"Between my finger and my thumb The squat pen rests; snug as a gun.
Under my window, a clean rasping sound When the spade sinks into gravelly ground: My father, digging...."
('Digging', Seamus Heany)
আইরিশ কবি শেইমাস হিনির মতোই তিনি রাজনীতির ইতিহাস আর ইতিহাসের রাজনীতি লিখে যান। বিশ্ব তাঁকে ডাকে। পূর্বপুরুষের রক্তও। এ-ই বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর - বাংলাদেশের হাতেগোণা "সক্রিয়" সাহিত্যিকদের একজন।
১৯৩৬ এ জন্মানো সমাজ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক বহু দেশে অধ্যাপনা করেছেন। ষাটের বেশি গ্রন্থপ্রণেতা জাহাঙ্গীরের কলম গদ্যে-পদ্যে-শিল্প-সমালোচনায় সমান চমকপ্রদ, চিন্তাজাগানিয়া। 'বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার" পেয়েছেন ১৯৬৯ সালে। মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার সঙ্গে নিরন্তর লড়াইয়ের একটি স্বীকৃতি: 'জাহানারা ইমাম স্মৃতি পুরস্কার'।
প্রথমে বলব, বইটা পড়বেন। লেখকের খুব বেশি চর্চা নাই। তবে লেখক বেশ ভালোই লেখেন..... অনেক নতুন লেখক ই তো আমরা পড়ে দেখি,experiment করে দেখি। তো খারাপ লাগুক বা ভালো, এই বইটা পড়ে দেখবেন। বইটা pdf দেখতে গিয়ে হঠাৎ আবিষ্কার করা। তারপর প্রথম দুটা গল্প পড়ে কি যে ভাল লাগলো!! আমরা বাচিয়ে না রাখলে, চর্চা না করলে লেখক কেমনে বাঁচবে বলোন!
বইটি হলো ছোটগল্পের বই। মোট ১০টি গল্প আছে এতে। আমি বলছি না লেখক একদম খুব ভাল লেখেন। কয়েকটা গল্প ভালোও লাগেনি। তবে অনেক বেশি ই পেয়েছি আশার চেয়ে ❣️
লেখকের লেখা বেশ সুন্দর! একটা কাব্যিকতা আছে লেখাতে। অগুছালো স্টাইলে বর্ণনাভঙ্গি, যা আমার বেশ ভাল লেগেছে। আর প্রায় গল্প হলো সংগ্রামী ধাঁচের, আর লেখকের লেখাতে সেই রক্তগরম, সংগ্রামী মনোভাব বেশ ভালোভাবে উঠে এসেছে
যদি একটা ভালো বইয়ের খোঁজ পান, পড়ে ফেলুন। যদি কোন বই পড়ে ভালো লাগে দশ জনকে বইটা পড়তে বলুন।
শেলফে না পড়া বই। ফোনে ডাউনলোড করা বই তার চেয়েও বেশি। অজস্র লেখক, অজস্র বই। তার মধ্যে নতুন নাম শুনি একজন লেখকের৷ নাম বোরহান উদ্দিন খান জাহাঙ্গীর। বই বারুদের গন্ধ চারধারে। আশি পাতার ছোট একটা বই। বলতে গেলে একদমে পড়লে এক ঘন্টাও লাগে না। কিন্তু আমি প্রায় দুই মাস ধরে বইটা পড়েছি। লোডশেডিংয়ে, বিয়ে বাড়িতে আড্ডার ফাঁকে, বাসের জ্যামে, অলস দুপুরে, বিরক্ত বিকেলে। চেয়েছিলাম বইটা যেন শেষ না হয়।
বারুদের গন্ধ চারধারে। কিন্তু বইটা পড়ার সময় আমি অন্য একটা গন্ধ পাচ্ছিলাম। মস্তিষ্কে এক ভালো লাগা অনুভুতি পাই। গল্পের বই? গল্পগুলো কবিতা হলেও হতে পারতো। এখানে গল্প কম, ছন্দ বেশি। কাহিনীর গভীরতা তেমন নেই। তবে লেখনী টেনে নিয়ে যাবে শেষ পর্যন্ত।
লেখকের গল্প লেখার ধরণটা খুবই ইউনিক। কোন কঠিন শব্দের ব্যবহার করেননি তিনি। প্রচলিত শব্দগুলো এমনভাবে ব্যবহার করেছেন, মুগ্ধ হতে বাধ্য হয়েছি। ধরা যাক, লেখক শব্দের বাগান করেছেন। আর সেই শব্দগুলো দিয়ে সযত্মে মালা বানিয়েছেন তিনি। একটা বাক্যের সাথে পরের বাক্যের ছন্দ পড়তে পড়তে একটা ঘোর তৈরী করে।
বেশ অনেকগুলো গল্প আছে বইটাতে। কৃষি বিপ্লব করতে গিয়ে, বানেসা পরীর গল্প, আমার বাঁচার দরকার নেই গল্পগুলো খুব ভালো লেগেছে। একটা গল্প এভারেজ। কিন্তু, বাকি গল্পগুলো অসাধারণ।
ব্যস্ততার ভিড়ে কখনো যদি হাঁপিয়ে যান, পাঁচ মিনিট সময় পেলেও এখান থেকে একটা গল্প পড়ার অনুরোধ রইল। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, সচেতন থাকুন। ধন্যবাদ। 🙂
অচেনা লেখক, অচেনা কিছু গল্পে মুগ্ধ করে গেলেন। কাব্যিক ধাচে লেখা এই গল্পগুলো মনে হচ্ছে গল্পের চেয়েও বেশি। নিরস্ত্র শরীর নিয়ে,ওল্ডম্যান,আমার বাঁচার দরকার নেই,মধ্যরাতে লন্ঠন হাতে নামক গল্পগুলো মনে থাকবে অনেক। ১০ গল্পের এই সংকলন মাত্র ৮০ পাতার। পড়তে পারেন চাইলে।