Jump to ratings and reviews
Rate this book

গডফাদার #1

বাটারফ্লাই ইফেক্ট

Rate this book
রাত ৯ টা পাঁচ।
অফিসের বস ইকবাল খানের সাথে দেখা করতে এসেছে সাব্বির। অফিসের ঘটে যাওয়া ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়ে আপোষ করতে এসেছে। কিন্তু বসের ফ্ল্যাটে ঢুকেই আবিষ্কার করে ইকবাল খানের মৃত দেহ। ঘটনার তদন্ত শেষে ডিবি অফিসার নিজাম উদ্দিন সাব্বিরের বিরুদ্ধে সকল প্রমাণ পাওয়ায় তাকে গ্রেফতার করে। এর ঠিক তিনমাস পর খুন হলো নাদিয়া। আর এবারে নিজাম সাহেব সব প্রমাণ পেলেন নাদিয়ার স্বামী হিমেলের বিরুদ্ধে!
এদিকে ক্রাইম কনসাল্টটেন্ট অর্ক খুন দুটার মাঝে সিরিয়াল কিলিং এর আভাস পায়। অবশেষে খোঁজ নিতেই বেরিয়ে এলো আরও কিছু খুনের ঘটনা। বেশ লম্বা একটা তালিকা। সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হলো, সবগুলো খুনের খুনিই প্রমাণসহ ধরা পড়েছে। তদন্তের গভীরতা বাড়ে এবং ঘটনা মোড় নেয় হিমেলের বলা স্কুল জীবনের একটা ঘটনা থেকে। সেই সাথে ঘুরে ফিরে সামনে আসে অর্ক'র অতীত জীবনের গল্পগুলো।
এরপরে... অর্ক নিজেই সাব্যস্ত হয় একটি খুনের আসামী হিসেবে। কী এমন ঘটেছিলো যে শেষ পর্যন্ত অর্ককে জেলে যেতে হলো? এখন কী করবে অর্ক? পারবে নিজেকে বাঁচিয়ে খুনিকে ধরতে?

স্বাগতম আমিনুল ইসলামের গডফাদার সিরিজের প্রথম বই "বাটারফ্লাই ইফেক্টে" -এর জগতে

128 pages, Hardcover

First published January 1, 2020

4 people are currently reading
158 people want to read

About the author

Aminul Islam

15 books123 followers

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
29 (14%)
4 stars
83 (42%)
3 stars
73 (37%)
2 stars
8 (4%)
1 star
1 (<1%)
Displaying 1 - 30 of 62 reviews
Profile Image for কিশোর ইমন.
Author 40 books736 followers
February 25, 2021
৪/৫

জাস্টিফিকেশন : টুইস্ট আমি ধরেছি সীমান্তের ঘটনার পর পরই, তবে টুইস্ট আগেই ধরতে পারা কোনও ডিসক্রেডিটের ব্যাপার না। এমনটা হওয়াই স্বাভাবিক। শেষ কোন হলিউডের মুভিতে আগে থেকে টুইস্ট ধরতে পারিনি আমি? বা আপনারা? ঐ জীবনের প্রথম ৫-১০ টা বইতেই কেবল টুইস্ট ধরা যায় না, এরপর আর কোনও বই মুখ হা করিয়ে দেয়া টুইস্ট দিতে পারে না। এর কারণ, লেখকের কমতি নয়, বরং আমরা শিখে যাই পাঠক হিসেবে কতখানি তাকানো প্রয়োজন, কোনদিকে তাকানো প্রয়োজন। তাই আমাদের চোখে এ অথবা ও যে আসামী তা ধরা পড়বেই। চরিত্র তো "লিমিটেড" - ক্লুগুলো থাকে। তাই টুইস্ট ধরে ফেলা কোনও নেগেটিভ দিক না। এর জন্য কোনও রেটিং পয়েন্ট কমাচ্ছি না।

টুইস্টের পেছনের জাস্টিফিকেশন গুরুত্বপূর্ণ। কে কাজটা করেছে তা দুনিয়ার সব পাঠক ধরতে পারবে, ওটা ধরতে না পারা মানে পাঠক জীবনে বেশি বই পড়েনি। তবে টুইস্টটা কেন আছে, তা কতখানি জাস্টিফাইড, তা লেখকের দায়িত্ব। এখানে লেখকের ব্যর্থতার জায়গা থাকে। তবে বাটারফ্লাই ইফেক্টে লেখক তাতে ব্যর্থ হননি। চরিত্রদের কর্মকাণ্ড জাস্টিফাইড এনাফ। এজন্যও রেটিংয়ে ৪/৫ নয়।

গল্প, প্লট বিন্যাস, পরিপাটী ছিলো, এর বেশি আশাও করিনি, দরকারও ছিলো না। তবে এক্সিকিউশনে কিছু কিছু জায়গা আছে যা আরও ভালো হতে পারতো এবং খুব বড় একটা মাইলস্টোন হয়ে যেত তাহলে এই কাজটা। এখন এই বইটা বেশ ভালো একটা বই, তবে অসাধারণ হয়ে যাওয়ার যে পোটেনশিয়ালটা এর ছিলো তা মিস করেছে ওকারণে।

আমাকে ভুল বুঝবেন না, এক্সিকিউশন বেশ ভালো, তবে কাহিনী যেখানে অনেকটা ছড়িয়ে যাচ্ছে, সেখানে সেখানে তাড়াহুড়োর ছাপ স্পষ্ট। যেমন অ্যান্টাগনিস্টের ব্যাকগ্রাউন্ড। চট করে দু'পাতায় নিয়ে আসাটা ঠিক যায়নি। আরও বেশি জায়গা দেয়া যেত ওটাকে। আরও আগ থেকে গুছিয়ে আনা যেত। তাছাড়া এক বিশ্বাসঘাতকের ব্যাপার আছে, যেখানে আমরা আশা করতে পারতাম পেছনে ক্লু থাকার। (গল্পভিত্তিক ক্লু ছিলো, তবে পুরো ব্যাপারটা যে প্রাক-ঘটনার প্রেক্ষিতে হচ্ছে সে ব্যাপারে কিছু ছিলো না এখানে। থাকতে যে পারে, সে আভাস আগে দেয়া উচিত ছিলো। শেষে এসে একজন সব খোলাসা করলে ব্যাখ্যা জানা যায়, তবে সে জার্নিতে তো আমরা ছিলামই না। অর্থাৎ আমরা এক ঢাকা-কক্সবাজারের জার্নির গল্প শুনছি, অথচ আমাদের জার্নি ছিলো ঢাকা-খুলনার। যেটা পাঠক হিসেবে সুখকর অভিজ্ঞতা না।)

আমার কাছে মনে হয়েছে এই আখ্যানে হয় (ক) বিগ পিকচারের সাথে সংযোগ আরও সাটল থাকতে পারতো, যেটা পরের বইয়ে টানতে সমস্যা হবে না, তবে এই বইতে কিছু বলা হবে না (শার্লক টিভি সিরিজের প্রথম এপিসোডে যেমন মরিয়ার্টির ব্যাপারে কিচ্ছুটা বলে না ড্রাইভার, কারণ ওখানে বেশি মরিয়ার্টি প্যাচাল পাড়া হলে দর্শকের ফোকাস মূল গল্পের থেকে ড্রিফট করে চলে যাবে ঐদিকে। পরে আস্ত একটা এপিসোড দেয়া হয় মরিয়ার্টির ব্যাপারে, তাতে দুটো এপিসোডই ভালো হচ্ছে, একসাথে করে ফেললে দুটোই বিপদে পড়ে যেতে পারতো)


নয়তো (খ) বিগ পিকচারকে আরও বেশি আনা যেত, আরও মিলেমিশে একাকার করে দেয়া যেত বইয়ের শুরু থেকেই, সেক্ষেত্রে বইটার আকার এখন যা আছে তার তিনগুণ হতো নিঃসন্দেহে।

এই দীর্ঘ আলোচনার পেছনে কারণ একটাই, অল্পের জন্য একটা বই ভালো বই থেকে অসাধারণ বই হয়ে উঠতে পারে না যখন, তখন আমাদের সবারই মন খুব খারাপ হয়। তবে লেখককে ধন্যবাদ এই বইটি উপহার দেয়ার জন্য। হ্যান্ডস ডাউন, অনেক তথাকথিত প্রতিথযশা লেখকের থেকে আমিনুল ইসলামের গল্প বলার ধরণটা ভালো। স্টোরিটেলিংয়ে ছোটখাটো ইম্প্রুভমেন্টের জায়গা আছে, যেমন - শব্দের ব্যবহারের ইনকন্সিস্টেন্সি। স্মুদ একটা আলোচনার মধ্যে দাঁতে বাড়ি খায় এমন শব্দ ঢুকিয়ে দেয়া, ইত্যাদি। তবে সেটা আশা করা যায় সময়ের সাথে ধীরে ধীরে উন্নত হবে আরও।

লেখকের জন্য শুভকামনা থাকলো।
Profile Image for Aishu Rehman.
1,107 reviews1,084 followers
July 27, 2023
অসম্ভব সুন্দর একটা গল্প। বেশ ভালো লেগেছে। আমি ২য় সংস্করণ পড়েছি যেখানে কিছু পরিমার্জন করা হয়েছে। তবুও শেষের দিকে সাবিত দুয়েকবার সাজিদ থেকেই গেছে। পুরোপুরি ঠিক হয়নি। গল্পের যা একটু কমতি আশা করি 'গডফাদার' এ পুষিয়ে দেবে। এখন অপেক্ষায়।
Profile Image for Dystopian.
437 reviews232 followers
April 11, 2023
সিরিজের প্রথম বই হিসাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো চরিত্র গঠন আর প্লট এর বেস টা ঠিক করে নেওয়া। গল্পের আসল ব্যার্থতাই এই দুই যায়গায়।
লেখকের বর্ননা সাবলিল, কিন্তু কিছু কিছু যায়গায় সংলাপ অনেক দূর্বল ছিল।
তবে লেখক আগ্রহ সৃষ্টি করছেন তার পরবর্তী বই এর জন্য এটুকু না বললেই নয়। হয়তো প্রথম দিকের বই এই জন্য খাপছাড়ার পরিমান বেশিই ছিল!
Profile Image for তান জীম.
Author 4 books280 followers
March 14, 2021
চমৎকার একটা গল্প স্রেফ ভালোভাবে বলতে না পারার কারণে মোটামুটি চলেতে এসে ঠেকেছে।

অফিসে বসের সাথে রাগারাগি করে রাতে আবার তাকে সরি বলতে গিয়ে সাব্বির দেখলো নিজ ফ্ল্যাটে খুন হয়েছেন বস ইকবাল খান৷ সাব্বির খুন না করলেও ওখানে পাওয়া সকল আলামতে ফেঁসে যায় সে। অতঃপর আদালতের রায়ে মেলে শাস্তি। ঘাটাঘাটি করতে গিয়ে দেখা গেলো সাব্বিরের মতো এমন নির্দোষ অনেক মানুষই ফেঁসে যাচ্ছে। তাহলে আবডালে বসে কলকাঠি নাড়ছে কে? তার উদ্দেশ্যই বা কি?

শুরুটা ভালো হলেও গল্প বারবার হোঁচট খেয়েছে গল্প বলার অসাড়তায়। হুটহাট করে জাম্প করেছে দৃশ্যপট, যেটা গল্পে যেমন ঢুকতে দেয়নি তেমন লেখার ডেপথকেও নষ্ট করেছে। সেই সাথে আরেকটা জিনিস প্রচন্ড বিরক্তির সৃষ্টি করেছে। সেটা হলো কথা নেই বার্তা নেই হঠাৎ করে সিরিয়াল কিলারদের নিয়ে ইনফো ডাম্পিং। ইনফো ডাম্পিং বলছি এই কারণে যে, সিরিয়াল কিলারদের নিয়ে ইনফোগুলা গল্পের সাথে রেলেভ্যান্ট না৷ এইটা সিরিয়াল কিলিং এর একটা থ্রিলার উপন্যাস, সে খাতিরে দেয়া। এই জিনিসটা আমার পার্সোনালি আমার ভালো লাগে নাই৷ আরেকটা ব্যাপার হলো খুনের টাইমিং নিয়ে নাটকীয়তা। টাইমিংকে এমনভাবে পোট্রে করা হয়েছে যেন মনে হয়, এটা একটা ইম্পর্ট্যান্ট ক্লু। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেন ঐ টাইমেই খুনগুলো হচ্ছে তা নিয়ে একটা বাক্যও লেখা হয়নি। মনে হচ্ছিলো লেখক এই ব্যাপারটা ভুলেই গিয়েছে যেটা আমার কাছে খুবই আনপ্রফেশনাল একটা কাজ মনে হয়েছে। এরকম টুকটাক আরো সমস্যা রয়েছে যা সবমিলিয়ে গল্পটাকে ভালোভাবে দাঁড়াতে দেয়নি।
Profile Image for Zannat.
41 reviews16 followers
January 5, 2021
বছরের প্রথম বই। ইদানীং ৪০-৫০ পৃষ্ঠার বেশি এক বসাতে পড়তে পারি না। কিন্তু ১২৮ পৃষ্ঠার বইটা কুরিয়ার থেকে এনেই, এক বসাতেই পড়ে শেষ করেছি।
Profile Image for Wasim Mahmud.
357 reviews29 followers
October 7, 2022
ছোট একটি ঘটনার ফলাফল অনেক সময় বিশাল হয়ে যায়‌। ক্যাওস নিয়ে অক্সফোর্ডের শর্ট ইন্ট্রোডাকশন‌ পড়ার সময় সেই ঘোড়ার খুড়ের হ���রিয়ে যাওয়া থেকে যে রাজ্য পর্যন্ত খুইয়ে গিয়েছিল, বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিনের সেই কবিতার কথা মনে পড়ে যায়‌।

বাটারফ্লাই ইফেক্ট। বর্তম���নে বিজ্ঞান স্বীকৃত এক বিষয়। আফ্রিকার জঙ্গলে কোন প্রজাপতির পাখা ঝাপটানো থেকে পৃথিবীর অপর প্রান্তে সাইক্লোন পর্যন্ত শুরু হতে পারে। ক্যাওস থিওরি নিয়ে আগ্রহের কারণেই এই ব‌ই নিয়ে বসা।

নির্দিষ্ট সময়ে একের পর এক মার্ডার হচ্ছে।‌ প্রমাণসহ অপরাধীও ধৃত করা হচ্ছে। তবে ডিবির তদন্ত কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিনের মনে এই বিষয়ে গভীর সংশয়। ভাতিজা অর্ক একজন অত্যন্ত মেধাবী সিরিয়াল কিলার বিশেষজ্ঞ। মনের ভিতরকার খচখচ মিটাতে তাঁর ডাক পড়ে। এক‌ই সময়ে তিন মাস পরপর সংগঠিত হ‌ওয়া হত্যাকান্ডের মধ্যে একটি কমন প্যাটার্ন পাওয়া যায়। কিন্তু কে করছে এইসব? কেন‌ই বা করছে? যত‌ই ইনভেস্টিগেশনের গভীরে প্রবেশ করতে থাকে অর্ক তত‌ই ফিরে যেতে হয় এমনকি নিজের অতীতে। যে অতীতের এক আপাত ক্ষুদ্র ঘটনা বদলে দিতে যাচ্ছে সবকিছু। এই আখ্যানে অভিষেক হচ্ছে সবকিছু পাল্টে দেয়ার ক্রীড়নক গডফাদারের।

আমিনুল ইসলামের গডফাদার সিরিজের প্রথম ব‌ই 'বাটারফ্লাই ইফেক্ট' এর মাধ্যমে তাঁর লেখনীর সাথে পরিচিত হলাম। এই এয়ারপোর্ট নভেলা এক বসায় পড়ে ফেলার মত দ্রুতগতির গল্পকথন সমৃদ্ধ। লেখক তাঁর প্রথম ব‌ইয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই কনসেপ্টের খুব বৈজ্ঞানিক প্রয়োগ না দেখালেও স্টোরিটেলার হিসেবে শেষে এসে দারুন এক টুইস্ট দিয়েছেন। সবাইকে ফিরিয়ে এনেছেন সুদূর অতীতে। শুরু থেকে কিছুটা আঁচ করতে পারলেও আমি নিজেও খানিকটা ঘোল খেয়েছি। লেখনী ভালো লেগেছে তবে ফ্ল্যাশব্যাকের কাহিনীর সময়ের চিত্রায়ন আরো অনেক ভালো হতে পারতো। সেই জায়গায় কিছুটা একঘেয়ে গদ্য কেন এসেছে বুঝতে পারিনি কারণ আমিনুল ইসলাম ভিজ্যুয়ালাইজেশনে ব‌ইয়ের অন্য সব অংশে তো ভালোই লিখেছেন। এই গ্রন্থের আগামী পর্ব 'গডফাদার' পড়ার অপেক্ষায় আছি।

আমাদের সবার জীবনেই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে কোন একটির ফলাফল 'বাটারফ্লাই ইফেক্টের' কারণে বহু মানুষের জীবনে বয়ে আনতে পারে এক ভয়াবহ সাইক্লোন।

বুক রিভিউ

বাটারফ্লাই ইফেক্ট

লেখক : আমিনুল ইসলাম

প্রথম প্রকাশ : ডিসেম্বর, ২০২০

দ্বিতীয় সংস্করণ : অক্টোবর, ২০২১

প্রকাশনা : সতীর্থ প্রকাশনা

প্রচ্ছদ : আদনান আহমেদ রিজন

বানান সংশোধন ও সম্পাদনা : পিয়েল রায় পার্থ

অলংকরণ, অক্ষরবিন্যাস ও বর্ণ অলংকরণ : ইসলাম উল্লাস

জঁরা : থ্রিলার, সাসপেন্স, এয়ারপোর্ট নভেলা

রিভিউয়ার : ওয়াসিম হাসান মাহমুদ
Profile Image for J Hasan.
12 reviews1 follower
January 11, 2021
আগেই ধরতে পেরেছিলাম টুইস্টটা। এজন্য আর ভালো লাগেনি শেষের দিকটা..
Profile Image for Jannatul Firdous.
89 reviews179 followers
February 25, 2021
সুন্দর লেখনী। নতুন লেখকের কোন আনাড়িপনা নাই।
Profile Image for Ësrât .
515 reviews87 followers
January 16, 2025
যতটা সুন্দর প্লট ততটাই দুর্বল গল্পের গাঁথুনি।
Profile Image for فَرَح.
188 reviews2 followers
March 18, 2022
কাহিনী সংক্ষেপ : ঘটনার সূত্রপাত সদ্য ক্লাস নাইনে উঠা সাজিদের বাবার পকেট থেকে ১০০ টাকা চুরি করতে যাওয়া থেকে। কি সামান্য একটা ঘটনা! অথচ কেওস থিওরি অনুযায়ী যে জিনিসগুলো পৃথিবী বদলে দেয় , আদতে সেগুলো খুব ছোট্ট কিছু পরিবর্তন। বলা হয়ে থাকে , আমাজন জঙ্গলে একটা প্রজাপতি পাখা ঝাপটানো হতে পারে ইউরোপের অর্ধেকটা জুড়ে সাইক্লোন আঘাত হানার কারন!

তিন মাসের ব্যবধানে একের পর এক খুন হয়ে যাচ্ছে আর খুব সরলভাবেই প্রমাণসহ হাতেনাতে ধরা পড়ছে খুনি। তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে কিছুা খটকা লাগলেও এমন সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকলে অস্বীকার করার উপায় থাকে না। এদিকে ক্রাইম কনসাল্টেন্ট অর্ক খুনগুলোর মাঝে আভাস পায় সিরিয়াল কিলিং এর। আপাতদৃষ্টিতে যারা খুনি , তারাই ভিকটিম নয়তো? ব্যপারটা কি আসলেই খুব সরল?
ষড়যন্ত্রে জড়িয়ে পড়ে অর্ক আর একসময় নিজেই সাব্যস্ত হয় একটা খুনের আসামী হিসেবে! এখন কি করবে অর্ক? আদৌ কি তার কিছু করার আছে? নাকি তারই অপরাধের শাস্তি হিসেবে এতগুলো মানুষ খুন হলো?

ব্যক্তিগত অভিমত : এই বইটা পড়তে গিয়ে নতুন একটা শিক্ষা পেলাম। থ্রিলার বই পড়ার আগে এর ফ্ল্যাপের লেখা পড়তে নেই। বইয়ের পেছনের সারসংক্ষেপ পড়ে মোটামুটি অর্ধেক কাহিনি জেনে ফেলেছিলাম। ১২৮ পৃষ্ঠার বইয়ের ৫০/৬০ পৃষ্ঠা পর্যন্ত তো জানতামই কী হবে পরে। তাই একটু বিরক্তিকর লেগেছিল শুরুর দিকে। আস্তে আস্তে অবশ্য গল্পের মধ্যে ঢুকে গেলাম । বুদ্ধিমান পাঠক বেশ আগেই ধরে ফেলতে পারবেন আসল কালপ্রিট কে। তবু ভালোই লাগবে পড়তে। গডফাদার সিরিজের প্রথম বই - বাটারফ্লাই ইফেক্ট। পরবর্তী বই এখনো বের হয় নাই দেখে একটু আফসোস লাগছে।

ব্যক্তিগত রেটিং : ৩/৫
Profile Image for Peal R.  Partha.
211 reviews13 followers
Read
January 28, 2021
⚈ ❝স্পয়লার-ফ্রি❞ রিভিউ—

❝অতীতের তিক্ত স্মৃতি যখন বিভীষিকা হয়ে ফিরে আসে, প্রতিশোধের সীমারেখাতে থাকা কষ্টরাও তখন মুক্তির পথ খোঁজে❞

আজকের রিভিউ কিছুটা ব্যতিক্রম কারণ উক্ত বইয়ের সাথে আমার করা কাজের সংযোজন ঘটেছে। আমি শুধু আলোচনা করব বইয়ের যাবতীয় বিষয়বস্তু নিয়ে। লেখক আমিনুল ইসলামের বই ❝বাটারফ্লাই ইফেক্ট❞ যেটা মূলত গডফাদার ট্রিলজির প্রথম বই। উক্ত বইটি লেখক উপন্যাসিকা আকারে লিখেছেন শুধুমাত্র কাহিনির শুরু ও চরিত্রের সাথে পাঠকদের মেলবন্ধন ঘটানোর জন্য। তাই ট্রিলজির শেষ দুইটি বই গডফাদার ১ ও ২ উপন্যাসের আলোকে আসার সম্ভবনা রয়েছে যাতে গল্পের শুরুর দিকের অনেক তথ্যর অপূর্ণতা পূরণ করে দিতে সক্ষম হয়। সেখানে কাহিনি হবে আরও বিস্তৃত এবং উত্তেজনাপূর্ণ।

যেহেতু নতুন লেখকের নতুন বই, তাই অনেকে বইটা ক্রয় করার পূর্বে ইতস্তত করবে স্বাভাবিক। তবে এই বইয়ের মূল আকর্ষণ গল্পের দ্রুতগতিসম্পন্ন প্লট যেখানে দম ফেলার ফুরসত নেই। বই হাতে নিবেন এক বসাতে পড়া শেষ করে হাত থেকে রাখবেন। চরিত্র বিল্ডাপের দিকে বইটি আগামী সিকুয়েল গুলোতে ভালো ইমপ্যাক্ট ফেলতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস কারণ ক্রাইম থ্রিলারে চরিত্র হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সব পাঠক আগ্রহ নিয়ে বসে থাকে কখন শক্তপোক্ত একজন প্রোটাগনিস্ট কিংবা অ্যান্টাগনিস্ট চরিত্রের আবির্ভাব ঘটবে। আশা করি এই দিকটা সিরিজের প্লাস পয়েন্ট হিসেবে প্রথমে আসবে। প্লট সাজানো ঠিকঠাক হলেও তৃপ্তি পাওয়া যাবে কম কারণ গল্পের পরিধি অল্প, তাই চাইলেও অনেকে পূর্ণতৃপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়ে পরবর্তী সিকুয়েলের জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় থাকবে না। ছোটো বই অসংগতি অনেক কিছুই থাকবে, পরিপূর্ণ ভাবে ব্যবচ্ছেদ এইখানে না করাটাই উত্তম।

বাটারফ্লাই ইফেক্ট কী জানেন তো? যদি আপন ভাষায় ব্যাখা করতে যায় তাহলে সেটা হচ্ছে খুব সামান্য একটা ঘটনা থেকে যখন বৃহত্ত কিছু সৃষ্টি হয়ে যায়। বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পাঠ্যবইতে স্কুলে থাকাকালীন সারাংশ পড়েছিলেন যে মনে আছে নিশ্চয়ই? ছোটো ছোটো বালুকণা, বিন্দু বিন্দু জল? সেখানে দুইটি লাইন ছিল—

❝প্রত্যক সামান্য ত্রুটি, ক্ষুদ্র অপরাধ
ক্রমে টানে পাপ পথে, ঘটায় প্রমাদ❞

কিছুটা হলেও অনুধাবন করতে পারছেন? রূপক অর্থে আসলে অনেক কিছু ব্যবহার হয় তার কারণে চাইলেও অনেক কিছুর তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাখা পাওয়া সম্ভব হয় না। সেজন্য পড়তে হয় জানার জন্য, বইটি পড়ার একটি দিক হচ্ছে কিছুটা ভালো সময় কাটানোর জন্য পড়বেন। বইয়ের প্লট বিশেষ কিছু না আবার অনেক কিছু। কারণ অবাস্তবেও যে বাস্তবতা লুকিয়ে থাকে সেটা নিশ্চয়ই অজানা নয়?

➲ আখ্যান—

রাত ৯ টা পাঁচ।
ইকবাল খানের সাথে দেখা করতে এসেছে সাব্বির। অফিসের ঘটে যাওয়া ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়ে আপোষ করতে এসেছে। কিন্তু বসের ফ্ল্যাটে ঢুকেই আবিষ্কার করে ইকবাল খানের মৃত দেহ। ঘটনার তদন্ত শেষে ডিবি অফিসার নিজাম উদ্দিন সাব্বিরের বিরুদ্ধে সকল প্রমাণ পাওয়ায় তাকে গ্রেফতার করে। এর ঠিক তিনমাস পর খুন হলো নাদিয়া। আর এবারে নিজাম সাহেব সব প্রমাণ পেলেন নাদিয়ার স্বামী হিমেলের বিরুদ্ধে!

এদিকে ক্রাইম কনসাল্টটেন্ট অর্ক খুন দুটার মাঝে সিরিয়াল কিলিং এর আভাস পায়। অবশেষে খোঁজ নিতেই বেরিয়ে এলো আরও কিছু খুনের ঘটনা। বেশ লম্বা একটা তালিকা। সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হলো, সবগুলো খুনের খুনিই প্রমাণসহ ধরা পড়েছে।

তদন্তের গভীরতা বাড়ে এবং ঘটনা মোড় নেয় হিমেলের বলা স্কুল জীবনের একটা ঘটনা থেকে। সেই সাথে ঘুরে ফিরে সামনে আসে অর্ক'র অতীত জীবনের গল্পগুলো।
এরপরে...অর্ক নিজেই সাব্যস্ত হয় একটি খুনের আসামী হিসেবে।
কী এমন ঘটেছিলো যে শেষ পর্যন্ত অর্ককে জেলে যেতে হলো?
এখন কী করবে অর্ক? পারবে নিজেকে বাঁচিয়ে খুনিকে ধরতে?

স্বাগতম আমিনুল ইসলামের গডফাদার সিরিজের প্রথম বই বাটারফ্লাই ইফেক্ট-এর জগতে...

➤ পাঠ প্রতিক্রিয়া ও পর্যালোচনা—

যেহেতু বইটি নভেলা তাই উক্ত বই থেকে বেশিকিছু আশা না করা ভালো, বই হাতে নিবেন পড়বেন রেখে দিবেন। কাহিনির বীজ লেখক বুনে দিয়েছেন ঠিকভাবে সেটাকে শুধু উপলব্দি করাটা পাঠকের কাজ। গল্পের শুরুটা হয়েছে ভুল বোঝাবুঝির মধ্যে দিয়ে এরপরে গল্পে প্রবেশ করতে থাকে বিভিন্ন চরিত্র। খুন হতে থাকে প্রিয় মানুষ অন্যদিকে খুনি সাব্যস্ত হয়ে জেলে ঢুকছে নিরপরাধ অন্য একজন! তাহলে আসল খুনি কে? অজানা অনেক প্রশ্ন সেই সাথে সিরিয়াল কিলিং জগতের কিছু দুর্ধর্ষ কিলারদের নামের অনেক তথ্য দিয়ে ভরপুর পুরো প্লট।

লেখকের বর্ণনাভঙ্গি বেশ সোজাসাপ্টা অর্থাৎ আপনি বিস্তারিত বর্ণনা খুব সীমিত আকারে পাবেন। যাদের বিস্তারিত কম পছন্দ তাদের জন্য দারুণ হলেও পারিপার্শ্বিক বিষয়ের আবহ ফুটিয়ে তোলা বা সেগুলোর সাথে মিশে যাওয়া পাঠকের নিকট বইয়ের এই দিকটা কিছুটা কম ভালো লাগবে। লেখনশৈলী কেমন বা কতটা ভালো সেটা জানতে হলে বইটা পড়তে হবে। আগে বলেছি কিছু বই গল্পের সাথে সাথে চরিত্র নির্ভর হয় এখানেও সেটার ব্যতিক্রম হয়নি, কিছু চরিত্র আপনাকে চমকে দেওয়ার চেষ্টা করবে।

গল্পের শেষে এসে আপনি এমন কিছু সত্য জানতে পারবেন যেটা পুরো বইয়ের কাহিনিতে অন্যমাত্রা যোগ করে দিবে একইসাথে অপেক্ষাও দিগুণ মাত্রা ধারণ করতে পারে। এই ছিল বইটি নিয়ে সারসংক্ষেপ আলোচনা।

মাত্রাতিরিক্ত ভালো অথবা খুব বেশি খারাপ কোনোটাই লাগবে না, স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে পড়ে যেতে পারবেন। নতুন লেখকের ভুলত্রুটি থাকলে সেটা সচেতন পাঠকের মতো জানিয়ে দেওয়াটা উত্তম কাজের একটি। প্রশ্ন আসতে পারে এইখানে বাটারফ্লাই ইফেক্ট ঠিক কোথায় ঘটেছে, সেটা টুইস্ট থাকুক। ছোটোখাটো ঘটনা থেকে কীভাবে বিস্তৃতি লাভ করেছে সেটা নাহয় বই পড়েই উপলব্দি করা যাক। যেটা আগেও বলেছি আবারও বলছি!

➢ লেখক, সম্পাদনা, বানান, প্রচ্ছদ, মলাট ও বাঁধাই—

লেখক আমিনুল ইসলাম ভাইকে নিয়ে উপরে কিছু ছোটখাটো কথা লিখেছি তবে উনার নিকট চাওয়া লেখাতে আরেকটু পরিপক্বতার যেন নিয়ে আসে। আমি সোজাসাপ্টা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি তাই যেটা প্রয়োজন মনে হবে বলার চেষ্টা করি। একইসাথে গল্প বলার ভঙ্গিমা এবং শব্দের মাত্রা বাড়াতে হবে। প্লট বিল্ডিং সুন্দর হলেও এই জায়গার কমতি খানিকটা ভোগাবে। তবে গল্প দ্রুতগতিসম্পন্ন হওয়াতে বোরিং বা খারাপ লাগা তেমন কিছুই অনুভব হয়নি। বরঞ্চ পরবর্তী সিকুয়েলের জন্য অপেক্ষা করছি জোরদার ভাবে। লেখকের পরবর্তী হিস্টোরিক্যাল ফ্যান্টাসি উপন্যাস ‘এল ডোরাডো’-এর জন্য ভীষণ আশাবাদী। আশা করছি দারুণ কিছু পাব।

সম্পদনার কাজ আমি করেছি। লেখকের অনুমতিতে কিছু বাক্যগঠনে পরিবর্তন নিয়ে আসতে হয়েছে সৌন্দর্যের জন্য। একই সাথে লেখকের লেখার ধাঁচ ঠিক রেখে সম্পূর্ণ সম্পদনা করতে বেশ শ্রম দিতে হয়েছে। অন্যদিকে বানানও আমার দেখা, যতটুকু সম্ভব নির্ভুল করার চেষ্টা চালিয়েছি তবে বইটি যেহেতু সতীর্থ প্রকাশনার তাই ওনাদের কিছু নিয়ম আমাকে অনুসরণ করতে হয়েছে। তারপরেও সামান্য কিছু টাইপো ভুল চোখে পড়েছে এবং লেখকের লেখন স্টাইলে কিছুটা ধোঁয়াশা দেখা দিলেও ইতোমধ্যে অনেকের নিকট পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। ভুলত্রুটি যাও ছিল সেগুলো মার্কিং করা হয়েছে আশা করছি পরবর্তী মুদ্রণে এইসব ঠিকঠাক করে দেওয়া হবে।

প্রচ্ছদে কাজ করেছেন সময়ের অন্যতম তুখোড় প্রচ্ছদ শিল্পী আদনান আহমেদ রিজন। উক্ত বইয়ের প্রচ্ছদে উনাকে খাটতে হয়েছে অনেক, সেদিক থেকে বলবো উনি সফল হয়েছেন। সামনে আরও ভালো ভালো কাজ এইভাবে উপহার দিয়ে যাবেন আশা রাখছি।

সতীর্থ প্রকাশনার প্রোডাকশন বরাবরের মতো চমৎকার। তবে বইয়ের সাইজ ক্রাউন হওয়াতে একটা কিউট ভাব আছে। হাতে নিয়ে পড়তে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ হয়। কাগজের মান ও বাইন্ডিং দুই চমৎকার।

➠ বই : বাটারফ্লাই ইফেক্ট | আমিনুল ইসলাম
➠ জনরা : ক্রাইম, মিস্ট্রি, থ্রিলার
➠ প্রথম প্রকাশ : ১৪ ডিসেম্বর, ২০২০
➠ প্রচ্ছদ : আদনান আহমেদ রিজন
➠ প্রকাশনী : সতীর্থ প্রকাশনা
➠ মুদ্রিত মূল্য : ২৩০ টাকা মাত্র
Profile Image for Abdus Sattar Sazib.
259 reviews15 followers
January 15, 2021
খুব সুন্দর একটি ক্রাইম থ্রিলার। লেখকের একের পর এক টুইষ্টের কারনে এক বসায় পুরোটা শেষ করার মত তীব্র আগ্রহ ছিল। গল্পের প্লট খুবই সুন্দর। বইটা পড়তে শুরু করে বইয়ের গল্পে একদম ডুবে গিয়েছিলাম। এক বারের জন্যেও মনে হয়নি নতুন কোন লেখকের বই পড়তেছি। গল্পের লেখনি খুবই স্পস্ট ও সাবলিল ছিল। আমি খুবই স্যাটিসফাইড।

বইটা পড়তে পারেন, হতাস হবেন না। পয়সা উশুল হবে বলে দিচ্ছি। টুইস্ট এর কারনে বইয়ের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ ধরে রাখতে বাধ্য করবে।
Profile Image for Jahan Sultana.
Author 1 book21 followers
January 8, 2021
বইটা আমি ট্রেনে এক বসায় শেষ করেছি। থ্রিলার গল্পের আকর্ষণ হলো শুরু করলে শেষ না করে উঠতে পারেন না পাঠক। তারপর কী হলো, তারপর কী হলো... জানার আগ্রহে পাতা উল্টে চলেন। এই বইটা ট্রেনে বসে পড়াটা আমার কাছে বেশ উপভোগ্য ছিল।
গল্পে দু একজায়গায় পাঠক হিসেবে মনে বেশ কিছু প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল যার উত্তর খুঁজে পাইনি। এছাড়া ওভারল আমার কাছে মনে হয়েছে অনেক প্রমিজিং একজন রাইটারের বই পড়ছি, যার আসলেই অনেক দূর যাওয়ার আছে। সিরিজের পরের বইটা সময় নিয়ে লেখার অনুরোধ থাকবে লেখকের প্রতি।
Profile Image for Ajwad Bari.
76 reviews32 followers
Read
January 6, 2021
আমিনুল ইসলামের প্রথম বই ‘বাটারফ্লাই ইফেক্ট’ গত মাসে সতীর্থ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে। প্রথমত, বছরের প্রথম দিনেই বইটি উপহার দেওয়ার জন্য পিয়েল রায় পার্থ দাদাকে অনেক ধন্যবাদ।

বাটারফ্লাই ইফেক্ট একটি সিরিয়াল কিলিং ভিত্তিক থ্রিলার উপন্যাসিকা। থ্রিলার উপন্যাসিকা থেকে খুব জটিল বা গভীর কোন প্লট আশা করলে আসলে হতাশ হতে হয়। ঘন্টাখানেকের বিনোদনের জন্যই মূলত এই বইগুলো পড়া। থ্রিলার উপন্যাসিকা হিসেবে প্লটটা ভালো ছি��।একদম প্রথম থেকেই রহস্য ও খুন খারাবি শুরু হয়ে গেলেও গ্রিপিং হতে একটু সময় লেগেছে।

বইয়ের কিছু জায়গায় লেখকের শব্দচয়ন আমার কাছে ভালো লাগেনি।কয়েকটা বড় বাক্যের গঠনও ভালো লাগেনি। দুই একটা দৃশ্যের নাটকয়ী বর্ণনাও ভালো লাগেনি। কিছু কিছু সংলাপও বেখাপ্পা ছিল, বিশেষ করে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ করার অংশগুলোতে। পুলিশের আর অর্কের তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়েও বেশ কিছু খটকা আছে। তবে ৮০ পৃষ্ঠার পর যখন বইটি অনেক গতিশীল হয়ে যায় তখন এই সমস্যাগুলো কম ছিল।আপনি-তুমির ব্যবহারে অনেক সমস্যা ছিল বইজুড়ে। বিশেষ করে একই প্যারায় একজনকে একবার আপনি আবার তুমি আবার আপনি এভাবে লেখায় যথেষ্ট বিরক্ত হয়েছি। আবার এক জায়গায় পুলিশ আসামিকে আপনি বলে সম্বোধন করছে কিন্তু তার বন্ধুদের জিজ্ঞাসাবাদের সময় তুমি করে বলেছে। দুই এক জায়গায় “সে এখানে এলেন” এরকম বাক্যও ছিল।

কাহিনী অনুযায়ী সব চরিত্রই প্রয়োজনমতোই ফোকাস পেয়েছে। কিন্তু লেখক ক্রাইম কনসালটেন্ট অর্ক আর ডিবির ক্রাইম ইউনিটের নিজাম সাহেবের চরিত্রকে যেভাবে দেখিয়েছিলেন পরবর্তীতে তাদের তদন্ত প্রক্রিয়া ও কিছু সিদ্ধান্তের কারণে মনে হয়েছে সেভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি। আর একটা চরিত্র আছে( গল্পে যার ভালো ইম্প্যাক্ট ছিলো) যাকে একটু বেশি প্রেডিক্টেবল লেগেছে।

বইয়ের সমাপ্তিটা প্রেডিক্টেবল ছিল না ,আগে থেকে প্রেডিক্ট করার সুযোগই ছিল না আসলে। শেষের দিকের দুইটা বড়সড় টুইস্টের প্রথমটা মোটামুটি ভালো লাগলেও শেষেরটা ভালো লাগেনি।শেষের দিকে যেভাবে সিকুয়েলের ইঙ্গিত আসলো তা খুব একটা ভালো লেগেছে বলতে পারছি না। আসলে সিরিজের অন্য বই আসা না পর্যন্ত এ নিয়ে মন্তব্য করা শক্ত। যতদূর জানি , এটা একটি ট্রিলোজি হতে যাচ্ছে। আশা করছি লেখক পরবর্তী বইতে সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠবেন।

নবীন প্রকাশনী সতীর্থের প্রোডাকশন আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। উপন্যাসিকাগুলোকে ক্রাউন সাইজে প্রকাশ করা ভালো আইডিয়া ছিল। বইটার সাইজ অনেক কিউট, ধরে পড়তেও আরাম। ১২৮ পৃষ্ঠার বইয়ে প্রতি পৃষ্ঠায় লেখাও খুব বেশি না। ফন্টটা চোখের জন্য বেশ আরামদায়ক।বাঁধাইও ভালো। আদনান আহমেদ রিজনের করা প্রচ্ছদটা মোটামুটি লেগেছে।

লেখক, আমিনুল ইসলামের ভবিষ্যতের প্রজেক্টগুলোর জন্য শুভ কামনা রইল।

Profile Image for Asif Islam.
12 reviews2 followers
November 14, 2021
#বুক_রিভিউ

বাটারফ্লাই ইফেক্ট খুব ছোট একটা ঘটনা থেকে যখন বড় কোনো ঘটনার সৃষ্টি হয়। এই বইটা গডফাদার ট্রিলজির ছোট একটা অংশ মাত্র। যা আপনাকে ছোট ছোট কিছু ঘটনা বড় কিছুর দিকে ধীরে ধীরে টেনে নিয়ে যাবে।
বইয়ের প্রথম অধ্যায় শেষ করার সাথে সাথেই বই আপনার হাত থেকে রাখতে ইচ্ছে হবে না। কারণ আসল কাহিনী শুরু হয়ে গেছে।
এদিকে দুটো খুন হলো আর ডিবি অফিসার নিজাম খুব সহজেই খুনিদের বিরুদ্ধে সব প্রমাণ পেয়ে যাচ্ছেন আর গ্রেফতার করছেন। খুন হচ্ছে আর খুনিরা ধরা পরছেন তাহলে টুইস্টটা কোথায়? এরপর ক্রাইম কনসাল্টটেন্ট অর্ক খুন দুটোর মাঝে সিরিয়াল কিলিং এর আভাস পান। অবশেষে খোঁজ নিতেই বেরিয়ে পরে আরও কিছু খুনের ঘটনা। আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো সবগুলো খুনের খুনিরাই প্রমাণ সহ ধরা পড়েছে।
লেখক বইয়ে বিস্তারিত বর্ননা খুব কম দিয়েছেন যার ফলে বই পড়তে গিয়ে কোনো রকম বিরক্তি আসেনি। এটা লেখকের প্রথম বই সে হিসেবে লেখকের লেখনশৈলী বেশ ভালোই বলা যায়। ছোট একটা নভেলা তাই লেখক অতিরিক্ত তথ্য দিয়ে বিরক্ত করেননি যা এক পৃষ্ঠার পর অন্য পৃষ্ঠায় যেতে দারুণ ভাবে উৎসাহিত করেছে।

বইটি পড়ে আপনি মোটেও হতাশ হবেন না। বইটা অবশ্যই সুখপাঠ্য হবে। আর এই বইয়ের আসল মজাটা গিয়ে পাবেন সিরিজের দ্বিতীয় বই “গডফাদার” পড়ার পরে।
লেখকের প্রথম বই হিসেবে শব্দচয়ন, গল্প বলার ক্ষমতায় কিছুটা কমতি থাকলেও বইয়ের প্লট সেটা পুষিয়ে দিয়েছে যার জন্য বোর লাগেনি।

এছাড়া বইয়ে দু-একটা বানান ভুল ছাড়া তেমন কোনো কমতি চোখে পড়েনি।
আর সতীর্থের প্রডাকশন তো সব সময়ই অসাধারণ। প্রডাকশন নিয়ে বলার কিছু নেই। আর বইটি ক্রাউন সাইজের হওয়ার দেখতে ও হাতে নিয়ে পড়তে বেশ ভালোই লেগেছে।
বইটি এখনো যারা পড়েননি অবশ্যই পড়ার জন্য সাজেস্ট করবো। বইটি পড়ে পস্তাবেন না। পড়ার পর আরও সিরিজের দ্বিতীয় বই পড়ার জন্য মুখিয়ে থাকবেন। দ্বিতীয় বই “ গডফাদার” সেটাও প্রকাশ হয়ে গেছে তাই অপেক্ষায় থাকতে হবে সাথে সাথেই একই উত্তেজনায় শুরু করে দিতে পারবেন।

বইঃ বাটারফ্লাই ইফেক্ট
লেখকঃ আমিনুল ইসলাম
জনরাঃ মিস্ট্রি, ক্রাইম, থ্রিলার
প্রচ্ছদঃ আদনান আহমেদ রিজন
প্রকাশনীঃ সতীর্থ প্রকাশনা
মুদ্রিত মূল্যঃ ১৪০ টাকা
Profile Image for Najmul H Sajib .
60 reviews
February 20, 2021
#অনুভূতির_প্রকাশক

তরুণ লেখক আমিনুল ইসলাম মেডিকেলে অধ্যয়নরত। "বাটারফ্লাই ইফেক্ট" গডফাদার সিরিজের ১ম বইয়ের মাধ্যমে সাহিত্যে আগমন। শীঘ্রই প্রকাশিত হবে লেখকের আরেক বই " শিশি "।

রাত ৯ টা ৫ ...

অফিস'বসকে হত্যার দায়ে সাব্বির এবং স্ত্রী হত্যার দায়ে ফেঁসে যায় হিমেল।
তিন মাস পরপর খুন হচ্ছে তাও প্লেনিং করে করা হচ্ছে এবং সহজেই পাওয়া যায় খুনীকে। ঘাটাঘাটি করে দেখা গেল ১ বছর যাব এমনই খুন হচ্ছে। কে করছে এমন?
অনুসন্ধানে নামে অর্ক।সত্যের পথে এগুতে থাকে এবং বেরিয়ে আসে অতীতের নানা ঘটনা ।
অর্কও চাচা হত্যার দায়ে ফেঁসে যায় একসময় ।
কীভাবে নিজেকে রক্ষা করবে অর্ক জানতে হলে পড়তে হবে উপন্যাসটি।

পুরো বইটা টুইস্টে ভরপুর। পড়া শুরু করলে কান ধরে শেষ করিয়ে ছাড়বে।বছরের প্রথম থ্রিলার পড়লাম বেশ ভালো লাগলো।

ক্রাইম থ্রিলার হিশেবে বইটা পাঠকরা উপভোগ করবে আশা করি। বইটার সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং লেগেছে ব্যতিক্রমী প্লট। লেখকের লেখার স্টাইলটাও ভালো।তবে কেন যেন মনে হয়েছে লেখক তাড়াহুড়ো করে বইটার ইতি টেনেছেন।

লেখকের নতুন বইগুলো আরো ভালো লাগবে আশা রাখি।

বইয়ের নাম ~ বাটারফ্লাই ইফেক্ট
লেখক ~ Aminul IsLam
প্রকাশনী ~ সতীর্থ
প্রকাশকাল ~ ডিসেম্বর, ২০২০
পৃষ্ঠা সংখ্যা ~ ১২৮
মুদ্রিত মূল্য ~ ২৩০

© না হা স
Profile Image for Harun Ahmed.
1,668 reviews436 followers
February 25, 2021
গল্প যতোটা ভালো, পরিবেশন ততোটা ভালো লাগেনি।প্রথম বই হিসেবে যথেষ্ট আকর্ষনীয়,টুইস্ট ভালো লেগেছে কিন্তু কিছু জায়গায় তাড়াহুড়োর ছাপ স্পষ্ট। আশা করি,বর্ণনাভঙ্গি ভবিষ্যতে অনেক সাবলীল হবে।সিরিজের পরবর্তী বইগুলো নিয়ে খুব আশাবাদী।
Profile Image for Chandreyee Momo.
221 reviews30 followers
September 24, 2022
লেখকের লেখার ধরন বেশ সহজবোধ্য। অর্থাৎ বইটা পড়তে গিয়ে খুব একটা থামতে হয়নি। তবে কয়েকটা বিষয়ে সমস্যা রয়েছে। খুব তাড়াহুড়ো করে শেষ করা কাহিনী টা। আরেকটু বিষদভাবে লিখলে আমার মনে হয় প্রতিজন পাঠকের ভাল লাগতো। আরেকটা বিষয় হলো একটা থ্রিলার হিসেবে অনেক পয়েন্ট আছে যেগুলো আরো বিস্তারিত সমাধান প্রয়োজন ছিল।
প্লটটা সুন্দর। এই ব্যাপারগুলো লেখক মাথায় রাখলে ব্যাপারটা খুব ভাল ��তো। শুভকামনা।
Profile Image for Shariful Sadaf.
212 reviews107 followers
December 30, 2023
গল্পটা সুন্দর কিন্তু পরিবেশনা দূর্বল!
Profile Image for Khadijatul Kobra Alvi.
46 reviews
June 1, 2022
প্রথমদিকটায় পড়ে একদমই মনে হয়নি শেষটাতে এরকম একটা টুইস্ট থাকতে পারে! টুইস্টটা অসম্ভব ভালো লেগেছে! ওভারল ভালো ছিলো বইটা!
Profile Image for Mitul Rahman Ontor.
161 reviews58 followers
July 25, 2024
দুর্দান্ত গতি, দারুণ প্লট এবং চমৎকার স্টোরিলাইন! বইটি পড়ে স্যাটিসফাইড। তবে...

ছো��্ট বই। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কখনোই ঝুলে যায় নি। সেই সুযোগটাও কম ছিল। এক বসায় শেষ করে ফেলার মত। গল্পের প্লট চমৎকার। কিন্তু জাল গুটিয়ে ফেলার কাজটা করতে গিয়ে লেখক বোধহয় একটু তাড়াহুড়ো করে ফেলেছেন। এন্ডিং আরো ভালো হতে পারতো৷

গডফাদার বইয়ের প্রিকুয়েল এই বইটি। সে হিসেবে শেষের দিকে ভালো কানেক্ট করেছে।

বইটির দ্বিতীয় সংস্করণেও অনেক অনেক বেশি টাইপিং মিস্টেক। বেশ দৃস্টিকটু এই ব্যাপারটা!

Pro Tip: বইটি পড়ার আগে ব্যাককাভার এর অংশ না পড়াই ভালো। লেখক ব্যাককাভারে বইয়ের ৬০% কাহিনি বলে দিয়েছেন৷ এইটাও একটু হতাশাজনক!
Profile Image for Khandaker Sanidulla Sanid.
47 reviews22 followers
July 29, 2022
“I was born with the devil in me. I could not help the fact that I was a murderer, no more than the poet can help the inspiration to sing…I was born with the evil one standing as my sponsor beside the bed where I was ushered into the world, and he has been with me since.”
......H.H Holmes.

▪ কাহিনী সংক্ষেপ : অফিসের একটা দূর্ঘটনার জন্য ইকবাল খানের সাথে সমঝোতা করার জন্য তার বাসায় গিয়েছে সাব্বির কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখলো যে ইকবাল খানের নিথর দেহ সেখানে পড়ে রয়েছে। কেউ খুব বিভৎস ভাবে মাথায় আঘাত করে হত্যা করেছে তাকে। আচমকা এমন দৃশ্যে সাব্বির হতভম্ব হয়ে বেরিয়ে গেলো। খুন না করলেও ক্রাইম সিনে যেসব এভিডেন্স পাওয়া গিয়েছে সবগুলো প্রমাণ করে যে সাব্বির ই খুনি। ঠিক এই ঘটনার তিন মাস পর আবার নাদিয়া খুন হলো। স্বামী হিমেল বাসায় এসে মৃত অবস্থায় নিজের স্ত্রীকে দেখে থানায় ফোন করে জানালো কিন্তু ডিবি অফিসার নিজাম উদ্দিন তদন্তে ক্রাইম সিনে এমন কিছু এভিডেন্স পেলেন যা স্পষ্টভাবেই প্রমাণ করে খুন টা হিমেল ই করেছে।

এভাবেই চলছিলো কিন্তু ক্রাইম কনসালটেন্ট হিসেবে নিজাম সাহেব অর্ক কে একটু কেস এ সাহায্য করতে বললেন। কেসের ফাইল দেখে অর্ক এর একটু সন্দেহ হলো সেটার সাথে সিরিয়াল কিলিং এর কোনো সম্পর্ক আছে কিনা। একটু খোজাখুজির পর দেখলো এমন আরো ছয়টা কেস রয়েছে যার সবগুলোই তিন মাস পর পর করা হয়েছে আর সবগুলোই করা হয়েছে রাত নয়টার একটু পর।
সিরিয়াল কিলিং এর আভাস পেয়ে মাঠে নেমে পড়লো সে এবং বুঝলো এই সিরিয়াল কিলিং এর পেছনে আছে একটা অতীত যেটার জের ধরেই খুনি খুন করে চলেছে একের পর এক।

ওদিকে আবার চলছে এক গোপন মিশন যার জন্য আন্ডারকভার হতে হচ্ছে সিক্রেট সার্ভিস এর লোকদের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অর্ক নিজেও জড়িয়ে যায় সিরিয়াল কিলারের সাথে আর তাকেও যেতে হয় জেলে।

তাহলে এত বড় একটা মাস্টারপ্ল্যান এর পেছনে কে রয়েছে?
কে পুলিশের কানের কাছ দিয়ে এসে একের পর এক খুন করে প্রমাণ সাজিয়ে যাচ্ছে?

এসব নিয়েই লেখা আমিনুল ইসলামের গডফাদার সিরিজের প্রথম বই 'বাটারফ্লাই ইফেক্ট'।


▪ পাঠ প্রতিক্রিয়া ও পর্যালোচনা:
সিরিয়াল কিলিং নিয়ে বইগুলো আমাকে একটু বেশি টানে। তাই এবছর প্রকাশিত বেশ কিছু এই ধরনের বই পর পর পড়েছি। তবে উপন্যাসিকা হিসেবে বইটা যথেষ্ট ভালো বিশেষ করে একেবারে মেদহীন লেখা তার উপরে লেখক একদম শেষ পর্যন্ত গল্পের বাঁকে পাঠককে ধরে রাখতে পেরেছেন। শেষ দিকে খুব অল্প পরিসরে পৃথিবীর কুখ্যাত কয়েকজন সিরিয়াল কিলার সম্পর্কেও তথ্য দিয়েছেন যা পড়ে অনেকটা অবাক হয়েছি। আসলে সিরিয়াল কিলার রা কেমন মানষিকতার মধ্যে থাকে এটা বোঝা আসলে কঠিন। সাধারণত সিরিয়াল কিলার কে ধরা হয় তার নিজের করা কোনো ভুলের জন্য। একই প্যাটার্ন এ খুন করতে করতে একসময় সে ভুল করে বসে যার জন্য
শেষ পর্যন্ত ধরা পড়তে হয় যেটা মোটামুটি সব সিরিয়াল কিলারদের ক্ষেত্রেই ঘটে কিন্তু লেখক বইতে সিরিয়াল কিলার কে একটু অন্যভাবে প্রেজেন্ট করেছেন সেটা বেশ ভালো লেগেছে আমার কাছে।

বইটার মূল রহস্য ছিল সবার অতীত ঘটনা একজনের সাথে আরেকজনেরটা সম্পর্কিত আর সাধারণত এসব বই পড়তে আমার কাছে বেশি ভালো লাগে। আর বইটা ছোট হওয়ায় বেশি সুবিধা হয়েছে। এক বসায় ই পড়ে ফেলা যায় এসব তাই পাঠকদের আশা করি খুব একটা সমস্যা হবেনা।

বইটা যেহেতু সিরিজ সে হিসেবে সিরিজের প্রথম বই হিসেবে লেখক দারুন কাজ দেখিয়েছেন। আশা রাখি পরবর্তী বইগুলোও বেশ তৃপ্তিদায়ক হবে।


▪ বইয়ের সমাপ্তি:
বইটা শুরু থেকেই পাঠক কে ধরে রাখবে সন্দেহ নেই। শেষ দিকে এসে টুইস্ট ও ছিল ভালো যদিও আগে থেকেই একটু আন্দাজ করেছিলাম তবুও মনে হয়েছে শেষ দিকে এসে কেমন যেন তাড়াতাড়িই সবকিছু ঘটে গেলো। যেন সবকিছু খাপে খাপে মেলাতে লেখক একটু তাড়াহুড়ো করে ফেলেছেন। তবে তা হলেও মোটের উপর বইটা বেশ ভালো লেগেছে আমার।


▪ প্রচ্ছদ, বাঁধাই ও অন্যান্য:
প্রচ্ছদ করেছেন আদনান আহমেদ রিজন ভাই যেটা বইয়ের কাহিনীর সাথে একদম সুন্দরভাবে মিলে গিয়েছে।
আর সতীর্থ প্রকাশনার বাধাই ভালোই দেখে এসেছি। ছোট সাইজের হওয়ায় সে অনুযায়ী সুন্দর বাঁধাই আর বানান ভুল নেই দু এক জায়গায় কিছু টাইপো ছিল যা পড়ায় তেমন অসুবিধা করেনি।


▪ বই: বাটারফ্লাই ইফেক্ট
▪ লেখক: আমিনুল ইসলাম
▪ মুদ্রিত মূল্য: ২৩০ টাকা
▪ প্রকাশনী: সতীর্থ প্রকাশনা
Profile Image for Ashfia Sharif.
74 reviews3 followers
February 2, 2023
ছোট কলেবরে ভালো একটা সিরিয়াল কিলিং থ্রিলার পড়লাম। শেষের দিকের টুইস্টটা unexpected ছিল। বইটা এমন ভাবে শেষ করা যেন সিরিজের পরের বই পড়ার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হবেই। বই ক্রাউন সাইজের হওয়ায় পড়তে অনেক আরাম লেগেছে। এক বসায় শেষ করার মত ছোট,সুন্দর একটা থ্রিলার। এখন সিরিজের পরের বই পড়ার পালা❤️
লেখকের লেখনী বেশ ভালো। তবে কিছু জায়গায় কাহিনি তাড়াহুড়ো করে শেষ হয়ে গেছে মনে হয়েছে। আশা করি পরের বইগুলোতে আরও একটু বিস্তারিত কাহিনি জানতে পারব।
Profile Image for Ahana's  Reading  Stories .
55 reviews22 followers
January 29, 2021
বইয়ের নামঃ বাটারফ্লাই ইফেক্ট
লেখকঃ আমিনুল ইসলাম
প্রকাশনীঃ সতীর্থ প্রকাশনা
ধরনঃ ক্রাইম থ্রিলার
মুদ্রিত মূল্যঃ ২৩০ টাকা
রেটিংঃ ৪.৭/৫

" দুইদিন পর,
নিজাম সাহেব বসে আছেন। সে কেসটা নিয়ে ভাবছেন। তার অন্তর্দষ্টি বলছে সাব্বির নামের ছেলেটা যা বলেছে সত্যই বলেছে। খুনটা তাহলে কে করেছে? বাহিরের অন্য কেউ কি হতে পারে? হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এসে মিতু তার রুমে ঢুকাতে ভাবনার মাঝে ব্যাঘাত ঘটলো। তার চোখে মুখে উত্তেজনার ছাপ,স্যারের রুমে যে অনুমতি নিয়ে ঢুকতে হয় সেটা পর্যন্ত ভুলে গেছে।
'স্যার ফরেন্সিকের রিপোর্ট এসে গেছে।' " — বাটারফ্লাই ইফেক্ট, আমিনুল ইসলাম

সারসংক্ষেপঃ
————————
মানুষজাতির মধ্যে একটা জিনিস অনেক বেশি লক্ষ্যনীয়,তা হলো নিজের যেটা করতে তৃপ্তি বোধ মনে হয় তা বারবার করতে চায়। সেটা যা ই হোক না কেন। একবার অভ্যাসে তা পরিণত হলে, তা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া দুষ্কর। এই অভ্যাস, ইচ্ছা ব্যক্তি ভেদে বিপরীত হয়ে থাকে। কারো কারো আবার মানুষ মারার মতো ভয়ংকর জিনিস অভ্যাস এ পরিণত হয়। তা করার পিছে কারণ যাই হোক, সে মানুষের মৃত্যুপুরী দেখতে মনের তৃপ্তি অনুভব করে। কেমন হয় যদি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে পাশাপাশি হাঁটা শান্ত স্বভাবের কারো মনে তৃপ্তি যদি এই ভয়ংকর কিছু হয়?

উপন্যাস টি তে রয়েছে নিজাম সাহেব। ডিবি পুলিশের উর্ধতন পদে কর্মরত। কাজের প্রতি নিষ্ঠাবান, রাগী স্বভাবের নিজাম সাহেব। রয়েছে অর্ক। নৌবাহিনীর তে কাজ ছেড়ে। যুক্ত হয়েছে ক্রাইম ব্রাঞ্চের এ�� ইউনিটে। তার কাজ হলো খুনের তদন্তে সাহায্য করে কখনো সাইকো / সিরিয়াল কিলার ধরতে সাহায্য করা। এছাড়া রয়েছে মিতু,শাহেদ,সাইসা।

উপন্যাস টি শুরু ২০০৭ সালের ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার বলার মাধ্যমে। যে ঘটনাতে রাগী নিজাম সাহেব, তার পরিবার রয়েছে । তার মানিব্যাগ চুরির ঘটনা নিয়ে উপন্যাসটি শুরু হয়। তারপর আবার ২০১৯ সালের আগস্ট মাসের তিন তারিখের ঘটনা। নামকরা কম্পানিতে কর্মরত সাব্বির ও তার বস ইকবাল খানের কম্পানির প্রজেক্ট চুরি নিয়ে প্রায় মারামারি পর্যায়ে চলে যায় সাব্বির। কিন্তু ঘরে ফিরে নিজের ওভাররিয়েক্ট বিষয়টি বুঝে এবং নিজের সুবিধার কথা ভেবে রওনা হয় ইকবাল সাহেবের বাসার উদ্দেশ্যে।
ঠিক ৯ বেজে কিছু মিনিট পর হঠাৎ করে সাব্বির কে দেখা ঘাবড়ানো অবস্থায় ইকবাল খানের বিল্ডিং থেকে বের হতে। তার কিছু সময় পর ইকবাল সাহেবের লাশ পাওয়া যায় তারই ঘরে মাথা চূর্ণ বিচূর্ণ অবস্থায়। আচ্ছা, সামান্য একটা প্রজেক্ট এর জন্য কেউ কাউকে খুন করে ফেলতে পারে? আর সে খুনটা কি আদৌ এতো ঠান্ডা মাথায় করা সম্ভব? ইকবাল সাহেবের খুনী কে যত সহজে বোঝা যাচ্ছে আসলেই কি তা এতো তা এতো সহজে খোঁজা হয়ে গেছে? ইকবাল সাহেবের খুন টা ই প্রথম নাকি এর আশেপাশে আরো কিছু আছে? এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে অবশ্যই বইটি পড়তে হবে।

পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ
—————————
আমি সচরাচর থ্রিলার, ক্রাইম থ্রিলার এসব বই পড়ি না। এগুলো দেখে বেশি ভালো লাগে। তবু এক দুইবার পড়ে দেখতে দোষ নেই। তাই বইটি কেনা। বইনির নাম দেখে আমি প্রথমে ভেবেছিলাম এটা হয়তো অনুবাদ। সাথে গুগল সার্চ করে এরকম সিরিজ পাই নি। তারপর যখন ভালো ভাবে বইটি দেখি তখন চোখে পড়ে এটা আমার দেশের কোনো রাইটার এর মৌলিক উপন্যাস । একটু আগ্রহ নিয়ে পড়া শুরু করি।

বইটি পড়ার সময় আমি প্রথম টুকু পড়ে ভাবছিলাম এই এক টুকরো কাহিনীর সাথেই পুরো গল্প কানেক্টেড। কিভাবে কানেক্টে করবে লেখক তা দেখার জন্য পুরো বই ধরি। কিন্তু তারপরের দিকে পড়ে আমি কয়েক পেজ পড়ে আমি হতাশ হয়েছি এই ভেবে যে আমার অনুমান মিথ্যা । কিন্তু না একটু হলে ও আমার অনুমান সঠিক জায়গায় লেগেছিল। খুনি নিয়ে আমি অনেক কনফিউশান এ ছিলাম। মাঝখানে আমার মনে হয়েছিল খুনি মনে হয় সাইকো যে খুন করে ভুলে যায়। কি তা ও ভুল। লেখক অনেক বেশি ডিপভাবে বই টা লিখেছে যাতে করে পরবর্তী সিন গুলো বুঝতে অসুবিধা হয় নি। সব গুলো ক্যারেক্টার এর বর্ণনা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছেন। কিন্তু বর্ণনা গুলো ও ঝাপসা স্পষ্ট যা পরবর্তী তে পুরো বই পড়লে পাঠকরা বুঝতে পারবে। বইটা বিভিন্ন সময় পড়ার সময় আমি মনে হয় কয়েকবার আশে পাশে নজর বুলিয়েছি কেউ আমাকে ফলো করে নাকি। 🌚 নিজে ক্রাইম থ্রিলার টাইপ উপন্যাসে নিজেকে কল্পনা করার চেষ্টা চালাই না। এইবার একটু সেই চেষ্টা চালিয়ে ২ মিনিট পর আমি বাস্তবে এসে ঘুমিয়ে গেসি। কল্পনা তে ও ভয় লাগে।

��াই হোক, বইটা পাঠক অবশ্যই অনেক উপভোগ করে পড়তে পারবে এক বসায়। কারণে পরের কাহিমী না জানলে ঘুম হবে না। তবে আমি প্রথম অধ্যায় পড়ার সময় ভেবেছিলাম এই উপন্যাসে সাজিদ এর ভূমিকা থাকবে। কিন্তু আমি সাজিদ কে খুঁজে পাই নি আর। ☹️ আর মিতু শাহিদ এর বর্ণনা লেখক খুব বেশি দেন নি। এই সিরিজ এর পরবর্তী বই এর অপেক্ষায় আছি শুভ কামনা।

লাইনঃ
————
★গুরুত্বপূর্ণ কোন বিষয় নিয়ে মনের মধ্যে যখন তীব্র অহংকার জন্মায় তখন সৃষ্টিকর্তা এমন কিছু ঘটনা ঘটিয়ে দেন,যার ফলে ঐ মানুষটার অহংকার কাচের গ্লাসের মতো ভেঙে চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে যায়।

happy reading. ❤️
Profile Image for Zahidul.
450 reviews95 followers
August 22, 2022
“For want of a nail the shoe was lost,
for want of a shoe the horse was lost,
for want of a horse the knight was lost,
for want of a knight the battle was lost,
for want of a battle the kingdom was lost.
And all for the want of a horseshoe nail.”— Benjamin Franklin
-
❛বাটারফ্লাই ইফেক্ট❜
-
অর্ক, তার চাচা নিজাম উদ্দিনের সুপারিশে পুলিশের এক বিশেষ বাহিনিতে রয়েছে। তার চাচার আন্ডারে থাকা একটি কেসের ব্যপারে জানতে গিয়ে সে ধরতে পারে যে দেশে এক ভয়াবহ সিরিয়াল কিলিংয়ের কাজ চলছে। তাই তার চাচার টিমের সাথে সে নিজেকেও জড়িয়ে ফেলে সেই কেসের সাথে।
-
কিন্তু এই কেসে যতই তারা আগাতে থাকে পরিস্থিতি ততই ঘোলাটে হতে থাকে। এক সময় কেসে অর্ক নিজেও ফেঁসে যায়। এখন ভয়াবহ এই সিরিয়াল কিলিং আসলে কে বা কারা করছে আর অর্করা সিরিয়াল কিলিং এ জড়িত থাকা ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গদের শেষ পর্যন্ত ধরতে পারবে নাকী তা জানার জন্য পড়তে হবে লেখক আমিনুল ইসলামের সিরিয়াল কিলিং ভিত্তিক গল্প ❛বাটারফ্লাই ইফেক্ট❜।
-
❛বাটারফ্লাই ইফেক্ট❜ গল্পটি সিরিয়াল কিলিং আর পুলিশ প্রসিডিওরাল ভিত্তিক একটি গল্প, যা কিনা লেখকের 'গডফাদার' সিরিজের প্রথম কিস্তি। সিরিয়াল কিলিং ভিত্তিক গল্প বলে একবার এই টপিক গল্পে আসার পরে গল্পের প্লটটি কোনদিকে যাবে তা মোটামুটি গেস করা যায়। এ ধরনের গল্প হিসেবে কাহিনিবিন্যাস মোটামুটি ভালোভাবেই সাজানো হয়েছে। তবে লেখকের প্রথমদিকের লেখা হিসেবে লেখনশৈলী অনেক জায়গায় কাঁচা হাতে লেখা বলে মনে হয়েছে, বর্ণনাভঙ্গীর আড়ষ্টতা সে সব জায়গায় স্পস্ট ছিলো। তাই এই জায়গাগুলোতে আমার মনে হয় লেখকের উন্নতির বেশ সুযোগ রয়েছে।
-
❛বাটারফ্লাই ইফেক্ট❜ বইটি বেশ ছোট পরিসরে লেখা হলেও কাহিনির তুলনায় চরিত্র এসেছে প্রচুর। গল্প প্রথম থেকেই বেশ গতিশীল ভাবে লেখা হয়েছে, কোন কোন জায়গায় একটু বেশিই। তাই অনেক জায়গাতেই মনে হয়েছে খুবই তাড়াহুড়ো করা হয়ে বলা হয়েছে গল্প, সে জায়গাগুলোতে আরো ধীর স্থিরভাবে কাহিনি আগালে হয়তো আরো শক্তপোক্ত হতো কাহিনিটা। এছাড়াও মাঝে সিরিয়াল কিলার সম্পর্কিত একটি অধ্যায় এবং কাহিনির শুরুর দিকের কয়েকটি সাবপ্লট অপ্রয়োজনীয় লাগলো আমার কাছে।
-
❛বাটারফ্লাই ইফেক্ট❜ বইটি ১২৮ পেইজের ছোট একটি নভেলা, যা এক বসাতেই শেষ করার মতো। বইয়ের প্রচ্ছদ আর নামলিপি জেনেরিক লেগেছে আমার কাছে। বইটি আলাদাভাবে সম্পাদনা করার পরেও কিছু বানান বিভ্রাট, চরিত্রের নাম অদল-বদল, বিরামচিহ্ন, স্পেসিং এবং প্যারাগ্রাফ প্রবলেম ইত্যাদি চোখে পড়েছে। আশা করছি সামনের সংস্করণে সেগুলো ঠিক করে ফেলা হবে।
-
এক কথায় সিরিয়াল কিলিং ভিত্তিক গল্প হলেও কিছু ক্ষেত্রে বর্ণনাভঙ্গীর আড়ষ্টভাব রয়ে যাওয়ায় ❛বাটারফ্লাই ইফেক্ট❜ বইটির কাহিনি তার ফুল পটেনশিয়ালে যেতে পারেনি আমার মতে। লেখকের পরবর্তী বইগুলো আরো ভালো হবে, এই আশা করছি।
Profile Image for Harun Ahmed .
36 reviews1 follower
June 10, 2025
বই : বাটারফ্লাই ইফেক্ট
লেখক: আমিনুল ইসলাম
➠ জনরা : ক্রাইম, মিস্ট্রি, থ্রিলার
➠ প্রথম প্রকাশ : ১৪ ডিসেম্বর, ২০২০
➠ প্রচ্ছদ : আদনান আহমেদ রিজন
➠ প্রকাশনী : সতীর্থ প্রকাশনা
➠ মুদ্রিত মূল্য : ২৩০ টাকা মাত্র

গল্পটা শুরু হয় ২০০৭ সালে ডিবি পুলিশের উর্ধধতনপদে কর্মরত নিজাম সাহবের মানিব্যাগ চুরির ঘটনা দিয়ে। তার ছেলে সাবিত মানিব্যাগটি চুরি করলেও বিনা দোষে জেলে যেতে হয় তাদের বাড়ির কাজের বুয়াকে।

সময়টা ২০১৯
অফিসের একটা প্রজেক্ট নিয়ে সাব্বিরের সাথে ঝগড়া হয় অফিসের বস ইকবাল খানের সাথে। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ইকবাল খানের সাথে সমঝোতা করার জন্য তার বাসায় গেলে সেখানে দেখতে পায় বিভৎসভাবে খু'ন করা হয় ইকবাল খানকে।
খু'ন না করলেও ক্রাইম সিনে পাওয়া এভিডেন্সের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা ��য় সাব্বিরকে।
এই ঘটনার ঠিক তিনমাস পর নিজ বাড়িতে খু'ন হয় নাদিয়া। নাদিয়ার স্বামী হিমেল বাসায় মৃত অবস্থায় নিজের স্ত্রীকে দেখে থানায় ফোন করে জানালে ডিবি অফিসার নিজাম উদ্দীন তদন্ত করলে ক্রাইম সিনে এমন কিছু এভিডেন্স পান যার ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয় হিমেলকে।

এভাবেই চলছিলো কিন্তু ক্রাইম কনসালটেন্ট হিসেবে নিজাম সাহেব অর্ক কে একটু কেস এ সাহায্য করতে বললেন। কেসের ফাইল দেখে অর্ক এর একটু সন্দেহ হলো সেটার সাথে সিরিয়াল কিলিং এর কোনো সম্পর্ক আছে কিনা। একটু খোজাখুজির পর দেখলো এমন আরো ছয়টা কেস রয়েছে যার সবগুলোই তিন মাস পর পর করা হয়েছে আর সবগুলোই করা হয়েছে রাত নয়টার একটু পর।
সিরিয়াল কিলিং এর আভাস পেয়ে মাঠে নেমে পড়লো সে এবং বুঝলো এই সিরিয়াল কিলিং এর পেছনে আছে একটা অতীত যেটার জের ধরেই খুনি খুন করে চলেছে একের পর এক।

ওদিকে আবার চলছে এক গোপন মিশন যার জন্য আন্ডারকভার হতে হচ্ছে সিক্রেট সার্ভিস এর লোকদের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অর্ক নিজেও জড়িয়ে যায় সিরিয়াল কিলারের সাথে আর তাকেও যেতে হয় জেলে।

তাহলে এত বড় একটা মাস্টারপ্ল্যান এর পেছনে কে রয়েছে?
কে পুলিশের কানের কাছ দিয়ে এসে একের পর এক খুন করে প্রমাণ সাজিয়ে যাচ্ছে?
এসব নিয়েই লেখা আমিনুল ইসলামের গডফাদার সিরিজের প্রথম বই 'বাটারফ্লাই ইফেক্ট'

📌 পাঠ প্রতিক্রিয়া :
আমিনুল ইসলামের গডফাদার সিরিজের প্রথম বই " বাটারফ্লাই ইফেক্ট"। খুব সুন্দর একটি ক্রাইম থ্রিলার। লেখকের একের পর এক টুইষ্টের কারনে এক বসায় পুরোটা শেষ করার মত তীব্র আগ্রহ ছিল। গল্পের প্লট খুবই সুন্দর। লেখকের প্রথম বই হিসেবে লেখনীও ভালো ছিল৷ যদিও লেখকের তাড়াহুড়া লক্ষ্য করা যায়। গল্পের লেখনি খুবই স্পস্ট ও সাবলিল ছিল। টুইস্ট এর কারনে বইয়ের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ ধরে রাখতে বাধ্য করবে।
Profile Image for Sakib A. Jami.
337 reviews40 followers
February 13, 2023
বাটারফ্লাই ইফেক্ট!

ক্ষুদ্র থেকেই বৃহৎ কিছুর সৃষ্টি - বাটারফ্লাই ইফেক্ট বলতে এমন কিছুই ইঙ্গিত করে। ক্ষুদ্র কোনো ঘটনা, আদতে যায় কোনো মূল্য নেই। এমন সামান্য ঘটনার কারণে বড়ো ধরনের কিছু ঘটে যাওয়া-ই হচ্ছে বাটারফ্লাই ইফেক্ট। যা হয়তো বদলে দিতে পারে অনেক কিছু।

▪️দেশ জুড়ে একের পর এক খু ন হচ্ছে। মজার ব্যাপার প্রত্যেকটি খু নি ই ধরা পড়ছে শক্ত প্রমাণের উপর ভিত্তি করে। খু নিদের পরিচয় তারা মৃ তদের পূর্ব পরিচিত। কোনো না কোনো ঝামেলায় এক সময় তাদের মধ্যে মনোমালিন্য, বাকবিতণ্ডা হয়েছে। তার জের ধরেই বোধহয় খু নের সূত্রপাত। কিন্তু আসলেই কি তারা খু নি?

অর্কের মত ভিন্ন। তার ধারণা খু নগুলো আর দশটা সাধারণ খু নের মতো নয়। এর পেছনে রহস্য আছে। তার আগে জানা প্রয়োজন অর্ক আসলে কে? সেই প্রশ্নের উত্তর আছে অনেক গভীরে। ডিবি অফিসার নিজাম উদ্দিনের ভাতিজা। চাচার সাথে সেও তদন্ত শুরু করে এ রহস্যের। অর্কের বিশ্বাস, এমন কোনো খু নির জন্ম হয়নি, যে তাকে ফাঁকি দিতে পারে।

অর্ক মনে করে, যারা দোষী সাব্যস্ত হয়েছে তারা নির্দোষ। কোনো এক সাইকোপ্যাথ সিরিয়াল কিলারের কাজ এটা। তদন্তকালে অর্ক জানতে পারে অনেক অনেক আগের এক ঘটনায় এর বীজ লুকিয়ে আছে। যার শিকড় জড়িয়ে ফেলেছে অর্ককেও। খু নের দায়ে গ্রেফতার হওয়া অর্ক কি পারবে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে? এসব কলকাঠি নাড়ছে কে? নিশ্চয় বড়ো কোনো শক্তি আছে এর পেছনে।

▪️লেখক আমিনুল ইসলামের লেখার সাথে আমার পরিচয় ঘটেছে সম্প্রতি। ওনার "এল ডোরাডো" ট্রিলজি পড়েছিলাম। তাই লেখকের লেখনী সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা আছে। কিন্তু "বাটারফ্লাই ইফেক্ট" পড়তে গিয়ে বেশ হতাশ হয়েছে। অনেক আগে প্রকাশিত বলেই কি না লেখনীর মধ্যে অপরিপক্কতার ছাপ স্পষ্ট। এছাড়াও খুব তাড়াহুড়ো করে লেখা হয়েছে বলে মনে হলো।

দুর্দান্ত এক প্লট পূর্ণতা পায়নি লেখনশৈলী, ভাষাশৈলী আর শব্দচয়নের দুর্বলতার কারণে। "বাটারফ্লাই ইফেক্ট" মূলত "গডফাদার" বইটির প্রিকুয়্যাল। "গডফাদার" বইটির সূচনা পর্ব হিসেবে বইটি চলনসই হলেও আরও একটু গভীরে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল। লেখক এক দৃশ্য থেকে আরেক দৃশ্যে খুব দ্রুততার সাথে ছুটে চলেছেন। ফলে কাহিনির যে গভীরতা, তা ধরতে বেগ পেতে হয়েছে। অবশ্য লেখক গল্পের গভীরে যাওয়ার চেষ্টাও করেননি। কিছু ক্ষেত্রে বর্ণনা, প্লটের বিস্তৃতি একটু বাড়তি হলে দোষের কিছু হয় না।

▪️একইভাবে চরিত্রগুলো নিয়েও লেখক কাজ করেননি ঠিকভাবে। ১১৬ পৃষ্ঠার ক্রাউন সাইজের বইয়ে তার অবশ্য প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু খল চরিত্রগুলো নিয়ে চাইলেই লেখক গল্পের আরও বিস্তৃতি ঘটাতে পারতেন। তাছাড়া সিরিয়াল কিলার নিয়ে লেখক কিছু তথ্য দিয়েছেন, তার কোনো প্রয়োজন ছিল না।

▪️বেশ কিছু খটকা থেকেই যায়। যেমন, অর্ক ফাইল পড়েই কীভাবে বুঝতে পারল যে সিরিয়াল কিলিং রহস্য? বিষয়টা খোলাসা করা উচিত ছিল। এছাড়া তদন্ত করতে গিয়ে শাহেদ নামের অফিসারকে একটি গাড়ি দিয়ে দুর্ঘটনা ঘটানোর পরও কেন হাসপাতালে তার ঘরের সামনে পাহারা ছিল না, সেটা মাথায় ঢুকেনি। ব্যাপারটা নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই গেল।

▪️আমি যে বইটি পড়েছি, ভূমিকা থেকে জানতে পারি তা দ্বিতীয় সংস্করণ। একটি নামের অদলবদলের কারণে নতুন করে সংস্করণ করা হয়। সেই নামের ভুল তারপরও চোখে পড়েছে। নতুন সংস্করণ আসার পরও কিছু জায়গায় ছাপার ভুল ছিল। যা দায়িত্বপ্রাপ্তদের অবহেলাকেই দেখিয়ে দেয়। যেমন লক্ষ্য হয়ে গিয়েছিল লক্ষ, যায় হয়ে গিয়েছিল যাত। এমন ছোটোখাটো অনেক ভুলই ছিল। প্রথম সংস্করণ হলে বলতাম না, দ্বিতীয় সংস্করণেও এমন ভুল থাকা! তাও ছোটো একটা বইয়ে, ব্যাপারটা ভালো দেখায় না।

▪️"গডফাদার" পড়ব কিছুদিন পর। আশা করব লেখকের লেখনশৈলী হয়তো সেখানে হতাশ করবে না।

বই : বাটারফ্লাই ইফেক্ট
লেখক : আমিনুল ইসলাম
ব্যক্তিগত রেটিং : ৩.২/৫
Profile Image for Minhaz Efat.
23 reviews1 follower
January 29, 2021
পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ
নভেলাটি একটি ক্রাইম থ্রিলার, এক বসায় অনায়াসে বিরক্তিহীন ভাবে গল্পে ডুবিয়ে রাখার মত , টুইস্টে ভরপুর এবং সবগুলো টুইস্ট ই অনেক উপভোগ্য, সিরিয়াল কিলারের ভিক্টিম নির্বাচনের প্যাটার্ন টা বেশ ইউনিক মনে হয়েছে৷ তবে সাইশা চরিত্রটি একটু খাপছাড়া লেগেছে, আরো স্ট্রং একটা চরিত্র হতে পারত, মিতু চরিত্র টা ইন্টারেস্টিং বাট কিছুটা প্রেডিক্টেবল। তবে ক্যারেক্টার গুলো এমন ভাবে বিল্ড করেছে, আঁচ করা কিছুটা কষ্টসাধ্য যে কখন কোনদিক দিয়ে কে বা কারা ঘটনা গুলো ঘটাচ্ছে। গল্পের পুরো সময়টা ভালোই থ্রিলিং ছিল, বইটির নামকরণ এর স্বার্থকতা ও লেখক বেশ ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন গল্পে। নতুন কোনো লেখকের লেখা পড়ছি বলে মনে হয়নি। যেহেতু নভেলা, গল্পের মধ্যে তাড়াহুড়া টা স্বাভাবিক মনে হয়েছে,আরেকটু কম তাড়াহুড়ো করলেও পারতেন হয়ত। এটা একটা সিরিজ যাকে লেখক "গডফাদার সিরিজ" বলছেন, সেহেতু পরবর্তীতে লেখক থেকে আরো একটি ভালো বই পাওয়ার এক্সপেকটেশন রাখাই যায়। বাটারফ্লাই ইফেক্ট কাউকে রেকমেন্ড করার মতই একটি নভেলা।
Profile Image for Shamim Ehsan.
78 reviews3 followers
May 19, 2021
বইয়ের প্রমোশনে বলা ছিল - "এয়ারপোর্ট নভেলা", তাই এয়ারপোর্টে বসেই শেষ কর��াম। শুরুর অর্ধেক খুবই ভালো ছিলো, তবে ভালোমত শেষ করতে পারেন নি গল্প, বেশ কিছু অতি কাকতালীয় ব্যাপার, অসংগতি, প্লটহোল চোখে পড়েছে। তবে সিরিজের বাকি বইগুলো বের হলে অবশ্যই কিনে পড়বো। নতুন লেখকের জন্য শুভকামনা রইলো।
Profile Image for Rihan Hossain.
109 reviews2 followers
January 15, 2022
চমৎকার গল্প।
চরিত্র নির্মাণে আরেকটু সময় দিলে- মিতু আর রাতুলকে নিয়ে আরেকটু খেলা যেত। শেষটাতে কিঞ্চিৎ তাড়াহুড়ার ছাপ ছিল।
এছাড়া পুরো গল্প চমৎকার গতিময় এবং ফুল অফ সাসপেন্স! লেখক আমিনুল ইসলামের জন্য শুভকামনা।
Displaying 1 - 30 of 62 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.