Jump to ratings and reviews
Rate this book

রঙ মিলান্তি

Rate this book
অনেকদিন হলো, শহরটা বদলে গেছে। নব্বই দশকের তিলোত্তমা ঢাকার কাব্যিকতা আর নেই। আজকের মেগাসিটি ঢাকা, জনসংখ্যার আধিক্য, যানজট আর দূষণ নিয়ে টিকে আছে। এখানে মানুষ আসে জীবিকার প্রয়োজনে। তারপর ছুটতে থাকে যন্ত্রের মতো কিংবা ঠুলি আঁটা পশুর মতো। অথচ, একটা সময় ছিল যখন এই শহরে বসেই কিছু মানুষ স্বপ্ন দেখত। সোডিয়াম বাতির নিচে হাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে পরের দিনটা নিয়ে সোনালি স্বপ্ন বুনত। সেই মানুষেরা বুঝি হারিয়ে গেছে।

কিন্তু স্বপ্ন আসলে মরবার নয়। হতেই পারে শহরের সোডিয়াম বাতি নেই, সেই মায়াবী আলো নেই। কিন্তু ধবধবে সাদা বাতির শহরে পথ চলতে চলতে এখনও অনেকে স্বপ্ন দেখে। কেননা মানুষ স্বপ্নে বাঁচে। স্বপ্ন দেখে তারুণ্য। সে স্বপ্নে গান থাকে, সুর থাকে, থাকে ছন্দ-কবিতা। কখনও সে গান, কবিতা তারুণ্যের বুকে বিদ্রোহের আগুণও জ্বালিয়ে দেয়। গানের সাথে স্লোগান, কবিতা আর সুরে মিলে রাজপথ রঙিন হয়। ঢেউ ওঠে শাহবাগ থেকে ধানমন্ডি, বসুন্ধরা থেকে বুড়িগঙ্গা।

এই সময়ের সেই স্বপ্নবাজ তরুণদের প্রতিনিধি নাদিম, রিক্তা, বেলা, আরিফ, সজীব, শিহাব, শাহরিয়ার। তাদের চাওয়া-পাওয়া, প্রেম, জীবন-যুদ্ধ, যুদ্ধের মাঝে দর্শন, দর্শনের মাঝে স্বপ্ন। সেই স্বপ্নে ছোপ ছোপ রঙ। অন্যভাবে বললে এই প্রাণগুলোই রঙিন। সেই রঙিন প্রাণের হাত ধরে একটা শান্ত, সুন্দর সময়ের খোঁজে পথ চলার নাম ‘রঙ মিলান্তি’।

200 pages, Hardcover

Published January 15, 2021

55 people want to read

About the author

Mahmudur Rahman

13 books357 followers

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
6 (26%)
4 stars
13 (56%)
3 stars
4 (17%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 11 of 11 reviews
Profile Image for বিমুক্তি(Vimukti).
157 reviews91 followers
May 23, 2021
নতুন লেখকদের বই পড়তে গেলে আমার আগে এক বিরাট ঝামেলা হইতো। হাইস্কুলের অঙ্ক শিক্ষকের মতো খুঁতখুতে হয়া যাইতাম, প্রতি লাইন পড়তাম আর মনে মনে বলতাম, এই লাইন এমনে বললো কেন? অমনে বললেই তো হইতো! গল্পে এতো ন্যাকামি ক্যান! এতো ফালতু ন্যারেটিভ ক্যান! গভীরতা কই!

এই জিনিস আজকাল কমে আসতেছে, এর কারণ হয়তোবা ভালো ভালো নবীন লেখকদের বই পড়ি ইদানীং। ঐসব সেলেব্রিটি বেশি, সাহিত্যিক কম নবীন লেখকদের(?) অনেক আগেই পিছনে ফেলে আসছি। 

এই রঙ মিলান্তি বইখানাও হাতে নিসিলাম মূলত লেখক মাহমুদুর রহমানের লেখালেখির সাথে পরিচিত হইতে। কেমন গেল পরিচয় পর্ব? ওয়েল, এইটা একটু কম্পলিকেটেড। আসেন লেখকের নিজের পার্সপেক্টিভটা একটু দেখি। উনি এ বইয়ে ঠিক কি করতে চাইসেন? 

এ উপন্যাস মানুষের যাপিত জীবনের প্রতিচ্ছবি। বলা ভালো একটি নির্দিষ্ট বয়সের মানুষের–অর্থাৎ তরুণদের–যাপিত জীবন উঠে এসেছে। এ জীবন আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। যা দেখেছি, তা-ই তুলে এনেছি। তারা যা ভাবে, সেই ভাবনা এনেছি, যে ভাষায় আজকের তরুণরা কথা বলে, সে ভাষাতেই উপন্যাসের পাত্র-পাত্রীরা কথা বলে।


যা বললেন তার সবই আসলে কমবেশি আসছে। স্পেশালী সংলাপের বিষয়টা আলাদা করে হাইলাইট করা দরকার। বর্তমান বাংলাদেশের কথ্যভাষা এলিট বাংলার থিকা অনেক আলাদা। কিন্তু, আমাদের সাহিত্যে সংলাপগুলো আইসা ঠেকসে এক আজিব জায়গায়। আমরা প্রমিত বাংলা আর আঞ্চলিক ভাষা মিলায়া এমন এক আজিব জিনিস সংলাপ হিসাবে উপন্যাসে খাঁড়া করাই...যা না হয় প্রমিত বাংলা, না হয় কথ্যভাষা। পড়তে গেলে স্পষ্টভাবেই বুঝা যায় যে সংলাপের মামলায় গিয়ে আমাদের উপন্যাসিকরা এক দোলাচলে ভোগেন। এরা কথ্যভাষা মিশাইতে চায়, আবার প্রমিত বাংলার মায়াও ছাড়তে পারে না। 

মাহমুদুর রহমান এই দোষে দুষ্ট না। উনার পাত্র-পাত্রীর সংলাপগুলাই উপন্যাসের সবচে' বড় শক্তি আসলে। ঝরঝরে, স্বাভাবিক। লেখক বর্তমান ঢাকার চিত্র আঁকতে চাইসেন, ছাত্র আন্দোলনগুলাকে বইয়ের পাতায় জাগায় রাখতে চাইসেন...সেইসবে কতোটা সফল সেটা পরে আসতেছি। কিন্তু এইটা অন্তত চোখ বুজে বলা যায় সংলাপে একটা কোপ দিছেন। এইজন্য উপন্যাসটা পড়তে কষ্ট হয় না। এক বসাতেই শেষ করে ফেলা যাইতে পারে চাইলেই। 

কিন্তু উপন্যাস সুখপাঠ্য এতো সহজেই হয়ে যায় না। আরও নানা জিনিস আছে। আসি ক্যারেক্টার বিল্ডিং এ। এটা হেলাফেলা করার মতো জিনিস না। আপনার একজন প্রোটাগনিস্ট থাকবে, আর থাকবে এক ঝাঁক সাইড ক্যারেক্টার। এইটাই সাধারণত উপন্যাসে ঘটে থাকে, নাগরিক উপন্যাসে আরও বেশি ঘটে। এখন সুখপাঠ্য উপন্যাস লিখতে গেলে আপনাকে এইসব পাত্র-পাত্রীকে সময় দেয়া লাগবে। পাঠকের কাছে এরা প্রত্যেকেই একেকটা রহস্য, এদের চরিত্রের নানাদিক লেখক ধীরে ধীরে উন্মোচন করবেন। 

এই জায়গাটাতেই জমলো না। উপন্যাসের প্রথম বিশ পেইজ পইড়াই প্রোটাগনিস্ট নাদিম কেমন ব্যক্তি তা একদম পরিষ্কার বুঝে ফেললাম। উপন্যাস যতো এগোবে পাঠক নিজ থেকেই যেখানে নায়কের একের পর এক জিনিস আবিষ্কার করবে(সকল সফল উপন্যাসেই এই জিনিসটা আছে), সেখানে লেখক নিজেই নিজের চরিত্র সম্পর্কে সবকিছু বইয়ের প্রথমেই ঘোষণা দিয়ে দিলেন। এই জিনিসটা যখনই দেখসিলাম, তখনই এক গভীর আক্ষেপের সাথে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলসি,"বেশ ভালো একটা প্লটকে অর্ধেক খায়া দিলো!"

আচ্ছা, এ যাক। লেখক যে ভূমিকায় একটা কথা বলসেন, "তারা যা ভাবে, সেই ভাবনা এনেছি।"
এইটা ঠিক মিলে নাই। পুরা বইয়ে বর্তমানের এই ''ডাম্ব" জেনারেশনের ছেলে-মেয়েদের চিন্তা-ভাবনার তেমন ছিটেফোঁটাও দেখলাম না। মূলত, স্রোতের অনেকটা বিপরীতে ছুটে চলা প্রোটাগনিস্ট ''নাদিম" এর চিন্তাভাবনাতেই পুরা বই ঠাসা ছিল।  তাও, যদি এই মতামতের প্রকাশ ঠিকঠাক হতো! লেখক লিটারেলি উপন্যাসের ম্যালা জায়গায় প্রবন্ধ লিখসেন! এই উপন্যাস উত্তম পুরুষে লিখিত না। তাই, লেখকের যেখানে নিরপেক্ষ থাকা অনেকটাই বাঞ্চনীয় সেখানে তিনি লম্বা লম্বা প্রবন্ধ লিখলেন৷ বড্ড বেমানান। ঐ যে প্রথম ভুলটা করসিলেন, নাদিমকে নিজে থেকেই এক দু' পৃষ্ঠায় পরিচয় করিয়ে দেয়া...পুরো উপন্যাস জুড়ে সেটারই মাশুল গুণলেন লেখক। খুব দারুণ একটা সুযোগ ছিল সংলাপ, গল্পের অগ্রগতি দিয়ে নাদিমের(তথা লেখক তথা বাংলাদেশের অনেক তরুণ ছেলেমেয়ের) চিন্তাভাবনা সাহিত্যিক সৌন্দর্যে তোলে ধরা। হলো না! সম্ভাবনা দেখায়া এ এক বিরাট ব্যর্থতা। আদর্শগত সংঘাত নিয়ে প্রোটাগনিস্টকে দুই একটা জ্বালাময়ী আলোচনায় জড়ায় দিতে পারলেই কাজ হয়া যাইতো। লেখক চেষ্টা করেন নাই বলবো না। কিন্তু, সেসব আলোচনা যেন অসম্পূর্ণ, ফিকে অনেকটা। হতাশ হইসি অনেক।

ঢাকা শহরকে ফুটায় তুলতে চাইসেন লেখক। ঢাকা শহর তো আর কিছু জায়গার নামই না, আরও কিছু একটা আছে। বড় আন্দোলনগুলাও গুণতিতে পড়ে। প্রাইভেট ভার্সিটিতে ভ্যাট নির্মুল আন্দোলন, কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরপদ সড়ক চাই আন্দোলন...এইগুলাও উঠে আসছে লেখায়। আবার পাত্র-পাত্রীর ক্যারেক্টার বিল্ডিং এ দুর্বলতার কারণে উপন্যাসখানার ম্যালা ক্ষতি হইলেও, বইয়ের ক্যারেক্টারগুলারে আপন করে নিতে কষ্ট হয় না। হাজার হোক, এইসব চরিত্র তো আমাদের আশেপাশেই ঘুরতেসে! এদেরকে আপন না ভেবে থাকা যায় কিভাবে?

আরও কিছু জিনিস লেখা যাইতো, কিন্তু শরীর মানতেসে না। এই টাইমে হালকা জ্বর-কাশিও ভয়ানক হয়ে দাঁড়াইতে পারে। আমার তাই একটা ঘুম দরকার। তাই কিছু কথা বইলা ইতি টানি বরং। 
উপন্যাসটি পড়তে কষ্ট হয় না, মাহমুদুর রহমানের নিজস্ব একটা স্টাইল থাকা সত্ত্বেও কিছু কমন মিস্টেক করে বসছেন। তাই ঠিক মনে দাগ কাটতে পারলো না ''রঙ মিলান্তি"। 
সুযোগ করতে পারলে সামনে উনার বই আবার পড়বো। সম্ভবনা অবশ্যই আছে, কিছুটা শোধরালেই হইলো। লেখকের জন্য শুভকামনা!

২ মে, ২০২১
1 review1 follower
January 15, 2021
সুনীল, সমরেশ, শীর্ষেন্দু বা কলকাত্তাই বই পড়ে কিন্তু আমরা এসপ্ল্যানেড, বিরলা মন্দির , প্রিন্সেপ ঘাট, হাওড়া বা শিয়ালদা স্টেশন
চোখের সামনে দেখতে পাই। এইদিকে, হুমায়ূন আহমেদ সহ আমাদের জনপ্রিয় ঘরানার কোন লেখকই কিন্তু তাদের লেখায় পল্টন, শাহবাগ, নিউমার্কেট এইসব জায়গাকে গ্লোরিফাই করেননি, এইসব জায়গায় কি এমন কিছুই নেই যে এইসব জায়গা নিয়ে সাহিত্য করা যায়না? আমাদের লেখকেরা শহুরে সাহিত্য করতে চায়না, তারা গ্রামীণ আর্কেডিয়ান পরিবেশ নিয়ে সাহিত্য করতে পছন্দ করে। করপোরেট চাকরি করা লেখকরাও গ্রাম নিয়ে সাহিত্য করে, অথচ শহুরে জীবনের টানাপোড়েন তারা দেখেন না। সেই ৪৭ এ কালকাতা ফেরত যুবক রশিদ করিম বা আবুল মুনসুর আহমেদ বা সৈয়দ হক বা আবু ইসহাক রাই ঢাকা নিয়ে ভালো সাহিত্য করে গেছেন আজকের লেখকদের চাইতে। এইক্ষেত্রে মাহমুদুর রহমান একটা ভালো এপ্রোচ করছে। উনার গল্পে একে একে এসেছে ভিড়ে ঠাসা শাহবাগ, পল্টন, নিউমার্কেট, নীলক্ষেত বা বসুন্ধরার মতো উন্নত আবাসিক এলাকা সহ পুরো ঢাক।
Profile Image for তানভীর রুমি.
119 reviews62 followers
May 4, 2021
মাহমুদুর রহমান যদিও তার মোগলনামা’র জন্য বিখ্যাত হওয়ার রাস্তায় আছেন, কিন্তু আমার সম্পূর্ণভাবে পড়ে শেষ করা প্রথম বই ‘রঙ মিলান্তি’। ‘রঙ মিলান্তি’ মূলত উপন্যাস হলেও যে ধরণের প্লটকে উপজীব্য করে লেখা ��া কমই পড়েছি।

শুরুতেই একটা কথা বলে দেয়া ভালো, এই লেখাটা দীর্ঘ হবে। এবং এটা শুধু বইয়ের ভাষাগত বা চরিত্রায়ণ/প্লটগত রিভিউ হবে না, কিছু আলোচনাও থাকবে লেখকের ভাষ্যের, মূল চরিত্রের চিন্তাভাবনার।

‘রঙ মিলান্তি’কে অল্প শব্দে সামারাইজ করা কষ্টকর। এক্ষেত্রে বলবো বইয়ের ফ্ল্যাপটা মোটামুটি যুতসই। অন্যান্য বইয়ের মতো, এরপর কি হবে কি হলো বা গল্পের মাঝ থেকে দু’লাইন তুলে না এনে একটা ভালো ধারণা দেয়া হয়েছে যা বইকে ভালোভাবেই রিপ্রেজেন্ট করে।

‘এই সময়ের সেই স্বপ্নবাজ তরুণদের প্রতিনিধি নাদিম, রিক্তা, বেলা, আরিফ, সজীব, শিহাব, শাহরিয়ার। তাদের চাওয়া-পাওয়া, প্রেম, জীবন-যুদ্ধ, যুদ্ধের মাঝে দর্শন, দর্শনের মাঝে স্বপ্ন। সেই স্বপ্নে ছোপ ছোপ রঙ। অন্যভাবে বললে এই প্রাণগুলোই রঙিন। সেই রঙিন প্রাণের হাত ধরে একটা শান্ত, সুন্দর সময়ের খোঁজে পথ চলার নাম ‘রঙ মিলান্তি’।’

রঙ মিলান্তির চরিত্রগুলোর বয়স প্রায় একই, সকলেই বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া। সরকারি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হলেও অনেকের মধ্যেই বন্ধুত্ব আছে। যেমন নবায়ন নামক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়লেও নাদিমের সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকের বন্ধুত্ব।

নাদিম এই উপন্যাসের মূল চরিত্র। মানে মূল চরিত্র অনেককে বলা গেলেও (বা না গেলেও) একদম কেন্দ্রে আছে নাদিম, তবে নায়ক হিসেবে নয়। কেবল একজন পর্যবেক্ষক হিসেবে যেন, যেন নাদিম একজন প্রম্পটর। যে শুধু দেখছে, সেটা পাঠককে জানাচ্ছে, সাথে নিজের কিছু মতামত দিচ্ছে।

নাদিমের বাবা আছে, মা নেই। এক ছোট ভাই আছে। আর আছে এক প্রাক্তন প্রেমিকা।

নাদিমের ছোট ভাই আর তার প্রাক্তন প্রেমিকা দৃশ্যপটে খুব অল্প সময় থাকলেও তাদের উপস্থিতিতে বা তাদের হাজির করে লেখক যে বর্ণনা দেন তা কৌতুহলদ্দীপক এবং ব্যক্তিগতভাবে, আমার কাছে সত্য।

এই কাজটাই আরকি লেখক করে গেছেন পুরো বই জুড়ে। নাদিমের মাধ্যমে বিভিন্ন চরিত্রের উপস্থিতিতে প্রেম, দর্শন, রাজনীতি নিয়ে একটা আলোচনা হয়, কিছু ঘটনা উঠে আসে। সেসব আলোচনা হয়তো সবসময় খুব ভারী নয়, তবে এটা জানান দেয়া যে না, একেবারে সবাই রাজনীতি বা দর্শন বিমুখ হয়নি, সবাই প্রেমটাকে অতি পোস্ট মডার্নিস্ট করে তোলেনি।

রাজনীতির আলাপ আসে মূলত তিনটা ঘটনার হাত ধরে। নো ভ্যাট আন্দোলন, কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং নিরাপদ সড়ক আন্দোলন। সাথে আসে বর্তমান বাংলাদেশ, মানে উপন্যাস লেখার সময়কাল যেটা, ২০১৮- সেই সময়ের বাংলাদেশের আলাপ। বিশেষত ছাত্ররা এসব দেখলে কিভাবে দেখে? ছাত্র রাজনীতি নিয়ে ছাত্রদের ভাবনা কি? আর ২০১৩ এর শাহবাগ নিয়ে কিছু আলোচনা আছে।

উপন্যাসের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ জুড়ে রয়েছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থা, আর মোটা দাগে বললে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থা।

মাহমুদুর রহমানের বর্ণনাভঙ্গি, উপন্যাসের ভাষা খুবই সুন্দর। এবং আলোচনার সাথে গতিময় দৃশ্যের বর্ণনা, মানে ফিকশন ও নন ফিকশনের যে ব্লেন্ড, সেটা একদম ঠিকঠাক লেগেছে। দু’শো পৃষ্ঠা পড়তে তাই বেগ পেতে হয়না।

চরিত্রায়ণের দিকে দেখলে পরিপূর্ণভাবে চিত্রিত হয়েছে বোধহয় কেবল নাদিম। তার দৈনন্দিন জীবন, বিশ্ববিদ্যালয়, তার মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব- সবটা মিলে ভালোভাবেই গড়ে তুলেছেন লেখক। বাকি চরিত্রগুলো থাকে দৃশ্যের প্রয়োজনেই, কেউ কেউ, যেমন বেলা আর রিক্তাকে অন্যদের চেয়ে একটু বেশি গড়ে তোলা হয়েছে। এই। এই উপন্যাস আমার কাছে চরিত্র নির্ভরের চেয়ে বেশি মনে হয়েছে কাহিনী নির্ভর।

উপন্যাসের শক্তিশালি জায়গা এর প্লটের অভিনবত্বে আর ভাষাতে। জড়তাহীন ভাষার ফলে পড়তে বেগ পেতে হয় না। আর প্লটের অভিনবত্ব কারণ ২০১০ এর পরে, বিশেষত ’১৩ এর শাহবাগের পরে ছাত্ররাজনীতি নিয়ে কি কোনো উপন্যাস আমরা পেয়েছি? জানামতে, আমি পাইনি। সাথে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এর চরিত্র কেন্দ্র হওয়ায় এই উপন্যাস বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে অনেক কিছুই জানায়। এই উপন্যাসের ৭২-৮০ পৃষ্ঠা একটা ভালো সাজেশন দেয়। কেউ পড়লে এপ্লাই করে দেখতে পারেন। নাদিম তার বন্ধুর বাবাকে তাদের বিশ্ববিদ্যালয় কালচার সম্পর্কে বলে, বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়া সম্পর্কে বলে, জটিলতা সম্পর্কে বলে। এরপর নাদিমের বন্ধু সজীব পরবর্তীতে জানায় তার আর এখন আগের মতো ‘প্যারা’ লাগে না। পরিবার সাপোর্টিভ হয়ে উঠেছে। আর নাদিমের ছোট ভাইয়ের ক্যাডেট কলেজে পড়ার ব্যাপারটা। শুধু ক্যাডেট কলেজই না, সব এরকম আইসোলেটেড শিক্ষা নিয়ে বোধহয় ভাবা উচিত। এইখানের আলোচনাটা ভালো লাগে।

একটু দুর্বল দিক বা যা আমার পছন্দ হয়নি এর মধ্যে প্রথমেই থাকবে কথোপকথন। এটা লেখকের দুর্বলতা না কি এইভাবে কথা আসলেই বলে (অতিরিক্ত ভাষার মিশ্রন, সংক্ষিপ্তকরণ) এবং আমার পছন্দ হয়নি, সেটা আমি জানি না। সারাটাক্ষণই কানে বেজেছে, চোখে বেঁধেছে কথোপকথন অংশটা।

উপন্যাসের চরিত্রের দিকটা আরও স্ট্রং হওয়া উচিত ছিল। নাদিমের কাউন্টারে কেউ ছিল না, নাদিম যখন অন্যদের কাউন্টার দিচ্ছে বা একটা ব্যাখ্যা দিচ্ছে সেই ব্যাখ্যাটার সাথে আরেকজন সমালোচনা করবে বা একজন স্ট্রং পলিটিকাল চিন্তা রাখে এমন কাউকে দরকার ছিল। যে সময়ের বা যে আন্দোলনের কথা হচ্ছে সে আন্দোলনে অংশ নেয়া কারও শক্তিশালী উপস্থিতি প্রয়োজন ছিল। না থাকার ফলে রাজনীতির যে গল্পটা পড়তে চেয়েছি, সেটা যেন অনুপস্থিতই থেকে যায়। আর একদম শেষ বাক্যটা ব্যক্তিগতভাবে মনে ধরেনি। হয়তো ওখানেই, আরেকটু অন্যভাবে শেষ হতে পারতো উপন্যাসটা।

সব মিলিয়ে, নতুন কিছু পড়তে চাইলে এই সময়ে, ‘রঙ মিলান্তি’ পড়তে পারেন। চিন্তা করার একটা ভালো খোরাক হতে পারে- পক্ষে হোক বা বিপক্ষে। এই সময়ে একটা বই পড়ার পর ভাবাচ্ছে- এটাই অনেক বড় ব্যাপার।

.

বাকি পর্যালোচনা পড়তে চাইলে- https://fuadrumi.me/2021/05/03/467/
Profile Image for সা কিব.
58 reviews11 followers
August 6, 2021
এই বইটা জিনিস একটা, যদি আরেকটু মোটা হইতো😶।
মাইডেতে টুক্কু লেখাটুকু দেখে ফোন পকেটে চালান দিয়ে বসে আছি পৌর উদ্যানের চিপায়। টাংগাইলে থাকলে অবসরে এই জায়গাটাকেই একটু আপন মনে হয়। দিন শেষে সব বয়সী পোলাপান গুলো এসে ঠাই নেয় ছোট্ট ছোট বেঞ্চিগুলোতে। জন্ম নেয় গল্প। এইখানে এসে মিলে যায় প্রাইভেট পাব্লিক আর জাতীয়র দুঃখ গুলো।

সিগারেট আর চায়ের স্বাদ যে জায়গা বুঝে বদলে যায় সেটার আদর্শ উদাহরণ হয়তো এই উদ্যানই। বসে আছি সেই স্বাদের লোভেই। মীর রিক্সায় আরেক মীর জাহাজ বিল্ডিং এর মাথায়। আর আমি ভুড়ি গাঁড়া আইসলাপাডা বেঞ্চিতে৷ ঠিক নবায়নের ঘাটপাড়ের মতো৷ এখানে হয়তো নাদিম নেই, সৌম্য নেই, লাবিব কিন্তু সেই ৯০ এর পরের জন্মের আক্ষেপ লালন করা সাকিব, আকাশ আর মীরই আছে ঠিকই। এদেরও দর্শন আছে। নিজস্ব চিন্তা আছে। কে নাদিম, কে আরিফ সেটা হয়তো আলাদা করে ঠাউর করা যাবে না৷ এইটা হয়তো আমাদের নাইন্টিজ কিডেরই বিবর্তন।


"এইযেএএ ইঞ্জিনিয়ার সাব", বলে হাক ছাড়লো সাক্ষর। আপনাদের বললাম না যে আরেক মীর? হ্যা মাল সেই আরেক মীরই। "কি টানবা? ওহ তোমার তো সুইচ🤦‍♂️", বলেই লগের টং থেকেই নিয়ে আসে কড়া দুই টা লেবুচা আর ওর জন্য ব্রি। আমি পকেট থেকে থোব্রানো প্যাকেটের থে নিয়া ধরাই সুইচ। চা চলে আড্ডা চলে। আড্ডায় উঠে রাস্তাঘাটের সাড়ে বাইশ মার্কা অবস্থা। নষ্টালজিয়া আঁকড়ে ধরে না আমাদের। কেন ধরবে? আমরা যা চোখেই দেখিনাই তা নিয়া কিভাবে আহা আফসোস করবো?

মীরও এসে গেছে এরই ফাঁকে। পুরোদস্তু চাকুরীজীবি। ফর্মাল পোষাকের সাথে সাইড ব্যাগ। দুইদিন পরে বিয়ে থা করলে হয়তো আরেক হাতে টিফিন ক্যারিয়ার ঝুলবে তবে সে আশা মিছে।

আমরা তিনজন এক স্কুলের হলেও বন্ধুত্বটাই হয়েছে স্কুলের গন্ডি পার হবার পরেই। যেমন বন্ধুবান্ধব ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে নাদিমের ঢাকার অলিতে গলিতে।

টাংগাইলে টুকটাক গ্যাজানো হয় এভাবেই। এদের সাথেই। দুইটারেই আস্তেধীরে পড়ুয়া বানানোর ব্যর্থচেষ্টায় মত্ত হয়ে আছি৷ একজনে আলসেমিতে পড়ে না। আরেকজন পড়ার জন্য মনোযোগ পায়না৷ কিন্তু বই তো পড়তে হবে তাই না? বলুন। লোকজনের চিন্তাভাবনা বুঝবেন তো না নইলে। শুধু বলে যাবেন এই জেনারেশন হ্যান ত্যান খালি ফোন টিপে টিক টক করে🤦‍♂️🤦‍♂️ আর প্রাইভেটের গুলা। ওমাগো এরা তো খায় গুটি আর সীসা 🤕। কিন্তু এইসবকে ছাপিয়ে এরাও ৫২, ৬৯, ৭১ এর মতো এক হতে জানে। যার প্রমান দিয়েছে ভ্যাট আন্দলোনে, কোটা রিফর্মে, নিরাপদ সড়কের বেলায়ও৷ এখন আবার বেরসিকের মতো জিজ্ঞেস কইরেন না তাতে আমাদের কি?🤦‍♂️🤦‍♂️

আপনাদের উচিত জেনারেশন গ্যাপ সৃষ্টি না করে জেনারেশনের সাথে জেনারেশনের সেতু বানানো। নইলে একতাবদ্ধভাবে কিছুই আগাবে না।

"সাকিব, কি বই আনবা বলছিলা? আনছো?", চায়ে চুমুক দিতে দিতে জিজ্ঞেস করলো মীর। " জ্বে জনাব, কিন্তু কথা হইল না পড়লে পাসার ছাল তুলে ফেলবো কিন্তু", রাগ দেখালাম আমি। " বইয়ের নাম কি?," সাক্ষর জিজ্ঞেস করলো সিগারেটের পুটটিটা টুস করে ফিক্কা মার‍তে মারতে।

"রঙ মিলান্তি", আরেকটা ব্রি ধরাতে ধরাতে উত্তর দিলাম আমি। বলতে গেলে আমাদেরই গল্প। অবেক কিছু রিলেট কর‍তে পারবা৷ এখনকার বইগুলাতে তো সোডিয়ামের প্রেম হ্যান ত্যান। কিন্তু সাদা বাতির গল্পগুলো কাগজে পাচ্ছিনা আমরা। পাচ্ছি কি? এখনের প্রেমেও আবেগ আছে। “দ্যাখো ভাই, মানতাছি আজকালকার পোলাপান ‘বাবু বাবু’ করে, কিন্তু আগের দিনে মনে হয় আদর কম আছিল? হেতেরাও দ্যাখো গিয়া ‘ওগো’ ‘হ্যা গো’ করত। পিরিতের বচন বদলাইছে, পিরিত বদলায় নাই। পিরিতের বাজার সব সময়েই ভালা আছিল। এখনো আছে😴 খাকি প্যাম পিরিতিই নাই আছে আমাগো মতো কিছু মাইনষেরই গল্প। যারা অংশ নিছি নো ভ্যাটে, কোটা রিফর্মে, নিরাপদ সড়কে। আমাদের দরকার এমনই বই ভাই। যেখানে আমাদের চিন্তাভাবনার সাথে রিলেট করা যায়।

" শুনতে ভালোই লাগে, পড়তে পারুম তো?", জিগায় মীর। চা শেষ ব্যাটার বহু আগেই তাও হাতে কাপ নিয়া বসেই আছে। না পড়তে পারলে ব্রি খাওয়াইও🤦‍♂️🤦‍♂️🤦‍♂️

"এখনই খায়া নেও," সাক্ষর টিপ্পনি কাটল। বেঞ্চ থেকে উঠে গিয়ে ব্রি নিয়া আসলাম। আপনাদের যতটুকু বলেছি সেটুকু মীর শুনলে অবশ্য প্যাকেটও গিফট দিয়া বসতে পারে। যাগগে সে কথা অন্যদিন। আজকে আড্ডা দেব সাদাবাতি জ্বলার আগ পর্যন্ত।

এই আড্ডা এই মুহুর্ত হয়তো আমাদের নস্টালজিক করবে কিংবা কালের গহব্বরে হারিয়ে যাবে রঙ মিলান্তির আশায়। সাদা শার্ট আর খাকি প্যান্টের রঙের মেলায় যখন দেখি তখন মনে মনে মনে গুনগুণিয়ে উঠি " আমরা করবো জয়, একদিন"।
Read
February 8, 2021
রঙ মিলান্তি

সময়কে আঁকা যায়, লেখা যায়, বানানো যায় ভাস্কর্যের মতো করে। শিল্পীদের এই ক্ষমতাটা আছে- ‘সময়ের’ নিজস্ব কিছু রঙ থাকে- ধূসর, খয়েরি, লাল, সাদা কিংবা কালো । সাদা সময় সবচেয়ে ভয়ানক- কারণ সাদা একা নয়- সাদা অনেক রঙের সমষ্টি। আর কালো? কালো কোনো রঙ নয় আসলে- রঙের অনুপস্থিতিই আসলে ‘কালো।’ সময়ের নিজস্ব রঙের সাথে শিল্পী যোগ করেন আরো কিছু।

‘রঙ মিলান্তি’ নামের যে উপন্যাসটা আমি পড়লাম সেখানে সময়কে স্কেচ করা হয়েছে- যে সময়টাতে আমি নিজেই টগবগে তরুণ। বর্ণিত সমস্ত ঘটনার প্রত্যক্ষ করেছি। পিচঢালা রাস্তায় লাল রঙ দেখেছি, অশ্রুজলে আকাশের মেঘের রঙ দেখেছি। বইয়ের লেখক আমাকে সেসব আবার দেখিয়েছেন।

আন্দোলনের সময়টাতে কিছু তরুণ চোখ মেলে তাকিয়ে আছে, কেউ সামিল হচ্ছে স্রোতে, কারো মস্তিষ্ক পাজলের মতো রঙ মেলাতে ব্যস্ত- প্রেম, বিচ্ছেদ, চুমু, সিগারেট, ফুল কিংবা গাঁজা- একটা জেনারেশনের ক্যানভাসের অনেকটা রঙ বইয়ের পাতা থেকে ছিঁটকে এসে আমার মুখে লেগেছে।

আমি ‘উপভোগ’ করেছি, বলা ভালো ‘ভোগ’ করেছি- কারণ আমাকে খুঁজতে হয়েছে- আমি যে রঙ নিয়ে খেলেছিলাম সেই সময়টাতে – সেটা কোথাও খুঁজে পাই কিনা! আমাকে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়েছে, আমাকে ‘নাদিমের’ সাথে শাহবাগ ঘুরতে হয়েছে, এক দেশলাইয়ের কাঠি দিয়ে দুটো সিগারেট ধরাতে হয়েছে। আমার ভালো লেগেছে এই সঙ্গ। তবে হ্যাঁ, একজন লেখক যখন সময়কে নিয়ে এমন সাহসী কাজ করেন- তখন সেই সময়ে চরিত্ররা কেমন ছিলো-কেবল এটা দেখানোই লেখকের কাজ না, বরং চরিত্রদের কেমন হওয়া উচিৎ এটা দেখানোও কাজ।

‘রঙ মিলান্তি’তে অনেক রঙ আছে। যেখানে যে জিনিসটার আধিক্য থাকে তখন সেই জিনিসটা আর দৃষ্টিগোচর হয় না। অধিক সূর্যের আলোতে আমরা সূর্যকে দেখতে পাই না। ‘রঙ মিলান্তি’ তাই একই সঙ্গে ‘সাদা’ এবং ‘কালো’ রঙের বই- যা আজ থেকে দলিল হয়ে থেকে গেলো, থেকে যাবে।
Profile Image for Ashraf Hossain Parvez.
83 reviews4 followers
January 26, 2021
ইট পাথরের দেয়ালের এই শহরে হরেক রকম মানুষের বাস। প্রতিদিন এই শহরে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে ভিড় করে নানা রঙের মানুষ। কেউ বা আসে জীবিকার তাগিদে আবার কেউ বা আসে এবং উচ্চশিক্ষার আকাঙ্ক্ষায়। দিন দিন সেসব মানুষের চাপে শহরটা হয়ে উঠছে অবাসযোগ্য। তেমনি দেখা যায় লাল, নীল, হলুদ, সবুজ রঙে রাঙানো হরেক রকম রঙের মিলনমেলা। আর সেই রঙে রাঙানো নাদিম, আরিফ, লাবিব, আরিফ, শিহাব, সৌম্য, রিক্তা, বেলা আর দীপাদের আখ্যান উঠে এসেছে এই উপন্যাসটিতে।

বর্তমান সমাজের প্রেক্ষাপট নিয়ে লেখা এই উপন্যাসটিতে উঠে এসেছে নানান চিত্র। ২০১৩ সালের উত্তাল সময়ে জেগে ওঠা শাহবাগের প্রজন্ম চত্ত্বর, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফি'র ওপর ভ্যাটের সংযোজন নিয়ে কঠোর আন্দোলন কিংবা সাম্প্রতিক কালে ঘটে যাওয়া কোটা সংস্কার আর নিরাপদ সড়ক চাই এর মতো কঠোর আন্দোলনের চিত্র উঠে এসেছে। আর এসব আন্দোলনের পেছনে অগ্রনী ভূমিকা পালন করা ছাত্রসমাজের একটা চিত্র দেখতে পাওয়া যায়।

বর্তমান তরুণ সমাজ নিয়ে গুণীজন কিংবা আমাদের বয়োজ্যেষ্ঠদের কিরকম ধারণা পোষণ করেন তার একটা চিত্র দেখতে পাওয়া যায় এই উপন্যাসটিতে। জেনারেশন গ্যাপ নিয়ে একটা সম্যক ধারণা পাওয়া যায় এখানে। তরুণ সমাজ যে একটা দেশের সমাজ কিংবা রাজনৈতিক চিত্র বদলে দিতে তারই প্রমাণ পাওয়া যায় এখানে। বইটি পড়তে পড়তে মনে পড়ে গেছিল আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সে দিনগুলো। আর এই চমৎকার কাজটি করার জন্যে তরুণ লেখক মাহমুদুর রহমান একটা ধন্যবাদ পেতেই পারেন। এছাড়া বইটির প্রচ্ছদটিও চমৎকার লেগেছে আমার কাছে।

সবমিলিয়ে বইটি পড়ে দারুণ লেগেছে আর বরাবরের মতো এবারও লেখক দারুণ একটা বই উপহার দিয়েছেন পাঠকদের কাছে।
Profile Image for Mohammad Kamrul Hasan.
367 reviews15 followers
March 8, 2023
📚 বই নিয়ে আলোচনা

‘রঙ মিলান্তি’ কত সুন্দর নামটা না, আদতে এই রঙের মাঝেই লুকিয়ে আছে কত পাওয়া না পাওয়ার গল্প গাঁথা।

নব্বই দশকের দিকে যাদের জন্ম তারা বর্তমান যুগের নতুন নতুন প্রযুক্তির যুগে এসে হিমসিম খাচ্ছে�� নিজেদের মিলাতে পারছে না দ্বিতীয় প্রজন্ম থেকে একদম পঞ্চম প্রজন্মতে চলে আসা দুনিয়ার সাথে।
প্রতিনিয়ত পরিবারের বড়দের কাছ থেকে প্রায় একটা কথা শুনেই তারা বড় হয়েছে ‘এই প্রজন্মের ছেলে মেয়েদের দিয়ে কিচ্ছু হবে না’।
তারা মনে করে, এসব ছেলে মেয়েরা না দেখেছে কোনো যুদ্ধ, না দেখেছে কোনো বড় আন্দোলন। তাই তারা কোনো মেহনত বোঝে না। কষ্টে অর্জিত অর্জণের মর্ম কিভাবে বুঝবে তারা!
সদ্য হাতে আসা স্মার্টফোনেই তারা তাদের বেশিরভাগ সময় অপচ করে যাচ্ছে।

সত্যিই কি তাই? দেশ স্বাধীনের ৪৭ বছর পরে যা কেউ করতে পারেনি, কিন্তু এই প্রজন্মের ছেলে মেয়ারা তা করে দেখিয়েছে। ৪৭ বছর পর মহাসড়কে ইমার্জেন্সি লেন তৈরি করে দেখিয়েছে।
কাছাকাছি সময়তে তারা বড় বড় তিনটা ছাত্র আন্দোলন দেখেছে।
অনলাইনের নীল সাদা দেয়ালে একটা চিৎকারে শাহবাগে জড় করেছে লাখো মানুষের ঢল। ৫২র ভাষা আন্দোলন, ৭১এর স্বাধীনতা আন্দোলন হতে পারে তাদের পাঠ্যবস্তু অংশ। কিন্তু তাই বলে কি তারা কিছুই শিখেনি? তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোঠা আন্দোলন তো করেছি? মহাম���রীর আকারে পরিণত হওয়া সড়ক দুর্ঘটনার বিপরীতে তারা কী হাতে হাত রেখে রাজপথে নামেনি? কে বলল তারা পারে না! তাদের জ্বালানোর জন্য কেবল বারুদের একটু স্ফুলিঙ্গই যথেষ্ট!

গল্পের নাদিম চরিত্রটি পুরো গল্প জুড়ে এই প্রশ্নের উত্তরই খুঁজে চলে। নাদিমের বন্ধু আরিফ, শিহাব, সৌম্য, রিক্তা, বেলা এরা প্রত্যকেই যেনো আমাদেরই কারো না কারো প্রতিচ্ছবি।

উপন্যাসে ফুটে উঠেছে নব্বই দশকের ঢাকাশহের চিত্র। সেই সাথে সেই সময়কার প্রজন্মের মধ্যকার চিন্তার একটি জগৎ।
নাদিম তার সব বন্ধুদের মাঝে থেকেও একা, বেলার সাথে আরিফের খুনসুটি পূর্ণ প্রেম, কারো আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের
নিয়মতান্ত্রিক মহা জটিলতা নিয়ে দৌড়াদৌড়ি।
এই সব কিছু নিয়েই নব্বই দশকের প্রজন্ম ধিকিধিকি করে এগিয়ে যাচ্ছে আগামীর পথে। করে যাচ্ছে অবিরাম পাওয়া না পাওয়ার জটিল হিসাব। ‘সাদা’ ‘কালো’ রঙ দিয়ে করে যাচ্ছে ‘রঙ মিলান্তি’। আর গড়ে দিয়ে যাচ্ছে বর্তমান প্রজন্মকে রেডিমেড দুনিয়া।

***

মোদ্দা কথা উপন্যাসটি নব্বইদশকের কেউ পড়লে অবশ্যই আবেগাপ্লুত হবে। করবেন হয়তো নিজের জীবনের হিসাব নিকাশ। সবচেয়ে ভালোলাগার বিষয় হচ্ছে বইটি পড়ার সময় সেই সকল পাঠক তাদের সেই রোমন্থিত শহরটাকে যেন একদম চোখের সামনে থেকে দেখবে।

মোগলনামা ১ -২, রাধেয় বই তিনটি লেখক ‘মাহমুদুর রহমান’ ইতোমধ্যেই পাঠক মহলে পরিচিত অর্জণ করেছেন। উনার পাঠক ধরে রাখা লেখনি সত্যিই প্রশংসা যোগ্য। তার এই ধারাবাহিকতায় বজায় রেখে তিনি বের করলেন বর্তমান বই ‘রঙ মিলান্তি’ এবং ‘শকুনি উবাচ’।

বর্তমান বইটি বের হয়েছে ‘নালন্দা প্রকাশনী’ থেকে। প্রডাকশন ভালো।

★★★★ ধন্যবাদ ★★★★
©️ মোঃ কামরুল হাসান
📚 বই হোক আপনার, আপনি বইয়ের 📚
Profile Image for Saima  Taher  Shovon.
529 reviews195 followers
January 22, 2022
শুরুতেই বলে রাখি,এই উপন্যাসকে ভীষণ আপন মনে হয় পড়ার সময়। একটা কারণ খুঁজে পেয়েছি। এইযে আমাদের জীবন, এর সাথে মিলে যায় দু-তিনটে বিষয়,দু তিনটে না আসলে-পুরোটাই মিলে যায়। ইদানীং ফেইসবুক বা কোনো সোশ্যাল মিডিয়াতে ডুকলেই ছবিতে সুন্দর বন্ধুত্বের গল্প দেখি। সেসব যেনো শব্দ দিয়ে মুড়িয়ে পাতায় দিয়ে দিয়েছেন লেখক। ছাত্ররা পড়বে, সাথে সবকিছু নিয়েই চিন্তা করবে, জীবন যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ার আগে জীবন দেখে নেবে,অভিজ্ঞতা কামাবে, আবার এই ছাত্রদেরই কতো ক্ষমতা আর দুর্বলতা, তা কতো সুন্দর লেখক বুঝিয়ে দিয়েছেন।
আমি লেখকদের হিংসে করি, তারা কী সুন্দর একের পর এক শব্দ জুড়ে দিয়ে পরিচিত অপরিচিত ঘটনা আমাদের করে দেন! এই যেমন গল্পের চরিত্ররা সিনেমা, পরিচালক, লেখক,নায়কদের নিয়ে আড্ডা দিচ্ছে একটা চ্যাপ্টারে। আমার এমন কোনো এক গ্রুপ নেই যে আমি আড্ডা দেবো এই করে, তবে আমার বেশ কজনের সাথে পরিচয় আছে এইখানে। তাদের সাথের সম্পর্ক বন্ধুত্ব হয়তো না,কিন্তু এমনও দিন গেছে যে সারাদিন কোনো সিরিজের একটা এপিসোড বা কোনো সিনেমা নিয়ে কথা বলেছি, ঝগড়া করেছি, আবার মিল পরে যাওয়াতে খুশি হয়ে এইসেই বলেছি। এই বিষয় কতো সুন্দর করে দেখিয়েছেন লেখক(এই কনভারসেশন সত্যিই নাকি হয়েছিলো,লেখক থেকে শোনা) আমার বিশ্বাস সবাই এমন কনভারসেশনে অংশগ্রহণ কোনো না কোনোভাবে করেছে। এ থেকে শেখা যায়,নতুন কিছু জানা যায়,বুঝা যা। তারচেয়ে বড় কথা হলো শান্তি পাওয়া যায়।আর বইয়ের এই অংশে আসলে,আরে এ তো ঠিক আমাদের ওই ঘটনার মতোন-এই কথা মনে আসবে,যা কিন্তু প্রায় অধ্যায়েই মনে হচ্ছিলো।
এমন জায়গায় এসে উপন্যাস শেষ হয়েছে যে,মনে তৃপ্তিও এসেছে আবার চরিত্রদের শেষও জানতে ইচ্ছে হচ্ছে। অদ্ভুত না?
Profile Image for Habiba Kamrun.
36 reviews16 followers
March 31, 2021
নব্বই দশকের কিছু তরুণ দের নিয়ে লেখা সামাজিক ঘরনার উপন্যাস 'রঙ মিলান্তি'। যারা নব্বই দশকে জন্মেছে তারা একদিক দিয়ে প্রযুক্তির সীমিত ব্যবহার দেখেছে আর এখন দেখছে ডিজিটাল এক পৃথিবী। মূলত গত বিশ-পঁচিশ বছরে প্রযুক্তির ব্যবহার বিশেষকরে যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। এই দিকটা চিন্তা করলে তারা খুবই ভাগ্যবান।

এই সময়ের সেই স্বপ্নবাজ তরুণদের প্রতিনিধি নাদিম, রিক্তা, বেলা, আরিফ, সজীব, শিহাব, শাহরিয়ার। তাদের চাওয়া-পাওয়া, প্রেম, জীবন-যুদ্ধ, যুদ্ধের মাঝে দর্শন, দর্শনের মাঝে স্বপ্ন। সেই স্বপ্নে ছোপ ছোপ রঙ। অন্যভাবে বললে এই প্রাণগুলোই রঙিন। সেই রঙিন প্রাণের হাত ধরে একটা শান্ত, সুন্দর সময়ের খোঁজে পথ চলার নাম ‘রঙ মিলান্তি’।
Profile Image for Sk Sneho.
37 reviews5 followers
October 9, 2024
বইটা অন্য সময় পড়লে কি মনে হতো আমি জানি না। কিন্তু যখন ২৪ এর জুলাই আন্দোলনে নেট বন্ধ ছিলো, অস্থির ও ভয়ংকর একটা সময় ছিলো, তখন আমি বইটা পড়ে শেষ করি। মনে হচ্ছিলো যেন ডেজা ভু হচ্ছে, কারণ কোটা আন্দোলন নিয়েই ২৪ এর আন্দোলন শুরু হয়েছিলো। এখন অক্টোবর মাস, কতো কিই না পরিবর্তন হয়ে গেছে এর ভেতর!!
অন্য সময় পড়লে বইটার নিশ্চয়ই আমি আরও কাটাছেঁড়া করতাম, কিন্তু এখন আর তা সম্ভব নয়। কিভাবে যেন বইটা যে ভবিষ্যতের কথা জানিয়েছিল, অন্তত পক্ষে ইঙ্গিত দিয়ে ছিলো তা এবং তার চেয়েও বেশি কিছু হয়ে গেছে। সাহিত্যিকদের সমাজপাঠ যে গুরুত্বপূর্ণ, বইয়ের কিছু জিনিস ভবিষ্যতে মিলে যাওয়াতে তাই প্রমাণ হয়।
আমার মনে হয় কিছু দিন পর পর বইটা পূনর্পাঠের দাবি রাখে, কারণ একটা সময় ধরা আছে এই বইয়ে, যা কিনা ২৪ এর অভ্যুত্থানের পূর্বসূরি। কিভাবে মানুষ, বিশেষ করে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জাতীয় আন্দোলনে যুক্ত হলো, নেতৃত্ব দিলো, বা কোন ঘটনায় মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিলো ১৮ সালে, সেটা ফুটে উঠেছে বলে মনে করি। বইটা সময়ের কথা বলে, এটাই তার সাফল্য। ইন রেট্রোস্পেক্টিভ, বইটার পুনর্পাঠ হবে, সময়ের তাগিদ ও তারুণ্যকে বুঝতে। লেখকের কাছে রঙ মিলান্তি ২৪ এর ভার্সনের আবদার জানিয়ে রাখলাম।
Displaying 1 - 11 of 11 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.