লেখকের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়। প্রতি বছরই তার সেখানে যাবার প্ল্যান থাকে। তবে, বিভিন্ন কারণে বেশিরভাগই যাওয়া তার হয়না।
গ্রামে তার অন্যতম প্রধান কাজ হলো আকাশ দেখা। তারায় ভরপুর রাতের উজ্জ্বল আকাশ। সুযোগ পেলেই লেখক রাত্রিবেলা পরিবার-পরিজনদের থেকে হঠাৎ গুম হয়ে যান। ছুটে যান কোনো এক খোলা মাঠের পরিষ্কার আকাশের নিচে। গ্রামের তারাগুলি বেশ উজ্জ্বল, স্বাস্থ্যবান। শহরে রাতের আকাশ বলে কিছু নেই। সে আকাশ লাল-হলুদ আলোয় আলোকিত। সে আকাশে কোনো তারা নেই। আলোক-দূষণ যেন মুছে দিয়েছে শহরের উজ্জ্বল তারাখচিত রাতের আকাশকে। ঠিক যেভাবে ইরেজার মুছে দেয় পেন্সিলের লেখা। তবে যদি দু-চারটে তারার দেখা মেলে, তাদের দেখায় বেশ অনুজ্জ্বল, অস্বাস্থ্যকর। যেন কতকাল ধরে কিছু খায়নি।
লেখকের নানু বাড়ি থেকে ছোট মা'র বাড়ির দূরত্ব প্রায় বিশ মিনিট। তার ছোট মা'র বাড়িতে আমার আকাশ দেখা শুরু হয় সূর্যাস্তের পর থেকেই। মাঝে আত্মীয়স্বজনদের সাথে মিলেমিশে নাস্তা, অতপর আবার আকাশ। গ্রামে প্রায় ৯টার ভেতরেই সবাই রাতের ভোজ সেরে নেয়। ভোজ শেষে সকলে মিলে আড্ডায় মেতে উঠেন। কখনোবা টেলিভিশন সেটে তাকিয়ে থাকেন। কিন্তু, লেখক থাকেন বাহিরে। খোলা আকাশের নিচে, খোলা মাঠে। একলা। কখনো দাড়িয়ে, কখনোবা বসে কিংবা মাদুরে উপরে শুয়ে। মাঝেমধ্যে দু'একজন মানুষকে এদিকওদিক হাঁটতে দেখা যায়।
লেখকের নানু বাড়ির উঠান থেকে আকাশ বেশ দেখা যায় বটে কিন্তু কম। গাছপালায় আকাশের বেশকিছু অংশের তারারা পাতার ফাঁকে লুকোচুরি খেলে। বাড়ির পাশ দিয়ে একটা লম্বা রাস্তা চলে গেছে। রাস্তা ধরে পূর্বে বহুদূর এগোলে বাজার, পশ্চিমে ভোমরকান্দি। বাড়ি থেকে রাস্তা ধরে ১ মিনিট পশ্চিমে হেঁটে গেলেই এলাকার ঈদগাহ মাঠ। ঈদ আর জানাজার নামাজ বাদে এই বড় মাঠ নিঃসঙ্গ। মাঠের সামনে পুকুর। পুকুরের ওপাড়ে বেশ দূরে ঘরবাড়ির আলো জ্বলছে। পেছনে কবরস্থান আর ডানে রাস্তার ওপাড়ে মসজিদ।
স্বাভাবিক ভাবেই ঈদগাহ মাঠ বড় হয়। এক প্রান্তে দাড়ালে, আঁধারের অন্য দিকে কি আছে তা বোঝা বেশ মুশকিল। উঠান থেকেও বেশ বড় এলাকাজুড়ে মাঠের আকাশের রাজত্ব। এক নজরে অনেকটুকুই দেখা যায়। যেসব তারাগুলি লুকোচুরি খেলছিলো লেখক তাদের ধরে ফেলেছি! আর লুকানোর কোনো পথ নেই।
জন্মের পর থেকেই আকাশ লেখকের চিরসঙ্গী। মাথার উপরের বিশাল আকাশকে লেখক কখনও ভুলে যাননি। প্রতিটি পরতে পরতে আকাশ তার বিস্মিত করেছে। সুবিশাল মহাকাশের রহস্যকে বার বার উদঘাটন করতে চেয়েছে লেখকে মন। তিনি কবি নই৷ কিন্তু জানেনই তো, কবিত্বের মূলেই আছে বিস্ময় ও রহস্য। এই নিয়ে কবিদের জগৎ। কবিমনকে আলোড়িত করে বিশ্বজগতের ক্ষুদ্র ও বিশাল, যাকিছু রহস্যবিস্ময়ে ভরা।
আকাশও বাদ পড়েনি লেখকের কবিমনকে আলোড়িত করতে। কতরকম তার অবলোকন, কতরকমে প্রকাশিত তার বিশালতার ব্যঞ্জনা, যেমন - "আকাশে সাতটি তারা যখন উঠেছে ফুটে আমি এই ঘাসে বসে থাকি"। অথবা, "অনন্ত কুয়োর জলে চাঁদ পড়ে আছে"। অথবা, "আকাশ ধরিয়া হাতে নক্ষত্র-অক্ষর দেখি"। অথবা, "জ্যোৎস্নারাতে বেবিলনের রানীর ঘাড়ের ওপর চিতার উজ্জ্বল চামড়ার শালের মতো জ্বলজ্বল করছিলো বিশাল আকাশ"!
ওই বিশাল আকাশের নীল দিগন্ত পেড়িয়ে, নীলের সীমানা ছাড়িয়ে যে অনন্ত অন্ধকার, সেখানে জ্বলজ্বল করছে হুমায়ূনের অনন্ত নক্ষত্রবীথি; কবিগুরুর গ্রহ, তারা, রবি; লণ্ঠন হাতে জীবনানন্দের কালপুরুষ, অভিজিৎ, সিরিয়াস। প্রাচ্যের কবিগুরুর মনে হয়েছে—‘আলো হাতে চলিয়াছে আঁধারের যাত্রী’। আর পাশ্চাত্যের মহাকবি শেক্সপীয়ারের কবিতায় —
"Not from the stars do I my judgement pluck; And yet methinks I have Astronomy, But not to tell of good or evil luck, Of plagues, of dearths, or seasons' quality; Nor can I fortune to brief minutes tell, Pointing to each his thunder, rain and wind, Or say with princes if it shall go well By oft predict that I in heaven find: But from thine eyes my knowledge I derive, And, constant stars, in them I read such art As truth and beauty shall together thrive"
যতই রাত যায়, আকাশের প্রতি লেখকের ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা ততই বাড়ে৷ আর সেই বাড়তি ভালোবাসা থেকেই বইটির জন্ম। বইটি পড়ে যদি আকাশের সাথে মিশে যান; ভুলে যাওয়া আকাশকে যদি আবারো মনে পড়ে — তবেই লেখাগুলিকে দুই মলাটের মাঝে স্থান দেওয়া সার্থক বলে ধরে নেবেন লেখক।
সূচিপত্র ১. জ্যোতিবিহীন জ্যোতিষশাস্ত্র ২. জ্যোতির্বিদ্যার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ৩. ছায়াপথের প্রেম ৪. কেসলার সিন্ড্রোমঃ যেভাবে রুখে দিতে পারে মানুষের মহাকাশ যাত্রা ৫. নিশীথ আকাশের দিন-পুস্ত ৬. মিরাঃ একটি প্রকৃত তারা-খসা ৭. নিশি আকাশের রত্ন ৮. আকাশ পটে যন্ত্রপাতি ৯. ল্যাগ্র্যাঞ্জ পয়েন্টঃ মহাকাশে পার্কিং স্টেশন ১০. গ্রহাণুদের গল্প ১১. গ্রহাণুদের হুমকি ১২. উল্কা ও উল্কাবৃষ্টি ১৩. জেমিনিডসঃ আমার প্রথম উল্কাবৃষ্টি ১৪. পার্সেইডঃ বছরের সেরা উল্কাবৃষ্টি ১৫. গামারশ্মি বিস্ফোরণঃ কৃষ্ণবিবরের জন্মক্রন্দন ১৬. ভ্রান্ত ধারণায় জ্যোতির্বিদ্যা ১৭. জ্যোতির্বিদ্যা গ্রন্থ তালিকা ১৮. নগ্নলোচনে জ্যোতির্বিদ্যা
মানুষ কেন রাশিফলে বিশ্বাস করে? মানুষের ভবিষ্যতে যা হবে সেটার সাথে গ্রহ-নক্ষত্রের সম্পর্ক আছে। প্রথম প্রবন্ধ শুরু হয়েছে এই ভুল ধারণা ভাঙ্গানোর জন্য। তারপর জোতির্বিদ্যার ইতিহাস পাড়ি দিয়ে পাঠককে আকাশের সাথে পরিচিত করানো হয়েছে। বইটার পাঠক কে বা কারা? মহাকাশ নিয়ে, রাতের আকাশ নিয়ে উৎসাহ আছে, এমন যে কেউ বইটা পড়ে আনন্দ পাবে। আমার কাছে সবচাইতে ভাল লেগেছে আকাশের কোথায় কোন তারা খালি চোখে দেখা যাবে আর উল্কাবৃষ্টি দেখা নিয়ে লেখাগুলি।
ল্যাগ্রাঞ্জ পয়েন্ট আর গামা রশ্মি নিয়ে লেখা দুটো বাকি লেখাগুলির চাইতে একটু ভিন্ন ধারার। এগুলি চোখে দেখা যায় না, তাই মহাকাশ পর্যবেক্ষনের বাকি লেখাগুলির মত না এগুলি, কিন্তু লেখাগুলি সুখপাঠ্য। আর এই বইয়ের সবচাইতে জরুরী লেখা, যা সবার পড়া উচিত, সেটা “ভ্রান্ত ধারণায় জ্যোতির্বিদ্যা” বলে আমার ধারণা। এই লেখাটায় অনেকেই ভুল জানে এমন কিছু তথ্য সঠিকভাবে উত্থাপন করা হয়েছে।
বইয়ের রিভিউর সাথে লেখক সম্পর্কে একটা কথা। লেখকের সাথে আমার পরিচয় ফেইসবুকে। তার লেখার বিষয় ও পরিপক্কতা দেখে আমি ভেবেছি, অন্তত অনার্সে পড়ছে। পরে দেখি সে এখনো হাইস্কুলে। এই রকম অনুসন্ধিৎসু মনের স্কুল ছাত্ররা বাংলাদেশে আছে ভাবতেই ভাল লাগে। হৃদয় হকের আরো অনেক লেখা ও বই পড়ার আশা রাখি।
অ্যাস্ট্রোনমি নিয়ে বাংলায় লেখালেখির পরিমাণ বেশ অল্প। যেগুলো আছে অনেকক্ষেত্রেই আপডেটেড না, পুরোনো তথ্যে ভরপুর। বইটা এবছর প্রকাশিত হয়েছে তারা, গ্রহাণু, উল্কা, ছায়াপথ ইত্যাদি নিয়ে আগ্রহ থাকলে বইটা অবশ্যই পড়া উচিত।
প্রথম অধ্যায়টা শুরু হয়েছে "জ্যোতিবিহীন জ্যোতিষশাস্ত্র" শিরোনামে। জ্যোতির্বিজ্ঞান (astronomy) , জ্যোতিষশাস্ত্র (astrology) দুইটা খুবই কাছাকাছি শব্দ কিন্তু অর্থের মধ্যে আকাশ পাতাল ফারাক।
• জ্যোতির্বিজ্ঞান ফিজিক্স কেমিস্ট্রির মতোই ন্যাচারাল সায়েন্সের একটা ফিল্ড যা গ্রহ, গ্রহাণু, নক্ষত্র, নেবুলা ছায়াপথ, ইউনিভার্স ইত্যাদি নিয়ে কাজ করে। এর বিভিন্ন শাখাও রয়েছে Astrophysics, Astrobiology, Cosmology ইত্যাদি।
• জ্যোতিষশাস্ত্র পুরোপুরি ভাঁওতাবাজির ফ্যাক্টরি। রাশিফল, হাতের রেখা, আকাশে তারার অবস্থান দিয়ে ভাগ্যনির্ধারণ করে। এগুলোর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
অনেককেই এটা বোঝাতে বোঝাতে বেশ ক্লান্ত। যাইহোক প্রাচীনকালে তখন জ্যোতির্বিজ্ঞানের অবস্থা এখনকার মতো ছিল না বলতে গেলে ডেভেলপই করেনি। জ্যোতিষশাস্ত্রের রাজত্ব চলতো তখন মানুষ তারা দেখতো ভাগ্য জানার জন্য , অনেকগুলো তারা জুড়ে দিয়ে বিভিন্ন প্রাণির আকৃতির কল্পনা করত আবার নাবিকরা তারা দেখে সমুদ্রে নিজেদের অবস্থান নির্ণয় করত। ধীরে ধীরে নতুন নতুন আবিস্কারের সাথে সাথে জ্যোতিষশাস্ত্রের ভুলভ্রান্তি ধরা পড়তে থাকে। জ্যোতির্বিজ্ঞান এগিয়ে চলে আপন গতিতে একসময় পৃথকও হয়ে যায় । লেখক এই অধ্যায়ে প্রাথমিক দিকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের ডেভেলপমেন্ট শুরুর জন্য জ্যোতিষশাস্ত্রের অবদানের কথা স্বীকার করেই এগিয়েছেন।
বিভিন্ন সভ্যতার জ্ঞানের আলান প্রদানের সভ্যতা এগিয়ে যায়৷ মেসোপোটেমিয়া, আসিরিয়, মিশরীয়, গ্রিক, ভারতীয়, মুসলিম সভ্যতার অবদান সংক্ষিপ্ত আকারে বর্ণনা করেছেন লেখক।
একটি অধ্যায় বরাদ্দ রয়েছে জ্যোর্তিবিদ্যার ভ্রান্ত ধারণাগুলো নিয়ে যেমনঃ আলোকবর্ষ সময়ের হিসাব নয় দুরুত্বের হিসাব, শুকতারা কোনো তারা নয় বরং শুক্রগ্রহ, চীনের মহাপ্রাচীর চাঁদ থেকে দেখা যায় এটা ভুল, শুধুমাত্র শনিগ্রহ নয় বৃহস্পতি,ইউরেনাস, নেপচুনেরও বলয় বা রিং আছে ইত্যাদিসহ আরও কমন আনকমন ৪০টা ভ্রান্তধারণার খন্ডন।
এছাড়া রয়েছে কেসলার সিনড্রোম, মিরা, ল্যাগ্র্যাঞ্জ পয়েন্ট, জেমিনিডস, পার্সেইড, গামারশ্মি নিয়ে আলোচনা। খুব ছোট হলেও বাংলাদেশী পদার্থবিদ জামাল নজরুল ইসলামকে নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
এটা সবচেয়ে ভালো লেগেছে। আগ্রহী পাঠকদের কেউ যদি জ্যোর্তিবিদ্যা শিখতে চায় তার জন্য ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে বইয়ের লিস্ট তাও আবার ভাগে ভাগে যেমনঃ জ্যোর্তিবিদ্যা, জ্যোর্তিঃপদার্থবিদ্যা, পর্যবেক্ষণ জোর্তিবিদ্যা, জ্যোর্তিবিদ্যার ইতিহাস, গাণিতিক জ্যোর্তিবিদ্যা, সৃষ্টিতত্ত্ব, বায়োগ্রাফি। আপনার ইচ্ছামতো পড়া শুরু করে দিতে পারেন। বাংলা, ইংরেজি, অনুবাদ সব টাইপেরই আছে।
আরও রিসোর্স হিসেবে দেওয়া হয়েছে ডকুমেন্টারি, অ্যাপ, ওয়েবসাইটের ঠিকানা।
লেখার মধ্যে আর্ট আছে। অধ্যায়গুলো শুরু হয়েছে সুন্দর সুন্দর উক্তির মাধ্যমে এবং মধ্যেও রয়েছে বিভিন্ন কবিতা যেগুলো লেখাকে দারুণ করে তুলেছে।
লেখকের এটা প্রথম বই সে হিসেবে বেশ ভালো লিখেছেন। আশাকরি সামনেও লেখালেখি চালিয়ে যাবেন। তবে বইটা পড়তে গিয়ে কিছু সময় মনে হয়েছে ইনফরমেশন বেশি দেওয়া হয়েছে সেটা কমালে হয়তো পাঠক আরও বইয়ের আষ্টেপৃষ্টে নিজেকে জড়িয়ে ফেলতো এবং বেশি সুখপাঠ্য হতো ।
আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে তুলনামূলক কঠিন শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে যেগুলো কমানো যেতো। যেমন "পাশ্চাত্য নাম" না বলে "ইংরেজি নাম" বলা, "জ্যোর্তিবৈজ্ঞানিক নাম" না বলে "বৈজ্ঞানিক নাম" ইত্যাদি।
ভিন্নমত থাকতে পারে তবে মনে হয়েছে "Coelum Australe Stelliferum" " le chevalet et la palette " "la machine pneumetique" " le Reticule Romoboide" ইত্যাদি শব্দগুলো ডিটেইলস এ জানার জন্য দেওয়া হয়েছে বুঝতে পারছি কিন্তু এগুলো পড়ার মাঝে প্রচুর ডিসটার্ব করেছে। পাঠকের এগুলো জানা কতটুকু প্রয়োজন সেটাও শিওর না।
শেষকথা, বইটা যতোটা না জোর্তিবিদ্যা শেখার জন্য প্রয়োজন তারচেয়ে বেশি বিগিনার লেভেলদের গাইডলাইনে জন্য। জোর্তিবিদ্যা নিয়ে আগ্রহ রাখলে বইটা অবশ্যই রেকমেন্ডেড। প্রতিটা অধ্যায়ের আকার খুব ছোটও না আবার বড়ও না সেকারণে ধরলে শেষ করতে কোনো প্রবলেম হবে না কিংবা খেই হারিয়ে ফেলবেন না।
লেখকের পরবর্তী বইয়ের অপেক্ষায় রইলাম। হ্যাপি রিডিং।
বেশ সুন্দর ও সহজবোধ্য একটা বই। জোতির্বিদ্যা সম্পর্কে আমার ধারনা কম, প্রথম কোনো বই পড়লাম। হতাশ করেনি লেখাগুলো, তবে আরও অনেক বিষয় যুক্ত করা যেত। আাগামি লেখকের থেকে আরও ভালে কিছু আশা করি।
মানবসভ্যতার প্রথম থেকে মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী এই আকাশ।কতই না কল্পনা-জল্পনা রয়েছে এই আকাশ কে ঘিরে,কত দার্শনিক চিন্তা করে গেছেন এই আকাশের বিষয়ে!এই আকাশ অনেক আগে থেকেই মানুষের জীবনের সাথে খুব নিবিড়ভাবে জড়িয়ে ছিল,জড়িয়ে ছিল মানব সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে!আজ ও আকাশ মানুষের সংস্কৃতির সাথে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত। এজন্য এই আকাশ জুড়ে রয়েছে হাজার হাজার গল্প,হাজার হাজার কাহিনী,অসংখ্য উপাখ্যান।সেই অসংখ্য সব কাহিনীর কিছু কাহিনী সংকলিত হয়েছে এই বইটিতে,যা আপনাকে আগ্রহী কযে তুলবে দূর আকাশের ওই তারাগুলো সম্বন্ধে,তাদের জানতে!আপনাকে নিয়ে যাবে উল্কাবৃষ্টি উপভোগের আনন্দময় মূহুর্তে!নতুন ক��ে ভাবতে শেখাবে,আকাশের দিকে তাঁকিয়ে থেকে।আকাশের সীমানা ছাড়িয়ে আরো কি কি আছে,তা সম্পর্কে জানতে আগ্রহী করবে। # প্রথম অধ্যায়-জ্যোতিবিহীন জ্যোতিষশাস্ত্র: জ্যোতির্বিদ্যা কি?জ্যোতিষ যে হাত দেখে ভাগ্য গণনা করেন,তা জ্যোতির্বিদ্যা?জ্যোতিষশাস্ত্র কি সত্য?এসব প্রশ্নের উত্তরেরসাথে আরো জানবেন আমাদের দেশে জ্যোতির্বিদ্যা চর্চার অবস্থা
#দ্বিতীয় অধ্যায়-জ্যোতির্বিদ্যার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস: নাম দেখেই বুঝে যাবার কথা এ অধ্যায়ে কি আলোচনা আছে।যদিও আমার ইতিহাস বেশ বোরিং লাগে,কিন্তু এই অধ্যায় লাগেনি!একদম বিজ্ঞানের আনুষ্ঠানিক জন্মদিন থেকে কাহিনী শুরু করে জ্যোতির্বিদ্যায় মেসোপটেমিয়ানদের,আসিরিয়দের,মিশরীয়দের সহ অন্যান্যদের জ্যোতির্বিদ্যার জন্য কাম-কাজ সম্পর্কে লেখক সংক্ষেপে সুন্দর ভাবে ধিরণা দিয়েছেন।
#তৃতীয় অধ্যায়-ছায়াপথের প্রেম: আমি তো নাম দেখে পুরাই অবাক!!ছায়াপথের প্রেম কেমনে হয়?না না,আমি তো বলবো না কি আছে এই অধ্যায়ে।জানতে হলে পড়ে নিবেন।
#চতুর্থ অধ্যায়-কেসলার সিনড্রোম: এই অধ্যায় বিজ্ঞানী কেসলার একটা উক্তি দিয়ে শুরু করা হয়েছে।আমি সেই উক্তিটি একটু তুলে দেই,'We are entering a new era of debris control.An era that will be dominated by a slowly increasing number of random catastrophic collisions'।বিজ্ঞানী কেসলার একটি ঘটনার কথা বলেন যা মানুষের মহাকাশ ভ্রমণ বা যাত্রা রুখে দিতে পারে,এটার নাম ই কেসলার সিনড্রোম।তবে ভয়ের কিছু নেই।এটার সমাধান ও পাওয়া গিয়েছে।এই সিনড্রোম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে বইটি রয়েছে আপনার জন্য।
#চতুর্থ অধ্যায়-নিশীথ আকাশের দিনপুঞ্জ: এই অধ্যায়ে লেখকের নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন তারামন্ডলের কাহিনী বলা আছে।এই অধ্যায় নিয়ে সমালোচনা অংশে আমার কথা আছে।তো যাই হোক,অধ্যায়টিতে লেখকের প্রিয়তমা যে কন্যা রাশির তারামন্ডল তা বলেছেন।সরি,সরি,এই অধ্যায়ে থেকে কোন তারামন্ডল থেকে কোন রাশি হয়,তা ও বলেছেন লেখকে,বলতে ভুলেই গিয়েছিলাম!
#পঞ্চম অধ্যায়-মিরা একটি প্রকৃত তারা খসা: এই অধ্যায়টা আমার কাছে জোশ লেগেছে!প্রথম দিকে তো খুব স্বাভাবিক ভাবে মনে করলাম মিরা একটা সাধারণ তারা।প্রথমে জানলাম,এটা আজ পর্যন্ত মানুষের দেখা প্রথম শুটিং স্টার!!!যেগুলোকে আমরা তারা খসা ভাবি সেগুলো আসলে উল্কা!কিন্তু মিরাই এখন পর্যন্ত দেখা একমাত্র তারা!এটা তো শুরু!পিকচার তো আভি বাকি হ্যায় মেরি দোস্ত।এই মিরার লেজ হলো সবচেয়ে মজাদার!এসম্পর্কে আর বলবো না,তাহলে মজাই নষ্ট হয়ে যাবে।
#ষষ্ঠ অধ্যায়-নিশি আকাশের রত্ন: আকাশে জ্বলতে থাকা অসংখ্য নক্ষত্র সব সময় ই মানুষকে টানে তার দিকে,সেই সব তারা বা নক্ষত্রকে জানতে।এই অধ্যায়ে দৃশ্যমান 88টি তারমন্ডলের সবচেয়ে উজ্জ্বল 25 টি তারা নিয়ে রয়েছে বিস্তারিত আলোচনা।এখান থেকে তারাদের নামকরণের পদ্ধতিও জানবেন!
#সপ্তম অধ্যায়-আকাশপটে যন্ত্রপাতি: নিকোলাস লুইস দে ল্যাকাইলে,কোনো দিন আমি নাম শুনিনি এমন একজন বিজ্ঞানী,যিনি আকাশপটের 88 টি তারার 14 টি ই চিত্রায়িত উ নামকরণ করেছিলেন!মজার বিষয় হলো,এই মন্ডলগুলোর নামকরণ তিনি করেছিলেন বিভিন্ন যন্ত্রপাতির নামে!এই মন্ডলগুলো সম্পর্কে জানতে ও সবচেয়ে মজাদার বিষয় এদের নাম কোন যন্ত্রগুলো অনুসারে তা জানতে এই অধ্যায় পড়তেই হবে।
#অষ্টম অধ্যায়-ল্যাগ্রাঞ্জ পয়েন্ট:মহাকাশে পার্কিং স্টেশন: এই পয়েন্ট এমন একটা পয়েন্ট যেখানে কোনো স্পেসশিপ পার্ক করে রাখা যায়।কেন ও কিভাবে?উত্তরটা আবার নতুন করে বলবো না।
#নবম অধ্যায়-গ্রহাণুদের গল্প: গ্রহাণু বা এস্টেরয়েডের ইতিহাস থেকে শুরু করে দেখতে কেমন,স্বাদ কেমন,ভর কত,গ্রহাণু বেস্টনি কি,এ সবকিছু আছে এই অধ্যায়ে।
#দশম অধ্যায়-গ্রহাণুদের হুমকি: আমাদের পৃথিবীর জন্য হুমকিস্বরুপ বিভিন্ন এস্টেরয়েডের কথা আছে।ভবিষ্যতে হুমকি বয়ে আনতে পারে এমন কিছু এস্টেরয়েডের কথাও আছে।
#একাদশ অধ্যায়-উল্কা ও উল্কাবৃষ্টি: এই অধ্যায় পড়ে আমার উল্কাবৃষ্টি দেখার খুব শখ জেগেছে।উল্কা ও উল্কাবৃষ্টি নিয়ে বিস্তারিত এবং উল্কাবৃষ্টি দেখার জন্য লেখক সব দিক নির্দেশনা দিয়েছেন।আশা করি আমার উল্কাবৃষ্টি দেখার জন্য নির্দেশনাগুলো বেশ কাজে আসবে।
#দ্বাদশ অধ্যায়-জেমিনিডস:আমার প্রথম উল্কাবৃষ্টি: লেখকের নিজের 2017 সালের উল্কাবৃষ্টি দেখার অভিজ্ঞতার বর্ণনা রয়েছে।জেমিনিডস এর ইতিহাস ও এর তারামন্ডলের গ্রিক পুরাণের গল্প রয়েছে।
#ত্রয়োদশ অধ্যায়-পার্সেইড:বছরের সেরা উল্কাবৃষ্টি: এর ইতিহাস থেকে শুরু করে যে মন্ডল থেকে এই উল্কাবৃষ্টি হয়েছে,সেই পার্সিয়াস মন্ডলের ইতিকথা রয়েছে ও খোডার পদ্ধতিও রয়েছে।পার্সেইড সেরা উল্কাবৃষ্টি কারণ 1993 সালে এটি তৈরি করেছিল এক নতুন ইতিহাস,বিস্তারিত বই এ।
#চতুর্দশ অধ্যায়-গামা রশ্মির বিস্ফোরণ:কৃষ্ণবিবরের জন্মক্রন্দন: গামা রশ্মি চেনেন?না চিনলেও চলবে,লেখক চিনিয়ে দেবে।এই অধ্যায়ে গামা রশ্মি আমাদের পৃথিবীর জন্য কিভাবে ভয়াবহ ক্ষতি বয়ে আনতে পারে।খামা রশ্মির উৎপত্তি নিয়েও রয়েছে আলোচনা।গামা রশ্মির বিস্ফোরণ আমাদের এক কৃষ্ণবিবরের উৎপত্তির জানান দেয়,যে কারণে এটা কৃষ্ণবিবরের জন্মক্রন্দন বলে অভিহিত।এই অধ্যায়টাও আমার জোশ লেগেছে।
#পঞ্চদশ অধ্যায়-ভ্রান্ত ধারণায় জ্যোতির্বিদ্যা: জ্যোতির্বিদ্যা নিয়ে 40 টি ভ্রান্ত ধারণার অবসান ঘটানো হয়েছে এখানে।
###ষোড়শ ও সপ্তদশ অধ্যায়- অন্তত এই অধ্যায়ের জন্য হলেও এই বইটি পড়তেই হবে।এই দুটি অধ্যায়ে লেখক জ্যোতির্বিদ্যা শেখার জন্য একদম বিগিনার লেভেল থেকে সব রেফারেন্স সহ দিয়ে দিয়েছেন।বাংলা বই,ইংরেজি বই,ওয়েবসাইট,ইউটিউব চ্যানেল,বিভিন্ন অ্যাপ্স,বিভিন্ন সংগঠন,জ্যোতির্বিদ্যা শেখার জন্য সকল প্রকারের উপকরণের যোগান দিয়েছেন লেখক।যেকুনো জ্যোতির্বিদ্যা প্রেমীর জন্য বা শিখতে আগ্রহীদের জন্য যা অত্যন্ত উপকারী
সমালোচনা: বেশি কিছু বলার নেই।কিন্তু নিশীথ আকাশের দিনপুঞ্জ অধ্যায়ে আমার প্রচুর প্যারা হয়েছে,প্রতিটি তারা মন্ডলের অবস্থান বুঝতে,কারণ আমি উত্তর,দক্ষিণ,পূর্ব,পশ্চিম ই ভালো করে চিনি না।যদি ছবি সংযুক্ত করে দিতেন অনেক ভালো হতো।এছাড়া কোনো সমস্যা নেই। নিজের কিছু কথা: আমি জ্যোতির্বিদ্যা প্রেমি না।আকাশের ব্ল্যাকহোলের কাহিনীই শুধু আমার উদ্দীপনা জাগাত,জ্যোতির্বিদ্যার অন্য কিছু সম্পর্কে খুব একটা পড়িনি পাঠ্যবইয়ের বাইরে।এই বইটাই ছিল জ্যোতির্বিদ্যায় হাতেখড়ির মতো।সত্যি বলছি,বইটি আমার প্রচুর আগ্রহ জাগিয়েছে জ্যোতির্বিদ্যা সম্পর্কে।লেখককে যার জন্য যো ধন্যবাদ ই দেই না কেন কম পড়বে।এখন,আমার ওই আকাশের উপরে কি আছে,কিভাবে আছে,তাতে অনেক আগ্রহ বেড়ে গিয়েছে।আশা করি আপনাদের আগ্রহ জাগিয়ে তুলতেও বইটি সক্ষম হবে এবং জ্যোতির্বিদ্যা সম্পর্কে শেখার যথাযথ ও পরিপূর্ণ দিক নির্দেশনা দিতেও সক্ষম হবে।
This entire review has been hidden because of spoilers.
“The desire to be connected with the cosmos reflects a profound reality, but we are connected; not in the trivial ways that astrology promises, but in the deepest ways.” রিভিউটা শুরু করলাম কার্ল সেগানের চমৎকার উক্তি দিয়ে কারণ লেখক তার বই একই উক্তি দিয়ে শুরু করেছেন। জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে আমার খুব বেশি বই পড়া হয়নি, যদিও যত ডকুমেন্টারি দেখেছি জীবনে অধিকাংশই জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে। এবং ব্যক্তিগতভাবে তার কারণ হয়তো আমি এখন জানি। এ বিষয়ে সহজ ভাষায় হয়তো খুব বেশি বই নেই, বিশেষ করে বা��লা ভাষায়। সেই শূণ্যস্থান পূরণ করার উদ্দেশ্যেই যেন লেখক বইটি লিখেছেন। বইটা আদতে জ্যোতিষশাস্ত্রের বিবর্তন হয়ে কি করে জ্যোতির্বিজ্ঞান হয়ে গেল সেই গল্প। সেগানের উক্তির মতই মানুষ সবসময়ই ভেবেছে সে এই বিশাল নক্ষত্রশিল্পের অংশ, স্বর্গের আলোগুলো আমাদের প্রভাবিত করছে হরহামেশাই। বইটিতে লেখক সে প্রসঙ্গ টেনেই ব্যাখা দিয়েছেন যে আসলেই মহাকাশের এই বিশাল নক্ষত্র কীংবা গ্রহগুলো আমাদের সাথে কোনো না কোনোভাবে সম্পর্কিত, তবে মানুষ সাধারণত যা মনে করে ঠিক সেভাবে নয়। আমাদের শ্বসনের জন্য অক্সিজেন, তৃষ্ণা মেটানোর পানি বা আমাদের মস্তিষ���কের মিনারেল যেগুলো ইলেক্ট্রিক ইমপালস তৈরী করছে সবকিছুর জন্যেই কোনো না কোনো নক্ষত্রকে স্মরণ করতে পারি আমরা। প্রথম অধ্যায়, জ্যোতিবিহীন জ্যোতিশাস্ত্র-এ লেখক এসব বিষয়ে বিস্তর আলোচনা করেছেন যেখানে অবধারিতভাবে চলে এসেছে জ্যোতির্বিদ্যার সংজ্ঞাটাই বা আসলে কী? জ্যোতির্বিদ্যার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস অধ্যায়ে লেখক আলোচনা করেছেন ইতিহাসের বিভিন্ন সময় নিয়ে যখন জ্যোতিবিজ্ঞান নিয়ে মানুষ অনেক গবেষণা করত। গল্পের মত বর্ণনা করে গেছেন সবকিছু। গল্প থেকে মনে আসে, ছায়াপথের প্রেম অধ্যায়টা আমার সবচেয়ে প্রিয়। চাইনিজ লোকগল্প শুনিয়ে প্রথমে আপনার মনোযোগ টেনে নেবে এবং এরপরেই উল্লেখিত ছায়াপথের ব্যাপারে আপনাকে শেখাবেন। বইটিতে এছাড়াও আলোচনা করা হইয়েছে সমসাময়িক নানান বিষয় নিয়ে। যেমন, কেসলার সিনড্রোম অধ্যায়ে স্পেসে ছড়িয়ে থাকা আবর্জনার স্তুপের কথা রয়েছে যা ভবিষ্যতে আমাদের নিজেদেরই তৈরী একটি জাল হয়ে ঠেকবে, সাথে ঠেকে দেবে পৃথিবী থেকে রকেটের বাইরে বেরোনো, কী করে উল্কাবৃষ্টি দেখতে হবে সে বিষয়ে হাতেখড়ি এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বর্ণনা, বা জ্যোতির্বিদ্যা নিয়ে মানুষের মনে এখনও কী কী ভুল ধারণা রয়েছে সেগুলো থেকে চল্লিশটা ধারণা আলোচনা করা হয়েছে। বইটা আর দশটা জ্যোতির্বিদ্যার বই থেকে আলাদা এই অর্থে যে লেখায় একটা নিষ্পাপ কৌতুহল সহজেই লক্ষণীয়। লেখক চান আপনি জ্যোতির্বিদ্যা সম্পর্কে চান, তিনি চান তিনি নিজে যেসব জেনে অবাক হয়েছেন সেই অবাক হওয়ার অনুভূতি আপনার সাথেও ভাগ করে নিতে। সর্বোপরি তিনি চান আপনাকে গল্প শোনাতে। প্রায় প্রতিটা অধ্যায়ে লেখকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বইয়ের তথ্যের সাথে বেশ মানিয়ে যায়। আপনি একইসাথে বই থেকেও শিখতে পারছেন আবার কারো অভিজ্ঞতা থেকেও। আরো ভালো লেগেছে যাদের জ্যোতির্বিদ্যায় আগ্রহ আছে তাদের পড়ার জন্য একগাদা বাংলা-ইংরেজী বইয়ের খোঁজ দেয়া। বইটি প্রতিটি জ্যোতির্বিদ্যায় আগ্রহীদের পড়া উচিৎ, বিশেষ করে ছোটরা যারা এবিষয়ে আগে থেকে তেমন কিছু জানো না, তাদের এটা পড়লে আগ্রহ অবশ্যই বাড়বে। অনেকেই ছোটদের বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহী করার জন্য বইয়ের সাজেশন চান, তাদের বলব আকাশজোড়া গল্পগাঁথা লিস্টে অবশ্যই রাখতে পারেন।
বইঃআকাশজোড়া গল্পগাথা লেখকঃমো:সাজেদুল হক মুল্যঃ৩০০৳(মলাটমুল্য) বিষয় : জ্যোতির্বিজ্ঞান _____--_____ সেই অনন্ত মহাবিশ্বকে জানার আগ্রহ কার নাই?আমার অনেক দিনের একটা প্রশ্ন ছিল "মহাবিশ্ব কি অসীম? এর বুঝি শেষ নাই?" যতটুকু জানি এর শুরু অবশ্যই আছে,আছে এক বিখ্যাত ইতিহাস আছে, বিখ্যাত এক থিওরি।সে তো সবাই জানে। কাল হাতে পেলাম আমাদের নতুন লেখক মোঃসাজেদুল হক (Hridoy Hoque)ভাইয়ের প্রথম বই "আকাশজোড়া গল্পগাথা"।এই বছরের ফেব্রুয়ারিতেই বইটি প্রকাশীত হয়েছে।যাইহোক মোঃসাজেদুল হক ভাইয়ের অনেক লেখাই পড়েছি।বিজ্ঞান বিষয়ক লেখা বিশেষ করে মহাকাশবিজ্ঞান নিয়ে লেখা বিষয়গুলো অনেক সুন্দর করেই লিখেন তিনি।আর উনার লেখার একটা বিশেষত্ব হলো "তথ্য"।হ্যা,সত্যিই অনেক তথ্যসমৃদ্ধ হয় লেখাগুলো।পড়তে যেমন ভালো লাগে তেমনই অনেক নতুন নতুন কিছু জানতে পারি।ঠিক অনুরূপ চিত্র ফুটে ওঠেছে উনার লেখা এই বইয়ে। আমার মত ছোটখাটো পাঠক যতটুকু বুঝেছি,লেখক জ্যোতির্বিজ্ঞাবের বিষয়গুলোকে অনেক সহজ ভাষায় তুলে ধরেছেন।বইটির কথা যেদিন প্রথম শুনেছিলাম সেদিনই ভেবে ফেললাম, (Hridoy Hoque) ভাইয়ের সুন্দর সুন্দর লেখাগুলোকে দুই মলাটের মাঝে দেখতে পাবো...আহা! তা আজ প্রকাশীত হলো, সত্যিই অনেক কিছু আছে বইটিতে আছে জ্যোতির্বিজ্ঞানের কিছু Basic,জ্যোতির্বিদ্যার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস,কেসলার সিন্ড্রোম,তারা খসা,ল্যাগ্র্যাঞ্জ পয়েন্ট,গ্রহাণু, উল্কা, জেনিমিডস, পার্সেইড,গামা রশ্মি বিস্ফোরণ,জ্যোতির্বিদ্যার গ্রন্থ বিভিন্ন তথ্যসুত্র সহ আরো অনেক কিছু! আর হ্যা, বইয়ের পেছনে আছে মাসিক তারাচিত্রের ব্যাখ্যা। সব মিলিয়ে অসাধারণ একটি বই, সবাই পড়ে দেখতে পারেন। আর বইয়ের কোয়ালিটির কথা কি বলবো,অসাধারণ। অনেক ভালো লাগলো বইটি। প্রতিটি অধ্যায় বেশ সুন্দর করে সাজানো,আর কিছু চিত্র দিয়ে বুঝিয়ে বোধগম্য করে লেখা হয়েছে প্রতিটি পাঠ। Loved it!
🔸বইয়ের নাম: আকাশজোড়া গল্পগাথা লেখক: হৃদয় হক 🔸প্রকাশনী: প্রান্ত প্রকাশন
🔰আমার ব্যাক্তিগত রেটিং:১০/১০ 🔰প্রিয় অধ্যায়: জ্যোতিবিহীন জ্যোতিষশাস্ত্র 🔰বইটির বিশেষ দিক: জ্যোতির্বিদ্যা গ্রন্থ তালিকা
▪️এবার আসা যাক আলোচনায়--
লেখকের কথা মতো, তিনি বইটি লিখেছেন কিছু জানানোর জন্য, অজানাকে জানার ইচ্ছা যোগানোর জন্য। হয়তো তিনি তার উদ্দেশ্যে সফল হয়েছেন। কারণ তার বইটি মোটেও বাঁধাই করা কয়েকটা পাতা নয়। প্রতিটা পাতাই তথ্যবহুল।
▪️প্রথমত বইটি পড়ে আপনি জ্যোতির্বিজ্ঞান ও জ্যোতিষশাস্ত্রের পার্থক্য নির্ণয় করতে পারবেন! ▪️এরপর জ্যোতির্বিদ্যার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস, ছায়াপথের প্রেম, কেসলার সিনড্রোম, মিরা, ল্যাগ্র্যাঞ্জ পয়েন্ট নিয়ে ধারনা পাবেন। ▪️গ্রহাণুদের নিয়ে দুইটি অধ্যায়: গ্রহাণুদের গল্প, গ্রহাণুদের হুমকি। ▪️ উল্কা নিয়ে অধ্যায়গুলো হলো- উল্কা ও উল্কাবৃষ্টি, জেমিনিডস, পার্সেইড।
এছাড়াও আছে গামা রশ্মি বিস্ফোরণ, মাসিক তারাচিত্র, নিশীথ আকাশের দিনপুস্ত, ছায়াপথের প্রেম।
বইটির একটা অধ্যায় সকলের পড়া উচিৎ! তা হলো ভ্রান্ত ধারণায় জ্যোতির্বিদ্যা। ওই অধ্যায়টিতে অনেকগুলি বিষয় বর্ণনা করা আছে যেগুলো মিথ্যা হওয়া সত্ত্বেও আমরা সত্যি বলে ভাবতাম। লেখক ঐ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন।আশা করি পাঠকদের ভুলভ্রান্তি কেটে যাবে।
বইয়ের আকর্ষণীয় অধ্যায় হলো জ্যোতির্বিজ্ঞান গ্রন্থ তালিকা। অনেক বইয়ের নামের সমাহারের পাশাপাশি আছে এক অপূর্ব অংশ।
লেখক জ্যোতির্বিজ্ঞান পাঠকদের সুবিধার্থে ক্রমান্বিত ভাবে বইয়ের নাম দিয়ে দিয়েছেন। মানে কোন বয়স/শ্রেনীর জন্য কোন বই,কোন বই দিয়ে শুরু করতে হবে…… কোন বইয়ে কি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে সেটাও লেখক বলে দিয়েছেন।
লেখক একটা কাজ খুব চতুরতার সাথে করেছে! তা হলো — লেখক প্রতিটি অধ্যায়ের শুরুতে একটা করে উক্তি দিয়ে দিয়েছেন। এতো বড় গ্রন্থ তালিকা দেখে অনেকেই অনুৎসাহিত হতে পারে । তাই লেখক সেখানে বই নিয়ে জনপ্রিয় একটি উক্তি, "বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না" দিয়ে দিয়েছেন! তাছাড়া গ্রন্থ তালিকা অধ্যায়ে লেখক বই বিভাগ অনুযায়ী সাজিয়ে দিয়েছে।
✔️বইটির আরেকটি খুব গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো নগ্নলোচনে জ্যোতির্বিদ্যা। এই অধ্যায়ের শেষের দিকে অনেক জ্যোতির্বিদ্যা জানার রিসোর্সের নাম দেয়া আছে! এই অধ্যায় টা নতুনদের জন্য খুবই উপকারী হবে!
বইটির সর্বশেষ অধ্যায় হলো মাসিক তারাচিত্র। মাস অনুযায়ী রাতের আকাশের নক্ষত্রমন্ডল গুলো চিনতে সাহায্য করতে পারবে এই অধ্যায়।
⭕এবার আসি আমার রেটিংয়ের কারন নিয়ে।
আমি আসলে রেটিং দেই সূচিপত্র দেখে। অধ্যায়ের নাম অনুযায়ী তাতে আশানুরূপ লেখা থাকলে সেটা ফুল রেটিং পায়। বইটিতে তা ছিল।
আপনি যদি জ্যোতির্বিদ্যায় আগ্রহী হয়ে থাকেন তাহলে বইটি আপনার পড়া উচিৎ বলে আমি মনে করি।
বইটি আপনারা পাবেন – রকমারি, দিয়াশলাই, চন্দ্রদ্বীপ, চট্টগ্রাম বাতিঘর সহ আরো কিছু অনলাইন শপে। ঢাকায় – নীলক্ষেত, নিউমার্কেট, ফার্মগেট, শাহবাগ সহ আরো কিছু জাগায়। রাঙামাটিতে – গাজী প্রকাশনী(নিউ মার্কেট) ও রাজেন্দ্র লাইব্রেরী (বনরুপা) এসব জাগায়।