মৃত্যুর পরে ঠিক কী হয়? এই চিরন্তন প্রশ্নটা সব মানুষের মধ্যেই আছে। তবে উত্তর কারওর কাছেই নেই। কিন্তু হৃষিকেশ ভঞ্জ খুঁজে পেয়েছিল এমন একজনকে যার কাছে ছিল এই প্রশ্নের উত্তর? ব্যাপারটা জানতে পেরে হৃষিকেশ ভঞ্জ অবাক হয়ে গিয়েছিল। তাই এই ব্যাপারে আরও বিস্তারিতভাবে খোঁজ নিতে শুরু করেছিল সে। আর তখনই জানতে পেরেছিল বেশ কয়েকজনের কথা। তারপর?... হিমাঘ্নর সাথে ঠিক কী ঘটেছিল? কেন বিভিন্ন সময় হিমাঘ্ন দেখতে পেতো দাঁড়কাক? কী এমন রহস্য লুকিয়েছিল এর পেছনে?
কাকচরিত ব্যাপারটা ঠিক কী? কেন অভিশপ্ত জীবন কাটাতে বাধ্য হয়েছিল মীনাক্ষী মজুমদার? কী দোষ ছিল তার যে তাকে স্বেচ্ছায় নির্বাসন নিতে হয়েছিল? নিজেকে বন্দি রেখেও কি রেহাই পেয়েছিল সে?
কাকচরিত। বলা হয় যমরাজের দূত হলো কাক। আসন্ন মৃত্যুর খবর পেয়ে নিজের উপস্থিতি জানায়, আর মৃত্যুর পর আত্মাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যায় কাক। এই তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে এই দুটো গল্প।
মৃত্যুপুরীর দূত - মৃত ঘোষিত হবার পরেও মৃত্যুর কয়েক ঘন্টা পর আবার জীবন ফিরে পায় হিমাগ্ন। এরপর ঘটে যায় এক অদ্ভুত ঘটনা। হিমাগ্ন মাঝেমধ্যেই দেখতে পায় এক দাঁড়কাক, তার সাথে আসন্ন মৃত্যু, হিমাগ্নর পরিচিতদের মধ্যে। হিমাগ্ন দেখা করে এক তান্ত্রিকের সাথে। সে জানায় এক অবাক করে দেওয়া কথা, এই অভিশাপ সে পেয়েছে অন্য একজনের থেকে, যে নিশ্চিত মৃত্যুর থেকে ফিরে এসেছে তন্ত্রবলে। আর তার সাথে নিয়ে এসেছে মৃত্যুপুরী দূতেদের। এই লোকটি হিমাগ্নর পরিচিত। কে এই ব্যক্তি? আর কিভাবে হিমাগ্ন মুক্তি পেল এই অভিশাপ থেকে?
অভিশপ্ত জীবন - শঙ্খ আর নীপার বাড়িতে ভাড়াটে হয়ে এসেছেন এক বয়স্কা, মীনাক্ষী। আসার পর থেকেই সে নিজের ঘরের জানলা-দরজা বন্ধ করে রাখে । শঙ্খ আর নীপার বেড়াতে যাবার ঠিক আগের দিন মীনাক্ষী এসে ওদের বলে বেড়াতে গেলে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে পড়বে তারা, সঙ্গে তাদের সহযাত্রী বন্ধুরাও। মীনাক্ষীর এই আসন্ন মৃত্যু জানার ক্ষমতার পিছনে রয়েছে তার পূর্বজন্মের কথা। যার ফল সে ভোগ করছে এই জন্মে।
দুটো গল্প তাই একটু বিস্তারে বর্ণনা দিলাম। এই বইতে আমি সেরকম কোনো ভয়ের আবহ বা বিবরন পেলাম না, যা লেখিকার অন্যান্য বইতে থাকে। দ্বিতীয় গল্পের ফ্ল্যাশব্যাক নিয়ে বলা কথা পড়তে পড়তে কিছুটা বিরক্ত বোধ করছিলাম। এত বিস্তারিত দীর্ঘ বর্ণনা অপ্রয়োজনীয় লেগেছে। কোনো কোনো জায়গায় এক ঘটনা একবার বলে সেটা যখন অন্য কাউকে শোনাচ্ছে, তখন line by line আবার লেখা হয়েছে, যেটা না হলেও চলত। কাহিনী গতিময়। ভয় পাওয়ানোর মত কিছু ঘটনা থাকলেও সেগুলো শুধু ছুঁয়ে দেখা হয়েছে।
গল্পের ভূমিকাতে বলা হয়েছে গল্পগুলো মূলত কাকচরিত কেন্দ্রিক। প্রথম গল্পে তার রেশ পেলেও, দ্বিতীয় গল্পে শুধু কাকের উপস্থিতি রয়েছে। কাকচরিত ব্যাপারটা unexplored থেকে গেলো।
This entire review has been hidden because of spoilers.