লেখকের কিছু কথা : কেন কলম হাতে নেওয়া? . আজকের বিশাল সভ্যতা, জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কলমের উপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে ৷ ইবনে কাসীর (রাহিঃ) এর তাফসীর গ্রন্থে কলমকে আল্লাহর প্রথম সৃষ্টি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে (অবশ্য এটি নিয়ে মত বিরোধ আছে) ৷ পবিত্র ক্বোরআনের প্রথম নাযিলকৃত আয়াতের চতুর্থ আয়াত হচ্ছে, "যিনি আপনাকে কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন ৷" কলমের মাধ্যমে অক্ষর লিখে মানুষ তার মনের ভাব ফুটিয়ে তোলে ৷
অক্ষরের উৎপত্তি নিয়ে ইতিহাসবিদ গোলাম আহমেদ মোর্তজার "চেপে রাখা ইতিহাস" গ্রন্থে মাওলানা দারিয়াবাদরির আল কুরআনের উর্দূ তাফসীর কিতাব থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, "মানব জাতির আদি পিতা হযরত আদম (আঃ) মাটি দিয়ে নানা বর্ণ তৈরী করে তা আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছিলেন ৷ হযরত নূহ (আঃ) এর প্লাবনের সময় তা নানান দেশে চলে যায় ৷ কুরআন এবং ইতিহাসে বর্ণিত এ বন্যা হয়েছিলো ঈসা (আঃ) জন্মের ৩২০০ বছর পূর্বে ৷"
"কলম" ও "অক্ষর" আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত ৷ আমাদের মত লোক যাদের কাজ হলো ঘরদোর বেচে প্রবাসে গিয়ে কামলাগিরে করে উট পাখির মত মাথা নিচু করে পরিবার, সমাজ, দেশের জন্য কাজ করে যাওয়া তাদের হাতে কলম শুধু বেমানান নয়, সীমা লঙ্ঘনও বটে ৷ সমাজ, রাষ্ট্র, ধর্মের কল্যানের জন্য জ্ঞানী, গুণী, বুদ্ধিজীবী, সমাজ সেবক, ধর্মগুরু, রাজনৈতিক নেতা, পেশাজীবী অনেকেই রয়েছেন ৷ ধরণীর মঙ্গলে তাদের কলম থেকে অনবরত কালি ঝরছে ৷ সেখানে আমাদের মত কামলাদের লেখালেখি কাকের কোকিল সাজার মতই ৷ লেখালেখি করে জ্ঞানী, গুণী, বুদ্ধিজীবি, ধার্মিক সমাজে জায়গা করে নেওয়ার সামান্যতম অভিলাষ আমার নেই ৷
তাহলে কেন কলম হাতে নেওয়া?
প্রত্যেক মানুষের জীবনে এমন কিছু ঘটনা ঘটে যা যার স্মৃতি সে সারা জীবন বয়ে বেড়ায় ৷ এসব ঘটনা তার জন্য অনেক শিক্ষা নিয়ে আসে ৷ টুইন টাওয়ারে হামলার পর আমার কাজ ছিলো আসরের নামায শেষে গ্রামের মুরুব্বীদের পত্রিকার খবর পড়ে শোনানো ৷ এরপর থেকে প্রায় সময়েই আমাকে এই কাজ করতে হত ৷ যদিও তারা নিরক্ষর ছিলেন, তবে বয়স এবং অভিজ্ঞতার দিক দিয়ে তারা ছিলেন যথেষ্ঠ প্রজ্ঞাবান ৷ খবর শুনে তারা বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতেন ৷ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন খবরে তাদের প্রতিক্রিয়াগুলো ভিন্ন ভিন্ন থাকলেও সৌদি আরবের ক্ষেত্রে তাদের প্রতিক্রিয়া ছিলো অভিন্ন ৷ আমি আমার পরিচিত যত মুরুব্বীকে দেখেছি, সৌদি আরব সম্পর্কে তাদের সবার ধারণা নেতিবাচক ৷ মানুষ যে পরিবেশে বড় হয় তার চিন্তা-ভাবনাগুলোও সে রকম হয় ৷ এমন পরিবেশে স্বাভাবিক ভাবেই সৌদি আরব আসার কোন ইচ্ছা আমার ছিলো না ৷ কিন্তু আল্লাহর পরিকল্পনার কাছে আমাদের ইচ্ছা-অনিচ্ছা তুচ্ছ ৷
ছোটবেলা থেকেই আমার পত্রিকা পড়ার অভ্যাস ৷ প্রবাসে এসেও সেই অভ্যাস ত্যাগ করতে পারিনি ৷ রানা প্লাজার ধ্বসে পড়া কিংবা ছোট্ট জিয়ার কূপে পড়া, দেশের প্রতিটি মানুষকে সমানভাবে ব্যথিত করুক বা না করুক, প্রতিটি প্রবাসী অন্তরকে সমানভাবে ব্যথিত করে ৷ কিন্তু কামলাদের দেশ নিয়ে ভাবতে নেই, তারা গোলামের মত প্রভূদের আরাম-আয়েশের জন্য কাজ করবে ৷ আমিও তাই করছিলাম ৷ পিলখানা হত্যাকান্ড কিংবা শাপলা চত্বরের বিদ্রোহ এসবে আমাদের মত কামলাদের কি আসে যায়! আমরা শুধু অসহায়ের মত দেখবো, দু'ফোঁটা অশ্রু বিসর্জন দিয়ে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করবো, "আল্লাহ তোমার কাছে বিচার দিলাম ৷" এরপর নতুন কোন ঘটনা-দূর্ঘটনার অপেক্ষা করবো, আবার ফরিয়াদ জানাবো ৷
"ইসরাইল বিরোধী মিছিল করা হারাম”, “ইসরাইলকে অভিশাপ দেওয়া যাবে না” ২০১৪ সালে গ্র্যান্ড মুফতির দেওয়া এমন বক্তব্য কেন্দ্র করে আমাদের দেশের জ্ঞানী, গুণী, বুদ্ধিজীবীদের কলমগুলো এমনভাবে জেগে উঠলো যে পারলে তারা গ্র্যান্ড মুফতিকে শূলে ছড়িয়ে ছাড়ে ৷ ধর্মীয় দিক দিয়ে আমি সম্পূর্ণ নিরক্ষর ৷ সূরা ফাতিহাটাও শুদ্ধ ভাবে পড়তে পারি না ৷ তাই ধর্ম নিয়ে কখনো কারো সাথে বাড়াবাড়ি বা বিতর্কে লিপ্ত হইনি ৷ তবুও আমার মনে কিছু সংশয় ঘুরপাক করতে লাগলো ৷
মুসলমানদের মক্কা-মদীনার মতই ভ্যাটিকান সিটি খৃষ্টানদের পবিত্র নগরী ৷ হযরত ঈসা (আঃ) জন্মেরও পূর্ব থেকেই পৃথিবীর অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাসের সাক্ষী এই ভ্যাটিকান ৷ ভ্যাটিকান সিটির ভেতর সবচেয়ে রহস্যের জায়গাটি হলো ভ্যাটিকান সিটি আর্কাইভ ৷ জায়গাটিকে বলা হয়, "স্টোর হাউস অব সিক্রেট''। অর্থাৎ গোপনীয়তার সংগ্রহশালা ৷ ভ্যাটিকান সিটি আর্কাইভ বা সংগ্রহশালাতে সাধারণ খৃষ্টানতো দূরে ভ্যাটিকান সিটির স্কলাররাও ঢোকার অনুমতি পান না । মহামান্য পোপের অনুমতিতে খুব স্বল্প সংখ্যক স্কলার বা পণ্ডিতের এখানে ঢোকার সৌভাগ্য হয়েছে ৷
হিন্দুদের বেদ নিয়ে Swami Dharma Theertha বলেন: ‘‘বেদ পড়া ও শোনা শুধু উচ্চ বর্ণের হিন্দুদের জন্য । শুদ্র যদি সাহস করে বেদ শ্রবন করে, তবে গলিত ধুনা বা টিন মুখে ঢেলে দেয়া হবে । যদি এর পুনরাবৃত্তি করে তবে তার জিহবা কেটে ফেলা হবে । যদি সে বেদের হিম স্মরন করে তবে তার দেহ খন্ড খন্ড করে কেটে ফেলা হবে ।’’ [Swami Dharma Theertha, History of Hindu Imperialism, Madras, ১৯৯২, p. ৪২.]
যেখানে সাধারণ খৃষ্টানদের তাদের পবিত্র নগরী দেখার সুযোগ নেই, হিন্দুদের তাদের পবিত্র ধর্ম গ্রন্থ পড়ার অনুমতি নেই, সেখানে প্রতিটি মুসলমান মক্কা-মদীনা সহ আশেপাশের ঐতিহাসিক স্থানগুলো দু'চোখ ভরে দেখতে পারছেন ৷ প্রাণ ভরে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করতে পারছেন ৷ এসব সুবিধার পরেও একজন মুসলমানের সাথে অন্যজনের কেন এত তফাত? কেন একজনের উপর অন্যজনের এত গোস্বা, এত রাগ? একজনের উপর অন্যজনের ক্ষোভ থাকতে পারে, তাই বলে গ্র্যান্ড মুফতির মত স্কলারের উপরও! কই সাধারণ খৃষ্টানরাতো তাদের পোপকে নিয়ে এত আলোচনা-সমালোচনা করে না!
শুধু এই সংবাদটি নয়, সৌদি আরব সংক্রান্ত যে কোন সংবাদে আমাদের দেশের এক শ্রেণীর লোক এমন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন যেনো তাদের নিকট নতুন কোন ওহী নাযিল হয়েছে ৷ আর এসব প্রচার করে তারা দোজাহানের কামিয়াবী হাসিল করছেন ৷ কেউ কেউ আবার আল্লাহর কাছে তাদের ধ্বংসের দোয়া করে নিজের ঈমানী দায়িত্ব পালন করেন ৷ সৌদি আরবকে গালি না দিলে কার...