গোপা গোয়েন্দি'র সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছিল 'সেরা ইচ্ছেডানা' সংকলনের মধ্য দিয়ে। রীতিমতো এক্সপেরিমেন্টাল সেই রহস্য গল্পটি পড়ে ভারি ভালো লেগেছিল। তারপর পড়েছিলাম লেখকের সংকলন 'অর্জুন বধের নেপথ্যে'। এবার স্পষ্টতই একটা কথা মনে হয়েছিল। বুদ্ধিদীপ্ত, সরস, প্রাপ্তমনস্ক এবং পুলিশি তদন্তের প্রকরণ মাথায় রেখে লেখা এমন রহস্যকাহিনি বাংলায় শুধু পঠিত নয়, অনুসৃতও হওয়া প্রয়োজন।সেই ধারণাটাই আরও পোক্ত হল লেখকের পরবর্তী সংকলন পড়তে গিয়ে। মোট চারটি কাহিনি আছে এই বইয়ে। প্রথম কাহিনিটি ছোটোগল্প, নাম 'রবি ঠাকুরের সূত্রে'। এও এক এক্সপেরিমেন্টাল গল্প— যেখানে পুরো গল্পটাই বলা হয়েছে সংলাপের আকারে। শীর্ষেন্দু'র শবর-উপাখ্যান 'রূপ-মারীচ রহস্য'-র উদ্দেশে হোমাজই হোক বা লেখকের দুঃসাহস— গল্পটা উপভোগ্য হয়েছে। তার সঙ্গে ফেয়ার-প্লে মিস্ট্রির ধাঁচে সব সূত্র আমাদের সামনে রেখে কার্যত চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দেওয়া হয়েছে পাঠকদের উদ্দেশে। দ্বিতীয় কাহিনি একটি বড়োগল্প, নাম 'হে অতীত, কথা কও'। একেবারে ভিন্টেজ গথিক লেখা এটি— যাতে পারিবারিক উষ্ণতা আর রহস্যভেদের উদ্দেশ্যে অন্ধকারের মধ্য দিয়ে আলো হাতে এগিয়ে চলা নিপুণভাবে মিশেছে। "ওল্ড সিনস কাস্ট লং শ্যাডোজ" প্রবাদের সত্যতা প্রমাণ করেছে এই ছমছমে হয়েও বিষাদে নীল লেখাটি। তৃতীয় কাহিনিও একটি বড়োগল্প, নাম 'মধুর প্রতিশোধ'। একেবারে সলিড সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার এটি। একটি সমাপতন এবং গোটা দুই আরোপিত সম্পর্ক এই লেখাকে পুরোপুরি বাস্তবানুগ রাখতে পারেনি। কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক পাঠকের জন্য লেখা রহস্য গল্প হিসেবে এটি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত উপভোগ্য। এই বইয়ের চতুর্থ তথা শেষ লেখা একটি উপন্যাস। 'মায়াবী মারীচ' নামের এই কাহিনিটি এক কথায় আনপুটডাউনেবল। এতে আছে জটিল, অসরলরৈখিক ঘটনাক্রম। আছে গোপন তথ্য ও তার সুরক্ষার জন্য তৈরি ধূসর বলয়টি নিয়ে কিছু আলোচনা। আছে ঘাত, প্রতিঘাত ও সংঘাত— কথায় ও কাজে! সর্বোপরি আছে কিছু পুরোনো শত্রু এবং আগের বই থেকে চলে আসা কিছু আনফিনিশড বিজনেস! তবে এতে বড়ো বেশি চরিত্র এসেছে। তাছাড়া ঘটনার ঘনঘটা এসে পড়ায় গল্পের কিছু-কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশে ট্র্যাক রাখতে সমস্যা হতে পারে। কাহিনির শেষে ক্লিফ হ্যাংগার রেখে দেওয়াটাও ভালো লাগল না। তবু বলব, এই বই রহস্যপ্রিয় পাঠকের কাছে অবশ্যপাঠ্য। বিশেষত যদি আপনি এমন রহস্যকাহিনির পাঠক হয়ে থাকেন যাতে রোমান্স আর রোমাঞ্চ, ভয় আর ভালোবাসা একই সঙ্গে হাত ধরাধরি করে পথ চলে, তাহলে এই বইটি কোনোমতেই ফসকানো উচিত নয়। তবে এর আগে 'অর্জুন বধের নেপথ্যে'-টি পড়ে নিলে ভালো করবেন। গোপা গোয়েন্দি'র জয়জয়কার হোক।
বইটি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই কেনার ইচ্ছে ছিল, কিন্তু নানা কারণে সেটা সম্ভব হয়ে উঠছিল না। একেই লেখক কর্মসূত্রে পরিচিত, তার উপর তাঁর আগের বইটি পড়ে গোপা গোয়েন্দি সম্পর্কে আগ্রহও বেড়ে গিয়েছিল। অবশেষে জানুয়ারির শেষে বইটি হস্তগত করা গেল।
গোপা গোয়েন্দি সিরিজের আগের বই 'অর্জুন বধের নেপথ্যে'-র মতোই এই বইতেও রয়েছে চারটি কাহিনি। প্রথম কাহিনি 'রবি ঠাকুরের সূত্রে' বেশ সাদামাটা গল্প হলেও এই গল্পের বিশেষত্ব হল পুরো গল্পটাই সংলাপের আকারে লেখা, অর্থাৎ কোনো ন্যারেশন নেই। অথচ সংলাপের মধ্য দিয়েই রহস্যের সমাধান পাঠকের বোধগম্য হয়। এই লেখাটি অনেকটা শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের সংলাপভিত্তিক ছোটগল্পগুলির কথা মনে পড়িয়ে দেয়।
দ্বিতীয় কাহিনি 'হে অতীত কথা কও' বেশ ডার্ক থিমের গল্প। রিপুর তাড়না ও মানবমনের অন্ধকার দিক এই গল্পের উপজীব্য। এই গল্পের চমক হল, বর্তমানে ঘটা কোনো সমস্যার সমাধান এতে নেই, বরং আছে অর্ধশতাব্দীরও আগে ঘটে যাওয়া কিছু রহস্যময় ঘটনার যুক্তিনির্ভর অনুমানের মাধ্যমে পাওয়া সমাধান। ব্যক্তিগতভাবে এই গল্পে আমার আর একটি পছন্দের জায়গা এর পটভূমি ডায়মন্ড হারবার শহর, যেখানে গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্রের পিসিরবাড়ি শুধু নয়, আমার মাসিরবাড়িও বটে।
তৃতীয় কাহিনি 'মধুর প্রতিশোধ' নারী-পুরুষের সম্পর্কের জটিলতা, পারস্পরিক সন্দেহ-অবিশ্বাস ও পুরনো কিছু পাপের ফলে ঘটে যাওয়া একটি নৃশংস মৃত্যুর গল্প। কিছুটা চেনা ছকে এগোলেও এই গল্পের সাব-প্লট টি আমার বেশি আকর্ষণীয় লেগেছে, যেখানে মানসিক রোগের চিকিৎসাকেন্দ্রের অধ্যায়টি আছে।
বইয়ের শেষ কাহিনির নামেই বইটির নাম: 'মায়াবী মারীচ', যেটি আয়তনে একটি ছোটখাট উপন্যাস। এই গল্পের ব্যাপ্তি যেমন বিশাল (দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার বকখালী থেকে উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বার-গঙ্গোত্রী-গোমুখ অবধি), তেমনি প্রচুর চরিত্রের আনাগোনা ও বিভিন্ন ঘটনার টানাপোড়েনে রহস্যের জাল আরো বিস্তৃত হয়েছে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গোপা গোয়েন্দির পুরনো শত্রুদের প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে পুনরাগমন। সব মিলিয়ে সবরকম মশলার ভরপুর আয়োজন। তবে এই অতি-মশলার জন্যই থ্রিলার হিসেবে গল্পটির ধার কিছুটা কমে গেছে বলে মনে হয়। বিশেষ করে ক্লাইম্যাক্সে বলিউড সিনেমাসুলভ টুইস্টের পর টুইস্টের পর টুইস্ট।
বইটির ছাপা থেকে বাঁধাই, প্রচ্ছদ সবই বেশ ভালো। তবে বেশ কিছু ভুল বানান চোখে লাগে; পরবর্তী সংস্করণে আশা করি প্রকাশক এ ব্যাপারে আরো যত্নবান হবেন। আরো দু-একটি খারাপ লাগা বিষয় নিয়ে একটু বলে নিই। প্রথমেই বলব সংলাপগুলি আরো একটু বাস্তবধর্মী হলে ভালো হত। কিছু কিছু জায়গায় চরিত্রগুলির বেশ নাটকীয় ও কাব্যিক সংলাপের ব্যবহার চোখে পড়লো; দৈনন্দিন জীবনে সাধারণ মানুষ এরকম রাবীন্দ্রিক ভাষায় সম্ভবত কথা বলেন না। আরেকটি অনুযোগ: শেষ গল্পের একেবারে শেষে ওয়েব-সিরিজের ধাঁচে cliff-hanger দিয়ে শেষ করাটা ভালো লাগেনি।
এবার আসি ভালোলাগার কথায়। লেখকের ভাষার উপরে দখল দুর্দান্ত, যেকারণে কিছু কিছু জায়গা দুবার পড়তে হয়েছে স্রেফ ভাষার মাধুর্যের টানে। চরিত্রচিত্রণেও লেখকের মুন্সিয়ানা চোখে পড়ার মত। চরিত্রগুলি ভীষণই চেনা, আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের বৃত্তেই ঘোরাফেরা করে। আর সব চরিত্রের মধ্যমণি গোপা গোয়েন্দি আমার বিশেষ পছন্দের চরিত্র তো বটেই। এক সাধারণ অথচ তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন বাঙালি গৃহবধূ গোপার মত চরিত্র বাংলা সাহিত্যে আরো বেশি করে প্রয়োজন। সবশেষে বলব, নিজের পরিচিতের বৃত্তে এমন সুলেখক ব্যক্তির সান্নিধ্যে থাকার জন্য নিজেকে ভাগ্যবান মনে হয়। গোপা গোয়েন্দির পরের বইয়ের জন্য আবারও অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় রইলাম।
গত একবছরে গোপা গোয়েন্দি নামটির সঙ্গে অনেকেই বেশ পরিচিত হয়ে গিয়েছেন। এবার সেই গোপা গোয়েন্দির দ্বিতীয় বই 'মায়াবী মারীচ' এসে গিয়েছে। এই বইটা পড়ার আগে আমার ব্যক্তিগত অনুরোধ থাকবে আগে প্রথম বই 'অর্জুন বধের নেপথ্যে' পড়ে নিতে। না হলে, হয়ত একটু বুঝতে অসুবিধা হতে পারে। বইতে সব মিলিয়ে তিনটে গল্প আর একটা উপন্যাস/উপন্যাসিকা বলা চলে। প্রথম গল্প 'রবি ঠাকুরের সূত্রে' মা ও মেয়ের জোড়া খুনের তদন্ত নামেন অফিসার অনুরাগ নন্দী আর অবশ্যই নেপথ্যে মেঘনাদ, গোপা গোয়েন্দি। প্রথম গল্পটা বেশ কিছুটা পরীক্ষামূলক একটা চেষ্টা। পুরো গল্পটাই দাঁড়িয়ে আছে শুধু ডায়ালগের উপরে। কোনো অতিরিক্ত একটা শব্দ এই গল্পে ব্যবহৃর হয়নি। ফলে গল্পের গতি ভীষণ রকম দ্রুত(বলা ভালো ক্ষিপ্র)। স্বাভাবিক কারণেই এই গল্পে তথ্য-প্রমাণের তুলনায় যুক্তি নির্ভর অনুমান ও অপরাধীর স্বীকারোক্তিই গল্পের অন্তিম পর্যায় রচনা করেছে। তবে এই পরীক্ষামূলক প্রয়োগের জন্য লেখকের অবশ্যই সাধুবাদ প্রাপ্য। পরের গল্প 'হে অতীত কথা কও'। বেশ বড় ও মনস্তাত্ত্বিক গল্প। এটা বোধহয় ঠিক গোয়েন্দা গল্প নয়। বরং গোপা এবং গোপার পিসে-শ্বশুর মানুষের মনের অন্ধকার, ভ্রম , অজ্ঞানতার কারণে জন্ম নেওয়া কুসংস্কার গুলোর একটা যুক্তিগ্রাহ্য বিশ্লেষণের চেষ্টা করেছেন। এই গল্পে ভালোবাসা, মাতৃত্ব, বিশ্বস্ততা এই সমস্ত আপাত ভালো অনুভূতিগুলোও যে একটা অন্ধকার দিক আছে সেটাই এই লেখার মূল উপজীব্য। এই গল্পটার জন্য লেখকের গোয়েন্দা গল্পের খাতে কিছু নম্বর কাটা গেলেও একটি মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার হিসাবে A+ পেয়ে বসে আছেন। এই গল্পটা আমার ব্যক্তিগতভাবে সব থেকে ভালো লেগেছে। পরের গল্প 'মধুর প্রতিশোধ' আগের গল্পের তুলনায় বেশি ভালো 'গোয়েন্দা গল্প'। অনেক বেশি তথ্য-প্রমাণ-যুক্তি নির্ভর লেগেছে। এই গল্পটার অনেকগুলো লেয়ার আছে। এক একটা লেয়ার যখন সামনে আসে তখন তাকেই অপরাধী মনে হয়। এই অনেক অপরাধী আর তাদের অনেক অনেক মোটিভ সাজাতে গিয়ে হঠাৎ করে সন্দীপন যে গাড়ির নীচে চাপা পড়ল সেই গাড়ির চালকও আগে থেকেই সন্দীপনকে চিনত, এটা আমার একটু বাড়াবাড়ি রকমের সন্দেহের তালিকা বাড়ানোর চেষ্টা বলেই ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়েছে। ওটা না রাখলেও গল্পের খুব খুব ক্ষতি হত না। শেষ গল্প 'মায়াবী মারীচ', এই বইয়ের সেরা গল্প। লেখক শেষ পাতে সব থেকে ভালটা দিতে জানেন। এই গল্প শুরু হয় ফ্রেজারগঞ্জ থেকে গিয়ে শেষ হয় গঙ্গোত্রীতে, মাঝে আরও অনেক জায়গায় ঘুরতে হয়েছে গোপাকে। তবে গল্পে একের পর এক টুইস্ট বার বার মনোযোগী গোয়েন্দা পাঠককেও দিকভ্রষ্ট করবে একথা আমি বাজি ধরে বলতে পারি। গল্পের প্লট, সাসপেন্স, থ্রিল, টেনশন, টুইস্ট সব তুঙ্গে। তবে অনেকগুলো টুইস্টের মধ্যে একটা যদিও মোটামুটি গল্পের তিন চতুর্থাংশ পৌঁছে আমি ধরে ফেলেছিলাম। এই গল্পটার এত টুইস্ট পড়তে পড়তে অতিবড় গোয়েন্দা পাঠকও ধোকা খাবেই। এই গল্পটা ভালো করে বোঝার জন্য অবশ্যই গোপা গোয়েন্দির প্রথম অভিযান আগে পড়ে ফেলতে হবে। তবে ভালো বই যখন দেখি ছোট কিছু কারণে খুব ভালো হয়ে উঠতে পারল না, তখন খারাপই লাগে।বাংলায় সংলাপ লেখার জন্য মূলত দুটো ফরম্যাট মেনে চলা হয় (আমার সীমিত জ্ঞানে যেটুকু জানি, ভুলও হতে পারি যদিও)। একটা হল 'm-ড্যাস' দিয়ে সংলাপ লেখা, সেক্ষেত্রে সাধারণত আর কোটেশন মার্ক ব্যবহার করা হয় না। অন্যটা কোটেশন মার্ক দিয়ে। একটি বইয়ে সাধারণত এক রকম ফরম্যাট হওয়াই বাঞ্ছনীয়। অথচ বইয়ের প্রথম গল্প ড্যাস নোটেশনে লেখা, দ্বিতীয় গল্প শুরু হয় ড্যাস নোটেশনে মাঝ পথে গিয়ে আবার কোটেশন দিয়ে সংলাপ লেখা । আর শেষের দুটো গল্পে দুই রকমই মিলে মিশে একাকার হয়ে গিয়েছে। বেশ কিছু জায়গায় বানানের সমস্যা রয়েছে। যেমন, একাধিক জায়গায় 'মর্নিং'-কে 'মর্নিক' লেখা হয়েছে। এগুলো একটু ঠিক করে নিতে হবে।প্রচ্ছদ বেশ ভালো লেগেছে--নজরকাড়া। মোটের উপর পুরো পয়সা উসুল বই। শুধু শেষ গল্পটাই একাধিকবার পড়া যায়। সত্যিই লেখক 'ভয়ঙ্কর মস্তিষ্ক'-এর অধিকারী। শেষের গল্পে একটা 'প্ল্যান-বি'-এর উল্লেখ আছে। এবার সেটাই জন্য অপেক্ষা শুরু...
🌟📔রবি ঠাকুরের সূত্রে :- বিলেত ফেরত এক বিধবা মহিলা ও তাঁর একমাত্র মেয়ে খুন হয়। বেশ সাদামাটা গল্প অথচ রহস্যের সমাধান বেশ সুন্দর করে গুছিয়ে লেখা। মা ও মেয়ের খুনের তদন্ত নামেন অফিসার অনুরাগ নন্দী , ও গোপা গোয়েন্দি। পুরো গল্পতে ডায়ালগ বেশ ভালো লেগেছে । কে খুন করল,কেনই বা খুন করল , কখন এবং কিভাবে? জানতে হলে অবশ্যই পড়তে হবে। সূত্র নাকি কবিগুরু রবি ঠাকুর!!
🌟📔হে অতীত , কথা কও:- পুরানো ভগ্নপ্রায় এক বাড়ি ও তাকে ঘিরে গড়ে ওঠা একটি কিংবদন্তী মিথ । এই গল্পের চমক হল, বর্তমানে ঘটা কোনো সমস্যার সমাধান এতে নেই, বরং আছে অর্ধশতাব্দীরও আগে ঘটে যাওয়া কিছু রহস্যময় ঘটনার যুক্তিনির্ভর অনুমানের মাধ্যমে পাওয়া সমাধান। কোনও এক অভিশাপে বারে বারে বিপর্যয় নেমে এসেছে ওই মিশ্র পরিবারে । একে একে পরিবারের সকলেই মারা যান জলে ডুবে , সাঁতারে পারদর্শী হওয়া সত্ত্বেও ! শুধু বেঁচে থাকেন বৃদ্ধ ব্ৰজেন্দ্র । লোকে বলে অতৃপ্ত আত্মা ভিড় করে আছে ও বাড়িতে । সত্যিই কি তাই ? নির্মম নিয়তি , অভিশাপ , অলৌকিক কোনও ক্রিয়াকলাপ ? নাকি অতীতের এই প্রহেলিকার পিছনে অন্য কোনও যুক্তিগ্রাহ্য কারণ আছে ? অনুসন্ধানে নামে গোপা ! এরপর কি হলো জানতে হলে অবশ্যই গল্পটি পড়তে হবে!!
🌟📔মধুর প্রতিশোধ :- সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার বলা চলে গল্পটিকে। সুন্দরী যুবতী মধুশ্রী তার স্বামীর উপর নজর রাখার অনুরোধ জানায় সে গোপা'কে । তার স্বামীও একই দিনে একই অনুরোধ নিয়ে আসে গোপার কাছে । আশ্চর্যজনকভাবে পরের দিনই এক বাইক অ্যাক্সিডেন্টে মৃত্যু হয় তার স্বামীর! নারী-পুরুষের সম্পর্কের জটিলতা, পারস্পরিক সন্দেহ-অবিশ্বাস ও পুরনো কিছু পাপের ফলে ঘটে যাওয়া একটি নৃশংস মৃত্যুর গল্প! এটা কি নিছক একটা অ্যাক্সিডেন্ট নাকি পরিকল্পিত খুন ? জানতে হলে অবশ্যই গল্পটি পড়তে হবে!!
🌟📔মায়াবী মারীচ :- চুরি গেল একজন মহান দেশপ্রেমিকের মৃত্যু - রহস্যের গোপন ফাইল ! সন্দেহের তির এক বিখ্যাত ইতিহাস গবেষকের দিকে , এই গল্পে প্রচুর চরিত্রের আনাগোনা ও বিভিন্ন ঘটনার টানাপোড়েনে রহস্যের জাল আরো বিস্তৃত হয়েছে! আছে ঘাত, প্রতিঘাত ও সংঘাত— কথায় ও কাজে! তেমনি তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গোপা গোয়েন্দির পুরনো শত্রুদের প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে পুনরাগমন! রাতারাতি ভ্যানিশ হয়ে গেলেন , ইতিহাসবিদ ! গোপা কি পারবে এই রহস্যের কেন্দ্রে পৌঁছাতে ? উদ্ধার হবে সেই গোপন ফাইল ? জানতে হলে অবশ্যই গল্পটি পড়তে হবে!!
গোপা গোয়েন্দি প্রথম সিরিজ বই -এর নাম ('অর্জুন বধের নেপথ্যে') এই বইটা পড়ার আগে প্রথম বই 'অর্জুন বধের নেপথ্যে' ওটা পড়েনিলে , বুঝতে সুবিধা হবে । অনুরোধ রইল 😊🙏
নিতান্ত আলস্য কাটিয়ে প্রথম বইটির একটা আনাড়ী রিভিউ গোছের কিছু একটা লিখেছিলাম। আমাকে রীতিমতো অবাক করে দিয়ে লেখক সেই রিভিউ নিজের wall (Facebook) এ তুলে ধরেছেন, পাঠক হিসেবে এ আমার পরম প্রাপ্তি। তাই লেখকের অনুরোধে আরও বেশি উৎসাহিত হয়ে এই সংকলনের দ্বিতীয় বই 'মায়াবী মারীচ' এর রিভিউ দিচ্ছি।
এই বইতে রয়েছে মোট চারটি কাহিনী।
১| রবি ঠাকুরের সূত্রে :- আদ্যোপান্ত সংলাপের আঙ্গিকে লেখা এই কাহিনী মন্দ লাগেনি, তবে আমি কিছুটা আগেই predict করে নিয়েছিলাম। Spoiler দিতে চাইনা তাই বেশি কিছু বলবো না তবে এটি একটি প্রতিহিংসাজনিত ক্রাইম।
২| হে অতীত কথা কও :- এক পুরোনো ভগ্নপ্রায় বাড়ি, তাকে ঘিরে প্রচলিত অভিশাপের কিংবদন্তী, একের পর এক জলে ডুবে রহস্যময় মৃত্যু, সেইসব বহুবছর আগে ঘটে যাওয়া মৃত্যু রহস্যের কিনারা করবেন গোপা গোয়েন্দি। কিছু অতিপ্রাকৃত অলৌকিক ঘটনার যুক্তিভিত্তিক ব্যাখ্যা খুঁজে বের করা এবং সেই সূত্র অনুসরণ করে রহস্যের সমাধান এই গল্পের বিশেষত্ব। তথাকথিত গোয়েন্দা কাহিনীর গণ্ডি ছাড়িয়ে তাই এই গল্পটি হয়ে উঠেছে অনন্য। তবে আরো একটু বড় হলে যেনো ভালো লাগতো, বড্ড তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে গেলো বলে মনে হলো। এরম একটা গল্পে আরো কিছুটা জটিলতা বাড়াতে পারতো।
৩| মধুর প্রতিশোধ :- এই সংকলনের সব থেকে আকর্ষণীয় গল্প আমার কাছে এইটি। একটি অদ্ভুত মনস্তাত্ত্বিক পরিসরে গল্পের রহস্যের বিস্তার আর তার উন্মোচন। বিভিন্ন চরিত্রের সুনিপুণ সমাবেশ এবং তাদের যথাযোগ্য contribution গল্পটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। আর এই গল্পে আমার Pre-prediction একেবারে মাঠে মারা গেছে, যদিও তাতে আক্ষেপ নেই। লেখকই কাহিনীর শেষে সেই আক্ষেপ মিটিয়ে দিয়েছেন। আমি যাকে দোষী ভেবেছিলাম, গোয়েন্দিও তদন্তের মধ্যভাগে তাকেই Culprit ভেবেছিলেন। অসাধারণ একটি কাহিনী।
৪| মায়াবী মারীচ :- সংকলনের নামকরণ এই কাহিনীর নামে, নির্দ্বিধায় বলা যায় এটি এই বইয়ের সবথেকে content সমৃদ্ধ কাহিনী। প্রচুর টুইস্ট, মধ্যে মধ্যে বলিউড ধাঁচের action আর সাথে অপ্রত্যাশিত একটি সমাপ্তি; এসবের সমাহারে ভরপুর রসদ রয়েছে এই গল্পে। লেখক তাঁর স্বভাবসুলভ ভঙ্গিমায় পরবর্তী খন্ডের গৌরচন্দ্রিকা এই গল্পের শেষে করেছেন। অর্থাৎ একটি নতুন সংকলন আসন্ন। আমি সচেতন ভাবেই গল্পগুলোর বিবরণ এড়িয়ে গেছি, অন্যান্য পাঠকরা যাতে পড়বার সময় গল্পগুলোর নতুনত্ব সম্পূর্ণভাবে উপভোগ করতে পারে। কিছু ছোটখাটো (নগণ্য) অসঙ্গতি ধর্তব্যের মধ্যে না এনে বলতে পারি, বইটি অত্যন্ত সুপাঠ্য। লেখকের লেখার হাত যে চমৎকার তা আগেও বলেছি, পরের খন্ডের জন্য অনেক প্রত্যাশা নিয়ে প্রতীক্ষায় রইলাম। গোপা গোয়েন্দি আবার ফিরে আসুক...।
পুনশ্চ - এর আগের খন্ড 'অর্জুন বধের নেপথ্যে' টি আগে পড়ে নিয়ে এটি পড়া শুরু করলে সুবিধা হয় বুঝতে।
বিভা আষাঢ়ে সেলে কি কিনব কি কিনব ভাবছি, এমত অবস্থায় শরনাপন্ন হই Goodreads এর। সেখান থেকেই জানতে পারি এই বইটির ব্যাপারে।
এটি গোপা গোয়েন্দি সিরিজের দ্বিতীয় বই। প্রথম বইটি হল "অর্জুন বধের নেপথ্যে"। প্রথম বইটি শেষ করার পর, গোপা গোয়েন্দি থেকে হয়ত expectation একটু বেশি হয়ে গিয়েছিল, তাই হয়ত সামান্য disappointed হতে হয়েছে এই বইটি পড়ে। বইটি চারটি গল্প দিয়ে সাজানো, যথাক্রমে "রবি ঠাকুরের সূত্রে", "হে অতীত কথা কও", "মধুর প্রতিশোধ" এবং "মায়াবী মারীচ" যেটির নামে বইটির নামকরণ।
লেখক মহাশয়ের লেখনী সত্যিই দারুণ। অত্যন্ত সাবলীল, গল্পের গতি স্রোতস্বিনী নদীর ন্যায় এগিয়ে গেছে।
"হে অতীত কথা কও" গল্পে বহুকাল আগে ঘটে যাওয়া একটি crime কে solve করার চেষ্টা করা হয়, গোপা গোয়েন্দির কথায় যাকে বলে 'যুক্তি নির্ভর অনুমানের' মাধ্যমে। তবে মনে হয়েছে জোর করে clue তৈরি করে problem solve করার চেষ্টা করা হয়েছে যা খুবই artificial লেগেছে আমার কাছে। "রবি ঠাকুরের সূত্রে" এবং "মধুর প্রতিশোধ" গল্প দুটি বেশ ভালো হলেও, এমন কিছু coincidences আছে, যা গল্পেই সম্ভব।
"মায়াবী মারীচ" গল্পটি আয়তনে বড়ো অন্যান্য গল্পগুলির তুলনায়, যাকে একটি ছোট উপন্যাস বলা চলে। এইটি পড়তে পড়তে গল্পের অনেক ফাঁক চোখে পড়বে, যা কিছুটা বিরক্তিকর মনে হতে পারে, কিন্তু Everything has been put in place finally and all the conflicts have resolved with explanation at the end. উপন্যাসিকাটিতে অনেকগুলো layer আছে, যা প্লটটিকে একটু complex করে তোলে তুলনামূলকভাবে। হয়ত execution আরেকটু better হতে পারত।
Being a new authors it's good. but the focus on the fictional main character and providing unnecessary talents to the characters is the drawback..authors tried to make the fictional character gopa nandi as an invincible..Stories are good..Hope we will get more thrillers from the author in the upcoming books
boi e mot 4 ti kahini ache.1 ti chotogolpo,1 ti borogolpo,1 ti uponnyashika ebong 1 to uponnayash.prottekti kahini e jomjomat rohosshe vora ebong protiti kahini last e rohossher sundor ekti somadhan ache.uponnyash ti te rohossher pashapashi adventure ache.valo boi.jara rohossho o goyenda kahini porte valobashen tara ei boita porte paren.