আলাে আর অন্ধকার পাল্টে যায় রােজ। গুলিয়ে যায় বন্ধু আর মুখােশ। হারানাে মানুষ ভেসে ওঠে পুরােনাে প্লাস্টিকের মতাে। দূরে রেডিও বাজে আবছা। তিরিশ বছর ধরে মনে হয় কে যেন আসবে! মনে হয় কে যেন একাকী সিঁড়ির মােড়ে দাঁড়িয়ে থাকবে কোন নরম রােদের দুপুরবেলায়। আচারওলা আবার যাবে ছােটবেলার মতাে!
কিন্তু তেমন কিছুই হয় না।
মন খারাপের সুড়ঙ্গে দিন কাটাতে কাটাতে মানুষ ক্লান্ত হয়। তারপর একদিন সাহস করে বেড়িয়ে আসে রোদ্দুরে। কাচের মতাে চোখ নিয়ে দেখে পৃথিবী। আর কিছু অনুভব করতে চায় না সে। শুধু গােপনে জল কাঁপে তার! তবু সে বারবার মাটি স্থির রাখে। বারবার সে নিজেকে বােঝায় নিস্পৃহ।
এইসব লেখা এমনই নানান নিস্পৃহতার সামান্য বিবরণী মাত্র।
স্মরণজিৎ চক্রবর্তীর জন্ম ১৯ জুন ১৯৭৬, কলকাতায়। বর্তমানে দক্ষিণ কলকাতার বাসিন্দা। পৈতৃক ব্যবসায় যুক্ত। প্রথম ছোটগল্প ‘উনিশ কুড়ি’-র প্রথম সংখ্যায় প্রকাশিত। প্রথম ধারাবাহিক ‘দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত। শৈলজানন্দ স্মৃতি পুরস্কার ২০১৪, এবিপি এবেলা অজেয় সম্মান ২০১৭, বর্ষালিপি সম্মান ২০১৮, এবিপি আনন্দ সেরা বাঙালি (সাহিত্য) ২০১৯, সানডে টাইমস লিটেরারি অ্যাওয়ার্ড ২০২২, সেন্ট জেভিয়ার্স দশভুজা বাঙালি ২০২৩, কবি কৃত্তিবাস সাহিত্য পুরস্কার ২০২৩, উৎসব পুরস্কার ২০২৪, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড ২০২৪, আনন্দ পুরস্কার (উপন্যাস: '‘শূন্য পথের মল্লিকা') ২০২৫ ইত্যাদি পুরস্কারে সম্মানিত ।
"সবাই যখন সবার থেকে দূরে মনের কাছে রইল গোলাপ চারা আজ বুঝেছি এই পৃথিবী ঘুরে আমার জীবন অচল তোমায় ছাড়া"
যখন পৃথিবীর বুকে নেমে আসে মহামারী সময়কাল, মানুষ গৃহবন্দী হয়ে যায়,তখন মানুষের মনের মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়াটা অপেক্ষা শব্দটির সঙ্গে মিশে যায়। দীর্ঘদিন 'তুমি' মানুষটিকে না দেখতে পেয়ে এবং বাড়ির আশেপাশের ঘটনাগুলি কবিতায় জড়িয়ে গেছে । সেই লকডাউনের সময়ে লেখা কবিতা গুলি যেন সেই 'তুমি' র কথা বলে। কবিতায় জড়িয়েছে বিকাল,সন্ধ্যা,চাঁদ,ট্রাম,অটো,তারে মেলা কাপড় আরও কতো কী। সবশেষে কবিতা প্রত্যেকটাই নিস্পৃহতার সামান্য বিবরণ রাখে। সবথেকে ভালো লাগে লেখক খুব সহজ সাবলীল ভাবে মনের চিন্তাগুলিকে তার কবিতায় রূপ দান করেন। আশেপাশের বস্তুসমূহকে তিনি কখন যে কবিতার ছন্দে ফেলে দেন,বোধগম্যতার বাইরে। তবে সহজ ভাষা হলেও কথার অর্থ কঠিন বেশ কিছুক্ষেত্রে। কবিতা যদি ভালোবাসেন তবে স্মরণজিৎ চক্রবর্তীর এই বই আপনার জন্য। বইয়ের প্রচ্ছদটি কিন্তু সহজ অথচ নিস্পৃহতার ছাপ রেখেছে। তাই প্রচ্ছদটি আমার মন ছুঁয়েছে।