পুরো নাম আনু মুহাম্মদ আনিসুর রহমান হলেও আনু মুহাম্মদ নামেই অধিক পরিচিত, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক। ঢাকায় লেখাপড়া শেষ করে ১৯৮২ থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে যোগদান করেন। এছাড়া একই বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগেও শিক্ষকতা করেছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী শোষণ, বৈষম্য, নিপীড়ন ও আধিপত্য বিরোধী তত্ত্বচর্চা ও লড়াইয়ে সক্রিয় অংশ নেন। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদে জনগণের মালিকানা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনসহ যে কোন প্রকার নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেন। বর্তমানে তিনি তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব। বাংলাদেশে মার্কসীয় অর্থনীতি ও রাজনৈতিক অর্থনীতি সংক্রান্ত আলোচনায় তিনি সবচেয়ে পরিচিত লেখক।
বর্তমান বিশ্বে মহাশক্তিধর আসলে কে? কে বসে আছে ঈশ্বরের আসনে? কে সাদাকে কালো, শয়তানকে ফেরেশতা, মৃত্যুকে জীবন, অন্ধকারকে আলো বলে হাজির করে আমাদের সামনে আচ্ছন্নতা তৈরি করে? ধর্মের ঈশ্বর নাকি একচেটিয়া বিশ্ব পুঁজি? পুঁজিই কি এখন ঈশ্বর? কী সম্পর্ক ধর্ম আর সমাজে? ধর্ম কি এক না বহু? ধর্ম কি শুধু নিপীড়কের? নিপীড়িতের ধর্ম নেই? নিজের ভেতর লালন করা ধর্মশক্তি কিভাবে কীরূপ নেয়?
দর্শনের ইতিহাস কিভাবে ধারণ করে আছে মানুষের চিন্তার জগতে অসংখ্য সংঘাত? চিন্তার সংঘাত কি স্বাধীন কিছু নাকি সমাজের সংঘাতকেই তা বিমূর্ত রূপ দেয়? দর্শন কিভাবে একই সঙ্গে রাজনীতি ও অর্থন্য?
নারী কিভাবে ধারণ করে বহু পরিচয়? নারীর লড়াই কিভাবে হয়ে উঠে বহুমাত্রিক নিপীড়ন ও বৈষম্যবিরোধী লড়াই?
খাঁটি বাঙালী কে? কে খাঁটি মুসলমান? বাঙালী মুসলমানকে দু জায়গাতেই কেন খাঁটিত্বের পরীক্ষা দিতে হয়? কিভাবে সাম্প্রদায়িকতার ডালাপালা দিনে দিনে ছড়ায় তার বিষবাষ্প? কোথায় তার শক্তি?
সাধু কিংবা চলতি, মন কিংবা মুখের কথা- কোথায় ভাষার প্রাণ? কোথায় ভাষার শক্তি? ভাষার প্রাণ কি মানুষের প্রাণ ছাড়া বাঁচে? গান কিভাবে একই সঙ্গে মানুষের ভালোবাসা আর লড়াইয়ের ভাব ধারণ করে?
এগুলো সহ আরো বহু প্রশ্নের উত্তর সন্ধানে এই বই। গতিশীল জগতে মানুষের অন্তর্গত শক্তি, দ্বিধা, বৈপরীত্য, জয়-পরাজয়; বস্তুগত বিকাশধারায় তার চিন্তা ও সক্রিয়তার টানাপোড়েন, চিন্তাজগতের সমৃদ্ধ সম্ভার ও ক্ষমতার শৃঙ্খল, মানুষের বিভেদ ও ঐক্যের নানা সমীকরণ, সচেতন ও অচেতন, ভাব ও ভাষার গতি, ধর্ম, পুঁজি আর প্রতিষ্ঠানের ক্রিয়া, লিঙ্গ-শ্রেণী-ভাষা-জাতি প্রশ্ন ইত্যাদি নিয়ে দুটি স্মারক বক্তৃতাসহ কয়েকটি প্রবন্ধের সংকলন এই বই।