শায়খ আহমেদ মুসা জিবরীলের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে। তার পিতা শায়খ মুসা জিবরীল রাহিমাহুল্লাহ ছিলেন মদীনার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। সেই সুবাদে আহমেদ মুসা জিবরীল শৈশবের বেশ কিছু সময় কাটান মদীনায় । সেখানেই ১১ বছর বয়সে তিনি হিফয সম্পন্ন করেন। হাইস্কুল পাশ করার আগেই তিনি বুখারী ও মুসলিম শরীফ মুখস্ত করেন। কৈশোরের বাকী সময়টুকু তিনি যুক্তরাষ্ট্রেই কাটান এবং সেখানেই ১৯৮৯ সালে হাইস্কুল থেকে পাশ করেন। পরবর্তিতে তিনি বুখারী ও মুসলিম শরিফের সনদ সমূহ মুখস্ত করেন আর এরপরে হাদিসের ৬টি কিতাব (কুতুব সিত্তাহ) মুখস্ত করেন। এরপর তিনিও তার বাবার পদাঙ্ক অনুসরন করে মদীনার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শরীয়াহর উপর ডিগ্রী নেন।
আহমাদ মুসা জিবরীল শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল উসাইমীনের (রাহিমাহুল্লাহ) তত্ত্বাবধানে অনেকগুলো কিতাবের অধ্যায়ন সম্পন্ন করেন এবং তিনি তার কাছ থেকে অত্যন্ত বিরল তাযকিয়্যাও লাভ করেন।
শায়খ বাকর আবু যাইদের (রাহিমাহুল্লাহ) সাথে একান্ত ক্লাসে তিনি আল ইমাম ওয়াল মুজাদ্দিদ শায়খ মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল ওয়াহ্হাব (রাহিমাহুল্লাহ) ও শায়খ আল-ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যার (রাহিমাহুল্লাহ) কিছু বইও অধ্যায়ন করেন। তিনি শায়খ মুহাম্মাদ মুখতার আশ-শিনক্বিতীর অধীনে ৪ বছর পড়াশুনা করেন। আল্লামাহ হামুদ বিন উক্বলা আশ- শু’আইবীর অধীনেও তিনি অধ্যায়ন করেন এবং তাযকিয়্যাহ লাভ করেন।
তিনি তার পিতার সহপাঠি শায়খ ইহসান ইলাহি যহীরের অধীনেও পড়েছেন। শায়খ মুসা জিবরীল (শায়খ আহমেদ মুসা জিবরীলের পিতা) শায়খ ইহসানকে অ্যামেরিকায় আমন্ত্রন জানান। শায়খ ইহসান অ্যামেরিকায় কিশোর শায়খ আহমাদ মুসা জিবরীলের সাথে পরিচিত হবার পর চমৎকৃত হয়ে তার বাবাকে বলেন – ইন শা আল্লাহ আপনি একজন মুজাদ্দিদ গড়ে তুলেছেন! তিনি আরও বলেন – “এই ছেলেটি তো আমার বইগুলো সম্পর্কে আমার চেয়েও বেশি জানে!”
শায়খ আহমাদ মুসা জিবরীল “আর-রাহীকুল মাখতুম”- এর লেখক সাফিউর রাহমান আল-মুবারাকপুরির (রাহিমাহুল্লাহ) অধীনে দীর্ঘ ৫ বছর অধ্যায়ন করেন। এছাড়াও তিনি অধ্যায়ন করেন শায়খ মুক্ববিল, শায়খ আব্দুল্লাহ গ্বুনায়মান, শায়খ মুহাম্মাদ আইয়ুব এবং শায়খ আতিয়াহ আস-সালিমের অধীনে। এদের মধ্যে শায়খ আতিয়াহ আস-সালিম ছিলেন শায়খ আল-আল্লামাহ মুহাম্মাদ আল আমিন শানক্বীতির (রাহিমাহুল্লাহ) প্রধান ছাত্র, এবং তিনি শায়খ আশ-শানক্বিতির ইন্তেকালের পর তার প্রধান তাফসির গ্রন্থ আদওয়া উল বায়ানের কাজ শেষ করেন।
শায়খ আহমাদ মুসা জিবরীল শায়খ ইব্রাহিম আল হুসাইনের এর ছাত্র ছিলেন। শায়খ ইব্রাহিম ছিলেন শায়খ আব্দুল আযিয বিন আব্দুল্লাহ বিন বাযের (রাহিমাহুল্লাহ) অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহচর। শায়খ আব্দুল্লাহ আল-ক্বুদের (আল-লাজনাহ আদ দা-ইমাহ লিল বুহুতুল ইলমিয়্যাহ ওয়াল ইফতাহ – Permanent Committee for Islamic Research and Issuing Fatwas– এর প্রথম দিকে সদস্য) সাথে শায়খ আহমাদ মুসা জিবরীল হাজ্জ করার সুযোগ লাভ করেন। এছাড়া তিনি দুই পবিত্র মাসজিদের রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্বে নিয়োজিত কমিটির প্রধান শায়খ সালিহ আল-হুসাইনের অধীনেও অধ্যায়নের সু্যোগ পান।
তিনি মহান মুহাদ্দিস শায়খ হামাদ আল-আনসারির রাহিমাহুল্লাহ অধীনে হাদীস অধ্যায়ন করেন এবং তার কাছ থেকে তাযকিয়্যাহ লাভ করেন। তিনি অধ্যায়ন করেন শায়খ আবু মালিক মুহাম্মাদ শাক্বরাহ-র অধীনে। শায়খ আবু মালিক ছিলেন শায়খ আল-আলবানির (রাহিমাহুল্লাহ) অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। শায়খ আল-আলবানি তাঁর ওয়াসিয়্যাহতে শায়খ আবু মালিককে তার জানাযার ইমামতি করার জন্য অনুরোধ করেন। . শায়খ আহমাদ মুসা জিবরীল শায়খ মুসা আল-ক্বারনিরও (রাবী আল-মাদ্বখালির জামাতা) ছাত্র। ক্বুরআনের ব্যাপারে শায়খ আহমাদ ইজাযাহ প্রাপ্ত হন শায়খ মুহাম্মাদ মা’বাদ ও অন্যান্যদের কাছ থেকে। শায়খ মুসা জিবরীল ও শায়খ আহমাদ মুসা জিবরীলের; ইলম থেকে উপকৃত হবার জন্য শায়খ বিন বায অ্যামেরিকায় থাকা সৌদি ছাত্রদের উৎসাহিত করেন। শায়খ আহমাদ মুসা জিবরীল শায়খ বিন বাযের কাছ থেকে তাযকিয়্যাহ অর্জন করেন (শায়খ বিন বাযের মৃত্যুর তিন মাস আগে)।
শায়খ আহমাদ মুসা জিবরীলের ব্যাপারে মন্তব্য করার সময়ে শায়খ বিন বায তাকে সম্বোধন করেন, একজন “শায়খ” হিসেবে এবং বলেন তিনি “(আলিমদের কাছে) পরিচিত” ও “উত্তম আক্বিদা পোষণ করেন।”
শায়খ আহমাদ মুসা জিবরীল নিজেকে শায়খ হামুদ বিন উক্বলা আশ-শু’আইবি রাহিমাহুল্লাহ, শায়খ আলি আল খুদাইর হাফিযাহুল্লাহ, শায়খ নাসির আল ফাহদ ফাকাল্লাহু আশরাহ, শায়খ সুলাইমান আল ‘উলওয়ানসহ ফাকাল্লাহু আশরাহ ঐসব আলিমদের সিলসিলার অনুসারী মনে করেন যারা বর্তমান সময়ে শায়খ আল-ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ, আল ইমাম ওয়াল মুজাদ্দিদ মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল ওয়াহ্হাব ও উলামায়ে নাজদের শিক্ষাকে সত্যিকারভাবে আকড়ে আছে, যারা প্রকৃত অর্থে উলামায়ে নাজদের উত্তরসূরী। তার সব শিক্ষকের মাঝে শায়খ আল আল্লামাহ শায়খ হামুদ বিন উক্বলা আশ-শু’আইবীকে রাহিমাহুল্লাহ তিনি তার প্রধান শায়খ মনে করেন, এবং শায়খ
নতুন নতুন যখন ইসলামের সত্যতার ব্যপারে নিশ্চিত হলাম, তখনও ঠিকভাবে জানতাম না গান বাজনা হারাম। আরও কিছু পরে যখন জানতে পারলাম, কেমন জানি হতভম্ব হয়ে গেলাম। এত চমৎকার একটা জিনিস সেটা হারাম হয়ে গেল! কত মনোমুগ্ধকর সব সুর, কত গভীর একেকটা প্রিয় গানের লিরিক! এসব এখন থেকে হারাম? তাহলে কী শুনবো? অনেক পরে গিয়ে বুঝতে পেরেছি কোরআন তিলাওয়াত শোনার থেকে উত্তম আর কিছু হতে পারে না। আর একই অন্তরে কুরআনের সুর আর গানের সুর সহাবস্থান করতেও পারে না। এর মাঝে বিক্ষিপ্তভাবে শোনা যেতো, 'কোরআনে সরাসরি নেই যে গান বাজনা হারাম! ' আবার নতুন যুগের অনেক শায়েখরাও বলতে লাগলেন যে এটা হারাম না।
"অবশ্যই আমার পরে এমন কিছু লোক আসবে, যারা বাদ্যযন্ত্র ও গানবাজনাকে হালাল মনে করবে " কুরআনের পর সবচেয়ে বিশুদ্ধ গ্রন্হ বুখারীর ৫৫৯০ নং হাদিস।
"যারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিসসালাম এর সাথে দিনরাত সাথী হিসেবে থাকতেন, তারা ইসলামের সবচেয়ে জ্ঞানী ব্যক্তি। তাঁদের আশেপাশের পরিস্হিতিকে কেন্দ্র করে কুরআন নাজিল হয়েছে। তাঁরাই সর্বপ্রথম কুরআনের আয়াতগুলো তিলাওয়াত করেছেন। আরবি ভাষার জ্ঞানে তারাই সবচেয়ে বিশুদ্ধ। তাঁদের কথা বাদ দিয়ে ৭০০ বছর বা ১৪০০ বছর পরের কোনো ব্যক্তির কথা আমরা গ্রহণ করতে পারি না। যাদের অনেকে হয়তো আরবি ভাষাও ঠিকমত জানেন না"
তাই একজন বিশ্বাসী মুসলিমের কর্তব্য হচ্ছে আল্লাহর উপর ভরসা করে গানবাজনা শোনা ছেড়ে কোরআন তিলাওয়াত শোনায় ঐ সময়টা ব্যয় করা। ম্যাজিক তো আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসবে। গান হচ্ছে অন্তরের মদের মতো। মদের নেশায় ডুবে থাকলে যেমন বাস্তবতা বোঝা যায় না, তেমনি হারামে ডুবে থাকলে ইবাদতের স্বাদও ফিকে হয়ে আসে। ইমান ও আমলও ঐ পথেই যায় 💔
মাত্র ২৭ পৃষ্ঠার ছোট্টো বইটায় গান বাজনা হারাম হওয়ার ব্যপারে যাবতীয় দলিল আর যুক্তি তর্ক সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ব্যস একটা জিনিসেরই অভাব রয়ে গেছে। এই হারামের ভয়াবহতা ও শাস্তির ব্যপারটি।
খুব ছোট কিন্তু খুব ইনফরমেটিভ এবং গুরুত্বপূর্ণ বই।বইয়ে শুধু মিউজিক হারাম হওয়ার ব্যাপারে দালিলিক আলোচনা করা হয়েছে এবং সুবিধাবাদীদের বিভিন্ন ভ্রান্তির উত্তর দেয়া হয়েছে। এগুলোর পাশাপাশি এই গুনাহের শাস্তি সম্পর্কে আলোচনা করলে বইটা পার্ফেক্ট হতো।
যারা গান শুনে তাদের এই বইটা ধরিয়ে দিলেই হবে। বোঝার হলে এমনি বুঝবে!(যদি বিশ্বাসী হন) . শাইখ আহমদ মূসা জিবরীল আমার প্রিয় স্কলারদের একজন। উনার যতগুলো বই পড়েছি প্রত্যেকটাই মাস্টারপিস। . কুরআন হতে দলিল, হাদিস থেকে দলিল এবং ঈমামগণের মতামত বইটাই তুলে ধরা হয়েছে সুন্দরভাবে। একটা কুরআনের আয়াত ও হাদিস তুলে ধরলাম পড়ে একটু ভেবে দেখুন কেমন? . ১. "... এদের মধ্যে যারাই তোমার অনুসরণ করবে, তুমি-সহ তাদের সবার জন্য জাহান্নামই হবে পূর্ণ প্রতিদান। তুমি যাকে পারো তোমার আওয়াজের(বাদ্যযন্ত্র এবং মন্দ বিষয়াদি) মাধ্যমে বিভ্রান্ত করো।..." (সূরা বনী ইসরাঈলঃ৬৩-৬৪) . ২. রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- আমার উম্মতের মাঝে অবশ্যই এমন কতগুলো দলের সৃষ্টি হবে, যারা যিনা-ব্যভিচার, রেশমি কাপড়, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে করবে। (বুখারী, ৫৫৯০) . .
শেষ করি অন্য একটা বইয়ের কিছু লাইন দিয়ে ~ "মিউজিক আত্মার খোরাক নয়।মিউজিক হলো প্রবৃত্তির খোরাক। এটা বাস্তবেই নফসের খোরাক। আর এই মিউজিক হলো অত্যন্ত বিপদজনক বিষ।এই বিষ যদি কারো ভেতরে প্রবেশ করে তখন সে বোঝে না -- তা তার কী পরিমাণ ক্ষতি করে ফেলে। আমি আপনাকে পরিক্ষা করার কথা বলছি না। কিন্তু নিশ্চিত বিশ্বাস করুন, আপনি যদি কোনো বুজুর্গের কাছে গিয়ে দ্বীনি বয়ান শোনেন আর এরপর মাত্র পাঁচ মিনিট কোনো গান শোনেন তাহলে এতোক্ষণের পুরো বয়ান ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার হয়ে যাবে।"(আমি জুনায়েদ জামশেদ বলছি...) . জানানো দরকার ছিল তাই জানালাম বাকিটা মিউজিক আসক্তদের মর্জি 🙂 . . বই ~ মিউজিকঃ শয়তানের সুর লেখক ~ শাইখ আহমদ মূসা জিবরীল প্রকাশনী ~ সমর্পণ প্রকাশন প্রচ্ছদমূল্য ~ ৪৭/- পৃষ্ঠা ~ ২৭
মিউজিক হারাম না, তবে মাকরুহ! এ ধরণের কথা শুনে এসেছি। আবার অনেকেই বলেন, মিউজিক হারাম নয় তবে গান হারাম! আর ইসলামে দফ বাজানো জায়েয এমনটাও বলে থাকেন, তবে দফ বাজানোর ক্ষেত্রে রাসূল সাঃ সম্মতি দিয়েছিলেন সেটা ছিল ঈদের দিন, দুইজন বাচ্চা দফ বাজাচ্ছিলো। মিউজিক নিয়ে সবধরণের সন্দেহের অবসান হবে এই বইটি পড়লে
ছোট্ট বইটা ইমান বিনষ্টকারী উপকরণের সম্পর্কে রাসুল সা, প্রথম যুগের সাহাবী, ইমামদের মত এবং কোরআন হাদিসের ভুল ব্যাখ্যাকারীদের মতামত রিফিউট করা হয়েছে। আশা করি সবার দৃষ্টি উন্মোচনে এটা কাজে দেবে🤩
মাত্র 30 পৃষ্ঠা বইয়ের মধ্যে খুবই সুন্দরভাবে গানবাজনার হারামের ব্যাপারে কুরআন,হাদীস থেকে দলিল ও ইমামদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। সাথে গানবাজনার ব্যাপারে ভ্রান্ত ধারণাগুলোরও জবাব দিয়েছেন ছোট্ট বইটিতে।
নোট: সময়ের পরিপেক্ষিতে এই গানবাজনার কুফল নিয়ে বর্তমান রিসার্চ নিয়ে আলোচনা করলে আরো ভালো লাগতো।
যারা ঢোল-তবলা ও বাঁশি বাজায় তাদের ব্যাপারে ইমাম মালিক (রহিমাহুল্লাহ) এর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। প্রশ্ন করা হয়েছিল, ‘তাদের কাছ দিয়ে যাবার সময় এগুলো উপভোগ করা যাবে কি না?' তিনি বললেন, “ওইসব মজলিস থেকে অবশ্যই উঠে যেতে হবে। তাদেরকে ছেড়ে চলে যেতে হবে।
আমি ভাবছি শপিং সেন্টারগুলোর কথা, যেখানে শপিং করতে যেয়েও গান শুনতে হয়।