What do you think?


মা
- GenresFiction
271 pages, Hardcover
About the author
Maxim Gorky
1,729 books1,834 followersRussian writer Aleksei Maksimovich Peshkov (Russian: Алексей Максимович Пешков) supported the Bolshevik revolution of 1917 and helped to develop socialist realism as the officially accepted literary aesthetic; his works include
The Life of Klim Samgin
(1927-1936), an unfinished cycle of novels.
This Soviet author founded the socialist realism literary method and a political activist. People also nominated him five times for the Nobel Prize in literature. From 1906 to 1913 and from 1921 to 1929, he lived abroad, mostly in Capri, Italy; after his return to the Soviet Union, he accepted the cultural policies of the time.
This Soviet author founded the socialist realism literary method and a political activist. People also nominated him five times for the Nobel Prize in literature. From 1906 to 1913 and from 1921 to 1929, he lived abroad, mostly in Capri, Italy; after his return to the Soviet Union, he accepted the cultural policies of the time.
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 9 of 9 reviews
April 13, 2021
সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আগে তৎকালীন রাশিয়ার রাজনৈতিক-সামাজিক প্রেক্ষাপটে একজন মায়ের গল্প। এখানে মায়ের জীবন নাকি ঐ সময়কার পরিস্থিতি, কোনটা বেশী গুরুত্ব পেয়েছে তা আলাদা করা যাবে না। আমার কাছে মনে হয়েছে, দুটো ব্যাপার ই একে-অন্যের পরিপূরক!
মা যখন সন্তানের পাশে দাঁড়ায়, তখন বোধহয় সন্তানের পথচলাটা একটু সহজ হয়ে যায়...হোক তা বিপ্লবের কিংবা জীবনের চলার পথ।
মা যখন সন্তানের পাশে দাঁড়ায়, তখন বোধহয় সন্তানের পথচলাটা একটু সহজ হয়ে যায়...হোক তা বিপ্লবের কিংবা জীবনের চলার পথ।
October 21, 2022
"মা" দলমত, জাতি নির্বিশেষে একটা শব্দের প্রতি সবার অগাধ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা মিশ্রিত একটা শব্দ।
ম্যাক্সিম গোর্কির "মা" বইটি আগে একবার অর্ধেক পড়ে বাদ দিয়েছিলাম। বইটা পুনরায় পড়লাম। আবারও পড়তে হবে মনে হচ্ছে।
ছেলের আন্দোলনকে ঘীরে এক মায়ের জীবনাবসান নিয়ে মূলত বইটির গল্প। আমার কাছে অসাধারণ লেগেছে বইটি।
তবে বিদেশী বইয়ে অভ্যস্ত নয় বলে চরিত্রে তালগোল লেগেছে জব্বর। আর নামগুলো আমাদের সংস্কৃত থেকেও দুঃসাধ্য। বাপরে, মাথা যন্ত্রণা শুরু হয়ে যায় নামের বানান উচ্চারণে। অনেকবার ব্যর্থ চেষ্টা করেও যোগ্য উচ্চারণ নিজের কানে বাজাতে পারিনি। পড়ে চোখের খোরাক মিটিয়ে সামনে চলেছি।
তবে বইটি দারুণ অনুপ্রেরণার। মানুষ সঠিক পথে তার বিশ্বাসের ওপর অটল থাকলে অসম্ভব ও অসাধ্য বলতে কিছু নাই। নিজের কাজটা যদি সত্যিকারের মানুষের কল্যাণে হয় তবে এক পৃথিবী অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিজয় ছিনিয়ে আনা সম্ভব।
তরুণ তবে পরিপক্ব পাঠকের প্রতি আহবান থাকবে, আপনি বইটি না পড়লে এখুনি পড়ে ফেলুন।
ম্যাক্সিম গোর্কির "মা" বইটি আগে একবার অর্ধেক পড়ে বাদ দিয়েছিলাম। বইটা পুনরায় পড়লাম। আবারও পড়তে হবে মনে হচ্ছে।
ছেলের আন্দোলনকে ঘীরে এক মায়ের জীবনাবসান নিয়ে মূলত বইটির গল্প। আমার কাছে অসাধারণ লেগেছে বইটি।
তবে বিদেশী বইয়ে অভ্যস্ত নয় বলে চরিত্রে তালগোল লেগেছে জব্বর। আর নামগুলো আমাদের সংস্কৃত থেকেও দুঃসাধ্য। বাপরে, মাথা যন্ত্রণা শুরু হয়ে যায় নামের বানান উচ্চারণে। অনেকবার ব্যর্থ চেষ্টা করেও যোগ্য উচ্চারণ নিজের কানে বাজাতে পারিনি। পড়ে চোখের খোরাক মিটিয়ে সামনে চলেছি।
তবে বইটি দারুণ অনুপ্রেরণার। মানুষ সঠিক পথে তার বিশ্বাসের ওপর অটল থাকলে অসম্ভব ও অসাধ্য বলতে কিছু নাই। নিজের কাজটা যদি সত্যিকারের মানুষের কল্যাণে হয় তবে এক পৃথিবী অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিজয় ছিনিয়ে আনা সম্ভব।
তরুণ তবে পরিপক্ব পাঠকের প্রতি আহবান থাকবে, আপনি বইটি না পড়লে এখুনি পড়ে ফেলুন।
This entire review has been hidden because of spoilers.
August 8, 2023
ম্যাক্সিম গোর্কির একটা মাস্টারপিস উপন্যাস।
উপন্যাসের শেষে পরিশিষ্টে পড়লাম: লেখক সত্যিকারের একজন বিপ্লবী ও তার বিপ্লবী মায়ের ঘটনা উপন্যাসের মাধ্যমে বলতে বর্ণনা করেছেন, তখন বেশ অদ্ভুত লাগলো। যে অনুভূতি লেখক বর্ণনা করেছেন তা বাস্তবতার নিরিখে দেখা ও লেখা হয়েছে। বইটি অবশ্যই পড়া উচিত, গোর্কির অন্যান্য সাহিত্যকর্ম পড়তে বিশেষ আগ্রহ হচ্ছে।
উপন্যাসের শেষে পরিশিষ্টে পড়লাম: লেখক সত্যিকারের একজন বিপ্লবী ও তার বিপ্লবী মায়ের ঘটনা উপন্যাসের মাধ্যমে বলতে বর্ণনা করেছেন, তখন বেশ অদ্ভুত লাগলো। যে অনুভূতি লেখক বর্ণনা করেছেন তা বাস্তবতার নিরিখে দেখা ও লেখা হয়েছে। বইটি অবশ্যই পড়া উচিত, গোর্কির অন্যান্য সাহিত্যকর্ম পড়তে বিশেষ আগ্রহ হচ্ছে।
July 7, 2026
পেলাগেয়া নিলভনা ভ্লাসোভা নামের এক নিরক্ষর, নিপীড়িত নারীকে দিয়ে গোর্কি যেভাবে গোটা রুশ সমাজের জাগরণকে ধরেছেন, তা সত্যিই অসামান্য।
মদ্যপ, নির্যাতনকারী স্বামীর সংসারে সারাজীবন মার খেয়ে যে নারী নিজেকে ভবিতব্যের হাতে সঁপে দিয়েছিলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর সেই একই নারী যখন দেখেন তাঁর ছেলে পাভেল বাবার পথ ছেড়ে বই আর বিপ্লবী বন্ধুদের সঙ্গ বেছে নিচ্ছে, তখন প্রথমে ভয়েই কুঁকড়ে যান। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই ভয়ই রূপান্তরিত হয় সহমর্মিতায়, আর সহমর্মিতা রূপান্তরিত হয় সক্রিয় অংশগ্রহণে।
গোর্কি ১৯০৫ সালের ব্যর্থ রুশ বিপ্লবের পরের হতাশাগ্রস্ত পরিবেশে এই উপন্যাস লেখেন, যাতে বিপ্লবীদের মনোবল ফিরিয়ে আনা যায়। তাই দেখা যায় পাভেল আর তার সঙ্গীরা কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে গোপনে প্রচারপত্র বিলি করছে, নিষিদ্ধ বই লুকিয়ে নিয়ে যাচ্ছে গ্রামে গ্রামে, আর পুলিশের চোখ এড়িয়ে সংগঠিত করছে প্রতিরোধ।
নিলভনা নিজেও এক সময় ব্যবসায়ীর ছদ্মবেশে নিষিদ্ধ সাহিত্য পাচার করেন, ছেলের সহযোদ্ধা আন্দ্রেই নাখোদকাকে নিজের সন্তানের মতোই আপন করে নেন। কবরস্থানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, ছেলের বিচার, শেষে রাস্তায় জনতার মধ্যে প্রচারপত্র ছুঁড়ে দেওয়ার সেই ইনসিডেন্ট প্রতিটি দৃশ্যেই গোর্কি একজন সাধারণ মাকে অসাধারণ সাহসিকতার প্রতীক করে তুলেছেন।
একজন মায়ের হৃদয় দিয়ে গোটা যুগের অস্থিরতা আর আশাকে ছুঁয়ে দেখা যায় এখানে। রাশিয়ার লাল বিপ্লবের আগমুহূর্তের সামাজিক উত্তাপ বোঝার জন্য এই উপন্যাস যথার্থ।
মদ্যপ, নির্যাতনকারী স্বামীর সংসারে সারাজীবন মার খেয়ে যে নারী নিজেকে ভবিতব্যের হাতে সঁপে দিয়েছিলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর সেই একই নারী যখন দেখেন তাঁর ছেলে পাভেল বাবার পথ ছেড়ে বই আর বিপ্লবী বন্ধুদের সঙ্গ বেছে নিচ্ছে, তখন প্রথমে ভয়েই কুঁকড়ে যান। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই ভয়ই রূপান্তরিত হয় সহমর্মিতায়, আর সহমর্মিতা রূপান্তরিত হয় সক্রিয় অংশগ্রহণে।
গোর্কি ১৯০৫ সালের ব্যর্থ রুশ বিপ্লবের পরের হতাশাগ্রস্ত পরিবেশে এই উপন্যাস লেখেন, যাতে বিপ্লবীদের মনোবল ফিরিয়ে আনা যায়। তাই দেখা যায় পাভেল আর তার সঙ্গীরা কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে গোপনে প্রচারপত্র বিলি করছে, নিষিদ্ধ বই লুকিয়ে নিয়ে যাচ্ছে গ্রামে গ্রামে, আর পুলিশের চোখ এড়িয়ে সংগঠিত করছে প্রতিরোধ।
নিলভনা নিজেও এক সময় ব্যবসায়ীর ছদ্মবেশে নিষিদ্ধ সাহিত্য পাচার করেন, ছেলের সহযোদ্ধা আন্দ্রেই নাখোদকাকে নিজের সন্তানের মতোই আপন করে নেন। কবরস্থানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, ছেলের বিচার, শেষে রাস্তায় জনতার মধ্যে প্রচারপত্র ছুঁড়ে দেওয়ার সেই ইনসিডেন্ট প্রতিটি দৃশ্যেই গোর্কি একজন সাধারণ মাকে অসাধারণ সাহসিকতার প্রতীক করে তুলেছেন।
একজন মায়ের হৃদয় দিয়ে গোটা যুগের অস্থিরতা আর আশাকে ছুঁয়ে দেখা যায় এখানে। রাশিয়ার লাল বিপ্লবের আগমুহূর্তের সামাজিক উত্তাপ বোঝার জন্য এই উপন্যাস যথার্থ।
November 24, 2023
বইয়ের নাম : মা
লেখক : ম্যাক্সিম গোর্কি ( ছদ্মনাম)
অনুবাদ : পুষ্পময়ী বসু
ধরণ : রাজনৈতিক উপন্যাস
প্রকাশকাল : ১৯০৬
প্রধান চরিত্র : পেলাগেয়া নিলভনা (মা), পাভেল ভ্লাসভ
(ছেলে)
অন্যান্য চরিত্র : মিখাইল ভ্লাসভ ( পাভেলের পিতা),
খখল,নিকোলাই, রীবিন,সাশা,নাশতা,
সোফিয়া, ইয়েগর,মাজিন,ইভান,ইয়াকফ,আন্দ্রে ইত্যাদি
***কাহিনী প্রেক্ষাপট ***
অক্টোবর বিপ্লব, বলশেভিক বিল্পবের সমন্বিত রূপ বলা হয় রুশ বিপ্লবকে।রুশ বিপ্লবের মৌলিক ইতিহাস তো আমরা সবাই জানি,এই বিপ্লবের ফলে রুশ সাম্রাজ্য
বাদের পতন হয়,শ্রমিক শ্রেণি জারের অত্যাচার থেকে
মুক্তি পেয়ে নিজেদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে এবং সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে। পরবর্তীতে সোভিয়েত ইউনিয়ন গঠিত হয়।
সমাজতান্ত্রিক পটভূমিতে রচিত এই উপন্যাসের শুরুতেই রুশ বিপ্লবের পূর্বে শ্রমিকদের নিদারুণ কষ্টের
একঘেয়ে জীবনধারা সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। এই
শোষিত বঞ্চিত শ্রমিকগুলো তাদের এরূপ দূর্দশাগ্রস্থ
জীবনকে নিয়তি মেনে কারখানার যন্ত্রপাতি আর মদের
সাথে সন্ধি করে নিজেরাই যেন নিজেদেরকে নিঃশেষ
করে দিচ্ছে। না আছে জীবনীশক্তি না আছে নতুন স্বপ্ন।
সবাই যেন যন্ত্র মানবে পরিণত হয়েছে।
**** কাহিনি সংক্ষেপ ****
এখানে মূল গল্পটা ঠিক এমন ছিল, মদখোর, জোয়ারী,
বদরাগী, একজন শ্রমিক যার নাম মিখাইল ভ্লাসভ। যে তার স্ত্রী নিলভনাকে ভীষণ অত্যাচার করতো। একদিন
হঠাৎ মিখাইল মারা যায়। একমাত্র ছেলে পাভেলকে নিয়ে শুরু হয় মা নিলভনার নতুন জীবন সংগ্রাম। সব
শ্রমিকের ছেলের মতো পাভেলও শ্রমিক হতে বাধ্য হয়।
উপন্যাসে পিতৃতান্ত্রিক সমাজে নারীর অধস্তনতা আরও
দৃঢ়ভাবে প্রতীয়মান হয় যখন পাভেলও শ্রমিক জীবনের শুরুতে তার বাবার মতো খারাপ আচরণ করতে থাকে।যা ছিল তখনাক সময়ের সব ঘরের নিত্য অতিস্বভাবিক
ঘটনা।
* ছুটির দিনে মদ খেয়ে বাড়ি ফিরে মায়ের সাথে খারাপ
আচরণ করতে থাকা পাভেলের মধ্যে হঠাৎ করে
চমকপ্রদ পরিবর্তন লক্ষ্য করেন মা। সে আর আড্ডা
খানায় যেয়ে ভোদকা/ মদ খায় না,মাকে সম্মান করে,
বাড়ির কাজে সাহায্য করে,মন দিয়ে কারখানার কাজ
করে,ছুটিরদিনে কোথা থেকে বই সংগ্রহ করে পড়তে থাকে যেগুলো ছিল সেসময়ের নিষিদ্ধ বইপত্র।কেননা
সেগুলো সমাজতন্ত্রের প্রয়োজনীয়তা,মেহনতী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্পর্কিত ছিল।
*ছেলের এমন ভালো আচরণিক পরিবর্তন মায়ের কাছে অদ্ভুত অস্বাভাবিক মনে হলেও তিনি যেমন খুশি ছিলেন তেমনি জানা- অজানা ভয়ে মনে মনে ভীত - শঙ্কিত হতেন।পাভেলের ঘরে শ্রমিক আন্দোলন প্রতাশী
কর্মীদের পাঠচক্র বসে।ধীরে ধরে মায়ের সাথে ছেলের
সঙ্গী সাথীদের পরিচয় হয়।মা দেখেন ওদের কথাবার্তা আচার আচরণ অন্য সাধারণ শ্রমিকদের থাকে আলাদা
সবাই যেন পাভেলের মতো আদর্শ সন্তান। কোন মহান উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে ওরা নিজেদের তৈরি করছে।
*ওদের সবাইকে ভালোবেসে তিনি পাভেলের একার মা
থেকে সমস্ত বিপ্লবীদের মা হয়ে ওঠেন।পাঠচক্রে পাভেল
খখলদের কথোপকথন, বক্তৃতা থেকে নিষিদ্ধ বইগুলোর মর্মবাণী মাও অনুধাবন করতে শুরু করেন।ধীরে ধীরে মা হয়ে হয়ে ওঠেন বিপ্লবী কর্মীদের একজন, অতিসন্তর্পনে ছেলের দেখানো পথেই হাঁটতে থাকেন মা।
*পাভেলের বিপ্লবী চিন্তা চেতনা,সাধারণ শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ / সংগঠিত করে সচেতনতা সৃষ্টি করার মতো কার্যক্রমের ফলে কারখানা শ্রমিকদের মধ্যে তার যেমন পরিচিতি / সুখ্যাতি বৃদ্ধি পায় তেমনি সরকারি কতৃপক্ষ, পুলিশ আর তাদের পোষা চামচা/ টিকটিকিদের সন্দেহ
ভাজনে পরিণত হয়।কখনো কখনো তাদের ঘর তল্লাশির নামে জিনিসপত্র লণ্ডভণ্ড সহ অহেতুক ছেলেদের জেলে বন্দী করা হতো।ছেলের উপর তীব্র সন্দেহের মোড় অন্যদিকে ঘোরানোর জন্যে পাভেলের অনুপস্থিতিতে কারখানায় নিষিদ্ধ কাগজপত্র পৌঁছাতেন
মা অতিদক্ষতার সাথে।
* জেল থেকে ছাড়া পেয়ে শাসকদের অত্যাচার দমন করতে এবং কতৃপক্ষদের নাস্তানাবুদ করার জন্যে আর
সাধারণ জনগণের মধ্যে অধিকার সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য বিপ্লবী ছেলেরা মে দিবসে মিছিল বের করে
,পতাকা হাতে সবার আগে থাকে পাভেল,, স্লোগান দিতে থাকে -
"মেহনতী জনগণ জিন্দাবাদ "
" সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক শ্রমিক পার্টি জিন্দাবাদ"
ফিওদর নামের যুবকটা জোয়ান গলায় গান গাইতে থাকে -
"" মেহনতী জন জাগোরে ভাই,
সংগ্রামে জাগো, ভুখা সবাই.....
* ওদিকে মিছিল ভাঙতে মোতায়েন করা হয়েছিল ব্যাপক সৈন্য -সেপাই,পুলিশ এমনকি খোদ গভর্নরও
নাকি উপস্থিত ছিলেন।একসময় সাধারণ জনতার মাঝে পাভেল দৃঢ় কণ্ঠে বক্তৃতা প্রদানকালে পুলিশের
তাক করা বন্দুকের মুখে জনতা ছত্রভঙ্গ হলে পাভেল ও
তার সহকর্মীরা গ্রেফতার হয়।পতাকা হাতে মা জনতার
মাঝে ছেলের সত্যবাণীগুলো প্রচার করতে থাকেন।
* তারপর থেকে ছেলের অনুপস্থিতিতে অদম্য গতিতে,
সাহসী পদার্পনে মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে, ছদ্মবেশ ধারণ করে ছেলের অসম্পন্ন কাজগুলো
সফলভাবে করতে পেরে আনন্দিত ও ধন্য হতে থাকে মা।
* উপন্যাসের শেষের দিকে এক নাটকীয় বিচারকার্যের
সম্মুখীন হয় পাভেল, জানা ছিল তার যাবজ্জীবন অথবা নির্বাসনই হবে শেষ পরিণতি। সত্য- মিথার মধ্যে
থেকে সত্যকে প্রতিষ্ঠা করা এই জার শাসনামলের আদালতে সম্ভব নয়। সাধারণ মানুষদের বিশ্বাস করানো হয়েছিল জার হচ্ছে ঈশ্বর প্রেরিত,,তাদের আদেশ (অত্যাচার) মেনে চলতে পারলেই পরলোকে মুক্তি লাভ হবে,তাইতো পাভেলদের কাজকে অনেক সাধারণ মানুষ অবজ্ঞা করেছিল।বিচারে পাভেলের নির্বাসন হয়েছিল।
* আদালতে পাভেলের দেওয়া জবানবন্দী হ্যান্ডবিল/ লিফটের আকারে প্রচার করতে থাকে নিরূপায়, সন্তানহারা অসহায় মা। একদিন ট্রেনের মধ্যে সেসব কাগজপত্রের সুটকেস সমেত ধরা পরে মা।টিকটিকি আর পুলিশের হাতে কেমন অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিল মা পেলাগেয়া নিলভনা সেই বর্ণনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় উপন্যাসটি🥹।
************************************************
ব্যক্তিগত কথাবার্তা :
১. ভেবেছিলাম শেষে পাভেলদের বিজয় দেখবো,,কিন্তু এত হৃদয় বিদারক হবে কল্পনা করি নি।
২. পাভেলের পরিবর্তনের ফলে মায়ের জীবনের পরিবর্তন, অত্যাচারিত, ভীতু পরিবেশের এজন নারীর
কমরেড হওয়ার গল্প এটি।
৩. নাতাশা আর শাসার চরিত্রটাও অসাধারণ ছিল💜।
লেখক : ম্যাক্সিম গোর্কি ( ছদ্মনাম)
অনুবাদ : পুষ্পময়ী বসু
ধরণ : রাজনৈতিক উপন্যাস
প্রকাশকাল : ১৯০৬
প্রধান চরিত্র : পেলাগেয়া নিলভনা (মা), পাভেল ভ্লাসভ
(ছেলে)
অন্যান্য চরিত্র : মিখাইল ভ্লাসভ ( পাভেলের পিতা),
খখল,নিকোলাই, রীবিন,সাশা,নাশতা,
সোফিয়া, ইয়েগর,মাজিন,ইভান,ইয়াকফ,আন্দ্রে ইত্যাদি
***কাহিনী প্রেক্ষাপট ***
অক্টোবর বিপ্লব, বলশেভিক বিল্পবের সমন্বিত রূপ বলা হয় রুশ বিপ্লবকে।রুশ বিপ্লবের মৌলিক ইতিহাস তো আমরা সবাই জানি,এই বিপ্লবের ফলে রুশ সাম্রাজ্য
বাদের পতন হয়,শ্রমিক শ্রেণি জারের অত্যাচার থেকে
মুক্তি পেয়ে নিজেদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে এবং সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে। পরবর্তীতে সোভিয়েত ইউনিয়ন গঠিত হয়।
সমাজতান্ত্রিক পটভূমিতে রচিত এই উপন্যাসের শুরুতেই রুশ বিপ্লবের পূর্বে শ্রমিকদের নিদারুণ কষ্টের
একঘেয়ে জীবনধারা সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। এই
শোষিত বঞ্চিত শ্রমিকগুলো তাদের এরূপ দূর্দশাগ্রস্থ
জীবনকে নিয়তি মেনে কারখানার যন্ত্রপাতি আর মদের
সাথে সন্ধি করে নিজেরাই যেন নিজেদেরকে নিঃশেষ
করে দিচ্ছে। না আছে জীবনীশক্তি না আছে নতুন স্বপ্ন।
সবাই যেন যন্ত্র মানবে পরিণত হয়েছে।
**** কাহিনি সংক্ষেপ ****
এখানে মূল গল্পটা ঠিক এমন ছিল, মদখোর, জোয়ারী,
বদরাগী, একজন শ্রমিক যার নাম মিখাইল ভ্লাসভ। যে তার স্ত্রী নিলভনাকে ভীষণ অত্যাচার করতো। একদিন
হঠাৎ মিখাইল মারা যায়। একমাত্র ছেলে পাভেলকে নিয়ে শুরু হয় মা নিলভনার নতুন জীবন সংগ্রাম। সব
শ্রমিকের ছেলের মতো পাভেলও শ্রমিক হতে বাধ্য হয়।
উপন্যাসে পিতৃতান্ত্রিক সমাজে নারীর অধস্তনতা আরও
দৃঢ়ভাবে প্রতীয়মান হয় যখন পাভেলও শ্রমিক জীবনের শুরুতে তার বাবার মতো খারাপ আচরণ করতে থাকে।যা ছিল তখনাক সময়ের সব ঘরের নিত্য অতিস্বভাবিক
ঘটনা।
* ছুটির দিনে মদ খেয়ে বাড়ি ফিরে মায়ের সাথে খারাপ
আচরণ করতে থাকা পাভেলের মধ্যে হঠাৎ করে
চমকপ্রদ পরিবর্তন লক্ষ্য করেন মা। সে আর আড্ডা
খানায় যেয়ে ভোদকা/ মদ খায় না,মাকে সম্মান করে,
বাড়ির কাজে সাহায্য করে,মন দিয়ে কারখানার কাজ
করে,ছুটিরদিনে কোথা থেকে বই সংগ্রহ করে পড়তে থাকে যেগুলো ছিল সেসময়ের নিষিদ্ধ বইপত্র।কেননা
সেগুলো সমাজতন্ত্রের প্রয়োজনীয়তা,মেহনতী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্পর্কিত ছিল।
*ছেলের এমন ভালো আচরণিক পরিবর্তন মায়ের কাছে অদ্ভুত অস্বাভাবিক মনে হলেও তিনি যেমন খুশি ছিলেন তেমনি জানা- অজানা ভয়ে মনে মনে ভীত - শঙ্কিত হতেন।পাভেলের ঘরে শ্রমিক আন্দোলন প্রতাশী
কর্মীদের পাঠচক্র বসে।ধীরে ধরে মায়ের সাথে ছেলের
সঙ্গী সাথীদের পরিচয় হয়।মা দেখেন ওদের কথাবার্তা আচার আচরণ অন্য সাধারণ শ্রমিকদের থাকে আলাদা
সবাই যেন পাভেলের মতো আদর্শ সন্তান। কোন মহান উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে ওরা নিজেদের তৈরি করছে।
*ওদের সবাইকে ভালোবেসে তিনি পাভেলের একার মা
থেকে সমস্ত বিপ্লবীদের মা হয়ে ওঠেন।পাঠচক্রে পাভেল
খখলদের কথোপকথন, বক্তৃতা থেকে নিষিদ্ধ বইগুলোর মর্মবাণী মাও অনুধাবন করতে শুরু করেন।ধীরে ধীরে মা হয়ে হয়ে ওঠেন বিপ্লবী কর্মীদের একজন, অতিসন্তর্পনে ছেলের দেখানো পথেই হাঁটতে থাকেন মা।
*পাভেলের বিপ্লবী চিন্তা চেতনা,সাধারণ শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ / সংগঠিত করে সচেতনতা সৃষ্টি করার মতো কার্যক্রমের ফলে কারখানা শ্রমিকদের মধ্যে তার যেমন পরিচিতি / সুখ্যাতি বৃদ্ধি পায় তেমনি সরকারি কতৃপক্ষ, পুলিশ আর তাদের পোষা চামচা/ টিকটিকিদের সন্দেহ
ভাজনে পরিণত হয়।কখনো কখনো তাদের ঘর তল্লাশির নামে জিনিসপত্র লণ্ডভণ্ড সহ অহেতুক ছেলেদের জেলে বন্দী করা হতো।ছেলের উপর তীব্র সন্দেহের মোড় অন্যদিকে ঘোরানোর জন্যে পাভেলের অনুপস্থিতিতে কারখানায় নিষিদ্ধ কাগজপত্র পৌঁছাতেন
মা অতিদক্ষতার সাথে।
* জেল থেকে ছাড়া পেয়ে শাসকদের অত্যাচার দমন করতে এবং কতৃপক্ষদের নাস্তানাবুদ করার জন্যে আর
সাধারণ জনগণের মধ্যে অধিকার সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য বিপ্লবী ছেলেরা মে দিবসে মিছিল বের করে
,পতাকা হাতে সবার আগে থাকে পাভেল,, স্লোগান দিতে থাকে -
"মেহনতী জনগণ জিন্দাবাদ "
" সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক শ্রমিক পার্টি জিন্দাবাদ"
ফিওদর নামের যুবকটা জোয়ান গলায় গান গাইতে থাকে -
"" মেহনতী জন জাগোরে ভাই,
সংগ্রামে জাগো, ভুখা সবাই.....
* ওদিকে মিছিল ভাঙতে মোতায়েন করা হয়েছিল ব্যাপক সৈন্য -সেপাই,পুলিশ এমনকি খোদ গভর্নরও
নাকি উপস্থিত ছিলেন।একসময় সাধারণ জনতার মাঝে পাভেল দৃঢ় কণ্ঠে বক্তৃতা প্রদানকালে পুলিশের
তাক করা বন্দুকের মুখে জনতা ছত্রভঙ্গ হলে পাভেল ও
তার সহকর্মীরা গ্রেফতার হয়।পতাকা হাতে মা জনতার
মাঝে ছেলের সত্যবাণীগুলো প্রচার করতে থাকেন।
* তারপর থেকে ছেলের অনুপস্থিতিতে অদম্য গতিতে,
সাহসী পদার্পনে মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে, ছদ্মবেশ ধারণ করে ছেলের অসম্পন্ন কাজগুলো
সফলভাবে করতে পেরে আনন্দিত ও ধন্য হতে থাকে মা।
* উপন্যাসের শেষের দিকে এক নাটকীয় বিচারকার্যের
সম্মুখীন হয় পাভেল, জানা ছিল তার যাবজ্জীবন অথবা নির্বাসনই হবে শেষ পরিণতি। সত্য- মিথার মধ্যে
থেকে সত্যকে প্রতিষ্ঠা করা এই জার শাসনামলের আদালতে সম্ভব নয়। সাধারণ মানুষদের বিশ্বাস করানো হয়েছিল জার হচ্ছে ঈশ্বর প্রেরিত,,তাদের আদেশ (অত্যাচার) মেনে চলতে পারলেই পরলোকে মুক্তি লাভ হবে,তাইতো পাভেলদের কাজকে অনেক সাধারণ মানুষ অবজ্ঞা করেছিল।বিচারে পাভেলের নির্বাসন হয়েছিল।
* আদালতে পাভেলের দেওয়া জবানবন্দী হ্যান্ডবিল/ লিফটের আকারে প্রচার করতে থাকে নিরূপায়, সন্তানহারা অসহায় মা। একদিন ট্রেনের মধ্যে সেসব কাগজপত্রের সুটকেস সমেত ধরা পরে মা।টিকটিকি আর পুলিশের হাতে কেমন অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিল মা পেলাগেয়া নিলভনা সেই বর্ণনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় উপন্যাসটি🥹।
************************************************
ব্যক্তিগত কথাবার্তা :
১. ভেবেছিলাম শেষে পাভেলদের বিজয় দেখবো,,কিন্তু এত হৃদয় বিদারক হবে কল্পনা করি নি।
২. পাভেলের পরিবর্তনের ফলে মায়ের জীবনের পরিবর্তন, অত্যাচারিত, ভীতু পরিবেশের এজন নারীর
কমরেড হওয়ার গল্প এটি।
৩. নাতাশা আর শাসার চরিত্রটাও অসাধারণ ছিল💜।
March 11, 2025
রাশিয়ার সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পূর্বের সামগ্রিক চিত্রটা তুলে আনার চেষ্টা করা হয়েছে এখানে। আর এই চিত্রের প্রোটাগনিস্ট "মা " একজন সাধারণ শ্রমজীবী নারী হওয়া সত্ত্বেও "নিপীড়ন" আর ছেলে পাভেল ভ্লাসভের আদর্শিক চিন্তা কিভাবে সহজেই বিপ্লবী আদর্শে উজ্জীবীত করেছিলো সেটিই দেখা যায়। সাধারণত মা'য়েরা সৃষ্টিশীল ভাবেই সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে একটু ভীতু আর চিন্তাশীল থাকেন। সেই বলয় থেকে বের হয়ে এতটা খর্ব রাস্তায় ছেলেকে সহায়তা করা এবং পুরোদস্তুর বিপ্লবীরূপ ধারণ করে সব মেনে নেয়ার মানসিকতা তৈরী করা, গর্বিত হয়ে বাঁচার মতন যে পরিস্থিতি সবশেষ দেখানো হয়েছে তা সত্যিই প্রশংসার। পেলাগেয়া চরিত্রের মাধ্যমে গোর্কি দেখিয়েছেন সাধারণ মানুষের মধ্যে কিভাবে সামাজিক ও রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ ঘটতে পারে।
ম্যাক্সিম গোর্কির এই মাস্টারপিস টা বোধহয় অনেক দেরি করেই পড়লাম।
ম্যাক্সিম গোর্কির এই মাস্টারপিস টা বোধহয় অনেক দেরি করেই পড়লাম।
January 18, 2026
রুশ বিপ্লব নিয়ে দারুণ একটা বই। কোনো মা ই চান না তার আদরের ধন যুদ্ধ বা বিপ্লবে যাক। এখানে চিত্র টা ভিন্ন। ছেলে আর মা-এর মনের সত্য একাকার হয়ে গেছে। মা আর ছেলে এক হয়ে সত্য প্রচার করছেন। পাভেল জেলে থাকা কালীন সংগঠনের যাবতীয় কাজ করে মা। তার সহজ সরল উক্তি সকলের প্রতি তার ভালোবাসার জন্য ই সে হয়ে ওঠে সকলের মা।
Read
June 16, 2026Heart touching novel,company of my good morning melody !
Displaying 1 - 9 of 9 reviews










