মাত্র দেড় বয়সে মা-বাবার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন এক মানবসন্তানের করুণ কাহিনি। পরিণত বয়সে মা-বাবাকে খুঁজতে এসেছে হল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে৷ প্রতি বছর আসে, পাঁচ বছর ধরে চলছে তার এই খুঁজে ফেরা৷ কিন্তু তাদের সে খুঁজে পাচ্ছে না। তবুও তাকে আসতেই হয় বারে বারে, ফিরে ফিরে।
Mashiul Alam was born in northern Bangladesh in 1966. He graduated in journalism from the Peoples’ Friendship University of Russia in Moscow in 1993. He works at Prothom Alo, the leading Bengali daily in Bangladesh. He is the author of a dozen books including Second Night with Tanushree (a novel), Ghora Masud (a novella), Mangsher Karbar (The Meat Market, short stories), and Pakistan (short stories).
মশিউল আলমের "মা কোথায়" এর পটভূমি খুব সাধারণ। শৈশবে বিদেশে দত্তক দেওয়া এক ছেলে মার খোঁজে দেশে ফিরে আসে। মা কোথায় এই প্রশ্নের উত্তরে জিঞ্জিরার ঘিঞ্জি এলাকায় সে হেঁটে হেঁটে বেড়ায়।একসময় সে উত্তর পেয়ে ও যায়..অতঃপর কি? তাই নিয়েই এই উপন্যাস।
খুব সাধারণ প্লটে অসাধারণ মনস্তত্ত্ব নিয়ে কাজ করেছেন লেখক।উপন্যাসের বয়ান কিছুটা ডকুমেন্টারি স্টাইলে লেখা এবং পড়ার মনে হয়েছে কোন সত্যিকার ঘটনা অবলম্বনেই এই বই লেখা। উপন্যাসে বিবাহোত্তর সম্পর্ক নিয়ে একটা ডিসকোর্স আছে যা বেশ ইন্টারেস্টিং। সাধারণ এই উপন্যাস সাধারণত জনসাধারণের ভালো না লাগার মতোই,তবে আমার কাছে একটা দুটো জিনিস অসাধারণ ই লেগেছে।
"মা আর শিশুর মধ্যে সম্পর্কটা কেমন, জানো? আমার মনে হয় এ রকম : মনে করো, একটা পুকুর। পুকুরের পুরো ওয়াটার বডিটাকে যদি মা ধরো, তাহলে তুমি তার শিশু, ওই পানির মধ্যে দ্রবীভূত অবস্থায় আছ । যেমনটা প্রাথমিক অবস্থায় গর্ভের ভেতরে ভ্রূণ থাকে। ওরই মধ্যে তুমি নড়াচড়া করছ একটা আলাদা বস্তু হিসেবে। কিন্তু ওই ওয়াটার বডির একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ তুমি। বিচ্ছিন্ন হলে তুমি বাঁচবে না।"
মাত্র দেড়বছর বয়সে একটা শিশু হারিয়ে যায় বাংলাদেশের কেরানীগঞ্জ থেকে, হারিয়ে যায় বললে ভুল হবে একদিক দিয়ে, তাকে একটা এডোপশন এজেন্সি হল্যান্ডের এক পরিবারকে এডোপ্ট দিয়ে দেয়। কিন্তু বড় হয়ে সে বাংলাদেশে আসে তার বাবা মা কে খুঁজতে। এসেই বন্ধুত্ব হয় এক সাংবাদিকের সাথে। কিন্তু ছোটবেলার কথা তার কিছুই মনে নেই। সে কিভাবে খুঁজে পাবে তার মাকে?
যে মায়ের মুখ সন্তানের মনেই পড়েনা তাঁকে খুঁজে ফেরার ক্ষান্তিহীন, ক্ষমাহীন করুণ কাহিনী মশিউল আলমের এই ছোট্ট উপন্যাসটি।
বইটা পড়তে খারাপ লাগেনি, একবসায় শেষ করার মতো একটা বই, তবু কোথায় জানি আবেগটা কম ছিল, কাহিনীর কোন গভীরতা ছিলনা। এরকম কাহিনী আমরা হলিউড সিনেমা অথবা বাংলা সিনেমাতেও অনেক দেখেছি। এখানে শুধু এন্ডিংটা ব্যতিক্রম। এন্ডিংটা আমার ভালো লাগেনি, কেন সেটা আপনারা পড়লেই বুঝতে পারবেন। লাইট রিড হিসেবে বইটা ওকে।
ওয়াসি ভাইকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ বইটা রেকমেন্ড করার জন্য।
প্রায় বছর পাঁচেক আগে একটা মুভি দেখেছিলাম "lion" সেই ছেলেটার গল্পও এক ছিলো। মায়ের থেকে আলাদা হয়ে যায় এরপর কালক্রমে বহুপথ দূরে অস্ট্রিলিয়া এডোপ্ট নেওয়া হয় তাকে।
হল্যান্ড থেকে একদিন সকালে এক মধ্যবয়সী তরুন বাংলাদেশের ভোরের কাগজ অফিসে আসে। জানায় এটা তার দেশ, সে এসেছে তার মায়ের খোঁজে। কেনো তার মা তাকে কোলছাড়া করেছিলো সে জানেনা। মা'কে পাওয়ার তাড়াটুকু নেই তার। আকাঙ্খা আছে একটা। হয়তো একদিন তার পরিবারকে দেখতে পাবে সে একদিন। ডাচ মা বাবার পরম আদরে বড় হওয়ার পরেও মানিক তার নাম না জানা, কোনোদিন আদর না পাওয়া, চেহারা না দেখা, মা'কে খুঁজে চলে কেরানীগঞ্জের জিঞ্জিরায়। মা'কে খোঁজার আকাঙ্খার এক করুন উপন্যাস।
গল্পটা মন ছুঁয়ে যাওয়ার মতো হতে পারতো, শুরু থেকে বেশ ভালো লাগছিলো পড়তে। তবে ছুই ছুই করেও ছুলোনা। কেমন একটা তরিহরি করে শেষ করে দিলেন লেখক। যাহোক, রিডিং ব্লক কাটানোর জন্য বেশ ভালো বই হতে পারে এটি। হ্যাপি রিডিং 🧡
সুদূর হল্যান্ড থেকে বাংলাদশে নিজের মা-বাবাকে খুঁজতে আসে মাইকেল অথবা ছোটবেলার পাসপোর্টে উল্লেখিত নামের অধিকারী মানিক। মাত্র দেড় বছর বয়সে কেরানীগঞ্জের জিঞ্জিরা থেকে তাকে কেন বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হলো, কী এমন প্রয়োজনে দত্তক দিতে হলো অচেনা দূরদেশে- পরিণত বয়সে এই উত্তর পেতেই সে ছুটে আসে বারবার। যে মায়ের মুখ সন্তানের মনেই পড়ে না তাঁকে খুঁজে ফেরার ক্ষান্তিহীন, ক্ষমাহীন, করুণ কাহিনি মশিউল আলমের এই ছোট্ট উপন্যাস। কাহিনীটা একদিক ধরে এগিয়ে গেলেও চরিত্রগুলোর সাথে মিশে যাওয়া যায় খুব সহজেই। অনুভব করা যায় সুখ-দুঃখ, আশা-নিরাশায় ভরা তাদের সমগ্র জীবন। উপন্যাসের পরিণতিতে এসেও মাইকেল অথবা মানিকের বিভ্রান্তি, সিদ্ধান্তহীনতা কিংবা নিজের চিন্তার সাথে অজানা এক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার চিত্র আমাদের অস্বস্তিতে ভোগায়। সাদামাটা, একরৈখিক একটা উপন্যাস হয়েও 'মা কোথায়' শেষপর্যন্ত আলো-অন্ধকারে ঘেরা শূন্য এক জগতের সাথে পরিচিত করিয়ে দেয় পাঠককে।
"মা আর শিশুর মধ্যে সম্পর্কটা কেমন, জানো? আমার মনে হয় এ রকম : মনে করো, একটা পুকুর। পুকুরের পুরো ওয়াটার বডিটাকে যদি মা ধরো, তাহলে তুমি তার শিশু, ওই পানির মধ্যে দ্রবীভূত অবস্থায় আছ । যেমনটা প্রাথমিক অবস্থায় গর্ভের ভেতরে ভ্রূণ থাকে। ওরই মধ্যে তুমি নড়াচড়া করছ একটা আলাদা বস্তু হিসেবে। কিন্তু ওই ওয়াটার বডির একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ তুমি। বিচ্ছিন্ন হলে তুমি বাঁচবে না।"
মা কোথায় উপন্যাসের প্লট আহামরি নতুন কিছু নয়।এর আগে বাংলাদেশি শিশুদের বিদেশে দত্তক দেওয়া ও সেই শিশুর পরিণত বয়সে বাবা-মাকে খুঁজতে আসা নিয়ে অনেক নাটক,গল্প উপন্যাস লেখা হয়েছে।কিন্তু এই উপন্যাসের মূল চরিত্র মানিকের মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব উপন্যাসটিকে দিয়েছে এক বিশেষ মাত্রা।মানিক হল্যান্ড থেকে নিজদেশে ফেরে তার আসল বাবা-মার খোঁজে।কিন্তু সে আসলেই কী খুঁজছে তা নিয়ে উপন্যাসের শেষ পর্যন্ত পাঠককে ধাঁধার মধ্যে থাকতে হবে।উপন্যাসের প্রথম দুই তৃতীয়াংশে কাহিনির বীজ বপণ করে শেষাংশে এসে লেখক যখন মানিকের দ্বিধা ও অন্তর্দাহ তুলে ধরেন তখনই গল্পটি লাভ করে নতুন মাত্রা।শেষ করার দুইদিন পরেও মানিক চরিত্রটিকে আমি মাথা থেকে তাড়াতে পারিনি,সে কী করলো কেন করলো তা নিয়ে অনবরত ভাবছি আর এইখানেই "মা কোথায়" এর সার্থকতা। কয়টা বাংলা উপন্যাস শেষ হওয়ার পর মানুষ তা নিয়ে কয়েকদিন ধরে ভাবতে বাধ্য হয়?
খুব একটা ভালো লাগেনি। দায়সারা গোছের লেখা। জন্মদাতা বাবা মা কে খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা নিয়ে মানিকের মনে একটা অন্তর্দ্বন্দ্ব আছে - সেটা প্রকাশের জন্য লেখকের যে প্রচেষ্টা সেটা মোটেও স্পর্শ করেনি। একরকম জোরজবরদস্তি ছিল যেন।
অনেক আগে পাবলিক লাইব্রেরিতে বসে পড়েছিলাম বইটি। পড়ে মনে হয়েছে বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে লেখা। মশিউল আলমের কোন বই দেখলে আমার এই ছেলেটার কথা মনে পড়ে। সে এখন কোথায় আছে? সে কি তার মাকে খুঁজে পেয়েছে?
প্রথমা থেকে বের হয়েছে। ছোট উপন্যাস। একজন সন্তান তার মা বাবাকে খুঁজে বের করতে চাইছে। হল্যান্ড থেকে এসেছে। অবশ্য খুঁজে বের করতে চাইছে কিনা নিশ্চিত নয়। সম্ভবত সত্য ঘটনা নিয়েই লেখা।
লেখাটা পড়তে গিয়ে মনে হচ্ছিল ছোটবেলার কথা যখন আমার মনে হতো আমাকে কুড়িয়ে এনেছে আমার বাবা মা। না, কেউ কখনো মজা করে বলেনি। আমার এমনিতেই মনে হতো। তারপর তাকাতাম পথশিশুদের দিকে। এমনিতেই। খুঁজতাম। হয়তো আমার ওখানেই থাকার কথা ছিল। কিংবা কে জানে থাকলে আসলেই ভালো হতো।
এই উপন্যাসটি স্মৃতিটুকু মনে করিয়ে দিলো, যে বানোয়াট স্মৃতিতে ছিল ভীষণ গ্লানি।
তবে উপন্যাস হিসেবে আরও যে দাবি কাছে উপন্যাসের কাছে তা পূরণ না হওয়াতে ভালো লাগার পারদ বেশি উঁচুতে উঠল না।