এই বইয়ে সবচেয়ে শক্তিশালী চরিত্রের নাম হলো পারুল।যখন যখন পারুলের নিজের করা কাজ আর জীবন নিয়ে সঙ্কীর্ণ বোধ হয়েছে, তখনি মনে পড়তো মায়ের বলা কথা,❝অভাবের চেয়ে বড় কোন পাপ নেই❞
পেটের খিদে মিটানোর জন্য যখন খাবার পাওয়া যায় না।মাথা রাখার জন্য যখন একটা ছাদ পাওয়া যায় না। তখন বুঝা যায় অভাব কত বড় পাপ।আর যে মেয়ের ধর্ষণ হয় তার চেয়ে বড় অসহায় তো আর কেউ নেই।
আমাদের সমাজ ব্যবস্থা এমন যে, একজন ধর্ষক কোন মেয়েকে ধর্ষণ করে সমাজে আবার মাথা তোলে বাঁচতে পারবে।যশ,খ্যাতি সম্মান সবই পাবে।কিন্তু ধর্ষিত মেয়ের কোন স্থান সেই সমাজে নেই।নেই কোন ন্যায় বিচার।আসলে এখানে দোষ কার?
কিন্তু পারুল তার পরিবারসহ গ্রাম, সমাজ ছেড়ে গেছে এটা ঠিক।ফিরেছে ভিন্ন রূপে।সে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে "অভাবের চেয়ে বড় কোন পাপ নেই ”এই বিশ্বাসে।তার চোখে ছিলো প্রতিশোধের আগুন।আর এই আগুন তীব্র করে গড়ে তোলেছে তার খালা।আর তারই পরামর্শে সে প্রচুর পড়াশোনা করেছে।আর জানতে পেরেছে এই পুরো জগৎ মিথ্যে।
আবার এই মিথ্যে হলো পুরুষদের বিরুদ্ধে নারীদের অস্ত্র।একটা মেয়ে পুরুষের বিরুদ্ধে কিছু করতে গেলে মিথ্যে প্রেম ছাড়া কিছুই করতে পারবেনা।আর মিথ্যে প্রেম করাটাই বেছে নিলো প্রতিশোধ নেওয়ার মাধ্যম হিসেবে।একসময় পারুল সফলতার কাছাকাছি গিয়ে পৌঁছে যায়।
তখন দেখতে পাই এক আশ্চর্য ব্যাপার।যে মিথ্যে প্রেমের ফাঁদ এঁটে প্রতিশোধ নিতে গেছিলো,সেই মিথ্যে প্রেম শাহীনকে করে তোলেছে দার্শনিক।নিজেকে চিনতে শিখিয়েছে।তালালের মতো মানুষের দেখা পেয়েছে।কারণ তারা সবসময় এই মিথ্যে ভালোবাসার প্রত্যাশা করেছে।
সত্যি বলতে একজন নর্তকীর পক্ষে সত্যিকার ভালোবাসা দেওয়া সম্ভব না।তার কাছে মিথ্যেটা তার শক্তি।পারুল শুধু নিজের জন্য না, লড়েছে অসহায় সব মেয়েদের পক্ষে।মেয়েদের সাহসী হতে সহায়তা করেছে।তাদের শিখিয়েছে অন্যায়ের দিকে আঙ্গুল তোলে বলতে ❝এটা অন্যায়❞
সব মিলিয়ে আমি লেখকের বড় একজন ভক্ত হয়ে ওঠেছি।ইচ্ছে পূষণ করি লেখকের সাথে সাক্ষাৎ করার।যদি কখনো সুযোগ হয়।
তিন খন্ডের এতো বড় বই পাঠক নিমিষেই শেষ করতে পারবে।আমি মাত্র সাড়ে তিন দিনেই পড়েছিলাম।আর দৃশ্যগুলো আমি পড়ার সময় কল্পনা করতে পারছিলাম।খুবই ভালো লেগেছে।
এক নজরে, বইয়ের নামঃ নর্তকী (তিন খন্ডে ভাগ করা) লেখকঃ মোহাম্মদ আলী প্রকাশনীঃ দাঁড়িকমা ______________________________ ২৫ শ্রাবণ, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ ০৯ আগস্ট, ২০২৩ ইং