। আবার, অনেক টার্ম আনা হয়েছে, দাবা খেলার বিভিন্ন চাল, কিন্তু চালগুলো আসলে কীভাবে কাজ করে, তা ব্যাখ্যা করা হয়নি। এগুলোর ব্যাখ্যা দরকার ছিল। ডায়ালগে লেখকের আরেকটু কাজ করা বোধ হয় প্রয়োজন।
চিরকুটের বইয়ের প্রোডাকশন ভালো, প্রচ্ছদও সুন্দর। এই বইটিতে বানান ভুলও সেরকম চোখে পড়েনি। সব মিলে, দারুণ।
এই রাইটারের নিঃসন্দেহে একটা উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে.... নাহ্ এটা স্বীকার করতেই হবে। এইকথার পেছনে অবশ্যই যুক্তি আছে.... মোহাইমিনুল ভাইয়ের গল্প ছকার হাত যেরকম তার চেয়েও বেশি পারেন জটিল ঘটনাকে অত্যন্ত নির্মল ও ঝরঝরা সাবলীল ভাবে প্রবাহ করতে.... তার লেখক জীবন সম্পর্কে আমি বেশি কিছু জানি না। কিন্তু জানতে পারলাম এই লেখকের একক ভাবে লেখা বইয়ের সংখ্যা মাত্র ৪টি। এটাই সবচেয়ে অবাক করা বিষয় যে, এতো কম লিখে কিভাবে এতো ঝরঝরা হতে পারে একজনের লিখনি.....
সহজ ভাষায়, মাথা নষ্ট প্লট এর সেইরকম একটা বই ।Starting ভালো। শেষটাও সুন্দর। কিন্তু মাঝের দিক দিয়ে কাহিনী একটু বেশি ইই ঢিলেঢালা। শেষ এ পড়লে মনে হবে যেন Cristopher nolan এর নেক্সট মুভির স্ক্রিপ্ট।
মাঝের অংশটুকু বাদ দিলে সুখপাঠ্য একখানা বই। গল্পে গতি এবং থ্রিল দুটোই ছিল। তবে মাঝের অংশে অহেতুক টেনে লম্বা করার চেষ্টা করা হয়েছে। বর্নণা-ভংগী সাবলীল। সায়েন্টিফিকাল টার্ম গুলো বেশ ভালোভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিশেষ করে ডিএমটি-এর ব্যাপারটা। সাইকোলজিক্যাল ছোট ছোট কিছু জিনিস লেখক খুব গুছিয়ে উপস্থাপন করেছেন, যেমন মিথ্যে বলার ধরণ এবং কথা বললেই ধরা পড়ার একটা আবহ তৈরী করা। শেষটা ভালো ছিল। তবে সামান্য নোলান এর সিনেমা সিনেমা আবহ তৈরী হয়েছে, এর জন্য লেখক আলাদা করে বাহবা পেতেই পারেন। হ্যাপী রিডিং :)
ছোট্ট একটা বই। মাত্র ৯০ পৃষ্ঠা। ঘন্টা দুয়েকে একটানা পড়েই শেষ করেছি। কেমন লাগল? আমি বলব দারুণ। লেখকের লেখনী দারুণ। প্রতিটা অধ্যায়ের এমনভাবে শেষ করেছেন যে পরের অধ্যায় না পড়ে উপায় থাকে না। আবার ঐ অধ্যায়ও একইভাবে শেষ হয়। ফলে পুরো বইটা একবারে শেষ না করে উপায় নেই। প্লটটাও ইউনিক ( অন্তত আমার কাছে) এবং বইয়ের শুরুর কবিতাটা যে এভাবে মিলে যাবে ভাবতেও পারি নি! শেষের টুইস্টটা দারুণ ছিল। কল্পনাতেও আনিনি যে বইটা এভাবে শেষ হবে!
জীবন যেন এক মায়া, এক ভ্রম কিংবা স্বপ্ন। অনেক পুরাণের গল্পে এরকম দেখা গেছে। আবার সায়েন্স ফিকশনের বিষয় হিসেবেও এসেছে জীবনের ভ্রম হওয়াটা।
সাধারণ পরিবারে অসাধারণ একজন হিসেবে জন্ম রাসেল খন্দকারের। সুদর্শন ছেলেটির আইকিউ খ্যাতিমান বিজ্ঞানীদের সমান। পড়ালেখা, গণিত অলিম্পিয়াডে বিপুল সাফল্য অর্জন থেকে শুরু করে দাবায় গ্রান্ডমাস্টার খোলোয়াড়কে হারিয়ে দেয় রাসেল।
অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের বুদ্ধিমত্তার অধিকারি রাসেলের জীবন পাল্টে দেয় এক দুর্ঘটনা। ভবিষ্যত দেখতে পারে সে। কয়েকবার বিপদ থেকে রক্ষা হয় তাঁর প্রিমোনিশনের কারণে। আবার অনেক সুযোগের দরজাও খুলে যায় তাঁর জন্য দ্রষ্টা হওয়ার কারণে।
তাহলে কি ঐ দুর্ঘটনা কমিক্সের সুপারহিরোর মতো ক্ষমতা এনে দিয়েছে রাসেলকে? এক্সিডেন্ট, ডিএমটি নামক এক রাসায়নিক উপাদান এবং প্রিমোনিশনের কারণে রাসেল নেমে পড়ে 'ভ্রম সমীকরণ' সমাধানে।
মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পীর লেখনির সাথে 'শূণ্যবিন্দু' এর মাধ্যমে পরিচয় আমার। লেখক মনে হয় স্বপ্ন, ভ্রম, সময় পরিভ্রমণ এসব ব্যাপার-স্যাপার নিয়ে লিখতে আগ্রহবোধ করেন। প্রাঞ্জল ভাষার ব্যবহার, পাঠককে ধরে রাখার ক্ষমতাসম্পন্ন লেখালেখি এবং সায়েন্স ফিকশনের কাটখোট্টা বিষয়ের সরলীকরণ তার গল্পকথনে স্বতস্ফূর্তভাবে চলে আসায় এক বসাতে বাপ্পীর বই পড়ে শেষ করা যায়।
বুটস্ট্র্যাপ প্যারাডক্স কিংবা বাটারফ্লাই ইফেক্ট সম্পর্কে আমার জানাশোনা থাকার কারণে উপন্যাসের প্রথম থেকেই মনে একটা খচখচানি কাজ করছিলো। সুন্দর এন্ডিং দিয়েছেন মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পী। অনেকটা এ বইয়ের প্রথমে থাকা এডগার অ্যালান পোয়ের কবিতাটির মতোই।
বই রিভিউ
নাম : ভ্রম সমীকরণ লেখক : মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পী প্রথম প্রকাশ : ফেব্রুয়ারি ২০২৩ প্রকাশনা : বাতিঘর প্রকাশনী প্রচ্ছদ : আদনান আহমেদ রিজন জনরা : বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী রিভিউয়ার : ওয়াসিম হাসান মাহমুদ
রাসেল, একটা সাধারণ পরিবারের অসাধারণ মেধাবী বুদ্ধিমান সন্তান। স্কুল পড়ুয়া রাসেল হলো একজন প্রডিজি যার আইকিউ প্রায় ১৭০। কিশোর বয়সে বাবার সাথে ট্রেন ভ্রমণের সময় একটা ছোটখাট দূর্ঘটনার পর সে পেয়ে বসে এক অতিপ্রাকৃত ক্ষমতা, ভবিষ্যৎ দেখার ক্ষমতা।
এই ক্ষমতাটার জন্য মাঝেমধ্যে রাসেল কোনো ঘটনা ঘটার আগে অল্প সময়ে ভ্রমের মাধ্যমে তা জেনে নিতে পারে। চাইলে বদলে দিতে পারে ঘটনাগুলো। নিজের এমন ক্ষমতার উৎস আর বৈজ্ঞানিক কারণ খুঁজতে তা নিয়ে গবেষণা করে যায় রাসেল, আসতে থাকে নানা জটিল বৈজ্ঞানিক, মনস্তাত্ত্বিক তত্ত্ব, প্যারাডক্স ইত্যাদি। সে বিষয়টিকে পূর্ণাঙ্গভাবে বুঝতে কাজ শুরু করে ভ্রম সমীকরণ নামে এক তত্ত্ব নিয়ে।
এই অসাধারণ ক্ষমতাটার উৎস আর কারণটাই বা কি? কেউ কি আসলে রাসেলের এই ক্ষমতাটাকে নিয়ন্ত্রণ করছে? শেষ পর্যন্ত এই ক্ষমতাকে কি রাসেল মানবজাতির ভালোর কাজে ব্যবহার করতে পারবে নাকি নিজের অস্তিত্ব নিয়ে বিপদে পড়বে? কি এই ভ্রম সমীকরণের সমাধান?
মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পী নতুন সায়েন্স ফিকশন, থ্রিলার লেখকদের মাঝে বেশ পরিচিত একটা নাম। যদিও 'ভ্রম সমীকরণ' এর আগে তার কোনো প্রকাশিত বই পড়া হয় নি। তবে ফেসবুকে তার লেখা মাসুদ রানা নিয়ে একটা ফ্যান ফিকশন ছোটগল্প পড়েছিলাম। ফ্যান ফিকশন হলেও সাই-ফাই জনরার সেই গল্পে লেখকের প্রাঞ্জল লেখনী আর টিপিক্যাল প্লট হলেও সেটার বৈজ্ঞানিক বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা করার দক্ষতা দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম। তাই ওনার বই পড়ার ইচ্ছা ছিল।
'ভ্রম সমীকরণ'এও কিছু গতানুগতিক সাইফাই প্লট নিয়ে গল্প। যারা সায়েন্স ফিকশন পড়েন বা মুভি দেখেন তাদের কাছে গল্পের নানা দিক পরিচিত লাগবে। তবে সেইসব বিষয়গুলোকে লেখক যেভাবে নানা জটিল বৈজ্ঞানিক থিওরি, মনস্তত্ত্ব আর ওনার কল্পনাপ্রসূত ব্যাখ্যা দিয়ে এক করেছেন তা বেশ প্রশংসনীয়। আর এক্ষেত্রে বিষয়গুলি নিয়ে যে তিনি বেশ ভালোই পড়াশোনা করেছেন সেটাও পরিষ্কার হয়ে যায়। ছোট পরিসরের এই নোভেলার পুরো গল্পটার উপস্থাপন একদম পারফেক্ট লেগেছে। কোথাও মনে হয় নি গল্পে বাহুল্যতা এসেছে (দুয়েকটা জায়গায় একটু নড়বড়েভাবে তথ্য উপস্থাপনা ছাড়া) কিংবা কিছু বাদ পরে গেছে।
লেখকের ঝরঝরে আর প্রাঞ্জল লেখনীর জন্য বইটা টানা পড়ে যেতে সমস্যা হয় না। এক বসাতেই শেষ করে ফেলা যায়। ছোট পরিসরের, তার উপর প্লটহেভী বই, তারপরও মূল চরিত্রটার গঠন মোটামুটি ভালোভাবেই করা হয়েছে। অল্প স্থানে থাকলেও সাইকোলজিস্ট জিব্রান আহমেদের চরিত্রটাকেও ভালো লেগেছে। সব মিলিয়ে একটা বাংলা মৌলিক সায়েন্স ফিকশন হিসেবে 'ভ্রম সমীকরণ' এক সুবাতাসের ইঙ্গিত। শিবব্রত বর্মণ, মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পীদের মতো লেখকদের হাত ধরে বাংলা সায়েন্স ফিকশন সাহিত্য আরও সমৃদ্ধ হোক।
বছরের শেষ পড়া বইটা ভালোই লাগল। দেখতে দেখতে ২০২৩ সালটা শেষ হয়ে গেল। এই বছর তুলনামূলকভাবে বেশী বই পড়েছি অন্যান্য বছরের তুলনায়। তবে আগামী বছর পড়ার চাপে বোধহয় পাঠ্যবইয়ের বাইরের বইগুলো পড়ার সূযোগ খুব বেশী পাব না।
📚 বইয়ের নাম : ভ্রম সমীকরণ
📚 লেখক : মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পী
📚 বইয়ের ধরণ : সায়েন্স ফিকশন, সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার
"We all are a glitch in the matrix." ওয়েব সিরিজ "Dark" এর এই বিখ্যাত লাইন জানে না, সিরিজ লাভার এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর। সময় পরিভ্রমণের কঠিন মারপ্যাঁচ দিয়ে শেষমেষ "Glitch"! আবার, ক্রিস্টোফার নোলানের "Inception" দেখেননি এমন মানুষও হাতে গোনা কয়জন। কেমন হবে যদি আমাদের জীবনটাও Dark বা Inception এর মতো হয়? অথবা যদি আমি হই "Mr Nobody" মুভির সেই "Nobody"! নাহ, থাক! এত কঠিন সমীকরণ, কাটখোট্টা থিওরি দিয়ে জীবন পার করার দরকার নেই। যেমন সহজ-সরল, অনাড়ম্বর জীবন-যাপন করছি এই ভালো। ষোলো বছর বয়সী কিশোর রাসেল খন্দকার। আর দশটা ছেলের মতোই স্কুলে পড়ে। কিন্তু তারপরেও সকলের থেকে আলাদা। রাসেলের বাবা-মা পর্যন্ত মাঝে মাঝে অস্বস্তিবোধ করে রাসেলকে নিয়ে। আরণ্যক বসুর "পরের জন্মে বয়স যখন ষোলোই সঠিক, আমরা তখন প্রেমে পড়বো" ধরনের ছেলে নয় র���সেল। ভীষণ মেধাবী ও তুখোড় বুদ্ধিমান ছেলে। আইকিউ একেবারে আইনস্টাইন-হাইজেনবার্গের লেভেলে। স্কুলের আইকিউ টেস্টে এই বিস্ময়কর তথ্য জানার পর শিক্ষকের পরামর্শে বাবা তাকে শহরে ভালো স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিলেন। ঠিক স্বাভাবিক জীবনের নিয়মেই চলছিল সবকিছু। এরপর? চট্টগ্রামে মামার বিয়েতে যাওয়ার সময় ট্রেন থেকে পড়ে যাওয়ার পর থেকেই বদলে গেল জীবনের সমীকরণ। ধীরে ধীরে রাসেল আবিষ্কার করতে থাকে তার মাঝে আরেকটা ক্ষমতা আছে। সে ভবিষ্যৎ দেখতে পায়। যেমনটা দেখেছিলাম "Next" মুভিতে। নায়কের বিশেষ ক্ষমতা সে ভবিষ্যৎ দেখতে পায়। আর সেখানে নায়ক সম্ভাব্য টেরোরিস্ট অ্যাটাক ঠেকানোর জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত হয়। এরপর কি হয় তা অনেকেরই জানা। মুভির মতোই রাসেলও সম্ভাব্য একটা খুন রুখে দেয়। রাসেলের ধারণা ট্রেন দুর্ঘটনার পর থেকেই তার এই ক্ষমতা এসেছে। বিজ্ঞানমনা রাসেল কোন ধরনের অতিপ্রাকৃত ক্ষমতা বা কুসংস্কারে বিশ্বাসী না। তাই নিজেই একটা সারমর্ম দাড় করায় ঘটনার। সারমর্ম হলো, তার সাথে "প্রিমোনিশন" ঘটছে। অভিধানের ভাষায় যাকে বলা যায়, "ভবিষ্যতে ঘটতে যাওয়া ঘটনার সম্ভাব্য পূর্বাভাস "। আর এই ঘটনা ইতিহাসের পাতায় বহু আছে। রাসেলের প্রথম প্রিমোনিশনের পর কেটে যায় এক বছর। অপেক্ষা করতে থাকে পরবর্তী ঘটনার। এই ঘটনা নিয়ে সে চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে চায়। এসেও যায় সেই সময়। অর্থাৎ দ্বিতীয় প্রিমোনিশন। দাবা টুর্নামেন্টে হারিয়ে দেয় গ্র্যান্ডমাস্টার জিব্রানকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজি বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র জিব্রান আহমেদ। জিব্রানকে হারানোটাই ছিল রাসেলের দ্বিতীয় প্রিমোনিশনের ফল। সাইকোলজির ছাত্র জিব্রান ঠিকই ধরে ফেলতে পেরেছিল রাসেলের এই ক্ষমতা। নিজের ক্ষমতায় দ্বিধাগ্রস্ত রাসেল বিশ্বাসী কাউকে পাচ্ছিল না ব্যাপারটা নিয়ে আলোচনা করার। আর শেষমেষ এসে পেয়ে গেল জিব্রানকে। জিব্রানের থেকে সে জানতে পারে "ডিএমটি" নামক এক রাসায়নিক পদার্থের ব্যাপারে। আর আগ্রহী হয়ে ওঠে নিজের মধ্যে থাকা ক্ষমতার একদম মূলে পৌঁছাতে। এরমধ্যেই ঘটে তার তৃতীয় প্রিমোনিশন। বছর পেরিয়ে যায়। রাসেল কলেজের গন্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ওঠে। আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে থাকে। লেখাপড়া, ক্যারিয়ার বিল্ডাপ নিয়ে দিন চলতে থাকে। কিন্তু, তখনই ঘটে যায় তার চতুর্থ প্রিমোনিশন। জীবন বদলে যায় আরেক দফা। তার এই ক্ষমতার একটা ব্যাখ্যা পেয়ে যায় সে। একটা সমীকরণ। কী ছিল সেই সমীকরণ? তার এই ক্ষমতার পিছে কলকাঠি নাড়ছে এমন কেউ কি আছে? অদৃশ্য কোন সত্তা কি তার এই ক্ষমতার অপব্যবহারের চেষ্টায় মত্ত? এরপর ঘটে রাসেলের পঞ্চম প্রিমোনিশন। সে সূত্র ধরে পাড়ি জমায় নেপাল। ঐখানেই পরিচয় ঘটে এমন কিছু মানুষের সাথে, যারা ঠিক তার মতোই। ঠিক রাসেলের মতো করেই ভবিষ্যতের পূর্বাভাস। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বেশ কিছু বিদেশিদের নিয়ে সখ্যতা হয়। ভিন্ন ভিন্ন কর্ম দক্ষতায় এগিয়ে চলে সবাই। তাদের নিয়ে এবং তাদের প্রতিভাগুলো নিয়ে পৃথিবী বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন একজন এখন আমেরিকান বিজ্ঞানী। আর তারপর? রহস্যময়ে সেই সমীকরণের কূল কিনারা কী পেয়েছিল? কী হয়েছিল শেষ বেলায় এসে? এমন ভাবেও ভ্রম সম্ভব? না-কি পুরোটাই সত্যি? কিংবা হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে দেখা যাবে, যা ছিল সব স্বপ্ন? #পাঠ_প্রতিক্রিয়া: ভালো দিক: সাই-ফাই জনরা নিয়ে বই পড়া শুরু করেছি সেই ছোটোবেলা থেকে। তাই এর প্রতি একটা টান কাজ করে। ৯৫ পৃষ্ঠার ছোট্ট একটা বইতে বিজ্ঞানের কঠিন বিষয়গুলো দারুণভাবে উপস্থাপন করেছেন লেখক। এক অধ্যায় পড়ে মনে হচ্ছে এটা মনে হয় Inception ধরনের কিছু, আবার মনে হয় Next মুভির মতো। এরপর মনে হয় পিছে বিশাল ক্রাইম আছে। মনে হয় Minority Report এর মতো। কিন্তু আসলে অবস্থা ছিল "রুকো যারা, সাবার কারো" টাইপ। শেষ দিক পড়ার পর আমার হাল ছিল এমন "বিশ্বাস করেন রাসেল ভাই, এমন কিছু হবে ভাবিও নাই"। মেদযুক্ত কোন লেখা চোখে পড়েনি। একদম যা দরকার ঠিক তাই লিখেছেন। বইয়ের বাইন্ডিং যথেষ্ঠ ভালো। বানান ভুল, টাইপো চোখে পড়েনি। খারাপ দিক: আলাদা ভাবে কোন চরিত্রের বিল্ডাপ ছিল না। বিশেষ করে জিব্রান চরিত্রটা আরেকটু বড়ো হোক আশা করেছিলাম। এত ছোটো বইয়ের রিভিউ লিখতে গিয়ে যাই লিখি স্পয়লার হয়ে যায় অবস্থা হয়েছে। রিভিউ লেখা শেষ করে মনে হচ্ছে বইয়ের থেকে রিভিউ-ই বেশি বড়ো হয়ে গেছে। #প্রচ্ছদ: বইয়ের কাহিনির সাথে প্রচ্ছদ পুরোটাই মানানসই।
ধরুন, খুব শীঘ্রই একটি খুন হতে যাচ্ছে। একজন সুনামধন্য ব্যক্তির খুন৷ আর আপনাকে খুনটি আটকাতে হবে। আপনি কোন পুলিশ সদস্য নন। কিংবা কোন সিক্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের এজেন্ট ও নন, যে আপনাকে গোপনীয়তার সাথে ইনফরমেশনটি দেওয়া হয়েছে। বরং খুনের ব্যাপারটি আপনি জানতে পেরেছেন এক অদ্ভুত ক্ষমতার মাধ্যমে। ভবিষ্যৎ দেখবার ক্ষমতা। বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হচ্ছে, প্রিমোনিশন।
ঠিক এরকম ঘটনাই ঘটে চলছে এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র রাসেলের সাথে। পুরো উপন্যাস জুড়ে রাসেল তার এই অদ্ভুত ক্ষমতার গল্প বলে যাবে। প্রিমোনিশনের মাধ্যমে কখনো সে খুন হওয়ার মত ভয়ংকর ঘটনার ভবিষ্যত দেখতে পারছে। আবার কখনো দেখতে পারছে স্বাভাবিক কোন ঘটনা। কিন্তু এই রহস্যের জাল থেকে সে কিছুতেই বের হতে পারছে না। কেন তার সাথেই এসব হচ্ছে? কি জন্য হচ্ছে? আরো অসংখ্য প্রশ্ন আঁকড়ে ধরছে তাকে৷ এক সময় সে এই রহস্য উদঘাটনের পেছনে হন্যে হয়ে ছুটতে থাকে। যার জন্য ভয়ংকর কিছু কাজ করতেও সে পিছ পা হয় না। কিন্তু শেষ অব্দি কি সে উদঘাটন করতে পারবে এই রহস্য? এই কঠিন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই পাঠককে অপেক্ষা করতে হবে মাত্র ৯৪ পাতার এই ছোট্ট বইটার শেষ পাতা অব্দি।
পাঠ প্রতিক্রিয়া -
উপন্যাসের প্লটটা ভীষণ ব্যতিক্রমধর্মী। সাধারণ কোন সায়েন্স ফিকশন নয়। বরং অসাধারণ এবং একই সাথে বেশ জটিল প্লট। শেষের দিকে কিছু অধ্যায় পড়তে গিয়ে মনযোগ বাড়াতে হয়েছে। আমার কাছে মনে হয়েছে লেখক জটিল বিষয়গুলো সহজ করে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। তবে হ্যাঁ, কারো কাছে ব্যাপারগুলো কঠিন ও মনে হতে পারে।
বইটা ছোট। মাত্র ৯৪ পাতা। প্রথম অধ্যায় থেকেই কৌতুহল শুরু হয়েছিল, এবং কৌতুহল শেষ অব্দি ধরে রাখতে লেখক আবারো সক্ষম হয়েছে। শেষের দিকে যখন পৌছালাম তখন একবার মনে হল কৌতুহল সব এখানেই শেষ। বইটাও ধীরে ধীরে শেষ হতে যাচ্ছে। কিন্তু শেষটা মনের মত হচ্ছে না। জটিল জটিল সব ব্যাখ্যায় উপন্যাসের শেষটা ধীরে ধীরে সাদামাটা হয়ে উঠছে। ঠিক তখন শেষ পাতায় এসে রীতিমতো আঁতকে উঠতে হলো৷ মনে মনে শুধু বললাম, এতক্ষণ ধরে কি ভাবলাম, কি পড়লাম আর শেষে এসে কি হইল এইটা!! 😅
প্লটের বাইরে কিছু ভাল লাগার দিক বলি, এর আগেও লেখকের একটি বই পড়েছিলাম। তার একটি গুণ খুব ভাল লেগেছিল। এই বইটিতেও সেই গুণটি তিনি ধরে রেখেছেন। লেখক গল্পের ছলে পাঠকদের জন্য দিয়ে গেছেন ছোটখাটো অনেক ইন্টারেস্টিং তথ্য। যেমন- দেজা ভ্যু, প্রিমোনিশন, ডিএমটি, রেপিড আই মুভমেন্ট ইত্যাদি।
একটি উপন্যাসের বই শুধু মাত্র ভাল সময় কাটানোর জন্য কিংবা আনন্দের জন্য নয়। বরং আউট নলেজ বাড়ানোর একটা গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম, তা লেখক আবারো বুঝিয়ে দিয়েছে।
নেতিবাচক দিক-
আমি রিভিউ দিচ্ছি সাধারণ পাঠক হিসেবে। আমার কাছে বইটি পড়ে অযৌক্তিক কিছু চোখে পড়েনি। তাই এরকম কিছু উল্লেখ করতে পারছি না। তবে হ্যাঁ ব্যক্তিগত ভাবে অনেকেরই ক���ছু দিক খারাপ লাগতে পারে, তবে শেষ অব্দি পড়ে যদি পাঠক সন্তুষ্ট হয়, তাহলে সেই খারাপ লাগা দিকটা আর নজরে আসে না। আমার ক্ষেত্রেও তাই। আমি বইটি পড়ে সন্তুষ্ট।
সব শেষে এই বইয়ে উল্লেখিত একটি সুন্দর কবিতার লাইন দিয়ে আমার রিভিউ শেষ করছি,
অল উই সিন অর সিম ইজ বাট আ ড্রিম উইদিন আ ড্রিম....
বই- ভ্রম সমীকরণ জনরা- সায়েন্স ফিকশন লেখক- মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পী প্রচ্ছদ- জুলিয়ান প্রকাশকাল- ডিসেম্বর ২০২০ প্রকাশনী - চিরকুট
পুরো কাহিনীটাই আমার কাছে একটা লস প্রজেক্ট! না কাহিনী খারাপ বা গল্প ভালো না তা বলি নাই,পুরো গল্প পড়ার পর আপনি খোজে পাবেন শুধুমাত্র অকূল পাথার,বিশাল শূন্যতা,আর হাহাকারের খেলাধুলা! কষ্ট ভয় পাই তাই কাহিনীটাকে লস প্রজেক্ট এর সাথে তুলনা করছিলাম আরকি।গল্পে কি আবার কোনো প্রজেক্ট আছে কিনা?সে আপনি নিজেই বুঝবেন... যদি বইটা পড়েন। সে যাই হোক, একবার যখন বলে দিয়েছি মুখ ফুটে,বন্দুকের গুলির মত সে আর ফেরত নেওয়া আমার কম্ম নয়। হুমায়ূন কাকুর হিমু,মাসুদ রানার কিছু বই আর তিন গোয়েন্দা, এছাড়াও জাফর বাবুর কিছু বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর পর এই প্রথম কোনো বই এক বসায় শেষ করি(একান্ত নিজের ব্যাক্তিগত কথা)। পারফেক্ট একটা কল্পকাহিনী বইটা। আপনার বোরিং লাগবে না কথা দিলাম।পুরো গল্পের দুই তৃতীয়াংশ কাহিনি নায়কের মাথার ভেতরের কথার মাধ্যমে বলায় আমি নিজের সাথে খুব ভালভাবে রিলেট করতে পেরেছি আর বেশ ভাল লাগছে ঠিক এই কারনেই। শেষের দিকে বিস্তর বৈজ্ঞানিক কচকচানি রয়েছে যা সত্যিকার অর্থে কোনোদিন না ঘটলেই মানবজাতির জন্য মঙ্গল। নায়ক মহাশয় প্রচন্ড রকম জ্ঞানী,যেরকম জ্ঞানী হলে মেডিকেল এডমিশন টেস্ট এ ৯৪ মার্ক্স পাওয়া যায় ঠিক সেরকম ই জ্ঞানী। ঠিক এ কারণেই গল্পটা অনেকটাই বিশ্বাস যোগ্য ছিল। নয়তো আকাশ কুসুম লাগতো।পড়ে বেশ ভাল লাগলো।না পড়লে চেখে দেখতে পারেন আপনিও...
বই- ভ্রম সমীকরণ লেখক- মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পী প্রকাশনি- বাতিঘর