প্রেমের মুখোমুখি হওয়ার সময় এই উনিশ-কুড়ি বছর বয়সটি। রুপ, রস, গন্ধের জারণে তৈরি নতুন জীবনে প্রবেশের সময়ও এই উনিশ-কুড়ি বছর বয়সটিই। আর তাই তার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবে এসে পড়ে ভালবাসা, এসে পড়ে প্রেম। এই বই সেই প্রেমের কথাই বলে। যে প্রেমে শুধু সমর্পণ নেই, বরং সময়ের অবশ্যম্ভাবী ছাপের মতো তার গায়ে লেগে আছে হিংসে, অহংকার, বিদ্বেষ, রহস্য, প্রতিযোগিতা আর প্রতিশোধ। লেগে রয়েছে মফস্সলের শেষ বিকেলের আলো, পাহাড়ি পাইন বনের হাওয়ার ফিসফিসানি, বরফ পড়ার শ্বাস। জীবনকে নতুন করে চেনায় এইসব প্রেমের গল্প। জানায় তার চোরাবালির বাঁকের কথা। কুলুঙ্গিতে জ্বেলে রাখে প্রদীপ। আর সর্বোপরি বলে, আসলে জীবন ততটাও খারাপ নয়। এই সমস্ত গল্প প্রেমকে নতুন আঙ্গিকে এনে রাখে সবার সামনে। কষ্টের কথা, প্রেমের কথা আর ভালবাসার মানুষের সঙ্গে একাত্ম হয়ে থাকার কথা জানায় মজা আর খুশির চিনি-লবণ মিশিয়ে। এই বই আসলে জীবন শুরুর সময়ের উৎসবের কথা বলে, নানা রঙে ছোপানো এক মন ভাল করা আকাশের কথা বলে।
বসন্ত ও একটি চেরি গাছ স্মরণজিৎ চক্রবর্তীর সমস্যা সোনম কপুরের স্বয়ম্বর গান-S অফ নবারুণ কণিষ্কর সেতুবন্ধন মিথ্যুক ফোর্থ ওয়াল সেলফি ধাপ্পা অনুঘটক হিজু বাগুইআটির ব্র্যাড পিট সুপ আর ম্যান অরণ্যদেব NO হন্যতে
স্মরণজিৎ চক্রবর্তীর জন্ম ১৯ জুন ১৯৭৬, কলকাতায়। বর্তমানে দক্ষিণ কলকাতার বাসিন্দা। পৈতৃক ব্যবসায় যুক্ত। প্রথম ছোটগল্প ‘উনিশ কুড়ি’-র প্রথম সংখ্যায় প্রকাশিত। প্রথম ধারাবাহিক ‘দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত। শৈলজানন্দ স্মৃতি পুরস্কার ২০১৪, এবিপি এবেলা অজেয় সম্মান ২০১৭, বর্ষালিপি সম্মান ২০১৮, এবিপি আনন্দ সেরা বাঙালি (সাহিত্য) ২০১৯, সানডে টাইমস লিটেরারি অ্যাওয়ার্ড ২০২২, সেন্ট জেভিয়ার্স দশভুজা বাঙালি ২০২৩, কবি কৃত্তিবাস সাহিত্য পুরস্কার ২০২৩, উৎসব পুরস্কার ২০২৪, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড ২০২৪, আনন্দ পুরস্কার (উপন্যাস: '‘শূন্য পথের মল্লিকা') ২০২৫ ইত্যাদি পুরস্কারে সম্মানিত ।
আপনি স্মরণজিৎ চক্রবর্তীর বই পড়বেন কি না, সেই দায় খোদ আপনার। আমি স্বপক্ষেও কিছু বলবো না, বিপক্ষেও নয়। তাও ধরুন, কোনো এক দিন হঠাৎ একটা বইয়ের দোকানে ঢুকে পড়লেন। 'হঠাৎ' বলছি, কারণ, দুর্ঘটনা জিনিসটা হঠাৎ করেই ঘটে। (আপনি যখন এই সাইটে রয়েছেন, এবং আমার এই লেখা পড়ছেন, তার মানে ধরে নিতে হয়, এসব দুর্ঘটনা আপনার জীবনেও আকছার ঘটে)
যাই হোক, এইবারে আপনি 'হঠাৎ করে' এই বইটি আবিষ্কার করলেন।
করলেন তো করলেন, সাথে আবার ঝা-চকচকে প্রচ্ছদের লোভে ও আনন্দের ফিটফাট পরিবেশনার মোহে পড়ে গেলেন। বিশ্রী অ্যাকসিডেন্ট, আরকি। কি আর করবেন, নিরুপায় হয়ে বইটি হাতে তুলেই নিলেন। এবং পেলেন সর্ব সাকুল্যে ১৭খানা ছোট-বড় প্রেমের গল্প। বুঝলেন অধুনা বিলুপ্ত উনিশ-কুড়ি পত্রিকার পাতায় এককালে প্রকাশিত গল্পগুলো, আর যাই হোক, ওজনদার নয়। বরঞ্চ কতটা যেন হাইড্রোজেন বেলুন ন্যায় হালকা। অন্যমনস্ক হয়েছেন কি, পাখি আকাশপথে বিলীন!
গল্পগুলো একান্তই সহজপাঠ্য। লেখকের ট্র্যাডিশনল স্টাইলে, মিষ্টি গদ্য, নিরলঙ্কার সংলাপ, সাথে হালকা কমেডির ছোয়া। তবে আর যাই করুন, দয়া করে আমার মতন হবেন না। গল্পগুলো একসাথে একই দিনে পড়বার চেষ্টা করবেন না। ওতে খুব জলদি একঘেঁয়েমি সেট-ইন্ করে যায়। মনে হয়, একই গপ্পো বারংবার লুপে পড়ছি না তো? তবে, লেখক এখানে কিছুটা আত্মসচেতনও। দৃষ্টান্ত হিসেবে রইল বইয়ের দ্বিতীয় গল্প 'স্মরণজিৎ চক্রবর্তীর সমস্যা'! যেটাতে আবার চতুর্থ দেওয়াল ভেঙে টেঙ্গে একাকার করছেন একেবারে...
কিন্তু আজ মেয়েটা কথা বাড়াল। একটু জোরে চেঁচিয়ে বলল, “আপনি স্মরণজিৎ চক্রবর্তী? প্রেমের গল্প লেখেন?”
আমি গম্ভীর হয়ে বললাম, “শুধু প্রেম নয়, আরও অনেক কিছুই লিখি।”
“দূর, আমি তো শুধু প্রেম ছাড়া আর কিছুই দেখি না লেখায়। অন্য কিছু লিখতে পারেন না?”
“অন্য কিছু মানে?” আমি যথাসম্ভব লেখকত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করে জিজ্ঞেস করলাম।
“চে গেভারার নাম শুনেছেন? চাইল্ড টেররিস্ট বোঝেন? ল্যান্ড মাফিয়া জানেন? ম্যালনিউট্রিশন ব্যাপারটা জানেন? এসব নিয়ে জ্বালাময়ী লেখা লিখতে পারেন না? সব সময় অত প্রেম-প্রেম করে হেদিয়ে মরেন কেন?”
আমি কিছু বলার আগেই পাশ থেকে অনিন্দিতা এসে বলল, “আসলে নিজে কোনওদিন প্রেম করেনি তো, তাই ফ্রাস্ট্রেশনটা গল্প লিখে মেটায়।”
তাহলে আর কি, আপামর বলিউডি ধাঁচে 'পেয়ার হোতা কায়ি বার হ্যায়' মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে বইটা পড়েই ফেলুন। আবার সবটা নাও পড়তে পারেন। সেরকম হলে বইটি নাও কিনতে পারেন, সত্যি বলছি, আমার কিস্যু এসে যায় না। তবুও বলবো, যদি ম্যানেজ করতে পারেন, তবে বইয়ের শেষ লেখাটি অবশ্যই পড়ুন। গল্প না বলে, 'লেখা' কেন বললাম, সেটা পড়লেই বুঝতে পারবেন। লেখাটির নাম 'মৌসুমী মেঘের পর্যায় সারণী'। এর চেয়ে বেশি জানানো বোধহয় সমীচীন নয়। ওদিকে ফালতু বকে বকে আমার আঙুলগুলো বিদ্রোহ জানালো বলে। মাফ করবেন।
This book is a collection of love stories, meant for the teen-agers mainly. Though I have left behind my teens long ago, still I thoroughly enjoyed reading it. The stories are suffused with innocence of teen-age and the first encounter with LOVE, which leaves a lasting impact on our minds for the rest of our lives. These stories are like the first shower of monsoon-- fresh and make you craving for more.
স্মরণজিৎ-এর ছোট গল্প পেলে ভালো-খারাপের আশা না রাখাই ভালো। গোগ্রাসে পড়ে ফেলা যায়। খুবই সাবলীল লেখার স্রোত আর বাহারী সব চরিত্রের নামের (যেটা স্মরণজিৎ চক্কোত্তির একটা বৈশিষ্ট) ভিড়ে মিশে গিয়ে কখন যে পেপারমিন্টের বর্ষণ আপনাকে আচ্ছন্ন করে ফেলবে তা বোঝা দায়।