মন যেমন একাকী গায়কের নয়, চিঠিও তেমনই সম্পূর্ণত নয় দাতার একলার। গ্রহীতার ভূমিকাও সেখানে গৌণ নয়।। দাতা ও গ্রহীতার ভূমিকা বদলেই পত্র পরিণত হয় সার্থক পত্র-বিনিময়ে। একথা ঠিক যে, গ্রহীতার উত্তরের প্রত্যাশা না রেখেও এককভাবে পত্রসাহিত্য রচিত হতে পারে। হয়েছেও। কিন্তু সেখানেও প্রচ্ছন্নভাবে থেকে যায় গ্রহীতার ভূমিকা। তার বয়স, রুচি, বােধ, মনস্কতা বা গ্রহণক্ষমতা কোনও-না-কোনও দিক থেকে প্রভাবিত করে পত্রদাতার লেখনী। কিন্তু দু'জনেই যেখানে স্পন্দিত একই সুরে, মানসিক কাঠামাের দিক থেকে সমভাবাপন্ন, মেধায় ও মননে, রুচিতে ও রসে একাত্ম, লিপিচাতুর্যে ও প্রকাশভঙ্গিতে সমকক্ষ, সেখানে ? সেক্ষেত্রের পত্র-বিনিয়ে ফটে ওঠে ভিন্নতর এক স্বাদ, যুক্ত হয় অন্যতর এক মাত্রা। সেই স্বাদ, সেই মাত্রাই এই সংকলনে পত্রাবলীতে।