জাত–ধর্ম কি মানুষের উর্ধে্ব? মানুষের প্রয়োজনেই তৈরী হয়েছে এসব জাত-ধর্ম। জাত কিংবা ধর্মের প্রয়োজনে মানুষ সৃষ্টি হয়নি। মানুষের মূল্য কোথায় ? চরিত্রে, মনুষ্যত্বে, জ্ঞানে ও কর্মে । মানুষ তার বেঁচে থাকার তাগিদে কিংবা জন্মসূত্রে একটি উপাধী উপহার হিসেবে পেয়ে থাকে। আর আমরা তাদের বংশমর্যাদা, কিংবা অর্থ-বিত্ত দ্বারা মানুষের মধ্যে বিভাজন করে দিয়েছি। হিংসেটা শুরু হয়েছে ঠিক সেখান থেকেই। মানুষ গুলো তাদের মানবিকতা হারিয়ে ফেলছে অদৃশ্য এই দাম্ভিকতা থেকে। কিন্ত আমরা তো ছোটবেলা থেকেই চন্ডিদাসের সেই কালজয়ী বাণী পড়ে কিংবা শুনে বড় হয়েছি। “ সবার উপর মানুষ সত্য, তাহার উপর নাই ” তাহলে কতটুকো প্রয়োগ করতে পেরেছি আমাদের জীবনে? প্রশ্নটা আপনার বিবেকের সামনে বারবার বড় করে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিবে “ছদ্মবেশী গুণিজন” নামক এই বইটি। ঠিক কতটা সময়োপযোগী বইটি তা একজন পাঠক পড়া মাত্রই অনুধাবন করতে পারবেন। বইটি নিজে পড়ুন এবং দয়া করে আপনার পাশের মানুষটিকেও পড়তে দিন। সবাই মিলে চাইলে হয়তো এই সুন্দর পৃথিবী একদিন সত্যিই স্বর্গময় হয়ে উঠবে।
প্রকাশনী: গ্রন্থরাজ্য লেখক: জুনায়েদ কবির শিহাব। পৃষ্ঠা: ১২৮ রেটিং: ১০/১০ এমনিতে আমি প্রচুর বই পড়ি,সময়ে অসময়ে সব ধরণের বই আমার পড়া হয়ে থাকে। তবে খুব অল্প সংখ্যক বই আমার মনে দাগ কাটতে পেরেছে। তার মধ্যে ছদ্মবেশী গুণিজন বইটি সবার শীর্ষে।
বইটির বিশ্লেষণ : সত্যি বলতে এমন কতগুলো বিষয় নিয়ে বইটি লেখা হয়েছে যা আমি মনে করি সবারই পড়া উচিৎ। প্রতিটি গল্পই মনে হচ্ছিলো চোখের সামনে ঘটে চলেছে। এবং আমার সাথেই তো এগুলো ঘটছে। বইটি পড়ে আমার বিবেক বেশ কয়েক বার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। বারবার একটা অনুশোচনা কাজ করছিলো। ইসস কখনই তো এভাবে বিষয় গুলো ভেবে দেখি নি। আমার চোখ বেশ কয়েক বার অশ্রুসিক্ত হয়েছে। লেখকের প্রশংসা না করে উপায় নেই। প্রথমত উনার গল্প বলার কৌসল টা চমৎকার। মনে হয় যেন চোখের সামনেই সব ঘটে চলেছে। লেখক হিসেবে তিনি যে অনেক দূর এগিয়ে যাবেন তা নিঃসন্দেহে আন্তাজ করা যাচ্ছে। আমি উনার ফ্যান হয়ে গিয়েছি। এর আগে প্যারাডক্সিকাল পড়ে এতটা আবেগী হয়ে উঠেছিলাম। ছদ্মবেশী গুণিজন পড়ে আজ আবার এতটা আবেগ প্রবণ হলাম। শুভ কামনা থাকবে লেখকের প্রতি। পরিশেষে বইটির বাইন্ডিং থেকে শুরু করে পেইজ ,প্রচ্ছদ সব কিছুই অসাধারণ। নিঃসন্দেহে বলা যায় অসাধারণ কাজ করা হয়েছে বইটিতে। মানসম্পন্ন এবং রুচিশীল কাজ যা আমাদের মতো পাঠকের আনন্দ আরো বহু গুণ বাড়িয়ে দেয়। (অসাধারণ একটি বই)
#বুক_রিভিউ বই: ছদ্মবেশী গুণীজন লেখক: জুনায়েদ কবির শিহাব প্রকাশনী: গ্রন্থ রাজ্য রেটিং: ১০/১০
কিছু বই থাকে যেগুলোর আসলেই রিভিউ হয়না। ঠিক রিভিউ লিখছি না। আমি শুধু আমার অনুভূতি টুকই প্রকাশ করছি। বইটি পড়তে শুরু করেছিলাম ১১ দিন আগে। আজ শেষ করলাম। এমনিতে একটি বই পড়ে শেষ করতে খুব বড়জোর আমার তিন দিন লাগে। কিন্তু ১২৮ পৃষ্ঠার এই বইটি শেষ করতে আমার এতটা সময় লাগার কারণ বিবরণ করতে হলে বলতে হবে। সত্যিই আমার সাহস হয়নি দ্রুত বইটি পড়ে ফেলার।
প্রতিটি গল্পঃ পরছিলাম আর নিজের চোখ দিয়ে গড়গড়িয়ে পানি ঝরছিলো। এতটা আবেগী হয়ে যাবো একটি বই পড়ে তা আমি কল্পনাও করিনি।
বইটি নিয়ে অনেক গুলো রিভিউ পরেই বইটি কিনেছিলাম। কিন্তু এতটা পরিবর্তন আসবে নিজের ভেতর কল্পনাও করিনি।
আশীর্বাদ করা ছাড়া লেখকের প্রতি ঋণ হয়তো শোধ হবে না। এভাবেই লিখে যাওয়ার অনুরোধ রইলো।
পরিশেষে বইটির প্রচ্ছদ এবং বাইন্ডিং টাও অসাধারণ লেগেছে। ধন্যবাদ জানায় প্রকাশনীকে। এত সুন্দর একটি বই বের করার জন্য।
হুমায়ুন আহমেদ এর হিমু দিয়ে আমার বই পড়ার যাত্রা শুরু হয়। এক এক করে এই বছরেই ৪১ টি বই পড়ে শেষ করলাম। বই পড়াটা এখন আমার এক প্রকার নেশা হয়ে উঠেছে।
আমার জীবনে পড়া এত সব বইয়ের ভিড়ে আমি কিছু শিখেছি বা আমার পরিবর্তন হয়েছে এমন বই তালিকা করলে মাত্র দুটি বই এর জায়গা হবে। একটি আরিফ আজাদ এর প্যারাডএক্সিকাল সাজিদ আর পরে ছদ্মবেশী গুণিজন যে বইটি নিয়ে আজ লিখছি।
প্রথমে লেখকের প্রশংসা করতেই হয়। গল্প বলার ধরণ একেবারেই ভিন্ন লেগেছে। সেই সাথে প্রতিটি লাইনেই আবেগ নিয়ে ভীষণ রকমের শিহরণ জাগিয়েছে। আমার ক্ষমতা ছিলো না, না কেদে বইটি শেষ করার। আমার জীবনের সেরা বই এটিই। বইটি পড়ার পর নিজেকে অন্য রকম মানুষ মনে হচ্ছে। আমার এতটা পরিবর্তন এর পেছনে এই বইটি আমাকে সাহায্য করেছে। প্রতিটি মানুষের উচিৎ জীবনে একবার হলেও বইটি পড়া।
বইয়ের বাইন্ডিং, এবং প্রচ্ছদ টাও মন কেড়ে নিয়েছে। লেখকের জন্য শুভকামনা।
" একটা দায়বদ্ধতা থেকে লিখতে বসেছি। জানিনা কতোটুকু পারব, তবে আমার চেষ্টার কোনো কমতি থাকবেনা। প্রতিনিয়তই যাদের উপর ভর করে আমরা দিনযাপন করছি, দিনের পর দিন তাদেরকেই কারণে-অকারণে অবহেলা এবং তাচ্ছিল্য করে যাচ্ছি। বর্তমানে বিষয়টি এমন দাঁড়িয়েছে যে এগুলো খুবই সাধারণ ব্যাপার। আসলেই কি বিষয়গুলো এতটাই স্বাভাবিক? আমার বেড়ে উঠায় এমন অনেক ঘটনার সাথেই আমি পরিচিত। যা আমাকে ভীষণভাবে তাড়িত করেছে। তাই লেখক হিসেবে আমার পথচলাটা তাদেরকে কেন্দ্র করেই। " ~ জুনায়েদ কবির শিহাব।
তরুণ লেখক জুনায়েদ কবির শিহাবের প্রথম গল্পগ্রন্থ 'ছদ্মবেশী গুণিজন' এর ভূমিকা পড়তে গেলে উপরের লেখাটিতে চোখ আটকে যাবে। সমসাময়িক লেখকেরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গল্পগ্রন্থ কিংবা উপন্যাস রচনা করছেন। বিভিন্ন কিছু তুলে আনার চেষ্টা করছেন, মানুষকে সচেতন করা শেখাচ্ছেন কিংবা ভালোভাবে বাঁচতে শেখাচ্ছেন। ভালো একজন মানুষ হয়ে বেঁচে থাকা শেখাচ্ছেন। সেসব গল্প, উপন্যাসগুলো হৃদয় ছুঁয়ে যায়। ঠিক যেমনভাবে হৃদয় ছুঁয়েছে জুনায়েদ কবির শিহাব ভাইয়ার লেখা 'ছদ্মবেশী গুণিজন'।
'গ্রন্থরাজ্য' প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত এই বইটি মোট ১২৮ পৃষ্ঠার। প্রচ্ছদ করেছেন সজল চৌধুরী। প্রচ্ছদে দেখা যাচ্ছে দুঃখী মেয়ের চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে, ব্যস্ত শহরের এক রিকশাচালক এবং এক অসহায় বালক, বয়সের ভার যার চেহারার স্পষ্ট। প্রচ্ছদ থেকে খানিকটা ধারণা করা গিয়েছে যে লেখক হয়তোবা অসহায়, দুঃখী মানুষদের নিয়েই এই গল্পগ্রন্থটি রচনা করবেন। এই বিষয়টি স্পষ্ট হয় ভূমিকা পড়ার পড়েই। বইটিতে মোট এগারোটি গল্প রয়েছে। নীচে তালিকা দেয়া হলো :
১. হাসমত মিয়ার জাতীয় পেশা ২. একজন হকার ৩. স্বপ্ন থেকে স্বপ্না ৪. জীবন নাটকের চেয়েও নাটকীয় ৫. পথশিশু "শাওন" ৬. গল্পটা মিথ্যে নয় ৭. না পাওয়ার গল্প ৮. মানুষ হতে পারিনি ৯. আমরা সুপার হিরো নয়, তবে... ১০. অসুস্থ বাংলাদেশ ১১. মুচি
এই এগারোটি গল্প নিয়েই রচিত হয়েছে দারুণ এই বইটি। একেকটা গল্প থেকে একেকটা গল্প ভিন্ন। অনেক পার্থক্যের ভিড়ে একটা মিল লুকিয়ে আছে প্রতিটা গল্পের মধ্যেই। এবং তা হচ্ছে 'অসহায়ত্ব'। আমাদের চারপাশের রঙ বেরঙা কতোশতো মানুষের ভিড়ে অসহায়দের গল্পগুলো কেউ শুনেনা, শুনতে চায়না। জুনায়েদ কবির শিহাব শুনেছেন, লিখেছেনও বটে। সেই লেখনি মুগ্ধ করেছে আমায়। আশা করি অন্যদেরও মুগ্ধ করবে সমানভাবে।
জুনায়ের কবির শিহাব চমৎকার এই বইটি উৎসর্গ করেছেন তার আদরের ছোটভাই তুষার লিখনকে। বইয়ের কন্সেপ্ট গুলো বেশ দারুণ এবং গল্পগুলোও বেশ গোছানো। গল্পের শুরু দেখে শেষ পরিণতি সম্পর্কে আঁচ করা যায়না। পুরো গল্পটি পড়ে একধরনের মনখারাপের আবহ তৈরী হয়। তাই ভূমিকাতেই লেখকের বিনীত অনুরোধ, " প্রতিটি গল্প পড়ে অন্তত কিছুটা সময় বিরতি নেয়ার অনুরোধ করা হলো। "
নীচ��� প্রতিটি গল্প সম্পর্কে বলা হলো :
১. হাসমত মিয়ার জাতীয় পেশা : হাসমত মিয়া পেশায় একজন রিকশাচালক। তিনি তার এই পেশাটিকে অত্যন্ত মহৎ ভাবেন এবং স্বপ্ন দেখেন শেখ হাসিনাকে বলে একদিন এই পেশাকে জাতীয় পেশা হিসেবে ঘোষণা দিবেন। হাসমত মিয়া নিজের আত্মসম্মান বজায় রাখেন সবসময় এবং মানবতার সাথে কাজ করে চলেন। করোনা মহামারীর মধ্যে একদিন লেখকের সাথে হাসমত মিয়ার পরিচয়। লেখক জানতে পারেন, হাসমত মিয়া করোনা রোগীদের হাসপাতালে আনা নেওয়ার মহৎ কাজও করে থাকেন। এভাবেই গল্প এগোতে থাকে...
২. একজন হকার : বাসে বসে আছেন লেখক। এই মুহূর্তে একজন হকারের উপস্থিতি দেখা যায় বাসে। মলম বিক্রি করেন। হকারের কাছ থেকে মানবতার দায়ে মলম কিনে লেখক পড়েন বিপদে। এরপর রাগে ক্ষোভে এক টঙে বসে চা খেতে খেতে হকারের সাথে আবার দেখা হয়। কিন্তু এরপরই গল্প বদলাতে থাকে...
৩. স্বপ্ন থেকে স্বপ্না : নিজের দেওয়া নাম স্বপ্না। লোকেরা তাকে হিজড়া, তৃতীয় লিঙ্গ, কমন জেন্ডার ইত্যাদি বলে থাকে। রসুলপুর থেকে এক বাচ্চা চুরির অভিযোগে বিচার বসে স্বপ্নার বিরূদ্ধে। প্রচন্ড অপমান করা হয়। নানা ঘটনা শেষে স্বপ্না একদিন লাইভে আসে। কিন্তু কেন? কি বলে লাইভে এসে? জানতে হলে গল্পটি পড়তে হবে।
৪. জীবন নাটকের চেয়েও নাটকীয় : রেডিও জকি রাহির প্রোগ্রাম ঢাকা এফ.এম ৯০.৪ চ্যানেলে। জীবন কেন্দ্রিক প্রোগ্রাম। ব্যক্তি জীবন থেকে নেয়া শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানে আজ উপস্থিত আছে অমৃতা কর অর্ণা। এই সমাজ তাকে নাম দিয়েছে পতিতা, পেশায় যৌনকর্মী। রেডিও প্রোগ্রাম শেষে অর্ণা শো'য়ের মাঝেই মারা যায়। কিন্তু কেন?
কি হয়েছিলো শো'তে?
ঠিক এইরকম সাসপেন্সফুল গল্প দিয়ে "ছদ্মবেশী গুণিজন" বইটি। বাকি ৭ টি গল্প সম্পর্কে জানতে হলে বইটি পড়তে হবে।
সম্পূর্ণ বইটি পড়ে সেরা উক্তি পেয়েছি হুমায়ুন আজাদের।
" ধনীরা যে মানুষ হয় না, তার কারণ ওরা কখনো নিজের অন্তরে যায় না। দুঃখ পেলে ওরা ব্যাংকক যায়, আনন্দে ওরা আমেরিকা যায়। কখনো ওরা নিজের অন্তরে যেতে পারেনা, কেননা অন্তরে কোনো বিমান যায় না। "
প্রতিটি গল্প থেকেই এইরকম অনেক শিক্ষা পাওয়া যায়। অসহায়ত্বের সংজ্ঞা বুঝতে পারা যায়। অসহায়দের কষ্ট অনুভব করা যায়। তরুণ লেখক জুনায়েদ কবির শিহাব ভাইয়ার এই অনবদ্য সৃষ্টি ইতিমধ্যে সবার মন জয় করেছে। তাই সবার উচিত এই বইটি অবশ্যই পড়া। এই বইটি মানুষ হওয়া শিখাবে। মানুষের মত ভাবতে শিখাবে। মানুষকে সম্মান করতে শিখাবে।
যেই উক্তিটি দিয়ে বইটি শেষ করেছেন, তা হলো :
"সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপর নাই।"
দেশের সর্বত্রই এই বইটি পাওয়া যাবে। 'ছদ্মবেশী গুণিজন' অনলাইন থেকে অর্ডার করতে পারবেন। যেসব জায়গায় পাওয়া যাবে বইটি তা নীচে দেয়া হলো :
কিছু কিছু বই আছে, আসলে তাদের যদি সাহিত্যের মাপকাঠিতে ফেলি তবে হয়তো উর্ত্তীন্ন করতে পারবে না। কিন্তু সে সব বইগুলো পড়ার পর মনে ভিষণ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। “ছদ্মবেশী গুনিজন” বইটি পড়ার পর আমার এমনই লাগলো।
বইটির বিষয়বস্তু সমাজের অবহেলিত মানুষদের কেন্দ্র করে। বেশ কয়েকটি গল্প আছে বইটিতে। তার প্রতিটি গল্পই সমাজের চোখে নিচু জাতের মানুষদের নিয়ে। যেমন প্রথম গল্পটি একজন রিক্সা চালককে নিয়ে!
আচ্ছা আমরা সাধারণরা কখনো তাদের নিয়ে চিন্তা করেছি? খালি রিক্সা দেখলেই চট করে উঠে পড়ি এবং গন্তব্যে গিয়ে নেমে পড়ি। কখনো হয়তো ভাড়া নিয়ে তাদের সাথে দরকষাকষি করি। আর দু'টাকা কম দিতে পারলে মনে যেনো প্রশান্তি অনুভব করি। কিন্তু কখনো কি চিন্তা করেছি তাদের ঘরে কতগুলো মুখ তার দিকে চেয়ে আছে। সারাদিন খাটনির পর সেই অর্থ নিয়ে বাড়ি ফিরে তাদের মুখের যোগান দিবেন। পরদিন আবার শূন্য পকেটে রাস্তা নামেন। অথচ আমরা কোনো আড্ডাতে বসলেই বিনা দ্বিধায় খরচ করে ফেলি শত টাকাও!
রাস্তার পাশে কোনো টোকাইকে ড্যান্ডি (জুতায় লাগানো এ প্রকার আঠা) খেতে দেখলে নাক সিটকাই। তাদের দুর দুর করি। এবং ভয় কাজ করে যে তারা চুরি করবে। হ্যা তারা অপরাধ জগতের এক একটি খুঁটি। তারাই ভবিষ্যতের সমাজ দূষণকারী হবে। কিন্তু কেন? কেনো তারা সুস্থ জীবনে চলতে পারেনা? কারনটা গল্পের টোকাই শাওনই দিয়ে দেয় আমাদের।
“ড্যান্ডি খাইলে খিদা লাগে না। আর ড্যান্ডি না খাইলে ভাত খাইতে মনচায়, কিন্তু ভাতের তো অনেক দাম। বড় লোকরা খায়”
আমরা প্রতিদিন কত খাদ্য নষ্ট করি। মনের শখ মেটাতে ৫০০ টাকা দিয়ে পিৎজা নামক ভিনদেশী খাদ্য খেয়ে শরীর নষ্ট করি। একটু খেয়াল করলেই এসব টোকাইদের আমরা কোনো না কোনো নামি-দামি ফাস্ট ফুডের দোকানের আশেপাশে দেখবো। কিন্তু আমরা যেনো দেখেও দেখি না।
আচ্ছা দাঁড়ান দাঁড়ান, এলাকায় কোনো বাড়িতে নতুন বাচ্চা হলেই সেখানে অলৌকিক ভাবে হিজড়ারা উপস্থিত হয়ে যায়। হয়তো পরিবারের কর্তা ভয়ে, অপমানে, বিরক্ত হয়ে কিছু টাকা দিয়ে তাদের বের করে দেয়। তাদের আমরা প্রচুর ভয় পাই, তাদের নিয়ে হাসাহাসি করি, এমনকি তাদের নিয়ে টিটকারি করে তাদের হেয় প্রতিপন্ন করি। কিন্তু কেনো? তারা কি সত্যিই এসবের যোগ্য!
হ্যা আমি মানছি সবাই সমান না। এসব নিন্ম শ্রেনীর মানুষদের মাঝেও খারাপ আছে। কিন্তু আমরা সুশীল সমাজরা কি তাই বলে তাদের এড়িয়ে যাবো? আপনি বাড়ির কর্তা হয়ে কাজের মেয়েটির সাথে খারাপ আচরণ করবেন! কিন্তু কেনো? তার কেউ নাই বলে? আপনার যৌন ইচ্ছা কেনো তার সাথে মেটাবেন? কেনো চলে যাচ্ছেন না কোনো নাম করা ব্রোথেলে!
ভালো কথা, ব্রোথেল বলতেই সেখানের কর্মীদের কথা মনে পড়লো। আচ্ছা এসব যৌনকর্মী কাদের জন্য সৃষ্টি? তারা কেনো এ পথ বেছে নিলো? জানেন এসব? জানতে ইচ্ছে করে? নাকি তাদের নাম উঠলেই বলেন, ছিঃ ছিঃ আস্তাগ ফিরুল্লাহ! অবশ্যই পেশাটা জঘন্যতম পেশার একটি। কিন্তু তাদের এমন হাল করেছে কারা? তাদের জীবনের গল্প কোনোদিন শুনতে চেষ্টা করেছেন? করেননি। তাহলে তাদের সম্পর্কে মতামত দেবার আপনি কে?
***
গল্প গুলো আমরা জানি, সব সময় দেখি তো তাই। নতুন করে বলার কিছু নেই আসলে। তবে হ্যা ভাববার আছে অনেক কিছু। কাদের জন্য আমরা আজ সুশীল! তাদের নিয়ে চিন্তা করার আছে। দুনিয়ায় মানুষকে আল্লাহ বিনা কারনে পাঠায় নাই। যেখানে স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাদের সৃষ্টি করেছে সেখানে আমার কী অধিকার তাদের অবহেলা করার।
“জুনাযেদ কবির শিহাবের” প্রতিটি গল্প যেনো একথাই স্বরণ করিয়ে দিলো আমাকে। মনটাকে বিক্ষিপ্ত করে দিলো যেনো প্রতিটা গল্প। আমরা শুধু সমাজ থেকে নেবার ধান্দা করি। আসলে আমাদের এই সমাজকে কিছু দিতেও হবে।
“গ্রন্থরাজ্য প্রকাশনী” থেকে বইটি প্রকাশ করা হয়। আমার কাছে মনে হয় বইটি পড়ে সময় নষ্ট হবে না কারো।
বইঃ ছদ্মবেশী গুণিজন লেখক: জুনায়েদ কবির শিহাব প্রকাশনী : গ্রন্থরাজ্য রেটিং: ১০/১০ বইটি পড়ার পর আমার মনে হলো এটি নিয়ে কিছু কথা না বললেই নয়। লেখক যে দায়িত্ব নিয়ে বইটি লিখেছেন ঠিক সেরকম একটি দায়িত্ব থেকে আমারও কিছু কথা বলা উচিত।
বইটির বিশ্লেষণঃ হাসমত মিয়া, অর্ণা, শাওন,আজমল সাহেব, মঈনুল দের মতো ক্যারেক্টার গুলো লেখক যেভাবে তুলে ধরেছেন তার কোনো তুলনা হয় না। এগুলো শুধুই গল্প ছিলো না এক একটা গল্প যেন বুকের ভেতরটা কে বারবার নাড়িয়ে দিচ্ছিলো।
প্রতিটি গল্প পড়ার পর অন্তত ৩০ মিনিট শুধুমাত্র ঝিম মেরে বসে ছিলাম। আর ভাবছিলাম আসলেই তো আমাদের চারপাশের ঘটনা গুলো তো এমনি হচ্ছে। বইটি পড়ার পর অনেক কিছু বুঝতে শিখলাম। নিজের করা অনেক ভুল গুলো শুধরানোর প্রতিজ্ঞা করলাম।
বলতে দ্বিধা নেই আমি নিজেই তৃতীয় লিংগের মানুষ গুলোকে অপছন্দ করতাম। হকার দেরকে বাজে লোক ভাবতাম কিন্তু এদের এরকম হওয়ার পেছনের কারণ গুলো কখনোই ভেবে দেখি নি। আমি অনুতপ্ত সেই সাথে এও প্রতিজ্ঞা করছি আর জীবনেও এই মানুষ গুলোকে খারাপ চোখে দেখবো না।
বইটি একবার হলেও সকলকে পড়ার অনুরোধ জানাবো। শুধু বলবো যত দ্রুত সম্ভব বইটি একবার হলেও সকলেই পড়ে নিবেন। সব থেকে ভালো হতো যদি স্কুল কলেজে পড়া শিক্ষার্থী দের বইটি পড়ার সুযোগ করে দেওয়া যেতো।
একজন ভালো মানুষ হতে চাইলে এই বইটি আপনাকে একবার হলেও পড়ে দেখতেই হবে। লেখকের পরবর্তী বইয়ের অপেক্ষায় রয়েছি। এভাবেই সমাজের চোখে আংগুল দিয়ে অসংগতি গুলো দেখিয়ে যাবার অনুরোধ থাকবে লেখকের প্রতি।
ছদ্মবেশী গুণিজন ০২ আসার কোনো সম্ভাবনা কি আছে। কেউ জেনে থাকলে জানাবেন।
This is a collection of true stories that the writer faced in his daily life. Well , I bought this book by interest.Just two words I will say: "I cried !". I felt those stories...