সমাজের আড়ালে লুকিয়ে থাকে আরেক সমাজ। সেখানে চলে না প্রচলিত নিয়মকানুন। লাশের পর লাশ ফেলে দেওয়া হয়, হাতবদল হয় কোটি কোটি টাকা। নানাবিধ অপরাধের সাথে জড়িয়ে এই অন্ধকার জগতের মানুষেরা আমাদের সমাজে সৃষ্টি করে গভীর সব ক্ষত। বাজারে এল নতুন এক মাদক। অন্ধকার সাম্রাজ্যে বেধে গেল যুদ্ধ। সেই চক্রবূহ্যে হিমশিম খেতে লাগল একদল সত্য সন্ধানী মানুষ....
Rafat Shams has spent all of his years in the city of Dhaka. The underbelly of the city always intrigued him and such is reflected in his writing. He goes for a bold, unabashed approach in his writing.
নতুন একটা রিক্রিয়েশনাল ড্রাগ মার্কেটে ছড়িয়ে পড়া, ড্রাগের প্রভাবে কিছু মৃত্যু, কয়েকজন মাফিয়া ও ড্রাগচক্রের মূল হোতাকে ধরার জন্য সংঘবদ্ধ নার্কটিক্স ডিপার্টমেন্টকে ঘিরেই লেখা হয়েছে মৃত্যুর পেলব স্পর্শ নভেলাটি। শুরুর দিকে কিছু বুঝে উঠার আগেই ঝড়ের গতিতে একের পর এক ঘটনা ঘটতে থাকে। এজন্য কাহিনী একটু খাপছাড়া লাগছিল। পরে গিয়ে ধীরেসুস্থে কাহিনী গুছিয়ে এসেছে, কাহিনীতে গতি বেড়েছে, ক্লাইম্যাক্স এসেছে। কিছু রহস্যময় চরিত্র এসেছে। এগুলোর ব্যাকগ্রাউন্ড বর্ণনা করলে ভালো লাগত। যাইহোক, কাহিনীতে ভালোই সাসপেন্স ছিল। শেষের দিকে কিছু টুইস্ট এর দেখাও পাওয়া গিয়েছে। কিছু একশন সিনও আছে। নতুন ড্রাগের মাধ্যমে মাফিয়াদের কার্যক্রম তুলে ধরতে চেষ্টা করেছেন লেখক। পুলিশি তদন্ত প্রক্রিয়াও সংক্ষেপে ভালোই দেখিয়েছেন। এটাই বেশি ভালো লেগেছে। নভেলা বা বুকশট হিসেবে বইটা ভালোই। আশা করছি পরবর্তী পর্বে আরও বিস্তারিত থাকবে।
ফটাফট কয়েকটা টুইস্ট দিয়ে গড়পরতার মতো দায়সারা এন্ডিং আমার মতো পাঠকের পছন্দ হবে না। ভালোবাসা জিনিসটাও বাংলা সিনেমার মতো দায়সারা গোছের না হলেই ভালো হতো।
আমার কাছে বেশ ভাল লেগেছে। খুব ছোট বইয়ে মোটামুটি বেশ বড় একটা প্লট এবং অনেকগুলো চরিত্রের সমাহার, যদিও লেখক সুন্দরভাবেই চরিত্রায়ন করেছেন। ছোট বই কিন্তু নির্দিষ্ট কোন চরিত্র নিয়ে অতিরিক্ত ফোকাস না করে সবগুলো চরিত্র নিয়েই অল্পপরিসরে বেশ ভাল কাজ করেছেন লেখক। যদিও শেষের দিকে মনে হয়েছে আরো কয়েক পৃষ্ঠা বেশি থাকলে ভাল হত। একটানা পড়ার জন্য ভাল একটা বই, আমি একটানা শেষ করেছি। বইটা আসলে ড্রাগ-ডিলিং নিয়ে হলেও এই বইতে খুব বেশি ড্রাগ-ডিলিং নিয়ে কিছু ছিলনা, কিন্তু বইটার সিকুয়েল আসবে, আশা করি বইয়ের পরবর্তি পার্টে ড্রাগ-ডিলিং ফোকাস পাবে। যাইহোক, আমার কাছে সবমিলিয়ে বইটা ভাল লেগেছে।
"সমাজের আড়ালে লুকিয়ে থাকে আরেক সমাজ। সেখানে চলে না প্রচলিত নিয়মকানুন। লাশের পর লাশ ফেলে দেওয়া হয়, হাতবদল হয় কোটি কোটি টাকা। নানাবিধ অপরাধের সাথে জড়িয়ে এই অন্ধকার জগতের মানুষেরা আমাদের সমাজে সৃষ্টি করে গভীর সব ক্ষত। বাজারে এল নতুন এক মাদক। অন্ধকার সাম্রাজ্যে বেধে গেল যুদ্ধ। সেই চক্রব্যূহে হিমশিম খেতে লাগল একদল সত্য সন্ধানী মানুষ। রাতের আঁধার ফুঁড়ে ছুটে বেড়াচ্ছে একটি কালো গাড়ি। চালকের আসনে বসা সুন্দরী তরুণীটি জড়িয়ে গেছে এই নিচ্ছিদ্র জালে। রুদ্ধশ্বাস এই থ্রিলারবিহারে পাঠককে স্বাগতম।' বই: মৃত্যুর পেলব স্পর্শ লেখক: রাফাত শামস প্রকাশনী: অবসর প্রকাশনা সংস্থা মূল্যঃ ২৫০ টাকা
ভাল বই। কিন্তু সম্পাদনা ভাল নয়। অসংখ্য টাইপো রয়েছে, সাথে মাঝে মাঝেই চরিত্রের নাম বদলে যাচ্ছিল। এছাড়াও বেশ কিছু অসঙ্গতি রয়েছে। এগুলো যথেষ্ট বিরক্তির উদ্রেক করলেও, সব মিলিয়ে উপভোগ্য ছিল। তবে শেষে আরেকটু বিশদ বিবরণ আশা করেছিলাম। 'শো, ডোন্ট টেল' এর সমর্থক আমি। তার বদলে লেখক নিজের বয়ানে কয়েক পৃষ্ঠায় সব কিছুর ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
সামনে সম্ভবত এই সিরিজের আরও বই আসবে। অপেক্ষায় রইলাম।
বইটা নিয়ে রিভিউ দেয়ার আগে এটুকু উল্লেখ করে নেয়া ভাল যে বইটা আমার বন্ধুর লেখা, কিছুটা বায়াসনেস থেকে যেতে পারে কিন্তু চেষ্টা করেছি আনবায়াসড ওপিনিওন দিতে। ড্রাগলর্ড সিরিজের প্রথম বই মৃত্যুর পেলব স্পর্শ । এটি একটি ক্রাইম থ্রিলার। দেশে চালু হওয়া নতুন এক ড্রাগ, সেটি বিপননকারী সন্ত্রাসীদের একের পর এক মৃত্যুতে রহস্য জমে উঠে। পুলিশ, নার্কোটিক্স ডিপার্টমেন্ট এবং ড্রাগ বিপননকারীদের মধ্যে ঘটনাবলী প্রবাহিত হতে থাকে। প্রধান চরিত্রে অবশ্যই পুলিশ। ১৪০ পৃষ্ঠার ছোট পরিসরে ঠাস বুনটে ভালভাবে কাহিনী গুছিয়ে দেয়া হয়েছে। পড়তে পড়তে একবারও মনে হয়নি যে এটি কোন নবীন লেখকের বই কিংবা লেখার হাত কাচা। বরং বইয়ে ঘটনার প্রেক্ষিতে বিভিন্ন বিবরণে যেসব তথ্য দেয়া হয়েছে তা পড়ে মনে হয় যেন ভালভাবে রিসার্চ করে বইটা লেখা হয়েছে। গল্পটা আরো বড় পরিসরে পেলে আরো জমত কিন্তু হয়তো সিরিজ বলেই ছোট পরিসরে কাহিনী গুছিয়ে দেয়া হয়েছে। বই শেষ করার পর সিরিজের ২য় বইয়ের জন্য আগ্রহ তৈরী হয়েছে। সব মিলে আমি ৪ তারা দেব বইটিকে। তবে ইয়ে, প্রচ্ছদটা আরেকটু ভাল হলে খুশী হতাম আর বইতে কিছু মুদ্রণ প্রমাদ আছে সেগুলো এড়িয়ে গেলে ভাল হত। থ্রিলার প্রেমীরা পড়তে পারেন, হতাশ হবেন না আশা করি।
অন্ধ ধাঁধায় বিদ্যা ঝালাই এর মতো শহরের অলিগলির অন্ধকারে মাদক নিয়ে দৌড়ঝাপ! বেশ ভালো। সিরিজের শুরু হিসেবে বেশ ভালোই। কিছু ছেড়া সুতো আর কনফিউশন রাখা হয়েছে, সম্ভবত কাহিনী এগুবে সেগুলো নিয়েই। নারকো থ্রিলারে বাংলাদেশের প্রথম ধাপ। এগিয়ে যাক!
গত ক'দিনে পড়া মৌলিক থ্রিলারগুলো হলো ঢাকায় ফাগুন, ধাঁধার থেকেও জটিল এবং মৃত্যুর পেলব স্পর্শ। আশ্চর্যজনকভাবে ভালোলাগার মাত্রাটা উর্ধ্বমুখী! মৃত্যুর পেলব স্পর্শ ভালো লেগেছে। কোনো ধরনের ভণিতা না করে লেখক সাহেব সরাসরি কাহিনীতে ঢুকে গেছেন। পুরো বইয়েও ধর তক্তা মার পেরেক টাইপের লেখনী। নভেলা হিসেবে ঠিক হলেও "ওস্তাদ" ক্যারেক্টারের আরেকটু ফুটেজ আশা করেছিলাম। সাথে "ভাইজান" ক্যারেক্টারের এক্টু ব্যাকগ্রাউন্ড। একটা বই মনে গেঁথে থাকে তখনই যখন বইয়ের কোনো ক্যারেক্টারের উপর মায়া/রাগ/ভালোবাসা জন্মে যায়। তাই চরিত্রায়ন জিনিসটা আমার কাছে খুবই ইম্পর্টেন্ট মনে হয়।
লেখক অ্যাকশন সিনগুলো বেশ দক্ষতার সাথে লিখেছেন। স্কিপ করে যাওয়ার চান্স নেই। তবে টাইপো আছে অনেক। চোখে লাগে এমন। সব মিলিয়ে গত ক'দিনে পড়ে মৌলিক তিনটা থ্রিলারের মধ্যে এটা বেস্ট লেগেছে আমার কাছে। ১৩৮ পেইজের এই বইটির দাম ২৫০ টাকা।
"অমুক খুন হয়েছে, তমুক কি এই রহস্য উদঘাটন করতে পারবে? এর সাথে হাজার বছর আগের ডাইনোসরের কাশির কী সম্পর্ক?"–ধাঁচের ইন্ট্রো দেখলেই ওসব বই এড়িয়ে চলি এখন। পুলিশ প্রসিডিউরাল বা মার্ডা�� মিস্ট্রির প্রতি একসময় অনেক আগ্রহ থাকলেও এখন অতোটা নেই। চরিত্রায়ন ও চরিত্রের সাথে কতটুকু একাত্ম হতে পারি, এসবের বিচারে সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারই বেশি ভালো লাগে। ড্রাগ-ডিলিং বা মাফিয়া চক্রের প্রতিও খুব একটা আগ্রহ ছিল না। সফটকপি পাওয়ার পর লেখককে সরাসরি বলেছিলাম, আমার মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আমার কাছে এই ধাঁচের বই ভালো নাও লাগতে পারে। আমি ভুল ছিলাম।
বইটা আমার শুধু ভালোই লাগেনি, ভীষণ ভালো লেগেছে। পড়তে গিয়ে বারবার বাণের রাফাত আর এই মৃত্যুর পেলব স্পর্শের রাফাতের তফাৎ উপলব্ধি করছিলাম। লেখার ধরন থেকে শুরু করে গল্প বলার ঢং, সুপারন্যাচারাল থেকে একদম ভিন্ন জনরায় গিয়ে এমন মুন্সিয়ানা দেখানো–সবকিছু ব্যক্তিগতভাবে মুগ্ধ করেছে আমাকে। এতক্ষণ লেপের নিচে শুয়ে পড়লেও এখন ঠাণ্ডা চেয়ারে বসে লিখতে গিয়ে কাঁপছি আমি। চোখের সামনে ভাসছে পুরো গল্পটা।
খুব সংক্ষেপে যদি বলি: গল্পটা শুরু হয় একের পর এক কিছু ড্রাগডিলারের খুন হওয়া নিয়ে। তদন্তের খাতিরে আইনসংস্থার লোকজনও আসে। চিরাচরিত গোয়েন্দাও আসে এখানে। তবে এখানেই আপনার "গতানুগতিক" চিন্তার অবসান ঘটবে। কেননা এরপর একে একে গল্পে আসে দারুণ কিছু চরিত্র। আপনি বুঝতে পারেন, আপনার সামনে থাকা কোনো চরিত্রই বিশ্বাসযোগ্য নয়। এনিথিং ক্যান হ্যাপেন...
চরিত্রায়ন নিয়ে যদি বলি: ব্যক্তিগতভাবে সবকটা চরিত্রই আমার ভালো লেগেছে। খুব ছোট একটা বইয়ে বেশ বিস্তৃত একটা প্লট। সেখানে এতগুলো চরিত্রকে খুব বেশি বর্ণনা না দিয়ে একইসাথে লাইমলাইটে আনা এবং মূল গল্পের ধারাবাহিকতা রক্ষা করাটা মুশকিল। লেখক এই কাজটা ভালোভাবেই করেছেন। যতদূর জানি, এই বইটার সিকুয়েল আসবে। সবকটা চরিত্রকে দারুণভাবে পরিচয় করানো শেষ। এবার এদের বিস্তার দেখার অপেক্ষায়। রূপা চরিত্রটাকে নিয়ে লেখকের পরিকল্পনা কেমন আমি জানি না, কিন্তু এই চরিত্রটা আমার কাছে সবথেকে বেশি ভালো লেগেছে। সত্যি বলতে, কোনো চরিত্রকেই ঠিক বেশি ভয়ংকর বা হামবড়াটাইপ মনে হয়নি। সবাই ধূর্ত আর একইসাথে সরল, তর্জন-গর্জনও মুখে নয়, কাজে; চিন্তাধারাও সুচারু। এরকম চরিত্র আমার বেশ লাগে। আজ্ঞে...মি. আনসারিকে পছন্দ হয়ে গেছে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে চমৎকার একটা সিরিজ হতে যাচ্ছে।
প্লট কনস্ট্রাকশনও বেশ ভালো। একটানা পড়ার জন্য দারুণ বই। চুইংগামের মতো টেনেটুনে লম্বা করা কিংবা শেষ অধ্যায়ে বিগরিভিলেশনের জন্য ৫০০ পৃষ্ঠা কচ্চপের গতিতে টেনে নেওয়া আমার পছন্দ নয়। এত কিছু সত্ত্বেও কিছু কিঞ্চিৎ-নেতিবাচক দিক না বললেই নয়।
কয়েকটা টাইপো আছে। সবগুলো গুরুত্বপূর্ণ নয় যদিও, তবে ২/৩টার কথা না বললেই নয়। একটা জায়গায় "ইউ আর ভেরি হ্যাপি টু হ্যাভ ইউ" লেখা আছে, যেখানে শুরুতে আসলে "উই" হওয়ার কথা। এরপর ইব্রাহিম আনসারি ও হাশিম আনসারি দুজন ভিন্ন লোক হওয়া সত্ত্বেও একটা জায়গায় ইব্রাহিম আনসারিকে ইব্রাহিম হাশিম বলে সম্বোধন করা হয়েছে (৩২ পৃষ্ঠায়)। শুরুর দিকে সাংকেতিক কথায় "বিড়াল" শব্দটার উল্লেখই ছিল না। অথচ বর্ণনায় ওটার কথা বলা হয়েছে। (২৩ পৃষ্ঠায়)
ফ্ল্যাশব্যাকের অধ্যায়গুলো হঠাৎ করেই শেষ করে দেওয়া হয়েছে। শেষের দিকে ন্যারেটিভে পুরো ব্যাপার পরিষ্কার না করে হয়তো চরিত্রের মুখ দিয়ে বা গল্পের বিস্তারের সাথে করলে ভালো হতো। এই একটা জায়গায় এসে মনে হয়েছিল, বইটায় কমপক্ষে আরও ২০/৩০ পৃষ্ঠা বেশি হলে সমস্যা ছিল না।
শুরু থেকে আমি অনেক পূর্বানুমান করেছিলাম। কাহিনীবিন্যাস এতো জটিল যে, সরাসরি একটা ধারণাও ফলেনি আমার। -_-
রেটিং দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে ওটা যেহেতু অনেককে সিদ্ধান্ত জন্য সাহায্য করে, সেহেতু দেওয়ায় যায়।
❛মৃত্যুর পেলব স্পর্শ❜ বইটিকে ক্রাইম থ্রিলার জনরায় ফেললেও এটি মূলত নারকোটিক্স থ্রিলারের অন্তর্ভুক্ত। ইংরেজি ‘নারকোটিক’ শব্দের বাংলা অর্থ চেতনানাশক মাদকদ্রব্য। এই নারকোটিক্স বা মাদকদ্রব্যসমূহের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন অহিফেন বা আফিম বাংলায় যেটাকে আমরা ‘পপি’ নামে বেশি পরিচিত। এই মাদকদ্রব্য নিয়ে অনেক যুদ্ধ, সে-ই যুদ্ধ থেকে আইন প্রণয়ন এরপরে অবৈধ ট্যাগ। মাদকদ্রব্য চোরাকারবারি থেকে যত ধরনের অপরাধমূলক কাজ রয়েছে সেইসব কিছুর সাথে জড়িত রয়েছে আন্ডারওয়ার্ল্ডের ডন, ড্রাগ লর্ড কিংবা সম্রাট পদবিধারী মানুষরা। অপরাধ জগতের সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম ঘটনাগুলো যখন বৃহদাকার রূপ ধারণ করে সেটার মূল কারণও এই মাদক।
লেখক মাদক, ড্রাগ লর্ড আর এসবের পেছনে হন্যে হয়ে ছুটে চলা আইনি বাহিনী নিয়ে গঠিত ❛মৃত্যুর পেলব স্পর্শ❜ উপন্যাসিকা। কাহিনির গড়পড়তা কম হলেও তুলে এনেছেন বিশেষ কিছু চিরাচরিত দৃশ্য। যেহতু প্লট পুরোপুরি সমাজের আড়ালে লুকিয়ে থাকা বিভীষিকাময় এক জগতের, সেখানে গড়ে ওঠা হিংসা, ক্ষমতা লড়াইয়ের খেলা, প্রতিশোধ সবকিছু মিলিয়ে উপভোগ্য কাহিনি গঠনে তেমন কমতি না থাকলেও সামান্য অপূর্ণতা থেকে গিয়েছে।
➲ আখ্যান—
সমাজের আড়ালে লুকিয়ে থাকে আরেক সমাজ। সেখানে চলে না প্রচলিত নিয়মকানুন। লাশের পর লাশ ফেলে দেওয়া হয়, হাতবদল হয় কোটি কোটি টাকা। নানাবিধ অপরাধের সাথে জড়িয়ে এই অন্ধকার জগতের মানুষেরা আমাদের সমাজে সৃষ্টি করে গভীর সব ক্ষত। বাজারে এল নতুন এক মাদক। অন্ধকার সাম্রাজ্যে বেধে গেল যুদ্ধ। সেই চক্রবূহ্যে হিমশিম খেতে লাগল একদল সত্য সন্ধানী মানুষ...
➤ পাঠ প্রতিক্রিয়া ও পর্যালোচনা—
বইটিতে আপ টু দ্য মার্ক তেমন কিছু নেই, গতানুগতিক ক্রাইম, মার্ডার বেসড কাহিনি হলেও ইন্টারেস্টিং হচ্ছে চরিত্রায়ন। ‘টাল্টু’ নামক ড্রাগটির বইয়ে ফোকাসে ছিল যেহেতু এই ড্রাগ নিয়ে এতসব ঘটনা, আর ঘটনা থেকে সাপে নেউলে লড়াই। কে কালপ্রিট আর কেই-বা পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ছে সেটা বোঝার জন্য অপেক্ষা করতে শেষ পাতা পর্যন্ত। টান টান উত্তেজনা না হলেও গল্পে মজে থাকার মতো সিকুয়েন্স ছিল। টুইস্ট ভালো ছিল, তবে একটু বেশি দ্রুত ঘটে গেল মনে হলো সবকিছু। লেখক আরও কিছু দিতে পারত পাঠককে।
● প্রারম্ভ—
গল্পের শুরুটা হয় এএসপি সাজ্জাদের একটি গুদামঘরের রেড, ফার্মাসিউটিক্যালের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ফজল সাহেবের ভয়ে কুঁকড়ে যাওয়ার কারণ এবং পথের রাজাদের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। এরপর থেকে কাহিনির ডালপালা মেলতে থাকে। বিভিন্ন অ্যাপার্টমেন্ট, অফিস, খুনের স্পট, বিলাসবহুল গাড়ির ব্যাক সিট, গোলাগুলি পর্যন্ত এই ডালপালার বিস্তৃত। গল্পের শুরুটা কিছুটা বিচ্ছিন্ন মনে হলেও একেবারে খাপছাড়া লাগেনি। কিছুটা ধৈর্য নিয়ে বসতে মূল কাহিনি ঘটার জন্য। তবে জাম্পিং ছিল অনেক।
● গল্প বুনন—
গল্প বুননে লেখকের পারদর্শিতা আরেকটু বেটার হলে ভালো হতো। সিকুয়েন্স সাজানো ঠিকঠাক হলেও হুটহাট সবকিছু ঘটে যাওয়ার কারণে ঘটনার রেশ নিমিষেই হারিয়ে যাচ্ছিল। গ্রিপিং কম ছিল। গল্প বলার ভঙ্গিমা সাবলীল লেগেছে।
● লেখনশৈলী—
সহজ বাংলা শব্দের পাশাপাশি বেশ ইংরেজি সংলাপ সাথে আইনি কার্যালয়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম আসা-যাওয়া করাতেও লেখনশৈলীতে ভাটা পড়েনি। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম, বিলাস বহুল গাড়ির আলোচনা, গোলাগুলির জন্য ব্যবহৃত কয়েক প্রকারের অস্ত্রের বর্ণনা সবকিছু সহজভাবে ফুটে উঠেছে প্রাঞ্জল লেখনশৈলীর কারণে।
● বর্ণনাভঙ্গি—
❛মৃত্যুর পেলব স্পর্শ❜ উপন্যাসিকাতে প্ল�� ও চরিত্রের গুরুত্ব প্রায় সমানুপাতিক ছিল। বিভিন্ন চরিত্রের কার্যক্রম ও পারিপার্শ্বিক বর্ণনাতে কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি। পাঠক সিকুয়েন্সগুলো বেশ ভালোভাবে উপভোগ করতে পারবে। কঠিনভাবে কোনো বস্তুর বা ব্যক্তির বর্ণনা দেওয়া হয়নি। লেখক অল্পতে অনেককিছু সহজে বুঝিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে৷
● চরিত্রায়ন—
কাহিনিতে ডুবে যাওয়ার একটি চরিত্রের ভূমিকা অনেকাংশে দায়ী। লেখক চরিত্র বানানোর পেছনে শ্রম দিয়েছেন। শক্তিশালী, বুদ্ধিমান, ক্ষমতাবান, চৌকস এইরকম অনেক চরিত্রের সমারোহ ঘটেছে। মুহূর্তে শক্তিশালীর চরিত্রের পতনের পাশাপাশি বলশালী চরিত্রের আবির্ভাব কাহিনিতে অনেক শক্তি যুগিয়েছে। প্লট বিল্ডাপ থেকেও চরিত্র বিল্ডাপে লেখক এগিয়ে রয়েছেন৷
প্রত্যকটা চরিত্রের ইমেজ পরিষ্কার তবে কিছু চরিত্রের ব্যাকস্টোরি আরও শক্তিশালী হতে পারত। লেন্থ কম মনে হয়েছে। আশা করি সিক্যুয়েলে সেগুলো পুষিয়ে দিবে, তবে মূল চরিত্রগুলো নিয়ে প্রথম বইতে বিস্তারিত আলোচনা করলে বেটার মনে হয়।
● সমাপ্তি—
টপাটপ যেভাবে লাশ ফেলে দেয় কোনো দুরন্ত শার্প শুটার সেইভাবে লেখকও কয়েকটি ঘটনা টপাটপ ঘটিয়ে ফেলেছেন। একটা দরজা দিয়ে যখন কয়েকশ লোক একসাথে ঢোকার চেষ্টা করে বিষয়টি অনেকটা সেইরকম। তবে ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরে সেটার ব্যাখা দাঁড় করিয়েছেন লেখক। তবে সাসপেন্স ক্রিয়েট করার জন্য যেটুকু সময় নেওয়ার দরকার ছিল সেটা মিসিং। পুরো গল্পটা দ্রুতগামীর হলেও শেষে কিছুটা ধীরগতিতে চালালে ব্যাপারটা আরও সুন্দর হতো। সবমিলিয়ে সমাপ্তি ভালো, পুরো ঘটনার টীকাটিপ্পনী সুদে-আসলে ফেরত দিয়েছেন লেখক।
● খুচরা আলাপ—
❛মৃত্যুর পেলব স্পর্শ❜ কাহিনি গ্রিপ করার জন্য খুনের বর্ণনা ও সেগুলো নিয়ে আরেকটু বিস্তারিত তদন্ত দেখালে আশানুরূপ হতো। পথের রাজাদের বললেও কাহিনি ফোকাস হয়েছে একটি খুনের দিকে, সে-ই খুন ঘিরে চরিত্রগুলো সাজানো। সাজ্জাদের উদ্দেশ্য পুরোপুরিভাবে ক্লিয়ার হয়নি যেহেতু গল্পে সে মূল প্রোটাগনিস্টের একজন। ডেপথ কম লেগেছে। নারকোটিক্স থ্রিলারগুলো বড়ো কলেবরের হলে তখন তৃপ্তি বেশি পাওয়া যায়। শুরু হওয়ার আগে কাহিনি শেষ হলে কিছুটা আক্ষেপ হয়।
➢ লেখক নিয়ে কিছু কথা—
রাফাত শামস ভাইয়ের প্রথম বই ‘বাণ’ যেটা পড়া হয়নি। ❛মৃত্যুর পেলব স্পর্শ❜ বই দিয়ে ওনার সাথে যাত্রা শুরু। যেহেতু বইটির আরও সিক্যুয়েল আসতে চলেছে তাই আশা করি আরও জম্পেশ প্লট ও স্টোরির দেখা পাবো। শুরুটা ভালো ছিল।
● সম্পাদনা ও বানান—
২৩ পৃষ্ঠায় ফজল চরিত্রের সাথে আননোন একজনের সাংকেতিক আলোচনায় ‘বিড়াল’ নিয়ে কথা না হলেও সেটা উল্লেখ ছিল। যেটা অপ্রয়োজনীয় অথবা টাইপো। ৩২ পৃষ্ঠায় ইব্রাহিম হাশিম চরিত্রের নাম কয়েকবার ‘ইব্রাহিম আনসারি’ বলে সম্বোধন করা হয়েছে। এছাড়া কয়েক জায়গায় ‘ইউ’ হয়ে গেছে ‘উই’। তাছাড়া নিত্যব্যবহার্য কিছু বানান ভুল রয়েছে। এল, দিল এইসব শব্দে ‘ও-কার’ ব্যবহার করা উচিত ছিল।
● প্রচ্ছদ—
ভিডিয়ো গেমগুলোর জন্য যেইরকম রেট্রো টাইপ প্রচ্ছদ তৈরি করা হতো এই বইয়ের প্রচ্ছদ অনেকটা সেইরকম। কাহিনির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। ভালো লেগেছে।
● মলাট, বাঁধাই, পৃষ্ঠা—
মলাট শক্তপোক্ত হলেও বাঁধাই দুর্বল। যদিও বই পড়তে কোনো সমস্যা হয়নি তবে কয়েকবার পড়লে ফর্মা থেকে পেজ ছুটে যেতে পারে। বাকি ফন্ট, লাইন গ্যাপ সব ঠিকঠাক।
➠ বই : মৃত্যুর পেলব স্পর্শ | রাফাত শামস ➠ জনরা : নারকোটিক্স থ্রিলার ➠ প্রথম প্রকাশ : ফেব্রুয়ারি ২০২১ ➠ প্রচ্ছদ : ফরিদুর রহমান রাজীব ➠ প্রকাশনা : অবসর ➠ মুদ্রিত মূল্য : ২৫০ টাকা মাত্র ➠ পৃষ্ঠা : ১৪০
বইয়ের নাম: মৃত্যুর পেলব স্পর্শ লেখক: রাফাত শামস প্রকাশনী: অবসর মুদ্রিত মূল্য: ২৫০/- মতামত: মূল বিষয় মাদক দেখে আমার আগ্রহের উদ্রেক হয়েছিল বইটির প্রতি। প্রথমেই বলে রাখি, হতাশ হইনি। একজন প্রবীণ প্রাইভেট কম্পানির কর্মকর্তা, কিছু আইনের মানুষ, কিছু আইনভঙ্গকারী মানুষজন এবং একজন রক্ষিতাকে ঘিরে কাহিনী। মূল উপজীব্য বাজারে আসা নতুন এক মাদকদ্রব্য। কিভাবে এতগুলো মানুষ একসুতায় গাঁথা মূলত তাই প্রকাশ পায় গল্পে। ভালো দিকগুলো বলতে হলে প্রথমেই প্লটের কথা বলতে হবে যা আমার কাছে দেশে অভূতপূর্ব। চরিত্রায়ন বেশ ভালো ছিল, তবে মূল চরিত্র সাজ্জাদ আলমের থেকে অন্যান্য চরিত্রগুলো আমাকে আকর্ষণ করেছে বেশি, বিশেষ করে রুপা চরিত্রটা। তবে বইটি দৈর্ঘ্যে আরেকটু বড় হলে আমার বেশ ভালো লাগত। এত অল্প আকারের বই হলে কিছু চরিত্রের প্রতি অবিচার হয়ে যায়। বিশেষ করে হাশিম আনসারি চরিত্রটার ওপর আরো খানিকটা আলোকপাত করা গেলে পাঠক হিসেবে আমি বেশ উপভোগ করতাম। শেষ পর্যন্ত যাবার পর আমার সেই আক্ষেপ কিছুটা ঘুঁচেছে। তবে সেটা কেন ঘুঁচেছে এখানে বলব না স্পয়লার হয়ে যাবে। কাহিনী আমার কাছে ভালো লেগেছে। টুকটাক কিছু ভুলের দেখা পেয়েছি, যা পরবর্তী সংস্করণে শুধরে নেয়া উচিৎ। কাহিনীতে একবার ঢুকে গেলে অবশ্য সেসব আর মাথায় থাকে না। থ্রিলারপ্রেমীদের বইটা রিকমেন্ড করতে পারব নির্দ্বিধায়। বইটা বড়দের জন্য এবং এই মর্মে শুরুতে একটি disclaimer থাকলে ভালো হতো। যেহেতু অপরাধ জগৎ নিয়ে লেখা, গালাগাল আর অশালীন শব্দের ব্যবহার হয়েছে অনেক। খানিকটা অ্যানিমেশন ধাঁচের প্রচ্ছদ দেখে বিভ্রান্ত হয়ে যাওয়াটা স্বাভাবিক, আমি নিজেই হয়েছি। ১৮ এর গন্ডি পার হয়ে গেছি বলে আমার কোনো অভিযোগ নেই, বরং মনে হয়েছে গল্পে এসবের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু অপ্রাপ্তবয়স্কদের বইটা পড়া উচিৎ হবে না বলে মনে করি। হ্যাপি রিডিং।
বইটা নিয়ে আমার প্রাথমিকভাবে তেমন আশা ছিল না।প্রথম ধীরগতির অধ্যায়ের পর সেটা আরো কমে গিয়েছে।এরজন্য বইটিকে ৫/৫ দিতে পারলাম না।তবে একবার বইটিতে ঢুকে যাবার পর আমি নামিয়ে রাখতে পারি নি।আমার দ্রুতগতির নির্জলা থ্রিলার ভালো লাগে।এই বইটি হতাশ করেনি।খুব রূঢ়ভাবে কিছু ব্যাপারের উপস্থাপন করা হয়েছে।অসামঞ্জস্যপূর্ণ লাগে নি। সিকুয়েলের অপেক্ষায় থাকলাম।
বেশ কিছুদিন থেকে পাওয়া যাচ্ছে ❝পথের রাজা❞-দের ক্ষতবিক্ষত লাশ... নতুন এক মাদকের সন্ধান পাওয়া গেছে যা অসম্ভব দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে! পুলিশ ও নারকোটিক্স ডিপার্টমেন্ট যৌথভাবেও যার প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারছে না। কেন যেন মনে হচ্ছে সিস্টেম আগে থেকেই ঘুণে ধরা! নিজের লোকেরাই নেই তো এর পেছনে?
ইব্রাহিমের আকস্মিক মৃত্যু মাদক সম্রাজ্যে যেন হইচই ফেলে দিয়েছে কিন্তু মাদক পাচার তারপরও চলছে দেদারসে। কালো গাড়িতে করে ছুটে চলেছে এক রমণী। গন্তব্য দূর বহু দূর! ফোন রিং হতেই প্রতিবার কেঁপে ওঠেন ফজল সাহেব কিন্তু কেন? এএসপি সাজ্জাদ আলম অতীতের এক দগদগে ক্ষত বুকে বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছেন। যে মাদক কেড়ে নিয়েছে এতকিছু তার শেষ দেখে ছাড়বেই। কিন্তু অপারেশন পঞ্চগড় বদলে দিলো সব। জড়িয়ে গেল মাদক সম্রাজের সাথে... কী হবে পরিণতি?
❝টাল্টু❞- নামক নতুন মাদক ছড়িয়ে পড়েছে দেশে, পার করে চলে গেছে দেশের বর্ডারও। যার প্রভাবে মারা পড়ছে একের পর এক। আগমন ঘটে ড্রাগলর্ডদের তারপর ঘটতে থাকে বেশকিছু ঘটনা। কাহিনীর প্রয়োজনে এসেছে বহু চরিত্র। বইয়ের ��্লট মূলত এটাই। কয়েকটা ঘটনা একসাথে শুরু হয়েছে সাথে ঝড়ের বেগ তাই বুঝতে কিছু সময় লেগেছে প্রথমে। পরে অবশ্য ব্যালেন্সড হয়ে গেছে।
বড় একটা প্লটকে লেখক ছোট পরিসরের বইয়ে বাঁধার চেষ্টা করেছেন। অতিরিক্ত আলোচনা যেমন নেই তেমনি কিছু জায়গা অস্পষ্ট থেকে গেছে। চরিত্রায়ন ভালো তবে কিছু চরিত্র আঁধারেই থেকে গেছে। চরিত্রগুলোকে যেভাবে দেখানো হয়েছে তাতে ঘটনাগুলো চরিত্রকেন্দ্রিকই বটে। সমাপ্তি টেনেছেন দ্রুতই গতি কিছুটা ধীরে হলে আরও ভালো জমতো। মিস্ট্রি, টুইস্ট, একশন সিনের পরিমাণ যথেষ্টই। শেষেই টুইস্টটা পরবর্তী বইয়ের প্রতি আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
লেখনশৈলী বেশ সাবলীল। একশন সিন, গোলাগুলি, বিভিন্ন কেমিক্যাল কমপ্লেক্সের বর্ণনা দারুণভাবে করা হয়েছে। তবে অভিযোগ আছে একটা টাল্টুর উৎপত্তি নিয়ে আলোচনা অল্পই। বানান ভুল আর নামের বিভ্রাট আছে কিছু। প্রচ্ছদ প্লট রিলেটেড দারুণ তবে ডার্ক হয়েছে একটু বেশি। বইয়ের প্রোডাকশনও ভালো।
The book was a breeze to read through. The charachers are interesting and smart. They rarely make any stupid decision. I am waiting eagerly for revisiting these characters again. I am so impressed with this book that I want the next book to be three times as long and I will still complete the book within a day.
Great. Good story and great writing style. Might feel a little bit of boring at the beginning but the last half is mind-blowing ! Though vulgar language has been used unnecessarily multiple times.