What do you think?


ত্রিমাত্রিক
Collection of Three Novellas
201 pages, Hardcover
First published January 1, 2021
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 2 of 2 reviews
January 13, 2021
লেখক হিসেবে শোভন কাপুড়িয়া ফেসবুকে জনপ্রিয় এবং লম্বা রেসের ঘোড়া হিসেবেই চিহ্নিত। তাঁর প্রথম বই 'ত্রিমাত্রিক' সদ্য পড়লাম। উৎকট প্রচ্ছদ দেখে বইটি সম্বন্ধে যেমনই ধারণা হোক না কেন, আদতে সেটি সুমুদ্রিত এবং পরিচ্ছন্নভাবে পরিবেশিত। তাতে মোট তিনটি লেখা আছে।
১) অবৈধ: বইয়ের সবচেয়ে বড়ো লেখা এই উপন্যাসটি। দুর্ভাগ্যবশত, এটি বইয়ের দুর্বলতম কাহিনিও বটে। প্রাপ্তবয়স্ক পাঠকের জন্য কাহিনি নির্মাণ করতে গিয়ে এতে যথেচ্ছ যৌনতা ও হিংস্রতার অবতারণা করা হয়েছে ঠিকই। কিন্তু রহস্য কাহিনি হিসেবে এটি এতই অসম্ভাব্য যে লেখাটা পড়াই কষ্টকর হয়ে উঠেছিল— অন্তত আমার কাছে। তরুণ লেখক তাঁর শক্তিময় লেখনীটি আরেকটু বাস্তবানুগ এবং মিতকথিত কাহিনি-নির্মাণে ব্যয় করলে ভালো হবে।
২) হ্যারিসন রোডের শেষ বাড়িটা: এই লাভক্র্যাফটিয়ান নভেল্লাটি বেশ ভালো লাগল। বাস্তবতার মাথাব্যথা ছিল না এখানে। অথচ এই কাহিনিতে লেখক অত্যন্ত যত্ন নিয়ে বিভিন্ন চরিত্রের দুর্বলতা আর ভয় ফুটিয়ে তুলেছেন। কসমিক হররের চমকের তুলনায় চরিত্রচিত্রণের প্রতি তাঁর এই যত্নই বুঝিয়ে দেয়, শোভন স্রেফ চমকে দিতে আসেননি।
৩) আউটপোস্ট কেবি ১১: এ-কথা আমি নানা জায়গায় বলে থাকি যে এই সময়ে কল্পবিজ্ঞান-ঘরানায় থ্রিলার লেখায় সবচেয়ে এগিয়ে থাকা লেখকদের অন্যতম হলেন শোভন। এই বইয়েও তাঁর কল্পবিজ্ঞান কাহিনিটি আমার অনন্য লেগেছে। ভবিষ্যতের এক ডিস্টোপিয়ান পৃথিবীর আকাশে ঘটে যাওয়া এক ভয়ংকর চক্রান্ত এবং তার সঙ্গে জড়িত ঘাত-প্রতিহাতের এই কাহিনিটি যেমন রুদ্ধশ্বাস, তেমনই চিন্তা-জাগানিয়া। আমার নিজের কাছে এই একটি লেখাই সংকলনটি কেনার ও পড়ার জন্য যথেষ্ট কারণ হয়ে উঠেছে।
বইটি এমনিতে চমৎকার। তবে লেখার মাঝে ব্যাপক হারে 'সাথে' ব্যবহৃত হয়েছে— যেগুলো 'সঙ্গে' করে দেওয়া উচিত ছিল। প্রকাশক এ-বিষয়ে একটু সতর্ক হলে ভালো করবেন।
লেখক তাঁর 'অন্ধকার চাঁদ', 'নেমেসিস' এবং 'মহুয়াডহরির মায়া'-কেও অবিলম্বে গ্রন্থবদ্ধ করে আমাদের কাছে পেশ করবেন— এই আশায় রইলাম।
১) অবৈধ: বইয়ের সবচেয়ে বড়ো লেখা এই উপন্যাসটি। দুর্ভাগ্যবশত, এটি বইয়ের দুর্বলতম কাহিনিও বটে। প্রাপ্তবয়স্ক পাঠকের জন্য কাহিনি নির্মাণ করতে গিয়ে এতে যথেচ্ছ যৌনতা ও হিংস্রতার অবতারণা করা হয়েছে ঠিকই। কিন্তু রহস্য কাহিনি হিসেবে এটি এতই অসম্ভাব্য যে লেখাটা পড়াই কষ্টকর হয়ে উঠেছিল— অন্তত আমার কাছে। তরুণ লেখক তাঁর শক্তিময় লেখনীটি আরেকটু বাস্তবানুগ এবং মিতকথিত কাহিনি-নির্মাণে ব্যয় করলে ভালো হবে।
২) হ্যারিসন রোডের শেষ বাড়িটা: এই লাভক্র্যাফটিয়ান নভেল্লাটি বেশ ভালো লাগল। বাস্তবতার মাথাব্যথা ছিল না এখানে। অথচ এই কাহিনিতে লেখক অত্যন্ত যত্ন নিয়ে বিভিন্ন চরিত্রের দুর্বলতা আর ভয় ফুটিয়ে তুলেছেন। কসমিক হররের চমকের তুলনায় চরিত্রচিত্রণের প্রতি তাঁর এই যত্নই বুঝিয়ে দেয়, শোভন স্রেফ চমকে দিতে আসেননি।
৩) আউটপোস্ট কেবি ১১: এ-কথা আমি নানা জায়গায় বলে থাকি যে এই সময়ে কল্পবিজ্ঞান-ঘরানায় থ্রিলার লেখায় সবচেয়ে এগিয়ে থাকা লেখকদের অন্যতম হলেন শোভন। এই বইয়েও তাঁর কল্পবিজ্ঞান কাহিনিটি আমার অনন্য লেগেছে। ভবিষ্যতের এক ডিস্টোপিয়ান পৃথিবীর আকাশে ঘটে যাওয়া এক ভয়ংকর চক্রান্ত এবং তার সঙ্গে জড়িত ঘাত-প্রতিহাতের এই কাহিনিটি যেমন রুদ্ধশ্বাস, তেমনই চিন্তা-জাগানিয়া। আমার নিজের কাছে এই একটি লেখাই সংকলনটি কেনার ও পড়ার জন্য যথেষ্ট কারণ হয়ে উঠেছে।
বইটি এমনিতে চমৎকার। তবে লেখার মাঝে ব্যাপক হারে 'সাথে' ব্যবহৃত হয়েছে— যেগুলো 'সঙ্গে' করে দেওয়া উচিত ছিল। প্রকাশক এ-বিষয়ে একটু সতর্ক হলে ভালো করবেন।
লেখক তাঁর 'অন্ধকার চাঁদ', 'নেমেসিস' এবং 'মহুয়াডহরির মায়া'-কেও অবিলম্বে গ্রন্থবদ্ধ করে আমাদের কাছে পেশ করবেন— এই আশায় রইলাম।
August 20, 2021
যাঁরা মোটামুটি ফেসবুকে গল্প পড়েন বা ইউটিউবে নিয়মিত অডিও স্টোরি শোনেন , তাঁরা হয়ত প্রায় প্রত্যেকেই শোভন কাপুড়িয়ার নাম শুনে থাকবেন। তাঁর প্রথম প্রকাশিত একক বই হল এই 'ত্রিমাত্রিক'।
বইতে তিনটি আলাদা জঁরের কাহিনি আছে। 'হ্যারিসন রোডের শেষ বাড়িটা' একটি লাভক্রাফটিয়ান হরর। গল্পের প্লটটা যে খুব নতুন সেরকম নয়, তবে লেখকের লেখার গুণে সেটা বেশ ভালোই উপভোগ্য হয়েছে। লেখকের লেখার হাতটি বেশ মাখনের মতো। বেশ কিছু মারাত্মক টুইস্টও আছে। অভিযোগ একটাই লেখার ফরম্যাটটা নিয়ে বোধহয় আরও ভাবনা চিন্তার দরকার আছে। সম্ভবত গল্পটি প্রথমে কোনো অডিও ফরম্যাটের কাজের জন্য লেখা হয়েছিল। ফলে খুব ছোট ছোট অংশের পরে ব্রেক করে পরের সিনে যাওয়া হয়েছে। গল্প শোনার সময় কিন্তু এগুলো কানে লাগে না, কিন্তু পড়ার সময় বার বার এই ব্রেক পয়েন্ট গুলো কিন্তু পাঠকের অবচেতনে বার বার বাধাসৃষ্টি করে। তাই লেখার সময় একটু মসৃণ ভঙ্গিতে কিভাবে দৃশ্যান্তর ঘটানো যায় সেটা একটু খেয়াল রাখতে হবে। তবে গল্পটা পড়তে কিন্তু সত্যি বেশ ভালো লেগেছে একথা অস্বীকার করা যায় না।
দ্বিতীয় গল্প 'আউটপোস্ট কেবি ১১'। কয়েক'শ বছর পরে ভবিষ্যতের ব্রহ্মাণ্ডে দুই গ্রহের পারস্পরিক টানাপোড়েনের গল্প। খুব দ্রুত লয়ের রোলার কোস্টার রাইড। বেশ ভালো লেগেছে। যাঁরা সাই-ফাই পড়তে ভালোবাসেন তাঁদের জন্য পুরো পয়সা উসুল। শুধু একটাই অনুযোগ থাকবে। সাই-ফাই গল্প হলেই যে তাতে ভরে ভরে টেকনিক্যাল টার্ম না দিলে সে গল্প সাই-ফাই লাগে না, এইটা আমি ঠিক ব্যক্তিগতভাবে সমর্থন করিনা।
শেষ গল্প 'অবৈধ' দারুন মানের একটা সাসপেন্স থ্রিলার। গল্পের তিন চতুর্থাংশ পড়ার পরেও বোঝা যায় না কি হচ্ছে! সবথেকে ভালো ব্যাপার এই উপন্যাসসম কাহিনি লেয়ারে লেয়ারে আস্তে আস্তে রহস্যের আবরণ উন্মোচন করে। তিনটে গল্পের মধ্যে এই গল্পটাকেই এগিয়ে রাখব, অল্প কিছু অতি-কাকতালীয় সমাপতন ব্যতীত। যেমন- প্রায় কোনও বিশ্বাসযোগ্য কারণ ছাড়াই স্মিতার অদ্রিজাকে অনুসরণ করতে গিয়ে পুরানো মোবাইল ফেলে যাওয়া!
মোটের উপরে তিনটে গল্পই বেশ উপভোগ্য। পলান্ন প্রকাশনীর ছাপা, বাঁধাই ও পাতার কোয়ালিটি খুবই ভালো। তবে সব থেকে ভালো মিশন মন্ডল ও সংহতি সাহার অলংকরণগুলি। যদিও প্রচ্ছদটি আমার সেভাবে ভালো লাগেনি। সব থেকে বিরক্ত লেগেছে বইয়ের পিছনটা দেখে। বইয়ের পিছনের ব্ল্যার্বের লেখাগুলো আরও ছোট করে প্রকাশনা সংস্থা বইয়ের সঙ্গে ক্রেতাদের একটা করে আতস কাচ দিলে খুবই ভালো হয়!
বইতে তিনটি আলাদা জঁরের কাহিনি আছে। 'হ্যারিসন রোডের শেষ বাড়িটা' একটি লাভক্রাফটিয়ান হরর। গল্পের প্লটটা যে খুব নতুন সেরকম নয়, তবে লেখকের লেখার গুণে সেটা বেশ ভালোই উপভোগ্য হয়েছে। লেখকের লেখার হাতটি বেশ মাখনের মতো। বেশ কিছু মারাত্মক টুইস্টও আছে। অভিযোগ একটাই লেখার ফরম্যাটটা নিয়ে বোধহয় আরও ভাবনা চিন্তার দরকার আছে। সম্ভবত গল্পটি প্রথমে কোনো অডিও ফরম্যাটের কাজের জন্য লেখা হয়েছিল। ফলে খুব ছোট ছোট অংশের পরে ব্রেক করে পরের সিনে যাওয়া হয়েছে। গল্প শোনার সময় কিন্তু এগুলো কানে লাগে না, কিন্তু পড়ার সময় বার বার এই ব্রেক পয়েন্ট গুলো কিন্তু পাঠকের অবচেতনে বার বার বাধাসৃষ্টি করে। তাই লেখার সময় একটু মসৃণ ভঙ্গিতে কিভাবে দৃশ্যান্তর ঘটানো যায় সেটা একটু খেয়াল রাখতে হবে। তবে গল্পটা পড়তে কিন্তু সত্যি বেশ ভালো লেগেছে একথা অস্বীকার করা যায় না।
দ্বিতীয় গল্প 'আউটপোস্ট কেবি ১১'। কয়েক'শ বছর পরে ভবিষ্যতের ব্রহ্মাণ্ডে দুই গ্রহের পারস্পরিক টানাপোড়েনের গল্প। খুব দ্রুত লয়ের রোলার কোস্টার রাইড। বেশ ভালো লেগেছে। যাঁরা সাই-ফাই পড়তে ভালোবাসেন তাঁদের জন্য পুরো পয়সা উসুল। শুধু একটাই অনুযোগ থাকবে। সাই-ফাই গল্প হলেই যে তাতে ভরে ভরে টেকনিক্যাল টার্ম না দিলে সে গল্প সাই-ফাই লাগে না, এইটা আমি ঠিক ব্যক্তিগতভাবে সমর্থন করিনা।
শেষ গল্প 'অবৈধ' দারুন মানের একটা সাসপেন্স থ্রিলার। গল্পের তিন চতুর্থাংশ পড়ার পরেও বোঝা যায় না কি হচ্ছে! সবথেকে ভালো ব্যাপার এই উপন্যাসসম কাহিনি লেয়ারে লেয়ারে আস্তে আস্তে রহস্যের আবরণ উন্মোচন করে। তিনটে গল্পের মধ্যে এই গল্পটাকেই এগিয়ে রাখব, অল্প কিছু অতি-কাকতালীয় সমাপতন ব্যতীত। যেমন- প্রায় কোনও বিশ্বাসযোগ্য কারণ ছাড়াই স্মিতার অদ্রিজাকে অনুসরণ করতে গিয়ে পুরানো মোবাইল ফেলে যাওয়া!
মোটের উপরে তিনটে গল্পই বেশ উপভোগ্য। পলান্ন প্রকাশনীর ছাপা, বাঁধাই ও পাতার কোয়ালিটি খুবই ভালো। তবে সব থেকে ভালো মিশন মন্ডল ও সংহতি সাহার অলংকরণগুলি। যদিও প্রচ্ছদটি আমার সেভাবে ভালো লাগেনি। সব থেকে বিরক্ত লেগেছে বইয়ের পিছনটা দেখে। বইয়ের পিছনের ব্ল্যার্বের লেখাগুলো আরও ছোট করে প্রকাশনা সংস্থা বইয়ের সঙ্গে ক্রেতাদের একটা করে আতস কাচ দিলে খুবই ভালো হয়!
Displaying 1 - 2 of 2 reviews



