Jump to ratings and reviews
Rate this book

থোড় বড়ি খাড়া

Rate this book
কলকাতার মেয়েদের জীবনের যেসব খুঁটিনাটি লোকচক্ষের আড়ালেই থেকে গেছে, তার মধ্যে রয়ে গেছে সামাজিক ইতিহাসের অমূল্য সম্পদ। কল্যাণী দত্ত জনশ্রুতি, ব্যক্তিগত স্মৃতি, পুরোনো দুষ্প্রাপ্য বই থেকে সযত্নে সংগ্রহ করেছেন সেই সম্পদের এক বিরাট আকর।

131 pages, Hardcover

Published January 1, 1992

4 people are currently reading
50 people want to read

About the author

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
3 (21%)
4 stars
9 (64%)
3 stars
0 (0%)
2 stars
2 (14%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 5 of 5 reviews
Profile Image for Taznina Zaman.
251 reviews63 followers
April 29, 2022
অতিশয় উপাদেয় একখানা বই। বলতে পারেন, বই কি খাবার না কি যে স্বাদ- বিস্বাদের প্রশ্ন আসবে? আসলে আমার মতে বই দুই ধরনের। এক রকম বই গড়গড়িয়ে পড়ে যাবেন, ভাবনা চিন্তার অবকাশ তাতে থাকবে না। দ্বিতীয় শ্রেণীর বইয়ে আপনাকে প্রতিটা বর্ণ খুঁটিয়ে পড়তে হবে, মর্মোদ্ধার করবেন, সারবত্তা বুঝবেন, পজ দেবেন তারপর আবার পড়া শুরু করবেন। কল্যাণী দত্তের 'থোড় বড়ি খাড়া' বইটা দ্বিতীয় শ্রেণীতেই পড়বে নিঃসন্দেহে।

বইয়ের ভূমিকায় বলা আছে বাঙালী (কলকাতার) অন্তঃপুরিকাদের জীবন যাপনের একটা ধারনা দেয়ার চেষ্টা করেছেন লেখিকা। কিন্তু বইটা যতই পড়বেন ততই খেয়াল করবেন মধ্যবিত্ত বাঙালীর অন্দরঘর পেরিয়ে এই বইয়ে উঠে এসেছে তাঁদের জীবনযাত্রা, পালা পার্বণ, তৎকালীন রীতিনীতি আচার বিচারের নানা খন্ডচিত্র, যার মূল্য বিচার করতে গেলেও এই বইয়ের হিস্টোরিক্যাল ভ্যালু অনেক। বইটি বারোটি অধ্যায়ে বিভক্তঃ

১. কেন লেখা (ভূমিকা, ঠিক অধ্যায় বলা যাবে না)
২. ঘরদোর
৩. ভেতর বাড়ি
৪. ঠাকুর ঘর
৫. রান্না ভাঁড়ার
৬. মাছ
৭. আম
৮. তত্ত্বকথা
৯. গয়নাগাঁটি
১০. মেয়ে মহল
১১. দোয়াত কলম
১২. খাঁচার পাখি

শ্রীমতী কল্যাণী দত্তের লেখার হাত খুব ভালো, স্মৃতিশক্তি আরো ভালো। বইটাকে না বলা যায় ইতিহাস প্রসূত, না বলা যায় স্মৃতিকথা। দুইয়ের মিশ্রণ বললেই ভালো হয়। আবার কিছু তথ্য সংগ্রহে লেখিকা সাহায্য নিয়েছেন তার আত্মীয়া, পরিচিতা কিংবা বন্ধুপ্রতীমদের। যেহেতু বইয়ের ঘটনাবলীর সময়কাল বঙ্কিমচন্দ্রের আমল থেকে দেশভাগ হওয়া পর্যন্ত, সেহেতু তৎকালীন লেখক লেখিকাদের স্মৃতিকথা, গদ্য বা পদ্য থেকেও রেফারেন্স নেয়া হয়েছে বিস্তর। বইয়ের পরিবেশ আর আবহের সাথে মিল রাখতে তিনি ব্যবহার করেছেন সেকেলে কলকাতার ভাষা, যার জন্য আমি সব শব্দের মানে ঠিকমতো বুঝতেও পারিনি, তবে চেষ্টা করেছি প্রতিটি শব্দ খুব মন দিয়ে পড়তে। যার জন্য মাত্র ১৩৩ পৃষ্ঠার বই পড়তে আমার সময় লেগেছে তিন দিন 😄😄

ইন্টারেস্টিং সব বিষয় পড়লাম। যেমনঃ সেকালে প্রতিটা গৃহস্থবধূর বেডরুমে থাকতো 'খেলনার আলমারি'। কারন তাঁদের বিয়ে এত ছোট বয়সে হতো যে কনের কান্না থামাতে তত্ত্বে দেয়া হতো রাশি রাশি খেলনা, সেই খেলনাই সাজানো হতো সেই আলমারিতে। মাছ, আম এই দুই অধ্যায় পড়তে গিয়ে রোজার মধ্যে রীতিমতো কালঘাম ছুটে গিয়েছিলো। এত মজার মজার সব বর্ণনা যে আমি রেকমেন্ড করবো অভুক্ত অবস্থায় এই দুই চ্যাপ্টার না পড়তে। গয়নাগাঁটির বিবরণ পড়তে পড়তে রীতিমতো বিষম খাবার যোগার হয়েছে। অবাক হয়ে ভেবেছি, এত রকমের পূজো বিধিনিষেধের মধ্যেও মহিলারা ঘর সংসার, বাচ্চা কাচ্চা এত নিপুণভাবে সামলাতেন কীভাবে! আবার আনন্দ পেয়েছে জ্যোতির্ময়ী দেবীর স্বাধীনতায়, মুরলা বসুর দুর্ভাগ্যে (এই বইটি তাঁকেই উৎসর্গ করে লেখা)। পূর্ণেন্দু পর্ত্রীর আঁকা ছবিগুলো বইয়ের স্বাদ বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণে।

সবশেষে একটা টুইস্ট দিয়ে শেষ করি।
" ইন্তি বিন্তি টাপা টেন্তি টান টুন টাসা
সাহেব বাবুর বৌ এসেছে দেখতে ভারি খাসা।"

হালের ক্রাজ বেলাশুরু ছবির 'টাপা টিনি' গানের লিরিকস যে সেই প্রায় একশো বছর আগের, তাই বা কে জানতো!!!

জানি, লেখা অনেক বড় হয়ে গেলো, কিন্তু বইটা পড়ার যে আনন্দ যে উচ্ছ্বাস আমি পেলাম তার ভাষান্তরে এটি অতি সামান্য। পুরাতন কলকাতার জীবনাচরণ বিষয়ে যারা আগ্রহী, এই বই তাদের জন্য মাস্ট রিড। 🥰🥰
Profile Image for Shotabdi.
822 reviews200 followers
July 9, 2023
চমৎকার পুরনো কথা জানা যায়। এমন বই অনেক দিন ধরেই খুঁজছিলাম।
Profile Image for Monisha Mohtarema.
86 reviews2 followers
January 20, 2024
'থোড় বড়ি খাড়া, খাড়া বড়ি থোড়'।


এটি বহুল ব্যবহৃত একটি বাঙালি প্রবাদ। যার অর্থ 'বৈচিত্র্যহীন'।‘থোড়’ হল কলা গাছের কাণ্ডের ভেতরের সাদা লাঠির মতো নরম অংশ। ‘বড়ি’ আমাদের অপরিচিত নয়। কলাই বা মটর বা মুসুরি ডাল বেটে কড়া রোদে শুকিয়ে তৈরী শক্ত গুটির মতো ছোট ছোট খাদ্যদ্রব্যের নাম বড়ি।আর ‘খাড়া’ মানে সজনের ডাঁটা।



বাংলার কোনও এক গ্রামের জনৈক অভাবী মানুষ নাকি প্রায় প্রতিদিন থোড়, বড়ি ও খাড়া দিয়ে তৈরি তরকারি সহযোগে ভাত খেতেন। তাঁকে যদি জিজ্ঞেস করা হত যে, তিনি কী দিয়ে ভাত খেয়েছেন, তবে তিনি কখনও কখনও বলতেন ‘থোড়-বড়ি-খাড়া’ দিয়ে, আবার কখনও কখনও একই কথা না বলে বলতেন, ‘খাড়া বড়ি থোড়’ দিয়ে। অর্থাৎ তরকারির উপাদান এক, নামটি শুধু একটু এদিক ওদিক করে বলা। সেই থেকেই ‘থোড় বড়ি খাড়া, খাড়া বড়ি থোড়’-এর উৎপত্তি।


এবার আসি কল্যাণী দত্তের প্রথম বই থোড় বড়ি খাড়া একটি আশ্চর্য কাহিনি সংকলন। উনিশ শতকের মধ্যভাগ থেকে বিশ শতকের গোড়ার দিকে বাঙালি হিন্দু অন্তঃপুরিকাদের যাপনকথা এই বই জুড়ে রয়েছে। যাঁদের কেউ চেনেন না, যাঁরা সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত নন, যাঁদের কথা জানতে-শুনতে-পড়তে সাধারণ পাঠক-শ্রোতার তেমন কোনও ‘আগ্রহ’ নেই—এই বই তাঁদের নিয়ে।এই বইটি একটি নন ফিকশন বই।আসলে নন ফিকশন বইয়ের তেমন রিভিউ দেয়া যায় না।কারন নন ফকশন মানেই এর সাথে সত্যঘটনা জড়িত।


বইটিতে ১২ টি অধ্যায়।

•কেন লেখা

•ঘরদোর

•ভেতর বাড়ি

•ঠাকুর ঘর

•রান্না ভাঁড়ার

•মাছ

•আম

•তত্ত্বকথা

•গয়নাগাঁটি

•মেয়েমহল

•দোয়াতকলম

•খাঁচার পাখি



'ঘরদোর' অংশে পাচ্ছি সেকেলে বাড়িগুলি ঘরের বিন্যাসের বিবরন।ঘরের আসবাবপত্র আর টুকিটাকি জিনিস পত্রের বিবরণ। দেখতে পাচ্ছি এইসব গৃহিণীদের শোবার ঘরে থাকত প্রচুর খেলনাপাতি, পুতুল ইত্যাদি। আট, নয়, দশ বছুরে যে বালিকাটি বিয়ে হয়ে সম্পূর্ণ অচেনা এক বাড়ীতে যেত, তার কান্না থামানোর জন্যই প্রয়োজন হত প্রচুর খেলনার।সেই থেকে গায়ে হলুদ আরচড়কে খেলনা দেবার রেওয়াজ দাঁড়িয়ে যায়। জ্যোতির্ময়ী দেবী স্মৃতিকথায়

লিখেছেন, তাঁর বিয়ের সময় (১৯০৪ সাল) কুড়ি বাইশ থালা খেলনা, পুতুল,তখনকার দিনের একশো দেড়শো টাকার জিনিস তত্ত্বে এসেছিল। অত সব খেলনা দেখে দশ বছর বয়েসের কনের বিষণ্ণ মুখেও হাসি ফুটেছিল। তা শোবার ঘরে সেই কাঁচের আলমারিতে শোভা পেত। যেমন-সোনার সিঁদুর কৌটো, জাঁতি, কাজললতা আর খড়কে। রুপোর ঝিনুক-বাটি, থালা গেলাস আর ছোটো ঘড়া।


'ভেতর বাড়ি'তে তৎকালীন একান্নবর্তী পরিবারের কিছু খন্ডচিত্র পাই। সেই তখন,যখন মধ্যবিত্ত অধ্যাপকের বাড়িতেও সবসময় বিশ-তিরিশজন লোক থাকতই। পালেপার্বণে যা পঞ্চাশ-ষাটজন হেসেখেলেই হয়ে যেত। সেই মধ্যবিত্ত পরিবার, যা তার ফুল ও কাঁটা দুই নিয়েই বিরাজ করেছে। কলকাতার যৌথ পরিবার অনেকসময়ই একটি বাড়িতে আবদ্ধ থাকত না, প্রায় গোটা পাড়া জুড়ে শেকড় গেড়ে বসত। সবাই সবাইকার হাঁড়ির খবর রাখত, সুখে দু:খে ছুটে আসত, নিন্দেমন্দ, ঝগড়াঝাঁটি, কেচ্ছা-কেলেঙ্কারি সবেরই ভাগাভাগি ছিল। সুগন্ধ বা শৌখিনতা ছিল না, তবে একটা অকপট, অমার্জিত রুপ ছিল।বেলা আটটা না বাজতে আপিসের বাবুদের ভাতের তাড়া শুরু হত। রাঁধুনি-বামুন থাকলেও বউ-মেয়েরা তটস্থ থাকতেন এই সময়টা।বাবুদের পরে খেতে বসত ইস্কুল কলেজের পড়ুয়ারা, তারপরে কুচোকাচা, রুগিদের, বুড়োদের মর্জিমাফিক খাইয়ে তারপর বাড়ীর মেয়েবউরা খেতেন, এরপরে ঝি-চাকরদের ভাত বেড়ে দিয়ে তবে ��াড়ীর গিন্নী যখন খেতে বসতেন, তখন প্রায়ই মাছ তরকারী কম পড়ে যেত। পহে থাকত ছ্যাঁচড়ার কাঁটা, চচ্চড়ির ডাঁটা, পাতলা ডাল ও পাথরের খোরায় পুঁটি ও মৌরলা মাছের তলানি অম্বল। তাই দিয়েই তৃপ্তি সহকারে খেতেন তাঁরা, কেউ কেউ আনিয়ে নিতেন উড়িয়া দোকানের ফুলুরি।


মায়ের রান্না আর বউয়ের রান্না নিয়ে বাংলায় অসংখ্য ছড়া চালু আছে। দুই বাংলার দুটি ছড়া তুলে দেবার লোভ সামলাতে পারলুম না। প্রথমটি এপার বাংলার-


লাউ করে হাউ হাউ কে রেঁধেছে?

আমি তো রাঁধিনি বাবা, বউ রেঁধেছে।

আহা, তাই তো অভাগা লাউ মধু হয়েছে।


অন্যটি ওপার বাংলার ঢাকার-


মায়ে রাইন্ধে যেমন তেমন, 

বুইনে রাইন্ধে পানি, 

আবাগি যে রাইন্ধা রাখে চিনির টুকরা খানি।


এক আলুরই কত রকমফেরের কোটার চলন ছিল-ঝোলের, ডালনার, চচ্চড়ির, শুকুনির, ভাজার, আলাদা আলাদা কোটা হত। কূটনো কোটার ওপরও ছিল কত ছড়া-


তুমি কেমন বড়োমানুষের ঝি

তা কাঁচকলাটা কূটতে দেখে খোসায় বুঝেছি।


খাওয়াদাওয়ার পাট শেষ হলে বিশ্রামের জন্যে অবেলায় একটু শুতেন গিন্নিরা-কেউ বা একখানি নবেল হাতে, কেউ বা রামায়ণ মহাভারত নিয়ে। কমবয়েসি মেয়ে বউয়েরা দুপুরে গল্পগাছা করতে করতে সেলাইফোঁড়াই, নানারকম এমব্রয়ডারি, সলমা চুমকি জরির টিপ নিজেদের কাপড়ে বসাতেন। এছাড়া কুরুসের লেস, খুঞ্চেপোষ, চটের ও কার্পেটের আসন বুনতেন, রবি বর্মার ছবিতে কাপড় পরাতেন, মিলের শাড়ির পাড় জুড়ে জুড়ে বাক্সের ঢাকা, কাঁথা সেলাই করতেন।


'ঠাকুরঘর'এ যেমন বাড়ির স্থায়ী গৃহদেবদেবী বিবরণ আছে, তেমনই আছে বারো মাসে তেরো পার্বণের কিছু কিছু বিবরণ। লক্ষ্মী ও সত্যনারান পুজো প্রায় সব বাড়ীতেই হত। প্রত্যেক বাড়ীতেই কোনো শুভ অনুষ্ঠানের পর সত্যনারায়ন পুজো দেবার বিধি ছিল।


'রান্না ভাঁড়ার' এর শুরুতেই একটি মজার ঘটনার উল্লেখ পাই। বেলতলার লাহিড়ী গিন্নীদের রাঁধিয়ে বলে সুনাম ছিল। তা লেখক তাঁদের কাছে একবার মাছের কি একটি রান্না শিখতে চাওয়ায় বড়বৌরানী সখেদে বলেছিলেন , "শেখাতে তো অনিচ্ছে নেই বাছা, সেই উনুন ধরানো থেকে কড়া নামানো সবই দেখাতে পারি, কিন্তু দু-চারটে কথা তো না বললেও নয়। যেমন উনুনটি ধরানোর জন্য কাঠকয়লার সঙ্গে প্রচুর ভালো গুড়ের মুড়কি দিও। তবে যে আঁচটি উঠবে সেই মুড়কির ভাপেই রান্নার 'সদ' বাড়বে।" বলা বাহুল্য লেখক যেসব রান্নাঘর দেখেছেন, সেখানে উনুন ধরানোর অনুপানের সঙ্গে মুড়কি ছিল না।


বাসনকোসনের মধ্যে কাঠের, কাঁসার, লোহার ও শুদ্ধ বাসন বলতে তামা ও পাথরের বাসনই প্রচলিত ছিল। ভাঁড়ার ঘরে জমা থাকত সোমবচ্ছরের বড়ি, আচার, কাসুন্দি, আমসি, আমচুর ও নানারকম মশলা। এছাড়াও থাকত বাঘের নখ, হরিণের শিঙ, কুমিরের দাঁত, শজারুর কাঁটা, সমুদ্দুরের ফেনা, ঘেঁচি কড়ি ইত্যাদি। এইসব উনকুটি চৌষট্টি নিজেদের আর পড়শীদের জন্য সাজিয়ে গিন্নীরা ভারী তৃপ্তি পেতেন।


এমনি ভাবেই বইয়ের প্রতিটি অধ্যায়ে রয়েছে সেকালের নানা ইতিহাস। বইটি ইতিহাসের জলন্ত নথিপত্র। কি নেই এই বইটিতে।প্রতিটি অধ্যায়েই লেখিকা গদ্যের অকারে দিয়েছেন সব কিছুরই বিশদ বর্ণনা।যারা নন ফিকশন পড়তে ভালোবাসেন,যাদের নন ফিকশন নিয়ে আগ্রহ আছে এবং যারা পুরোনো কলকাতাকে নিজের কল্পনার চোখে দেখতে চান তারা অবশ্যই বইটি পড়বেন।বইটির অলংকরণ থেকে প্রচ্ছদ সবই দূর্দান্ত।
Profile Image for Tisha.
40 reviews62 followers
March 17, 2025
বিকেলবেলা দাদি নানীরা যখন তাদের নাতি নাতনিদের গোল করে বসিয়ে তাদের সময়ের নানান গল্প বলতো, কল্যাণী দত্তের এই বই সেই মুহূর্তকে মনে করিয়ে দিয়েছে বারবার।
কলকাতার মেয়েদের সাথে জড়িয়ে আছে এমন কোনকিছুই যেন বাদ যায়নি এই আলোচনা থেকে। নানান জায়গা থেকে তথ্য,কিংবা নিজের স্মৃতি থেকেই কুড়িয়ে নিয়েছেন সেইসব পুরোনো কথা।
একান্নবর্তী পরিবারের মধ্যেই যেহেতু বেশিরভাগ গল্পের শুরু সেটা ঘরের আসবাবপত্র থেকে শুরু করে রান্নাঘরের নানান পদের রান্না আর তার ইতিহাসের বিস্তর বর্ণনা দিয়েছেন। শুনিয়েছেন সেসময়ের বাকি লেখক,কবির নিজের লেখায় কিভাবে উঠে এসেছে কলকাতার অন্দরমহলের অনেক চিত্র।
বিচিত্র কিন্তু দারুন সব খাবারের বর্ণনা পুরো বই জুড়েই ছিল, ' তত্ত্ব কথা ' অধ্যায়টা পড়ে অবাক না হয়ে পারলাম না এতো এতো নিয়ম আর তত্ত্বের ভারে।
লেখিকার লেখা সত্যি বলতেই গল্পের ছলে বলা পুরোনো দিনের স্মৃতিকথা, পড়তে পড়তে অবাক লাগে আগে কেমন ছিল সবকিছু, সময়ের সাথে সাথে বিশাল পরিবর্তন এসেছে সবকিছুতেই।
Profile Image for Chandreyee Momo.
222 reviews30 followers
April 23, 2024
অসাধারণ একটা বই। এত এত অবাক করা তথ্য যে জানলাম এটা পড়ে, যা অতুলনীয়। লেখিকা স্মৃতির পাতা থেকে এতকিছু ডিটেইলস এ কি করে লিখেছেন কে জানে। এত এত তথ্য একত্র করে এমন একটা বই লেখা প্রচন্ড মুন্সিয়ানার কাজ। ❤️
Displaying 1 - 5 of 5 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.