একজন বৃহন্নলা আত্মহত্যা করে প্রান্তিকজনোচিত অহংকারে। সমকামী স্বামীর হাতে খুন হওয়ার পর খেয়ালিয়া শান্তি মেননের ‘আত্মহত্যা’ ঘটে দিল্লির চানেওয়ালাদের মুখে মুখে। একজন বীরাঙ্গনা আত্মহত্যা করেন কারণ তাঁর গর্ভ আর তাঁর শরীর নিয়ে তিনি স্বাধীন। জলে কাদায় কোনো এক মায়ের ছেলে ডুবে যায়। তামাকের ধোঁয়া আবেদাকে মা বানিয়ে দিতে ব্যর্থ হয়; এদিকে প্রবাস মৌসুমীকে বানিয়ে দেয় জীবনভূষিত আম্মা। সেক্সটিং-এর চক্করে তবলাশিল্পী এষার বিদেহী শিল্প হারিয়ে যায়। অন্ধ পর্বতারোহী জীবনের প্রতিযোগিতায় লাগাতার দ্বিতীয় হওয়ার মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন। হাউজবোটের ধারে বসে একতাড়া প্রত্যাখ্যাত ছবি ভাসাতে থাকে বিশাখা।
বর্ণালীর গল্প বলার উপকরণ—জন্তুর কৌতূহল, শিশুর পর্যবেক্ষণ এবং শিল্পীর চিত্রকল্প। প্রায়-সাঙ্গীতিক শৈলী পরিমিতিবোধ পাওয়া যাবে তীব্রগম্ভীর চিন্তার এই এগারটি গল্পে ।
বর্ণালী সাহার জন্ম ১৯৮৩ সনে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইন্সটিটিউট থেকে স্নাতক এবং মেলবোর্ন বিজনেস স্কুল (মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়, অস্ট্রেলিয়া) থেকে ব্যবসায় প্রশাসন বিষয়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষা সমাপ্ত করেন। শৈশব থেকে রাগসংগীতের চর্চা করছেন-শিক্ষার্থী এবং গবেষক হিসাবে কলকাতার আইটিসি সংগীত রিসার্চ একাডেমির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। ঢাকা, লন্ডন এবং মেলবোর্নে একাধিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্বস্থানীয় পরামর্শক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে মেলবোর্নে বসবাস করছেন।
‘আম্মা ও দূরসম্পর্কের গানগুলি’ (২০১৫) বর্ণালী সাহার প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ, এটি একটি গল্পসংকলন। ‘দ্যা নর্থ এন্ড’ (২০২০) প্রথম উপন্যাস। ২০২৩ সালের বইয়ের প্রকাশিত হয় তাঁর দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ ‘জবরখাকি’।
শান্ত, কোমল গল্প পড়ে অভ্যস্ত পাঠকের কাছে বর্ণালী সাহা'র গল্প চোলাই মদের মতো ঝাঁঝালো ও বিপর্যয়কর মনে হতে পারে।এতো ধারালো, রাখঢাকহীন লেখা বাংলা সাহিত্যে বিরল।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে বইটা পড়ার সৌভাগ্য হলো। এবং তিনটা বইয়ের তিনটাই পড়ে এখন বর্ণালী সাহা নিয়ে কাউকে বলতে গেলে আগের মতো শুরুতে আর ‘এই সময়ের’ কিংবা ‘নতুনদের মধ্যে’—এ রকম বাড়তি কিছু বলার প্রয়োজন ফুরালো। বর্ণালী সাহা হয়ে গেলেন আমার প্রিয় লেখক, সব সময়ের প্রিয় লেখক।