Sadat Hossain (born 29 June 1984) is a Bangladeshi author, screenwriter, film-maker, and novelist. Sadat Hossain was born In Madaripur, Dhaka, Bangladesh. He studied anthropology at Jahangirnagar University. He was a photojournalist in a newspaper. Then the editor told him that he should write the story of those photos. Eventually, with these, he published his first book in 2013 named Golpochobi. Then, he started to write short stories. In 2014 Janalar Opashe published. In 2015 Aarshinagor is the first book when people recognize him in 2015.[4] Besides writing he has interest in filmmaking as well. He has a production house named ‘ASH’ Production house, released a number of visual contents like short films, dramas, music videos, documentaries, etc.
এখন এই সময় প্রেম-ভালোবাসার মতন কোনো রকমের অনুভূতিতে ছিলাম না। তাই ভেবেছিলাম, সাদাত ভাইয়ের এই বইটি খুব একটা ভালোবাসা যোগাবে না। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হলো, বইটি কিছুদূর পড়ার পর হঠাৎ করেই খেয়াল করলাম বইটি আমাকে খুব টানছে। খুব শক্তপোক্তভাবে আটকে রেখেছে আমাকে। বইয়ের প্রতিটি দৃশ্যপট ছিলো অসাধারণ। আর কিছু কিছু দৃশ্যপট যে এতোটা সুন্দর করে সাজিয়েছেন যা বর্ণনারও ঊর্ধ্বে ! বইটা পড়তে পড়তে হঠাৎ করেই আবিষ্কার করেছিলাম আমি কাঁদছি। কিন্তু পরক্ষণেই আবার আবিষ্কার করলাম - না, আমি কাঁদছি না। তবে গল্পটি পড়ার সাথে সাথে বুকের ভেতর থেকে কি যেনো চারদিকে ছড়িয়ে যাচ্ছে। ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছে পুরোটা শরীরজুড়ে।
বইয়ের প্রতিটা চরিত্রগঠনই ছিলো খুব খুব অসাধারণ। যেমনঃ ফজলু মিয়ার ভেতর ও বাহিরের জগৎ, হেলাল, খলিফা, খলিফার বোন আফিয়া ও তার মায়ের সাথে খলিফার সম্পর্ক, তারপর নদী ও সজল, আবার নিতুর বুকের ভেতরকার তীব্রভাবে চেপে রাখা ব্যাথা, দূর থেকে অন্তুর সব ঠিক করে দেবার আশ্বাস.... এইসবগুলোই ছিলো একেবারে মনছোঁয়া। সবমিলিয়ে অসাধারণ একটা উপন্যাস। সত্যিই খুব অসাধারণ।
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৪.৯৯/৫.০০ (০.১ কেটে রাখলাম। কারণ সাদাত ভাইয়ের লিখা আমার সবথেকে পছন্দের বইটি হচ্ছে - নির্বাসন। নির্বাসন বইটি পড়া না থাকলে হয়তোবা এটিকে ৫.০০ এই দিতে হতো.. ❤️)
পরিশেষে...আমার ভালোবাসার মানুষদের সংখ্যা বর্তমানে ১০-১২ জন৷ আর ভালোবাসার মানুষদের সংখ্যাটা কম হওয়ায়, এই ১০-১২ জনকেই আমি খুব ভীষণভাবে ভালোবাসি। এই ১০-১২ জনের মধ্যে একটি নাম - সাদাত হোসাইন।
আপনার জন্য অনেক দোয়া রইলো প্রিয় ভাই। কিছু কিছু ভালোবাসা কখনোই লিখে প্রকাশ করা যায় না। হয়তোবা আপনার অথবা আপনার লিখার প্রতি আমার ভালোবাসাটুকুও ঠিক এমনই। অস্বস্তিকর গরমের মধ্যে চারপাশ থেকে ছুটে এসে সারাটা শরীরজুড়ে প্রশান্তির চাদর জড়িয়ে দেয়া শীতল শুভ্র বাতাসের মতন৷ যা দেখা যায় না। শুধুমাত্র অনুভব করা যায়। 💙
বইটা নিয়ে লেখার মতো ঠিক তেমন কিছু পাচ্ছি না, খুবই কেমন একটা যেন বই। না পড়লেও চলতো এমন ধরনের। কাহিনীর কোনো ঠিক ঠিকানা নেই, শেষ টাও একদম হযবরল। আমি সাদাত হোসাইন এর লেখা খুবই পছন্দ করি কিন্তু ওনার শেষ দুইটা বই আমার পড়া, একদমই ভালো লাগেনি। হুমায়ূন আহমেদের ছায়াও পেলাম অনেক জায়গায়। বইটার কাহিনী মূলত নদী আর নীতু নামের দুই বোনকে নিয়েই। খুবই নড়বড়ে একটা প্লট। ২০১৮-১৯ সালের দিকে ইউটিউবে যেমন নতুন নতুন প্রেম বিরহের নাটক বের হতো ঠিক তেমন।বইয়ের ফোকাস তাদের দিকে থাকলেও আমার ভালো লেগেছে ফজলু মিয়া আর শশধর কে। তাদের জন্যই টু ষ্টার । যেটা না বললেই নয়, বইয়ের প্রোডাকশন খুবই ভালো। পৃষ্ঠা গুলো ও বেশ সুন্দর, হলদে আর সাইজ তাও সুন্দর তবে বইয়ের কাহিনী সুন্দর না হলে পৃষ্ঠা আর সাইজ দিয়ে কি!
৩.৫ 🌟 বইটা যখন শুরু করছিলাম তখন মনে হচ্ছিল গল্প আহামরি তেমন কিছুনা, কিন্তু যত পাতা উল্টাতে থাকি ততই গল্পটি আমাকে টানতে শুরু করে। আর পুরো গল্প জুড়েই আমার একমাত্র ফজলু মিয়াকেই ভালো লেগেছে। তিনি নিজের রহস্যময় চরিত্র ধরে রেখেছে। কিভাবে তিনি তার আশেপাশের সব গল্প,ঘটনাকে প্রভাবিত করেছে। আর শশীধর। শশীধর চরিত্র এর সংলাপ ছোট হলেও ভালো লেগেছে। নীতুকেও।
আর যেটি না বললেই নয় বইয়ের প্রোডাকশন। বাইন্ডিং খুব সুন্দর, বইটা আকারেও বড় ছিল। এমন প্রোডাকশনে সব বই বের হলে ভালো হতো। আবার মোটা কাগজ ব্যবহার করার ফলে মাত্র ২২৩ পেইজের বই ভারী হয়ে গেল। দাম ও কিছুটা বেশি। যাক,
লেখক যে নিসন্দেহে একজন ভালো লেখক তাতে কোনো সন্দেহ নেই তবে পাঠকদের বলে দেই এটা শুধু মাত্র প্রেমের উপন্যাস নয়।।। এতে কিছুটা সাস্পেন্সও আছে।।।।মোটামুটি ভালো।।।
সাদাত হোসাইন এর পড়া দ্বিতীয় বই। শব্দচয়ন পছন্দ হওয়ার-ই মতন। বইটার প্রথম কিছু পাতা পড়ে বেশ একঘেয়েমি লেগে এসেছিল। তবে মাঝামাঝি যাওয়ার পর বলতেই হয় আকর্ষণ ধরে রাখতে পেরেছেন লেখক। এই বইটা যখন পড়ি, প্রচন্ড রকমের মানসিক অশান্তিতে ছিলাম। সেজন্যই বোধহয় বইটির বিষয়াবলি আরো ভালোমতন উপলব্ধি করতে পেরেছি। গল্পের মাঝে মাঝে কবিতার মতন করে যে কোটেশনগুলো দেওয়া আছে সেগুলো প্রশংসনীয় বটে। তবে বইটা পড়ে খুব কেঁদেছি। নিজের ইমোশনগুলোকে অনেকক্ষেত্রেই রিলেট করতে পেরেছি বলে বোধহয় বেশি কষ্ট হয়েছে। আরো অনেক পড়ার বাকি আছে উনার লেখা বই। উনার লেখা বই পড়ার ইচ্ছা জাগাতে সক্ষম হয়েছেন লেখক বলতেই হয়।
📜 বইয়ের নাম এবং প্রচ্ছদ দেখে নিশ্চয়ই বুঝেছেন এটি একটি আদ্যোপান্ত প্রেমের উপন্যাস । কিন্তু, শুধুই কি প্রেম ? এই উপন্যাস জুড়ে একই সমান্তরালে চলেছে দুটো ভালোবাসা আর বিষাদের গল্প । এই গল্প পড়তে পড়তে মনে হবে, আসলেই কি গল্প !! নাকি আমাদের চোখে দেখা পারিপার্শ্বিক কয়েকটি মানুষের জীবনের চড়াই-উতরাইয়ের কাহিনী । তাই ভালোবাসার গল্প হয়েও, এই উপন্যাস আসলে কয়েকটি মানুষের হৃদয়ে অনুভব করা সুখ-দুঃখের মিশেল, ক্লান্তি-বিষাদ, অপ্রাপ্তি আর দুঃসহ দুঃখবোধের গল্প ।
📝 গল্প-সংক্ষেপ : এই গল্পের একটি মুখ্য চরিত্র নদী, সে পেশায় অভিনেত্রী । তার বাবা আদিবুর রহমানের দূর্ঘটনার পর, তরুণ নির্দেশক রায়হান পরপর অনেকগুলি নাটকেই কাস্ট করে ফেলে নদীকে । নাটকগুলির মধ্যে বেশ কিছু নাটকই মেয়েদের সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট, রেপ্ এইসব বিষয় নিয়ে । এই বিষয়গুলি ঠিক করে দেন সদরঘাটের একজন মাছ ব্যবসায়ী, ফজলু মিয়া । নদীর মনে সংশয় দানা বাঁধে, কে এই মাছ ব্যবসায়ী ? এইসব প্লট নির্ধারণ করে একজন মাছ ব্যবসায়ীর নাটক প্রযোজনায় বিনিয়োগ করার উদ্দেশ্য টা কি ? এইসময় নদীর জীবনের ক্যানভাস রঙিন করে তোলে সজলের উপস্থিতি । অভিমান আর ভুল বোঝাবুঝি পেরিয়ে তাদের সম্পর্ক পরিণত হয় প্রণয়ে । কিন্তু, তারপরেই এলোমেলো হয়ে যেতে থাকে সবকিছু...
▪️নদী’র গল্পের পাশাপাশি সমান্তরালে ঘটে চলে নীতুর জীবনের এক ভীষণ করুণ ঘটনা । নদী’র বোন নীতু, কলেজের ছাত্রী । নীতুর গল্পের শুরু হয় তার জীবনের ভয়াবহ নিষ্ঠুরতা দিয়েই । যে নীতু নিজেকে নিঃসঙ্গ মনে করে গুটিয়ে নিয়েছে, তাকে আবার প্রচন্ড ভালোবাসে অন্তু । কিন্তু অতীতের কোনো এক অপরাধের কারণে নীতুর অবুঝ মনের কাছাকাছি গিয়ে পৌঁছাতে পারে না অন্তুর অনুভূতি, নীতুর চোখে কেবলই ভেসে বেড়ায় অন্তুর করা একটি ভুল । নীতু কি অন্তুর সেই ভুল ক্ষমা করবে ? এছাড়াও আছে আকিব, সেও ভালোবাসে নীতুকে । নিজের একাকী জীব��ে কি কাউকে ঠাঁয় দেবে নীতু ?
📝 পাঠ-প্রতিক্রিয়া : এই উপন্যাস বড়ো মায়াময় । গল্পের প্রতিটি চরিত্রের সাথে জড়িয়ে আছে অদ্ভুত মায়া । কোনো একজনের যন্ত্রণায় মায়া, বিচ্ছেদে মায়া, ভালোবাসার স্বীকৃতি স্বরূপ যে চাদর নদীর গায়ে জড়িয়ে দেয় সজল... তার কারণও তো মায়াই । বিচ্ছেদের পরেও আরেকবার হাতটা ছুঁতে চাওয়া, সজলের জন্য নদীর বা নদীর জন্য সজলের যে কান্না, নীতুকে পেতে চেয়ে অন্তুর যে নিরন্তর প্রচেষ্টা... সেই সবকিছু তো মায়াই ।
▪️এই উপন্যাসের চরিত্রায়ন আমার বেশ ভালো লেগেছে । গোটা উপন্যাস জুড়ে একদম অল্প কিছু চরিত্র ঘুরে ফিরে এসেছে বারবার... সেই প্রতিটি চরিত্রই গুরুত্বপূর্ণ, নিজের মতো করে স্বতন্ত্র । কিন্তু... নদী, নীতু, সজল, অন্তু, আকিব - এই সবকটি চরিত্রকে ছাপিয়ে গেছে ফজলু মিঞার চরিত্রটি । অদ্ভুত এই মানুষটিকে ভালো-মন্দের চিরাচরিত মাপকাঠিতে ফেলা যায় না, বরং তার চরিত্র বিশ্লেষণ করতে গিয়ে পাঠক হিসেবে দ্বিধাগ্রস্থ হয়ে পড়তে হয় বারবার । সমগ্র কাহিনি আবর্তিত হয়ে চলেছে এই মানুষটিকে কেন্দ্র করেই... অথচ কারোর স্পষ্ট ধারণা নেই মানুষটি আসলে কে, এমনই ‘ধূসর’ এই চরিত্র তৈরি করেছেন লেখক ।
▪️এই উপন্যাসের গল্প এবং লেখকের লেখনী এতটাই যথাযথ যে পড়তে পড়তে পাঠকের মন আচ্ছন্ন না হয়ে পারে না । কিন্তু আমরা পাঠকরা সবসময়ই আমাদের ‘প্রিয় লেখক’এর থেকে ‘আর একটু বেশি কিছু’র প্রত্যাশায় থাকি... তাই বোধহয় মনে হয়েছে, গল্পের শেষ অংশে কঠোর সত্যের মুখোমুখি হয়ে নদী’র অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ আর একটু বিষদে পেলে আরও ভালো লাগতো । আবার, নারী নির্যাতকদের প্রতি ফজলু মিয়ার বিরূপ প্রতিক্রিয়ার কারণ হিসেবে আরও একটু ব্যাখ্যা গল্পে আলাদা মাত্রা যোগ করতে পারতো । কিছু কিছু দৃশ্যে লেখকের বর্ণনা একটু অতিরিক্ত মনে হয়েছে, অর্থাৎ এক-দুই স্তবকের মধ্যেই রেখে দেওয়া যায় এমন কিছু কথা লেখক প্রায় এক পাতা ধরে বর্ণনা করেছেন । তবে... সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে যে বিষয়টি তা হলো লেখকের ‘মানবমনের বিশ্লেষণ’, বিশেষত যে কোনো নারীর বয়সোচিত মননের যথাযথ উপস্থাপন শুধুমাত্র যে পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাই নয়, রীতিমতো অবাক করে দেয় ।
📜 সত্যি বলতে কি, বইটি শেষ করতে ইচ্ছে করছিল না কিছুতেই । বারবার ফিরে যাচ্ছিলাম নির্দিষ্ট কিছু পাতায় । সাদাত হোসাইনের বিশেষত্ব হল গদ্যের মাঝে মাঝে ছোট ছোট কবিতার সুন্দর ব্যবহার । আর এই বইটিতে ঐ কবিতাগুলি ছিল বড়োই বেশি প্রিয়...
“আমায় দিয়ো একটুখানি ছুঁয়ে, আমায় দিয়ো একটুখানি মন, এই জনমের জন্ম মৃত্যু জানে, তুমি মানেই আমার সমর্পণ !”
মোটামুটি ভালো একটা বই কিন্তু কিছু জিনিস খুবই অপ্রাসঙ্গিক লেগেছে যেগুলো না আনলেই বইটা পড়ে আরেকটু ভাল হতে পারতো। গল্পের মাঝে মাঝে কবিতার মতন কিছু উক্তি আছে যেগুলো আসলেই ভালো লেগেছে। কিন্তু লেখকের উচিত অপ্রয়োজনীয় বর্ণনা কমানো যেটা তার সব বইতেই দেখা যায়, এই বইও তার ব্যতিক্রম নয়।
চরিত্র গুলো সাজানোর ক্ষেত্রে তাড়াহুড়োর ছাপ স্পষ্ট। সমস্যা আছে অন্য জায়গায়। ধরা যাক দুটো চরিত্র কথা বলছে তাদের মধ্যে আগের ঘটনার প্রভাব আছে নীতুর অভাবিত ঘটনার একটা ছায়া আছে চরিত্রের কথাবার্তা বলার সময় তখন হঠাৎ আলাপ শেষ হয়ে যায় এবং মনস্তাত্ত্বিক ভাবে দূর্বল একটা স্থানে পাঠককে পৌঁছে দেয়। এই উপন্যাস এ ফজলু মিয়াকে যেভাবে গড়ে তোলা হয়েছে তা ঐ আশংকা বা ঐ ইচ্ছেকে লালন করে যেখানে আপনি ভালো কিছু করার জন্য খারাপ অনেক কিছু করে সুনিশ্চিত ভাবে প্রশ্রয় পেয়ে যান। " লোকটা ভালো তবে এই কটা মানুষ মারলো তো কী হয়েছে, মানুষ গুলো মেরে তো সমাজের ভালো হয়েছে " এরকম একটা কথা চালু আছে। যেটা হাস্যকর আমরা জানি যে এরকম সামাজিক লাইসেন্স থাকলে মানুষ কী করতে পারে। একটি দূর্বল লেখা হিসেবে একে আরো চিহ্নিত করা যায় এইভাবে যে নদী ও খলিফা যখন অতিকল্পনা প্রবণ হয়ে প্রায় অলৌকিক কিছু দেখে তখন তাদের মধ্যে সেই ঘটনা যা কীনা এই প্রায় অলৌকিকতার জন্য দায়ী তা খাপছাড়া ভাবে প্রকাশ পায়। অতি বিরক্তিকর চরিত্র হিসেবে সজল যেভাবে সার্ভাইব করে শেষ অবধি তা তার প্রথম জীবন উপন্যাসের হিসেবে তার সাথে যায় না।। হ্য তার জীবনে অনেক বড় একটা বিপর্য়য় ঘটেছে কোনো সন্দেহ নাই তবে তা যে প্রক্রিয়ায় ঘটেছে তার একটা পরিপূর্ণ ব্যখ্যা এই উপন্যাস প্রদান করতে ব্যর্থ হয়েছে সম্পুর্ণভাবে। এই ব্যর্থতার দায় হিসেবে লেখকের টেক্সট দূর্বলতা আর চরিত্রের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার কেবলমাত্র আংশিক চিত্র দেখানো দায়ী। অদ্ভুত তাড়াহুড়ো আর খুব সরল প্রাকৃতিক বর্ণনা চরিত্রের মন মানসিকতা কীভাবে গড়ে উঠেছে বা কোন পরিবেশে সে স্থিত হতে চেয়েছে তা ধরতে দেয় না। শুরু থেকে শেষ অবধি শুধুমাত্র কথা শেষ হওয়ার তাড়না কাজ করে উপন্যাস এর। এমন কিছু পড়া সময় নষ্ট বলবো না খারাপ লেখাও পড়া উচিত কেন খারাপ তা জানার জন্য। রেটিং ১.৫/ ৫.
নির্বাসন এর পর সাদাত হোসাইন এর বই পড়ার প্রতি ঝোক বেড়ে গিয়েছিলো। সেখান থেকেই এবারের বই মেলায় যেয়ে এই বইটা কেনা। কিন্তু যতটা এক্সপেকটেশন নিয়ে পড়তে বসেছিলাম ততটা এই বই পূরণ করতে পারেনি। হতে পারে আমি বেশি আশা করে ফেলেছিলাম। হয়তো আমার আশা পূর্ণ হতো যদি এই বইটাই আরেকটু কম বয়সে পড়তাম; টিন এজের দিকে অথবা এই বয়সেই এই গল্পটা দেখতাম কোনো মুভি হিসেবে। সে যাই হোক কিন্তু লেখক যে প্রচন্ড খেটে বইটা লিখেছেন তা নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই। শুরুর দিকের সামান্য একটা ঘটনা শেষের দিকে যেয়ে বিশাল আকারে জুড়ে দিয়েছেন। অনেক ভাবনা চিন্তা করে লিখতে না বসলে এতটা সম্ভব হতো না। সাদাত হোসাইন এর মোটে দুটো বই পড়েছি আমি এবং দুটোতেই দেখেছি প্রচন্ড ক্ষমতাধর নেগেটিভ চরিত্রের মানুষকে তাদের বিশেষ কিছু পজিটিভ দিক দেখিয়ে গ্লোরিফাই করতে। এই দিকটার প্রতি ওনার বোধহয় বিশেষ দূর্বলতা আছে। ওভারঅল গল্পটা খারাপ না কিন্তু কিছু জিনিস খুবই অপ্রাসঙ্গিক লেগেছে যেগুলো না আনলেই বইটা পড়ে আরেকটু সাচ্ছন্দ্য বোধ হতো। আরেকটা যেটা ভালো লেগেছে সেটা হলো কবিতার মতো করে লেখা কিছু লাইন। বইয়ের কিছু কোটেশন আর মুহূর্তও বেশ মনে ধরেছে আমার। এখানে পছন্দের একটা উল্লেখ করি, "জগতে সবচেয়ে গভীর, সবচেয়ে তীব্র, সবচেয়ে প্রগাঢ় অনুভূতির কথাই হয়তো কখনো মুখ ফুটে বলা হয় না। ওটা অনুভব করে নিতে হয়। নদীর ধারণা, সজল তা কোনোদিনই পারবে না। আর পারবে না বলেই, সে কেবল তাকে ছুঁয়ে থাকতেই পারবে। শক্ত করে ধরে রাখতে পারবে না কখনো। অথচ মানুষ চায়, তাকে কেউ শক্ত করে ধরে রাখুক। ধরে রাখুক জনম জনম"।
সাদাত হোসাইন এর কোনো বই আগে পড়িনি,অনেকের কাছে শুনছি,অনেক গ্রুপে লেখার অংশবিশেষ পড়ছি,আমি কেন জানি কোনো বই কিনি��ি তার। এই বই টা আমার বোনের, ও মনে হয় নিবিষ্ট ভক্ত তার কাছে সব কালেকশন আছে ইনার।
আমার কেন জানি প্রথম বই হিসেবে ভালো লাগেনি,হয়ত নামের জন্য বা হয়ত প্রেমের বই আমার টানে না এজন্য। কেন জানি শেষ করতে পারিনাই ঠিক মতন।। এটা একান্ত ব্যক্তিগত অভিমত আমার।
অন্য বই গুলোও উনার পড়ে দেখতে হবে। কি জানি কখন কি ভালো লেগে যায়,আমিও তার একনিষ্ঠ ভক্ত হয়েও যেতে পারি
সাদাত হোসেনের লেখনশৈলী ভাল, কিন্তু লেখার মধ্যে কোন ক্রিয়েটিভিটি নাই। ঘুরে ফিরে সব গল্পই এক: পরিবেশের কাব্যিক বর্ণনা, কয়েকটা কবিতা, আর মাত্রাতিরিক্ত টুইস্ট, এই বইয়ের বেলায় যেগুলা অসম্ভব বেশি প্রেডিক্টেবল। লেখকের পড়া প্রথম বই হইলে কারো ভাল লাগতেও পারে, ৩-৪ টা আগে পড়া থাকলে সেই পুরানো কাসুন্দি নতুন মোড়কে। শুধুমাত্র লেখার ধরণের জন্য তিন তারা, নয়ত আরো কম ডিজার্ভ করে।
বইয়ের প্রথম পঞ্চাশ পাতা পড়ে বিরক্ত লাগা শুরু করেছিল, ভাবলাম 'অন্দরমহল' লেখার পর এই লেখক এটা কি লিখলো! আরও ভালো না হোক এতো খারাপ তো লেখার কথা না! কিন্তু এরপর থেকেই গল্পটা ভালো লাগা শুরু করলো এবং বইটা শেষ না করে রাখতে পারলাম না। বি.দ্র. এটা প্রেমের গল্প নয়।
এতো বেশী সাড়া জাগানোও না আবার ফেলে দেওয়ার মতো না। আছে মোটামুটি ভালো। কোনো এক্সপেক্টেশন ছাড়াই পড়তে বসা, বইকে রোমান্টিক জনরা হিসেবে ধরা হলেও বইয়ের মূল রোমান্টিক যে দিকটা আছে ওইটা আমাকে টানে নাই, বরং বইয়ে যে কিছু থ্রিল আছে ওইটা ভালো লেগেছে।