Jump to ratings and reviews
Rate this book

মাঝরাতে একটা গল্প শুনিয়েছিলেন #2

ফুল লাগলে চেয়ে নিবেন

Rate this book
নষ্ট হয়ে যাওয়া পানির লাইন মেরামত করতে গিয়ে একদিন রকিব উদ্দিন ম্যানহোলের ভেতরে নামতে বাধ্য হলেন। ঢাকার ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ পথে তিনি একটা অদ্ভুত জিনিস আবিষ্কার করলেন সেদিন। উত্তেজিত হয়ে তার সুপারভাইজারকে বিষয়টা জানানো মাত্র তাকে বলা হলো, মুখ বন্ধ রাখো!

প্রায় প্রাগৈতিহাসিক এক লাল টেলিফোন থেকে রাত দু’টার পর অদ্ভুত সব আওয়াজ পাওয়া যায়। ফিসফাস করে উচ্চারণ করা কিছু শব্দ যেন অনেক দূর থেকে ভেসে আসে। এর উত্তর খুঁজতে গিয়ে একদিন নিখোঁজ হলো ফারাবী। পাওয়া গেলো একটা চিরকুট। সেখানে লেখা –

ফুল লাগলে চেয়ে নিবেন (বেলা দুই ঘটিকা হইতে)

ঢাকার তেজগাঁও থেকে যে ঘটনার শুরু, একসময় তা গিয়ে ঠেকলো ফরাশগঞ্জ রোডের নর্থব্রুক হল, প্রাচীণ এক ভাষা, তিওয়ানাকু সভ্যতা এবং লিনেন বুক অব জাগরেব-এ।

‘মাঝরাতে একটা গল্প শুনিয়েছিলেন’-এর দ্বিতীয় পর্বে আপনাকে স্বাগতম।

128 pages, Hardcover

First published February 1, 2021

6 people are currently reading
229 people want to read

About the author

Nosib Ponchom Zehadi

9 books192 followers

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
23 (9%)
4 stars
114 (46%)
3 stars
84 (34%)
2 stars
17 (6%)
1 star
7 (2%)
Displaying 1 - 30 of 84 reviews
Profile Image for Wasee.
Author 56 books793 followers
October 16, 2023


"Perfect morning doesn't exist"

নিজেকে জিজ্ঞেস করে দেখুন তো, কতদিন হলো আয়েশ করে সকাল দেখেননি? আপনি যদি আমার বয়সী হয়ে থাকেন, তাহলে প্রায় ত্রিশ ছুঁইছুঁই বয়সে এসে সকাল বেলার সৌন্দর্য খোঁজার কথা ভাবাটাও এক ধরনের আদিখ্যেতা। কোনমতে হন্তদন্ত হয়ে উঠে আপনাকে অফিসে যাবার যোগাড়যন্ত্র করতে হয়। সৌভাগ্যবশত যাদের কপালে সপ্তাহে এক-দুইদিন ছুটি থাকে, সেই বহুল আকাঙ্ক্ষিত দিনের সকাল কেটে যায় ভীষণ ঘুমের ঘোরে। পরের দিনগুলোতে আবার কাজ করতে যে শক্তি প্রয়োজন, সেজন্য নিজের ব্যাটারি চার্জ করে নেয়া আরকি! অভাগাদের আবার সপ্তাহে দুইবার নাইট ডিউটি শেষে এই সময় অবশ শরীরে বিছানায় যেতে হয়। সকালের সৌন্দর্য উপভোগ করা দূরে থাক, এইসময় নিজের অস্তিত্ব নিয়েই বিরক্ত লাগে বেশিরভাগ সময়।

আজকের সকালটাও তেমনই হতে পারত। ব্যতিক্রম ঘটল 'ফুল লাগলে চেয়ে নিবেন' নামের এই বইটার কারণে। ভোর সাড়ে পাঁচটার পর শীতের আকাশে যখন নীলচে আলোর ওপর আড়াআড়িভাবে দুই-চারটা হালকা গোলাপি আভা ফুটতে শুরু করেছে, ঠিক এমন একটা সময় হাসপাতালে বসে বইটার ''হালাল PDF" চোখের সামনে ধরলাম। (স্বয়ং লেখক মনে মনে দুটো গালি দিয়ে বইটা পড়তে পাঠিয়েছে)।

ঘটনার সেখানেই শুরু। নসিবের প্রথম বই 'মাঝরাতে একটা গল্প শুনিয়েছিলেন' যারা পড়েছেন, তারা হয়তো আমার সাথে একমত হবেন; লেখক হিসেবে ওর অদ্ভুত একটা ক্ষমতা আছে। বইয়ের নামের সাথে মিল রেখে আপনার মনে হতে বাধ্য, কেউ একজন চোখের সামনে বসে একটা গল্প শুনিয়ে যাচ্ছে। সেই গল্পে যেমন ভয়ঙ্কর ভৌতিক আবহ, রহস্যের মায়াজাল, অনেকটুকু ইতিহাস আছে; ঠিক একই পরিমাণে আছে বাস্তব জীবনের রঙ, হাসি-তামাশা, দু:খ। চরিত্রগুলোকে আলাদা করে ভাবতে গেলে চমকে উঠতে হয়। মনে হয়, আরে, এর সাথে তো চায়ের দোকানে/অফিসে/বাসে/আড্ডায় প্রতিদিনই দেখা হয়!

'ফুল লাগলে চেয়ে নিবেন' কোন অংশেই তার ব্যতিক্রম নয়। ক্লান্তিময় ডিউটির লাস্ট আওয়ারে হাসপাতালের ডক্টর'স রুমের লাইট নিভিয়ে দিয়েছি। চৌদ্দো তলার স্বচ্ছ কাচের জানালা দিয়ে ঘরের ভেতর 'অন্ধকার ঢুকছে।' আলোর উৎস বলতে হাতের মোবাইল ফোন, সেই মোবাইলে নসিবের প্রকাশিতব্য বইয়ের Portable Document Format। হঠাৎ হাসপাতালের ঘর থেকে নিজেকে খোকন মামার চায়ের দোকানে আবিষ্কার করলাম, সেখান থেকে বগুড়ার প্রত্যন্ত এক গ্রামে, তারপর এক ঘণ্টার ভেতর পুরনো ঢাকা হয়ে মনসুর স্যারের বাসা, এমনকি নিজের বইয়ের চরিত্র লুৎফর রেহমানের বিলাসবহুল এপার্টমেন্টে। স্থান-পাত্রের পাশাপাশি সময়ও কয়েক লেয়ারে ভাগ হয়ে গেলো। নর্থব্রুক হল, তিওয়ানাকু সভ্যতা, টাওয়ার অফ ব্যাবেল, লিনেন বুক অফ জাগরেব, ষাটের দশকের ঢাকা- সময়ের কত আলাদা আলাদা স্তর!

একদিকে যেমন গা ছমছম করছে, তার পাশাপাশি হেসেও কুল পাচ্ছি না। এটাও লেখকের সিগনেচার টোন। তার সাথে আমাদের ব্যক্তিগত জীবনের পরিচিত কিছু ঘটনা আর বহুল ব্যবহৃত শব্দ তো আছেই!

এক নিশ্বাসে যখন বইটা শেষ করলাম, ততক্ষণে দিনের আলো ফুটেছে। ডিউটি আওয়ার শেষ। সকাল পৌনে সাতটায় ভয়ঙ্কর শীতল বাতাস, কানের পর্দায় যেন ধারালো বরফ কটনবাডের মতো খোঁচা দিচ্ছে বারবার। পান্থপথের একটা টং দোকানে অতিরিক্ত চিনি মেশানো কফির (অন্যান্য দিন যেটাকে ঘোড়ার পেশাব মনে হয়) কাপে চুমুক দিয়ে মনে হলো নেকটার অফ হ্যাভেন। মোট কথা, কফি আর সিগারেট হাতে যেই সকালটা শুরু হলো, তা অন্য সব দিনের চেয়ে আলাদা। ইলেকট্রিক তারের ওপর বসে পাখি ডাকছে, রাস্তায় মানুষের তেমন আনাগোনা নেই। ঠাণ্ডা বাতাসে দূর থেকে ধূপকাঠির মিষ্টি গন্ধ ভেসে আসছে। ছাপড়া হোটেলের মাখানো ময়দা আর টাটকা ভাজার রুটির ঘ্রাণ মিশে গেছে সেই গন্ধের সাথে। গলির মুখে দু-একটা রিকশার ঘণ্টির টুং-টুং আওয়াজের এই সৌন্দর্য আগে টের পাইনি কেন?

অনেকদিন পর ঠিকঠাক মতো আকাশ দেখলাম। সূর্যের আলো চোখে লেগে ভ্রু কুঁচকাতে হলো না। মনে হলো, যে লাইনটা দিয়ে এই লেখা শুরু করেছি, তা মোটেও ঠিক নয়।

"Such a perfect morning
And it's mine!"

Profile Image for সালমান হক.
Author 67 books2,000 followers
February 15, 2021
দারুণ লাগলো। লেখক সাহেবের সাথে একবার বগুড়া ট্রিপ দেয়ার সুযোগ হয়েছিল, তখন থেকেই জানতাম তিনি খুব ভালো গল্পবলিয়ে৷ লেখাতেও তার প্রমাণ সর্বত্র। আফসোস, তিনি আমারে এখন আর সহ্য করতে পারেন না, নাইলে আরো গল্প শোনা যাইতো। :p

মূল রেটিং ৪.৫। আমার সাথে তার গ্যাঞ্জামের কারণে .৫ কেটে দিলাম।
Profile Image for Shadin Pranto.
1,487 reviews568 followers
December 15, 2021
লেখক ও বইয়ের নাময়ের অভিনবত্বে মুগ্ধ হয়ে বইখানা কিনি। একদম ভালো লাগেনি। রীতিমতো বিরক্তিকর কাহিনি। লেখার মাঝে দার্শনিক কথাবার্তা গুঁজে দেওয়ার পাশাপাশি ভাঁড়ামো করার চেষ্টা আরও অস্বস্তিকর।

এরপর নয়া কুতুবদের বই আরও সাবধানে খরিদ করব। নতুবা ট্যাঁকের পয়সা আবারও জলে যাবে।
Profile Image for Dystopian.
451 reviews245 followers
July 25, 2024
লেখকের এই প্রথম কোনো বই পড়া হলো। লেখনী আর প্লট যথেষ্ট ভালো হলেও এক্সিকিউশন ছিল তাড়াহুড়ো করে আর খুবই নড়বড়ে।
Profile Image for Ishraque Aornob.
Author 29 books407 followers
May 15, 2021
গল্প বলার স্টাইল দারুণ। উপভোগ করেছি হিউমার, হিস্ট্রিক্যাল, মিথলজিক্যাল ব্যাপারগুলো। তবে কাহিনী ও এন্ডিং আরেকটু ভালো হতে পারত।
Profile Image for Samsudduha Rifath.
433 reviews23 followers
May 29, 2023
এই প্রথম আমার কোনো সিরিজ বইয়ের সিক্যুয়েল প্রথমটা থেকে বেশি ভালো লেগেছে। দুইটা বইই একদম ইউনিক প্লট। দারুণ ভাবে এগিয়েছে বইটা। সাথে টুইস্টও ছিলো ভরপুর। শেষের দিকে একটা ক্লিপহ্যাঙার রেখে দিয়েছেন লেখক যেটা পরবর্তী বইয়ে জানতে পারব। সেটাই আমাকে একটু হতাশ করেছে। আগের বইয়ে পুরো সমাপ্তি টানার পরও এই চরিত্র ফিরিয়ে আনাকে মনে হয়েছে টেনে লম্বা করা।
Profile Image for তানভীর রুমি.
119 reviews62 followers
March 24, 2021
এই বইটা আমার কাছে একটা উদাহরণ হিসেবে থাকবে যে স্টোরিটেলিং কতোটা গুরুত্বপূর্ণ। রাত ৩টা থেকে একটানে ৫টায় শেষ হয়েছে, কোনো প্রকার বিরতি ছাড়া।

সবচেয়ে ভালো লেগেছে এক, স্টোরিটেলিং, দুই, বর্তমান সময়ের পরিচিত লেখকদের চরিত্র হিসেবে আনা আর তিন উইয়ার্ড প্লট।

কিন্তু ক্লাইম্যাক্সটা কেন যেন ক্লিশে লেগেছে কিছুটা, আরও ভালো আশা করেছিলাম।

সব দিক বিবেচনায়, এই বছর পড়া সেরা বইদের একটা হিসেবে থাকবে। রেকমেন্ডেড।
Profile Image for জাহিদ হোসেন.
Author 20 books479 followers
April 11, 2021
জিহাদীর লেখায় এক ধরণের অনায��াস সাবলীলতা আছে যা অর্জন করতে আমার মত নশ্বর লেখকদের কয়েক যুগ লেগে যাবে। সবার লেখা পড়ে আরাম পাওয়া যায় না। কিন্তু আমার মনে হয় জিহাদী যদি বাংলা ব্যাকরণের মত রসকষহীন বিষয় নিয়েও লেখে তাও যথেষ্ট উপভোগ্য হবে। পড়তে একটুও বিরক্ত লাগবে না।

তবে এই কাহিনী আরো ব্যাপ্তি ডিজার্ভ করে। আরো কিছুটা কাঠখড় পোড়ানোর পর সমাপ্তিতে পৌছালে আমার মনে হয় যুতসই হতো।
Profile Image for Aishu Rehman.
1,122 reviews1,106 followers
December 18, 2021
বিরক্তিকর রে ভাই। চরম বিরক্তিকর।
উল্লেখ্য : প্রথম বইটা কিন্তু ভালো ছিল, উপভোগও করেছি।
Profile Image for তান জীম.
Author 4 books285 followers
February 26, 2021
ভালোই। ভালোর সাথে একটা ই-প্রত্যয় যোগ করার কারণ 'মাঝরাতে একটা গল্প শুনিয়েছিলেন' এর মতো এটার শেষটাও তাড়াহুড়ো করে হয়ে গেছে৷ মানে সব একদম গুছিয়ে টুছিয়ে এনে ক্ল্যাইম্যাক্স দেবার সময় দুম করে দেয়া হয়ে গেছে। এবং আগের মতো এখানেও মনে হয়েছে বইটা আরো ব্যাপ্তি ডিজার্ভ করে। আর কিছু জায়গার মোটিভ আমার কাছে কনভিন্সিং মনে হয়নি, মনে হচ্ছিলো লেখক মেলাতে পারছেন না। তবে একটা জিনিস স্বীকার করতেই হয়, সেটা হলো লেখকের স্টোরীটেলিং। মূলত স্টোরীটেলিং সুপার স্ট্রং হবার কারণেই ৪ স্টার। স্টোরীটেলিং এ আগের বইতে খানিকটা জড়তা থাকলেও এটাতে তিনি চমৎকারভাবে সেটা কাটিয়ে উঠেছেন। এই বইতে তার গল্প বলার ভঙ্গিটা আরো পরিণত মনে হয়েছে। সার্কাস্টিক কথা বার্তা গুলো পরিমাণমত ছিলো যে কারণে ভাঁড়ামি মনে হয়নি। তবে বই পড়তে গিয়ে আমার মনে হলো, সার্কাজমের ব্যাপারটাতে তিনি হুমায়ূন আহমেদ দ্বারা প্রভাবিত৷ এটাকে আমি নেগেটিভ ভাবে নিচ্ছি না, জাস্ট ম্যাটার অব ফ্যাক্ট হিসেবে বললাম আর কি। সব মিলিয়ে বইটা বেশ ভালো, অ্যাট লিস্ট পড়তে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হবেন না কেউ প্লাস কেউ যদি রিডার্স ব্লকে থাকে আমার ধারণা এই বইটা খুব সহজেই ব্লক কাটাতে সাহায্য করবে।
Profile Image for পটের দুধের কমরেড.
212 reviews25 followers
December 19, 2021
প্রথম বইয়ের তুলনায় এইটার অবস্থা হতাশাজনক বলতে হয়৷ প্লট নিয়ে কমপ্লেইন নেই — মোটামুটি ছিল। কিন্তু বেশ ভালো একটা বিল্ড-আপের পর নড়বড়ে ক্লাইমেক্স এসে ধপাস করে আছড়ে পড়লাম। লেখকের আগে দুইটা বইয়েও সেইম এক্সপেরিয়েন্স৷ যথেষ্ট দুর্বল ক্লাইমেক্স৷ কেবল এবং কেবলমাত্র স্বাদুলেখনীর বদৌলতে তরতরিয়ে এক বসায় খতম দেওয়া যায়৷
Profile Image for Salman Sakib Jishan.
275 reviews159 followers
February 21, 2021
এই মাত্র পড়ে শেষ করা বইটা!
সন্ধ্যার পর নতুন বইগুলো নাড়িয়ে চাড়িয়ে দেখবার সময় এই সুন্দর বইটা উলটে পালটে দেখছিলাম। দেখতে দেখতে হঠাৎ পড়া শুরু এবং শেষ!!
সুন্দরের কথা দিয়ে যেহেতু শুরু করলাম, একটু বলি...
বইটা খুবই সুন্দর আসলে। ছোট বই, সুন্দর একটা প্রচ্ছদ, সুন্দর প্রডাকশন, পৃষ্ঠা আর বড় বড় ফন্টে (!) ঝকঝকে লেখা!
দেখেই ভালোলাগে।

তো, বইটা কেমন লাগলো? আমি এই লেখকের আগের বইটা নিয়েও এরকম গরম গরম বুলেট রিভিউ/পাঠপ্রতিক্রিয়া দিয়েছিলাম। কাহিনী সত্যি বলতে অতটা জমাট না, তবে গল্প বলাটায় নসিব পঞ্চম জিহাদী সাহেব আসলেই পটু! বেশ হিউমার, আর আলাপে আলাপে ইন্টারেস্টিং ভাবে উনি গল্প ফাঁদেন, যে কারণে পড়তে বেশ ভালো লাগে। পাঠক আটকে রাখার মন্ত্র উনি জানেন।
কাহিনীর কথা এড়িয়ে গেলাম বলে কাহিনী যে খারাপ সেটা না। এটুক একটা বইয়ে এরচেয়ে বড় কাহিনী এক্সপেক্ট করার কথাও না। তবে মূল হিসেবে শুধু কাহিনী আলাদা করলে সেটা চমকপ্রদ হলেও খুব আকর্ষণীয় না আর কি।
তবে পড়বেন, গল্প বলা ভালো লাগবে আশা করি। গল্পের ধরণের জন্যই ভালো লাগার কথা বইটা।

পাঠপ্রতিক্রিয়াটি শেষ হলো।
ধন্যবাদ।
Profile Image for Nazrul Islam.
Author 8 books228 followers
July 14, 2022
লেখকের লেখনী এবং গল্প বলার ধরণ দুর্দান্ত। কিন্তু আমার মনে হয় লেখক চরম অলস। জোর করে কেউ লিখিয়ে নেয় । নাইলে যে কাহিনী এবং সেটআপ উনি তৈরি করেন সেগুলো অনায়াসেই অনেকদূর নিয়ে যাওয়া সম্ভব। কিন্তু বইগুলো শুরু না করতেই শেষ।
এই বইটার ক্ষেত্রেও একই কথা খাটে। শুরু না করতেই শেষ। বইটার আরও ব্যাপ্তি হতে পারতো।
এছাড়া অল্প পরিসরে দারুণ জমিয়ে গল্প লিখেছেন।
Profile Image for Rohun.
120 reviews58 followers
September 26, 2021
ওভার অল- এভারেজ হয়ে গেসে। স্টোরিটেলিং- অসাধারণ,প্লট অসাধারণ,ইউনিক। বিল্ডাপ এবং কাহিনীর এগিয়ে যাওয়া মারাত্মক। চরম সাসপেন্সে আগায় যাইতেসে। প্রচন্ড সাসপেন্স নিয়ে এগিয়ে গুছিয়ে এনে, শেষে ক্লাইম্যাক্স এ এসে আস্তে ধীরে ব্যাপ্তি নিয়ে শেষ না হয়ে দুম করে শেষ হয়ে গেসে। তাড়াহুরা মনে হলো।
Profile Image for NaYeeM.
229 reviews65 followers
February 19, 2022
প্রথম দিকে হরর কোনো গল্প মনে হলেও এটি আসলে একটা থ্রিলার গল্প। আর এতে উঠে এসেছে অনেক মিথ এবং অনেক ইতিহাস

গল্পটা বেশ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যেতে থাকে।
অনেকরকম জটিলতা আসতে থাকে গল্পের মধ্যে।
কিন্তু একদম দায়সারাভাবে যেন গল্পটা শেষ করা হলো!
মানে ভাবটা এমন যে "শেষ করতে হচ্ছে বলেই শেষ করে দিলাম"
যেভাবে গল্পটা এগিয়ে যাচ্ছিলো, তাতে কিন্তু আরো পরিপাটি, সুন্দর একটা ending আশা করেছিলাম.....
তবে লেখকের লেখার স্টাইল ভাল লেগেছে
Profile Image for Musharrat Zahin.
422 reviews506 followers
March 3, 2025
সার-সংক্ষেপ:

আগের বইয়ের ২য় পার্ট এইটা। যদিও আমি আগে এইটাই পড়ে ফেলি ;-; তবে কাহিনী বুঝতে কোনো ঝামেলা হয় নাই।
বেসিক্যালি ফ্ল্যাপের লেখা মিলিয়ে-ঝিলিয়ে যদি বলি, নষ্ট হয়ে যাওয়া পানির লাইন মেরামত করতে গিয়ে একদিন রকিব উদ্দিন ম্যানহোলের ভেতরে নামতে বাধ্য হলেন। ঢাকার ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ পথে তিনি একটা অদ্ভুত জিনিস আবিষ্কার করলেন সেদিন। উত্তেজিত হয়ে তার সুপারভাইজারকে বিষয়টা জানানো মাত্র তাকে বলা হলো, মুখ বন্ধ রাখো!

ফারাবি একজন ফিল্মমেকার৷ তো এক অ্যাওয়ার্ডে সাবমিট করার জন্য নতুন একটা ফিল্ম বানাচ্ছে সে। সিনেমার প্রপস হিসাবে তার দরকার একটা পুরনো লাল টেলিফোন, ওইযে ডায়াল ছিল যেসব ফোনে, সেরকম।
এরকম একটা টেলিফোন আছে তার বান্ধবী/প্রাক্তন প্রেমিকা নব-র বাসায়। তাই সে বন্ধুদের নিয়ে চলে যায় নবদের বাড়িতে তার বাবার পুরনো টেলিফোন সংগ্রহের জন্য। নবদের বাড়ির কেয়ারটেকার মজনু ভাইয়ের কাছ থেকে ফারাবি ফোনটি নিয়ে আসে। এখান থেকেই মূল ঘটনার সূত্রপাত।

সে দেখে রাত দুইটার পর ওই টেলিফোন থেকে অদ্ভুত সব আওয়াজ বের হয়। ফোন ধরলে দেখা যায় ওপাশ থেকে কে জানি ফিসফিস করে কিছু বলার চেষ্টা করছে। আ�� এই আওয়াজটা খুবই দূর থেকে আসছে। এই রহস্য সমাধানে বের হয়ে নিখোঁজ হয়ে যায় ফারাবি।
ফারাবিকে খুঁজতে খুঁজতে তার বন্ধুরা খোঁজ পায় সামিরার, যার সাথে ফারাবিকে দেখা গিয়েছিল। সেখান থেকে তারা একটা চিরকুট উদ্ধার করে, যেখানে লেখা – ফুল লাগলে চেয়ে নিবেন (বেলা দুই ঘটিকা হইতে)

তবে কি ফারাবির অন্তর্ধানের ঘটনাটি কোনোভাবে ইমতিয়াজ সালেহীনের ঘটনাটির সাথে সম্পর্কিত?
এ ব্যাপারে তারা দ্বারস্থ হয় মনসুর ভাইয়ের। তারা কি পারবে সবাই মিলে এই রহস্যের কিনারা করতে?
ঢাকার তেজগাঁও থেকে যে ঘটনার শুরু, একসময় তা গিয়ে ঠেকলো ফরাশগঞ্জ রোডের নর্থব্রুক হল, প্রাচীণ এক ভাষা, তিওয়ানাকু সভ্যতা এবং লিনেন বুক অব জাগরেব-এ।

🌱 পাঠ-প্রতিক্রিয়া:

আবারও দারুণ একটা বই। আগের বই পড়ারই অনুভূতি৷ তবে এটা একটু কম ভালো লেগেছে ক্লাইম্যাক্সের কারণে। ক্লাইম্যাক্সটা খুবই গড়পড়তা টাইপের৷ মানে মাথা ঘুরানোর মত দেওয়ার চেষ্টা করেও মাথা নড়াতে পারেনি। এখানে প্যারালালি একসাথে কয়েকটা কাহিনী দেখানো হয়েছে। কিন্তু পড়ার সময় গুবলেট পাকাবেন না। কারণ লেখকের লেখার ধরন।

নসিব ভাইয়ের গল্প লেখার ধরনের প্রশংসা করতে আপনি বাধ্য। বইটা শুরু করার পর শেষ না করা পর্যন্ত ঘুমাতে পারছিলাম না। দেড় ঘন্টারও কম সময়ে বইটা শেষ করেছি, কারণ প্লটটা খুবই ইন্টারেস্টিং ছিল। সুখপাঠ্যই বটে। তবে বইয়ের শেষটা ওপেন এন্ডিং মনে হয়েছে। হয়তো ৩য় কোনো পর্বে বাকি রহস্যের সমাধান হবে?
Profile Image for Saiqat .
60 reviews1 follower
September 9, 2021
লেখার ভঙ্গি রীতিমতো মুগ্ধকর আর হিউরমার জবরদস্ত!

ইতিহাস -মিথ- ক্রাইমের এক দারুন মিশেল বই!
Profile Image for Ismat Sumaiya.
29 reviews32 followers
October 17, 2021
রেটিং: ৪.৬★/৫★
.
আমার অবস্থাটা বুঝেন দেখি! এই বছরটাতেই কি ভালো ভালো বইয়ের হদিস মিলছে! ঘাড়ে পরীক্ষা জেঁকে বসেছে এই এখনই ঘাড় মটকাবে বলে।আর এদিকে আমি এমন সব বই পড়া থেকে নিজেকে বঞ্চিত করতে পারছি না। এমন এক জাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছি! কি আর বলি।
.
বইটির নাম এবং কভার আমাকে এতই বেশি মুগ্ধ করেছে যে ধুম করে একদিন অর্ডার করে বসলাম।তারপর নেট-এ ঘাটাঘাটি করেই জানতে পারলাম এটি লেখকের 'মাঝরাতে একটি গল্প শুনিয়েছিলেন ' এর দ্বিতীয় পর্ব। কিন্তু বইটি পড়ার লোভ যখন তুঙ্গে তখন প্রথম পর্বের জন্য আর ওয়েট করতে পারলাম না। পরীক্ষা ঘাড়েই নিয়ে পড়তে শুরু করলাম 'ফুল লাগলে চেয়ে নিবেন '।
.
বইয়ের কথায় আসি।গল্পটি শুরু একটি লাল টেলিফোন সেট এর খোঁজ থেকে যে টেলিফোন থেকে বেলা দুই ঘটিকার পর থেকে উদ্ভট সব আওয়াজ বের হতো।এবং যেই এ সেট ব্যবহার করে সেই তার ডান হাত কেটে ফেলতে চায়। এর থেকে কাহিনির ডালপালা গজাতে শুরু করে। লেখকের প্লট মারাত্মক লেগেছে। রংগরংগ ভাষা,তিওয়ানাকু সভ্যতা, নর্থব্রুক হল, দ্য সার্পেন্ট, দ্য অর্গানাইজেশন, আন্ডারগ্রাউন্ড রহস্য কিছুই বাদ যাই নি এই বই থেকে।টান টান উত্তেজনায় শেষ করেছি এমন ইনফরমেটিভ থ্রিলার। লেখকের স্টোরি টেলিং মারাত্নক লেগেছে।আমিও ঘুরে এলাম এমন সব গা শিউরে দেওয়া অভিযান থেকে।

এক অজানার মধ্যে নিজেকে আবিষ্কার করলাম।কতকিছুই না আমাদের অজান্তেই রয়ে গেছে! কত ইতিহাস, কত তথ্য এখনও আমাদের অগোচরেই রয়ে গেলো।
.
সব ভালোর মধ্যে কিছু তো খারাপ থাকেই! লেখক প্রথম থেকেই মনোযোগ ধরে রাখলেও শেষে এসে ফিনিশিংটা খুব দ্রুতই করে গেছে।মনে হচ্ছিলো বইটি শেষ করে দেওয়াই লেখক সাহেবের প্রথম ও প্রধান কাজ।ফলে একটা রহস্য আমার কাছে ধোঁয়াশা হয়ে আছে। ইমতিয়াজ সালেহীনের শেষ পরিনতি কী হলো?
তাহলে উনি কি ঐ মেডিসিনটি নিয়ে তার ডেথ হরমোন নিঃসরণ বন্ধ করে দিয়ে এখন আন্ডারগ্রাউন্ড-এ আছেন? হতে পারে!
Profile Image for Taznina Zaman.
251 reviews63 followers
March 17, 2021
নসিব পঞ্চম জিহাদীর লেখার স্টাইল আমার ভালো লাগে। কারন তার গল্প বলার ভঙ্গিটা চমৎকার, কাহিনীও মেদহীন। সে কারনেই প্রথম দুইটা বই পড়ার পর এই বইটাও পড়তে দেরি করিনি। ভ্যানতাড়া অনেক হলো, এবার মূল প্রসঙ্গে যাই।

কোনখান থেকে শুরু করবো? লাল টেলিফোন থেকে শুরু করি। এক ছিল এক লাল টেলিফোন। খুবই প্রাচীন আমলের ডায়ালওয়ালা সেই লাল টেলিফোনে আপনি যদি রাত দুইটার পরে রিসিভার তোলেন, তাহলেই শোনা যাবে কারো গলার ফিসফিস শব্দ। এমনকি আপনার মনের যাবতীয় চিন্তাভাবনাগুলোও সেই কন্ঠস্বরটা বলে দিতে পারবে!!! এবং সবচেয়ে আজব ব্যাপার হলো এই টেলিফোন ইউজ করার কয়েকদিন পরেই আপনার ডান হাত কেটে ফেলতে ইচ্ছা করবে! ঠিক যেভাবে জয়িতা কেটে ফেলেছিলো নিজের হাত কিংবা একই ঘটনা ঘটিয়েছিল লেখকের সাবেক প্রেমিকা নব।

লেখকের পাগলা কিসিমের বন্ধু ফারাবী পড়েছে এই টেলিফোনের পাল্লায় এবং রাতারাতি উধাও হয়ে গেছে সে। ফারাবী অন্তর্ধানের রহস্য খুঁজতে গিয়ে সেই প্রাচীন টেলিফোনের ইতিহাস ঠেকলো প্রাচীন রংরং ভাষায়, যে ভাষা একইসাথে শুভ এবং অশুভ। এমনকি প্রাচীন কাব্য গিলগামেশ পর্যন্ত চলে আসলো টানতে টানতে! রূদ্ধশ্বাস এই থ্রিলারের শেষ তাহলে কোথায়?

মাঝরাতে একটি গল্প শুনিয়েছিলেন বইয়ের সিক্যুয়েল হিসেবে বইটাকে দারুন বলাই যায়। কারন এত অল্প কথায় এত ঘটনাবহুল থ্রিলার লেখা খুব সহজসাধ্য ব্যাপার না। পরিসমাপ্তিটা একটা তাড়াহুড়ো হলেও ওভারঅল বইটা ভালো লেগেছে। তৃতীয় খন্ডের অপেক্ষায় রইলাম।
Profile Image for Zahidul.
450 reviews96 followers
March 7, 2021
“Word spread because word will spread. Stories and secrets fight, stories win, shed new secrets, which new stories fight, and on.” ― China Miéville, Embassytown
-
ফুল লাগলে চেয়ে নিবেন
-
রাকিব উদ্দিন, ঢাকা ওয়াসার অ্যাসিস্টেন্ট ইঞ্জিনিয়ার। রেকি করার কাজে তার একদিন ম্যানহোলে ঢোকার দরকার পরে। কিন্তু ম্যানহোলে ঢুকে কাজ করার সময় বড়সড় একটি ঘর দেখতে পায় সে। এ ব্যাপারে তার সুপারভাইজারকে জানালে সে ব্যাপারটা চেপে যেতে বলে।

"ফুল লাগলে চেয়ে নিবেন" গল্পের মূল কথকের বন্ধু ফারাবীর হঠাৎ দরকার পড়ে এক লাল টেলিফোনের। সেই ফোনের খোঁজেই তারা ছুটে চলে তাদের চেনা পরিচিত এক বাড়িতে। সেই লাল টেলিফোনটি খুঁজে পাওয়ার পরেই শুরু হয় নানা ধরণের বিপত্তি। এক বিশেষ সময় থেকে সেই লাল টেলিফোন থেকে শোনা যায় নানা ধরণের অদ্ভুত শব্দ। এক পর্যায়ে ফারাবীও নিখোঁজ হয়ে যায়।

এখন ঢাকা শহরের ভিতরে ভূগর্ভস্থ ঘরের মানে কি? সেই লাল টেলিফোনে কেন অদ্ভুত ধরণের শব্দ শোনা যায়? এ সব কিছুর সাথে ফারাবীর অন্তর্ধানের আর "ফুল লাগলে চেয়ে নিবেন" লেখা চিরকুটের কি সম্পর্ক? তা জানতে হলে পড়তে হবে লেখক নসিব পঞ্চম জিহাদী এর গল্প "ফুল লাগলে চেয়ে নিবেন"।
-
"ফুল লাগলে চেয়ে নিবেন" লেখক নসিব পঞ্চম জিহাদী এর গল্প "মাঝরাতে একটা গল্প শুনিয়েছিলেন" এর পরের পর্ব। যদিও একে আগের গল্পের ঠিক ডিরেক্ট কন্টিনিউয়েশন বলা যায় না, অনেক পরে এসে এর আগের পর্বের সাথে এই গল্পের সংযোগ পাওয়া যায়। এই গল্পের কথক আর পটভূমিও আগের গল্পের চেয়ে বেশ ভিন্ন। "ফুল লাগলে চেয়ে নিবেন" বইতে যে ধরণের হরর এলিমেন্ট আর সাসপেন্স এক্সপেক্টেশন ছিল সে ধরণের এলিমেন্ট আর সাসপেন্স ঠিক পাইনি এটাতে। বইট���তে যে ধরণের গল্প চেয়েছিলাম সেটা একবারে শেষে ২০-৩০ পেইজে পেয়েছি, বাকি পুরো সময় গল্প শুধুই বিল্ডআপ হয়েছে। তবে লেখকের প্রথম লেখা গল্পের মতো এ বইতেও গল্প বলার ধরণ এবং বর্ণনাভঙ্গি বেশ ভালোই বলাই যায়, বইয়ের মাঝে কিছু হিস্টোরিক্যাল রেফারেন্সের প্রয়োগও দারুন ছিল।

"ফুল লাগলে চেয়ে নিবেন" বইয়ের চরিত্রগুলো খুব একটা মনে ধরলো না। বইতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন লেখক চরিত্র হিসেবে এসেছেন যে ব্যাপারটাকে কোন কোন জায়গায় অপ্রয়োজনীয় মনে হয়েছে। মাঝে গল্পের কাহিনির কন্টিনিউয়েশন এও সমস্যা আছে মনে হলো। বইতে দেয়া কোন কোন এস্টার এগ আর হিউমারকে ভালো লেগেছে আবার কোন জায়গায় মনে হয়েছে এগুলো এড়ানো গেলেও পারতো। "ফুল লাগলে চেয়ে নিবেন" বইতে গল্পের সাইজ এর পর্বের মতোই, যার সেরা দিক হচ্ছে এর শেষ ভাগ। যদিও শেষ দিকের ঘটনাগুলো আরো ধীরেসুস্থে শেষ করলে আরো ভালো লাগতো।

"ফুল লাগলে চেয়ে নিবেন" বইয়ের দাম অনুসারে প্রোডাকশন আহামরি মনে হলো না। বইয়ের প্রতি পৃষ্ঠা আরেক পৃষ্ঠার সাথে আঠার মতো লেগে ছিল, যা প্রতি পৃষ্ঠায় খুলতে গিয়ে সমস্যা হচ্ছিলো।বইতে কিছু বানান ভুল আর টাইপোও দেখলাম, বইয়ের ফন্ট সাইজ প্রকাশনীটির "মাঝরাতে একটা গল্প শুনিয়েছিলেন" কিংবা "শব্দযাত্রা লেখক সংঘ" বইয়ের মতো রাখতে পারতো। "ফুল লাগলে চেয়ে নিবেন" বইয়ের প্রচ্ছদ অবশ্য গল্পের সাথে ভালোই মানানসই। সবমিলিয়ে বইয়ের পৃষ্ঠা আর দামের হিসেবে আরো বেটার প্রোডাকশন এক্সপেক্টেশন ছিল এই বইতে।

এক কথায়, সিঙ্গেল গল্প হিসেবে "ফুল লাগলে চেয়ে নিবেন" এর কাহিনী মোটামুটি ভালো হলেও এর আগের পর্বের সাথে তুলনা করলে এবারে গল্পটা কিছুটা লেট ডাউন করেছে। যাদের "মাঝরাতে একটা গল্প শুনিয়েছিলেন" বইটি ভালো লেগেছে এবং লেখকের গল্পের বর্ণনাভঙ্গি পড়তে ভালো লাগে তারা বইটি পড়ে দেখতে পারেন।
Profile Image for Shuvo.
84 reviews3 followers
October 25, 2023
'এক চাপ কা' পড়ার পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে বইটি পড়া হলো ।

প্রথম বই 'মাঝরাতে একটি গল্প শুনিয়েছিলেন' ভালো লেগেছিল, এর সিক্যুয়েল 'ফুল লাগলে চেয়ে নিবেন' আরো বেশি ভালো লাগলো।

পরবর্তী বইয়ের অপেক্ষায় 🙌
Profile Image for Aatrolita George.
49 reviews14 followers
September 27, 2024
৩ বছর পর পড়লাম সিকুয়েল বই। সত্যি বলতে প্রথমটার চেয়ে এই বইটার প্লট ভালো কিন্তু কেনো যেনো সব মিলিয়ে প্রথমটাই ভালো লেগেছিল বেশি। লেখা সাজিয়ে না লিখতে পারা একটা কারণ হতে পারে আরেকটা কারণ লেখার প্রকৃতি আগের চেয়ে আরো খারাপ হয়েছে, আর লেখায় হুমায়ুন এর লেখার ধরণ একদম সুস্পস্ট। তবুও রিডার্স ব্লক কাটাতে একটু আধটু সাহায্য করলো এই ব্যপারটা মন্দ হয়নি। এন্ডিং টাও খুব যুতসই লাগেনি, খুব বেশি প্লটটুইস্ট দিতে গিয়ে জগাখিচুড়ি হয়ে গেছে -,-
Profile Image for Saima  Taher  Shovon.
529 reviews199 followers
April 22, 2024
মনে করেছিলাম আমার স্লাম্প চলছে। এটা ২.৩০ ঘন্টায় শেষ করার পর বুঝলাম,না!ঠিকই আছে। স্লাম্প না,বড় বইয়ে অরুচি হচ্ছে।
Profile Image for Ratul Ahmed.
43 reviews1 follower
April 28, 2021
ভালো লাগলো প্রথম বইটার মতই। বইয়ের যে জিনিসটা সবচেয়ে ভালো লেগেছে সেটা হলো দারুণ হিউমারের ব্যবহার। ডার্ক কমেডি টাইপের ব্যাপার হয়েছে অনেকটা। এছাড়া হিস্টরিকাল থ্রিলার আমার বরাবরই প্রিয়। অনেকটা সেই স্বাদও ছিলো এই বইতে। তবে শেষটা আরও বিস্তারিত করলে ভালো হতো বলে মনে হয়েছে। অনেকটা হুট করেই শেষ হয়ে গেলো৷
Profile Image for Habiba♡.
352 reviews23 followers
August 29, 2021
যেটার বাহবা করতে হয় 'স্টোরিটেলিং'।
মাঝরাতে একটি গল্প শুনিয়েছিলেন বইটা আমার খুব পছন্দ হয়েছিল যে কারণে ওটা শেষ হতে না হতেই ফুল লাগলে চেয়ে নিবেন শুরু করে দিলাম।
তুলনা করতে গেলে এটা একটু ফিকে পড়ে যায় তবে নিজ নিজ জায়গায় দুটো বই ই অসাধারন গল্প বাতিয়েছে আমাদের।
প্লটগুলো তো ইউনিক ই পাশাপাশি ভাবছিলাম এত এত গূঢ় তথ্য মানুষ কেম্নে জানে। কোথায় কী ডানহাত কেটে ফেলার সিনড্রোম থেকে গোপন অর্গানাইজেশন।
সত্যিই পুরো গল্প জুড়ে মত্ত ছিলাম।
একটা ছোট্ট অভিযোগ শেষে পুরো কাহিনীর উপসংহারটা হড়বড়িয়ে শেষ করে দিল। এটা আরেকটু ফিনিশিং করে দিলে ভালো হতো।
আর দাবি একটাই এই সিরিজের আরও বই চাই!
Profile Image for মোহতাসিম সিফাত.
182 reviews31 followers
February 12, 2024
এককথায় বলতে গেলে, পরতে পরতে সাসপেন্স আর সাসপেন্স। আগেরটার মতো সমান নাটকীয়তা ধরে রাখছে, ফাঁকে ফাঁকে চমকপ্রদ ইনফর্মেশন, ইতিহাস আর গল্পের ঠাসবুনন। এটাও ভালো লাগবে।
কৌশিক মজুমদার এর ম্যাসন সিরিজের ফ্যান হয়ে থাকলে এই বই দুইটা আপনার।

শেষে ল্যাজ লাগানো, ভাবছি, আরো সিক্যুয়েল আসবে কি না।
Profile Image for Heisenberg.
156 reviews8 followers
February 23, 2021
কন্সপিরেসি থিয়োরী নিয়ে সবারই একটু দূর্বলতা আছে বলে আমার মনে হয়..এই বইটাও সেই কাতারে পড়বে কিনা জানি না তবে একটা ঘোরের মধ্যে ছিলাম বই পড়ার সময়ে...দারুন লাগছিলো...

একটা ব্যাপারে আমার খারাপ লাগছে তা হলো লেখক সাহেব হয়ত বেশি বড় বই লেখায় বিশ্বাস করেন না...যার ফলে পরীক্ষাতে লেখা আমাদের শেষ প্রশ্নের উত্তরের মতই বই ও শেষ করে দিলেন..আরও একটু ডিটেইলড দরকার ছিলো...

আশা করবো এটা এই সিরিজের ২য় বই..আর পরের বইয়ের পেজ কম করে ২০০ হবে..
Profile Image for শুভাগত দীপ.
285 reviews43 followers
July 17, 2021
|| রিভিউ ||

বইঃ ফুল লাগলে চেয়ে নিবেন (বেলা দুই ঘটিকা হইতে)
লেখকঃ নসিব পঞ্চম জিহাদী
প্রকাশকঃ বুক স্ট্রিট
প্রকাশকালঃ ফেব্রুয়ারি, ২০২১
ঘরানাঃ মিস্ট্রি থ্রিলার
প্রচ্ছদঃ আদনান আহমেদ রিজন ও নসিব পঞ্চম জিহাদী
পৃষ্ঠাঃ ১২৮
মুদ্রিত মূল্যঃ ২৮০ টাকা
ফরম্যাটঃ হার্ডকভার

কাহিনি সংক্ষেপঃ পুরান ঢাকার জনসন রোডে পানির লাইন মেরামতের কাজ চলছে। লাইনের সমস্যা চিহ্নিত করার জন্য ওয়াসা'র ইঞ্জিনিয়ার রকিব উদ্দিনকে নামতে হলো ম্যানহোলে। ভূগর্ভস্থ ঢাকার ভেতরে গিয়ে তিনি অদ্ভুত আর রহস্যময় একটা জিনিস খেয়াল করলেন। সেটা নিয়ে যখন তিনি তাঁর সুপারভাইজার ও কলিগদের সাথে আলোচনা করতে গেলেন, তাঁকে বলা হলো চুপ করে যেতে৷ কোন একটা অলিখিত নিয়মে এই ব্যাপারটা নিয়ে কখনোই কেউ কোন আলোচনা করে না। অগত্যা চুপ করে যেতে হলো রকিব উদ্দিনকে।

সিনেমা বানাচ্ছে তরুণ ফিল্মমেকার তাসমান ফারাবী। সিনেমার দৃশ্যের জন্য এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে সাথে নিয়ে সে যোগাড় করলো ডায়ালওয়ালা এক পুরোনো টেলিফোন সেট৷ লাল সেই টেলিফোন জন্ম দিলো আরেক রহস্যের। প্রতিরাতে ঠিক দুইটার সময় ফোনটা থেকে ভেসে আসে অপরিচিত ও ভৌতিক ফিসফাস শব্দ। মনে হয়, ফোনের অপরপার্শ্বে যে আছে সে মনের কথা বুঝতে পারে। অনুসন্ধিৎসু স্বভাবের ফারাবী লেগে পড়ে এই রহস্যের সমাধান করতে৷ আর এটা করতে গিয়েই রাতারাতি সে নিখোঁজ হয়ে যায়।

ফারাবী নিখোঁজ হওয়ার পর ওর বন্ধুদের হাতে এসে পড়ে দুটো সূত্র। এক, একটা অজানা ভাষায় লেখা কাগজ ও দুই, একটা চিরকুট যেটাতে টাইপরাইটারের পুরোনো বাংলা ফন্টে লেখা 'ফুল লাগলে চেয়ে নিবেন (বেলা দুই ঘটিকা হইতে)'। এই দুই সূত্র সম্বল করেই তারা অবসরপ্তাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক মনসুর সাহেবের শরণাপন্ন হয়। আর তিনি তাদেরকে সন্ধান দেন ভাষাবিদ ও আলোকচিত্রী লুৎফর রেহমানের। বেরিয়ে আসে প্রাচীন ভাষা রংগরংগ ও নিষ্ঠুর এক সিক্রেট সোসাইটি 'দ্য অর্গানাইজেশন'-এর নাম। প্রশ্ন ওঠে বহুদিন আগে নিজের ডান হাত নিজেই কেটে ফেলা কিছু মানুষের সাথে এসবের সম্পর্ক কি সেটা নিয়ে। ফারাবীর অন্তর্ধান রহস্য আরো ঘনীভূত হয়।

ঢাকার তেজগাঁও থেকে ঘটনা গিয়ে ঠেকলো ফরাশগঞ্জ রোডের নর্থব্রুক হলে গিয়ে। জে���খানায় মারা যাওয়া এক অপরাধীর নামও চলে এলো দৃশ্যপটে। সবকিছু দেখেশুনে সন্দেহ জাগলো, আমাদেরকে আসলে যা দেখানো হয় তা কতোটুকু সত্যি?

পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ নসিব পঞ্চম জিহাদী'র প্রথম বই 'মাঝরাতে একটা গল্প শুনিয়েছিলেন'-এর সিক্যুয়েল 'ফুল লাগলে চেয়ে নিবেন'। প্রথমটার সাথে কম্পেয়ার করতে চাই না আমি এটাকে। কারণ, দুটোর প্লট টোটালি ডিফারেন্ট। কম্পেয়ার করার মানসিকতা ছিলো না জন্যেই হয়তো সি��ুয়েলটা আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। আসলে এক বসায় পড়ে শেষ করে ফেলার মতো বই 'ফুল লাগলে চেয়ে নিবেন'। 'মাঝরাতে একটা গল্প শুনিয়েছিলেন'-এ যেমন লেখক একটা ভয়ের আবহ সৃষ্টি করেছিলেন তেমন এই বইটাতে তিনি সৃষ্টি করেছেন এক ধরণের রহস্যের আবহ। আর সৃষ্ট এই রহস্যের আবহটা মানিয়ে গেছে প্লটের সাথে।

নসিব পঞ্চম জিহাদী'র লেখায় হিউমারের কমতি কখনোই থাকে না। তাঁর পূর্ববর্তী দুটো বইয়ের মতো এটাও ছিলো হাস্যরসে পরিপূর্ণ। মাঝেমাঝেই হেসে উঠেছি। বিশেষ করে ওয়াসি ভাই চরিত্রটার সাথে কথোপকথনের জায়গাগুলো বেশ মজার ছিলো। রসকষহীন না হওয়ার কারণে 'ফুল লাগলে চেয়ে নিবেন' পড়তে গিয়ে কোন রকম ক্লান্তি অনুভব হয়নি। উপন্যাসের শেষটা মোটামুটি ভালো লাগলেও আরো কিছুটা ভেরিয়েশন আনা যেতো বলে মনে হয়েছে আমার কাছে। চিরকুটের ব্যাপারে একটা প্রশ্নের উত্তর পাইনি৷ সম্ভবত এই ব্যাপারটা নসিব পঞ্চম জিহাদী তাঁর এই সিরিজের পরবর্তী বইয়ে খোলাসা করবেন। আবারো যে একটা সিকুয়েল আসতে যাচ্ছে, তা মোটামুটি নিশ্চিত আমি। দেখা যাক।

এবার আসি ভুলভ্রান্তির ব্যাপারে। লেখকের গল্প বলার ধরণ যতোই ভালো হোক না কেন কিছু টাইপিং মিসটেক মাঝেমাঝেই বিরক্তির উদ্রেক করেছে বইটা পড়ার সময়। একটাতে তো বিরক্তি লেগেছে সবচেয়ে বেশি। ৩৩ পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে, 'একটা শব্দই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বারবার ভেসে আসছে যেন। শব্দটার বাংলা করলে দাঁড়ায় - ঞাঘ য়ামান!' এই 'ঞাঘ য়ামান'এর কি বুঝবো, বলুন? এটা সম্ভবত কনভার্শন প্রবলেম। এই ভুলগুলোর দিকে খেয়াল রাখা উচিৎ বই প্রকাশের আগে৷ যাই হোক, একটা সাইন্টিফিক ইনফো ভুল দেয়া হয়েছে 'ফুল লাগলে চেয়ে নিবেন'-এ। এখানে বলা হয়েছে একটা নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সিকে কনভার্ট করে ২০ হার্টযের নিচে নিয়ে এলে মানুষ শুনতে পাবে। আসলে, মানুষের শ্রবণসীমা ২০ হার্টয থেকে ২০,০০০ হার্টয। ২০ হার্টযের নিচের ও ২০,০০০ হার্টযের ওপরের ফ্রিকোয়েন্সির কোন শব্দ মানুষের কান শুনতে পারে না। বইটার পরবর্তী এডিশনে এই ভুলটাও শুধরে নেয়া হবে আশা করি।

আদনান আহমেদ রিজন ও নসিব পঞ্চম জিহাদী'র যৌথভাবে করা প্রচ্ছদটা অসাধারণ লেগেছে। আগ্রহী পাঠকরা চাইলে পড়ে ফেলতে পারেন 'ফুল লাগলে চেয়ে নিবেন'। তবে তার আগে নতুন পাঠকরা অবশ্যই 'মাঝরাতে একটা গল্প শুনিয়েছিলেন' পড়ে নেবেন।

ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৩.৭৫/৫
গুডরিডস রেটিংঃ ৩.৯২/৫

#Review_of_2021_29

#বই_নিয়ে_গল্প_হোক

~ শুভাগত দীপ ~

(১৭ জুলাই, ২০২১, বিকাল ৩ টা ১ মিনিট; নাটোর)
Profile Image for RHR.
35 reviews11 followers
November 1, 2021
বই পর্যালোচনা

বই: ফুল লাগলে চেয়ে নিবেন(বেলা দুই ঘটিকা হইতে)["মাঝরাতে একটা গল্প শুনিয়েছিলেন"র দ্বিতীয় পর্ব]
লেখক: নসিব পঞ্চম জিহাদী
প্রকাশনী: বুক স্ট্রিট
প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি, ২০২১
ধরন: সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার
মুদ্রিত মূল্য: ২৮০ টাকা
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৮

সারসংক্ষেপ:
পুরান ঢাকার জনসন রোডে নষ্ট হয়ে যাওয়া পানির পাইপ লাইন মেরামত করতে ম্যানহোলে নামলেন রকিব উদ্দিন। ঢাকার ভূগর্ভস্থ স্থানে অদ্ভুত একটি জিনিস দেখে রীতিমতো উত্তেজিত হয়ে উঠেন তিনি। এরকম একটি অদ্ভুত জিনিসের রহস্য কোনোভাবেই সমাধান করতে না পেরে নিজ চোখে দেখা সেই ঘটনার বর্ণনা করেন সুপারভাইজারকে। তিনি সঙ্গেই সঙ্গেই বললেন, "যা দেখেছো, ভুলে যাও"। একপ্রকার বাধ্য হয়ে ভুলে যেতে হলো রকিব উদ্দিনের দেখা বিস্ময়কর জিনিসটি।

অন্যদিকে, ফারাবি নামের এক বিজ্ঞাপন নির্মাতা অ্যাওয়ার্ড সাবমিটের জন্য ফিল্ম বানাচ্ছে। সেই ফিল্মের জন্যই তার প্রয়োজন ডায়ালঅলা এক টেলিফোন। ভাগ্যের জোরে জোগাড়ও হয়ে যায় কোনোভাবে। ফিল্মের কাজ করতে করতেই এক অজানা মায়া অনুভব করে ফারাবী সেই ডায়ালঅলা টেলিফোনের প্রতি। বাসায় ল্যান্ডলাইন আবার ফিরিয়ে এনে সেটটায় কানেকশন দিয়ে ফেলল। আর এরপরই ঘটল বিপত্তি।

রাত দুইটার পর রিসিভার কানে নিলে অদ্ভুত ও বিচিত্র সব আওয়াজ শোনা যায় সেখান থেকে। ফিসফাস করে বলে চলা সেসব শব্দের মর্মার্থ বের করাটাও হয়ে পড়ে কথা কষ্টসাধ্য। টেলিফোনের এই রহস্য উদ্ধারে একদিন লাপাত্তা হয়ে গেল ফারাবী।

নিখোঁজ ফারাবীকে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ল তার দুই বন্ধু। ঘটনাচক্রে, সেই দুই বন্ধু পেল একটি হলদে হয়ে আসা পুরোনো কাগজ। টাইপরাইটের পুরোনো হরফে লেখা,
"ফুল লাগলে চেয়ে নিবেন"
(বেলা দুই ঘটিকা হইতে)

রহস্য যেন দলা পাকতে শুরু করে। কিন্তু কোথায় আছে এর অবসান? আদৌ কি খুঁজে পাওয়া যাবে ফারাবীকে? নাকি রহস্যের বেড়াজালে বন্দির শিকার হবে? কি সেই অদ্ভুত জিনিস যেটা দেখেও না দেখার ভান করতে বাধ্য করা হলো রকিব উদ্দিনকে? সব প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে, "মাঝরাতে একটা গল্প শুনিয়েছিলেন"র দ্বিতীয় পর্ব ফুল লাগলে চেয়ে নিবেন(বেলা দুই ঘটিকা হইতে)।

পাঠ-প্রতিক্রিয়া:
যেমনটা আগেও বলেছি, লেখক তার বইয়ের প্রথমদিকটা একদম এলোমেলো রাখেন। পড়লে মনে হয় কিছুই বুঝতে পারছি না। অনেক কনফিউজড হয়ে পড়ি। কিন্তু এরপর মাঝামাঝিতে গেলেই আগ্রহ ঝেঁকে বসে। সাসপেন্স আর থ্রিলের স্বাদটাও হয় অন্যরকম। ছোট বই। একটানা পড়ে শেষ করে ফেলার মতো।

লেখকের লেখনশৈলী ও গল্প বলার ধরন বরাবরের মতোই অসাধারণ। এ নিয়ে নতুন কিছু করে উল্লেখ করার দরকার নেই। কেননা আমি তার লেখার ব্যাপারে আগেও মন্তব্য করেছি। ভবিষ্যতে উনার আরও লেখা পড়ার ইচ্ছে আছে আমার।

"মাঝরাতে একটা গল্প শুনিয়েছিলেন"র মতো এই বইতেও ঐতহাসিক বর্ণনা পেয়েছি কিছু। যেমনটা আগেও বলেছি, ইতিহাস নিয়ে আমার কিছুটা দূর্বলতা সবসময় কাজ করে যদিও আমি ইতিহাসের ছাত্র ছিলাম না।

বইটা একটা বিষয় নোটিস করেছি, যিনি কথক হিসেবে ছিলেন উপন্যাসের তার নামটাই কোথাও উল্লেখ পাইনি। এমনকি কোনো কথোপকথনেও তার নামটা আসেনি।

বইয়ের সমাপ্তিটা এক ইঙ্গিত দিয়ে গেছে যে, এর তৃতীয় পর্ব আসতে যাচ্ছে। তৃতীয় পর্বের অপেক্ষায় আছি। আশা করি, সেটাও সুপাঠ্যই হবে।

বইয়ের প্রডাকশন ভালোই। বইয়ের বাঁধাই এবং পৃষ্ঠার মান প্রশংসনীয়। তবে বইয়ের লেখার ফন্টটা অস্বস্তিকর ছিল। ওটা ভালো লাগেনি। এছাড়া বইয়ে চরিত্রের নাম এলোমেলো হয়ে যেতে দেখেছি। সেগুলো পরবর্তীতে সংশোধন করা হবে বলে আশাবাদী।

নসিব পঞ্চম জিহাদী এবং আদনান আহমেদ রিজনের যৌথ উদ্যোগে করা প্রচ্ছদটিও ভালো লেগেছে। খুব সাধারণ হলেও প্রিন্ট ভালো এসেছে প্রচ্ছদের।

বই পড়ুন এবং প্রিয়জনকে বই পড়তে উৎসাহিত করুন।

©Rezwanul Hasan Robiul
Profile Image for Nashita.
26 reviews
March 30, 2021
যে প্রধান আকর্ষণ অর্থাৎ টাইটেলের জন্য বই পড়া সেটাই পাইনি🙂💔তবে লেখার স্টাইল আর হিউমার সেন্স ভালো ছিল।
Displaying 1 - 30 of 84 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.