এস.আলম কুরিয়ার থেকে পার্সেল নিয়ে এলাম, পার্সেলের মধ্যে থাকা বাক্স খুলতেই বেরিয়ে এলো স্বর্ণ দিয়ে কারুকার্যখচিত ছোট্ট সুন্দর একটি শিশি। শিশিটির দিকে তাকিয়ে অভিভূত হয়ে গেলাম। বেশ অদ্ভুত তরলে ভর্তি শিশিটি! সেই সাথে পার্সেলে ছিল বাদামী রঙের একটি ডায়েরিও। আশ্চর্য! কৌতূহলের বশবর্তী হয়ে শিশির মধ্যে থেকে একফোঁটা তরল মুখে দিতেই হারিয়ে যেতে লাগলাম ঘুমের রাজ্যে… পঞ্জিকাবর্ষ ১৪০০ মানে কত? ইংরেজি উনিশশ চুরানব্বই! কীভাবে সম্ভব? শিশিতে থাকা তরলের জন্য? আচ্ছা কে এই হরিদাস? আমার উপর তার আক্রোশেরই বা কী কারণ? বর্তমান সময় থেকে এতটা পেছনে চলে আসার কারণ খুঁজতে যখন মরিয়া তখনি ঘুম ভেঙে গেল! কিন্তু শেষটা তো আমাকে জানতেই হবে। আবারও শিশির তরল সেবন করলাম। এবার নিজেকে আবিষ্কার করলাম কয়েক হাজার বছর পূর্বের আদিম ইতিহাসের প্রেক্ষাপট ইজিপ্টে! যেখানে দেবতারা সাম্যবাদীতার অভিনয়ে লিপ্ত।
রেটিং দেখে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন যে বইটা আমার কেমন লেগেছে।সবচেয়ে অবাক হয়েছি এই অখাদ্য বইয়ের গুডরিডস রেটিং ৪.১৮ দেখে।
উপন্যাসের প্লট যথেষ্ট ইন্টারেস্টিং এবং আনকমন।কিন্তু সমস্যা হলো লেখকের লেখায়।একজন লেখক যদি বাক্য বিন্যাস না জানেন,যদি না জানেন লেখার সৌন্দর্য বলে একটা বিষয় তাহলে প্লট যতো সুন্দরই হোক দিনশেষে সেটা একটা অখাদ্য।
বর্তমানে বাংলাদেশে যারা থ্রিলার কিংবা যেকোন ধরনের বই লিখেন তাদের অধিকাংশেরই নিজস্ব পড়াশোনার গন্ডি খুব সীমিত বলে আমার ধারণা।একজন মানুষ যদি জীবনে নাত্র ৫/৭ টা ভালো বইও পড়ে থাকে তারপক্ষেও এই বই শেষ করা কষ্টসাধ্য ব্যাপার।লেখার ভাষা যেন কাঠ,নেই কোন বর্ণনার বিশেষত্ব,নেই পাঠকের আগ্রহ ধরে রাখার প্রচেষ্টা।লেখকের বায়োতে দেখলাম তিনি মেডিকেল শিক্ষার্থী,তিনিও যদি প্রতিধ্বনিকে প্রতিফলন লিখেন তাহলে বিষয়টা কেমন হাস্যকর দাঁড়ায় বুঝতেই পারছেন।
বইটা যিনি লিখেছেন সেই আমিনুল ইসলাম নিজে তার বইটা পড়ে দেখেছেন কিনা সন্দেহ আছে।তার নিজস্ব পাঠপ্রতিক্রিয়া জানার আমার খুব ইচ্ছে হচ্ছে।
লেখকের বায়ো থেকে আরেকটা বিষয় জানলাম যে তিনি ফ্যান্টাসি উপন্যাসের একজন বিশিষ্ট অনুরাগী।সেজন্যই হয়তো ১৯৯৪ সালে যে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা দেখিয়েছেন সেখানকার ঘটনাপ্রবাহ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ফ্যান্টাসির সমতুল্য।তাছাড়া লেখক লিখতে বসেছেন ফ্যান্টাসি উপন্যাস সেখানে কোন কিছু বর্ণনা করতে তিনি ব্যবহার করেছেন 'কিছু একটা' শব্দগুচ্ছ।লেখকের নিজেরই কল্পনা যদি অস্পষ্ট হয় তাহলে বুঝতেই পারছেন পাঠকের উপর ফ্যান্টাসি উপন্যাসের নামে কি অত্যাচার তিনি করেছেন...
এইযে এতো এতো বিলো এভারেজ লেখক (শুধুমাত্র আমিনুল ইসলাম নয়,তাদের প্রধান ব্যক্তি জনাব সাদাত হোসাইনসহ আরও অনেকে) বর্তমানে বাংলা সাহিত্যের দিকপাল হয়ে উঠছেন,তাতে বাংলা সাহিত্যের অবস্থা ভবিষ্যতে কিরকম হবে ভাবতেই গা শিউড়ে উঠছে ...
বইটা লেখকের আয়োজিত গিভঅ্যাওয়ে তে পাওয়া। ফ্যান্টাসি শুনে ভীষণ আগ্রহী হয়েছিলাম কিন্তু বইয়ের শুরুটা মিডিওকোর, মাঝটা একদমই দূর্বল আর শেষটা দারুণ এর হিসেবে পুরো বইটাকে মিডিওকোর মনে হয়েছে। বইয়ে মূল সমস্যা যেটা চোখে পড়েছে তা হলো লিখনশৈলীতে আড়ষ্টভাব সুস্পষ্ট। সুন্দর গোছানো প্লটের গল্পটা পড়ে মনে হয়েছে লেখকের আরো কিছু বলার ছিলো যা তিনি আসলে ১১২ পৃষ্ঠায় মলাটবন্দি করতে পারেননি। ১১২ পৃষ্ঠাকে এম্ফাসাইজ করার কারণ এই বইটাতে ডিটেইলিং এর ভীষণ অভাব বোধ করেছি। ব্যাপারটা অনেকটা এমন পেরেক নিলাম, তক্তা ধরলাম, হাতুড়ি দিয়ে বাড়ি দিলাম, শেষ। কিন্তু ব্যাপারটা মোটেও এরকম হবার কথা ছিলো না। ফ্যান্টাসি উপন্যাস অন্য জনরার উপন্যাসের চাইতে ডিটেইলিং এ বেশি কাজ ডিজার্ভ করে। কারণ এখানে আমরা নতুন একটা ওয়ার্ল্ড, নতুন কিছু নিয়মের সাথে একদমই ফার্স্ট টাইম পরিচিত হই। সেই সাথে বর্ণনাভঙ্গির আড়ষ্টতা আমাকে ভিজ্যুয়ালাইজ করাতে পারেনি। ফ্যান্টাসি উপন্যাসে ওয়ার্ল্ড ভিজ্যুয়ালাইজ না করতে পারলে পাঠক হিসেবে আমি বইয়ে মনোযোগ রাখতে পারিনা। 'শিশি'র পুরো অংশে এমনটা না হলেও বেশিরভাগ অংশেই হচ্ছিলো। মনে হচ্ছিলো এক দৃশ্য থেকে কোন রকম ক্লু ছাড়াই লাফ দিয়ে আরেক দৃশ্যে চলে যাচ্ছি। বেশ কিছু চরিত্রের আগমন ঘটেছে সিরিজের প্রথম বই 'শিশি'তে কিন্তু কোনটাই পরিপূর্ণভাবে পাখা মেলতে পারিনি। ব্যাকস্টোরী নাই বললেই চলে। তবে আশার ব্যাপার হচ্ছে উপন্যাসের শেষটা দারুণ। 'শিশি' মিডিওকোর লাগলেও সিরিজের নেক্সট বই 'আর্থার' পড়ার জন্য আমার বেশ ইন্টারেস্ট জাগছে। সে হিসেবে লেখক স্বার্থক। দেখা যাক, 'আর্থার' আমাকে ভূয়সী প্রশংসা করতে বাধ্য করে কিনা।
শিশি বইটি আমি পড়েছি সবার আগে সম্ভবত, প্রকাশ হওয়ার আগেই। কাহিনি অতি সংক্ষেপে বা অতিদ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া নিয়ে আমার অভিযোগ ছিল কিছুটা আর ফিনিশিংটা বুঝতে কষ্ট হচ্ছিল কেননা অনেক তাড়াহুড়া করে বইটি শেষ করা এমনটা মনে হচ্ছিল। তবে মূলত শিশি, বাটারফ্লাই ইফেক্ট (গডফাদার সিরিজ) এই কাহিনিগুলো পুরাই একটা ইউনিভার্স এর আলাদা আলাদা অংশে ঘটছে। কয়েকটা বই প্রকাশের পরে যখন কাহিনী গুছায়ে আনার পরে সব ক্যারেক্টার ও ইউনিভার্স এর সব কাহিনী এক বইতে আসা শুরু করবে তখন পড়তে সুবিধা হবে জানা কথা। পুরো বিশাল ইউনিভার্স ও সিরিজের জন্য এই বইটা শুধু ভূমিকাস্বরূপ বলা যায়। তাই হয়ত কিছুটা আউলা ঝাউলা লাগতে পারে। ইউনিভার্স এর সব বই প্রকাশের আগে আলাদা আলাদা প্রতিটা বই পড়তে কিছুটা অগোছালো বা কাহিনী বাকি রয়ে গিয়েছে এমনটা মনে হয়, যা হয়েছিল "শিশি" এর ক্ষেত্রেও। আশা করি পরের বইগুলোর মাধ্যমে সিরিজ কমপ্লিট হয়ে পাঠকদের মনে এই চমৎকার ইউনিভার্স শীঘ্রই জায়গা করে নেবে।
This entire review has been hidden because of spoilers.
#বইয়ের নাম-শিশি লেখক-আমিনুল ইসলাম প্রকাশনী-বায়ান্ন প্রকাশনা মূল্য-২০০টাকা ধরন-ফিকশন
#বই_আলোচনা- এস.আলম কুরিয়ার থেকে পার্সেল নিয়ে এলাম,পার্সেলের মধ্যে থাকা বাক্স খুলতেই বেরিয়ে এলো স্বর্ণ দিয়ে কারুকার্য করা ছোট্ট সুন্দর একটা শিশি৷শিশিটির দিকে তাকিয়ে অভিভূত হয়ে গেলাম৷বেশ অদ্ভুত তরলে ভর্তি শিশিটি!সেই সাথে পার্সেলে ছিল বাদামি রঙের একটা ডায়েরিও৷ আশ্চর্য!কৌতুহলের বশবর্তী হয়ে শিশির মধ্য থেকে এক ফোঁটা তরল মুখে দিতেই হারিয়ে যেতে লাগলাম ঘুমের রাজ্যে.... পঞ্জিকাবর্ষ ১৪০০ মানে কত?ইংরেজি উনিশ'শ চুরানব্বই!কীভাবে সম্ভব?শিশিতে থাকা তরলের জন্য?
আচ্ছা কে এই হরিদাস?আমার উপর তার আক্রোশেরই বা কী কারন?বর্তমান সময় থেকে এতটা পেছনে চলে আসার কারন খুঁজতে যখন মরিয়া তখনি ঘুম ভেঙে গেল!কিন্তু শেষটা তো আমাকে জানতেই হবে৷আবারও শিশির তরল সেবন করলাম৷ এবার নিজেকে আবিষ্কার করলাম কয়েক হাজার বছর পূর্বের আদিম ইতিহাসের প্রেক্ষাপট ইজিপ্টে! যেখানে দেবতারা সাম্যবাদীতার অভিনয়ে লিপ্ত৷
#পাঠ_প্রতিক্রিয়া- আমারা মারভেল কিংবা ডিসির কমিক্স ও ফিকশনের মুভি দেখে অভ্যস্ত কিন্তু কখনো বইয়ের পাতায় তাকে ভাবা কিছুটা হলেও অপ্রত্যাশিত ৷বিশেষত বাংলা মৌলিক সাহিত্যে৷সেটা করার মতোই দুঃসাহস দেখিয়েছেন অতি নবাগত লেখক আমিনুল ইসলাম৷লেখকের লেখা প্রথম বই হলো এটি৷যদিও প্রকাশিত ২য় বই৷তিনি একাধিক ডাইমেনশন সৃষ্টির মাধ্যমে একটি নতুন ইউনিভার্স তৈরির চেষ্টা করেছেন৷যেখানে তিনি মোটামুটি সফল৷প্রথমত বাংলা মৌলিক সাহিত্যে এটি একেবারেই নতুন সংযোজন৷তাই কিছুটা ভুল ভ্রান্তি তো থাকতেই পারে৷যেটা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখতে হবে৷নিজের প্রথম বইয়েই যে লেখক এমন একটা সাবজেক্ট নিয়ে কাজ করার সাহস দেখায় নিঃসন্দেহে তিনি অনেক দুর পাড়ি দেবার জন্যই মাঠে নেমেছেন৷এটি একটি সিরিজভিত্তিক বই৷এটিই এই সিরিজের প্রথম বই৷তাই এখানে শুধু ভূমিকার মত করে দারুন গল্পের আভাস দেওয়া হবে এটাই স্বাভাবিক৷অনেকে এটাকে নেগেটি��� ভাবে নিচ্ছেন ৷তাদেরকে বলব এই ভুল থেকে বেরিয়ে আসেন৷আর সিরিজের ২য় বই আর্থার এর জন্য না হয় একটু অপেক্ষা করেন৷তারপর না হয় বলবেন৷ হ্যাঁ তাই বলে কি এর কোন নেগেটিভ দিক নেই তা কিন্তু বলছি না৷গল্পের গাথুনিটা বেশ কিছু জায়গাতে বেশ দুর্বল মনে হয়েছে৷যা মাঝে মাঝে গল্প থেকে দুরে ঠেলে দেয়৷একই শব্দের বারংবার ব্যবহার বেশ দৃষ্টি কটু৷আশা করি লেখক এই সকল দিকে আর একটু যত্নবান হবেন৷
একই সময়ে দাড়িয়ে অতীত,বর্তমান ও ভবিষ্যতে ঘুড়ে আসতে চাইলে "শিশি" একবার পড়তেই পারেন৷
বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টির পর থেকেই নানা রকম সমস্যার শুরু । সময়ের সাথে সাথে সভ্যতার পরিবর্তন ঘটেছে, পরিবর্তন হয়েছে মানুষের জীবনযাত্রায়। কিন্তু মানুষের জীবনের সমস্যার শেষ নেই, মানবজাতি সবসময়েই চেয়েছে সেসবের সমাধান করতে কিন্তু কতটা সফল হয়েছে? আর সাধারণ মানুষের কতটুকুই বা ক্ষমতা, যদি সেসব সমস্যার সমাধানের দায়িত্ব নেয় বিশেষ কোনো টিম, কেমন হয় ব্যাপার টা?
এস এম কুরিয়ার সার্ভিসে ইফতির কাছে একটি পার্সেল এসেছে। প্যাকেট খুলে সবুজ রঙের তরল ভর্তি শিশি আর সাথে একটা বাদামি রঙের ডায়রি পাওয়া গেলো। ডায়েরিতে স্পষ্ট করে কিছু লিখা নেই, যেটুকু লেখা তা পড়ে যা বোঝা গেলো সবুজ তরল পান করে কেউ একজন তার বর্তমান সময় ছাড়িয়ে অন্য সময়ে ভ্রমণ করেছে, মৃত মানুষের সাথে নাকি দেখাও হয়েছে। ব্যাপারটা অবান্তর মনে হলেও, শিশির তরলের ব্যাপারে নিয়ে কৌতুহলও হচ্ছে। ডায়েরির কথা যে সত্যি সেটার কোনো প্রমাণ নেই, সত্যতা যাচাই করার একটাই উপায় তরল টা পান করা। কিন্তু কি আছে এই শিশিতে, কেউ চক্রান্ত করে পাঠায়নি তো? এসব ভাবতে ভাবতে ইফতি শেষমেশ এক ফোটা তরল মুখে দিলো, অদ্ভুত তেতো স্বাদ। আস্তে আস্তে যে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে গেলো...
ঘুম ভেঙে ইফতি নিজেকে একটা পাটখড়ির তৈরি ঘরে আবিষ্কার করলো। আয়নায় নিজের অবয়ব দেখে চিনতে না পেরে বেশ অবাক হয়েছিলো। তবে আরও বেশি অবাক হয়েছিলো দেয়ালে টানানো পঞ্জিকা টা দেখে, সময়টা ১৪০০ সাল মানে ইংরেজিতে ১৯৯৪। শুধু তাই না সবাই ইফতির বদলে তাকে রাসেল নামে ডাকছিলো। প্রথম দিকে অদ্ভুত মনে হলেও, একসময় তার কাছে সব স্বাভাবিক হয়ে গেলো। শুরু হলো ওই সময়ে ফরিদনগর এবং চন্দ্রপুর নামক দুই গ্রামের কিছু মানুষের জীবনকাহিনী। যেখানে ছিলো রাসেল-বিভা নামক দুই তরুণ-তরুণীর প্রেম, পাশাপাশি দুই গ্রামের ধর্ম নিয়ে বিরোধ- সংঘাত। কাহিনীর একটা পর্যায়ে এসে হঠাৎই ঘুম ভেঙে যায় ইফতির। কিন্তু রাসেলের কি হলো সেটা জানার জন্য অস্থির হয়ে যায় সে। আর কোনো উপায় না পেয়ে শিশি থেকে আরেক ফোটা তরল পান করলো। কিন্তু কোথায় রাসেল, গ্রামের বাকি লোকজনই বা কোথায়?
এবার ঘুম ভেঙে ইফতি নিজেকে আবিষ্কার করলো একজন যোদ্ধারূপে, যার নাম হার্সিয়াস। ইজিপ্টের দেবতাদের হয়ে কারে হার্সিয়াস । পিরামিডের খুব কাছাকাছি একটা জঙ্গলের নিরাপত্তার দায়িত্ব তার। ওই জঙ্গলে থাকে এক অদ্ভুত রমণী, যে কিনা দেবীও না আবার সাধারণ মানুষও না। হঠাৎ করে শুরু দেবতাদের মধ্যে মতবিরোধ শুরু হয়, মাথাচাড়া দিয়ে উঠে গোপন শত্রুতা... এতো বছর পরে হঠাৎ করে কেনো দেবতাদের মধ্যে শত্রুতার শুরু হয়েছিলো? শেষমেশ কি হয়েছিলো হার্সিয়াসের? ইফতি কি ফিরে আসতে পেরেছিলো তার বর্তমানে? এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে আপনাকে বইটা পড়তে হবে।
নবীন লেখক আমিনুল ইসলাম এর লেখা প্রথম উপন্যাস 'শিশি', যদিও এটা লেখকের দ্বিতীয় প্রকাশিত বই। শুরুর অংশটা পড়ে বেশ আগ্রহ জাগানিয়া মনে হচ্ছিলো, কিন্তু মাঝের কিছুটা অংশ পড়ে ফ্যান্টাসির চেয়ে সামাজিক উপন্যাস মনে হচ্ছিলো বেশি। কিন্তু অধ্যায় ৯ এর পর থেকে বাকি অংশ টা পড়ে সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি। প্রথম উপন্যাস হিসেবে লেখক বেশ বেশ ভালো লিখেছেন। দুই একটা প্রিন্টিং মিস্টেক ছাড়া বানান ভুল চোখে পড়েনি তবে লেখকের বাক্যগঠনের ক্ষেত্রে কিছুটা দূর্বলতা রয়েছে, উত্তম পুরুষে দেওয়া বর্ণনাগুলোর সময় ব্যাপারটা বেশি চোখে পড়ে। আশাকরি পরবর্তী বইয়ে লেখক এদিকে বিশেষ নজর দিবেন। এমনিতে বইয়ের অফ হোয়াইট পৃষ্ঠা ভীষণ ভালো আমার কাছে,বইয়ের বাঁধাইও বেশ ভালো হয়েছে।
আপনি যদি ফ্যান্টাসি প্রেমী কিংবা যেকোনো জনরার পাঠক হয়ে থাকেন, বইটা পড়ে দেখতে পারেন। রিডার্স ব্লক কাটানোর জন্যও এই বইটা পড়তে পারেন। তবে বইটা উপভোগ করতে চাইলে জন্য একবসায় পড়ে শেষ করবেন। আশা করি আশাহত হবেন না। এই সিরিজের দ্বিতীয় বই 'আর্থার' এর জন্য শুভকামনা রইলো।
কুরিয়ার থেকে ফোন দিয়া কইল আমার নামে একটা পার্সেল আসছে। আমারে তো কেউ পার্সেল পাঠানোর কথা না! ঘটনা কী? আইচ্ছা, গিয়া নিয়া আইসাই দেখি কে কী পাঠাইছে।
গেলাম, আনলাম, খুললাম। একটা শিশি, একটা ডায়েরি। ইজ দ্যাট এ জোক? শিশি দিয়া আমি কী করুম? আর কার না কার ডায়েরি পইড়াই আমার কী লাভ? পড়া শুরু করলাম। শিশি নিয়াই লেখা, কইত্তে আইছে, কাম কী এইসব হাবিজাবি। আবার এমন এক জাগায় গিয়া শেষ হইছে, মন চাইতাছিল ডায়েরির লেখকরে থাপড়ায়া থুইয়া আহি।
শিশিটা খুইল্লা ভিত্রে চাইলাম। কালা, আন্ধার, কিস্যু দেখা যায় না। হাতের তালুতে ওল্টা কইরা ঝাক্কি মারলাম। এক ফোটা তরল পড়লো হাতে, সবুজ টাইপ কালার। জিহবায় ঠেকাইলাম, জম্মের তিতা। অথচ হালায় ডায়েরিতে লেখছে মিষ্টি! ফাজিল কোথাকার।
কিন্তু কিছুক্ষণের মইধ্যেই আমার মাথা পাক দিয়া উঠলো। বিছনায় পইড়া গেলাম। হাত পা অবশ হয়া গেলো। ফান্দে পইড়া বিষ খাইলাম না তো! আমার মত মাইনষেরে বিষই খাওয়াইব কেডায়! তাও আবার এই হ্যাপা কইরা! চোখটা আর খুইলা রাখবার পারলাম না।
চৌখ মেইল্যা দেহি আমি একটা ঘরে। ঘরটা আমার না। পাটকাঠি দিয়া বানানো ঘর। উপরে টিন। বিছনা থিকা নামলাম। কেমন জানি আজব কিসিমের ফিলিং হইতাছিল। হাত পা গুলা মনে হইতাছিল আমার না। ওল্টা পিঠে শাবনূরের ছবি দেওয়া একটা আয়না পাইলাম। তাকায়া দেখলাম.... হ হ যা বুঝছেন তাই। আয়নায় আমি না, আরেকজনের চেহারা। ঘরের বেড়ায় টাঙানো ক্যালেন্ডার দেইখা বুঝলাম সাল ১৯৯৪। খাইছে, কেমতে কী! ট্রাইম ট্রাভেল করলাম নাকি? তাও আবার আরেকজনের শইল্যে?
আস্তে আস্তে মনে পড়া শুরু হইল আমার নাম রাসেল। আমি দুইবার ইন্টার ফেল। গেরামের মাতবর গোছের মানুষ আমার বাপ। আমি এক মাইয়ারে মন দিয়া ভালোবাসি। সে আবার হিন্দু তারে না পাইলে মইরা যাইমু টাইপ। থাউকগা আগের জীবন, এই মাইয়া পাইলে কয়েক জীবন বিসর্জন দেওন যাইব।
ঘটনা ঘটতে ঘটতে খুব খারাপ একটা জায়গায় গিয়া আমার ঘুম ভাঙলো। চায়া দেহি আমার আমার পুরান বিছনায়, মাথার উপরে ফ্যান ঘোরে। কী হইল রাসেলের? আর ঐ মাইয়াটা? আবার আমার যাইতে হইব ঐ জায়গায়। আরেক ফোটা মুখে দিলাম শিশি থিকা। তারপর......
উপরের গল্পসংক্ষেপ পড়ে মনে হতে পারে বাংলা সিনে��ার গল্প। আমারও তাই মনে হচ্ছিলো। তবে পড়তে খারাপ লাগছিলো না। কিন্তু পরের ফোটা মুখে দেয়ার পর নড়েচড়ে বসতে হয়েছে। মূল গল্প এখান থেকেই শুরু। একচুয়ালি মূল গল্প না, মূল গল্পে ঢোকার রাস্তাটা এখান থেকে শুরু। প্রথমার্ধ পড়ে রাগে দুঃখে যদি বইটা ফেলে রাখেন তবেই বোকামি করবেন। অবশ্য ফেলে দেয়ার মতও না, বাংলা সিনেমা টাইপ মনে হইলেও সামনে এগিয়ে যাবার উৎসাহ পাবেন।
যেমনটা বললাম, গল্পের প্রথমার্ধ চাইল্ডিশ মনে হলেও শেষার্ধে গিয়ে পরিণত লেখাই মনে হয়েছে। তবে বর্ণনার ব্যাপারে লেখককে আরেকটু যত্নশীল হতে হবে বলে আমার মনে হয়েছে। গল্পে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় জাম্প করার সময় সাবলীল মনে হয়নি কিছু জায়গায়। শেষে দুই চাপ্টার মনে হচ্ছিল অতি তাড়াহুড়ায় শেষ করা। আরেকটু সময় নিয়ে শেষ করলে ভালো লাগতো।
বানান ভুল তেমন একটা চোখে পড়ে নাই। কিছু টাইপো আছে সেগুলাও পড়তে সমস্যা করে নাই। বায়ান্নর প্রোডাকশন হিশেবে কোয়ালিটি ভালোই। তবে আরেকটু ভালো আশা করেছিলাম। আদর্শ হিন্দু হোটেলের কোয়ালিটি দেখে শিশির কোয়ালিটি ভালো লাগেনি অত।
ছোট্ট বই, পড়তে বেশি সময়ও লাগবে না। যদি হাতে দেড় দুই ঘন্টা সময় থাকে তবে নিয়ে বসে যান, হতাশ হতে হবে না।