দূরপ্রাচ্য। জাপান কিংবা দক্ষিণ কোরিয়া। চেরিফুল, কাগজ-লণ্ঠন আর উপকথার শ্বেতসারসের দেশ। তার মধ্যে দিয়ে এ এক দীর্ঘ অভিযাত্রা। সে- পথ কখনো মিশেছে দিনলিপির পাতায়, কখনো বদলে গিয়েছে ভ্রমণকথায় বা নিবন্ধে, কখনো বাঁক নিয়েছে কবিতায়। লেখার পাশাপাশি সাদা-কালো তুলিটান আর জলরঙের আয়নায় ধরা রয়েছে সেই ছবি।
"সুগন্ধী ঘাসের ওপর হাঁটতে ইচ্ছে করে। অর্কিড তুলব, আর বুনোফুল। বলো তো, কী বোঝাই করেছি আমার এই পাতার মতো নৌকায়? চিগুকচং, চিগুকচং, ওসাওয়া একা ছিলাম, চাঁদটাকেই ধরে এনেছি ফেরার পথে" জাপানী হাইকুর মতোই কোরিয়ান শিজো ঐতিহ্যে ঝলমল। এখনকার সময়ে প্রাসঙ্গিক মনে হল, তাই শুরুতেই উল্লেখ করলাম এই শিজোটা। চেরিবসন্তের জন্য আমার দীর্ঘ অপেক্ষা ছিল। যেমন জাপানের চেরিবসন্তের জন্য অপেক্ষা থাকে জাপানীদের অনেকটা তেমনই এই বইটার জন্যও অপেক্ষা করছিলাম আমি। হাতে পাওয়ার পর অবশ্য একটু সময় নিয়েই ধীরে ধীরে পড়লাম প্রাচ্য ভ্রমণের মনোরম এই বইটি। জাপান আর কোরিয়া দুই দেশই প্রাচ্যের উন্নত দেশ। কিন্তু আধুনিকতার মোড়কটা সরালেই উন্মোচিত হয়ে পড়ে প্রাচীন ঐতিহ্যের রেশ৷ চেরিবসন্ত জাপানের খুব ভালোবাসার উৎসব হলেও কোরিয়াতে তত আদরণীয় নয়। বরং জাপানী আগ্রাসনের প্রতীক হিসেবেই দেখা হয় চেরিফুলকে। তাই বলে চেরিগাছ যে অবহেলিত ওখানে, তাও নয়। গল্পে গল্পে এসেছে চমৎকার কিছু অনুষ্ঠানের কথার পাশাপাশি জাপানী রাজকাহিনী আর সাহিত্যের কথাও। টেল অব গেঞ্জি, গেইশা আর হাইকু-জাপানি কোন ভ্রমণকথা নেই যে এই কথাগুলো আসেনি৷ লেখিকা নিজে পদার্থবিজ্ঞানে গবেষণারত হওয়ার পাশাপাশি একজন কবিও। তাই কবিতার কথা এসেছে বিশেষ গুরুত্ব নিয়ে। কিছু কিছু অনুভূতি হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। যেমন কোরিয়ায় নাকি ঘুড়ি মাঞ্জা দেয়ার বিষয়টি নেই। নিজে উড়তে হয়ে অন্য কারো পথ কাটতে যে হয় না হয়তো তারই প্রতীকী নিদর্শন বিষয়টি। ফাঁকে ফাঁকে গুঁজে দেয়া চিরঞ্জিৎ সামন্তের ছবিগুলো বেশ৷ আর একেবারে শেষপাতে ডেজার্ট হিসেবে লেখিকার কবিতাগুলোও খুব উপাদেয়।
শান্ত...শান্তি...প্রশান্তি... ইদানিংকালে ট্রাভেল কফিটেবিল বুক বেশ জনপ্রিয়। আমাদের বাঙালিদের মধ্যে ভ্রমণকাহিনি জাতীয় বই আছেই, কিন্তু ট্রাভেল কফিটেবিল বুক সেভাবে আমি দেখিনি। ভ্রমণকাহিনি মূলত ভ্রমণভিত্তিক, লেখকের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি মুখী হয়। ট্রাভেল কফিটেবিল বুকগুলো মূলত লেখেন যাঁরা ঘুরতে ভালোবাসেন, কিন্তু লেখার ব্যাপারে সেভাবে পটু নন। বইয়ে একাধিক ছবি, ক্যালিগ্রাফি থাকে। তাঁরা তাঁদের ঘোরার অভিজ্ঞতার সাথে সাথে এক প্রসঙ্গ থেকে অন্য প্রসঙ্গে চলে যান , সেখান থেকে অন্য কোথাও গিয়ে লেখাটা শেষ হয়। এই বইটি আমার বাংলা ভাষায় পড়া একটি আদর্শ ট্রাভেল কফিটেবিল বুক। উপরি পাওনা লেখিকার অসাধারণ লেখনী, যা পড়তে পড়তে চোখের সামলে ভেসে ওঠে চেরি গাছ, পাহাড় ঘেরা নগরী, নির্জন পাহাড়চূড়ায় বৌদ্ধ মন্দির, বরফ ঘেরা নিঝুম রাস্তা, কাঠের সাবেকি রেস্টুরেন্টে সবাই মিলে বসে একসাথে খাওয়া দাওয়া। বইয়ের প্রথম অংশে 'মন্দিরবাস' বলে একটা অংশে লেখিকার একটি বৌদ্ধমন্দিরে কদিনের জন্য ঘুরতে গিয়ে এক ইউরোপীয় মহিলার সাথে দেখা হয়। দুজনের দেখা হওয়াটা বেশ আকস্মিক , কিন্তু লেখিকার মতে তাঁদের মধ্যে টানটা যেন কতদিনের। যদি তাঁদের দেখাই না হতো? কিছু যোগাযোগ বোধহয় বেশ অলিখিতভাবে হয়েই যায়। বইয়ের দোকানে আমি কাজে গিয়েছিলাম। দেখলাম এই রঙচঙে বইটা একদম সামনেই। জিজ্ঞাসা করে জানলাম, কেউ একজন বইটা অর্ডার করেছে; প্যাক হওয়ার জন্য ওয়েট করছে।আমি ব্যাগে ঢুকিয়ে নিয়ে দোকানদারকে বললাম, 'তুমি আর একটা আনিয়ে নিও। এটা আমি নিলাম।' সেদিন যদি ঐ সময়ে অরণ্যমনে না যেতাম আর কেউ যদি অর্ডার না করে থাকত, এত সুন্দর বইখান পড়েই ওঠা হতো না। লেখিকা রিসার্চের কাজে দক্ষিণ কোরিয়া গিয়ে কয়েক বছর ছিলেন। মূলত সেই কয়েক বছরের বিভিন্ন টুকরো ঘটনার মধ্যে দিয়েই কোরিয়া ও জাপানের ইতিহাস, সংস্কৃতি, বিশ্বাস, খাদ্যাভ্যাস, কবিতা, সাহিত্য, ফুল, পাতা, পরিবহন, জীবনযাত্রা অনেক কিছুর সাথেই পরিচয় হয়ে যায়। এত্তো সুন্দর লেখা স্বাদু গদ্যে যে কেউ তাঁর দৈনদিন জীবনের অভিজ্ঞতা ও ভ্রমণের বর্ণনা লিপিবদ্ধ করতে পারেন, না পড়লে সত্যিই বিশ্বাস হত না। তবে বইটি যোগ্য ট্রাভেল কফিটেবিল বুক হয়ে উঠেছে চিরঞ্জীৎ সামন্তের অসাধারণ অলংকরণে। সেগুলো এত জীবন্ত , এত সজীব, লেখার সঙ্গে এতটাই মানানসই ; যেন পাঠকের সামনে লেখিকার দেখা দৃশ্যগুলোকেই তুলে এনেছেন। শিল্পীর সম্পর্কে যত বলা যায় তত কমই হবে। একটা বিধিসম্মত সতর্কীকরণ। যাঁরা বইয়ের দাম সব সময় পাতার হিসেবে মাপেন এই বই অবশ্যই তাঁদের জন্য নয় । ১২০পাতা বইয়ের মুদ্রিত মূল্য ৩৫০টাকা। কেনার সময় যতটা সন্দেহ হচ্ছিল, পড়া শেষ করে মনে হচ্ছে দাম এটুকুও বেশি নেয়নি। ধানসিড়ির অসাধারণ বাঁধাই, একাধিক গ্লসি পেপারে ছাপা দৃষ্টিনন্দন রঙিন ছবি, তার উপর লেখিকার অসাধারণ লেখা; এরকম বইয়েরই তো দাম হবে। সবকটা ঘটনাই বেশ ভালো লেগেছে, মন ভরে গেছে। বেশ কিছু ঘটনা পড়ে ফিক করে হেসে উঠেছি, বেশ কিছু পড়ে অবাক হয়ে চুপ করে ছিলাম, আবার শেষের দিকের জাপানের হিরোশিমা ভ্রমণের বর্ণনা পড়তে পড়তে চোখ ছলছল করে উঠেছে। মাথার মধ্যে একটা ঘোর চলতে থাকে অনেকক্ষণ। যতদিন ধরে বইটা অল্প অল্প করে পড়ছিলাম সে কদিন অন্য কোনো থ্রিলার, ভূত কিচ্ছু পড়তে ভালো লাগছিল না। আগামী কিছুদিনেও হয়তো ভালো লাগবে না। যখনই আবার মন খারাপ হবে, কিচ্ছু পড়তে ভালো লাগবে না; এই বইটাই খুলে বসবো।
" চেরি ফোটে। তার ছায়াতে, অচেনা বলে কেউ নেই " - কোবায়াশি ইসা (১৭৬৩ - ১৮২৭)
'দূরপ্রাচ্য। জাপান কিংবা দক্ষিণ কোরিয়া। অত্যুন্নত দুটো দেশ, অথচ আধুনিকতার আলগা প্রসাধনটুকু সরিয়ে নিলেই বেরিয়ে পড়ে ইতিহাস আর রূপকথার দুই কল্পরাজ্য। সেখানে শহরের ব্যস্ততম কেন্দ্রস্থলেই টিলার নীচে ঘুমিয়ে থাকেন অতীত যুগের রাজারানিরা, হাওয়াতে উড়ে বেড়ায় ড্রাগন আর ফিনিক্সপাখির গল্প।'
🔹দক্ষিণ কোরিয়ায় পদার্থবিজ্ঞানের পোস্ট ডক্টরাল রিসার্চের কাজে গিয়ে লেখিকা বেশ কিছু বছর ছিলেন সমুদ্র তীরের পোহাং শহরে। সমুদ্র পেরোলেই আর এক ছবির মতো দেশ, জাপান। এই দুই দেশ তাদের জল-হাওয়া, কবিতা, কাগজ-লন্ঠনের আলো, সংস্কৃতি একসাথে মেখে যেন কোথাও গিয়ে এক ও একাকার হয়ে যায় বসন্তের প্রারম্ভে, যখন গাছের আঁকাবাঁকা ডাল বেয়ে একটু একটু করে ফুটে ওঠে মরশুমের প্রথম চেরি ফুল।
এই চেরি ফুল, বসন্তের দূত হয়ে আসে, সৌন্দর্য্য ও পবিত্রতার প্রতীক হয়ে। বাঙালির এক চৈত্রমাসে লেখিকা ঘুরে আসেন জাপানে, প্রত্যক্ষ করেন চেরিফুলের উৎসব বা সাকুরা মাৎসুরি (সাকুরা - চেরিফুল) যা উদিত সূর্যের দেশে এক আদি অকৃত্রিম সেন্টিমেন্ট, উন্মাদনা ও উৎসব।
'আমার এ দেশে এমনকি ঘাসও চেরি হয়ে ফোটে' - কোবায়াশি ইসা (১৭৬৩ - ১৮২৭)
🔹রাকা দাশগুপ্ত আরো বেশি করেই হয়তো একজন কবি বলে তাঁর এই বই ক্রমশ গড়িয়েছে ব্যক্তিগত দিনলিপি, অভিজ্ঞতা থেকে ভ্রমণকথায়, ভ্রমণকথা থেকে কবিতায়, কখনো বাঁক নিয়েছে মেদহীন সরস গদ্যের আধারে প্রবন্ধে-নিবন্ধে। তার চলন একমুখী তো নয়ই, বরং পাহাড়ী নদীর মতই আপন খেয়ালে ছুটে চলে, পাথরে ধাক্কা খেয়ে অক্ষর - শব্দ ���লবিন্দুর মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে এবং যেমন একদিকে ছুঁয়ে যায় চেরিফুল, কাগজ - লন্ঠন, সেরামিক নকশা প্রাচ্যের শিল্পরীতিকে, ঠিক তেমনই ছুঁয়ে যায় এক উপকথার শ্বেতসারসের দেশকে যেখানে আজও সাহিত্য - দর্শন চর্চায় উঠে আসে বৌদ্ধ শ্রমণ রচিত চা-এর স্তবগাথা, শতাব্দী প্রাচীন কোরিয়ান শিজো কবিতা।
" যাচ্ছ তুমি? যেতেই হবে? কেনই বা যাও? ক্লান্ত বলে ? কিম্বা কোনও বিরক্তি, ক্ষোভ? কেউ কি তোমায় বললো যেতে? যাবেই যখন, তোমার চোখে অমন কাতর দৃষ্টি কেন ! "
কবি রাকা দাশগুপ্তের হাইকু আর শিজো নিয়ে একটি আলোচনা পড়েছিলাম, গুরুচন্ডা৯'র ওয়েবসাইটে। সেখান থেকে স্মৃতির সরণি বেয়ে আবার ফিরে এলাম বছরখানেক আগে পড়া সেই লেখায়...'চেরিবসন্ত'র হাত ধরে। শিজো ও হাইকু - কোরিয়া ও জাপানে তাদের ভিন্ন নাম, আবেদন এক, সংক্ষিপ্ত তিনটি লাইন ও গঠন, শাণিত, সহজ ও সুন্দর। তাতে লুকিয়ে থাকে প্রকৃতির বর্ণনা, কবির সুখ-দুঃখের টুকরো টুকরো স্মৃতি, প্রেম ও বিরহ। রাকার এই বিশেষ নিবন্ধ ও কবিতার অনুবাদগুলি এই বইয়ের এক বিশেষ সম্পদ। অনুবাদ ও আলোচনার ক্ষেত্রে যত্ন ও কবিতার প্রতি 'এই' ভালোবাসা আমার মতোই অন্যান্য কবিতাপ্রেমী পাঠককে ভীষণভাবেই আকৃষ্ট ও ঋদ্ধ করবে বলে আমার বিশ্বাস।
🔹লেখিকার নিজের ছোটো ছোটো অভিজ্ঞতা গল্প, অদ্ভুত সুন্দর ভাবে গদ্যের মাধ্যমে তিনি মিশিয়ে দিয়েছেন এই ভ্রমণকাহিনীতে। তথ্যের ভারে তা একবারের জন্যেও পড়তে গিয়ে থমকে দাঁড়াতে হয়নি বরং এই স্বপ্নের দেশ স্বপ্নের মতোই ধরা দিয়েছে পাঠকমনে। প্রতিটি পাতায় গল্পের মতো করে উঠে এসেছে প্রচুর অজানা তথ্য ও বিবরণ এবং ইতিহাস। বসন্ত সমাগমের আগে কোরিয়া - জাপানে চেরি ব্লসম ফোরকাস্ট করে সরকার যে আলাদা ফুলের ক্যালেন্ডার বের করেন, তা যেমন জানা ছিল না, সেইরকম জানা ছিল না তাদের মন্দিরবাস, ভাষা, খাদ্যাভাস, উৎসব কোনো কিছুই। কী ভীষণ প্রাঞ্জল সেই বিবরণ, সুনিপুণ ভাবে কলমের দক্ষ আঁচড়ে রাকা কোরিয়ান নটে বুনেছেন অপূর্ব কথার ঝালর। এই অস্থির সময়ে এই বই পড়তে গিয়ে অবাক হয়েছি জেনে, কোরিয়ানদের ঘুড়ি ওড়ানোর রুলবুকে 'ভো-কাট্টা' বা 'মাঞ্জা' শব্দ দুটি নেই। ঘুড়ি ওড়ানোর উৎসবে রংবেরঙের ঘুড়ি, কোনওটা ডানামেলা চিলের মতো দেখতে তো কোনওটা ময়ূরপঙ্খী। সার দিয়ে তারা উড়ছে আকাশে। পাশের ঘুড়িগুলোকে কাটতে না শিখলে নিজে ওড়া যাবে না, সেটা বোধহয় এরা মানেন না। সবাই যে যার মতো আপন খেয়ালে ওড়ার আনন্দেই বিশ্বাসী। নীল আকাশের মতোই উদার সেই ভালোবাসা।
ছোটো ছোটো গল্পের মাধ্যমে উঠে এসেছে সুপ্রাচীন ইতিহাস। কপিলাবস্তুর সেই সর্বত্যাগী রাজকুমারটির কথা স্মরণ করে আজও এই দেশে দুর্গম পর্বতশিখরের বৌদ্ধমন্দিরে উচ্চারিত হয় ভোরের প্রার্থনাসংগীত। ভারতবর্ষের শাক্যমুনি এখানে হয়ে ওঠেন কোরিয়ার 'সেওকগোমুনি'। উঠে আসে টুকরো মজার ইতিহাস, যেমন ফিলিপিনসের লুদোং মাছের কথা, এত দামী ও দুষ্প্রাপ্য সেই মাছ, যে কিনত, সে নাকি আর বাজারের ব্যাগে ঢোকাত না, রাস্তা দিয়ে দেখাতে দেখাতে নিয়ে যেত, সোনার সমতুল্য লুদোং। অনেকটা বাঙালির পদ্মার জোড়া ইলিশ রাস্তা দিয়ে ঝুলিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতোই।
🔹শেষে তিনটি কথা বলতে চাই এক মুগ্ধ নগণ্য পাঠক হিসাবে, ১) রাকা দাশগুপ্তের কলম আর চিরঞ্জিৎ সামন্তের তুলিটান আর জলরঙের আয়না ছুঁয়ে পাড়ি দিন দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে, যেখানে শীতের শেষে অপেক্ষা করে থাকে চেরিফুলে মোড়া এক বসন্ত, যার জীবনচক্র মাত্র সাতদিনের জন্যেই সীমিত। চিরঞ্জিৎ সামন্তের উদ্দেশ্যে, এই বইতে প্রতিটি পৃষ্ঠাতে তাঁর ভালোবাসা, নিষ্ঠা ও তুলির আঁচড় যেভাবে জড়িয়ে আছে, তাঁকে ও তাঁর শিল্পসৃষ্টিকেই কুর্নিশ জানাই। শুধুমাত্র প্রচ্ছদ ও অলঙ্করণের জন্যেই এই বই সংগ্রহে রাখা যায়। তার উপর ধানসিড়ি প্রকাশনের অনবদ্য প্রোডাকশন তো আছেই।
২) ভ্রমণমূলক গদ্য নিয়ে বহু সুখপাঠ্য রচনা ও চিরায়ত সৃষ্টি বাংলা সাহিত্যে আছে। কবিদের গদ্যের বইয়ের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। 'চেরিবসন্ত' সেই সারিতে ভীষণভাবেই প্রথমদিকে আছে ও থাকবে তার বলিষ্ঠ উপস্থিতি নিয়ে। চেরিফুলের জীবনের মতোই আমার সাতদিনের এই 'চিরবসন্ত' পাঠকসত্ত্বাকে যা জড়িয়ে রেখেছিল এক ভালোবাসার ওমে, বরফের দেশে নিজের অস্তিত্ব জানান দেওয়া চেরিফুলের মতোই।
৩) ঐ, অর্থাৎ প্রথম ও দ্বিতীয় কথা-দুটি।
'প্রতিটি শাখা থেকে ফুলেরা উড়ে গিয়ে ঝরেছে টুপটাপ বলছে - 'শিগগির!' ফুরোল মধুমাস। সে ফিরে গেছে, তার গমনপথরেখা পড়ে না চোখে আর।'