শিল্পকলার নান্দনিকতার বিশ্লেষণে উদ্দেশ্য ও ভূমিকাকে কেন্দ্রীয় স্থানে রেখে যে আলোচনা তার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ইউরোপে এবং শেষের পর্বে আমেরিকায় শিল্পকলার বিবর্তনে । সেই জন্য পাশ্চাত্যের শিল্পকলার ইতিহাসই এই বইয়ের আলোচনায় প্রাধান্য পেয়েছে । শিল্পের ইতিহাসে যেসব প্রধান পরিবর্তন, বাঁকফেরা, নতুন শিল্পের সঙ্গে নতুন শৈলীর ব্যবহার ইত্যাদি পাশ্চাত্যে, বিশেষ করে ইউরোপে যেমন হয়েছে অন্যান্য মহাদেশে তেমন দেখা যায়নি। চীন, ভারত এবং জাপানের প্রাচীন শিল্প ঐতিহ্য থাকা সত্ত্বেও প্রাচীন যুগের পর সেইসব ঐতিহ্য যেন অতীতেই বরফ জমাট হয়ে থেকেছে, অথবা অগ্রসর হয়েছে প্রায় অনুল্লেখ্যরূপে বৈচিত্র্যহীন পুনরাবৃত্তির বলয়ে আবদ্ধ থেকে। প্রাচীন শিল্প ঐতিহ্যের নবায়ন বা ক্রমিক উন্নতি হয়নি ইউরোপের বাইরে এইসব মহাদেশে। পরবর্তী সময় শিল্পকলার ক্ষেত্রে যে পরিবর্তন এসেছে সেসব প্রধানত পাশ্চাত্য শিল্পের প্রভাবে এবং অভিঘাতেই। সব শিল্প মাধ্যমের মধ্যে শিল্পকলা সবচেয়ে দ্রুতগামী ও নিয়ত পরিবর্তনশীল, আর এ ক্ষেত্রে ইউরোপ যে নেতৃত্বের স্থানে রয়েছে প্রাচীনকাল থেকে তার সেই কর্তৃত্ব ও প্রভাবের স্থান অন্য মহাদেশের শিল্প অধিকার করতে পারে একমাত্র নিজেদের শিল্পকর্মের উৎকর্ষে, চলিষ্ণুতায় এবং নিত্য নবরূপে আবির্ভাবের ভিত্তিতে।
হাসনাত আব্দুল হাই (English: Hasnat Abdul Hye) একজন বাংলাদেশি লেখক এবং প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক। তিনি ঢাকা, ওয়াশিংটন, লন্ডন ও কেমব্রিজে লেখাপড়া করেন। তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার, অলক্ত সাহিত্য পুরস্কার, জগদীশ চন্দ্র বসু পুরস্কার, শের-ই-বাংলা পুরস্কার, এস.এম. সুলতান পুরস্কার, শিল্পাচার্য জয়নুল পুরস্কারে ভূষিত হন।
মোটামুটি। ধৈর্য্য ধরে পড়লে বইয়ে ইনফরমেশন প্রচুর। তবে ওভারঅল রচনা আরেকটু ইন্টারেস্টিং, সহজবোধ্য, গোছানো হতে পারত। (বইয়ে কিছু ভুল তথ্য রয়েছে যা প্রিন্টিং মিসটেক হতে পারে। পরবর্তী সংস্করণগুলোতে হয়ত থাকবে না।)