ঘরকুনো বলে একসময় বাঙালির পরিচিতি থাকলেও এখন জামানা বদলেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশীরা এখন প্রচুর ভ্রমণ করেন। ছুটির দিনে দেশের ভিতরের টুরিস্ট স্পট গুলোতে ভিড় জমে যায়। হোটেল রিসোর্টগুলোতে রুম পাওয়া যায়না। আবার লম্বা ছুটি পেলে অনেকেই পাড়ি জমান ভিন্ন দেশে। ভারত, নেপাল, ভুটান, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েসিয়া, কিংবা ভিয়েতনাম, যেখানেই ঘুরতে যাবেন সেখানেই বাঙালি টুরিস্টের দেখা মিলবে। ইউটিউব ফেসবুক ইন্সটাগ্রামের কল্যাণে সবাই যেন এখন ট্রাভেল ব্লগার। তাহলে ভ্রমণকাহিনী নিয়ে বই কেন?
কারন শুধু ছবি আর ইউটিউব Vlog দিয়ে একটা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা পুরোপুরি তুলে ধরা যায় না। অনেক খুঁটিনাটি থাকে, অনেক সূক্ষ্ম অনুভূতি জড়িয়ে থাকে যা হয়ত শুধু মাত্র লেখায় প্রকাশ করা সম্ভব। আর সেই চেষ্টাই করেছেন এই বইয়ের লেখকেরা। বালি, আন্দামান, দার্জিলিং, পন্ডিচেরী, কেনিয়া, স্পেন, এবং মেক্সিকো ভ্রমণের আকর্ষণীয় কিছু বর্ণনা তুলে ধরেছেন তারা, যা ভ্রমণ কাহিনী পিপাসুদের আনন্দ দিতে বাধ্য। আসুন না তাদের সাথে দেখে আসা যাক অনিন্দ্য সুন্দর এই পৃথিবী?
কৌশিক জামান একজন অপদার্থ। ইংরেজিতে যাকে বলে- গুড ফর নাথিং। জীবনের প্রতিটা পদক্ষেপে পরাজিত হতে হতে হাল ছেড়ে দেয়া একজন ব্যক্তি। কিছু মানুষ আছে না এক ভুল বার বার করে? তিনিও ঐ কিসিমের।
তাই নিজেকে বন্দী করে রেখেছেন একশ স্কয়ার ফিটের একটা রুমে। রুম ভর্তি শুধু বই আর বই। বই পড়তে পড়তে তার মনে হয়েছে কিছু একটা লিখে ফেলা দরকার। এবং অখাদ্য ছাইপাঁশ কিছু আবর্জনা লিখেছেন যেগুলো প্রকাশক একরকম চাপে পড়ে ছাপিয়ে এখন আফসোস করছেন।
যে গেছে বনমাঝে চৈত্র বিকেলে যে গেছে ছায়াপ্রাণ বনবীথিতলে বন জানে অভিমানে গেছে সে অবহেলে যে গেছে অশ্রুময় বন-অন্তরালে
~ বইটা সাতটি ভ্রমণকাহিনী নিয়ে লেখা। সাতটাই ভিন্ন ভিন্ন লেখকের ভিন্ন অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা হয়েছে। শুরুটা বেশ ভালো লেগেছে নাবিল মুহতাসিমের দার্জিলিং ভ্রমণ দিয়ে। যেহেতু আমি ফেলুদার ফ্যান, সেহেতু ফেলুদার রেফারেন্সগুলো খুবই ভালো লেগেছে। আর এভারেস্ট বিজয়ী(?) মিস্টার ম্যালোরি সম্পর্কে জানার আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছে।
এরপরের তিনটা ভ্রমণকাহিনী খুবই পানসে লেগেছে, লাইক তারা গাইড হিসেবে কাজ করেছে এরকম লেগেছে, তো মাঝখানের পার্টটাই অনেকটাই বোরিং লেগেছে আমার।
পরে মুহাম্মদ আহসান নাহিয়ান এর পন্ডিচেরি ভ্রমণের কাহিনী টা বেশ পুষিয়ে দিয়েছে বোরিংনেসটা, অনেক তথ্য দেওয়া থাকলেও পড়তে একদমই খারাপ লাগেনি, মনে হচ্ছিল নিজের চোখেই পন্ডিচেরি দেখা হচ্ছিল। বরং এটাই মনে হয়েছিল লেখক একটু গল্পচ্ছলে বলার চেষ্টা করেছিলেন।
পরের দুটো ও বেশ ভালো লেগেছে। সাবাবা মঞ্জুর এর মায়োর্কা বেশ এনজয় করেছি। অল্পকথায় অনেক ভালো লিখেছেন। শেষেরটা কৌশিক জামানের বালি ভ্রমণ। বেশ এনজয়েবল ছিল। সবার মাঝে সিরিয়াসনেসের যে প্রবণতাটা ছিল, কৌশিক জামান সেটা কাটিয়ে দিয়েছেন।
তবে একটা ওয়ার্ড খুব চোখে লেগেছে 'ছিমছাম' - এটা কম বেশি সবাই একাধিকবার ব্যবহার করেছেন। এটা আমার সম্পূর্ণই ব্যক্তিগত মতামত, আমার এই শব্দটা ভালো লাগেনা। তাই এটা বেশ চোখে লেগেছে। এছাড়া বই পড়ার অভিজ্ঞতাটা বেশ ভালো ছিল।
সবশেষে বলবো, আরো ভ্রমণকাহিনী লেখা হোক। আরো ভ্রমণ করা হোক। এট লিস্ট -
Home is where heart is
আরেকটা কথা বলতেই হয় বইয়ের কভারটা কিন্তু অনেক সুন্দর ছিল। তার জন্য প্রচ্ছদ শিল্পী রেহনুমা প্রসূন কে ধন্যবাদ।
আমি হচ্ছি সেই কিসিমের পাবলিক যে জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা ছবিটা দেখেই ঠিক করে ফেলেছিলাম যে এই সব জায়গা না দেখে কোনভাবেই দুনিয়া থেকে চলে যাওয়া উচিত হবে না। অর্থাৎ বুঝতেই পারছেন যে ভ্রমণ বিষয়ক যে কোন কিছু- সেটা বই হোক কিংবা চলচ্চিত্র আমার ভীষণ ভীষণ ভীষণ প্রিয়।
“দেখিতে গিয়াছি চক্ষু মেলিয়া”র কথা প্রথম শুনেছিলাম নাহিয়ানের কাছে। উনি বলছিলেন উনাকে নাকি একটা ভ্রমণ বিষয়ক বইয়ে লেখা দিতে বলা হয়েছে আর উনি সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না যে ভুটান নিয়ে লিখবেন না পণ্ডিচেরী নিয়ে। আমি প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম বইটার কথা। এরপর যখন বইটা সত্যি সত্যি বেরোলো, আমি ফটাফট বইটা বগলদাবা করে বাসায় নিয়ে আসলাম এবং একবসায় শেষ করে ফেললাম।
বইটাতে ৭টি ভ্রমণ কাহিনী রয়েছে- নাবিল মুহতাসিমের নেপাল ভ্রমণ, ফারিয়াহ প্রেমা’র মেক্সিকো ভ্রমণ, রাজিব আহসানের আন্দামান ভ্রমণ, আদিবা তাসমীমের কেনিয়া ভ্রমণ, মুহাম্মাদ আহসান নাহিয়ানের পণ্ডিচেরি ভ্রমণ, সাবাবা মঞ্জুরের স্পেন ভ্রমণ আর সবশেষে কৌশিক জামানের বালি ভ্রমণ। এবং প্রত্যেকটা কাহিনী-ই এত চমৎকারভাবে লেখা হয়েছে যে আমার মনে হচ্ছিল আমি প্রতিটা জায়গা নিজ চোখে দেখতে পাচ্ছি। আর প্রতিটা জায়গার খাবার এবং সংস্কৃতি যেমন আলাদা, তেমনি প্রতিটা লেখাতেই ভিন্ন স্বাদ পাওয়া যাচ্ছিল। এবং এই কারণে পুরো বইটা পড়ে যেতে একবারও একঘেয়ে লাগেনি।
আপনি ভ্রমণকাহিনী পড়তে ভালবাসলে এই বইটা আপনার জন্যে। আর এই বইটার প্রচ্ছদটা যে কী ভীষণ নজরকাড়া সুন্দর সেটা আপনি বইটা হাতে নিলেই বুঝতে পারবেন। বাংলাদেশে এখন প্রচ্ছদের কাজ খুব যত্ন করে করা হয়। কিন্ত রেহনুমা প্রসূন এর করা এই প্রচ্ছদটা যেন সেই কাজগুলোকেও ছাপিয়ে গেছে। একটাই ছোট্ট পর্যবেক্ষণ শুধু, বইয়ের পাতাগুলো সাদা না দিয়ে খানিক হলুদাভ দিলে হয়ত একশ একশ ব্যাপার হত একটা। তবে যা হয়েছে তাতেও আক্ষেপ করার সুযোগ নেই।
বইটা অবসর থেকে প্রকাশিত। চাইলে অনলাইনে অর্ডার করতে পারেন অথবা বইমেলা থেকেও সংগ্রহ করতে পারেন। বইয়ের সব লেখকের জন্যে আমার অনেক অনেক অনেক শুভকামনা।
"দেখিতে গিয়াছি চক্ষু মেলিয়া" একটা অসম্ভব সুন্দর প্রাণবন্ত একটা ভ্রমণ কাহিনী সংকলন । প্রত্যেকটা গল্প পড়তে পড়তে জায়গাগুলো চোখের সামনে জীবন্ত হয়ে উঠছিলো । সবার লেখা আলাদা, সবার ভ্রমণের স্থান আলাদা, কিন্ত একটি জায়গায় সবাই মিলে গিয়েছেন, তা হলো আকর্ষণীয় গল্প বলার ধরন ৷ সবার বর্ণনা ছিলো ঘরোয়া ভঙ্গিতে গল্প বলার মতোন, তাই পড়তেও খুব ভালো লেগেছে ৷ একটা বইয়ের অন্যতম আকর্ষণীয় দিক হলো তার প্রচ্ছদ । যদিও বলা হয়ে থাকে যে, "Don't judge a book by It's cover", কিন্ত এই বইটার প্রচ্ছদ নিয়ে কিছু কথা বলা দরকার ৷ প্রচ্ছদশিল্পী রেহনুমা প্রসূন ৷ ভ্রমণ নিয়ে বই, প্রচ্ছদটা ডাক টিকিটের মতোন ৷ আবার দুই দিকে দুটো সিল মারা । সেই সাথে প্রতিটি লেখকের ক্যারিকেচার । ক্যারিকেচারের মধ্যেও একটা মজার ব্যাপার আছে । প্রত্যেকের চেহারার ব্যাকগ্রাউন্ডে প্রত্যেকের ভ্রমণস্থানের দর্শনীয় কিছু স্থাপত্যের লাইন আর্ট করা । আর লেখকদের পোট্রের্টেও আছে তাদের নিজস্ব মজাদার বৈশিষ্ট্য ৷ বইটা পড়ার পরে, আর আগে থেকে তাদেরকে চিনে থাকলে কিছু বৈশিষ্ট্য বুঝতে পারবেন । এবার আসি বইয়ের কথায় ৷ সব মিলিয়ে মোট সাতটি গল্প । দার্জিলিং, মেক্সিকো, আন্দামান, কেনিয়া, পন্ডিচেরী, স্পেন, বালি - এই স্থানগুলো নিয়ে লেখকেরা লিখেছেন মজার সব গল্প ৷
প্রথমেই বলি "মুহম্মদ আহসান নাহিয়ান" এর পন্ডিচেরী সফরের বর্ণনা । ভারতকে বলে দ্বিতীয় বিশ্ব । কলকাতা পার হয়ে চেন্নাই আর সেখান থেকে পন্ডিচেরী যাওয়ার কথা বলতে বলতে লেখক তুলে ধরেছেন নিজের জীবন এবং জীবনবোধের টুকরো টুকরো অংশ । কিছু অণুকাব্য আছে লেখকের নিজের লেখা, সেগুলো বেশ মজার । গল্পের সাথে মানিয়ে যায় । লেখক নতুন নতুন খাবার খেতে পছন্দ করে লেখা পড়লে বোঝা যায়, বেশ কিছু খাবারের বর্ণনা, পরিবেশনের খুটিনাটি এবং সেটা নিয়ে বিস্তারিত অভিজ্ঞতার কথাও লিখেছেন তিনি । বেশ পর্যবেক্ষণকারী চোখ । লিখেছেন ভ্রমণপথে অচেনা মানুষের আন্তরিকতার কথা ৷ সোলো ট্রাভেলার্সদের জন্য বিশেষ হোস্টেলগুলোর কথা জেনে বেশ লেগেছে । নিজে কখনো যাওয়া হতে পারে ভেবে টুকে রেখেছি নামগুলো, ভবিষ্যতে রিসার্চ করে নিজেই যাওয়া যাবে । এছাড়া আছে চেন্নাই এর জাদুঘর, মেট্রোরেল ইত্যাদির কথা ৷ সবচে সুন্দর করে লিখেছেন পন্ডিচেরীর কথা ৷ ফ্রেঞ্চ ভাইবের পন্ডিচেরী লেখক ঘুরে বেড়িয়েছেন সাইকেলে, তার লেখনীতে পাঠকও তার সাথে সাথে ঘুরে বেড়ান পন্ডিচেরীর অচেনা অলিতে গলিতে ৷ শুধু তাই নয়, পন্ডিচেরী শব্দটির উৎপত্তি এবং স্থানটির ঐতিহাসিক কিছু বর্ণনাও আছে লেখাটিতে । গ্লোবাল টাউনশিপের মতোন করে গড়ে তোলা অরোভিল সম্পর্কেও আকর্ষণীয় বর্ণনা দিয়ে জায়গাটির প্রতি পাঠকমনকে আগ্রহী করে তুলেছেন তিনি ।
কৌশিক জামানের “ঈশ্বরের দ্বীপে এক সপ্তাহ” । এটা পড়তে আমার সবচেয়ে মজা লেগেছে । লেখক এতো সুন্দর করে ভ্রমণের গল্প বলেছেন, উনার সাথে আড্ডা দিতে ইচ্ছা করছিলো পড়তে পড়তে । লেখকের ভ্রমণস্থান ছিল বালি । কর্মসূত্রে বালির কিছু মানুষের সাথে পরিচয় থাকায় বালি নিয়ে অনেক গল্প শুনেছি, নেটে ঘাটাঘাটি করেও অনেক কিছু জানি । কিন্ত, উনার গল্পের ধরন এতোটাই মজার যে মনে হচ্ছিল এবারই প্রথম শুনছি । বালি খুবই সুন্দর একটা পর্যটন স্পট, সেই সাথে সেইখানের খাবার, পরিবেশ এবং বিশেষত ম্যাসাজ পার্লার নিয়ে বর্ণনাগুলো পড়ে খুবই মজা লেগেছে । এছাড়া বাচ্চাদের সাথে লেখকের দুষ্টুমির কথা, আড্ডার ছলে সুন্দর সুন্দর মনোরম জায়গাগুলোর বর্ণনা ছিল খুবই হৃদয়গ্রাহী ! শেষে গিয়ে নিজের কিছু ব্যক্তিগত অনুভূতির কথাও বলেছেন এই কাচ্চি লাভার, যেই কথাটার সাথে আমি নিজেও একমত পোষণ করি ।
মেক্সিকোর কাহিনি নিয়ে লিখেছেন ফারিয়া প্রেমা ৷ উনার জন্মদিনটা কতোখানি সুন্দর হয়ে কেটেছে বিদেশ বিভুইয়ে - তারই গল্প করেছেন অনেকটা সময় নিয়ে ৷ অপরিচিত দেশে মানুষের এই আন্তরিকতা এবং আপ্যায়নের কথা নিঃসন্দেহে এই অস্থির সময়ে আমাদেরকে স্বস্তি যোগাবে । সেই সাথে লেখিকার প্রথম পিরামিড দর্শনের অনুভূতি পড়েও একই রকম রোমাঞ্চ কাজ করবে পাঠকদের মনে ৷ " চিচেন ইতযা" মায়ান সভ্যতার সময়কার পিরামিড । কয়েকদিন আগে মায়ান সভ্যতা নিয়ে খানিকটা পড়েছি বলে এই গল্পটি দারুণ উপভোগ্য ছিলো ।
আফ্রিকার কেনিয়া ভ্রমণ নিয়ে আদিবা তাসমীম লিখেছেন " বিগ ফাইভের খোঁজে" । আফ্রিকার বিগ ফাইভ বলতে মূলত সিংহ, রাইনো, লেপার্ড, হাতি আর বাফেলোকে বোঝার । তাইতো উনার গল্প জুড়েও ছিল নানান রকম পার্ক আর ক্যাম্পে ঘুরে ঘুরে দেখা নানান রকম জীবজন্ত নিয়ে মজার সব তথ্য আর বর্ণনা । এই যেমন জিরাফ হাঁটবার সময় প্রথমে এক পাশের দুই পা ফেলে, তার পর পরের পাশে । বাংলাদেশের গ্রামে যেমন গরু ছাগল ঘোরে, ওখানে ঘোরে জেব্রা । বিগ ফাইভ ছাড়াও অস্ট্রিচ, ব্যাবুন, বুনো শূকর, মিরক্যাট দেখার বর্ণনাও আছে । লায়ন কিং এর "টিমন" কে তো আমরা চিনি, ওটাই মিরক্যাট । তার গল্পের সবচেয়ে সুন্দর অংশটুকু ছিল তার সিংহ দর্শনের জায়গাটা । রাজকীয় সিংহ দেখে যতোটুকু রোমাঞ্চ উত্তেজনা তিনি অনুভব করেছেন, পুরোটা না হলেও অনেকটা ছড়িয়ে দিয়েছেন বইয়ের অক্ষরে । আমরা পাঠকেরা সেটা পড়ে মনে মনেই সিংহ দর্শন করি । এছাড়া পাখি এবং প্রকৃতি সৌন্দর্য নিয়েও সুন্দর লিখেছেন ।
এরপরে "এমারেন্ড এবং ব্লু", রাজিব আহসানের ৷ উনার কাহিনিটি আন্দামান নিয়ে । আন্দামান সম্পর্কে এখনো মানুষের মতামত, ওখানে যাওয়ার ক্ষেত্রে কি কি বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছিল, সেইসব নিয়ে প্রথমেই একটা বর্ণনা ৷ আন্দামানের উল্লেখযোগ্য কিছু ঐতিহাসিক ঘটনা ছোট করে লেখা আছে যেগুলো পড়লে মনটা খারাপ হয়ে যায় । আন্দামানের মূল আকর্ষণ এটর দ্বীপগুলো । স্বরাজ দ্বীপ, রস আইল্যান্ড, নীল আইল্যান্ড - প্রত্যেকটি জায়গায় ঘুরতে গিয়ে লেখক জায়গাগুলোর খুব সুন্দর বর্ণনা দিয়েছেন । প্রতিটি দ্বীপের সবচে সুন্দর ব্যাপার ছিল যে, প্রতিটি বিচে গোসল করার, ওয়াটার এক্টিভিটির, স্কুবা ডাইভিং এর জন্য আলাদা আলাদা জায়গা আছে ৷ এই তথ্যটা জেনে খুব ভালো লেগেছে যে মানুষের সৌন্দর্য উপভোগ আর পর্যটন উন্নতির সাথে সাথে আন্দামান প্রশাসন তাদের জলজ জীবন এবং পরিবেশ রক্ষার্থেও কাজ করে ৷
এরপরে সাবাবা মঞ্জুরের "মায়োর্কা : টেষ্ট অফ স্পেন"। লেখিকার কথা ধরন দেখে মনে হয়, নিজের ছটফটানো স্বভাবের পুরোটাই তিনি তার লেখায় তুলে ধরতে পেরেছেন । মায়োর্কা নানান রকম। বিচে ঘুরেছেন তিনি, তার বেটার হাফ এবং এক বন্ধু । ঘুরে বেড়ানো, খাবার দাবার - বিশেষত প্রকৃতি নিয়ে তার লেখা বর্ণনাগুলো খুব বেশীই সুন্দর ৷ আমি নিজে কখনো সেন্ট মার্টিন আর কক্সবাজার বিচ ছাড়া অন্য কিছু দেখিনি, তাই দূরদেশের বিচের সৌন্দর্য কল্পনা করতে করতেই তাই পড়ে নিলাম ৷ সেখানকার লোকাল ট্যুরিষ্ট স্পট, ওল্ড টাউনের চার্চ, রয়াল প্যালেস - ইত্যাদির ছবি এবং বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে । শেষের দিকে খানিকটা তিক্ত অভিজ্ঞতার বর্ণনা থাকলেও পুরো বর্ণনাটিই উদ্দীপনা আর উত্তেজনায় ভরা !
ভ্রমণ কাহিনীর আনন্দঘন বর্ণনার সাথে সাথে পরিবেশ রক্ষা, ভ্রমণ সংক্রান্ত সাবধানতার কথা, এবং স্থানগুলোতে যাতে ভবিষ্যতে পাঠকেরা গেলে কিছু জানাশোনা রাখতে পারেন - সেই রকম টুকটাক তথ্য আছে । আমি ভ্রমণ কাহিনী খুব বেশী পড়িনি । তবে এই সংকলনটি চমৎকার লেগেছে । ভ্রমণ এবং পাঠকপ্রেমীরা অবশ্যই পড়ে দেখতে পারেন এই দারুণ বইটি ! সময় মন্দ কাটবে না ।
কারো পায়ের তলায় সর্ষে থাকে, কারো থাকে খড়ম। আমার তো খড়মও নয়, একদম পায়ে শেকলে বাঁধা। সন্তুর বাবার মতো আমিও পর্দায় আর বইয়ের পাতায় দেশ-বিদেশ ঘুরতে বেশ ভালোবাসি। 'দেখিতে গিয়াছি চক্ষু মেলিয়া' বইটি চক্ষুগোচর হলে আর দেরি করলাম না তাই। ঝটপট অনলাইন অর্ডার করে বসলাম।
বইটা নজর কাড়ার অন্যতম কারণ ছিল রেহনুমা প্রসূন এর করা আকর্ষণীয় রঙিন প্রচ্ছদ জুড়ে 'ট্রাভেল ভাইব'। চারপাশে ডাকটিকিটের নকশা, মাঝখানে 'ভিসা এপ্রুভড' সিল আর সাতজন পর্যটকের ক্যারিকেচার। ব্যাকগ্রাউন্ডে তাদের বর্ণনার সাতটি ভ্রমণস্থান - দার্জিলিং, মেক্সিকো, আন্দামান, কেনিয়া, চেন্নাই, স্পেন ও বালি।
শুরুতেই নাবিল মুহতাসিমের সাথে চললাম দার্জিলিঙের পথে। গল্প-উপন্যাসে কাঞ্চনজঙ্ঘার কথা অনেকবার পড়েছি। কিন্তু তার নামটি কাঞ্চন কেন সেটার বর্ণনা এতো চমৎকার আর পাইনি। ফেলুদার রেফারেন্স, কাঞ্চনজঙ্ঘার হাতছানি আর জর্জ ম্যালোরির অজানা গল্পের জন্য এই পর্বটা সবচেয়ে ভালো লেগেছে।
পেটুক মানুষ আমি। দক্ষিণ ভারতীয় খাবারের প্রতি বিশেষ দূর্বলতা আছে আমার। মুহাম্মদ আহসান নাহিয়ানের লেখায় রীতিমতো পেট গুড়গুড় করছিল। ফ্রেঞ্চদের 'ভারতীয় প্যারিস' পন্ডিচেরীর ইতিহাস পড়ে খিদে ভুললাম। সবচেয়ে অবাক লেগেছে শ্রী মায়ের শহর অরোভিলের কথা পড়ে। যেখানে ক্যাশের কোনো কারবার নেই, সবাই নিজের মতো কিছু না কিছু করে, নগর চলে বিনিময় প্রথায়। খাদ্যের চিন্তা মাথা থেকে চলে গেলে মানুষ যে বড় কিছু করতে পারে - তার প্রমাণ হলো এখানে হয় উঁচুদরের গবেষণাকাজ। গোটা পৃথিবীটাই এমন হলে মন্দ ছিল না।
সব ভালো যার শেষ ভালো। কৌশিক জামানের ঈশ্বরদের দ্বীপে সাতদিন বেশ হাসিয়েছে। এছাড়াও মায়া সভ্যতার মেক্সিকো, সবুজ দ্বীপের রাজার আন্দামান, স্প্যানিশ মায়োর্কা, সাফারির দেশ কেনিয়াসহ সাতটি ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় ভ্রমণের গল্প বলেছেন সাতজন। আন্দামানের প্রতিটি বিচের সুন্দর প্রাকৃতিক বর্ননার সাথে ছিল মন খারাপ করা সেলুলার জেলের ইতিহাস। কেনিয়ার মাসাইমারা ক্যাম্প মনে করাচ্ছিল কাকাবাবুর কথা। প্রকৃতি, সংস্কৃতি, দর্শনীয় স্থান আর খাদ্যরুচির বৈচিত্র্য থাকার পরও একটা কথাই বারবার মনে হচ্ছিলো, পৃথিবীর সব প্রান্তের মানুষই আসলে উদার ও আন্তরিক। নিত্যদিনের ব্যস্ততায় মানুষের যে ভালোদিকটা আমাদের চোখে পড়ে না, ভ্রমণের অবসরে সেটা অনুভব করার সময় পাই।
কৌশিক জামানের সম্পাদনায় প্রকাশিত বইটি পড়ার ক্ষেত্রে একটা ভূমিকার অভাববোধ করেছি। ভ্রমণকাহিনী একরকম আত্মজীবনীর অংশই তো বলা চলে। যাদের জীবনের অভিজ্ঞতা পড়লাম তাদের সম্পর্কে একটু ধারণা যদি শুরুতে সম্পাদক দিয়ে দিতেন, লেখার সাথে একান্তবোধ করতে সুবিধা হত।
বইটি সম্পাদক শেষ করেছেন বাংলাদেশের টুরিস্ট স্পট নিয়ে কিছু দরকারী কথা বলে। প্রতিটি পর্বেই ভ্রমণ নিয়ে টুকটাক টিপস ছিল। ভ্রমণ নিয়ে এ ধরণের সংকলন আরো পাবো আশা রইলো।
দেখিতে গিয়াছি চক্ষু মেলিয়া (সম্পাদনা-কৌশিক জামান) অবসর/প্রতীক প্রকাশনী প্রচ্ছদ-রেহনুমা প্রসূন এই বইয়ের প্রচ্ছদকারীর নাম আলাদা করে ঘোষণা না দিলে পাপ হবে।
৭টি ভ্রমণকাহিনীর সংকলন এই বইয়ের ছবি যখন ফেসবুকে ঘুরছিলো তখনই একে নিজের করে পাওয়ার লোভ হচ্ছিলো।প্রথম কারণ অবশ্যই প্রচ্ছদ,দ্বিতীয় কারণ-একসময় ভ্রমণকাহিনী নাম শুনলেই এড়িয়ে যাওয়া এই আমি এখন রীতিমতো হাইলাইটার দিয়ে দাগিয়ে ভ্রমণকাহিনী পড়ি,পাছে কখনো যাওয়ার সুযোগ আসে,তখন যেন ট্যুর প্ল্যান করতে সুবিধা হয়।তাই ��কদিন কয়েক পেজ পড়ে রেখে দিলাম,পরদিন আর পারলাম না,সাড়ে ১১টার সময় হাতে তুলে নিয়ে ভোর ৫ টায় হাত থেকে নামালাম। বই শেষ হওয়ার পর প্রথম ইম্প্রেশন হলো-আমি চরমমাত্রায় বিরক্ত। বইটা পড়ে যে এখন জর্জ ম্যালোরির স্মৃতি,চিচেন ইতজার রহস্য,পন্ডিচেরির সাইকেলভ্রমণ,মায়োর্কার বীচ আমাকে টানছে কিন্তু সময়,অর্থ,জীবনযুদ্ধ কোনোটাই সেটাকে পারমিট করবেনা,এর দায় এখন কে নেবে??এমন বই বের করলে সাথে পাঠকদের নূন্যতম বসের কাছে দেয়ার মতো একটা কাকুতিমিনতি সংবলিত ছুটির দরখাস্তের ফরম্যাটও ফ্রি দেয়া উচিত।
১."গরম লাগে তো দার্জিলিং গেলেই পারো"-নাবিল মুহতাসিম ফেলুদা-ভক্ত লেখক যে দার্জিলিং পাগল তা তো জানা-ই।কিন্তু আমার কাছে এই গল্পের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ ছিলো জর্জ ম্যালোরি সম্পর্কে স্মৃতিচারণ (আমি আবার খানিকটা জাদুঘরপাগল)।আর লেখকের মৌলিক "বাজিমাত" পড়া ছিলো দেখে বাজিকর রঘু আর আসাদের মিলনস্থলের ছবি দেখেও কিছুটা বুক ধক করে উঠেছিলো (আসাদ আমার ফিকশনাল ক্রাশ🤤)
২."জমকালো জন্মদিন"-ফারিয়া প্রেমা লেখিকা বেড়াতে গেছেন মেক্সিকোর ক্যানকুনে।যেই মুহূর্তে লেখিকা বললেন যে ক্যানকুন গাল্ফ অফ মেক্সিকো আর ক্যারিবিয়ানের মাঝে সাথে সাথে সেটা আমার বাকেট লিস্টে উঠে গেলো,আফটারঅল সমুদ্রপাড়ের কন্যা আমি।আর চিচেন ইতজার নাম পড়েই আমার নিউরন রাত ১ টায় সজাগ হয়ে গেল- সপ্তমাশ্চর্যে যাহা আছে বা ছিলো-সবই তো একটা স্বাভাবিক মানুষের দেখার স্বপ্ন থাকে,তাই না?
৩."এমারেল্ড অ্যান্ড ব্লু"-রাজিব আহসান এই ডেস্টিনেশনটা একটু ব্যাতিক্রমধর্মী,লেখক গেছেন আন্দামানে-জেল খাটতে নয়,স্বেচ্ছায় ঘুরতে।স্নরকেলিং,স্কুবা ডাইভিং বা যেকোনো অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের কথা দেখলেই আমি খুটিয়ে পড়ি,সাথে এখন নতুন ইন্টারেস্ট যোগ হলো গ্লাস বটম বোটে চড়ে মাছদের একটু জ্বালানো,ক্যাম্পাসের বিড়াল-কুকুর তো অনেক জ্বালালাম,একটু টেস্ট-চেঞ্জ দরকার🥱
৪."বিগ ফাইভের খোঁজে"-আদিবা তাসমীম লেখিকা গেছেন কেনিয়ার মাসাইমারাতে,ছোটবেলা থেকে এত ছবি গল্প পড়ে আসলাম,কিন্তু সত্যিকারের কারো অভিজ্ঞতার গল্প পড়া এই প্রথম।যদি কোনোদিন যাওয়ার সুযোগ হয় উনাদের ড্রাইভারটিই আমি চাই,যে বলা নেই কওয়া নেই,জীপ টান দিয়ে সিংহের গুহার মুখে এনে ব্রেক কষবে! we only live once,right?
৫."এক টুকরো প্যারিসের সন্ধানে পন্ডিচেরিতে"-মুহাম্মদ আহসান নাহিয়ান সাতটির মধ্যে এটি আমার সবচেয়ে প্রিয়।এত বাঘা বাঘা মহাদেশের গল্প থাকতে মন নাকি জিতে নিল ম্যাপে বাংলাদেশ থেকে একটু আঙুল পিছলালেই পাওয়া যাবে এমন জায়গা! কারণ হলো লেখকের অবসার্ভেশন পাওয়ার ও ফিলোসফি।ভ্রমণকাহিনী শুধু ভ্রমণে আটকে থাকেনি,আবেগ-দর্শন-মানুষের গল্পে আরেকটু উচ্চস্তরে পৌছেছে।তবে তারচেয়েও বেশি পছন্দ হওয়ার কারণ অনেকগুলা লাইব্রেরির সন্ধান পেলাম লেখাতে।
৬."মায়োর্কা,টেস্ট অফ স্পেন"-সাবাবা মঞ্জুর আমরা যে স্পেনের কল্পনা করি,মায়োর্কা স্পেনে হয়েও স্বতন্ত্র।মায়োর্কাতে বীচই আছে ২৬২ টি!! এবং একেকটি বীচ একেক রকম।সাথে স্থাপত্য-জাদুঘর তো আছেই।লেখিকার যে জিনিসটি ভালো লেগেছে তা হলো অনেক জায়গায় উনি ঘুরতে না পারলেও লেখায় সেসব জায়গার সন্ধান জানিয়ে দিয়েছেন।
৭."ঈশ্বরদের দ্বীপে এক সপ্তাহ"-কৌশিক জামান লাস্ট বাট নট দা লীস্ট,সম্পাদকের নিজের লেখা বালি ভ্রমণ নিয়ে।সত্যি বলতে বালি ভ্রমণের কথা আম্মু-আব্বু বা আত্মীয়দের মুখেই এত শুনেছি যে এই ডেস্টিনেশন নিয়ে আমার আগ্রহ সবচেয়ে কম ছিলো।কিন্তু তাও একটানে কেন পড়তে পেরেছি??কারণ লেখকের হিউমার!যা অন্য লেখাগুলো থেকে এটাকে আলাদা করেছে।
সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ বইয়ের প্রচ্ছদ সুন্দর তাই এটাকে শুধু কালেকশন পিস বা বই-জগতের বিম্বো ভাবার কোনো কারণ নেই,প্রত্যেকটি গল্প চাকরিকে খ্যাতা-পুড়ি বলে ব্যাকপ্যাক কাঁধে বের হওয়ার জন্য তাড়া দিবে,তাই নিজের রিস্কে পড়বেন।
ভাবছেন, এই যুগে 'Nadir on the go' এর মতো অসাধারণ ট্রাভেল ব্লগার দেশে থাকতে কে ভ্রমণকাহিনীর বই পড়ে? দেশি বিদেশি এত ট্রাভেল ব্লগ, এত অসাধারণ সব ডকুমেন্টারি, যেখানে সব ভিজ্যুয়ালিই দেখা যাচ্ছে...এর পরও ভ্রমণকাহিনী বইতে এক্সট্রা কি-ই বা থাকতে পারে?
তথ্য হিসাবে সত্যি বলতে বেশি কিছু হয়তো পাওয়া যাবেনা, কিন্তু অনূভুতি ব্যক্ত করায়, ছোট ছোট ডিটেইল বর্ণণা করায়, ওপেন ডিসকাশনে কিংবা ফিলোসফিক্যাল সুক্ষ্ম সুক্ষ্ম দৃষ্টিভঙ্গি গুলো ব্যক্ত করার শক্তি কিন্তু এখনও বইয়ের দখলেই। আর যেকোনো নরমাল ট্যুর দিয়ে আসা পোস্টের ক্লিশে লাইন, '...কোন প্ল্যান ছিলোনা, হঠাৎ করে সবাই মিলে রাজি হয়ে ট্যুরে র্ব্যনা দিলাম'-ও বইতে থাকেনা...:P যাহোক, ভ্রমণ কাহিনী পরতে আমার ভালোই লাগে আসলে (নিজে ঘুড়তে আরও বেশি অবশ্যই)। এই বইটা কেনা মূলতঃ লেখকদের লিস্টি দেখে। ৭টি দেশের বাইরের ভ্রমণ কাহিনী সাতজন লেখক বর্ণণা করেছেন। বালি, আন্দামান, দার্জিলিং, পন্ডিচেরী, কেনিয়া, স্পেন, এবং মেক্সিকো ভ্রমণের দারুণ সব অভিজ্ঞতা। আর সাথে রেহনুমা প্রসূন করেছেন এক চোখ ধাঁধানো প্রচ্ছদ।
বইটা আমার কাছে মোটামুটি ভালোই লেগেছে। শুরুর দিকে নাবিল মুহতাসিম ভাইয়ার লেখা পড়ে মনটা ভরে গিয়েছিলো। এত দারুণভাবে উনি ভ্রমণকাহিনীও লিখেছেন, দারুণ লেগেছে সত্যিকার অর্থেই। মিস্টার ম্যালোরি নামটা আমার মনে থাকবে অনেকদিন! মূলতঃ ওনার কিকস্টার্টটা দিয়েই ভালো লাগা শুরু হয়েছিলো। কিন্তু এরপর ফারিয়া প্রেমার টা মোটামুটি লাগলেও বাকি গুলোতে কেন যেন হারায় গেলাম আমি। অতি বর্ণণা নাকি কিসের যেন একটা অভাব ছিলো মাঝে। আমি বোর হয়ে কতদিন ফেলে রেখেছিলাম। কয়দিন পর পর একটু একটু করে শেষ করছিলাম খানিক কষ্ট করেই মিথ্যা বলবোনা। এরপর শেষ দুটো আবার বেশ ভালো লাগলো। সাবাবা মঞ্জুর আর কৌশিক জামান ভাইয়ের লেখা ছিল সে দুটো। সাবাবা মঞ্জুরের স্পেন ভ্রমণের লেখা এঞ্জয় করেছি বেশ। কিন্তু এই বইতে সত্যিকার অর্থে ফাটিয়ে দিয়েছেন আসলে লেখক কৌশিক জামান ভাই, শেষে এসে। হিউমার আর বেশ মজার গল্প বলার ভংগিতে উনি বর্ণণা করেছেন বালি ভ্রমণের কথা। কিছু জায়গায় হো হো করে হেসেছি একাই। দারুণ লাগলো আসলে ওনার লেখাটা পড়ে, সব অভাব একাই পূরণ করে দিলেন আরকি এমন ব্যাপারটা।
ভালো খারাপ মিলেই বইটা। তাই মোটামুটি বলা। শুনেছি বইটা একেকজনের একেকরকম লেগেছে। আপনিও চেষ্টা করে দেখতে পারেন। আমার ধারণা সব মিলিয়ে ভালোই একটি উপভোগ্য বই এটা। তবে নাবিল ভাই আর কৌশিক জামান ভাই যদি ব্রমণ কাহিনী লেখেন আবার, আমি কিনছি সিওর!
বইটিতে সাতটি ভ্রমণকাহিনী সংকলিত হয়েছে। প্রতিটি কাহিনীর বর্ণনাভঙ্গি ছিল অসাধারণ। ভ্রমণের গল্পগুলো এতো চমৎকারভাবে লেখা হয়েছে মনে হবে যে আপনি নিজের চোখে সবকিছু দেখতে পাচ্ছেন। লেখকের সাথে দার্জিলিং, আন্দামান, মেক্সিকো, কেনিয়া, পন্ডিচেরি, স্পেন, বালি ঘুরে আসতে চাইলে বইটি পড়ুন। যারা ভ্রমণকাহিনী পড়তে ভালোবাসেন তারা এই বইটি অবশ্যই পড়বেন। রেহনুমা প্রসূনের করা প্রচ্ছদটি ভীষণ পছন্দ হয়েছে। শুধুমাত্র প্রচ্ছদের জন্যই এই বইটি কালেকশনে রাখা যায়।
খোলা লোহা গেটটা পেরোতেই এক নিমেষে উপজেলাটা তেঁতুলিয়া থেকে হয়ে গেল ফুলবাড়ি, জেলাটা পঞ্চগড় থেকে হয়ে গেল দার্জিলিং,আর দেশটা বাংলাদেশ থেকে হয়ে গেল ভারত!
দেখিতে গিয়াছি চক্ষু মেলিয়া কৌশিক জামানের সম্পাদনায় সাত জন ভ্রমণপিপাসু ও বইপ্রেমীর লেখা সাতটি ভ্রমণকাহিনী নিয়ে রচিত একটি বই!
পাঠক হিসেবে প্রায় অনেকেরই পছন্দের একটি জনরা হচ্ছে ভ্রমণকাহিনী!আর সেটি যদি হয় এডভেঞ্চারাস তাহলে তো কথাই নেই।বইটিতে ইন্দোনেশিয়ার বালি থেকে শুরু করে আন্দামান,দার্জিলিং,পন্ডিচেরী,কেনিয়া,স্পেন এবং মেক্সিকো ভ্রমণের গল্প বলা হয়েছে।তবে গল্প বলার ধরণ যদি এডভেঞ্চারাস হয়ে যায় তাহলে পাঠকের মন এতোটুকু জানে যে, সেও হতে চলেছে এই ভ্রমণকাহিনির অবিচ্ছেদ্য একটি অংশ!
ঠিক এই জায়গাটিতেই আমি বলবো দেখিতে গিয়াছি চক্ষু মেলিয়া বইটির সব গল্প আমার মনোযোগ খুব সমানতালে টেনে নিতে পারে নি।আমাদের যেকোনো স্থান ভ্রমণকালে যেমন কিছু ইচ্ছে আনমনাভাবেই ছুটে যায়।যেমন ধরুন প্রিয় একটা জায়গা ঠিক করে রেখেছিলেন সেখান যাবেন তো যাবেনই কিন্তু যাওয়া হলো না,কিংবা কোনো একটা পছন্দের জায়গায় একটা ছবি তুলবেন তো তুলবেনই ঠিক করে গিয়েছিলেন কিন্তু তোলা হলো না।এমন অবস্থার অনুভূতি যেমন হয়, বইটি পড়ে মাঝে মাঝে এমনি মনে হচ্ছিল!
তবে সবচেয়ে ভালো লেগেছে মুহাম্মদ আহসান নাহিয়ানের পন্ডিচেরির দিনগুলো!সেইসাথে ভালো লেগেছে গরম লাগে তো দার্জিলিং গেলেই পারো,এমারেল্ড অ্যান্ড ব্লু গল্প গুলি।আমার কাছে মুহাম্মদ আহসান নাহিয়ানের গল্প বলার ধরণ অসাধারণ লেগেছে এবং বেশ তথ্যবহুল, গোছানো ছিল তা পড়ে পাঠক অনেকটাই আরামবোধ করবে।
তাছাড়া বইটির প্রচ্ছদ বরাবরই লোভনীয়। তবে বইটির গল্পগুলোর প্রায় লেখকগণই আমাদের দেশের কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন এর সাথে তুলনা করে আশাহত হয়ে বলেছেন, আমাদের এই দর্শনীয় স্থানগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন! আর আমি বোধ করি আমাদের দেশের ভ্রমনকাহিনী গুলো নিয়েও বই লেখা প্রয়োজন! এতে করে ভ্রমণপিয়াসীদের কাছে অনেকটা সহজলভ্য ও মনের খোরাক মিটানোর পাথেয় হয়ে উঠবে!
ভ্রমণকাহিনী গুলো পড়তে পড়তে একটা বিষয় রিয়েলাইজ কররাম, প্রতিটা মানুষের চিন্তাভাবনা বা দেখার চোখ আসলেই কতটা আলাদা হতে পারে। কোন জায়গা সম্পর্কে একেকজনের লেখায় প্রতিটা বিষয় একেকভাবে এসেছে। সেটা হোক সংস্কৃতি, পথঘাট, মানুষজন, বা প্রকৃতি৷ পজিটিভ, নেগেটিভ দুধরনই আছে। প্রতিটা আলাদা গল্প আলাদা আমেজের। আর ভ্রমণপ্রিয় মানুষ হিসেবে এই বইটা আমায় কতটা আনন্দ দিয়ে সেটা বোধহয় না বললেও চলবে। অনেক তথ্য টুকেছি সারা বই থেকে। কখনো এসব দেশ, শহর দেখতে বের হলে কাজে দেবে। প্রতিজন লেখককের জন্য শুভকামনা।
Fun and varied collection of travelogues. Enjoyed each writers' different approaches, perspectives. What stage of life they were in and how they ended up traveling (budget or bougie), along with the occasional realisations and epiphanies of life that we often feel when traveling. Would like to read more of these.
Most of the stories did not work for me. I only enjoyed গরম লাগে তো দার্জিলিং গেলেই পারো by Nabil Muhtasim and এক টুকরো প্যারিসের সন্ধানে পন্ডিচেরিতে by Muhammad Ahsan Nahiyan